খেলাধুলা
রিয়ালকে হারিয়ে বিপদ বাড়িয়ে দিল বেতিস
বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান বাড়িয়ে তিন পয়েন্টে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বেতিসের মাঠে খেলতে নেমেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে শুরতে এগিয়ে গিয়েও ধারহীন পারফরম্যান্সে ম্যাচটি হেরে তিন পয়েন্ট তো খুইয়েছেই, উল্টো বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদকে আগে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
আন্দালুসিয়ার বেনিতো ভিয়ামারিন স্টেডিয়ামে শনিবার (১ মার্চ) লা লিগার ২৬তম রাউন্ডের ম্যাচটি রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
এই হারে ফের তিনে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে গতবারের শিরোপাজয়ীদের। হারের ফলে ২৬ ম্যাচে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে এখনও বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্ট সমতায় দুইয়ে আছে রিয়াল, তবে আগামীকাল নিজেদের ম্যাচটি জিতে তাদের চেয়ে তিন পয়েন্টে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বার্সেলোনার। এছাড়া, ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের সামনেও সুযোগ এসেছে দুইয়ে ওঠার। নিজেদের ম্যাচটি জিতে তারাও নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে দুই পয়েন্ট এগিয়ে যেতে পারে।
নিজেদের ম্যাচে চারে থাকা আথলেতিক বিলবাউয়ের বিপক্ষে কিছুক্ষণের মধ্যেই মাঠে নামবে দিয়েগো সিমিওনের শিষ্যরা।
আরও পড়ুন:আট গোলের থ্রিলারে শেষ হাসি আতলেতিকো মাদ্রিদের
বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই গোল করে দলকে এগিয়ে নেন ব্রাহিম দিয়াস। কিন্তু দুই অর্ধে দুই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ, যা থেকে পরে আর ঘুরে দাাঁড়ানো সম্ভব হয়নি দলটির।
বেনিতো ভিয়ামারিনে এদিন সাবধানি শুরু করে দুদলই। যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করায় কিছুটা ধীরগতিতে শুরু হয় খেলা। তবে দশম মিনিটে চকিতে আক্রমণে উঠে গোল পেয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। অবশ্য এই গোলে অ্যাসিস্টের জন্য ফেরলঁ মদিঁর নাম থাকলেও মূল কারিগর ছিলেন তারই জাতীয় দলের সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পে।
সতীর্থের কাছ থেকে বল পেয়ে বেতিসের বক্সের কিছুটা ওপর থেকে প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ সামলে বক্সের মধ্যে বাঁ দিকে অসাধারণ এক পাস বাড়ান এমবাপ্পে। এরপর ছুটে গিয়ে বল ধরে গোলমুখে ক্রস দেন মদিঁ, আর ট্যাপ-ইনে বল ঠিকানায় পাঠিয়ে দেন বেলিংহ্যামের নিষেধাজ্ঞায় তার পজিশনে একাদশে সুযোগ পাওয়া দিয়াস।
৩৭০ দিন আগে
সমালোচনার ঝড়ের পর চার ম্যাচ নিষিদ্ধ মরিনিয়ো
বারবার বিতর্কিত মন্তব্য করে ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া জোসে মরিনিয়োর জন্য নতুন কিছু নয়। তুরস্কে গিয়েও চলছে তার এমন কর্মকাণ্ড। তবে এবার দেশটির রেফারিদের সমালোচনা করে শাস্তি পেয়েছেন এই পর্তুগিজ কোচ।
তুর্কি সুপার লিগের রেফারিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় তাকে চার ম্যাচের জন্য ডাগআউটে নিষিদ্ধ করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন (টিএফএফ)। পাশাপাশি ১৬ লাখ ১৭ হাজার তুর্কি লিরা জরিমানাও গুণতে হচ্ছে ৬২ বছর বয়সী ফেনারবাচে ম্যানেজারকে।
ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি)। সেদিন চিরপ্রতিন্দ্বী গালাতেসারাইয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে তার দল।
