রাজনীতি
৩টি আসনের ফলাফল স্থগিত রাখল নির্বাচন কমিশন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সব আসনের মধ্যে ৩টি আসনের ফলাফল স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন তিনটি হলো— শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ এবং চট্টগ্রাম-৪।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত জারি করা পৃথক তিনটি চিঠি থেকে এ বিষয়টি জানা গেছে।
ইসি জানায়, এই তিনটি আসনে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রয়েছে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত এই আসনগুলোর ফলাফল ঘোষণা করা যাবে না।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনের কিছুদিন আগে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যু হওয়ায় ওই আসনের নির্বাচন আগেই স্থগিত হয়েছিল।
এছাড়া চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলও মামলার আদেশের ওপর নির্ভরশীল।
এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে লড়ছেন মোট ২ হাজার ২৮০ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন রাজনৈতিক দলের এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। প্রার্থীদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৯৪৬ জন (রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৬৯২, স্বতন্ত্র ২৫৩) এবং নারী প্রার্থী ছিল ৮৩ জন (রাজনৈতিক দলের ৬৩, স্বতন্ত্র ২০)।
দেশের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
২১ দিন আগে
ফরিদপুরের চার আসনে বিএনপির ৩, জামায়াতের ১ প্রার্থী জয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে তিনটিতে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী এবং একটিতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ‘দাড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। কোন ধরনের সহিংসতা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় জেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ফরিদপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা, ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল বিজয়ী হয়েছেন।
চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হিসেবে রয়েছেন ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াতের ইসলামী প্রার্থীর বিজয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এই প্রথম আসনটিতে জামায়াতের কোনো প্রার্থী বিজয় অর্জন করলেন বলে জানান স্থানীয়রা। বরাবরই এই আসনটি আওয়ামী লীগের দূর্গ বলা হয়। তবে আইনানুগ কারণে দলের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।
মো. কামরুল হাসান মোল্যার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) আসনে ২৭ হাজার ৬৬৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির খন্দকার নাসিরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৬ ভোট। এ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ৬২ শতাংশ ভোট পড়েছে ফরিদপুর-১ আসনে।
ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ৮৯ হাজার ৩০৫ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের মাওলানা শাহ আকরাম আলী। এ আসনে ছয়জন প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শামা ওবায়েদ ৩২ হাজার ৩৮৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। । মোট ভোটের ৬৬ শতাংশ প্রয়োগ হয় এ আসনে।
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। জামায়াতের অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন। নায়াব ইউসুফ ২৪ হাজার ৪৩০ ভোট বেশি পেয়ে এ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ৫৮ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ।
ফরিদপুর-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ছরোয়ার হুসাইন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট। এখানে ৮ জন প্রার্থী সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ আসনে ৫৩ শতাংশ ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন ।
ফরিদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার চারটি আসনে ৬৫৭টি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ জেলায় মোট ভোটার সংখ্য্যা ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯২৩ জন। চারটি আসনে মোট ২৮ প্রার্থী ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনি নিরাপত্তায় ৭১৬ জন সেনা সদস্য, ১৩ প্লাটুন বিজিবি, ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৪ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল।
২১ দিন আগে
ময়মনসিংহের ১১টি আসনের মধ্যে বিএনপির ৮টি, জামায়াতের ২টি এবং একটি স্বতন্ত্র প্রার্থীর
ময়মনিসংহের ১৩টি উপজেলায় ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতেই বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট মনোনীত ২টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। আর ১টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ময়মনসিংহের আসনগুলোর ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া)
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এই আসনে ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বহিষ্কৃত) সালমান ওমর রুবেল ১ লাখ ৮ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২৬ ভোট।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা)
এই আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ ‘রিকশা’ প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে ১ লাখ ৪৪ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ধানের শীষের’ প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৪৪ ভোট।
