খেলাধুলা
ট্রাম্পকে শান্তির বার্তা দিলেন রোনালদো
ইরানে ইসরায়েলের হামলার মধ্যে শান্তির বার্তা দিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা ফুটবলার ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।
পর্তুগালের হয়ে ইউফা ন্যাশন্স লিগের জিতেছেন ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলধারী সিআর সেভেন। দেশের হয়ে ফাইনালে গোলও করেছে তিনি।
এ ম্যাচের নিজের স্বাক্ষর করা একটি জার্সি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপহার দিয়েছেন রোনালদো। কানাডার কানানাস্কিসে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে এ উপহারটি দেওয়া হয়েছে।
ওই জার্সিতে লেখা ছিল, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্পের প্রতি—শান্তির জন্য প্রার্থনা।’
রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্টকে যখন জার্সিটি উপহার দেওয়া হয়, তখন তিনি সেটি ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন, যাতে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদোর বার্তাটি স্পষ্ট দেখা যায়।
রোনালদোর সই করা পর্তুগালের জার্সিটি তুলে দেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা। তিনি ট্রাম্পকে জানান, জার্সিতে একটি বিশেষ বার্তা রয়েছে।
বার্তাটি শুনে ট্রাম্প রোনালদোকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তিনিই সর্বকালের সেরা।’
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়ের এমন বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যুদ্ধ ও সহিংসতা থামিয়ে শান্তির আহ্বান জানানোর জন্য এটি রোনালদোর একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
আরও পড়ুন: স্পেনকে হারিয়ে ফের নেশন্স লিগ চ্যাম্পিয়ন রোনালদোর পর্তুগাল
২৬২ দিন আগে
ব্রাজিল-একুয়েডরের বিশ্বকাপ নিশ্চিত, হেরে টানা তৃতীয়বার ব্যর্থ চিলি
দিনটি ছিল কার্লো আনচেলত্তির ৬৬তম জন্মদিন। সেলেসাওদের দায়িত্ব নিয়ে শুরুটা ভালো না হলেও ঘরের মাঠে এদিন প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জিতে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। এর মাধ্যমে ইতালীয় এই কোচের বিশেষ দিনটি আরও রাঙিয়েছেন তার শিষ্যরা।
সাও পাওলোর করিন্থিয়ান্সে বাংলাদেশ সময় বুধবার (১১ জুন) সকালে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল।
৪৪তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসের করা একমাত্র গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। এটি আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল দলেরও প্রথম গোল। প্রথম ম্যাচে একুয়েডরের মাঠে গোলশূন্য ছিলেন ভিনি-কাসেমিরোরা।
এই জয়ে ১৬ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এসেছে ব্রাজিল। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার পর দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে তৃতীয় দল হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলা নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের।
অপর ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষের অন্তত ২০ মিনিট দশজনের দলে পরিণত হয়েও থিয়াগো আলমাদার শেষের গোলে হার এড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। এই ড্রয়ে ব্রাজিলের সমান ম্যাচে ১১ জয় ২ ড্রয়ে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চূড়ায় রয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।