বিতর্ক এড়াতে বিদেশি রেফারি দিয়ে ম্যাচটি পরিচালনা করতে দুই ক্লাবের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়। তাদের সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচকে ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রেফারির প্রশংসা করে মরিনিয়ো বলেন, ‘ম্যাচটি দারুণভাবে পরিচালনা করেছেন তিনি।’
‘ম্যাচ শেষে আমি রেফারিদের ড্রেসিং রুমে গিয়েছিলাম। চতুর্থ রেফারিও সেখানে ছিলেন, যিনি তুরস্কের রেফারি। প্রধান রেফারিকে (ভিনচিচ) আমি বলেছি, এখানে আসার জন্য ধন্যবাদ। কারণ বড় একটি ম্যাচে আপনি এসেছেন এবং দায়িত্ব পালন করেছেন।’
‘এরপর চতুর্থ রেফারির দিকে ঘুরে বলেছি, এই ম্যাচে আপনি রেফারি থাকলে বিপর্যয় হয়ে যেত। তাকে যখন এটি বলেছি, আমি আসলে (তুরস্কের) সবাইকেই বুঝিয়েছি, এটিই তাদের সহজাত প্রবণতা।’
ম্যাচের শুরুর দিকে ফেনারবাচের ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার ইউসুফ আকচিচেকের একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে বেশ উত্তেজনা ছড়ায়। গালাতাসারাইয়ের ডাগআউটের ফুটবলারদের তখন বেশ উত্তেজিত দেখা যায়। সেই ঘটনায় আকচিচেককে হলুদ কার্ড না দেখানোয় রেফারি ভিনচিচের প্রশংসা করেন মরিনিয়ো।
‘তুর্কি রেফারি হলে অমন বড় ডাইভ দেওয়ার পর নিশ্চিত সেখানে হলুদ কার্ড দিতেন। ওদের (গালাতেসারাই) বেঞ্চের ফুটবলাররা বাচ্চা ছেলেটির (আকচিচেক) ওপর যেভাবে বানরের মতো লাফালাফি করছিল… এসব দেখেই রেফারি কার্ড দিতেন এবং পাঁচ মিনিট পর আমাকে তার বদলি কাউকে নামানো লাগত।’
মরিনিয়োর এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় গালাতেসারাই।
‘তুরস্কে কোচের দায়িত্ব পালনের এই সময়কালে ফেনারবাচে কোচ জোসে মরিনিয়ো তুরস্কের মানুষদের নিয়ে ক্রমাগত অপমানজনক কথা বলে যাচ্ছেন। আজকে তার মন্তব্য অনৈতিক মন্তব্যের সীমানা ছাড়িয়ে নিশ্চিতভাবেই নিষ্ঠুর অলঙ্করণে পৌঁছে গেছে।’
‘আমরা এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করছি যে, জোসে মরিনিয়োর বর্ণবাদী বিবৃতি নিয়ে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু করব। একই সঙ্গে উয়েফা ও ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযাগ জানাব। পাশাপাশি কোচের প্রদর্শিত নিন্দনীয় এই আচরণ নিয়ে ফেনারবাচের অবস্থান আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করব।’
এ ঘটনার পর মরিনিয়ো ‘বর্ণবাদী’ বলে সমালোচনার ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ইউরোপীয় ফুটবল অঙ্গনের বিভিন্নজন তার পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেন। অবশেষে টিএফএফ থেকে তার বিরুদ্ধে এলো এই শাস্তির ঘোষণা।
তবে মরিনিয়োর পক্ষ নিয়ে তার ক্লাব ফেনারবাচে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অন্য প্রসঙ্গে করা বক্তব্য এখানে টানা হয়েছে। তাছাড়া বিষয়টিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এমনকি মরিনিয়োর ওপর দেওয়া শাস্তির বিরুদ্ধে আপিলও করেছিল ক্লাবটি। তবে তা খারিজ করে দিয়ে নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা বহাল রেখেছে ফেডারেশন।
তুরস্কের রেফারিদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার ঘটনা এই প্রথম নয় ‘স্পেশাল ওয়ানের’। এই ধরনের মন্তব্যের দায়ে আগেও এক দফায় জরিমানার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ, চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও টটেনহ্যামের সাবেক এই কোচকে।
৩৭১ দিন আগে
আট গোলের থ্রিলারে শেষ হাসি আতলেতিকো মাদ্রিদের
