রাজনীতি
যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি পণ্যে শুল্ক কমানো ‘সন্তোষজনক’: আমীর খসরু
বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করাকে দেশের রপ্তানি খাতের জন্য একটি ‘সন্তোষজনক অগ্রগতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (১ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কহার ২০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের হার ১৯ শতাংশ, ভিয়েতনামের ২০ শতাংশ এবং ভারতের ২৫ শতাংশ—এই প্রেক্ষাপটে ২০ শতাংশ শুল্ক হার সার্বিকভাবে সন্তোষজনক বলেই মনে করি।’
তবে তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া আলোচনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানা দরকার। এই মুহূর্তে শুধু শুল্কহার জানানো হয়েছে, কিন্তু এই হার নির্ধারণের পেছনে কী শর্ত ছিল বা আমরা বিনিময়ে কী দিয়েছি—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আলোচনায় আরও কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা শুধু শুল্ক কমানো নিয়ে নয়, বরং পুরো প্যাকেজ আলোচনার অংশ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র কী পণ্য রপ্তানির সুযোগ চাইছে, কী শর্ত দিয়েছে—এসব তথ্য প্রকাশ পেলে পুরো পরিস্থিতি বোঝা সহজ হবে।’
সম্প্রতি বাণিজ্য সচিবের যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে দেওয়া মন্তব্য এই শুল্ক কমানোর সঙ্গে সম্পৃক্ত কিনা—এমন প্রশ্নে খসরু বলেন, ‘না, তবে কিছু একটা তো করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের উদ্দেশ্যই ছিল তাদের রপ্তানিকে সুরক্ষা দেওয়া।’
পড়ুন: প্রতিযোগী দেশগুলোর সমান ২০ শতাংশ শুল্কহার অর্জন করেছে বাংলাদেশ
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসায়ীদের কতটুকু চাপ সহ্য করার ক্ষমতা আছে, সেটাও চিন্তা করতে হবে। এই সিদ্ধান্তে আপাতত কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে, তবে আমাদের সামগ্রিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির ভারসাম্য বিবেচনায় রাখা জরুরি।
খসরু আরও বলেন, ‘এখন সময় এসেছে আমাদের রপ্তানি বাজার ও পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর। কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। নতুন নতুন বাজারে প্রবেশ ও পণ্য উদ্ভাবনে কাজ করতে হবে—এটাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’
এর আগে, শুক্রবার (১ আগস্ট) বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফার শুল্ক আলোচনা শেষ হওয়ার পর হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
২১৭ দিন আগে
শরীয়তপুরে এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারীর পদত্যাগের ঘোষণা
শরীয়তপুর জেলা নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম পদত্যাগ করেছেন।
শুক্রবার (১ আগস্ট) তিনি তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
তারিকুল ইসলাম তার ফেসবুকে লেখেন, ব্যক্তিগত কারণে এনসিপির সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি নিলাম।
আরও পড়ুন: ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে: নাহিদ
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শরীয়তপুর জেলা প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বলেন, ‘তারিকুল ইসলাম ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের একটি গ্রুপে একজন কিছু আপত্তিকর কথা লিখেছেন। তাই রাগ করে তিনি পদত্যাগ করেছেন। তবে আমাদের কাছে এখনো কোনো পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়া হয়নি।’
২১৭ দিন আগে
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক নেতা কাদের গনিকে দেখতে গেলেন মঈন খান
জ্বর ও চিকনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএফইউজে মহাসচিব ও বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব কাদের গনি চৌধুরীকে দেখতে পিজি হাসপাতালে গেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) তিনি হাসপাতালে যান।