আরেক ম্যাচে পেরুর সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে একুয়েডর। তাদের পয়েন্টও ব্রাজিলের সমান, ১৬ ম্যাচে ২৫। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ব্রাজিলকে টপকে আর্জেন্টিনার পরই জায়গা করে নিয়েছে দলটি।
২৬৮ দিন আগে
এএফসি এশিয়ান কাপ: ঘরের মাঠে সিঙ্গাপুরের কাছে হারল বাংলাদেশ
এএফসি এশিয়ান কাপ সৌদি আরব ২০২৭ বাছাই পর্বের গ্রুপ সি’র দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-২ গোলের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার ঢাকায় নতুনভাবে উদ্বোধন করা জাতীয় স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৯৭৩ সালে প্রথম মুখোমুখি হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জন্য সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এটি টানা দ্বিতীয় পরাজয়।
১৯৭৩ সালের ২ আগস্ট মালয়েশিয়ায় মের্দেকা কাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রথমবার মুখোমুখি হয়ে ১-১ গোলে ড্র করেছিল বাংলাদেশ। পরে ২০১৫ সালের ৩০ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-২ গোলে পরাজিত হয় বাংলাদেশ।
এই দিনের অন্য গ্রুপ সি ম্যাচে, স্বাগতিক হংকং ভারতের বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছে হংকংয়ে নতুনভাবে উদ্বোধন করা কাই টাক স্পোর্টস পার্কে।
এই ম্যাচের ফলাফলে সিঙ্গাপুর গ্রুপ সি’র শীর্ষে স্থান অর্জন করেছে। তারা দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট অর্জন করেছে। হংকংও চার পয়েন্ট সংগ্রহ করে সিঙ্গাপুরের পরেই অবস্থান করছে। বাংলাদেশ এবং ভারত এক পয়েন্ট করে নিয়ে তৃতীয় এবং চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।
মঙ্গলবারের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মিডফিল্ডার সং ইউ ইয়ং ৪৫ মিনিটে গোল করে সিঙ্গাপুরকে এগিয়ে নেন (১-০)। এরপর ৫৮ মিনিটে ফরোয়ার্ড খসান ফান্দি আহমদ একটি আরেকটি শট থেকে সিঙ্গাপুরের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন (২-০)।
বাংলাদেশ ৬৭ মিনিটে হামজা দেওয়ান চৌধুরির একটি জাদুকরি পাস থেকে রাকিব হোসেনের একটি সোজা শটে ব্যবধান এক পয়েন্টে নামিয়ে আনে (২-১)।
এর পরেও বাংলাদেশ একাধিক আক্রমণ করলেও তাদের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ২৮ মিনিটে রাকিব হোসেন শমিত সোমের পাস থেকে গোলের কাছাকাছি পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত তার শটটি বাইরে চলে যায়।
আরও পড়ুন: স্পেনকে হারিয়ে ফের নেশন্স লিগ চ্যাম্পিয়ন রোনালদোর পর্তুগাল
শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ ডিফেন্ডার তারিক কাজির একটি দুর্দান্ত হেডারের পর বলটি ক্রসবারে স্পর্শ করে বাইরে চলে যায়, যা ছিল তাদের শেষ সুযোগ।
বাংলাদেশের স্প্যানিশ হেড কোচ জাভিয়ের কাব্রেরার অধীনে এই ম্যাচে পাঁচজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত বিদেশি খেলোয়াড় খেলেছেন—ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ডিফেনসিভ মিডফিল্ডার হামজা দেওয়ান চৌধুরী, কানাডার জাতীয় দলের মিডফিল্ডার শমিত সোম, ইতালিয়ান লিগের ফরোয়ার্ড ফাহামিদুল ইসলাম, ফিনল্যান্ডের ডিফেন্ডার খেলোয়ার তারিক রাইহান কাজি এবং কানাডার ডিফেন্ডার সৈয়দ কাজেম শাহ কিরমানি।
তবে, আজকের সেরা একাদশে জায়গা হয়নি বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ও দীর্ঘদিনের মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়ার, যিনি ডেনমার্কের পক্ষে খেলে থাকেন।
