রাজনীতি
পিআর পদ্ধতি ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: মুফতি রেজাউল করীম
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, বিগত দিনে যারা দেশ পরিচালনা করেছে, তাদের শাসন আমরা দেখেছি। আমরা আমাদের সন্তানের লাশ দেখতে চাই না। ইতোমধ্যে সামনে কী হবে, তা আমরা অনুমান করতে পারছি। চাঁদার জন্য পাথর মেরে মানুষ হত্যা, লাশের ওপর নৃত্য করতে দেখেছি। নির্বাচন কমিশনে গিয়ে মারামারি করতেও দেখেছি।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় ৬ টার দিকে শরীয়তপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট বক্তব্য দিচ্ছেন। সুতরাং পিআর পদ্ধতি ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। দেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানানো যাবে না।
পড়ুন: আইন পরিবর্তন হলে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে: সিইসি
শরীয়তপুর জেলা ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি মুহাম্মদ তারেক জামিলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আবরারের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজিজুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি এস এম আহসান হাবিব।
১৯২ দিন আগে
বিএনপির ফজলুর রহমানের দলীয় সব পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের দলীয় সব পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিএনপির একজন সহদপ্তর সম্পাদক ইউএনবিকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ফজলুর রহমানকে দেওয়া পদ স্থগিতের চিঠিতে বলা হয়, গত ২৪ আগস্ট আপনার (ফজলুর রহমান) নামে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। আপনি নোটিশের লিখিত জবাব না দিয়ে সময় বর্ধিত করার আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার সময় আরও ২৪ ঘণ্টা বর্ধিত করা হয়। আপনি আজ নোটিশের যে জবাব দিয়েছেন, তা সন্তোষজনক নয়।
‘তথাপিও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে আপনার অবদান বিবেচনা করে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে আপনার দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ তিন মাসের জন্য নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হয়েছে।’
পড়ুন: মবস্টাররা আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে: ফজলুর রহমান
চিঠিতে তাকে সতর্ক করে আরও বলা হয়, এখন থেকে আপনি টকশো বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা বলার সময় দেশের মর্যাদা ও দলের নীতিমালা যাতে ক্ষুণ্ণ না হয় এবং দেশের জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে—সে বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকবেন।
এর আগে দলের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেন ফজলুর রহমান। তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা জানান, তিনি (ফজলুর রহমান) এই সংক্রান্ত চিঠির জবাবে লিখিতভাবে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। বিশেষ বার্তাবাহক সেটা জমা দিয়ে এসেছেন। এখন তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন না।
নিজস্ব প্যাডে চার পৃষ্ঠার এই জবাবে দলের তরফ থেকে যা জানতে চাওয়া হয়েছে, ফজলুর রহমান তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন বলে জানান তার সহধর্মিণী। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বরাবর জবাবটি লেখা হয়েছে।
লিখিত জবাবে ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘আমার প্রিয় দল বিএনপির ক্ষতি হয়—এমন কোনো কথা বা কাজ আমি করিনি এবং করবও না। জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বের বিচার-বিবেচনার প্রতি আমার সর্বোচ্চ আস্থা আছে। আমি আশা করি, সুবিচার পাব এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থে যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতি সর্বদা অনুগত থাকব।’
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে অনবরত ‘বিতর্কিত’ বক্তব্য দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ আগস্ট ফজলুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিএনপি। ফজলুর রহমানের ঢাকার ঠিকানায় এ নোটিশ পাঠানো হয় বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে।