ময়মনসিংহ -৩ (গৌরীপুর)
এই আসনে ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেইন ৭৪ হাজার ৪৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (স্বতন্ত্র বিএনপি বিদ্রোহী) ‘ঘোড়া’ প্রতীকে আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরন পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৫১৩ ভোট।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর)
এই আসনে বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষের’ প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৯১ ভোট পেয়ে। আর ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়েছেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর কামরুল আহসান এমরুল।
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা)
এই আসনে বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী জাকির হোসেন বাবলু ১ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। ১ লাখ ৮৭৬ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া)
এখানে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন বিজয়ী হওয়ার পথে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৯৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (স্বতন্ত্র) আখতার সুলতানার ফুটবল প্রতীকে পড়েছে ৫২ হাজার ৬৬৯ ভোট।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল)
এই আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন ৯৮ হাজার ৫৭৯ বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের আসাদুজ্জামান সোহেল ৮২ হাজার ৯৬২ ভোট পেয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ)
এই আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু ১ লাখ ৭ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ৪৫ হাজার ৭৯১ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন এডিপির প্রার্থী (১১ দলীয় ঐক্য) অ্যাডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল)
এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী ৮৫ হাজার ৪৭৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (১১দলীয় ঐক্য) বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির এ কে এম আনোয়ারুল হক পেয়েছেন ৭০ হাজার ১৫২ ভোট।
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও)
এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চু ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে ৭৪ হাজার ৬৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (স্বতন্ত্র) এবি সিদ্দিকুর রহমানের ‘হাঁস’ পেয়েছে ৬৬ হাজার ৪২৪ ভোট।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা)
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ১ লাখ ১০ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তবে এই আসনে ভোটের দৌঁড়ে হেরে গেছে মোর্শেদ আলমের ‘হরিণ’। স্বতন্ত্র এ প্রার্থী পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৫৯১ ভোট।
২১ দিন আগে
নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ: ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক এই তথ্য জানান।
এর আগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে ইসি জানিয়েছিল, ভোটের হার পরে জানানো হবে। অধিকাংশ আসনে পোস্টাল ভোট যুক্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে এই পরিসংখ্যান জানালে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোট গণনা সম্পন্ন করেই এ তথ্য জানানো হবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে শেরপুর-৩ আসন বাদে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোট হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। এবারের নির্বাচনে দেশে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন।
২১ দিন আগে
ফল ঘোষণায় অনিয়ম হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াতের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল গণনা ও ঘোষণায় অস্বাভাবিক বিলম্ব এবং অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। জনগণের মতামতকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হলে কঠোর আন্দোলনে যাব।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জনগণের মতামতকে যদি ম্যানিপুলেশন (ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা) করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা আমাদের কর্মসূচি এবং সেটা বাস্তবায়নের জন্য যে ধরনের কর্মসূচি নিতে হয়, আমরা সেটা করব। এছাড়া, আমরা প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যাব।