এসময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানসহ কর্তব্যরত চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
মঈন খান সাংবাদিক নেতা কাদের গনি চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।
সকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ফোন করে পেশাজীবীদের এ নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন।
এছাড়াও কাদের গনি চৌধুরীর অসুস্থতার কথা শুনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সাবেক কেবেনেট সচিব আবদুল হালিম, সাবেক এমপি সালাউদ্দিন আহমেদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবে সভাপতি ও কালের কন্ঠ সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ ,যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাহিনুল আলম, প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান, সাংবাদিক এলাহী নেওয়াজ সাজু, শহীদুল ইসলাম, খুরশীদ আলম, সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাকের হোসাইন, একেএম মহসিন, আমিরুল ইসলাম কাগজী, আজম মীর, মোরসালিন নোমানী, শাহজান সাজু, সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, রাশিদুল হক, সাঈদ খান, বাছির জামাল, বশির আহমেদ, খায়রুল বাশার, এরফানুল হক নাহিদ, জাহিদুল ইসলাম রনি, আবুল কালাম মানিক, রফিক মোহাম্মদ, দিদারুল আলম, কবি রফিক লিটন, মজুমদার তৌহিদ, তালুকদার রুমি, রাজু আহমেদ,সাংবাদিক মোদাব্বের হোসেন, ডা. দেলোয়ার হোসেন টিটু, ইঞ্জিনিয়ার সাখাওয়াত হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম,এমট্যাবের হাফিজুর রহমান,ডা: তানভীরুল ইসলাম ,সাংবাদিক নাসিম শিকদার,সাংবাদিক মাহমুদ হাসান,সাংবাদিক জিএম রাজিব হোসেন, সাংবাদিক শাহনাজ পলি, সাংবাদিক আল আমিন,সাংবাদিক সাইফুল ইসলামসাংবাদিক সাইদুর রহমান,সাংবাদিক রিয়েল রোমান, সাংবাদিক সাদ্দাম, সাংবাদিক জিয়াউর রহমান,সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম,অধ্যাপক কেয়া চৌধুরী অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া. শাকিল বিন মুশতাক, ইস্রাফিল মোল্লা, আলা উদ্দিন, সাংবাদিক সেকান্দর রেমান, নুর হোসেন কাইউম, ইঞ্জিনিয়ার হারুন উর রশীদসহ অসংখ্য সাংবাদিক ও পেশাজীবীরা দেখতে যান।
২১৮ দিন আগে
বিষাক্ত রাজনীতি এড়াতে দলগুলোর পারস্পরিক বোঝাপড়ার আহ্বান ফখরুলের
একে অন্যকে দোষারোপ করার সংস্কৃতি বাদ ও তিক্ততা এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক বোঝাপড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকা উচিত। এখন আমরা আমরা কেবল একে অন্যকে দোষারোপ করার সংস্কৃতি দেখতে পাচ্ছি। গণতন্ত্রে কিছু দোষারোপ চলতেই পারে, কিছু কঠোর কথাবার্তাও হয়—কিন্তু এরও একটা সীমা থাকা দরকার। সীমা না মানলে তিক্ততা তৈরি হয়—যার ফলে ধীরে ধীরে রাজনীতির পরিবেশ আরও কলুষিত হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, দেশ এখন একটি সংকটময় সময় পার করছে। এ সময়ে সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি হওয়া জরুরি। যদি আমরা সবাই মিলে, বোঝাপড়ার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে পারি, তাহলে তার উপকার পাবে দেশের মানুষ। তারা তাদের প্রতিনিধি ও একটি সঠিক সরকার পাবে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সব সমস্যা মিটে যাবে, তা না। কিন্তু একটা রাস্তা তৈরি হবে, যে রাস্তার মধ্যদিয়ে আমাদের এবং জনগণের কথাগুলো সেই সরকারের কাছে পৌঁছাতে পারবে।
এরমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলো ১২টি মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাকি বিষয়গুলোতে ঐক্য তৈরির কাজ চলছে। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা করে বৈঠক হচ্ছে। অনেকগুলো বিষয় আছে, যেগুলো আমরাও ঠিক বুঝি না, তারা করতে চান।
পড়ুন: নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হবে, একদিনও দেরি হবে না: শফিকুল আলম
