খেলাধুলা
বের্নাবেউতে এবার রিয়ালকে গুঁড়িয়ে দিল মিলান
গত সপ্তাহে এল ক্লাসিকোতে ঘরের মাঠে বার্সেলোনার কাছে ৪-০ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে মাঠে নেমেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু চলতি মৌসুমে ধুঁকতে থাকা এসি মিলানকে তারা হারাতে তো পারলই না, বরং মিলানের কাছেই বিধ্বস্ত হলো কার্লো আনচেলত্তির দল।
মঙ্গলবার রাতে সান্তিয়াগো বের্নাবেউতে এসি মিলানের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
এর ফলে পাঁচ বছরের বেশি সময় পর ঘরের মাঠে টানা দুই ম্যাচ হারল লা লিগা ও ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা। সবশেষ ২০১৯ সালে এমনভাবে হারে মাদ্রিদ জায়ান্টরা। ২০১৮-১৯ মৌসুমে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে বের্নাবেউতে টানা চার ম্যাচ হেরে ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে টানা হারের রেকর্ডটি গড়ে।
১৭ ফেব্রুয়ারি লা লিগায় জিরোনার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হারের পর কোপা দেল রের ম্যাচে ২৭ ফ্রেব্রুয়ারি বার্সেলোনার কাছে ৩-০ গোলে হারের মুখ দেখে রিয়াল মাদ্রিদ। এরপর ২ মার্চ লা লিগায় আবারও বার্সার কাছে ১-০ গোলে হারের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাদের ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় আয়াক্স। ফলে চরম বিপর্যয়ের পর সেবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নিতে হয় ইউরোপের ইতিহাসের সফলতম ক্লাবটিকে।
আজকের ম্যাচের শুরুতেই দলকে এগিয়ে নেন মালিক থিয়া। এরপর ২৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ভিনিসিউস দলকে সমতায় ফেরানোর পর ৩৯তম মিনিটে মিলানকে আবারও এগিয়ে নিয়ে বিরতিতে যান আলভারো মোরাতা। বিরতির পর রিয়ালের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন তিজানি রেইন্ডার্স।
আরও পড়ুন: হেরে বার্সেলোনার রেকর্ড ভাঙার স্বপ্ন ধূলিসাৎ রিয়ালের
এদিন শুরু থেকেই ভয়ডরহীন ফুটবল খেলতে থাকে দুদল। এর ফলস্বরূপ শুরুতেই দারুণ সুযোগ পেয়ে যান এমবাপ্পে, কিন্তু কোনাকুনি শট লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন তিনি। দুই মিনিট পর ছয় গজ বক্সের বাইরে সতীর্থের বাড়ানো বল পেয়েও শট নিতে ব্যর্থ হন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
এরপরই দুর্দান্ত এক গোলে বের্নাবেউয়ের সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেন থিয়া। দ্বাদশ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের কর্নার থেকে পাঠানো ক্রসে মাথা লাগিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন এই জার্মান ডিফেন্ডার।
২৩তম মিনিটে পেনাল্টি আদায় করে তা থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিউস।
জুড বেলিংহ্যামের বাড়ানো পাস ধরে এগিয়ে গিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ভিনিসিউস, এরপর মিলানের ব্রাজিলীয় ফুলব্যাক এমেরসন রয়াল তাকে স্লাইড করে ফেলে দিলে সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। দারুণ একটি পানেনকা স্পট কিকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে সমতা টানেন ভিনি।
৪৮৬ দিন আগে
বিশ্বকাপ বাছাই: আর্জেন্টিনা দলে নতুন মুখ
বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বার কোপা আমেরিকা জয়ের পর অক্টোবরের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সবশেষ ম্যাচে বলিভিয়াকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে নভেম্বরের বাছাইপর্বে মাঠে নামতে চলেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তার আগে মঙ্গলবার ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে আলবিসেলেস্তেরা।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ের একাদশ ও দ্বাদশ রাউন্ডের ম্যাচে আগামী ১৫ ও ২০ নভেম্বর যথাক্রমে প্যারাগুয়ে ও পেরুর বিপক্ষে মাঠে নামছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ওই দুই ম্যাচের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন এক নতুন মুখ।
চলতি মৌসুমে ধারে ভালেন্সিয়ায় খেলা অ্যাস্টন ভিলার ২৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডার এনসো বারেনেচিয়াকে প্রথমবার স্কোয়াডে রেখেছেন স্কালোনি। তিনি ছাড়াও নিকো পাস, ফাকুন্দো বুনানোত্তে, আলেহান্দ্রো গারনাচোর মতো তরুণ ফুটবলার রয়েছেন স্কোয়াডে।
আরও পড়ুন: হ্যাটট্রিক করে রোনালদোকে ছুঁলেন মেসি
এছাড়া নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরেছেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস। পাশাপাশি ইনজুরি থেকে ফেরায় নিকোলাস গন্সালেসকেও দলে রেখেছেন কোচ।
