রাজনীতি
আগামী নির্বাচনে সমতল জনগোষ্ঠীর সমর্থন চায় বিএনপি: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সরকারি চাকরিতে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও কিভাবে সহজ করা যায়—সেগুলো করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে সমতল জনগোষ্ঠীর সমর্থন চায়।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকালে ময়মনসিংহ টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের প্রথম জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি জাতি-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি আমাদের আস্থা ও সম্মান রয়েছে। ভাষার বহুত্ব, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর স্বাতন্ত্র্য বোধ, ভিন্নজাতের সংরক্ষণ এবং এসবের উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি।
পড়ুন: ঘোষিত সময়েই নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল
তিনি বলেন, বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল জাতিগোষ্ঠীর সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক অধিকার এবং জীবনের নিরাপত্তা বিধানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্ঠা গ্রহণ করা হবে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতি এটিই আমাদের অঙ্গীকার। বিএনপি ক্ষতায় গেলে প্রতিটি অধিকার বাস্তবায়ন করবে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজ একটা ভয়াবহ দানবীয় ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘ নির্যাতনের শাসনের পরে একটা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সুযোগ পেয়েছি নতুন বাংলাদেশ তৈরি করার। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এবং সেই বাংলাদেশে সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, একটা চক্রান্ত চলছে বাংলাদেশে। ভবিষ্যতে যে নির্বাচন হওয়ার কথা, সেই নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একটা গোষ্ঠী চেষ্টা করছে। একটা উগ্রবাদী গোষ্ঠী বিভিন্ন প্রকার উগ্রবাদের কথা বলে মানুষকে বিভক্ত করতে চাচ্ছে, বিভাজন সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।
ফখরুল বলেন, আজ আমাদের সকলের দায়িত্ব হবে, একসঙ্গে ঠিক একাত্তর সালে যেমন আমরা লড়াই করেছিলাম আমাদের ভূখন্ডের জন্যে, স্বাধীনতার জন্য, সার্বভৌমত্বের জন্য, আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। সেইভাবে আমরা আজ আমাদের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করব, লড়াই করে যাব।
তিনি বলেন, আমাদের বিশ্বাস আছে যে, আমাদের নেতা তারেক রহমান এখন পর্যন্ত যে কাজ করেছেন—তাতে সকল জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারব।
পড়ুন: ক্ষমতায় গেলে গুমের সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন করার অঙ্গীকার সালাহউদ্দিনের
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মৃগেন হাগিদগের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের সভাপতি বিজন কান্তি সরকার, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ও অ্যাডভোকেট ওয়ারেস আলী মামুন প্রমুখ।
এর আগে দুপুরে নগরীর টাউন হল তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে ১৫ জন আদিবাসী তরুণীর একটি দল তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে মনোমুগ্ধকর দলগত নৃত্য পরিবেশন করে।
সমাবেশে দেশের সমতল অঞ্চলের ১২টি জেলায় বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
১৮৮ দিন আগে
কাকরাইলে জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর-আগুন
ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অজ্ঞাতপরিচয়ের একদল লোক হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে।
হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায়,জাতীয় পার্টি এবং গণঅধিকার পরিষদের একটি মিছিল কাকরাইলের জাতীয় পার্টির অফিসের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় উভয় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
পড়ুন: নুরের জ্ঞান ফিরেছে, উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন
গণঅধিকার পরিষদ দাবি করেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিচার্জে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ তাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
নুর এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।
১৮৮ দিন আগে
খুলনায় জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ
খুলনায় জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। তবে পুলিশি তৎপরতায় তারা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। বিক্ষোভকারীরা প্রধান ফটকের সাইন বোর্ড ভেঙ্গে দেয়। তখন পুলিশ লাঠি চার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকাল ৫টায় নগরীর ডাকবাংলো মোড়স্থ জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে হামলার ঘটনাটি ঘটে।
গণঅধিকার পরিষদের দাবি, পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও লাঠিচার্জে তাদের ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