বিএনপি মহাসচিব জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে জটিল বিষয়গুলো বাদ দিয়ে মূল অমীমাংসিত বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দিতে বলেন। এগুলোকে বাদ দিয়ে যে মৌলিক বিষয়গুলো আছে, সেই বিষয়গুলো সমাধান করে আমার মনে হয়, অতিদ্রুত লন্ডনের বৈঠক অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্য নির্বাচনটা হওয়া দরকার।
তিনি বলেন, ‘যদি এটা সম্ভব হয়, তাহলে আমি বিশ্বাস করি, আমাদের অনেক সংশয় ও বিভ্রান্তি দূর হবে এবং আমরা একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগোতে পারব।’
ফখরুল হতাশা প্রকাশ করে বলেন, অর্ন্তবর্তী সরকার এখন পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানের সময় নিহত ও আহতদের পরিবারকে সহায়তা কিংবা পুনর্বাসনের জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
তিনি বলেন, ‘আজ যখন এক বোনের কথা শুনছিলাম, (যিনি তার স্বামীকে হারিয়েছেন) তখন মনে হলো—রাষ্ট্র বলতে আমরা কী বুঝি? রাষ্ট্র কার জন্য? যারা রাষ্ট্র চালাচ্ছেন, তারা কি একটি বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও এই মানুষগুলোকে খুঁজে পাননি? একটা সঠিক তালিকা তৈরি করে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে পারেননি?’
আলোচনার এক পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে আহত এক শিশুর প্রসঙ্গ টেনে আবেগপ্রবণ হন তিনি, ‘গতকাল (বুধবার) এক ছোট ছেলে—হয়তো ছয়-সাত বছরের—আমার কাছে এসে হঠাৎ জড়িয়ে ধরল। বলল, ‘আমার মাথা নাই।’ মানে, তার মাথায় গুলি লেগেছিল, পরে ডাক্তাররা অপারেশন করে একটা প্লাস্টিকের কৃত্রিম খুলি বসিয়েছেন। এর চেয়ে বড় ত্যাগ আর কী হতে পারে?’
তিনি বলেন, ‘যদি আমরা এই ত্যাগকে যথাযথভাবে সম্মান না জানাতে পারি—যদি এই শিশুদের, এই বোনদের, এই মায়েদের প্রতি সুবিচার না করি—তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা জাতির সঙ্গে এক ভয়াবহ বিশ্বাসঘাতকতা করব।’
তবে বিএনপি নেতা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমরা এখনো একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশের দিকে এগোতে পারব।’
২১৮ দিন আগে
জুলাই অভ্যুত্থানে শিবিরের নির্দেশে কাজ করার তথ্য মিথ্যা: নাহিদ ইসলাম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা থেকে একক নেতৃত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ সময়ে শিবিরের নেতৃত্বে কাজ করার তথ্যকেও ‘মিথ্যাচার’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শিবির নেতা সাদিক কায়েম সম্প্রতি একটি টকশোতে বলেছেন, ছাত্রশক্তির গঠনপ্রক্রিয়ায় শিবির যুক্ত ছিল। শিবিরের নির্দেশে আমরা কাজ করতাম— এটা মিথ্যাচার।
‘সাদিক কায়েম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো সমন্বয়ক ছিলেন না। কিন্তু ৫ আগস্ট থেকে এই পরিচয় তিনি ব্যবহার করেছেন। অভ্যুত্থানে শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সাদিক কায়েমকে প্রেস ব্রিফিংয়ে বসার সুযোগ দেওয়া হয়।’
অভ্যুত্থান শিবিরের একক ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, ‘সাদিক কায়েমরা অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ঢালাও প্রচারণা চালিয়েছে যে, এই অভ্যুত্থানে ঢাবি শিবিরই নেতৃত্ব দিয়েছে, আমরা শুধু সামনে পোস্টার ছিলাম। অভ্যুত্থানে শিবিরের ভূমিকা কেউ অস্বীকার করেনি। কিন্তু এই অভ্যুত্থান শিবিরের একক ছিল না, শিবিরের নির্দেশ বা নেতৃত্বও ছিল না। আমরা সব পক্ষের সাথে যোগাযোগ করেই সিদ্ধান্ত নিতাম। আর কারা ক্ষমতার ভাগ–বাঁটোয়ারা করতে চাইছে, গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষা করতে চাইছে— সে বিষয়ে অন্যদিন বলব।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘গুরুবার আড্ডা’ পাঠচক্রের সাথে জড়িত একটি অংশ এবং ঢাবি ছাত্র অধিকার থেকে পদত্যাগ করা একটি অংশ মিলে ছাত্রশক্তি গঠিত হয়। সঙ্গে জাবির একটি স্টাডি সার্কেলও যুক্ত হয়। একটি নতুন ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুবার আড্ডা পাঠচক্রে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা হয়েছে।
