রাজনীতি
ঐকমত্য কমিশন ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বাদ দিয়েছে, এটা প্রতারণা: মির্জা ফখরুল
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বাদ দিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অবিলম্বে ওই সুপারিশ সংশোধনেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে 'বিচার-সংস্কার-নির্বাচন, অন্তর্বর্তী আমলে বাংলাদেশ' শীর্ষক এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘গতকাল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় সম্পর্কিত সুপারিশ দিয়েছে ঐকমত্য কমিশন। অবাক বিস্ময়ে দেখলাম, বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট লিপিবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি ছিল সনদে, তা বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এগুলো দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।’
মির্জা ফখরুলের ভাষ্য, ‘আমরা মনে করি, সমস্ত সংকটগুলোর মূলে হচ্ছে একটা সত্যিকার গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের পার্লামেন্ট তৈরি হবে, সেই পার্লামেন্টেই সমস্ত সমস্যাগুলো সংবিধানের মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হবে এবং সেভাবেই দেশ চলবে ।’
প্রধান উপদেষ্টাকে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, সত্যিকার অর্থে যেটুকু সংস্কার দরকার, সেই সংস্কার সম্পন্ন করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিন। জনগণ সেই নির্বাচনের ফল মেনে নেবে। কিন্তু যদি সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হয়, তার দায়ভার প্রধান উপদেষ্টাকেই বহন করতে হবে।
এ সময় সরকার দ্রুত কমিশনের সুপারিশ সংশোধন করবে এবং সব পক্ষের সহমত অনুযায়ী বিভিন্ন সমস্যার উপর পার্থক্য যথাযথভাবে রেকর্ড করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে জনগণের সংসদ তৈরি হলে যে সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে, তা সেখানে বাস্তবায়ন হবে।
বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন প্রচারণাকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির জন্মই হয়েছে সংস্কারের মধ্যদিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের পর একদলীয় শাসনের পরিবর্তন ঘটিয়ে ৭৫-পরবর্তী বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল বিএনপি। অথচ কনসাসলি একটা প্রপাগান্ডা চালানো হয়েছে যে বিএনপি সংস্কারবিরোধী—এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
২১৮ দিন আগে
জোটবদ্ধ নির্বাচনে প্রতীক নিয়ে আগের বিধান বহাল চায় বিএনপি
রাজনৈতিক দলগুলোর জোটবদ্ধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতীক ব্যবহার নিয়ে নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও’র আগের বিধান বহাল চায় বিএনপি।
আরপিও অধ্যাদেশের সংশোধনীর বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কাছে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
উপদেষ্টার কাছে চিঠি পৌঁছে দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন-সংক্রান্ত যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও আছে, কয়েকদিন আগে এর ২০ ধারাতে একটি সংশোধনী উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদন হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। সেটা হচ্ছে, কোনো রাজনৈতিক দল যদি জোটভুক্ত হয়ে অন্যান্য দলের সঙ্গে নির্বাচন করে, সেক্ষেত্রে সেই নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল তার নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে বাধ্য হবে।’
‘আগে নিয়ম ছিল— যারা জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচন করবে, তারা হয় নিজেদের প্রতীক বা জোটের অন্য প্রতীকে নির্বাচন করতে পারত। সেই আইনটার খসড়া যখন আমরা দেখেছি, নির্বাচন কমিশনও আমাদের পাঠিয়েছিল যে এ বিষয়ে মতামত আছে কিনা। এখানে অনেকগুলো সংশোধনী আনা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি সংশোধনীর সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করেছি। যেমন: না ভোট, প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধি, নির্বাচনে যদি কোনো অনিয়ম হয়, সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার বৃদ্ধি, ইচ্ছা করলে যেকোনো নির্বাচন তারা বাতিল করতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘আরও বেশ কয়েকটি বিধান সেখানে যুক্ত ছিল। আমরা সবগুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করেছি। শুধু এই বিধানটির সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করিনি। যখন আইনটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়, তখনও অনানুষ্ঠানিকভাবে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আইন উপদেষ্টার সঙ্গে আমি আলোচনা করেছিলাম। তখন তিনি বলেছিলেন, এটি সরকারের নজরে আনবেন।’