রুহুল কবির রিজভীর সই করা এই নোটিশে বলা হয় যে, আপনি জুলাই-আগস্ট ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ক্রমাগত কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে আসছেন এবং আত্মদানকারী শহীদদের নিয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন—তা সম্পূর্ণরূপে দলীয় আদর্শ ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী।
‘এই গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন নিয়ে আপনার বক্তব্য জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আপনার বক্তব্য দলের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার সুপরিকল্পিত চক্রান্তের প্রয়াস বলে অনেকেই মনে করে।’
নোটিশে আরও বলা হয়, ‘এমনকি আপনি জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত দিয়ে কথা বলছেন। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির সাড়ে চার শতাধিক নেতাকর্মীসহ ছাত্র-জনতার প্রায় দেড় হাজারের অধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং ত্রিশ হাজারেরও অধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার এ ধরনের বীরোচিত ভূমিকাকে আপনি প্রতিনিয়ত অপমান ও অমর্যাদা করছেন।’
‘এই ধরনের উদ্ভট ও শৃঙ্খলাভঙ্গকারী বক্তব্যের কারণে কেন আপনার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার যথাযথ কারণ দেখিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি লিখিত জবাব দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য আপনাকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।’
১৯২ দিন আগে
মবস্টাররা আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে: ফজলুর রহমান
দেশ-বিদেশ থেকে মবস্টাররা প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান।
সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট এনেক্স ভবনে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি এ অভিযোগ করেন।
ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমাকে মব সৃষ্টিকারীরা (মবস্টার) হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমার সেগুনবাগিচার ভাড়া বাসার সামনে ওরা অবস্থান নিয়েছে… আজ আপনাদের মাধ্যমে আমি সারা জাতিকে জানাতে চাই, বাংলাদেশের মানুষ আপনারা জেনে রাখুন, আমার জীবন বড় শঙ্কায় আছে।’
এর আগে রবিবার (২৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ‘বিতর্কিত’ বক্তব্য দেওয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। ফজলুর রহমানের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার তার বাসার সামনে অবস্থান নেয় কয়েকজন ব্যক্তি।সংবাদ সম্মেলনে ফজলুর রহমান বলেন, আমি দেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসি।
তিনি বলেন, আমি দেশের একজন মানুষ। সংবিধানের মৌলিক অধিকার অনুযায়ী, এ দেশে আমার বেঁচে থাকার অধিকার আছে। তিনি গণমাধ্যমকে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাহায্যের আহ্বান জানান।
কারা মব সৃষ্টি করছেন জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের এ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, ‘আমি ওদেরকে চিনি না— বাচ্চা তো। ওরা সকাল ৭টা থেকে সেখানে আছে। শুনেছি তারা একটি ছাত্র সংগঠনের। তবে এটা আমাদের দলের ছাত্র সংগঠন নয়।’ফজলুর বলেন, মবসৃষ্টিকারীর সংখ্যা সাত থেকে নয় জন। আপনারা একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন এরা কারা?
তিনি বলেন, আমার বাসার সামনে জড়ো হয়ে ‘ফজলু পাগলাকে গ্রেপ্তার কর, ফজলু পাগলাকে বাঁচতে দেব না, ফজলু পাগলাকে হত্যা কর,’ এমন স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।
‘আমি নাকি ফজলু পাগলা। এই ফজলু পাগলা নামটি প্রথমে আমাকে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াতে ইসলাম। এখন এই এই ছেলেপেলেরাও আমার নামে ফজু পাগলা স্লোগান দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের একজন পাগলা। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হলো, তারা আমাকে হত্যা করতে চায়। কিন্তু আমার মতো একজন সিনিয়র মানুষ যে দেশটার জন্য যুদ্ধ করেছি, আমি যুদ্ধ না করলে বা মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ না করলে এই সন্তনেরা তো বাংলাদেশের সন্তান হইত না, এরা হইত পাকিস্তানের সন্তান। এটি খুবই হতাশাজনক।এমন পরিস্থিতিতে আপনি দল থেকে সহযোগিতা পাচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দল তো সাপোর্ট করবেই, করবে না কেন?’