‘আমরা ক্যাম্পাসে আট বছর রাজনীতি করেছি। ফলে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব সংগঠন ও নেতৃত্বকে আমরা চিনতাম এবং সব পক্ষের সাথেই আমাদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিল। সেই কারণে ঢাবি শিবিরের সাথেও যোগাযোগ ছিল। তবে যোগাযোগ, সম্পর্ক বা কখনো সহযোগিতা করা মানেই এই নয় যে তারা আমাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল।’
আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ পায়নি ইসলামী ছাত্রশিবির। তবে জামায়াতে ইসলামীর এ ছাত্র সংগঠন যে গোপনে সক্রিয় ছিল, তা প্রকাশ্যে আসে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিক কায়েম ২১ সেপ্টেম্বর এক ফেসবুক পোস্টে জানান, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি।
সমন্বয়কের তালিকায় নাম না থাকলেও জুলাই মাসে চলা ছাত্র আন্দোলনে সামনের কাতারেই ছিলেন সাদিক কায়েম। তালিকাভুক্ত সমন্বয়কদের সঙ্গে বিভিন্ন ছবিতেও তাকে সে সময় দেখা যায়।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানে সাদিক কায়েম বলেন, ২০১৭ সাল থেকে লম্বা সময় ধরে যখন তার যে পদ ছিল, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমরা তা জানতেন।
সাদিক কায়েম বলেন, পরিচয় জেনে কো-অর্ডিনেশন করে আমরা সবাই মিলে একসাথে কাজ করেছি। সুতরাং এখানে পরিচয় গোপন করার কিছু নেই। ওই সময়ে পরিচয় ঘোষণা দিয়ে কাজ করার মতো পরিস্থিতি ছিল না। সে কারণে শিক্ষার্থীদের সব দাবির সঙ্গে ছিলাম, কিন্তু ঘোষণা দিয়ে কাজ করার মতো অবস্থা ছিল না। কারণ, আমাদের মেরে ফেলা বৈধ ছিল।
২১৮ দিন আগে
জুলাই সনদ একটি সামাজিক চুক্তি, কোনো পক্ষ এটি ভাঙবে না: সালাহউদ্দিন
ঢাকা, ৩০ জুলাই (ইউএনবি): জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ একটি মহান বাধ্যতামূলক সামাজিক চুক্তি হিসাবে বর্ণনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, কোনো দল এটি অমান্য করার সাহস করবে না, কারণ এটি একটি স্বচ্ছ জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পরবর্তী সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা আবশ্যক।
বুধবার (৩০ জুলাই) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন (এনসিসি) আয়োজিত দ্বিতীয় দফা সংলাপের ২২তম অধিবেশনে চা বিরতির সময় সালাউদ্দিন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল কি এটি ভঙ্গ করার সাহস করবে? কোনো দল কি সেই ঝুঁকি নেবে? আমি মনে করি না এর চেয়ে বড় ঐকমত্য, সমঝোতা স্মারক বা সামাজিক যোগাযোগ বা চুক্তি হতে পারে। এটি জাতি, জনগণ, রাজনৈতিক দল এবং সকল অংশীদারদের মধ্যে একটি চুক্তি। এবং আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে এটি বাস্তবায়নের একমাত্র স্থান হলো জাতীয় সংসদ।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সনদের তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য একটি আইনি কাঠামোর দাবির বিষয়ে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘কেউ কেউ বলছেন এটি একটি আইনি দলিল হওয়া উচিত। কিন্তু আমি বলব এই পুরো প্রক্রিয়াটি—দীর্ঘ, স্বচ্ছ, সরাসরি সম্প্রচারিত আলোচনায় অনেক রাজনৈতিক দলকে জড়িত করা—একটি উন্মুক্ত আদালতের বিচারের মতো। জাতি দেখেছে কে কী বলেছে। এখন যখন প্রধান উপদেষ্টা, সংস্কার কমিশনের প্রধান, এনসিসির সদস্য, জাতীয় নেতা এবং সকল দলের প্রতিনিধিদের সই নিয়ে একটি সনদ প্রস্তুত করা হয়—এবং এটি অনলাইনে এবং সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়—তখন কি কোনো দল এটি লঙ্ঘনের সাহস করতে পারে? আমি তা মনে করি না।’
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট ছাত্র অভ্যুত্থানের পর সনদ জাতির সম্মিলিত চেতনাকে প্রতিফলিত করে। ‘কোনো রাজনৈতিক দল কি জাতির আকাঙ্ক্ষা এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক নেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করতে পারে... আমি বিশ্বাস করি না যে এটি সম্ভব,’ বলেন তিনি।
পড়ুন: অন্তর্বর্তী সরকারকে ভুল পদক্ষেপ, গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্তের বিষয়ে সতর্ক করলেন তারেক
সালাউদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং সনদ কীভাবে বাস্তবায়ন করা উচিত সে বিষয়ে এনসিসির প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, জাতীয় সংসদই এই সনদ বাস্তবায়নের একমাত্র স্থান।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সনদের একটি ধারা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে সংসদ গঠনের দুই বছরের মধ্যে সম্মত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। ‘আমরা সেই অনুভূতি এবং প্রস্তাবের সাথে শতভাগ একমত।’
সালাহউদ্দিন আরও বলেন, সনদ সই হওয়ার আগেই অধ্যাদেশ এবং উপদেষ্টা পর্যায়ের পদক্ষেপের মাধ্যমে অনেক সংস্কার বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গেছে।
বিএনপি সংস্কার গ্রহণ করে না এমন অভিযোগের বিষয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কমিশনের মোট ৮২৬টি প্রস্তাবের মধ্যে আমরা মাত্র ৫১টির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছি। এত বিশাল ঐকমত্য গঠনের প্রক্রিয়ার পরে কেউ কীভাবে বলতে পারে যে বিএনপি সংস্কারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়?’
২১৯ দিন আগে
ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে: নাহিদ
অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা এনসিপির কেউ নয়—তারা গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি। তাদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করে, পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বুধবার (৩০ জুলাই) বিকালে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে নরসিংদী পৌরসভার সামনে এনসিপির দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) অ্যাডভোকেট শিরিন আক্তার শেলী।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, সামান্তা শারমিন, আব্দুল্লাহ হিল লিমন, আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল প্রমুখ।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
সারা দেশে জুলাই পদযাত্রায় হামলা ও বাধা সৃষ্টি করে এনসিপিকে থামানো যাবে না উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী নির্বাচনে দেশের জনগণের সমর্থনে এনসিপি জয়লাভ করবে।
এর আগে পথসভায় মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, আগামী ৩ আগষ্ট ঢাকায় এনসিপির সমাবেশ ঘিরে যারা নেতাকর্মীদের উপর হাত তুলবে, তাদের জবাব দেওয়া হবে।
পড়ুন: অন্তর্বর্তী সরকারকে ভুল পদক্ষেপ, গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্তের বিষয়ে সতর্ক করলেন তারেক
নাসিরুদ্দিন আরও বলেন, এখন ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের ভয়ে আতঙ্কে থাকেন। এনসিপি ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা চায় না। দেশের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায়। এসময় তিনি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চব্বিশের ছাত্র জনতার আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য দলগুলোর ক্ষোভ ভুলে আবারো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। পথসভায় দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
এর আগে নরসিংদী ক্লাবে জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এনসিপি নেতারা। এ সময় তারা প্রতিটি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান।
বিকালে ঢাকা-সিলেট সড়কের জেলখানা মোড় (শহীদ তাহমিদ চত্ত্বর) থেকে শুরু হয়ে পদযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নরসিংদী পৌরসভা প্রাঙ্গনে অস্থায়ী মঞ্চে গিয়ে মিলিত হয়।
২১৯ দিন আগে
জামায়াত আমির ডা. শফিকুরের হার্টে ব্লক, দেশেই করবেন বাইপাস সার্জারি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে। চিকিৎসকরা বাইপাস সার্জারির নির্দেশনা দিয়েছেন। বুধবার (৩০ জুলাই) রাতে জামায়াত আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী নজরুল ইসলাম ইউএনবিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘জামায়াত আমিরের হার্টে মেজর তিনটি ব্লক ধরা পড়েছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আগামীকাল চিকিৎসকরা তার চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