দারুণ সব ফুটবলারে ভরা অসাধারণ ভারসাম্যের আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে কেমন খেলবে বার্সেলোনা—তা নিয়ে দলটির সমর্থকদের অনেকেই ছিলেন সংশয়ে। তবে চলতি মৌসুমের প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও দলটির বিপক্ষে হতাশা সঙ্গী হয়েছে কাতালান জায়ান্টদের।
মঙ্গলবার রাতে বার্সেলোনার অলিম্পিক স্টেডিয়ামে কোপা দেল রের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ৪-৪ গোলে ড্র করেছে হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা।
ম্যাচের প্রথম ৬ মিনিটের মধ্যে দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও একপর্যায়ে ৪-২ গোলে পিছেয়ে পড়েছিল দিয়েগো সিমিওনের শিষ্যরা। কিন্তু শেষের দিকে বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের সমন্বয়হীনতা আর রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সমতায় ফেরার স্বস্তি নিয়েই মাঠ ছেড়েছে মাদ্রিদের দলটি।
অপরদিকে, ৪-২ গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ মুহূর্তে সেই ব্যবধান খোয়ানোয় বার্সেলোনার সঙ্গী হয়েছে হতাশা।
পরের লেগের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আতলেতিকোর মাঠে। ফলে এই ড্রয়ের পরে ঘরের মাঠে নিজ সমর্থকদের সামনে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ থাকবে তাদের।
আরও পড়ুন: কোপা দেল রে: আরও একটি এল ক্লাসিকো ফাইনালের সম্ভাবনা
ম্যাচ শুরু হতেই এদিন স্বাগতিকদের চেপে ধরে গোল আদায়ের চেষ্টা করে আতলেতিকো মাদ্রিদ, তাতে দারুণ সাফল্য পায় দলটি। প্রথম মিনিটেই আন্তোয়ান গ্রিজমানের ক্রসে বার্সার ডি-বক্সের ভেতর থেকে হেডারে লক্ষ্যভেদ করার চেষ্টা করেন হুলিয়ান আলভারেস, কিন্তু বল ক্রসবার ঘেঁষে জালের ঢোকার আগমুহূর্তে তা ক্লিয়ার করেন ভয়চিয়েখ স্টান্সনি।
তবে পরের মুহূর্তে আর জাল অক্ষত রাখতে পারেননি বার্সার এই পোলিশ গোলরক্ষক। কর্নার থেকে ছোট পাসে বল পেয়েই গোলমুখে উড়িয়ে দেন গ্রিজমান, এরপর দূরের পোস্টের কাছ থেকে হেডারে ঠিকানা খুঁজে নেন আলভারেস।
প্রথম মিনিটেই গোল হজম করার পর সমতায় ফেরায় মনোযোগ দেয় বার্সেলোনা। তবে তাদের হাই ডিফেন্স লাইন ভেঙে ষষ্ঠ মিনিট পড়তেই আরও এক গোল করে এগিয়ে যায় আতলেতিকো মাদ্রিদ।
এবারও সেই আলভারেস-গ্রিজমান যুগলবন্দি, তবে এবারের গোলটি করেন গ্রিজমান। আলভারেসের ডিফেন্সচেরা পাস ধরে এগিয়ে গিয়ে খানিকটা এগিয়ে আসা স্টান্সনিকে বোকা বানান ফরাসি তারকরা।
৩৭৪ দিন আগে
জিরোনাকে হারিয়ে ফের বার্সেলোনাকে ধরল রিয়াল মাদ্রিদ
ফেব্রুয়ারি পড়তেই লা লিগায় যেন জিততে ভুলেই গিয়েছিল অন্যান্য লিগে দারুণ পারফর্ম করে চলা রিয়াল মাদ্রিদ। তবে তিন ম্যাচ পর অবশেষে ব্যর্থতার সেই বৃত্ত ভাঙতে সক্ষম হয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সান্তিয়াগো বের্নাবেউতে জিরোনাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে মাদ্রিদ জায়ান্টরা।
নিষেধাজ্ঞায় পড়া বেলিংহ্যামকে ছাড়াই এদিন খেলতে নামলেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে লিগে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের ৪১তম মিনিটে লুকা মদ্রিচের চমৎকার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে কয়েকবার চেষ্টা করেও এই ম্যাচে জালের দেখা পাননি নতুন বছরে উড়তে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পে।
এর আগে, এ মাসের শুরুতে এস্পানিওলের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় রিয়াল। তারপর আতলেতিকো মাদ্রিদ ও ওসাসুনার সঙ্গে ড্র করে দলটি। তবে লিগে এমন হতাশাজনক ফলের মাঝে অন্যান্য প্রতিযোগিতায় তিনটি ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই জেতে তারা। এবার ঘরোয়া লিগেও পেল জয়ের স্বাদ।