জাতীয় পার্টির খুলনা জেলা যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী সাজু বলেন, শনিবার সারাদিন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা অফিসেই অবস্থান করছিলেন। আসরের আজান হওয়ার কিছু সময় পর অধিকাংশ নেতাকর্মী পাশের মসজিদে নামাজ পড়তে যান। এই সুযোগে ৫০ থেকে ৬০ জন গণঅধিকার পরিষদের একটি বিক্ষোভ মিছিল কার্যালয়ের সামনে এসে মারমুখি অবস্থান নেয়। তখন আমরা অফিস থেকে বেরিয়ে সামনের দুটি ফটকে তালা লাগিয়ে দেই।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা গেট ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করে এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এরমধ্যে একটি গেট ভেঙ্গে ফেলতে পারলেও অপরটি ভেঙ্গে প্রবেশ করতে পারেনি। সাইন বোর্ডটি ভেঙ্গে দেয়। তখন পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ ও ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পড়ুন: গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরের উপর হামলা প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ
প্রতক্ষ্যদশীরা জানায়, জাতীয় পার্টি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা যাওয়ার সময় সম্মুখ সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।
এদিকে জাতীয় পার্টি অফিসে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের হামলার বিষয়টি স্বীকার করে পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ সম্পাদক এসকে রাশেদ বলেন, মিছিল নিয়ে আমাদের ছেলেরা ডাকবাংলোর জাতীয় পার্টি অফিসের সামনে গেলে সেখানে অবস্থানরত জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী এবং পুলিশ তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় গণঅধিকার পরিষদের অন্তত ১৫ থেকে ২০জন নেতাকর্মী আহত হন। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করেছিলেন বলে তিনি জানান।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, গণঅধিকার পরিষদের কিছু নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল সহকারে ডাকবাংলাস্থ জাতীয় পার্টি অফিসের সামনে আসে। তারা সেখানে বিশৃঙ্খলা চালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদেরকে সরিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টির অফিসের সাইন বোর্ডটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
১৮৮ দিন আগে
যৌথবাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জোনায়েদ সাকির
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের ওপর হামলার ঘটনার যথার্থ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।
শনিবার (৩০ আগষ্ট) দুপুরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নূরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন তিনি।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাকি বলেন, ‘আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি। গণঅধিকারের একটি কর্মসূচি শেষে নূর ও রাশেদ খান প্রেস ব্রিফিংয়ের অপেক্ষায় ছিলেন। সেই সময় পুলিশ ও যৌথবাহিনী কিভাবে হামলা করল এবং এর পেছনে কারা দায়ী, তা অবিলম্বে ও যথার্থভাবে তদন্ত করতে হবে।’
পড়ুন: নুরের জ্ঞান ফিরেছে, উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন—এই তিনটি কাজ একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে একটি অনিশ্চয়তা তৈরি করার চেষ্টা চলছে।
নুরুল হকের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও যথাযথ পদক্ষেপের দাবি জানান গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ দলগুলোকে গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়াতেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিচার ও সংস্কারের প্রক্রিয়া কেউ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না। ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না।
ব্রিফিংয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৮৮ দিন আগে
গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরের উপর হামলা প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ
ঢাকায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে নেতাকর্মীরা।
শনিবার(৩০ আগস্ট) দুপুরে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে বরিশাল জেলা ও মহানগর গণঅধিকার পরিষদ এবং এনসিপির উদ্যোগে এই কর্মসূচি হয়। এরপর নেতাকর্মীরা নগরীতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
এর আগে সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তারা জাতীয় পার্টি, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ করেন। এছাড়াও অন্তবর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে জাতীয় সরকার গঠন এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করে তারা।
বক্তব্য দেন বরিশাল জেলা গণঅধিকার পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক আবু সাইদ মুসা, যুগ্ম সমন্বয়কারী আবেদ আহমেদ রনি ও সাইফুল ইসলাম মুন্সি, সদস্য নাজমুল হাসান ও আসিফ প্রমুখ।
পড়ুন: নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ
বক্তারা বলেন, প্রথমে পুলিশ ও সেনা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়, তারপর জাতীয় পার্টি। ঘটনার সময় নুরুল হক নুর মাটিতে পড়ার পর লাল টি-শার্ট পরা এক যুবক বেধড়ক মারধর করে। এরপর ওই ব্যক্তিকে আটক করা হলেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাই এই ঘটনার দায়ে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করছি। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে পালটাপালটি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে গণধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতির সময় নুরসহ নেতাকর্মীদের মারধর করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে গুরুতর আহত হন নুর। রক্তাক্ত অবস্থায় দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। তিনি এখনা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