স্টেডিয়ামটি দর্শকে ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। ফুটবলপ্রেমী মানুষ দীর্ঘ সারি করে টিকিট সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পরাজয়ে তারা হতাশ হয়ে ফিরে যান।
গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক ফিফা টিয়ার-১ বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভুটানকে ২-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করার পর বাংলাদেশ এই ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী ছিল। বাংলাদেশ তাদের পরবর্তী গ্রুপ ম্যাচটি ৯ অক্টোবর হংকংয়ের বিরুদ্ধে খেলবে।
বাংলাদেশের মূল একাদশ
মিতুল মার্মা, শাকিল আহাদ, তপু বর্মণ, সাদ উদ্দিন, তারিক রাইহান কাজি, মোহাম্মদ হৃদয়, হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, কাজেম শাহ কিরমানি, ফাহমিদুল ইসলাম ও রাকিব হোসেন।
২৬৯ দিন আগে
স্পেনকে হারিয়ে ফের নেশন্স লিগ চ্যাম্পিয়ন রোনালদোর পর্তুগাল
একে একে তিনটি করে পেনাল্টি শটে দুপক্ষই সফল হলো। তবে চতুর্থ শটে গিয়ে স্পেনের আলভারো মোরাতার শট ঠেকিয়ে দিলেন দিয়োগো কস্তা। এরপর পঞ্চম ও শেষ শটে রুবেন নেভেসের সফল স্পট কিক, আর উল্লাসে ফেটে পড়ল পর্তুগিজ শিবির। দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা নেশন্স লিগের শিরোপাজয়ের উৎসবে মাতল পর্তুগাল।
মিউনিখের আলিয়ান্স আরেনা স্টেডিয়ামে ১২০ মিনিটের খেলা ২-২ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে গতবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে নেশন্স লিগের চতুর্থ আসরের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে প্রথম আসরের শিরোপাজয়ীরা।
গত আসরের ফাইনালও গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে। সেখানে ক্রোয়েশিয়াকে ৫-৪ ব্যবধানে হারালেও এবার আর পারল না স্প্যানিশরা। পর্তুগিজ গোলরক্ষক কস্তার বীরত্বের পর ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো অ্যান্ড কোম্পানির কাছে হার মানতে হলো লা রোহাদের।
অথচ শুরুর গল্পটা কিন্তু এমন ছিল না। প্রথমার্ধে শুরুতেই গোল করেছিল স্পেনই। এরপর নুনো মেন্দেসের গোলে পর্তুগাল সমতায় ফিরলে ওইয়ারসাবালের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়েছিল দলটি। তবে বিরতির পর স্পেনের দুর্দান্ত সেই পারফরম্যান্সে ভাঁটা পড়ে, আর রোনালদোর গোলে আবারও সমতায় ফেরে পর্তুগাল। এরপর নব্বই মিনিট, এমনকি ১২০ মিনিটের খেলায়ও দুদলের কেউ ব্যবধান গড়তে ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচ। সেখানে মোরাতার শট ঠেকিয়ে জয়ের পাল্লা নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেন কস্তা।
এর ফলে দুবার নেশন্স লিগের ফাইনালে উঠে দুবারই শিরোপা উঁচিয়ে ধরার গৌরব অর্জন করল পর্তুগাল। অন্যদিকে, টানা তিনবার ফাইনালে উঠেও দুবার হতাশ হতে হলো স্পেনের।
আরও পড়ুন: রোনালদোর আশা পূরণের রাতে নেশন্স লিগের ফাইনালে পর্তুগাল
পুরো ম্যাচে বলের দখল, গোলের প্রচেষ্টা, শট লক্ষ্যে রাখা—সব বিভাগেই সেরা দল ছিল স্পেন। ৬১ শতাংশ সময় পজেশন ধরে রেখে ১২০ মিনিটে মোট ৮১২ পাস দেয় দলটি, যেখানে ৫০৯ পাস দেওয়া পর্তুগালের পজেশন ছিল মাত্র ৩৯ শতাংশ।
ম্যাচজুড়ে পর্তুগাল শট নেয় মাত্র সাতটি, যার গোল হওয়া ওই দুটি শটই কেবল লক্ষ্যে রাখতে পারে; অপরদিকে ১৬টি শট নিয়ে ৬টি লক্ষ্যে রেখেও কাজের কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে লা রোহারা।
তবে মাঠের খেলায় ক্ষুরধার আক্রমণের অভাবে ভোগা স্পেনকে এদিন প্রথমার্ধের পর থেকেই চেনা যায়নি। অপরদিকে, উপযুক্ত সময়ে যথাযথ খেলোয়াড় বদলি করে নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন পর্তুগালের কোচ রবের্তো মার্তিনেস।