২৫ ম্যাচে ১৬ জয় ও ৬ ড্রয়ে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে ফিরল আনচেলত্তির দল। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে মুখোমুখি লড়াই ও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। আর ১ পয়েন্ট কম নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
গতকাল ভালেন্সিয়ার মাঠে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। এছাড়া লাস পালমাসের মাঠে ২-০ গোলে জেতে বার্সেলোনা।
৩৭৬ দিন আগে
কোহলির সেঞ্চুরি, পাকিস্তানকে বিপদে ঠেলে সেমির পথে ভারত
ম্যাচের ফল একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল আগেই। শেষ পর্যন্ত বিরাট কোহলি সেঞ্চুরি করতে পারেন কিনা, তা-ই দেখার বাকি ছিল। জয়ের জন্য যখন ২ রান দরকার, শতক হাঁকাতে কোহলির দরকার তখন ৪। তবে চার মেরেই সব হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে দিলেন তিনি।
রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে শুরুতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান। এরপর ভারতীয় বোলারদের প্রতাপ সামলে ইনিংসের দুই বল বাকি থাকতেই ২৪১ রান তুলে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
২৪২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৬ উইকেট হাতে রেখে ২৪৪ রান করে জয়োল্লাস করে ভারত। ইনিংসের ৪৫ বল বাকি ছিল তাদের।
ভারতের এই জয়ে মূল কাজটি করেন তাদের বোলাররা। দীর্ঘ সময় উইকেট না পেলেও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তানের রানের গতি এমনভাবে তারা কমিয়ে দেন যে প্রথম ইনিংসে একেকটি বাউন্ডারি দেখতেই ৪০-৪৫ বলের মতো অপেক্ষা করতে হয়েছে দর্শকদের।
শেষের দিকে রানরেট বাড়াতে গিয়ে একের পর এক উইকেট বিলিয়ে শেষ পর্যন্ত অলআউট হওয়ার লজ্জাও বরণ করতে হয় তাদের।
অপরদিকে, ফিল্ডিং চলাকালে বোলারদের পাশাপাশি ভারতের ফিল্ডারদেরও খানিকটা কৃতিত্ব দিতে হয়। তাদের পরিশ্রমী মানসিকতার কারণেই অনেকগুলো এক পাকিস্তানি ব্যাটাররা দুইয়ে রূপ দিতে পারেননি, অনেকগুলো সম্ভাব্য চার আটকে গেছে তিনে। এরপর রান তাড়ায় নেমে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাই উপহার দিয়েছেন ভারতীয় ব্যাটাররা।
অবশ্য শুরুর দিকে (পঞ্চম ওভারের শেষ বলে) রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে দিয়ে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও সময় যত গড়িয়েছে, জয়ের পাল্লা ততই ভারতের পক্ষে ভারী হয়েছে।
৩১ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর পাকিস্তান দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পায় ১০০ রানের মাথায়। ৫২ বলে ৪৬ রান করা শুভমান গিল এদিন অল্পের জন্য হাফ সেঞ্চুরি বঞ্চিত হলেও কোহলির সঙ্গে দারুণ একটি জুটি গড়ে জয়ের ভিত গড়ে দিয়ে যান। এরপর শ্রেয়াস আইয়ারের সঙ্গে কোহলির ১১৪ রানের জুটিটি পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়।
৬৭ বলে ৫৬ রান করে শ্রেয়াস ফেরার অল্প সময় পর হার্দিক পান্ডিয়াও আউট হলে ভারতের তখন প্রয়োজন ৬০ বলে মাত্র ১৯ রান। এরপর শেষ মুহূর্তে সেঞ্চুরির মাধ্যমে দলকে জেতানোর পথে অনন্য এক কীর্তি গড়েন কোহলি।
৩৭৬ দিন আগে
কষ্টের জয়ে শীর্ষেই রইল বার্সেলোনা
বার্সেলোনার অলিম্পিক স্টেডিয়ামে প্রথম লেগে জমাট রক্ষণের যে কৌশল দিয়ে দলটিকে হারিয়েছিল লাস পালমাস, সেই একই কৌশলে দ্বিতীয় লেগেও তাদের আটকে রাখার চেষ্টা করে দলটি। তবে বার্সার মাঠে পারলেও নিজেদের মাঠে আর কাতালানদের সঙ্গে পেরে উঠল না তারা। ফলে জিততে ঘাম ছুটে গেলেও জয়ের স্বস্তি নিয়েই ঘরে ফিরেছে বার্সেলোনা।