লাতিন আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে এ পর্যন্ত ১০ ম্যাচে ৭ জয় ও ১ ড্রয়ে ২২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা। ৩ পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে কলম্বিয়া। সমান সংখ্যক ম্যাচে ৫টি জয় ও একটি ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উরুগুয়ে। আর সমান পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ স্থানে ব্রাজিল।
আর্জেন্টিনা স্কোয়াড
গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেস, ওয়াল্টার বেনিতেস, জেরোনিমো রুলি।
ডিফেন্ডার: নাহুয়েল মলিনা, গনসালো মন্তিয়েল, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, জার্মান পেস্সেলা, লিওনার্দো বালেরদি, নিকোলাস ওতামেন্দি, নেহুয়েন পেরেস, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো।
মিডফিল্ডার: এনসো ফেরনান্দেস, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এসেকিয়েল পালাসিওস, রদ্রিগো দে পল, আলেক্সিস মাক অ্যালিস্তের, জিওভানি লো সেলসো, এনসো বারেনেচিয়া, থিয়াগো আলমাদা, ফাকুন্দো বুনানোত্তে, নিকোলাস (নিকো) পাস।
ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি, আলেহান্দ্রো গারনাচো, নিকোলাস গনসালেস, হুলিয়ান আলভারেস, লাউতারো মার্তিনেস, ভালেন্তিন কাস্তেয়ানোস।
আরও পড়ুন: চোটটি গুরুতর নয়, আশা নেইমারের
৪৮৬ দিন আগে
টাইগারদের জ্যেষ্ঠ সহকারী কোচ হলেন সালাহউদ্দিন
দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে কোচ হিসেবে সবচেয়ে পরিচিত নাম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমদের গুরু মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জ্যেষ্ঠ সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ এই কোচকে।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে বিসিবি।
এর আগে, ২০০৬-২০১০ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের সহকারী কোচ ছিলেন সালাহউদ্দিন। এরপর ২০১০-২০১১ সালে বিসিবির ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে বিশেষজ্ঞ কোচ হিসেবে কাজ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত হাথুরুসিংহে, সিমন্সকে নিয়োগ বিসিবির
সালাহউদ্দিন ২০১৪ সালে সিঙ্গাপুরের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পান এবং অস্ট্রেলিয়ায় এসিসি ক্রিকেটের লেভেল-৩ কোচিং সার্টিফিকেট অর্জন করেন।
তিনি দেশের অন্যতম সফল স্থানীয় কোচ যিনি বিপিএল ও ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশনের শিরোপা জিতেছেন। সর্বশেষ তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ ছিলেন যারা বিপিএলের সফলতম দল।
চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিদায়ের পর সালাহউদ্দিনের নিয়োগ নিয়ে জোর গুঞ্জন ছিল। পরে ফিল সিমন্স প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় জানা যায়, জাতীয় দলের সহকারী কোচ হতে সালাহউদ্দিনকে প্রস্তাব দিয়েছে বিসিবি।
জানা গেছে, আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজে সালাহউদ্দিনকে দলের সঙ্গে পেতে আশাবাদী বিসিবি এবং ইতোমধ্যে ভিসার জন্যও আবেদন করেছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে দলের দায়িত্বে দেখা যাবে তাকে।
৪৮৬ দিন আগে
চোটটি গুরুতর নয়, আশা নেইমারের
চোটের কারণে এক বছর মাঠের বাইরে থাকার পর সম্প্রতি খেলায় ফিরেছেন নেইমার। তবে ফেরার পর দ্বিতীয় ম্যাচেই ফের চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় এই ব্রাজিলীয় তারকাকে। তবে এবারের চোটটি খুব বেশি গুরুতর নয় বলে আশা করছেন তিনি।
সোমবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে মাঠে নামেন নেইমার। খেলতে নেমে পায়ের জাদু দেখাতে শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে গোলমুখে সতীর্থের বাড়ানো একটি পাস ধরতে এগিয়ে যান। পাসটি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়েই পায়ে টান লাগে তার।
সে সময় ডান পায়ের পেছনের দিকের পেশিতে হাত দিয়ে কিছু সময় তাকে নিচু হয়ে থাকতে দেখা যায়, পরে অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ৩২ বছর বয়সী এই তারকাকে।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে আপডেট জানিয়েছেন নেইমার।
তিনি লেখেন, ‘ক্র্যাম্পের মতো একটা অনুভূত হয়েছিল, বেশ বড় ধরনের। কয়েকটি টেস্ট করাব, তবে আশা করছি, (চোটটি) বিশেষ গুরুতর কিছু নয়।’
‘এক বছর পর (মাঠে ফেরার কারণে) এমনটি হওয়া যে স্বাভাবিক, ডাক্তাররা আগেই আমাকে এ নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তাই এখন থেকে আরও সতর্ক হয়ে বেশি বেশি মিনিট খেলার চেষ্টা করব।’
গত বছরের আগস্ট মাসে পিএসজি ছেড়ে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল হিলালে যাওয়ার পর থেকেই চোটে জেরবার নেইমার। আল হিলালের হয়ে এ পর্যন্ত মাত্র ৭টি ম্যাচ খেলতে পেরেছেন তিনি। চোটের কারণে নিবন্ধন না করায় আগামী জানুয়ারির আগে তিনি সৌদি প্রো লিগে খেলতে পারবেন না।