তার দাবি, বিকেল ৫টা থেকে ভোট গণনা শুরু হলেও গভীর রাত পর্যন্ত অনেক আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। তাদের এজেন্টদের দেওয়া শিট অনুযায়ী রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যেই ফলাফল ঘোষণার কথা ছিল, কিন্তু ভোর ৪টা পর্যন্ত তা হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত ফলাফলের শিট পরে পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-১৭ আসনে অন্তত ৮টি শিটে ‘ওভাররাইটিং’ করে প্রায় ৫ হাজার ভোট কমানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটি বিশেষ দলের প্রধানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এ কাজ করা হয়েছে এবং আমাদের এজেন্টদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। ঢাকার প্রায় সবগুলো আসনে আমাদের যারা আছেন সবার ফলাফল দিতেই এ ধরনের গড়িমসি করা হয়েছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিশেষ দলকে সুবিধা দিতে ইসি ও তার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত আছে তারা এটার সঙ্গে জড়িত। একই অবস্থা ১১ দলের অন্যান্য আসনে। সারাদেশে আসনগুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। একই ধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত দেখতে পাচ্ছি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মানুষ রক্ত দিয়েছে এই ধরনের আরেকটি নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েমের জন্য না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই এই ধরনের প্রক্রিয়া যে তারা করছেন, গণনা করা, রেজাল্ট দেওয়া, রেজাল্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের কলাকৌশল করা। ইচ্ছাকৃতভাবে মনে হচ্ছে কোনো একটা বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তারা এ কাজটি করছেন। আমরা ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করবো না। দেশবাসীকে নিয়ে আমরা এই চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলব।
তিনি বলেন, এই জাতির যে ভয়ঙ্কর ট্রমা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এ যেটা আমরা দেখেছি এবং যারা এই ধরনের নির্বাচন করেছিলেন তারা এখন কোথায় আছে সেটা আপনারা জানেন। আমরা আশা করব, এই নির্বাচন কমিশনকেও যেন সেই পরিণতি ভোগ করতে না হয়।
২১ দিন আগে
নড়াইল-১ আসনে বিএনপি, ২ আসনে জামায়াত বিজয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইলের দুটি সংসদীয় আসনের মধ্যে নড়াইল-১ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম (ধানের শীষ) এবং নড়াইল-২ আসনে জেলা জামায়াতের আমির মো. আতাউর রহমান বাচ্চু (দাঁড়িপাল্লা) বিজয়ী হয়েছেন। নড়াইলের দুটি আসনে মোট ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২ টায় আসন দু'টির বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম।
ঘোষিত ফলাফলে নড়াইল-১ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১১২টি কেন্দ্রে (পোস্টাল ভোটসহ) ৯৯ হাজার ৯৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ওবায়দুল্লাহ কায়সার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ২২৫ ভোট। এ আসনে ১১২টি কেন্দ্রে মোট ভোট দেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৫ জন ভোটার।
নড়াইল-২ আসনে জেলা জামায়াতের আমির মো. আতাউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১৪৮টি কেন্দ্রে (পোস্টাল ভোটসহ) ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী কলস প্রতীকের মো. মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট এবং ধানের শীষের প্রার্থী ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট। আসনটির ১৪৮টি কেন্দ্রে মোট ভোট দেন ২ লাখ ৫২হাজার ৭৮১ জন ভোটার।
২১ দিন আগে
জামায়াত একটি উগ্রবাদী দল: মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ‘উগ্রবাদী দল’ আখ্যা দিয়ে তাদের উত্থানের পেছনে আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি গত ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে, তার আগেও করেছে। জনগণের কল্যাণের জন্য বিএনপি কাজ করেছে, জনগণের সঙ্গে থেকেছে। বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। আমি আগেও বলেছি, এই নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয় হবে।
জামায়াত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট শাসন ছিল। যখনই গণতন্ত্র চাপা থাকে, তাকে যখন আটকে দেওয়া হয়, তার যখন কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়; তখন অন্য উগ্রবাদী শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে এবং সেটাই এদেশে হয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে যেটুকু উত্থান হয়েছে জামায়াতের, সেটা আওয়ামী লীগের কারণে। তাদের দমন-পীড়নমূলক যে শাসন, বিরোধী দলকে ফাংশন করতে না দেওয়া, তাদের ইনোসিয়েট করতে না দেওয়া, এর কারণে এমন হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে জনগণ তাদের রিজেক্ট (প্রত্যাখ্যান) করেছে। বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মেজরিটি (সংখ্যাগরিষ্ঠতা) পেয়ে গেছে। জনগণ আবারও সুষ্ঠু, সৎ ও কল্যাণমুখী রাজনীতির মধ্য দিয়ে সব অপপ্রবণতাগুলো রুখে দিতে সক্ষম হবে।’
নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভের জন্য তিনি ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
২১ দিন আগে
পটুয়াখালীতে ৪ আসনের মধ্যে ৩টিতে বিপুল ভোটে বিএনপির জয়
পটুয়াখালীতে ৪টি আসনের মধ্যে ৩টি আসনে জয়লাভ করেছে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা। আর একটি আসনে জয়লাভ করেছে দাঁড়িপাল্লা প্রার্থী। এসব আসনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পটুয়াখালী-১ (পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ, দুমকী) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী ১ লাখ ৫০ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাত পাখা প্রতীক নিয়ে মো. ফিরোজ আলম পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৯৪ ভোট।
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে জামায়াত ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মো. শফিকুল ইসলাম ৯৯ হাজার ৭৮৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মো. হহিদুল আলম তালুকদার পেয়েছেন ৭২ হাজার ১৯৫ ভোট।