তিনি দাবি করেন, এখন তিনি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছে। ‘আমার পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমরা নিরাপদ বোধ করছি না।’
পড়ুন: নির্বাচন আয়োজনে দেশ প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা
ফজলুর রহমান বলেন, ‘মৃত্যুকে আমি কোনো দিন ভয় করি না। কিন্তু অপমৃত্যু আমার কাছে সবচেয়ে বেশি লজ্জাজনক।’
তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে, দেশ-বিদেশ থেকে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, যারা ইউটিউবার এবং যারা তাদের (স্বাধীনতাবিরোধীর) পক্ষে সাংবাদিকতা করে, তারাই এসব করছে। বিশেষ করে ফ্রান্স থেকে দুজন ইউটিউবার বলেছে, তাকে (ফজলুর রহমান) হত্যা কর? পরশু রাতে দেখলাম যে, জামায়াতের একজন ইউটিউবার বলছে যে, ফজলু পাগলাকে জবাই করে হত্যা করতে হবে।’
ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি হাত জোড় করে জানাব, আমি একজন মানুষ। আমি হাত জোড় করে আপনাদের কাছে, জনগণের কাছে বলতে চাই, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার বাঁচার অধিকার এ দেশে আছে, এটা আমি মনে করি। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আমার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।’
মবসৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো মামলা করব না; জিডি-টিডি কিছুই করব না।”
বিএনপির শোকজ নোটিশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা খুবই একটা স্বাভাবিক ঘটনা। একটা রাজনৈতিক দলে একজন কর্মীর প্রতি তার দল মনে করে যে, কর্মীর বোধহয় কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি আছে, দল তাকে শোকজ করতেই পারে, আমাকেও করেছে।’
তিনি বলেন, আমি শোকজের উত্তর দলকে দেব। দল যা জানতে চায়, তা–ও আমি বলব। তারপরে দল সিদ্ধান্ত নেবে। এখন পর্যন্ত কিন্তু আমি দলের মধ্যেই আছি, এখন পর্যন্ত আমি দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা।’
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে ফজলুর রহমান ৫ আগস্ট নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
এ বক্তব্য ঘিরে সমালোচনা শুরু হলে বিএনপির পক্ষ থেকে ফজলুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘আপনার বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ যে, আপনি ৫ অগাস্টের অভ্যুত্থানকে নিতে পারছেন না। জবাবে ফজলুর রহমান বলেন, ‘তারা বলুক, তারা বললে যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করুক, আমার বিরুদ্ধে মিছিল করুক, জুতা মারুক। কিন্তু আমার বাসার সামনে গিয়ে মব সৃষ্টি করে আমাকে হত্যা করার স্লোগান দেবে, এটা হবে কেন?’
সংবাদ সম্মেলনে ফজলুর রহমানের স্ত্রী উম্মে কুলসুম রেখা ও আইনজীবী অভিক রহমান উপস্থিত ছিলেন।
১৯৩ দিন আগে
নির্বাচন আয়োজনে দেশ প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা
রোহিঙ্গা ইস্যুতে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এক বছরে দেশ নির্বাচন আয়োজন করার মতো যথেষ্ট প্রস্তুত ও স্থিতিশীল অবস্থায় এসেছে।
তিনি বলেন, আমরা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছি। অন্তর্বর্তী সরকারের জায়গায় নির্বাচিত একটি সরকার দায়িত্ব নেবে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) কক্সবাজারে আয়োজিত ‘স্টেকহোল্ডারস ডায়ালগে’ যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, আমি এখানে এসেছি আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে। এক বছর আগে আমরা দেশকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করতে ছাত্রদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এক হত্যাযজ্ঞের ভেতর দিয়ে গিয়েছি। এখন আমরা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে আরেকটি রূপান্তরের জন্য প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেছি। ঠিক এক বছর আগে আমাদের অভ্যুত্থান হয়েছিল, আর দেশ এখন যথেষ্ট স্থিতিশীল এবং নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত।
এ সময় সরকারের প্রতিনিধি, জাতিসংঘ সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারে। সবাইকে এই সংকট নিরসনে কোনো বিলম্ব ছাড়াই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আপনাদের সোচ্চার হওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার আশা জাগাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান শুধু বাংলাদেশের একার দায়িত্ব নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও এখানে এগিয়ে আসতে হবে। সংকটের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ভাবা এবং তা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখা সবার যৌথ দায়িত্ব।
পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ তৈরিতে প্রধান উপদেষ্টার ৭ দফা প্রস্তাব
যত দিন পর্যন্ত রোহিঙ্গারা নিজেদের আবাসভূমিতে ফিরে যেতে না পারেন, তত দিন পর্যন্ত তাদের বিষয়টি ও এর টেকসই সমাধানকে বৈশ্বিক এজেন্ডায় রাখার ওপর জোর দেন অধ্যাপক ইউনূস।