১৮৮ দিন আগে
নুরের জ্ঞান ফিরেছে, উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন
যৌথবাহিনীর লাঠিপেটায় আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের জ্ঞান ফিরেছে। তবে তার চিকিৎসায় ছয় উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, নুরুল হকের মাথায় আঘাত রয়েছে। তার নাকের হাড় ভেঙে গেছে। যে কারণে গতকাল অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছিল। আগেই রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে ও জ্ঞান ফিরেছে। তবে ৪৮ ঘণ্টার আগে নুরুল হক আশঙ্কামুক্ত, সেটি বলা সম্ভব নয়।
নুরুল হকের চিকিৎসায় গতকাল শুক্রবার রাতেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে সকাল ৭টায় নুরের ফেসবুক পেজে বলা হয়, ‘নুরুল হক নূরের ওপর গতরাতে হামলার পর এখন পর্যন্ত তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন, এখন তার কিছুটা হুঁশ ফিরেছে।’
ঢাকা মেডিকেলে নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের পাঁচজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুন: কাকরাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মারধরে আহত নুরুল হক নুর
শুক্রবার সন্ধ্যায় কাকরাইলে নুরসহ তার দলের নেতাকর্মীরা যৌথবাহিনীর লাঠিপেটায় আহত হন। গণঅধিকার পরিষদের দাবি, তাদের মিছিলের পেছন থেকে হামলা করেছে জাতীয় পার্টি। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির পাল্টা অভিযোগ, তাদের প্রধান কার্যালয়ে হামলা হয়েছে ওই মিছিল থেকে।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের ভাষ্য, তাদের মিছিলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে হামলা করা হয়। এর প্রতিবাদে মশাল মিছিল শেষে সংবাদ সম্মেলনের সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের লাঠিপেটা করে। এতে তাদের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। নুরসহ আহতদের প্রথমে কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাতে নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার নাকে গুরুতর আঘাত রয়েছে।
এদিকে রাতে নুরকে দেখতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান আর তেড়ে আসা নেতাকর্মীদের ক্ষোভের মুখে আসিফ নজরুল অনেকটা লুকিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, ‘উপদেষ্টা স্যার হাসপাতালে আসার পর কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর তিনি বাগান গেট দিয়ে বের হয়ে যান।’
নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে তার দলের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। শনিবারও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তারা।
এদিকে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাত ৮টায় রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় দুটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেড়ে গেলে তারা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা কামনা করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয় এবং এতে কয়েকজন সদস্য আহত হন।
‘ঘটনার শুরুতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করার জন্য ও দেশের বিদ্যমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করার অনুরোধ জানায়। তবে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কতিপয় নেতাকর্মীরা তা উপেক্ষা করে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তারা সংগঠিতভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায় এবং আনুমানিক রাত ৯টার দিকে মশাল মিছিলের মাধ্যমে সহিংসতা আরও বৃদ্ধি করে। এ সময় তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ারও চেষ্টা চালায়। এছাড়াও বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সাধারণ জনগণের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শান্তিপূর্ণ সমাধানের সকল চেষ্টা তারা অগ্রাহ্য করে। ফলস্বরূপ, জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগে বাধ্য হয়। উল্লেখ্য, আজকের উদ্ভূত ঘটনায় সেনাবাহিনীর ৫ জন সদস্য আহত হয়।
‘সকল ধরনের মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করছে এবং জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা আনয়নে সকল ধরনের মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে সদা প্রস্তুত রয়েছে। জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সর্বদা বদ্ধপরিকর,’ বলছে সেনাবাহিনী।
১৮৮ দিন আগে
কাকরাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মারধরে আহত নুরুল হক নুর
কাকরাইলের আল রাজী কমপ্লেক্সের নিচে হামলার শিকার হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। এ সময় তিনি গুরুতর আহত হন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নুরুল হক নুরের ফেসবুক পেজে শেয়ার করা লাইভে দেখা যায়, তাকে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা।