‘বিষয়টি আলোচনা করে যাতে একটা বিহিত হয়, সেটা বিবেচনা করবেন বা সরকার বিবেচনা করতে পারে। এ বিষয়ে তিনি আমাকে মোটামুটি আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু যখন অধ্যাদেশটি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে পাস হলো তখন দেখলাম বিষয়টি বিবেচিত হয়নি।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তারপরে এ বিষয়ে তার (আইন উপদেষ্টা) সঙ্গে আবার কথা বলেছি। এ বিষয়ে আমাদের যে উদ্বেগ, আগে যে বিষয়টি ছিল, সেটি যাতে বহাল থাকে সে জন্য আমরা আবেদন করেছি। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে কাগজটি তাকে দিয়েছি। কয়েকদিন আগে নির্বাচন কমিশনকেও একই চিঠি দিয়েছি।’
বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্বার্থে এই বিধানটি আগের মতো বহাল থাকবে। কারণ, আমরা মনে করি অনেক দলের আকার ছোট হলেও সেখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নেতৃত্ব আছেন। তারা নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে আসতে পারলে জাতীয় সংসদ সমৃদ্ধ হবে। বহু দলের, বহু আদর্শের, বহুমতের প্রতিনিধিত্ব থাকলে জাতীয় সংসদটা সমৃদ্ধ হয়, সমগ্র জাতির পক্ষে কথা বলা যায়, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তারা ভূমিকা রাখতে পারবেন।’
‘আমরা মনে করি, যেসব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচন করতে চায়, তারা হয় নিজেদের প্রতীকে কিংবা জোটবদ্ধ অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচন করার যে স্বাধীনতার আগে যে বিধান ছিল, সেটা বহাল রাখা হোক।’
আইন উপদেষ্টা কী বলেছেন— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনি সরকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তারপরে কী করা যায়, সেটা বিবেচনা করে দেখবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নির্বাচন-সংক্রান্ত সংস্কার কমিশনের সমালোচনা করতে চাই। কারণ তারা এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনেও বিষয়টি আলোচিত হয়নি। এ বিষয়ে কোনো ঐকমত্যও প্রতিষ্ঠা হয়নি। এ বিষয়ে হঠাৎ করে নির্বাচন সংস্কার কমিশন একটি বিষয় আরোপ করবে, সেটা সঠিক হয়নি।’
২১৯ দিন আগে
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের সুযোগ নেই: খসরু
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের সুপারিশকে প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট হতে হবে, এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন বা আগে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘এটার (আগে গণভোট) সঙ্গে বিএনপি একমত নয়। আমরা পরিষ্কারভাবে এটা বলে দিয়েছি। জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সঙ্গে পুরো আলোচনায় বিএনপির অবস্থান ছিল যে গণভোট আর নির্বাচন একই দিনে হবে, দুইটা আলাদা ব্যালটের মাধ্যমে। এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।’
‘নতুন করে এই বিষয়কে সামনে আনার কোনো সুযোগ নাই। সেটা যেই বলুক, যারাই প্রতিবেদন দিক, সেটা তাদের সমস্যা। এটা বিএনপির সমস্যা না। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। এই বিষয়ে (আগে গণভোট) বিএনপি ঐকমত্য পোষণ করে না, সেহেতু সেদিকে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নাই।’
আমীর খসরু বলেন, ‘এই ব্যাপারে আর আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের দিন দুইটা ব্যালটের মাধ্যমে গণভোট ও নির্বাচন হবে… এটাই বিএনপির অবস্থান। এই অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি, আগামী দিনেরও এর পরিবর্তন হবে না।’
ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবের প্রসঙ্গে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘কারা কী সুপারিশ করেছে, জানি না। যারা সুপারিশ করেছে তারা নির্বাচন করবে না, ভোট করবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো। সুপারিশ অনেকে অনেক কিছু করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটা বিষয় বুঝতে হবে, প্রত্যেক জিনিস ঐকমত্যে সমাধান হতে হবে। ঐকমত্যের বাইরে গিয়ে কে কী বলছে, কে কী সুপারিশ করছে—এটা তাদের ব্যাপার। ঐকমত্যের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার কোনো সুযোগ নাই।’
২১৯ দিন আগে
কমিটমেন্টের ভিত্তিতে জোটবদ্ধ হতে পারে এনসিপি: সারজিস
কোনো দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হবে কিনা, সে বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি জানিয়ে দলটির উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, দেশের স্বার্থে আওয়ামী লীগ ও ভারতের আধিপত্যবাদ-বিরোধী অবস্থানে যারা সুদৃঢ় থাকবে, তাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে পারে এনসিপি।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান। শহরের সিটি ড্রিম হোটেল মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। তার আগে বিকেল ৫টার দিকে এনসিপির জেলা কমিটির নেতাদের সঙ্গে ঘরোয়া আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন সারজিস আলম।