কানারি দ্বীপের গ্রান কানারি স্টেডিয়ামে লা লিগার ২৫তম রাউন্ডের ম্যাচটি ২-০ গোলে জিতেছে হান্সি ফ্লিকের দল।
ম্যাচের ৬২তম মিনিটে বার্সেলোনাকে প্রথম এগিয়ে নেন দানি অলমো। এরপর যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করে লাস পালমাসের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ফেররান তোরেস। মজার বিষয় হচ্ছে, দুই গোলদাতাই বদলি হিসেবে মাঠ নেমে বাজিমাত করেছেন।
এদিন ম্যাচের প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও স্বাগতিকদের রক্ষণে চিড় ধরাতে ব্যর্থ হন বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা। অবশ্য সুযোগ যে একেবারে আসেনি তা নয়, তবে দুটি পরিষ্কার গোলের সুযোগ নষ্ট করে স্কোরবোর্ডে কোনো পরিবর্তন না এনেই বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।
প্রথমার্ধে গেম ডেভেলপমেন্টে তেমন গতি ও মাঝমাঠ তেমন ধারালো পারফরম্যান্স করতে না পারায় ফলস নাইন পজিশনে খেলা ফেরমিন লোপেসকে রেখে দানি অলমোকে নামিয়ে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করেন ফ্লিক।
আরও পড়ুন: রেফারিং নিয়ে ফের বিতর্ক, তবে জিতে দুই মাদ্রিদকে টপকে শীর্ষে বার্সেলোনা
খেলা শুরুর পর থেকেই দেখা যায় অলমোর প্রভাব। দুর্দান্ত সব পাস দিয়ে লাস পালমাসের রক্ষণে ভীতি ছড়াতে থাকেন তিনি। ফলে দলটির ডিফেন্ডাররাও কিছুটা মনোযাগ হারায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬২তম মিনিটে লাস পালমাসের ডেডলক ভাঙেন অলেমো নিজেই।
এ সময় লামিন ইয়ামাল ও অলমোর দারুণ যুগলবন্দী দেখে সমর্থকরা, যার পরিণতিতে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় সফরকারীরা।
বল ধরে বেশ খানিকটা এগিয়ে গিয়ে বক্সের বেশ বাইরে থাকা অবস্থায় বিপরীত পাশে থাকা লামিনকে পাস দিয়ে বক্সের ভেতরে এগিয়ে যান অলমো। বল পেয়ে প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়কে ড্রিবল করে অলমোর উদ্দেশে বক্সের ভেতর থ্রু বল বাড়ান লামিন। এরপর তা ধরে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে উড়ন্ত শট নেন অলমো, আর বল ক্রসবারে লেগে গোলের ভেতরে আছড়ে পড়ে।
৩৭৭ দিন আগে
রেকর্ডের মালা গেঁথে নতুন ইতিহাস গড়ল অস্ট্রেলিয়া
৩৫১ রান তুলে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গড়া ২১ বছর আগের রেকর্ড ভেঙেছিল ইংল্যান্ড। তবে সেই রেকর্ড এক দিনও ধরে রাখতে পারল না জশ বাটলার অ্যান্ড কোং। দ্বিতীয় ইনিংসেই তা টপকে একাধিক রেকর্ড গড়ে ম্যাচ জিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল অস্ট্রেলিয়া।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে বেন ডাকেটের অনবদ্য ১৬৫ রানের ইনিংসে ভর করে আট উইকেটে ৩৫১ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। ২০০৪ সালের আসরে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের গড়া ৩৪৭ রানের রেকর্ডটি ভেঙে এদিন রেকর্ড বইয়ে নিজেদের নাম তোলে ইংলিশরা।
এছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে এক ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর গড়েন বেন ডাকেট। তবে ইংলিশদের এসব রেকর্ড ম্লান করে পাঁচ উইকেটের এক স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
৩৫২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ১৫ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় স্টিভেন স্মিথ অ্যান্ড কোং। ৪৭.৩তম বলটিতে ছক্কা হাঁকিয়ে দারুণ নৈপুণ্যে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন অ্যালেক্স ক্যারি।