এর আগে, সোমবার সকালে এই সংলাপে যোগ দিতে কক্সবাজার পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা। এদিন বেলা ১১টার দিকে তিন দিনের এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়। এতে মিয়ানমার ও আঞ্চলিক স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়।
রোববার (২৪ আগস্ট) কক্সবাজারে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘স্টেকহোল্ডারস ডায়ালগ: টেকঅ্যাওয়ে টু দ্য হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শুরু হয়। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
১৯৩ দিন আগে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে আশাবাদী পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ একটি সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সফররত পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। রবিবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
বৈঠকের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামী দিনে বাংলাদেশ একটি সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি (ইসহাক) মন্তব্য করেছেন। তারা এটির প্রশংসা করেছেন।’
পড়ুন: জামায়াত আমিরের সঙ্গে দেখা করলেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) গতিশীল করা নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সেটা যখন সুযোগ আসবে, তখন দেখতে পাবেন। সার্ককে গতিশীল করার জন্য বিএনপি যথাযথ ভূমিকা পালন করবে।’
ডা. জাহিদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী এসেছেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। কথা বলার ফাঁকে ম্যাডাম হয়তো জিজ্ঞেস করেছেন যে আপনাদের দেশে বন্যা কেমন হয়েছে, আগে বন্যা বাংলাদেশেও হতো, এখন আপনাদের দেশেও হচ্ছে। এমন কিছু কথা হয়েছে।’
‘কিন্তু দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে সার্ক নিয়ে তারা যেমন বলেছেন, ম্যাডামও তেমনি সার্কের স্মৃতিচারণ করেছেন। সার্ক প্রতিষ্ঠা হওয়ার সময় কী অবস্থা ছিল? শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সার্কের যে ঘোষণা, পরবর্তীতে তার পাকিস্তান সফর, বাংলাদেশেও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সফর—এগুলো নিয়ে কথা হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
পড়ুন: সম্পর্ক জোরদারে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের সাক্ষাৎ
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বলতে পারেন, এটা কুশলবিনিময় কিংবা খোঁজখবর নেওয়া, বা সেগুলো স্মৃতিচারণ করা হয়েছে।’
দুদেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা তো স্বাভাবিক কথা। দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভবিষ্যতে যাতে দুদেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবাই মিলিতভাবে কাজ করতে পারি, সে আলোচনা তারা করেছেন।’
বাংলাদেশের গণতন্ত্র কিংবা নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না প্রশ্নে ডা. জাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশ যেহেতু নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে, সেহেতু তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে, সে কথা তিনি বলেছেন।’
১৯৪ দিন আগে
জামায়াত আমিরের সঙ্গে দেখা করলেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন বাংলাদেশে সফররত পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মুহাম্মাদ ইসহাক দার।
রবিবার (২৪ আগস্ট) বেলা ২টায় তিনি ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে জামায়াত।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তারিক বাযওয়া, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টর জেনারেল (সাউথ এশিয়া ও সার্ক) ইলিয়াস মেহমুদ নিজামী, ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশনের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মাদ ওয়াসিফ ও পলিটিক্যাল কাউন্সেল কামরান দাঙ্গল প্রমুখ।
জামায়াতের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান।
পড়ুন: পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে জামায়াতের বৈঠক
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জামায়াত আমিরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি ডা. শফিকুর রহমানের স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান জামায়াত আমির।
ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ শেষে নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের সাংবাদিকদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত ব্রিফ করেন।
১৯৪ দিন আগে
নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রবিবার সতর্ক করে বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে সারা দেশ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না করা হলে চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে।