এ সময় লাইভে বলতে শোনা যায়, সেখানে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নুরসহ অন্য নেতারা। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা নুরসহ নেতাকর্মীদের মারধর করছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে গণঅধিকার পরিষদের একটি মিছিল কাকরাইলে জাপা কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় জাপা কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীরা বেরিয়ে আসেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। আধঘণ্টা ধরে এ অবস্থা চলার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রমনা থানার পুলিশ জানায়, সংঘর্ষকালে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। এ সময় রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
১৮৯ দিন আগে
নির্বাচনী রোডম্যাপের পক্ষে ৯০ শতাংশ মানুষ মাঠে নেমে যাবে: ড. রেদোয়ান
জামায়াত পিআর পদ্ধতিসহ ভিন্ন কথা বলে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ। তিনি বলেন, এভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করে কোনো লাভ নেই। নির্বাচনী রোডম্যাপের পক্ষে ৯০ শতাংশ মানুষ মাঠে নেমে যাবে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) কুমিল্লার চান্দিনায় রেদোয়ান আহমেদ কলেজের মমতাজ আহমেদ ভবন মাঠে পৌর এলডিপি’র ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।
একই সময়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না সাংবাদিকদের বলেন, রোডম্যাপ ঘোষণা হওয়ায় কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা এসেছে। পুলিশ ও প্রশাসনে যেসব দুর্বলতা রয়েছে সেগুলো রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্বাচনের আগেই সরকার চাইলে সারিয়ে নিতে পারবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এলডিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) ড. চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী।
চান্দিনা পৌর এলডিপি সভাপতি অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন ভূইয়া’র সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তবদে দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা এলডিপি সভাপতি এ. কে. এম শামছুল হক মাস্টার, এলডিপি কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. আবুল কাশেম, চান্দিনা উপজেলা এলডিপি সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু তাহের, গণতান্ত্রিক যুবদল সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আহমেদ জাকি প্রমুখ।
এর আগে জাতীয় সংগীত গেয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকার সঙ্গে পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন অতিথিরা।
১৮৯ দিন আগে
ক্ষমতায় গেলে গুমের সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন করার অঙ্গীকার সালাহউদ্দিনের
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশ থেকে গুমের সংস্কৃতি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করার অঙ্গীকার করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
‘একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আপনাদের এই কথা বলতে পারি, যদি জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দেয়, গুম প্রতিরোধের জন্য, গুমের সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন করার জন্য প্রথমে যা যা করতে হয়—আইন প্রণয়ন ও তা কার্যকর—সবকিছু করা হবে। আমরা সেই বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করছি, যেখানে কোনো ব্যক্তি গুমের শিকার হবে না,’ বলেন তিনি।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকালে বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এমন প্রত্যয়ের কথা জানান।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দীর্ঘ সময় একটা বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ চলেছে। সেই ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে আমাদের সন্তানদের রক্ত দিতে হয়েছে। যারা বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রটিকে করদরাজ্যে পরিণত করতে আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের এখনো অনুশোচনা নেই। তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার তো দূরের কথা, উল্টো অভ্যুত্থানকারীদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করছে।’
পড়ুন : গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন
তিনি বলেন, ‘এরপরও বাংলাদেশের মানুষ কি কখনো তাদের রাজনীতিতে আহ্বান করতে পারবে? বাংলাদেশের মানুষ কি কখনো তাদের ক্ষমা করতে পারবে? ক্ষমা তারা চায়নি। আমরা এমন একটি পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অপেক্ষা করছি। আজ রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কারের জন্য আমরা সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, যা আগে কখনো কল্পনাও করা যেত না।’
নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যে ফাটল ধরানোর একটা চেষ্টা কোনো একটা পক্ষ করছে। কিন্তু আমরা তর্ক-বিতর্ক করছি, সংস্কারের বিপক্ষে আলোচনা করছি, নির্বাচন নিয়ে দুয়েকটা পক্ষ ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে। আমি আহ্বান জানাব, ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য দেশের মানুষ ১৬ বছর সংগ্রাম করেছেন, রক্ত দিয়েছেন, সেই ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যখন একটি রাস্তা তৈরি হয়েছে, তাতে যাতে আমরা কাঁটা না বিছাই। সবার প্রতি এই আহ্বান জানাই।’