সারজিস আলম বলেন, ‘এনসিপি এখনও পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, কোনো দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হবে কিনা। তবে যদি হয়, তাহলে এই কমিটমেন্টের ভিত্তিতে হবে— যারা আগামীর বাংলাদেশে জুলাই সনদের প্রত্যেকটি সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করবে; যারা আগামীর বাংলাদেশে বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করবে; যারা শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের জন্য কাজ করবে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের স্বার্থে আওয়ামী লীগ এবং ভারতের আধিপত্যবাদ-বিরোধী যাদের অবস্থান, ওই অবস্থানে যারা সুদৃঢ় থাকবে তাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতেও পারে এনসিপি।’
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দেখছেন কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন স্বাধীন সক্রিয়তা বজায় রেখে নিরপেক্ষ থাকবে— এইটুকু যদি তারা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে এনসিপির কোনো সমস্যা নেই।’
২২০ দিন আগে
স্বায়ত্তশাসন নয়, বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বাধীনতা দিতে হবে: খসরু
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতে সংস্কার করা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংককে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। শুধু স্বায়ত্তশাসন যথেষ্ট নয়, পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। এ ছাড়া বিনিয়োগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সংস্কার করা হবে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে ইকোনমিক রিফর্ম সামিট-২০২৫-এ অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করা হবে। এই বিভাগ তৈরি করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে। এর উদ্দেশ্য ছিল এমডি নিয়োগ ও পর্ষদে পছন্দের লোক বসিয়ে লুটপাট করা। বিএনপি আগের বার ক্ষমতায় এসে এটি তুলে দিয়েছিল, কিন্তু শেখ হাসিনা এটি আবার ফিরিয়ে এনেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আবার এটি বিলুপ্ত করবে।’
তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে দুই ভাগ করা হয়েছে। এতে কোনো কাজ হবে না। কারণ, এক ভাগ থাকতেও আমলারা পরিচালনা করতেন, দুই ভাগ হওয়ার পরও আমলারা পরিচালনা করছেন। ফলে এনবিআর ভাগ হওয়ার পরও কোনো বাড়তি সুফল পাওয়া যাবে না।
কারণ হিসেবে এই রাজনীতিক বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে দুই ভাগ করা হয়েছে। এতে কোনো কাজ হবে না। কারণ, এক ভাগ থাকতেও আমলারা পরিচালনা করতেন, দুই ভাগ হওয়ার পরও আমলারা পরিচালনা করছেন। ফলে এনবিআর ভাগ হওয়ার পরও কোনো বাড়তি সুফল পাওয়া যাবে না।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পথে প্রধান বাধা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা— এমন মন্তব্য করে বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করার কিছু নেই। যদি তাদের দায়িত্ব কমিয়ে দেওয়া যায়, যদি কাজ বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তারা নিয়ন্ত্রিত হবে। আমরা বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করতে চাই। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এ কাজটি করবে। এজন্য বেসরকারি খাতকে প্রস্তুত হতে হবে।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা দেশের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এম তামিম বলেন, দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট চলছে। গত ১৫ বছরে স্থানীয় জ্বালানি উৎসে কোনো বিনিয়োগ হয়নি। বরং প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ব্যয় করা হয়েছে, যেখানে দুর্নীতির সুযোগ সবচেয়ে বেশি ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিদায়ী সরকারের প্রবৃদ্ধি মডেল দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বাড়িয়েছে। তথাকথিত ‘অর্থনৈতিক অলৌকিকতা’র আড়ালে থাকা বাস্তব সংকট এখন প্রকাশ পাচ্ছে।
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি বাড়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে এবং আরও অনেক পরিবার দারিদ্র্যের মধ্যে ঠেলে পড়ছে।
তিতুমীর সতর্ক করে বলেন, আরও ৩০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারে; ১৫ লাখ তরুণ বেকার, এবং প্রতি তিনজন বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকের একজনের কোনো চাকরি নেই।
তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ এখন এক ‘ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে’ দাঁড়িয়ে আছে, যা সত্যিকারের অগ্রগতির জন্য নতুন অর্থনৈতিক মডেল দাবি করছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে পিছিয়ে আছে। দেশে জাতীয় বিনিয়োগনীতি নেই। ফলে বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য ও পরিকল্পনা নেই। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে একটি পদ্ধতিগত বিনিয়োগ উন্নয়ন কৌশল থাকা উচিত—জাতীয় বাণিজ্য, রপ্তানি ও আমদানি নীতির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে এটি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য মনজুর হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর যুক্তরাষ্ট্রের মুখপাত্র নকিবুর রহমান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, হিসাববিদ স্নেহাশীষ বড়ুয়া, কাউন্টারপার্টের নির্বাহী সম্পাদক জ্যোতি রহমান, চালডালের সিইও ওয়াসিম আলিম প্রমুখ।
২২০ দিন আগে
ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলোকে নিয়ে জোট করবে বিএনপি: সালাহউদ্দিন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে বৃহৎ জোট গঠন করতে চায় বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য জানান, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে বৃহৎ জোটের কথা ভাবছে দলটি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশের প্রার্থীদের সঙ্গে দলের হাইকমান্ডের বৈঠক হচ্ছে। দল ও নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখার বার্তা দিতেই হাইকমান্ডের এই বৈঠক করছে বিএনপি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ আসনে একাধিক প্রার্থী আগ্রহী হওয়ায় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে আলাপ করা হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলীয় বিবেচনা নয়, বরং যোগ্য ও জনবান্ধব প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য অটুট রাখতে চায় বিএনপি। আর ঐক্য বজায় রাখতে কেউ যেন বিভেদের পথে না যায় সেই বার্তাও দিতে চায় দলটি।
এ সময় আগামীর বাংলাদেশ তারুণ্যনির্ভর হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, তরুণ-যুবকদের রাজনৈতিক ভাবনাকে ধারণ করে সামনের দিনে জাতি বিনির্মাণে কর্মসূচি প্রণয়ন করবে বিএনপি।
বিএনপির এই নেতা আশা প্রকাশ করে বলেন, এ দেশ একটি তারুণ্যনির্ভর দেশ হবে। যুবকদের কর্মসংস্থাননির্ভর বাংলাদেশ হবে। যুবকদের চিন্তা-চেতনা, মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে। এ স্বপ্ন জুলাই অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদরা দেখেছিলেন। সুতরাং তরুণ-যুবকদেরকে, তাদের রাজনৈতিক ভাবনা ও চিন্তা-চেতনা আত্মস্থ করেই এ জাতি এগিয়ে যাবে।
২২০ দিন আগে
জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ৩০ অক্টোবর শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইসির বৈঠক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আগামী বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের ৩১ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রোববার (২৬ অক্টোবর) ইসির জারি করা চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা আগামী বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে সভায় অন্য কমিশনাররাও উপস্থিত থাকবেন।
সভায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারের ৩১ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব; স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, নৌপরিবহন, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবরা; এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবরা।
এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, আইসিটি বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত থাকবেন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দফতর ও সংস্থার প্রধানরা—বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, ডাক অধিদপ্তর ও চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক; বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান; স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং কারা মহাপরিদর্শক।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে তার প্রতিনিধি হিসেবে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর নির্বাহী পরিচালক বা উপযুক্ত কর্মকর্তাকে বৈঠকে পাঠাতে বলা হয়েছে।
এর আগে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০ অক্টোবর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে ইসি।
ধারাবাহিক এই সংলাপের শুরু হয় গেল সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। ২৮ সেপ্টেম্বর নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের পর ওই দিনই শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করে কমিশন। এরপর ৬ অক্টোবর বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে দুটি পৃথক বৈঠক করে ইসি।
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলসহ অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
২২১ দিন আগে