এ ছাড়া ম্যাচজুড়ে স্পেনের একের পর এক আক্রমণ রুখে দেওয়া দিয়োগো কস্তা টাইব্রেকারেও কাজের কাজটি করে দিয়েছেন একেবারে সঠিক সময়ে। ফলে শেষ পর্যন্ত গত কয়েক বছর ধরে একপ্রকার অপ্রতিরোধ্য স্পেনকে মাটিতে নামিয়ে শিরোপা নিয়ে ঘরে ফিরেছে তারাই। আর ব্যর্থতার পসরা সাজানোর পর প্রতিপক্ষকে শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে দেখে হাততালি দিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যদের।
২৭১ দিন আগে
৯ গোলের থ্রিলারে লড়াই করেও হারল ফ্রান্স, স্পেন-পর্তুগাল ফাইনাল
সেয়ানে সেয়ানে টক্করের পরও ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ল ফ্রান্স, কিন্তু তারপরও কী অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়াল দলটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লুইস দে লা ফুয়েন্তের দুর্দান্ত স্পেনের বিপক্ষে পেরে উঠল না দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। ফলে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ফরাসিদের, অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে উঠেছে স্পেন।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) রাতে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ফিরেছিল ২০২০-২১ মৌসুমের ফাইনাল। তবে সেবার স্প্যানিশদের ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করলেও এবার আর পারল না ফ্রান্স। অপরদিকে ফরাসিদের ৫-৪ ব্যবধানে হারিয়ে সেই ক্ষতে প্রলেপ দিয়ে আরও একবার ফাইনালে উঠে গেল স্প্যানিশরা।
এদিন ম্যাচের ২৩ ও ২৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মেরিনোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্পেন। তবে প্রথমার্ধের পুরোটা আলো কেড়ে নেন স্পেন অধিনায়ক তথা দলটির গোলরক্ষক উনাই সিমোন। ফরাসিদের নিশ্চিত গোল হওয়ার মতো পাঁচটি শট রুখে দেন তিনি।
বিরতির পর নেমে ফের জোড়া ধাক্কা খায় ফ্রান্স। এবারের দুই গোলদাতা লামিন ইয়ামাল ও পেদ্রি।
৫৪তম মিনিটে লামিনকে ফাউল করে পেনাল্টি দিয়ে বসেন ফরাসি ডিফেন্ডার আদ্রিয়েন রাবিও, আর তা থেকে ব্যবধান ৩-০-তে উন্নীত করেন এই কাতালান প্রতিভা। পরের মিনিটে স্পেনের চকিত আক্রমণে চোখে সর্ষে ফুল দেখে ফ্রান্সের ডিফেন্ডাররা। এ সময় নিকো উইলিয়ামসের ড্রিবলের পর বাড়ানো পাস থেকে আরও নিপুণ দক্ষতায় গোল করেন পেদ্রি।
তার পাঁচ মিনিট পর অবশ্য পেনাল্টি পায় ফ্রান্সও এবং তা থেকে প্রথমবার ব্যবধান কমান এমবাপ্পে। তবে ৭৯তম মিনিটে লামিন পঞ্চম গোলটি করলে মনে হচ্ছিল ফ্রান্সের খেলা সেখানেই শেষ। কিন্তু ফুটবল বলে কথা! যেখানে শেষ বলে কিছু নেই।
৭৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা রায়ান শেরকির গোলে ব্যবধান কমে দেশমের দলের। এর তিন মিনিট পর এমবাপ্পের কাছে বল যাওয়া রুখতে গিয়ে তা জালে পাঠিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন স্পেনের বদলি হিসেবে নামা ডিফেন্ডার দানি ভিভিয়ান। ৫-৩ গোলে ব্যবধান কমে এলে পায়ের নিচে মাটি পায় ফ্রান্স; আরও জমে ওঠে খেলা।
এরপর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আরও একটি গোল করেন রাঁদাল কোলো মুয়ানি, কিন্তু তা সমতায় ফেরার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ফলে খেলা অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটে গড়ানোর সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ৯০+৬ মিনিটেই শেষ হয়, আর শেষ হাসি হাসে স্পেন।
