খেলাধুলা
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ভারত দলকে দেশে ফিরতে দিচ্ছে না ঘূর্ণিঝড় বেরিল
এক দশকেরও বেশি সময় পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা উঠল ভারতের হাতে। চতুর্থবারের মতো আইসিসি শিরোপা ঘরে তুলল তারা। এর আগে তারা দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত।
২৯ জুন শিরোপা হাতে পেলেও এখনও দেশের মাটিতে পা রাখার সুযোগ মেলেনি রোহিত-কোহলিদের। তাদের ফেরার অপেক্ষায় কোটি কোটি ভারতবাসী কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বেরিলের কারণে বাড়ি ফেরা আটকে আছে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪ জয়ী ভারত ক্রিকেট দলের।
সিএনএন জানিয়েছে, ২০২৪ আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম বড় ঝড় হারিকেন বেরিল। এটি ঘনীভূত হয়ে ক্যাটাগরি ৪ মাত্রার হারিকেনে পরিণত হয়েছে, যা বিপজ্জনক বলে মনে করা হচ্ছে। রবিবার পর্যন্ত আবহাওয়া আপডেটে জানা যায় এটি ঘণ্টায় ১৩০ মাইল বেগে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান, টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন ভারত
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রায় ৭০ জনের ভারতীয় দল, খেলোয়াড়, পরিবারের সদস্য এবং স্টাফরা বার্বাডোজ থেকে নিউ ইয়র্ক এবং তারপর সেখান থেকে নয়াদিল্লি ফেরার পরিকল্পনা করেছিল।
কিন্তু ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে এতজন একসঙ্গে নিয়ে আসার মতো বিমান নেই। বিসিসিআইকে ৭০ জন সদস্যকে বহন করতে পারে এমন বিমানের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
১ জুলাই বিকাল পর্যন্ত এখনও স্পষ্ট নয় বিশ্বকাপজয়ীদের জন্য উপযুক্ত বিমান সংগ্রহ করে বার্বাডোজে কবে বা কখন পাঠাতে পারবে ভারত।
এদিকে, এই জয় যেন ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন যুগের সূচনা- এমন খুশি নিয়ে বিশ্বকাপ জয় উদযাপন করছেন ভারতীয় সমর্থকরা।
এই জয়ের পর ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলি এই ফরম্যাট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। এর কিছুক্ষণ পরেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় জানান ভারতীয় টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক রোহিত শর্মাও।
আরও পড়ুন: কোহলির পর রোহিতেরও অবসরের ঘোষণা
যদিও এটি বিরাটের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা, এর আগে ২০১১ সালে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ জিতেছিলেন, এটি রোহিতের প্রথম বিশ্বকাপ ছিল। এই জয়টি রাহুল দ্রাবিড়ের জন্যও বিশেষ ছিল কেন না ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে এটা তার প্রথম বিশ্বকাপ এবং এই টুর্নামেন্ট দিয়েই শেষ হলো কোচিংয়ের মেয়াদ।
প্রথমবারের মতো আইসিসি ইভেন্টের ফাইনালে ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা নিশ্চিত করেছে ভারত। দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বিরাট কোহলি ও জসপ্রীত বুমরাহ।
৬১৩ দিন আগে
বেলিংহ্যামের শেষের নাটকের পর স্লোভাকিয়াকে কাঁদিয়ে শেষ আটে ইংল্যান্ড
বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমক জাগিয়ে ইউরো শুরু করা স্লোভাকিয়া নকআউট পর্বে পেয়েছিল গতবারের রানার্স-আপ ইংল্যান্ডকে। শক্তিশালী ইংলিশদেরও প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল তারা। তবে তাদের স্বপ্নযাত্রা ম্লান হয়েছে জুড বেলিংহ্যামের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোলে।
রোববার রাতে জার্মানির পশ্চিমের শহর গেলসেনকির্খেনে শেষ ষোলোর ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে ইংল্যান্ড।
প্রথমার্ধে ইভান শারাঞ্জ স্লোভাকিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পর ইংল্যান্ডকে নির্ধারিত নব্বই মিনিটের পর যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরান জুড বেলিংহ্যাম। এরপর ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে পঞ্চম মিনিটেই জয়সূচক গোলটি করে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেন হ্যারি কেইন।
ফলে সামন্যের জন্য প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় কেঁদে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্সেস্কো কালসোনার শিষ্যরা।