এর ফলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে যেকোনো ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ড (৩৫৬) গড়ল অজিরা। তাছাড়া আইসিসির যেকোনো ওয়ানডে ইভেন্টে এটিই সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০১৭ সালে ওভালে ভারতের বিপক্ষে ৩২১ রান তাড়া করে জয়ই ছিল তাদের সর্বোচ্চ।
আরও আছে; এটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রান তাড়ার জয়।
এছাড়া এ জয়টি অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড। তাদের সর্বোচ্চ রেকর্ডটি ৪৩৪ রানের; ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অবিস্মরণীয় সেই ম্যাচটি খেলে তারা।
আরও পড়ুন: ডাকেটের ব্যক্তিগত কীর্তির দিনে ইংল্যান্ডের রেকর্ড সংগ্রহ
পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড। এর আগের রেকর্ডটিও এই গাদ্দাফি স্টেডিয়ামেই গড়ে অস্ট্রেলিয়া। ২০২২ সালের ২৯ মার্চ ৬ উইকেটে করা পাকিস্তানের ৩৬৮ রান তারা পেরিয়ে যায় এক ওভার বাকি থাকতেই। ৭ উইকেটে সেদিন ৩৭২ রান করে অস্ট্রেলিয়া। ওই ম্যাচে ১৫৬ রান করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন ট্র্যাভিস হেড।
আর টানা দুটি সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড দেখল গাদ্দাফি স্টেডিয়াম। ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন রেকর্ড অত্যন্ত বিরল।
আজকের ম্যাচে ৮৬ বলে আটটি চার ও ছয়টি ছক্কায় ১২০ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন জশ ইংলিস।
মাত্র ৭৭ বলে সেঞ্চুরি করে ব্যক্তিগত রেকর্ডেও নাম উঠিয়েছেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বিরেন্দর শেবাগের সঙ্গে যৌথভাবে দ্রুততম শতকের মালিক এখন তিনি। এছাড়া ওয়ানডে ক্যারিয়ারের এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে চতুর্থ সর্বোচ্চ ইনিংস।
এ ছাড়াও আরও রেকর্ড হয়েছে ম্যাচটিতে। এই ম্যাচে দুই দল মিলে মোট ৭০৭ রান সংগ্রহ করেছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে যা এক ম্যাচে সর্বোচ্চ মোট রানের রেকর্ড। এর আগে এই রেকর্ড গড়ে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল ম্যাচ। সেই ম্যাচে মোট ৬৫৯ রান সংগ্রহ করে দুই দল। সেদিন ভারতের চার উইকেটে ৩৩৮ রানের সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩২১ রান তুলতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। ফলে ১৭ রানের হার দেখতে হয় দলটিকে।
ম্যাচটি আজ মোট ২৩টি ছক্কা হাঁকিয়েছে দুদলের ব্যাটাররা (ইংল্যান্ড ৭, অস্ট্রেলিয়া ১৬), যা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির একটি ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়ার ১৬টি ছক্কা এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এক ইনিংসে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই রেকর্ডটি এখনও রয়েছে ভারতের দখলে। ২০১৩ সালের ১১ জুন ওভালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৮টি ছক্কা হাঁকান ভারতের ব্যাটাররা।
৩৭৭ দিন আগে
ডাকেটের ব্যক্তিগত কীর্তির দিনে ইংল্যান্ডের রেকর্ড সংগ্রহ
রিয়ারে প্রথমবার আইসিসি ইভেন্টে খেলতে নেমেছেন ইংলিশ ব্যাটার বেন ডাকেট। নেমেই দিনটিকে শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসেও স্মরণীয় করে রাখলেন তিনি।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৫১ রানের পুঁজি পেয়েছে ইংল্যান্ড।
এটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ড। ২০০৪ সালের আসরে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের গড়া ৩৪৭ রানের ইনিংসটিই এতদিন সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ছিল।