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী দলগুলোর কাছে অবৈধ অস্ত্র এবং অর্থ আছে...। যদি অন্তর্বর্তী সরকার এই অবৈধ অস্ত্র জব্দ করতে না পারে—তাহলে পরবর্তী নির্বাচন বিপজ্জনক হবে। এই অস্ত্রগুলো অবিলম্বে উদ্ধার করতে হবে।’
রবিবার (২৪ আগস্ট) বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক অনুষ্ঠানে রিজভী এসব কথা বলেন।
পড়ুন: জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান রিজভীর
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বর্তমান প্রশাসনের মধ্যেই লুকিয়ে থেকে আগের স্বৈরাচারী শাসনকে সমর্থনে নীরবে কাজ করছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রশাসনের এই ব্যক্তিরা সুযোগ পেলে অন্তর্বর্তী সরকার এবং গণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।
রিজভী বলেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও প্রশাসনের ভেতরে, এমনকি সচিবালয়েও লুকিয়ে থাকা এই উপাদানগুলো লক্ষ্য করেছেন। তারা সেখানে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য কাজ করছে। ‘এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন পালনের অংশ হিসেবে রিকশা ও ভ্যানচালকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জিয়া পরিষদ।
‘জুলাই সনদের জন্য আইন বা সংবিধান সংশোধন করতে হলে সেটা নির্বাচিত সংসদই করবে। একটি রাজনৈতিক দল বলছে আগেই গণভোট দিতে হবে—কেন? যদি মূলনীতিতে কোনো পরিবর্তন করতে হয়, মূলনীতি একটি অখণ্ড বিষয়। তারপরও সংবিধানের বিধান অনুসারে সংশোধন করা যায়। কিন্তু সেই সংশোধন করবে সংসদ,’ যোগ করেন তিনি।
নির্বাচনের আগে কেন এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির এই নেতা।
রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা যেমন গায়ের জোরে চালিয়েছেন যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার মতের মিল হয়নি, তাই গোয়েন্দা সংস্থা পাঠিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছেন। সেই ধরনের আলামত এখন কেন থাকবে? আমরা তো এমনটা করতে পারি না। কাজেই সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার তৈরি করুন। তারপর গণতন্ত্রের স্বার্থে যদি সংবিধান পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে তারা সেটা করবে। এটা তাদের দায়িত্ব।
নির্বাচনের আগে কেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপর এত দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে— সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। ‘আমরা যদি 'তালগাছটি আমার' বলে চিৎকার করতে থাকি—তাহলে আমরা কেবল ফ্যাসিবাদের দরজা খুলে দেব,’ বলেন রিজভী।
১৯৪ দিন আগে
জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান রিজভীর
জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, যদি দেশের স্বার্থে সংবিধানের কোনো পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে সেটা নির্বাচিত সরকারই করবে।
রোববার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘জিয়া পরিষদ রিকশা ও ভ্যানগাড়ি চালকদের মধ্যে বৃষ্টির পোশাক বিতরণ অনুষ্ঠানে’ তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ৫ আগস্টের মাধ্যমে আমরা যে অর্জন করেছি, সেটা আমাদের ধরে রাখতে হবে। গত ১৬ বছর ধরে একটি দানবীয় সরকারের রোষানল ও নিষ্ঠুর নিপীড়নের মধ্যে এ দেশের মানুষ দিন কাটিয়েছেন। সেই সরকার যাতে আর ফিরে না আসে, সে জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি করে ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার সুযোগ যেন তৈরি না হয়।
তিনি বলেন, ‘গত ১৬ বছরে এই জাতিকে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে। তখন দেশে কোনো আইন-কানুন ছিল না, কোনো ন্যায়বিচার ছিল না। শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য তারা আদালত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ একের পর এক রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছে।’
‘দেশে এমন এক রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল, শেখ হাসিনা, তার ছেলে-মেয়ে ও আত্মীয়স্বজন ছাড়া কেউ কথা বলতে পারতেন না। যা ছিল হিংসা ও রক্তপাতের রাজত্ব। আপনারা যদি সেটার পুনরাবৃত্তি না চান, তাহলে সবাইকে অন্তত ন্যূনতম একটা বোঝাপড়ার মধ্যে আসতে হবে।’
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এটা যদি না করতে পারেন, তাহলে আবারও ভয়ঙ্করভাবে ফ্যাসিবাদ উঁকি দিতে পারে। শেখ হাসিনা কতখানি প্রতারক হলে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন করে ক্ষমতায় এসে নিজেই সেটা বাতিল করে দিয়েছে। এই হচ্ছে শেখ হাসিনা, যার কোনো অঙ্গীকার নেই, যে রাজনীতিকে মনে করে প্রতারণা ও উদ্দেশ্য হাসিলের মাধ্যম। আমরা দেশে সেই রাজনীতি ফেরত আসতে দিতে পারি না।’
রিজভী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ। তাদের কাছে মানুষের অনেক দাবি-দাওয়া ও প্রত্যাশা রয়েছে। সেগুলো পূরণে সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই, কিন্তু এখন মুদ্রাস্ফীতি অনেক কমে এসেছে, জিনিসপত্রের দাম না কমলেও অন্তত বাড়ছে না। কিন্তু কর্মসংস্থান তো হচ্ছে না। একের পর এক মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান না থাকলে দুর্ভিক্ষের আলামত তৈরি হয়।