৪৮৬ দিন আগে
এস্পানিওলকে উড়িয়ে কাতালুনিয়া ডার্বিও বার্সেলোনার
হান্সি ফ্লিকের ছোঁয়ায় যেন একেবারেই বদলে গেছে বার্সেলোনা। সেভিয়া, বায়ার্ন মিউনিখের পর রিয়াল মাদ্রিদ, প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক না কেন একের পর এক গোলে তাদের পরাস্ত করে চলেছে দলটি। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ধরাশায়ী হলো নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এস্পানিওল।
লা লিগায় রবিবার কাতালুনিয়া ডার্বিতে এস্পানিওলকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা।
এর ফলে লিগে ১২ ম্যাচ খেলে প্রতিপক্ষের জালে মোট ৪০ বার বল পাঠাল কাতালান জায়ান্টরা। এই সময়ে তারা গোল হজম করেছে মাত্র ১১টি। লিগের প্রথম ১২ ম্যাচে গোলসংখ্যায় এটি ক্লাবটির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ১৯৫০-৫১ মৌসুমের প্রথম ১২ ম্যাচে রেকর্ড ৪২ গোল করেছিল বার্সেলোনা, যা আজও অতিক্রম করতে পারেনি ক্লাবটি।
এদিন দানি অলমোর জোড়া গোলের পাশাপাশি বার্সেলোনার অপর গোলটি করেন রাফিনিয়া। আর অফসাইডের কারণে বারবার হতাশ হওয়া এস্পানিওলের একমাত্র গোলটি আসে হাভি পুয়াদোর পা থেকে।
আরও পড়ুন: রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকে ৯ বছর পর বায়ার্নকে হারাল বার্সেলোনা
ম্যাচের দ্বাদশ মিনিটেই দানি অলমোর গোলে আজ এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। তার আগে দুবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় ঠিকানা খুঁজে নেন ফলস নাইনে খেলা এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
ডান পাশে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের কিছুটা বাইরে থেকে সতীর্থের লং পাস ধরে বাঁ পায়ের পাতা দিয়ে বক্সের মধ্যে মধ্যে দর্শনীয় এক ক্রস দেন লামিন ইয়ামাল, আর তা প্রথম ছোঁয়াতেই লক্ষ্যে পাঠিয়ে দেন অলমো।
২৪তম মিনিটে কাসাদো-রাফিনিয়া যুগলবন্দীতে ব্যবধান বাড়ায় স্বাগতিকরা। মাঝমাঠ থেকে অসাধারণ এক লং পাসে এস্পানিওলের বক্সের মধ্যে বল পাঠিয়ে দেন কাসাদো, ছুটে গিয়ে পায়ের ছোঁয়ায় গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন রাফিনিয়া।
এই গোলে লা লিগা ১২ ম্যাচে ৭ গোল করলেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড, চলতি মৌসুমে লিগে যা এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। পাশাপাশি ৬টি অ্যাসিস্টও রয়েছে তার নামের পাশে, অ্যাসিস্টের তালিকায় এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৫ ম্যাচে ২০ গোলে অবদান রাখলেন এই ব্রাজিলীয় (১১ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট)।
আরও পড়ুন: সেভিয়াকে বিধ্বস্ত করে এল ক্লাসিকোর প্রস্তুতি সারল বার্সেলোনা
এর তিন মিনিট পরই অবশ্য একটি গোল পরিশোধ করে এস্পানিওল, তবে অফসাইডে গোলটি কাটা পড়লে হতাশ হয় তারা।
এরপর ৩১তম মিনিটে তাদের হতাশা আরও বাড়িয়ে তৃতীয় গোলটি পেয়ে যায় বার্সেলোনা। আলেহান্দ্রো বালদের কাছ থেকে পাস পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বুলেট শটে এস্পানিওল গোলরক্ষক হুয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করেন অলমো।
এই গোলে বার্সেলোনার জার্সিতে লিগে পাঁচ ম্যাচ খেলে পাঁচটি গোল করলেন ২৬ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
ছয় মিনিট পর লেভানডোভস্কির একটি জোরালো শট লাফিয়ে উঠে কোনোমতে প্রতিহত করেন হুয়ান গার্সিয়া। ৪২তম মিনিটে গোলমুখ থেকে বলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হয়ে আরও একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেন পেদ্রি।
৪৮৮ দিন আগে
সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৪: শিরোপাজয়ী বাংলাদেশি তারকাদের কথা
গত ৩০ অক্টোবর নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৪ এর ফাইনালে নেপালকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। এটি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের মেয়েদের দ্বিতীয়বারের মতো সাফ জয়। এর আগে ২০২২-এর ১৯ সেপ্টেম্বর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে একই ভেন্যুতে একই দলকে ৩-১ গোলে পরাস্ত করেছিলেন বাংলার বাঘিনীরা।
এবারের আসরে গ্রুপ পর্বের ৩ খেলায় একটি জয় ও একটি ড্র নিয়ে সেমিফাইনালে যায় বাংলাদেশ। সেখানে ভুটানকে ৭-১-এর বিরাট ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। তারপর কাঙ্ক্ষিত শিরোপা জয় লাল-সবুজের পতাকাবাহীদের।
চলুন, তাদের মধ্যে সেরা কয়েকজন নারী ফুটবল তারকার কথা জেনে নেওয়া যাক।
২০২৪ সাফ নারী ফুটবল শিরোপাজয়ী বাংলাদেশি তারকারা
.