এদিন ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক বেন ডাকেট। ১৪৩ বলে ১৭টি চার ও তিনটি ছক্কায় ১৬৫ রান করেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে এক ইনিংসে এটি ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর। এই রেকর্ড গড়ার পথে পথে তিনি ২০০৪ সালের ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের ন্যাথান অ্যাস্টলের করা অপরাজিত ১৪৫ রানের স্কোরটি ছাড়িয়ে যান।
আরও পড়ুন: ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নতুন দলে নাম লেখালেন সাকিব
ডাকেট ছাড়াও এদিন হাসে জো রুটের ব্যাট। শুরুর দিকে দুই উইকেট হারানোর পর ৭৮ বলে ব্যক্তিগত ৬৮ রান করে ডাকেটের সঙ্গে ১৫৮ রানের জুটি গড়েন তিনি।
দলীয় ৪৩ রানে দুই উইকেট হারানো ইংল্যান্ডের পরবর্তী উইকেটটি যখন পড়ে, তখন স্কোরবোর্ডে দেখা যায় তিন উইকেটে ২০১ রান। ৩১তম ওভারের শেষ বলে রুট আউট হলে তাই মনে হচ্ছিল স্কোর আরও বড় হবে। তবে রুটের উইকেটের মধ্য দিয়েই হারানো ছন্দ খুঁজে পায় অস্ট্রেলিয়া। তারপর থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলতে থাকেন দলটির বোলোররা।
ওই দুই ব্যাটার বাদে অধিনায়ক জশ বাটলারের ২৩ ও শেষের দিকে জোফলা আর্চারের ১০ বলে ২১ রানের ক্যামিও ইনিংসটিই কেবল বলার মতো।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৬৬ রানে তিন উইকেট নিয়েছেন বেন ডুয়ারশিস, আর দুটি করে উইকেট গিয়েছে অ্যাডাম জ্যাম্পা ও মার্কাস লাবুশেনের ঝুলিতে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড: ৩৫১/৮ (ডাকেট ১৬৫, রুট ৬৮, বাটলার ২৩; ডুয়ারশিস ৩/৬৬, লাবুশেন ২/৪১, জ্যাম্পা ২/৬৪)।
৩৭৭ দিন আগে
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নতুন দলে নাম লেখালেন সাকিব
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশে ফিরতে চেয়ে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন সাকিব আল হাসান। এ কারণে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে চেয়েও পারেননি। এসব জটিলতার মাঝেই আসন্ন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নতুন দলে নাম লিখিয়েছেন তিনি।
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জে নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়ক। অবশ্য দেশে ফিরে ক্লাবটির হয়ে তিনি খেলতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সাকিবকে দলে ভেড়ানোর খবর নিশ্চিত করে রূপগঞ্জের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘ক্রিকেটীয় কারণে আমরা সাকিবকে দলে নিয়েছি। সে দেশে আসতে পারলে আমাদের হয়ে খেলবে, না আসতে পারলে সেটা ভিন্ন ব্যাপার।’
গত আসরে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের হয়ে খেলেন সাকিব। তবে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক সরে যাওয়ায় ক্লাবটির সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখাও সম্ভব হয়নি তার। পরে রূপগঞ্জের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: আবারও পরীক্ষায় ফেল, সাকিবের বোলিং নিষেধাজ্ঞা বহালই থাকছে
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ নির্বাচিত হন সাকিব। গত জুলাই মাসে দেশের বাইরে যান তিনি। এরপর আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি হন তিনি।
এরপর দেশের জার্সিতে খেললেও তা ছিল দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে (পাকিস্তান ও ভারতে)। পরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা হলেও দুবাই এসে ফিরে যেতে হয় তাকে।