আরও পড়ুন: জর্জিয়ার স্বপ্নযাত্রা থামাল দুর্দান্ত স্পেন
পুরো ম্যাচজুড়ে বল দখলের লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকলেও গোলে শট নেওয়ায় ইংল্যান্ডকে প্রায় সমানে টক্কর দিয়েছে স্লোভাকিয়া। ইংলিশদের ১৬টি শটের বিপরীতে তারা গোলে শট নেয় ১৩টি, যার মধ্যে ইংল্যান্ডের মাত্র দুটি শট লক্ষ্যে থাকলেও তাদের ছিল তিনটি।
৬১৪ দিন আগে
জর্জিয়ার স্বপ্নযাত্রা থামাল দুর্দান্ত স্পেন
পর্তুগালকে ২-০ ব্যবধানে হারানোর পর জর্জিয়া কোচ উইলি স্যানিওল বলেছিলেন, শেষ ষোলোয় উঠতে পেরেই অনেক খুশি। তবে স্পেনকে ভয় পেয়ে খেলবে না তার শিষ্যরা। মাঠের খেলায় তা করেও দেখালেন জর্জিয়ার ফুটবলাররা। তবে বদলে যাওয়া স্পেনের ক্রমাগত ক্ষুরধার আক্রমণে ক্ষতবিক্ষত হলো তাদের হৃদয়।
কোলনে রবিবার দিবাগত রাতে জর্জিয়ার বিপক্ষে ৪-১ গোলের ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন।
টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ সব সেইভ করে দলকে শেষ ষোলোয় নিয়ে এসেছিলেন জর্জিয়ার তরুণ গোলরক্ষক জর্জি মামারডাশভিলি। গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচে ২৭টি সেইভ করে ফুটবলপাড়ায় আলোচনার জন্ম দেন ২৩ বছর বয়সী ভ্যালেন্সিয়ার এই গোলরক্ষক। দুর্দান্ত স্পেনের বিপক্ষেও বারংবার দেখালেন সেই অসামান্য প্রতিভা। তবে একক প্রচেষ্টায় ঠিক পেরে উঠলেন না তিনি। স্পেনের ৯টি প্রচেষ্টা তার কাছে বাধা পেলেও চারবার ব্যর্থ হন মামারডাশভিলি।
অপরদিকে, শুরু থেকেই আক্রমণের পসরা সাজাতে থাকা স্পেন আত্মঘাতী গোল খেয়েও সেদিকে দৃকপাত না করে নিজেদের কাজের ধারা অব্যহত রাখল। আর তাতেই থেমে গেল ইউরোর ইতিহাসে প্রথমবার শেষ ষোলো খেলতে আসা জর্জিয়ার স্বপ্নযাত্রা।
আরও পড়ুন: ইয়ামালের ইতিহাস গড়ার রাতে স্পেনে বিধ্বস্ত ক্রোয়েশিয়া
ম্যাচজুড়ে আক্রমণের পর আক্রমণ করতে থাকা স্পেন প্রতিপক্ষের গোলে ৩৫টি শট নেয়, যার ১৩টি ছিল লক্ষ্যে। অপরদিকে, দুই অর্ধে দুটি করে মোট চারটি শট নিয়ে তার একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি কিভিচা কেভারাটসখেলিয়ারা।
৬১৪ দিন আগে
হ্যান্ডবল সিরিজ: আসামকে ৪৭-২৪ গোলে হারিয়েছে ঢাকা
ঢাকা-আসাম পুরুষ ও মহিলা হ্যান্ডবল সিরিজ ২০২৪-এর উদ্বোধনী ম্যাচে আসাম পুরুষ দলকে ৪৭-২৪ গোলে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছে ঢাকা পুরুষ হ্যান্ডবল দল।
রবিবার (৩০ জুন) শহীদ ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ঢাকা হ্যান্ডবল দলের মোহাম্মদ ফয়সাল।
আরও পড়ুন: কোহলির পর রোহিতেরও অবসরের ঘোষণা
এর আগে তিন দিনব্যাপী এ সিরিজের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব, বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক গোলাম কুদ্দুস চৌধুরী বাবু।
বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কোহিনুরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন আসাম হ্যান্ডবল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অমল নারায়ণ পাটোয়ারী।
বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন (বিএইচএফ) ও আসাম স্টেট হ্যান্ডবল অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে সফরকারী আসাম পুরুষ হ্যান্ডবল দলের চারটি এবং আসাম মহিলা দল স্থানীয় দলের বিপক্ষে চারটি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড
৬১৪ দিন আগে
চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড
প্রতিভায় ঠাঁসা ইতালির আক্রমণের ধার কমিয়ে রাখতে শুরু থেকেই প্রবল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলল মুরাত ইয়াকিনের শিষ্যরা। আর সেই আক্রমণের তোড়ে কোথায় যেন ভেসে গেল ইতালির ফুটবলাররা। পুরো ম্যাচের বেশিরভাগ সময়জুড়ে চেনাই গেল না যে, ২০২০ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নরা মাঠে খেলছে।
বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে শনিবার (২৯ জুন) রাতে শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে ইউরোর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে ২-০ গোলে হারিয়েছে সুইজারল্যান্ড। এ পরাজয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায় নিতে হয়েছে লুসিয়ানো স্পালেত্তির শিষ্যদের।