ঋতুপর্ণা চাকমা
২০০৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটির কাউখালীতে জন্ম ঋতুপর্ণার। ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই খেলে আসছেন মিডফিল্ডার হিসেবে। সাফের এবারের আসরের চূড়ান্ত পর্বের খেলায় ৮১-তম মিনিটে তার গোলটিই বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত জয় এনে দেয়।
মাঠের বামপ্রান্ত দিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার হাওয়ায় ভাসানো শটটি ছিল দুর্দান্ত। আপ্রাণ চেষ্টার পরেও তা ধরতে পারেননি নেপালের গোলরক্ষক আনজিলা তুম্বাপো। তার হাত ছুঁয়ে ক্রসবারে লেগে গোললাইনে গন্তব্য খুঁজে নেয় ঋতুপর্ণার শট। এই মোড় ঘোরানো পারফর্মেন্সের জন্য তাকে ম্যাচের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
সেমিফাইনালে ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৭ গোলের বিধ্বংসী পারফর্মেন্সেও একটি গোল রয়েছে ঋতুপর্ণার। ২০২২-এর সাফ তথা গতবারের মতো এবারও তার সংগ্রহে মোট গোলসংখ্যা দুইটি।
উষ্ণ অভ্যর্থনায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে বরণ
রুপনা চাকমা
দলের দুর্গসম গোলরক্ষক রুপনা চাকমার জন্ম ২০০৪ সালের ২ জানুয়ারি। তার নিবাস রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরের ঘিলাছড়ি পাহাড়ে অবস্থিত ভূইয়োদম গ্রাম। এবারের সাফে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের খেতাব পেয়েছেন। এ নিয়ে পরপর দু’বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা গোলরক্ষের ট্যাগ যুক্ত হলো তার নামের সঙ্গে।
বর্তমান টুর্নামেন্টে মাত্র চারটি গোল রুপনার প্রহরা এড়াতে সক্ষম হয়েছে। ফাইনালে কয়েকটি শট তার হাত ফসকালেও দলের জন্য সেগুলো খুব একটা বিপর্যয় হয়ে আসেনি। বরং সীসা ঢালা প্রাচীরের মতো অবস্থান নিয়ে বেশ কিছু বড় বড় গোল বাঁচিয়েছেন তিনি। বিগত টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার প্রতিপক্ষের আক্রমণগুলো যথেষ্ট বিচক্ষণতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। যার কারণে শট নেওয়ার জন্য প্রতিপক্ষ অধিকাংশ সময় খুব একটা সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে ছিল না।
বিগত সাফে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তার দৃঢ় প্রহরা ভেদ করে শুধু একবার (ফাইনালে) বল জালে প্রবেশ করেছিল। তার আগের চারটি ম্যাচেই তিনি ছিলেন দুর্ভেদ্য, যা স্বভাবতই এবারের প্রতিপক্ষদের বার বার দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
সাবিনা খাতুন
দলের মধ্যে জ্যেষ্ঠ এবং অধিনায়ক সাবিনার জন্ম ১৯৯৩-এর ২৫ অক্টোবর খুলনার সাতক্ষীরায়।
ফরোয়ার্ডে খেলা এই ফুটবলার এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে সর্বোচ্চ সংখ্যক গোলদাতা। এবারের টুর্নামেন্টে তিনি মোট তিনটি গোল করেছেন।
এর আগের সাফে সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়ের খেতাবটি যুক্ত হয়েছিল তার নামের সঙ্গে। তাছাড়া তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোরারও (৮ গোল) হয়েছিলেন।
মনিকা-ঋতুপর্ণার গোলে আবারও সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
তহুরা খাতুন
ময়মনসিংহের কলসিন্দুর নিবাসী তহুরার জন্ম ২০০৩ সালের ৫ মে। দলের প্রতিভাবান এই ফরোয়ার্ড এবার সেমিফাইনালে ভূটানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন। গোটা টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ১৩টি গোলের মধ্যে তার গোল সংখ্যা ৫টি।
পূর্বে ২০১৬-এর এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ গালস রিজিওনাল (সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল) চ্যাম্পিয়নশিপের সর্বোচ্চ স্কোরের রেকর্ড ছিল তার দখলে। সেখানে ফাইনালে হ্যাটট্রিকসহ মাত্র ৪ ম্যাচে মোট ১০টি গোল করেছিলেন তিনি।
২০১৭ সালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে তার একটি হ্যাটট্রিক আছে। এছাড়া ২০১৮ সালের চার জাতি টুর্নামেন্ট জকি সিজিআই অনূর্ধ্ব-১৫’তে তিনি ৩ ম্যাচে ৮ গোল করে সর্বোচ্চ স্কোর অর্জন করেন।
মাসুরা পারভিন
সেন্টার ব্যাকে খেলা সাতক্ষীরার মেয়ে মাসুরার জন্ম ২০০১-এর ১৭ অক্টোবর। এখন পর্যন্ত ফুটবল ক্যারিয়ারে খুব কমই গোলের দেখা পেয়েছেন মাসুরা। তবে ২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ সাফে নেপালের বিপক্ষে চরম সংকটপূর্ণ মুহূর্ত সৃষ্টি হয়েছিল বাংলাদেশ দলের। এমন জরুরি অবস্থায় মাসুরার একটি গোল যেন সোনার হরিণ পাইয়ে দিয়েছিল সাবিনাদের। এই একটি গোল নিয়েই সেবার জয় পায় বাংলার বাঘিনীরা।
মনিকা চাকমা
খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ির অন্তর্গত সুমন্তপাড়া গ্রামের মেয়ে মনিকা খেলেন মিডফিল্ডার হয়ে। তার জন্ম ২০০৩-এর ১৫ সেপ্টেম্বর।