‘হাতি’ প্রতীকে নিবন্ধন পেল বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি
আদালতের নির্দেশে নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেয়েছে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি)। দলটির নির্বাচনী প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে ‘হাতি’।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) দলটির চেয়ারম্যান কে এম আবু হানিফ হৃদয়ের হাতে নিবন্ধন সনদ তুলে দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন ১১১২২/২০১৮ এর সূত্রে গত ২৩ জুলাই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর বিধান অনুযায়ী, প্রধান কার্যালয়: ৮৮/১ শহিদ ফারুক রোড (৩য় তলা), দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪ এ অবস্থিত বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি)-কে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইসি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন করেছে। দলের জন্য হাতি প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে। দলটির নিবন্ধন নম্বর ৫৭।
নিবন্ধন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আবু হানিফ হৃদয় বলেন, ‘গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে, আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি।’
এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টি হাইকোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন থেকে ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পায়।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হয়। এখন পর্যন্ত ৫৭টি দল নিবন্ধন পেয়েছে, তবে এর মধ্যে পাঁচটি—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ফ্রিডম পার্টি, ঐক্যবোধ নাগরিক আন্দোলন, পিডিপি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)—বিভিন্ন কারণে ও আদালতের রায়ে নিবন্ধন হারায়। অবশ্য সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে জামায়াতে ইসলামী পুনরায় নিবন্ধন ফিরে পেয়েছে।
এদিকে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ২২টি দলের সরেজমিন তদন্ত শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ও বাংলাদেশ জাতীয় লীগকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
২২১ দিন আগে
ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ সোমবার: ইসি সচিব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা সোমবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমনওয়েলথের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
ইসির ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবরের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার কথা ছিল। ছয় দিন পেরোলেও কেন তা প্রকাশ করা হয়নি জানতে চাইলে আখতার আহমেদ বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। কিছু সংশোধনের প্রস্তাব এসেছিল সেটাও করা হয়েছে। কাল (সোমবার) সকালে ব্রিফ করে দেব।’
নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কবে শেষ হবে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘দল নিবন্ধনের বিষয়ে অগ্রগতি নিয়ে মাঠ পর্যায় থেকে কিছু বাড়তি তথ্য আসেছে। এটা পর্যালোচনা চলছে। এ সপ্তাহের ভেতরে করে দেব। কারণ, আমাদেরও একটা দায় আছে। আমাদের দিক থেকে তাগিদ আছে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সরাসরি কোনো জবাব দেননি ইসি সচিব। তিনি বলেন, ‘প্রতীকের বিষয়টি আমরা পরে জানাব।’
ইসি ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী অগ্রগতি কতদূর জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সবকিছু ১০০ শতাংশ করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কিছু জায়গায় অ্যাডজাস্টমেন্ট (সমন্বয়), কিছু বিষয় আগেই কমপ্লিট (সম্পন্ন) করেছি, কিছু বিষয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং কিছু কিছু বিষয়ে আরেকটু হয়তো অপেক্ষা করতে হবে।’
‘সবকিছুই নিক্তিতে মেপে সময় অনুযায়ী, দিনক্ষণ-তারিখ অনুযায়ী করা সম্ভব নয়। এই অ্যাডজাস্টমেন্ট আমাদের রাখতে হবে। এখন পর্যন্ত আতঙ্কিত হওয়ার বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার মতো কোনো কারণ বা পরিস্থিতি আমার মনে হয় না হয়েছে।’
শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে নির্বাচন কমিশন প্রাঙ্গণে নির্বাচন ভবনের দক্ষিণ পাশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ইসি মামলা করবে কিনা জানতে চাইলে আখতার আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করেছে। এটা বাইরে ফেটেছে। ইসিকে যদি মামলা করতে হয়, করব।’