২৭৪ দিন আগে
রোনালদোর আশা পূরণের রাতে নেশন্স লিগের ফাইনালে পর্তুগাল
বয়স চল্লিশ পেরিয়ে একচল্লিশে পা দিলেও যেন থামার নাম নেই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর, না আছে তার পারফরম্যান্সে ভাটার টান। এমনই আরও একটি উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের রাতে অনন্য মাইলফলক ছুঁয়ে দেশকে আরও একবার নেশন্স লিগের ফাইনালে তুলেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
মিউনিখের আলিয়ান্স আরেনায় বুধবার (৪ জুন) রাতে উয়েফা নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে জার্মানিকে তাদের মাঠেই ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে প্রতিযোগিতাটির প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়নরা।
এই জয়ে পর্তুগালের জার্সি গায়ে প্রথমবার জার্মানিকে হারাতে পারলেন রোনালদো। আর আরাধ্য এই জয় পেতে তার লাগল ৪০ বছর ১১৯ দিন। জাতীয় দলের জার্সিতে ২২০তম ম্যাচ খেলতে নেমে এই কীর্তি গড়েন তিনি।
ক্রিকেটপাড়ায় ১৮ বছর ধরে শিরোপার প্রতীক্ষায় থাকা বিরাট কোহলির হাতে আইপিএল ট্রফি ওঠা নিয়ে যখন চারদিক থেকে প্রশংসার ধারা বইছে, তার মধ্যেই ক্রিকেট কিংবদন্তির ফুটবল জগতের আদর্শ ২৫ বছর পর দলকে এনে দিলেন বিরল এই জয়।
হ্যাঁ, সবশেষ ২০০০ সালের ২০ জুন ইউরোর গ্রুপ পর্বে ৩-০ গোলে জার্মানিকে হারিয়েছিল পর্তুগাল। এর মাঝে ২৫টি বছর কেটে গেছে। দুই দলের দেখা যে এর মধ্যে হয়নি তা নয়। তবে ওই সময়ের পর থেকে পাঁচবারের দেখায় সবকটি ম্যাচে হারের তেতো স্বাদ নিতে হয়েছে পর্তুগিজদের, আর জার্মানি জয়ের আকাঙ্ক্ষা কেবল দীর্ঘই হয়েছে রোনালদোর।
এবার সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দলকে ফাইনালে তুলেছেন শ্রমকে সাফল্যের মূলমন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এই অনন্য ফুটবলার।
২৭৫ দিন আগে
ইন্টারকে বিধ্বস্ত করে অবশেষে ইউরোপ সেরার মুকুট পরল পিএসজি
কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে একের পর এক মহাতারকা দলে ভিড়িয়ে কত চেষ্টাই না করে এসেছে প্যারিস সেন্ত জার্মেই (পিএসজি)। কিন্তু কেউই ক্লাবটির স্বপ্নপূরণের সারথী হতে পারেননি। তবে অবশেষে হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালার মতো এক জাদুকরী কোচের অধীনে অধরা ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার সুযোগ হলো পিএসজির।
শনিবার রাত জেগে যারা খেলা দেখেছেন, তার নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন, কী বলা হচ্ছে। হ্যাঁ, অবশেষে ক্লাব প্রতিষ্ঠার প্রায় ৫৫ বছর পর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে প্যারিসের দলটি।
আনহেল দি মারিয়া, এদিনসন কাভানি, নেইমার, এমবাপ্পে, মেসি—কেউই দলটিকে যা এনে দিতে পারেননি, তারুণ্যনির্ভর এক দল গড়ে অসাধারণ কৌশল আর দলীয় পারফরম্যান্সে সেই বাজিমাত করলেন কোচ লুইস এনরিকে। আর এমনভাবেই জিতেছেন, যা ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।
শনিবার (৩১ মে) রাতে মিউনিখের আলিয়ান্স আরেনা স্টেডিয়ামে সিমিওনে ইনজাগির ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে এনরিকের পিএসজি।
এত বড় ব্যবধানের জয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে কেউ কখনও পায়নি। এর আগে চার গোলের ব্যবধানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল জেতার রেকর্ড আছে চারটি। ১৯৬০ সালে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদ ৭-৩ গোলে, ১৯৭৪ সালে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে বায়ার্ন মিউনিখ ৪-০ গোলে, ১৯৮৯ সালে এফসিএসবির বিপক্ষে এসি মিলান ৪-০ গোলে এবং ১৯৯৪ সালে বার্সেলোনার বিপক্ষে আবারও এসি মিলান ৪-০ গোলে জিতেছিল। তবে সেসব টপকে রেকর্ডটি এবার নিজেদের করে নিয়েছে পিএসজি।