২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের বাংলাদেশ বনাম মঙ্গোলিয়ার সেমিফাইনালটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল থাইল্যান্ডে। সেখানে মঙ্গোলিয়া ৩-০ ব্যবধানে বাংলাদেশের কাছে হেরে যায়। এই ৩টি গোলের মধ্যে একটি ছিল মনিকার, যেটি ফিফা ‘জাদুকরী গোল’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেই সঙ্গে মনিকার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ‘ম্যাজিকাল চাকমা’ উপাধিটি। বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ সংস্থাটির ওয়েবসাইটে সেরা গোলগুলোর তালিকায় যুক্ত আছে এই নজরকাড়া পারফর্মেন্সটি।
২০২৪-এর সাফে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে পুরো প্রথমার্ধটাই ছিল গোলশূন্য। অতঃপর দ্বিতীয়ার্ধের সূচনা হয় মনিকার গোল দিয়ে, যা গোটা দলের জন্য অনেকটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছিল।
সাবিনাদের রাষ্ট্রপতি-প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন
মারিয়া মান্দা
মিডফিল্ডার মারিয়ার জন্ম ২০০৩ সালের ১০ মে ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার মন্দিরঘোনা গ্রামে। সাবিনার মতো এই ফুটবলারেরও রয়েছে নেতৃত্বের গুণাবলি। বাংলাদেশ তার সহ-অধিনায়কত্বে তাজিকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ রিজিওনাল চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল। ২০১৭ সালে তার অধিনায়কত্বে গোটা অনূর্ধ্ব-১৫ সাফে অপরাজেয় হিসেবে ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ দল। অতঃপর জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে ভারতকে হারিয়ে তারা শিরোপা নিশ্চিত করে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ কোয়ালিফায়ারেও অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন দলের সহঅধিনায়ক ছিলেন মারিয়া। এমনকি অনূর্ধ্ব-১৮ সাফেও তার দল ছিল অপ্রতিরোধ্য। অনূর্ধ্ব-১৯-এও তিনি অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন, কিন্তু সেবার একটানা শিরোপা জয়ে বাধা পড়ে।
শামসুন্নাহার সিনিয়র
ময়মনসিংহের কলসিন্দুর থেকে আগত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের মধ্যে শামসুন্নাহার নামে রয়েছেন দু’জন। তন্মধ্যে শামসুন্নাহার সিনিয়র খেলেন ডিফেন্ডার হিসেবে, যার জন্ম ২০০৩ সালের ৩১ জানুয়ারি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পজিশনে খেললেও শেষ পর্যন্ত লেফ্ট-ব্যাকেই তিনি প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। দক্ষিণ রাণীপুর গ্রাম নিবাসী এই ফুটবলার ২০২২-এর সাফে ডিফেন্ডে নিজের জাত চিনিয়েছেন।
ভুটানকে ৭-১ গোলে হারিয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ
শামসুন্নাহার জুনিয়র
অপর শামসুন্নাহারের জন্ম ২০০৪-এর ৩০ মার্চ কলসিন্দুরের মুক্তাগাছা গ্রামে। তিনি সর্বদাই খেলেন ফরওয়ার্ডে। এবারের সাফ টুর্নামেন্টের বাংলাদেশের প্রথম গোলটি আসে তার পক্ষ থেকে।
২০২৩ ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেখানে মোট চার ম্যাচে তার সংগ্রহ এক হ্যাটট্রিকসহ মোট পাঁচটি গোল। এই অবদানের জন্য তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান।
পূর্বে ২০১৮’তে হংকংয়ে অনুষ্ঠিত জকি ক্লাব চার জাতি টুর্নামেন্টেও তিনি সেরা খেলোয়াড় মনোনীত হয়েছিলেন।
সানজিদা আক্তার
কলসিন্দুর নিবাসী সানজিদার জন্ম ২০০১ সালের ২০ মার্চ। এই মিডফিল্ডার অর্থনীতি বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে।
২০১৯ সালে বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপে তিনি টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের খেতাব জিতেন। খেলাধুলার বাইরে তাকে দেখা গেছে বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনে। মিডিয়া পাড়ায় তিনি বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের পোস্টার গার্ল হিসেবে পরিচিত।
শেষাংশ
সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৪ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের পথে এক সফল অগ্রযাত্রা। যে পথে হেটে দেখালেন ঋতুপর্ণা, রুপনা, সাবিনা, তহুরা, সানজিদা, মারিয়া, মনিকা, মাসুরা, এবং শামসুন্নাহার সিনিয়র ও জুনিয়র প্রত্যেকেই স্বনৈপূণ্যে উজ্জ্বল। তারা সম্মিলিতভাবে প্রতিনিধিত্ব করছেন নতুন এক বাংলাদেশের। চিত্তাকর্ষক এই ফলাফলের নেপথ্যের যাত্রাপথ খুব একটা ফুলেল ছিল না বৈকি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠী; সেই সঙ্গে একজন নারী হওয়াটা কোনোভাবেই প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তাদের সামনে। বরং যোগ্যতা ও ফুটবলের প্রতি অদম্য আবেগের বলে নিজেদের দেশকে তারা পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বের সম্মানজনক পর্যায়ে।
নারী ফুটবলারদের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের আশ্বাস শফিকুল আলমের
৪৮৮ দিন আগে
অবশেষ জয়যাত্রা থামল সিটির
হারতে যেন ভুলেই গিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। গত মৌসুম থেকে টানা অপরাজিত থেকে আরও একবার প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা জাগাচ্ছিল ছিল তারা। তবে বোর্নমাউথের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যদের।