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা দশমিনা) আসনে বিএনপি সমর্থিত জোটের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীক নিয়ে ৭৩ হাজার ৯৩৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন নুরুল হক নুর। ঘোড়া প্রতীক নিয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা হাসান মামুন পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯৩০ ভোট।
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৩৫ ভোট পেয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এ বি এম মোশাররফ হোসেন। তার নিকট তম প্রতিদ্বন্দ্বী হাত পাখা প্রতীকের আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৭৬ ভোট।
২১ দিন আগে
‘জাতীয় পার্টির দূর্গ’ রংপুরের দখল নিল জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ৬ টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনে জামায়াতে ইসলামী এবং ১টি আসনে তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এনসিপি প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টির দূর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুরে দখলে নিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট।
রংপুর-১ (গংগাচড়া) আসন
এই আসনের ১৩৯ টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রায়হান সিরাজী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৪০৭ ভোট।
রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসন
এই আসনের ১৩৭ টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার ৭৯ হাজার ৮৭০ ভোট পেয়েছেন।
রংপুর-৩ (সদর ও রসিক) আসন
এই আসনের ১৬৯টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাচার ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। এছাড়া এই আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৪৩ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।
রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসন
এই আসনের ১৬৩টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৬ ভোট পেয়েছেন ।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসন
এই আসনের ১৫২টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার ২০৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী গোলাম রব্বানী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ১৪১ ভোট।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসন
এই আসনের ১১৩ টি কেন্দ্রের সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৯০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের প্রাথী মাওলানা নুরুল আমীন। তিনি ২০২৫ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ১ লাখ ১৬ হাজার ৯১৯ ভোট পান।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনে ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ জন এবং পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৮ জন। আর হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩১ জন।
জেলায় মোট ৮৭৩টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৮৭৩ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৫ হাজার ১৮ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ১০ হাজার পোলিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণ করেন।
ফলাফল হাতে পাওয়ার পর প্রার্থীরা ভোটারদের প্রতি সন্তুষ্টি এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
২১ দিন আগে
কিশোরগঞ্জের ৫টি আসন বিএনপির, একটিতে জিতেছে স্বতন্ত্র
কিশোরগঞ্জে ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতে জয়লাভ করেছে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা। আর একটি আসনে জয়লাভ করেছে স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) প্রার্থী। এসব আসনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম ২২ হাজার ৯০৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। মাজহারুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ হাদী পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ১৩২ ভোট।
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন ২২ হাজার ৬৯৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৯৭৫ ভোট।
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী ড. এম ওসমান ফারুক ৯ হাজার ৯৯০ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে। ড. এম ওসমান ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৪৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খান পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৪৭৬ ভোট।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ৭৪ হাজার ৬৪৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে। অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৪৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৮২৯ ভোট।
কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব) আসনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী মো. শরীফুল আলম ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে। প্রার্থী মো. শরীফুল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৫৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৯৫ ভোট।
অপরদিকে, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) প্রার্থী ১৩ হাজার ১৫৪ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেছেন। শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল হাঁস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে সৈয়দ এহসানুল হুদা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট।
২১ দিন আগে