এছাড়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ধানমন্ডি থানা জামায়াতের আমির হাফেজ রাশেদুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমিরের অসুস্থতার কথা জানান।
ডা. শফিকুর রহমানের পরিবার ও তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দেশের বাইরের হাসপাতালে বাইপাস সার্জারি করার পরমর্শ দিলে তিনি তাতে সম্মত হননি।
দেশেই তিনি সার্জারির সিন্ধান্ত নিয়েছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন রাশেদুল ইসলাম।
এর আগে গত ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের জাতীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য দেওয়ার সময় ডা. শফিকুর রহমান দুবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত তিনি বসেই সমাবেশের বক্তব্য শেষ করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তখন থেকে তার শারিরীক ধারাবাহিক পরীক্ষা-নীরিক্ষা চলছিল।
পড়ুন: আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান
২১৯ দিন আগে
অন্তর্বর্তী সরকারকে ভুল পদক্ষেপ, গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্তের বিষয়ে সতর্ক করলেন তারেক
অন্তর্বর্তী সরকারের যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এবং ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ ও মৌলবাদের উত্থানের পথ উন্মুক্ত করে দিতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘সরকারের যেকোনো ভুল পদক্ষেপ গণতন্ত্রের যাত্রাকে সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ এবং মৌলবাদ মাথা উঁচু করতে পারে। তাই, আমাদের সকলকে, বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।’
আশুলিয়ার শ্রীপুরে দারুল ইহসান মাদরাসা মাঠে বুধবার (৩০ জুলাই) বিএনপির ঢাকা জেলা শাখা আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে ভার্চুয়াল ভাষণে তারেক রহমান এই মন্তব্য করেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় নৃশংস ঘটনার শিকারদের স্মরণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আন্দোলনের সময় আশুলিয়া থানার কাছে শহীদদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পড়ুন: খালেদা জিয়া সুস্থ, নির্বাচনে অংশ নেবেন: আবদুল আউয়াল মিন্টু
ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের উল্লেখ করে তারেক বলেন, জনগণ অন্তর্বর্তী সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করে আশা করেছিল তাদের অধিকার পুনরুদ্ধার হবে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ কেউ দেশের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে না দিয়ে, তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে কাজ করার পরিবর্তে খারাপ কৌশল অবলম্বন করতে পারে।
বিএনপি নেতা বলেন, ‘নির্বাচনী অগ্রাধিকার নির্ধারণে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা অন্তর্বর্তী সরকার প্রদর্শন করছে কিনা তা নিয়ে জনগণের মধ্যে একটি গুরুতর উদ্বেগ ও প্রশ্ন রয়েছে।’
তারেক আরও সতর্ক করে বলেন, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো তাদের রাজনৈতিক ফায়দার জন্য সরকারের কোনো ভুলের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে, শত শত শহীদের রক্তপাতের পরও পতিত, পলাতক, পরাজিত এবং ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো ছায়ায় লুকিয়ে আছে, ফিরে আসার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বিভেদ তৈরি না করার আহ্বান জানান, যাতে দেশের গণতন্ত্র আবার বাধাগ্রস্ত না হয়।
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে রাজনৈতিকভাবে অনেক কিছু বলা এবং ব্যাখ্যা করা হচ্ছে এবং গণতন্ত্রে এটি স্বাভাবিক। কিন্তু এমন কিছু করবেন না— যা আবারও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ক্ষতি করতে পারে।’