কমনওয়েলথের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির ইলেকটোরাল সাপোর্ট সেকশনের (ইএসএস) প্রধান লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজ। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ও চার নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠক প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ‘তারা নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। এ ছাড়া প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন, প্রযুক্তির অপব্যবহার, নির্বাচনকালীন সময়ে নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজ জানান, কমনওয়েলথ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নির্বাচন পর্যবেক্ষণের প্রথা অনুযায়ী মহাসচিবের পক্ষ থেকে প্রাক-নির্বাচন মূল্যায়ন মিশন পাঠানো হয়েছে। তারা বেশ কয়েকটি উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছেন। প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক মিশনের উপস্থিতির বিষয়ে সব অংশীজনের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন আছে কি না তা নিশ্চিত করা। তারা বর্তমান পরিবেশ এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি মূল্যায়ন করতেও এসেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় বলি, কমনওয়েলথের সব সদস্য রাষ্ট্রে গণতন্ত্র একটি চলমান যাত্রা। নির্বাচনের পরেও কমনওয়েলথ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অংশীদারত্ব বজায় রেখে আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে।’
২২১ দিন আগে
ক্ষমতায় গেলে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেবে বিএনপি: তারেক রহমান
বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দল ক্ষমতায় আসলে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষ, নৈতিক মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে খন্দকার শামসুল আলম ফাউন্ডেশন আয়োজিত মেধা বৃত্তি পরীক্ষা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “আমাদের পরিকল্পনা আছে, যেমনটা আগেও ছিল। বেগম খালেদা জিয়ার শাসনকালে শিক্ষাখাত জাতীয় বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেত। ইনশাআল্লাহ, বিএনপি আবার দেশের দায়িত্ব পেলে শিক্ষাখাতেই সর্বাধিক বরাদ্দ নিশ্চিত করবে।”
তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি জরাজীর্ণ বিদ্যালয়গুলো সংস্কার করবে, যাতে শিক্ষার্থীরা আরামদায়ক পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে।
“আমরা শিক্ষকদেরও যথাযথ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে চাই, যাতে তারা অন্য কোনো পেশার চিন্তা না করে পুরো মনোযোগ শিক্ষাদানে দিতে পারেন,” বলেন তারেক।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষা জাতির উন্নতির ভিত্তি, তাই বিএনপি পরবর্তী সরকার গঠন করলে প্রাথমিক শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু অক্ষরজ্ঞান দিলেই হবে না, তাদের সামাজিক মূল্যবোধ, সৎ-অসৎ পার্থক্য ও নৈতিক ভিত্তি শৈশব থেকেই গড়ে তুলতে হবে।
দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রাথমিক শিক্ষায় মূল্যবোধ অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানিয়ে তারেক বলেন, দুর্নীতি মোকাবিলার প্রকৃত সমাধান শিক্ষা। শিশুরা যদি ছোটবেলা থেকেই বুঝতে শেখে যে দুর্নীতি একটি অশুভ কাজ, তবে তারা বড় হয়ে সমাজে এ অনিষ্টের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ই হচ্ছে সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা প্রদানের সর্বোত্তম স্থান। শিশুদের শেখাতে হবে কীভাবে বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করতে হয়, পরিবেশ রক্ষা করতে হয়, নিয়মিত পড়াশোনা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হয়।
তারেক বলেন, আজকের মেধাবী শিশুরাই আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনে সাফল্যের কোনো শর্টকাট নেই, তাই সময় নষ্ট না করে শিক্ষায় মনোযোগ দিতে হবে।
তিনি আরও জানান, বিএনপি মেধাবী শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে তাদের প্রতিভা বিকাশে পরিকল্পনা নিয়েছে।
নেলসন ম্যান্ডেলার উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক বলেন, শিক্ষাই হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র, যা দিয়ে পৃথিবীকে পরিবর্তন করা যায়।
তিনি বলেন, প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকতে হলে ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় দক্ষ হতে হবে। বিএনপি আধুনিক জ্ঞান, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকায়নের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
তারেক জানান, বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার পরিকল্পনায় নিরাপদ রাষ্ট্র, সুরক্ষিত ক্যাম্পাস ও সময়োপযোগী জাতীয় পাঠ্যক্রম প্রণয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
লন্ডন থেকে দেশে ফিরে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে মুখোমুখি বসে বাংলাদেশের পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
২২২ দিন আগে