বেশ কিছুটা নিষ্প্রভ ইন্টার মিলানকে এদিন ম্যাচের শুরুর ২০ মিনিটেই দুই গোল দিয়ে এগিয়ে যায় পিএসজি। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ৬৩, ৭৩ ও ৮৬তম মিনিটে বাকি তিনটি গোল হলে উৎসবে মাতে প্যারিস আর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা দলটির সমর্থকরা।
স্বপ্নের ফাইনাল জয়ের রাতে গোল না পেলেও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন চলতি মৌসুমে পিএসজির জার্সিতে আলো ছড়ানো উসমান দেম্বেলে। আর দুই গোল ও একটি অ্যাসিস্টসহ মোট তিনটি গোলে অবদান রেখে ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়েছেন প্যারিসের দলটির ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার দেজিরে দুয়ে। এ ছাড়াও আশরাফ হাকিমি, কিভিচা কেভারাস্টখেলিয়া ও শেষ দিকে নামা আরেক তরুণ সেনি মায়ুলু করেছেন একটি করে গোল।
২৭৯ দিন আগে
নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে লা লিগার শিরোপা পুনরুদ্ধার বার্সেলোনার
কাগজে-কলমে রিয়াল মাদ্রিদের শিরোপাস্বপ্ন টিকে থাকলেও প্রায় অসম্ভব সমীকরণ মেলাতে হতো দলটির; নিজেদের অবশিষ্ট তিন ম্যাচ জয় এবং বার্সেলোনার তিনটি ম্যাচই হারতে হতো। এ ক্ষেত্রে রিয়াল প্রথম ম্যাচটি জিতলেও নিজেদের ম্যাচ জিতে সব হিসাব চুকিয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। এতে করে ২৮তম লা লিগা শিরোপা নিশ্চিত করেছে হান্সি ফ্লিকের দল।
এক মৌসুম পর শিরোপা পুনরুদ্ধারে তিন ম্যাচে মাত্র দুই পয়েন্ট প্রয়োজন ছিল বার্সেলোনার। তবে বৃহস্পতিবার (১৬ মে) রাতে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এস্পানিওলকে ২-০ গোলে হারিয়ে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই শিরোপা নিশ্চিত করেছে কাতালান জায়ান্টরা।
কাতালুনিয়া ডার্বিতে এদিন পূর্ণ শক্তি নিয়েই নেমেছিল বার্সেলোনা। অপরদিকে, ম্যাচের আগে ঘরের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে দেওয়া এস্পানিওল কোচের কণ্ঠে বার্সাকেও হারানোর প্রত্যয় ঝরেছিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধ অবশ্য ঠিকঠাক খেলে লামিন-রাফিনিয়াদের আটকে রাখে এস্পানিওল। তবে বিরতির পর আর দলটিকে রুখতে পারেনি তারা। ৫৩তম মিনিটে লামিনের বাঁ পায়ের কারিকুরিতে পরাস্ত হয় দলটির রক্ষণভাগ। নির্ধারিত সময়ের দশ মিনিট আগে বার্সেলোনার এই বিস্ময়বালককে অযথা ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন স্বাগতিকদের ডিফেন্ডার লেয়ান্দ্রো কাবরেরা। পরে যোগ করা সাত মিনিটের পঞ্চম মিনিটে লিগ শিরোপা নিশ্চিত করার গোলটি করেন দুর্দান্ত ফেরমিন লোপেস।
আরও পড়ুন: রিয়ালকে ৫ গোল দিয়ে সুপার কাপ জিতল ১০ জনের বার্সেলোনা
এই জয়ে ৩৬ ম্যাচে ২৭ জয় ও চার ড্রয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট হয়েছে ৮৫। আর সমান ম্যাচে দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়ালের পয়েন্ট ৭৮। ফলে দুই ম্যাচে রিয়াল পূর্ণ ছয় পয়েন্ট এবং বার্সেলোনা দুটিই হারলেও তাদের ধরা সম্ভব হবে না গতবারের চ্যাম্পিয়নদের।
এদিকে, হেরে অবনমনের শঙ্কা বেড়েছে এস্পানিওলের। টেবিলের ১৬তম স্থানে থাকলেও অবনমন অঞ্চল থেকে মাত্র পাঁচ পয়েন্ট দূরে আছে দলটি। ফলে পরের দুই ম্যাচের অন্তত একটিতে জিততেই হবে মানোলো গন্সালেসের শিষ্যদের।