পড়ুন: দেশে জনগণের প্রতিনিধিত্বের সরকার খুবই জরুরি: মির্জা ফখরুল
বিএনপি নেতা আরও সতর্ক করে বলেন, ছোটখাটো বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় বিরোধ ‘ফ্যাসিবাদী হাসিনার প্রত্যাবর্তন’র পথ প্রশস্ত করতে সাহায্য করতে পারে।
তিনি দ্রুত তাদের মতপার্থক্য ভুলে এবং দেশে গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে সকল রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার, আমাদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করার এবং একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার আহ্বান জানাই। আসুন একটি সত্যিকারের জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করি।’
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বাংলাদেশের মানুষ ও মাটির সন্তানদের জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করতে পারে—এমন ঘটনায় তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন।
বিএনপির এই নেতা হতাশা প্রকাশ করেন যে, সরকার এখনও গণঅভ্যুত্থানের সময় নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে পারেনি।
ক্ষমতায় থাকার জন্য নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পথ বেঁছে নেওয়ার অভিযোগ করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করে শেখ হাসিনা যে নৃশংসতা চালিয়েছেন—তার জন্য তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
২১৯ দিন আগে
খালেদা জিয়া সুস্থ, নির্বাচনে অংশ নেবেন: আবদুল আউয়াল মিন্টু
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন এবং তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, নির্বাচনে ফেনীর অতীত ইতিহাস সবাই জানে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এখানে বিএনপি জয়লাভ করবে। নির্বাচন নিয়ে ফেনীতে কোনো চিন্তা নেই।
বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ফেনী শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মিন্টু বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় জানুয়ারিতেও নির্বাচন হয়ে যেতে পারে। কারণ সুপ্রিম কোর্টে কেয়ারটেকার সরকার নিয়ে একটি মামলা চলমান। যদি কেয়ারটেকার সরকার পুনঃপ্রবর্তন হয়—তাহলে এ অন্তবর্তী সরকার কেয়ারটেকার হবেন। কেয়ারটেকার সরকারে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার কথা বলা আছে। আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, লন্ডনে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে অন্তর্বর্তী সরকার যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল। আমরা সেটিতে আস্থা রাখতে চাই যে, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন হবে।
আরও পড়ুন: জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মধ্যরাতে হাসপাতালে খালেদা জিয়া
সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ না থাকলে ভালো কাজ করবে না উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, গত ১৯ বছর আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম, অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে আসছি। কেউ যদি বলে আমরা হঠাৎ করে নির্বাচন চাচ্ছি বিষয়টি সঠিক নয়। বরং ২০০৬ সাল থেকে আমরা নির্বাচন চেয়ে আসছি। একটি দেশের সরকার যদি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ না থাকেন—তাহলে তারা কখনো ভালো কাজ করবে না। তাই আমরা চাচ্ছি নির্বাচনটি হোক।
মিন্টু আরও বলেন, আমরা বলে আসছি ২০০৮ সালে যে নির্বাচন হয়েছে, সেটি অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। ২০০৬ সাল থেকে দেশে কোনো নির্বাচনকালীন সরকার নেই। দুই যুগ ধরে যদি নির্বাচিত সরকার না থাকে— তাহলে মানুষের অর্থনৈতিক বা জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে না। নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত থাকে একটি সরকার, যারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে।
২১৯ দিন আগে