ভাইটাইলিটি স্টেডিয়ামে শনিবার সন্ধ্যায় প্রিমিয়ার লিগের দশ রাউন্ডের ম্যাচে সিটিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বোর্নমাউথ।
ঘরের মাঠে ম্যাচের নবম মিনিটে আন্সো সেমেনিয়ো গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে বোর্নমাউথের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইভানিলসন। এরপর ৮০তম মিনিটে ইয়োশকো গেভার্দিওল একটি গোল শোধ করেন। পরে স্বাগতিকদের চেপে ধরেও হার এড়াতে ব্যর্থ হয়েছে গার্দিওলার দল।
আরও পড়ুন: দুর্দান্ত জয়ে নিজেদের রেকর্ড ছুঁয়েছে সিটি
চোটজর্জর দল নিয়ে এদিন সিটি খেলতে নামার পর শুরু থেকেই এই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে থাকে বোর্নমাউথ; যার ফলও তারা পেয়েছে। ম্যাচে শেষে একই কথা ঝরেছে গার্দিওলার কণ্ঠেও।
‘ম্যাচের রাশ বারবার টেনে ধরতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছি আমরা। আজকে ওদের (প্রতিপক্ষের) গতি ছিল অন্যরকম। আমরা চেষ্টা করেও ওই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারিনি।’
এই হারে প্রিমিয়ার লিগে টানা ৩২ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হরের মুখে দেখল সিটি। এটি অবশ্য লিগে সর্বোচ্চ সংখ্যক ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড। গত ৫ অক্টোবর ফুলহ্যামকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নিজেদেরই ৩০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড স্পর্শ করে দলটি। এরপর উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স ও সাউথহ্যাম্পটনের বিপক্ষে জিতে রেকর্ডটি আরও উঁচুতে তোলে তারা। তবে ৩২ ম্যাচ পর আর তা লম্বা করা হয়ে উঠল না গার্দিওয়ালার শিষ্যদের।
এই হারে লিগের পয়েন্ট টেবিলেও অবনমন হয়েছে সিটির। দশ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নেমে গেছে তারা। আর একই দিন একই সময়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে ব্রাইটনকে হারিয়ে সিটির চেয়ে ২ পয়েন্টে এগিয়ে গিয়ে শীর্ষে উঠেছে লিভারপুল।
আরও পড়ুন: নিউক্যাসলের বিপক্ষে হেরে পিছিয়ে পড়ল আর্সেনাল
দিনের অপর ম্যাচে নিউ ক্যাসলের মাঠে হেরে শিরোপার দৌড় থেকে খানকিটা পিছিয়ে পড়েছে আর্সেনাল। তবে চমক দেখিয়ে ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টেবিলের তিনে উঠেছে ইউলেন লোপেতেগির নটিংহ্যাম ফরেস্ট।
রবিবার একে অপরের মুখোমুখি হবে টটেনহ্যাম হটস্পার ও অ্যাস্টন ভিলা এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও চেলসি।
৪৮৯ দিন আগে
নিউক্যাসলের বিপক্ষে হেরে পিছিয়ে পড়ল আর্সেনাল
সেই অক্টোবরের ১৯ তারিখ থেকে শুরু। ওইদিন থেকে দুঃস্বপ্নের শুরু আর্সেনালের। প্রিমিয়ার লিগে তখন থেকে তিনটি ম্যাচ খেলে ফেললেও একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা। উল্টো দুই ম্যাচ হেরে শিরোপার দৌড়ে হঠাৎ করেই খেই হারিয়ে ফেলল তারা।
নিউ ক্যাসলের মাঠে শনিবার প্রিমিয়ার লিগের দশম রাউন্ডের ম্যাচটি ১-০ গোলে হেরেছে আর্সেনাল।
ম্যাচের দ্বাদশ মিনিটে আলেকজান্ডার ইসাকের চমৎকার এক হেডারে এগিয়ে যায় নিউক্যাসল, এরপর দুদলের কেউই আর লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। অবশ্য ম্যাচজুড়ে বল দখলে দাপট দেখালেও গোলে শট রাখতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে আর্সেনালের খেলোয়াড়রা। পুরো ম্যাচে মাত্র একটি শট লক্ষ্যে ছিল তাদের।
আরও পড়ুন: লেস্টারের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর শেষ সময়ের গোলে জিতল আর্সেনাল
এর ফলে, লিগে সবশেষ তিন ম্যাচের দুটিই হারল গানাররা, দুটিই প্রতিপক্ষের মাঠে। মাঝে লিভারপুলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করে তারা।
গত মৌসুমেও নিজেদের মাঠে আর্সেনালকে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল দ্য ম্যাগপাইস।
অথচ চলতি মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচ অপরাজিত থেকে টেবিলের শীর্ষে আরোহণ করে সিটি-লিভারপুলদের সমানে টক্কর দিয়ে আসছিল আর্তেতার শিষ্যরা। শুধু তা-ই নয়, চলতি বছর প্রিমিয়ার লিগে প্রথম ২৫ ম্যাচে আর্সেনালের হার ছিল কেবল একটি (বাকি ২১ ম্যাচে জয় ও ৩টিতে ড্র)।
এই হারে দশম রাউন্ড শেষে ৫ জয় ও ৩ ড্রয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে আর্সেনাল। আর সমান ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে আটে নিউক্যাসল।
অপরদিকে, দশ রাউন্ডের খেলা শেষে শনিবার চমক দেখিয়েছে নটিংহ্যাম ফরেস্ট। একইদিনে ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দশ ম্যাচের পাঁচটি জিতে ও চারটি ড্র করে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে উঠেছে ইউলেন লোপেতেগির দল।
অবশ্য এক ম্যাচ কম খেলা অ্যাস্টন ভিলা ও চেলসির পয়েন্ট যথাক্রমে ১৮ ও ১৭। রবিবার স্ব স্ব ম্যাচে ইতিবাচক ফল আনতে পারলে নটিংহ্যামকে পেছনে ফেলে দেবে দুই দলই। সেক্ষেত্রে আরও পেছনে পড়ে যাবে আর্সেনাল।
৪৮৯ দিন আগে
ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে ইউনাইটেডকে বের করতে পারবেন আমোরিম?