গুমের শিকার হয়ে আর ফিরে না আসা মানুষদের ছবির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমার সৌভাগ্য যে আমি আজ জীবিত আছি, আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি। নাহলে আমারও ছবি হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। আমার সহকর্মীদের অনেকের ফিরে আসার সৌভাগ্য হয়নি। তাদের খোঁজ মিলছে না। কেন যে আয়নাঘর নামটা দেওয়া হলো? কিন্তু আয়নাঘরে তো আয়না ছিল না, ছিল জমদূত, ছিল মৃত্যুর পরোয়ানা। সেই আয়নাঘরে আমরা ছিলাম।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাকে একটা গুপ্তগুহায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন যদি আমার চোখ বন্ধ না থাকত, তাহলে হয়তো আমার বিশ্বাস হতো না যে এখানে মানুষ থাকতে পারে। তবে রুমের ভিতরে চোখ খোলা থাকত। একদিনই কেবল চোখ খোলা রেখে বাইরে নেওয়া হয়েছিল। আমার তারিখ গণনায় সেদিন ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল, বাংলা নববর্ষ উদযাপনের দিন। তাদের মধ্যে কয়েকজন অফিসার সম্ভবত ছিল সেই অনুষ্ঠানে, আমাকে বলল যে আজ ম্যাডাম পার্টি অফিসের সামনে অনুষ্ঠান করেছে, পহেলা বৈশাখের। আমাকে নিউজ দিতে চাইল যে দেশে এখন স্বাভাবিক পরিস্থিতি চলছে।’
‘আমি কোনো জবাব দিতাম না। সেদিনই চোখ খোলা রেখে রুমের বাইরে কিছুক্ষণ বসিয়ে রেখেছিল। কারণ রুমটা পরিষ্কার করতে হবে। রুমটা ছিল ময়লা আর দুর্গন্ধে ভরা, বাতাস চলাচলের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। পাঁচ ফুট বাই দশ ফুট বা তার চেয়ে ছোট হতে পারে রুমটা। দুই মাস একদিন অর্থাৎ ৬১ দিনের মাথায় আমাকে বের করে যমটুপি ও কালো চশমা পরিয়ে গামছা দিয়ে হাত বেঁধে বলা হলো—আজ আপনাকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে, ফিরে আসতে আপনার দু-তিন দিন লাগতে পারে। তবে আমাকে জীবিত ছেড়ে দেবে, সেটা আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না,’ বলেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, ‘তাদের বলতাম, যদি আমার মৃত্যু এখানে হয়, তাহলে আমার লাশটা আমার পরিবারের কাছে ফেরত দিও। তারা কোনো জবাব দিত না। আল্লাহর কাছে সবসময় প্রার্থনা করতাম, যদি আমার হায়াত থাকে, আমাকে ঈমানের সঙ্গে জীবন দিও, ঈমানের সঙ্গে মৃত্যু দিও। আর যদি এখানেই আমার মৃত্যু হয়, তাহলে আমাকে ঈমানের মৃত্যু দিও। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য প্রার্থনা করতাম।’
‘আমি খুব বিশ্বাসী মানুষ, আমি অনেক কিছু দেখেছি। সে জন্য অনেক অবিশ্বাসী মানুষকে বলি—আমি শুধু আল্লাহর অস্তিত্ব চোখ দিয়ে দেখিনি, কিন্তু আমি অনুভব করেছি, আমি অনেক কিছু জেনেছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাকে অনেক কিছু দেখিয়েছেন। সেগুলো আমি বাস্তব জীবনে পেয়েছি। এটা হয়তো যারা বিশ্বাস করতে চাইবেন, তারাই বিশ্বাস করতে পারবেন। এটা অনুধাবনের বিষয়।’
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানে গুম হওয়া পরিবারের মধ্যে নতুন কেউ যোগ হয়নি, এটা সুসংবাদ। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী দিনের রাজনীতিবিদরা যাতে নিশ্চিত করেন আগামী দিনে যেন গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের এমন কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না হয়। আসলে সে জন্যই আমরা এখানে অনবরত সংগ্রাম করে যাচ্ছি।
ইউএনবি/জেএ
১৮৯ দিন আগে
সাময়িক সরকারের কাছে আমাদের কোনো প্রত্যাশা নেই: আমীর খসরু
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ‘সাময়িক সরকার’ আখ্যায়িত করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সাময়িক সরকারের কাছে আমাদের কোনো প্রত্যাশা নেই।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বরিশাল বিভাগীয় ব্যবসায়ী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, ‘সাময়িক সরকারের কাছে আমাদের কোনো প্রত্যাশা নেই। আমরা নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষা করছি। নির্বাচিত সরকারের জন্যই ব্যবসায়ীদের নিয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। যাতে জনগণ আমাদের সমর্থন দেয়, সেই প্রস্তুতি আগেভাগেই গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রথম দিন থেকেই যাতে দেশের মানুষের পাশে আমরা দাঁড়াতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। এতে করে বাংলাদেশের মানুষ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে সরকার নির্বাচিত করবেন, যারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, জবাবদিহিতা থাকবে। সেই সরকারের কাছে আমাদের অনেক চাওয়া আর প্রত্যাশাও থাকবে।’
আরও পড়ুন: ঘোষিত সময়েই নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘একটি গ্রামে একটি পণ্য তৈরি হবে, যে পণ্য ওই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করবে। এতে করে ওই গ্রাম অর্থনেতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। এ জন্য কীভাবে ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধান ও চাহিদা পূরণ করা যায়, সেগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি আমরা।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি চায় অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন। কিছু মানুষ কিংবা কোনো গোষ্ঠীর কাছে যাতে অর্থনীতি জিম্মি হয়ে না থাকে।’
এর আগে, জাতীয় এবং সংগঠনের পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরে মেলার স্টলগুলো পরিদর্শন করেন তিনি।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও জিয়া উদ্দিন হায়দারসহ ব্যবসায়ী নেতারা।
১৮৯ দিন আগে