২০২২-২৩ মৌসুমেও এস্পানিওলের এই মাঠ থেকেই শিরোপা নিশ্চিত করেছিল বার্সেলোনা। সেবার নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠে জিতে শিরোপা উদযাপন করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের রোষের মুখে পড়তে হয় দলটিকে। এবারও বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা যাতে মাঠে উদযাপন করতে না পারে, সে লক্ষ্যে শেষের বাঁশি বাজতেই মাঠের পানির স্প্রেগুলো চালু করে দেওয়া হয়। আর হান্সি ফ্লিকও ছিলেন সতর্ক। খেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিষ্যদের ড্রেসিং রুমে ডেকে নেন তিনি।
২৯৪ দিন আগে
জাতীয় কারাতে প্রতিযোগিতায় জবির দুই শিক্ষার্থীর স্বর্ণপদক জয়
জবি, ১৩ মে (ইউএনবি)— শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২৯তম জাতীয় কারাতে প্রতিযোগিতা-২০২৫ এ স্বর্ণপদক জয় করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী।
তারা হলেন, নাট্যকলা বিভাগের ১৫তম আবর্তনের জর্জিস আনোয়ার নাইম এবং ১৪তম আবর্তনের মারজান আক্তার। জর্জিস পুরুষদের ৬৭ কেজি ওজন শ্রেণিতে এবং মারজান নারীদের -৬৮ কেজি ওজন শ্রেণিতে সেরা হয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন।
বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের তত্ত্বাবধানে গত ৯ থেকে ১১ মে পর্যন্ত তিনদিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সারা দেশের ৮৭টি দলের মোট ৭৪০ জন খেলোয়াড় অংশ নেন, যার মধ্যে ৫১৭ জন পুরুষ এবং ২২৩ জন নারী খেলোয়াড় ছিলেন। পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় যুক্ত ছিলেন ২৬১ জন ম্যানেজার ও কোচ এবং ৮০ জন রেফারি ও জাজ।
আরও পড়ুন: চার দফা দাবিতে জবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে জর্জিস আনোয়ার নাইম বলেন, ‘এর আগে ২৬তম জাতীয় প্রতিযোগিতা ও বাংলাদেশ গেমসে স্বর্ণপদক পেয়েছিলাম। কিন্তু ২৮তম আসরে রৌপ্য পাওয়ায় ১৯তম এশিয়ান গেমসের দলে সুযোগ হারাই। সেসময় খুব হতাশ ছিলাম, তবে আশা ছাড়িনি। কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে গিয়েছি, আর পড়তাম—‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’আমাল ওয়াকিল’। আল্লাহ ফের আমাকে সম্মান দিয়েছেন। এই সাফল্যে আমার ওস্তাদ রমজানের অবদান সবচেয়ে বেশি।’
২৯৭ দিন আগে
এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক ম্লান করে মৌসুমের শেষ এল ক্লাসিকোও জিতল বার্সেলোনা
রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-২, ৫-২ ও ৩-২ গোলে তিনটি ম্যাচ হারিয়ে আগেই দুটি শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছিল বার্সেলোনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের এবার ৪-৩ গোলে হারিয়ে মৌসুমের সবগুলো এল ক্লাসিকো জিতে নিল কাতালান জায়ান্টরা। সেইসঙ্গে ঘরোয়া ট্রেবল জয়ের বন্দরে প্রায় নোঙর করেই ফেলেছে হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা।
ক্যাম্প ন্যুতে রবিবার লা লিগার দ্বিতীয় ও মৌসুমের শেষ এল ক্লাসিকোতে মাঠে নেমেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের শুরুতে দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও ৪-৩ গোলে হেরে গেছে মাদ্রিদ জায়ান্টরা।
এই জয়ে লিগের আর মাত্র তিন ম্যাচ বাকি থাকতে দুইয়ে থাকা রিয়ালের চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে গেছে বার্সেলোনা। ৩৫ ম্যাচে ২৬ জয় ও চার ড্রয়ে তাদের সংগ্রহ ৮২ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে ৭৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