ওই সময় থেকেই ক্রিকেটে ভালো সময় যাচ্ছে না এক সময়ের বিশ্বেসেরা এই অলরাউন্ডারের। সম্প্রতি তার বোলিং অ্যাকশন অবৈধ বলে গণ্য হয়। এর ফলে খেলার মাঠেও তার কার্যকারিতা কমে যায় অর্ধেক। এ কারণেই কেবল ব্যাটার হিসেবে তাকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে না নেওয়ার কথা জানান নির্বাচকরা।
আরও পড়ুন: সাকিব-লিটনকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাংলাদেশ দল ঘোষণা
বোলিং অ্যাকশন অবৈধ হলেও বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে বল করতে বাধা নেই সাকিবের। সে কারণেই তাকে দলে নিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। তবে দেশে ফিরে খেলতে মাঠে নামতে পারবেন কিনা, তা একদমই অনিশ্চিত।
মার্চের প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে চলেছে এ বছরের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। তা আগে আগামীকাল (রবিবার) পর্যন্ত চলবে দলবদল। ক্রিকেটারদের অনলাইন ও অফলাইন দুভাবেই নিবন্ধন করানো যাচ্ছে।
৩৭৭ দিন আগে
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নকআউট ড্র: মুখোমুখি দুই মাদ্রিদ, বার্সেলোনার স্বস্তি
প্লে-অফ থেকে ১৬টি দল চূড়ান্ত হওয়ার পর এবার হয়ে গেল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর ড্র। নতুন নিয়মের এই ড্রয়ে বেশ কয়েকটি বড় দল তুলনামূলক দূর্বল প্রতিপক্ষ পেলেও সেয়ানে সেয়ানে লড়াইও দেখা যাবে কয়েকটি।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টায় সুইজারল্যান্ডের নিয়নে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শুধু শেষ ষোলো নয়, ফাইনাল পর্যন্ত যেতে কোন দলের কী সমীকরণ, সে পথও স্পষ্ট করা হয়েছে।
নতুন ফরমেটে অনুষ্ঠিত এবারের টুর্নামেন্টে নতুন নিয়মেই হয়েছে ড্র। এতে দুটি ‘লিগ ক্লাসিক’ লড়াই দেখার সুযোগ মিলবে দর্শকদের। তার মধ্যে একটি হচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখ ও বায়ের লেভারেকুজেন। শাবি আলোনসোর হাতের ছোঁয়ায় গত মৌসুম থেকে জ্বলে ওঠা লেভারকুজেনই বর্তমানে বুন্দেসলিগায় বায়ার্ন মিউনিখের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।
এছাড়া রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ড্র হয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদের। ফলে লা লিগা, কোপা দেল রের পর এ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও দুই নগর প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে।
তবে বার্সেলোনার সামনে পিএসজির মতো সম্প্রতি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা দল পড়ার সম্ভাবনা থাকলে এ যাত্রায় সেই বিপদ কেটেছে দলটি। অপর সম্ভাব্য দল বেনফিকাই পড়েছে তাদের সামনে। ফলে ফাইনালের আগে আর বার্সেলোনার সঙ্গে তাদের দেখা হওয়ার সুযোগ নেই।
আর এতে করে চলতি মৌসুমে অপ্রতিরোধ্য লিভারপুলের সঙ্গী হয়েছে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। তাই চরম হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের দিকে বিশেষ নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের।
এ ছাড়াও অনেক বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়া অ্যাস্টন ভিলার প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে এসেছে ক্লাব ব্রুজের নাম। আর আর্সেনাল, ইন্টার মিলান ও ডর্টমুন্ড পেয়েছে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ।
এক নজরে শেষ ষোলোর ড্র
• ক্লাব ব্রুজ-অ্যাস্টন ভিলা • লিল-বরুশিয়া ডর্টমুন্ড • রিয়াল মাদ্রিদ-আতলেতিকো মাদ্রিদ • বায়ার্ন মিউনিখ-বায়ের লেভারকুজেন • পিএসভি আইন্ডহোভেন-আর্সেনাল • ফেয়েনুর্ড-ইন্টার মিলান • পিএসজি-লিভারপুল • বেনফিকা-বার্সেলোনা
(পরের দলটি ঘরের মাঠে দ্বিতীয় লেগ খেলার সুবিধা পাবে।)
৩৭৮ দিন আগে