‘দুয়েকজন উপদেষ্টা হয়তো হাঁসের মাংস খেতে পারবেন যেকোনো জায়গায়। কিন্তু জনগণ তো আর হাঁসের মাংস খেতে পারবেন না। এমন পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়।’
আরও পড়ুন: পুলিশ-প্রশাসনে আ. লীগের অনুগতদের রেখে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়: রিজভী
তিনি আরও বলেন, গার্মেন্ট খাত থেকে এক লাখ লোকের চাকরি চলে গেছে। কারণ, ফ্যাসিবাদের পূজারীদের অনেকেই মিলমালিক। আমরা আগেও বলেছি, কলকারখানা যেন বন্ধ না হয়, মানুষের ক্ষুধা যেন না বাড়ে। মানুষের ক্ষুধার সঙ্গে রাজনীতি করা যাবে না। দরকার হলে সরকার এসব কারখানা নিলামে বিক্রি করে দেবে অথবা প্রশাসক দিয়ে চালাবে। কিন্তু কর্মসংস্থান যেন ঠিক থাকে, সরকারকে সেই চেষ্টা করতে হবে।
‘জুলাই সনদের জন্য আইন বা সংবিধান সংশোধন করতে হলে সেটা নির্বাচিত সংসদই করবে। একটি রাজনৈতিক দল বলছে আগেই গণভোট দিতে হবে—কেন? যদি মূলনীতিতে কোনো পরিবর্তন করতে হয়, মূলনীতি একটি অখণ্ড বিষয়। তারপরও সংবিধানের বিধান অনুসারে সংশোধন করা যায়। কিন্তু সেই সংশোধন করবে সংসদ,’ যোগ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা যেমন গায়ের জোরে চালিয়েছেন যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার মতের মিল হয়নি, তাই গোয়েন্দা সংস্থা পাঠিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছেন। সেই ধরনের আলামত এখন কেন থাকবে? আমরা তো এমনটা করতে পারি না। কাজেই সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার তৈরি করুন। তারপর গণতন্ত্রের স্বার্থে যদি সংবিধান পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে তারা সেটা করবে। এটা তাদের দায়িত্ব।
১৯৪ দিন আগে
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে জামায়াতের বৈঠক
ঢাকা সফররত পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকালে ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশনে দলটির ৫ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল বৈঠক করেন।
বৈঠকটি অত্যন্ত হৃদ্যতা ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসময় পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
পড়ুন: দুদিনের সফরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায়
বৈঠকে তারা বাংলাদেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি এবং উভয় দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন-অগ্রগতিতে দুই রাষ্ট্র কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
উল্লেখ্য, রবিবার (২৪ আগস্ট) বেলা ২টা ৩০ মিনিটে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানকে দেখতে তার বসুন্ধরার নিজ বাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে।
১৯৫ দিন আগে
তরুণ সমাজ একা বাংলাদেশ গড়তে পারবে না: মঈন খান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান শনিবার বলেছেন, তরুণরা একা বাংলাদেশ গড়তে পারবে, এটা ভাবা ‘গুরুতর ভুল’ হবে।
তিনি বলেন, ‘শুধু ঢাকা শহর বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর দ্বারা নয়, বরং গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, রিকশাচালক এবং অন্যান্য সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে দেশ গড়ে উঠেছে। জাতি গঠনের প্রক্রিয়ায় তাদের চিন্তাভাবনা, আকাঙ্ক্ষা এবং গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক মুক্তির তৃষ্ণা উপেক্ষা করা যাবে না।’
শনিবার (২৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘তারেক রহমানের রাজনীতি: গণঅভ্যুত্থানের উৎকর্ষ’ শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মঈন বলেন, তরুণরা সর্বদা আন্দোলনের অগ্রভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, তবে কৃষক এবং সাধারণ মানুষও তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জনগণ দানব বা রাক্ষস নয়, যারা গণতন্ত্র চায়। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই যেখানে সুশাসন, মানবাধিকার এবং মৌলিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করা হবে।’
সংস্কার সম্পর্কে তিনি বলেন, ঢাকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে এগুলো করা যাবে না। অথবা এটি বৈদ্যুতিক আলো জ্বালানো-নিভানোর মতো নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
পড়ুন: রাতারাতি বৈষম্যের অবসান হবে না: মির্জা ফখরুল
মঈন খান বলেন, ‘এই সরকারের কাছ থেকে আমরা যা আশা করেছিলাম, তা পূরণ হয়নি। তবে, দেরিতে হলেও, তারা এখন নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেছে।’
বইটির লেখক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক লিয়াকত আলী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন রুনু অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং জৈব রসায়ন ও আণবিক জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
১৯৫ দিন আগে