মাত্র ৩৯ বছর বয়সেই কোচিং দিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলে হইচই ফেলে দিয়েছেন সাবেক পর্তুগিজ ফুটবলার রুবেন আমোরিম। গত কয়েক মৌসুম ধরে বড় কোনো ক্লাবের কোচের পদ খালি হলেই তাকে নিয়ে ছড়ায় গুঞ্জন। অবশ্য সেসবে পাত্তা না দিয়ে গত চার বছর ধরে লিসবনের ক্লাব স্পোর্তিংয়েই সুখে ছিলেন আমোরিম। তবে শেষ পর্যন্ত সে জায়গায় আর থিতু হয়ে থাকতে পারলেন না তিনি।
আগামী ১১ নভেম্বর থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটের ডাগআউটে দেখা যাবে এই পর্তুগিজ কোচকে। ১০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিমিয়ে স্পোর্তিং থেকে তাকে ম্যানচেস্টারে উড়িয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ইউনাইটেড।
২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত ওল্ট ট্র্যাফোর্ডে থাকবেন তিনি। তবে পারফরম্যান্স বিবেচনায় চাইলে আরও এক মৌসুম সেখানে থেকে যেতে পারবেন এই কোচ।
এর আগে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, টটেনহ্যাম, চেলসি, এমনকি লিভারপুলের কোচের পদ শূন্য হলেও আমোরিমকে দলে ভেড়ানোর গুঞ্জন ওঠে। এমনকি শাভি এরনান্দেসকে বরখাস্ত করার পর বার্সেলোনাও তাকে পেতে চেয়েছিল বলে খবর চাউর হয়।
অবশ্য অল্প সময়েই নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে কোচিংয়ে যে সাফল্যের দেখা তিনি পেয়েছেন, তাতে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলোর তার প্রতি আগ্রহ দেখানোটা মোটেও অযৌক্তিক নয়।
১৮ বছর বয়সে নিজ শহরের ক্লাব বেলেনেন্সেসের জার্সিতে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৫ সালে লিসবনে জন্ম নেওয়া আমোরিমের। সেখানে ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কাটিয়ে ফুটবলার হিসেবে তিনি উজ্জ্বল সময় পার করেন লিসবনেরই জনপ্রিয় ক্লাব বেনফিকায়। ২০১৭ সালে খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানার আগে এই ক্লাবটির হয়ে তিনবার লিগ চ্যাম্পিয়ন হন তিনি।
অবসরের পরের বছরই কোচিং পেশায় নাম লেখান আমোরিম। পর্তুগালের তৃতীয় সারির ক্লাব সাসা পিয়ার কোচ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও কোচিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা না থাকায় ফেডারেশন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এরপর সাসা পিয়ার দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে জটিলতার অবসান করে এক বছর পরই আবার ফেরেন কোচিংয়ে।
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে এবার পর্তুগিজ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ব্রাহার রিজার্ভ দলের কোচ হন তিনি। ওই বছরের ডিসেম্বর মাসেই ক্লাবটির তৎকালীন কোচ রিকার্দো সা পিন্তো বরখাস্ত হলে মুল দলের কোচ হিসেবে আমোরিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তার অধীনে লিগ কাপ জেতে ব্রাহা।
২০২০ সালের মার্চে ব্রাহা ছাড়ার আগে দলটিকে মাত্র ১৩ ম্যাচের ১০টিই জেতান তিনি। ফলে দেশজুড়ে তার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। তবে ইউরোপীয় ফুটবলের নজর কাড়েন তিনি ২০২১ সালে।
আরও পড়ুন: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নতুন কোচ আমোরিম
ওই বছরের ৪ মার্চ স্পোর্তিংয়ের ম্যানেজার হয়ে রাজধানীতে আলোচনার জন্ম দেন এই কোচ। নগর প্রতিদ্বন্দ্বী বেনফিকার ফুটবলারকে কীভাবে স্পোর্তিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তা নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। তবে সমালোচকদের পাত্তা না দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট ফ্রেদেরিকো ভেরান্দাস।
যাইহোক, ২০১৯-২০ মৌসুমের শেষ কয়েক মাস চেষ্টা করেও দলের উন্নতি করতে ব্যর্থ হন তিনি। ওই মৌসুমের শেষ তিন ম্যাচ জয়বঞ্চিত থেকে ব্রাহার কাছেই তৃতীয় স্থান খুইয়ে চারে নেমে মৌসুম শেষ করে স্পোর্তিং।
এরপর গ্রীষ্মের দলবদলে দুই পর্তুগিজ জায়ান্ট বেনফিকা ও পোর্তো যখন জলের মতো টাকা ঢেলে শক্তিশালী দল গড়ছে, সে সময় আর্থিক সংকটের কারণে আমোরিমের আবদার মেটাতে ব্যর্থ হয় স্পোর্তিং। উপায়ান্তর না দেখে অ্যাকাডেমি থেকে নুনো মেন্দেস ও গনসালো ইনাসিওর মতো তরুণ খেলোয়াড় দলে নিয়ে আসেন তিনি। পাশাপাশি, স্বল্প খরচে (মাত্র সাড়ে ৬ মিলিয়ন পাউন্ডে) পেদ্রো গনসালভেস এবং ধারে জোয়াও মারিও ও পেদ্রো পোরোকে দলে ভেড়ান এই কোচ। আর এখানেই বাজিমাৎ করে দেন তিনি।
তরুণ খেলোয়াড়দের নিজের ক্ষিপ্র গতি ও পজেশনাল ফুটবলের তালিম দিয়ে দুর্দান্তভাবে ২০২১-২২ মৌসুম শুরু করেন এই কোচ। নতুন এসব খেলোয়াড়দের দক্ষতা ও কোচের নতুন কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লেগে যায় প্রতিপক্ষ দলগুলোর। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১৯ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়ে স্পোর্তিংকে লিগ শিরোপা এনে দেন তিনি। এর পাশাপাশি ওই মৌসুমে আরও তিনটি ঘরোয়া ট্রফি জেতে স্পোর্তিং।
ফলে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে সমর্থকদের মন জয় করে নেন এই কোচ। এরপর গত মৌসুমে বেনফিকাকে হটিয়ে ফের লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় তার দল।