লিগ শিরোপা জয়ের জন্য কাতালানদের আর দরকার দুই পয়েন্ট। আগামী বৃহস্পতিবার রাতে কাতালুনিয়া ডার্বিতে এস্পানিওলের মাঠে খেলতে যাবে ফ্লিকের দল। টেবিলের চতুর্দশ স্থানে থাকা নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ওই ম্যাচটি জিতলেই শিরোপা নিশ্চিত করে ফেলবে তারা।
এদিন রিয়াল মাদ্রিদের তিন গোলের তিনটিই করেছেন এমবাপ্পে। লস ব্লাঙ্কোসদের হয়ে একমাত্র ৮ বা তার বেশি রেটিংয়ের পারফরম্যান্স দিয়েও দলকে জেতাতে পারেননি তিনি (৮.৮)। বার্সেলোনার দলীয় পারফরম্যান্সের সামনে বৃথা গেছে তার হ্যাটট্রিক।
অবশ্য দল না জিতলেও ব্যক্তিগত একাধিক অর্জন হয়েছে এই ফরাসি তারকার। রিয়ালের জার্সিতে প্রথম মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। চলতি মৌসুমে ৩৮টি গোল করে ফেলেছেন এমবাপ্পে, অভিষেক মৌসুমে যা রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ। এই রেকর্ড গড়তে গিয়ে ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে ইভান জামোরানোর ৩৭ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন এমবাপ্পে। এমনকি হাতে আরও তিনটি ম্যাচ থাকায় এই রিকর্ডটি তিনি আরও উচ্চতায় তুলতে পারেন।
এছাড়া লা লিগায় ২৫ গোল নিয়ে ম্যাচ শুরু করা এমবাপ্পের লিগে গোল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮টিতে। চলতি মৌসুমের পিচিচি ট্রফিরে দৌড়ে বার্সেলোনার রবের্ট লেভানডোভস্কিকে (২৬) পেছনে ফেলে দিয়েছেন তিনি।
ম্যাচের শুরুতেই এদিন রক্ষণের ভুলে পেনাল্টি পেয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ, আর তা থেকে সফরকারীদের এগিয়ে নেন এমবাপ্পে। চতুর্থ মিনিটে বল নিয়ে বক্সের ঢোকার আগে কুবারসিকে পরাস্ত করে এগিয়ে যান এমবাপ্পে, এরপর স্টান্সনি এগিয়ে গিয়ে এমবাপ্পের পা থেকে ঝাঁপিয়ে বল কাড়তে গিয়ে তাকে ফাউল করে বসেন। এরপর ভিএআর রিভিউ শেষে ষষ্ঠ মিনিটে সফল স্পট কিক থেকে রিয়ালকে লিড এনে দেন এই ফরাসি তারকা।
চতুর্দশ মিনিটে বার্সার হাইলাইন ডিফেন্স ভেঙে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রিয়ালের ফরাসি স্ট্রাইকার। গোল খেয়ে অবশ্য মাঝমাঠ থেকে লামিনকে ফাউল করে বল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছিল বার্সেলোনা, তবে রিভিউতে তাদের সে আবেদন জোর পায়নি।
এর পাঁচ মিনিট পর এরিক গার্সিয়ার গোলে ব্যবধান কমায় বার্সেলোনা। এ সময় বক্সের মধ্যে আসা ক্রসে প্রথমে মাথা দিয়ে বল গোলপোস্টের মাঝ বরাবর পাঠান ফেররান, তাতে সফল হেডারে ঠিকানা খুঁজে নেন এরিক।
এরপর ৩২তম মিনিটে লামিন ইয়ামাল ও ৩৪তম মিনিটে রাফিনিয়ার গোল প্রথমোর্ধেই রিয়ালকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য এমবাপ্পের আরও এক গোলে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল দলটি। তবে তা ম্যাচ জিতে লিগে টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
একেবারে শেষ মুহূর্তে বার্সেলোনার পক্ষে পঞ্চম গোলটি করেন ফেরমিন লোপেস। তবে অফসাইডে গোলটি কাটা পড়লে ৪-৩ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কাতালানরা।
এর মাধ্যমে গত সপ্তাহে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ৪-৩ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হওয়া বার্সেলোনার ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ মিলেছে। সেইসঙ্গে লা লিগা জয়ের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে হান্সি ফ্লিকের দল।
২৯৯ দিন আগে