চলতি মৌসুমেও ৯ রাউন্ডের খেলা শেষে সবগুলো ম্যাচ জিতে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে স্পোর্তিং। শুধু তা-ই নয়, ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলিয়ে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে একমাত্র তার দলই এখনও অপরাজিত।
গত চার বছরে তার অধীনে ২২৮ ম্যাচ খেলে তার ১৯৫টিতেই অপরাজিত স্পোর্তিং। এর মধ্যে ১৬২ ম্যাচে জয়, ৩৩ ম্যাচ ড্র এবং মাত্র ৩৩ ম্যাচ হেরেছে তার দল। ফলে স্পোর্তিংয়ে তার জয়ের হার ৭৩.৭ শতাংশ।
তাই স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের বিদায়ের পর থেকে ঠিক এমন একজনকেই যে খুঁজছিল ইউনাইটেড, তা বলাই বাহুল্য।
অবশ্য ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এসে তার কাজ শুরুর দিকে একেবারেই সহজ হবে না। এক দশকের বেশি সময় ধরে যে দুর্দশার মধ্যে দিয়ে চলেছে ক্লাবটি, সেখান থেকে খেলোয়াড়দের মনোভাবে পরিবর্তন এনে ইতিবাচক ধারায় ফেরাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে এই কোচকে।
তবে হারের বৃত্তে ঘুরপাক খেতে খেতে ইউনাইটেডের খেলোয়াড়রাও খুঁজছে আশার আলো। তাই নাবিক হয়ে সেই আশার কূল দলটিকে তিনি দেখাতে পারেন কিনা, সেদিকে চাতকপ্রাণ হয়ে বসে থাকবে রেড ডেভিলস সমর্থকরা।
৪৯০ দিন আগে
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নতুন কোচ আমোরিম
গুঞ্জন ডালপালা মেলার আগেই তা ছেঁটে দিয়ে নতুন কোচের নাম ঘোষণা করেছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। অবশ্য গুঞ্জন সত্যি করেই স্পোর্তিং লিসবনের পর্তুগিজ কোচ রুবেন আমোরিমকে ক্লাবটির দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড।
শুক্রবার ক্লাবের ওয়েবসাইটে একটি সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সুদিন ফেরাতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ৩৯ বছর বয়সী এই কোচের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ক্লাবটি।
তবে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আমোরিমকে পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ইউনাইটেড। স্পোর্তিং আন্তর্জাতিক বিরতির আগে আমোরিমকে ছাড়তে রাজি না হওয়ায় ১১ নভেম্বর ইউনাইটেডের কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি।
ফলে বিরতির আগে তিন ম্যাচের জন্য ইউনাইটেডের দায়িত্ব সামলাবেন অন্তর্বর্তীকালীন কোচ রুড ফন নিস্টলরয়। এরপর আগামী ২৪ নভেম্বর ইপসইউচ টাউনের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগে যাত্রা শুরু করবেন আমোরিম।
আরও পড়ুন: এক মাস পর জয়ের দেখা পেল ইউনাইটেড
গত ২৮ অক্টোবর এরিক টেন হাগকে বরখাস্ত করার পর থেকেই নতুন কোচের সন্ধানে ছিল ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ। মৌসুমের মাঝেই দল অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ায় শিগগিরই কাউকে দায়িত্ব দিতে চাইছিল তারা। এক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দ আমোরিমই ছিল বলে জানান ট্রান্সফার গুরু ফাব্রিৎসিও রোমানো।
এ কারণে ২৮ অক্টোবরই স্পোর্তিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইউনাইটেড। আমোরিমকে পেতে রিলিজ ক্লসের ১০ মিলিয়ন ইউরো এবং তার কোচিং স্টাফের জন্য আরও এক মিলিয়ন ইউরো পরিশোধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তবে চুক্তির আরও একটি শর্তে আটকে যায় আমোরিমের তাৎক্ষণিক দলবদল। স্পোর্তিংয়ের সঙ্গে চুক্তির একটি শর্ত ছিল যে, নতুন কোনো ক্লাবে যেতে হলে অন্তত এক মাস আগে ক্লাবটিতে নোটিশ দিতে হবে। পরে এ বিষয়ে ক্লাবটির কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে নোটিশ পিরিয়ড এক সপ্তাহে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয় ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ। এরপর আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আমোরিমকে ক্লবে রাখার প্রস্তাব দিলে স্পোর্তিংয়ের সে প্রস্তাবও গ্রহণ করে ইউনাইটেড।
এর ফলে মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে খেলে ঘরের মাঠের সমর্থকদের সামনে থেকেই বিদায় নেবেন এই পর্তুগিজ কোচ।
আরও পড়ুন: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে স্যার ফার্গুসনের
আলোচনার মাধ্যমে সব ঝামেলা শেষ করার পর আমোরিমকে পরবর্তী কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউনাইটেড।
এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘রুবেন ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ উঁচুমানের কোচদের একজন। খেলোয়াড় ও কোচ উভয় ক্যারিয়ারেই বর্ণিল সময় কাটানো এই কোচ ১৯ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়ে স্পোর্তিংকে দুটি লিগ জিতিয়েছেন।’
‘তিনি যোগ না দেওয়া পর্যন্ত রুড ফন নিস্টলরয় ক্লাবে নিজের দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন।’
আগামী রবিবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে চেলসিকে আতিথ্য দেবে ইউনাইটেড। লিগের নবম রাউন্ডের খেলা শেষে তিন জয় ও দুই ড্রয়ে ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্দশ স্থানে রয়েছে ইউনাইটেড। আর পাঁচ জয় ও দুই ড্রয়ে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে এনসো মারেসকার চেলসি।
৪৯০ দিন আগে