এর ফলে ৩১ বছর পর ইতালির বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেল সুইসরা। বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচে ১৯৯৩ সালের মে মাসে সবশেষ ১-০ গোলের জয় পেয়েছিল তারা। এরপর ১১ বার মুখোমুখি হলেও কখনও ম্যাচ জিতে ঘরে ফেরা হয়নি সুইসদের। ১১ ম্যাচের ৬টি ড্র এবং ৫টি হারে সুইজারল্যান্ড।
এই হারে ২০ বছর পর ফের কোয়ার্টর ফাইনালের আগেই বিদায় নিতে হয়েছে ইতালিকে। সবশেষ ২০০৪ সালে শেষ আটে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয় দলটি।
সুইসদের গোল দুটি করেছেন রেমো ফ্রয়লার ও রুবেন ভারগাস।
এ ম্যাচে ইতালির গোলে ১৬টি শট নেয় সুইজারল্যান্ড, যার ৪টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে, ১১টি শটের মাত্র ১টি গোলে রাখতে সক্ষম হয় ইতালি।
ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে উঠতে থাকে সুইজারল্যান্ড। ২৪তম মিনিটে গোল করার ভালো একটি সুযোগও পেয়ে যান ব্রিল এমবোলো। তবে দোন্নারুম্মার সঙ্গে ওয়ান-অন-ওয়ানে গিয়ে ব্যর্থ হন তিনি।
তবে ৩৭তম মিনিটে গিয়ে জাল আর অক্ষত রাখতে পারেননি ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে গোলমুখের অতন্দ্র প্রহরী জিয়ানলুইজি দোন্নারুমা। বক্সে ভারগাসের বাড়ানো পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়েই জোরালো শট নেন নটিংহ্যাম ফরেস্ট মিডফিল্ডার ফ্রয়লার। দোন্নারুম্মা শটটি পা দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলেও দুর্দান্ত গতিতে জাল খুঁজে নেয় বল।
আরও পড়ুন: শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় সুইজারল্যান্ডকে হতাশ করল জার্মানি
৬১৫ দিন আগে
হারের পর যা বললেন মার্করাম
প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের বিশ্ব আসরের কোনো ফাইনালে উঠেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে সেটিও দুর্দান্তভাবে। ফাইনালে খেলার আগে একটি ম্যাচও হারেনি তারা। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালেও তুমূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর তারা অবশেষে হেরে গেল।
বছরের পর বছর ধরে সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়া প্রোটিয়াদের এবারের পারফরম্যান্সে অনেকেই তাদের সাফল্য নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিল, কিন্তু চেষ্টা করেও তা বাস্তবে রূপ দিতে পারেননি মার্করাম-ডি ককরা। তাই সমর্থকদের মতো হৃদয় ভেঙেছে তাদেরও।
ম্যাচ শেষে দলটির খেলোয়াড়দের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। কান্না চেপে রেখে মুখ লাল করে ফেলেছিলেন সবাই।
তবে খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই, এক পক্ষকে পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতেই হবে- এটাই তো নিয়ম।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ জিতেই অবসরের ঘোষণা কোহলির
ম্যাচ শেষে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সেকথা ঝরল প্রোটিয়া অধিনায়ক আইডেন মার্করামের কণ্ঠেও।
‘ক্ষণিকের জন্যে হলেও বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছি। টুর্নামেন্টজুড়ে আমরা কী দারুণ পারফর্ম করেছি, এ বিষয়টি অনুধাবন করতে আমাদের কিছুটা সময় লাগবে।’
সতীর্থদের কৃতিত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার (দলের) খেলোয়াড়দের জন্য সত্যিই গর্ববোধ করছি। (বোলাররা) ভালো বোলিং করেছে। এমনটি ভাবার সুযোগ নেই যে, এই পিচে আরও ভালো করার সুযোগ ছিল।’
‘বোলাররা (ভারতীয় ব্যাটারদের) ভালো রানের মধ্যেই আটকে দিয়েছিল। ভেবেছিলাম, এটি অতিক্রমযোগ্য লক্ষ্য। আমরা ভালো ব্যাটিংও করেছি। শেষের দিকে তো ম্যাচ একেবারেই হাতের মুঠোয় চলে এসেছিল। তবে দিনশেষে দারুণ ক্রিকেট হয়েছে।’
আরও পড়ুন: কোহলির পর রোহিতেরও অবসরের ঘোষণা
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই হাল না ছাড়ার মানসিকতা নিয়ে খেলে ফাইনাল পর্যন্ত এসেছেন জানিয়ে মার্করাম বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা নিয়ে খেলে এসেছি। এভাবে এ পর্যায়ে এসে তাই নিজেদের (শিরোপার দাবিদার হিসেবে) অযোগ্য মনে হচ্ছে না। ম্যাচটি আমরা জিততে পারতাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা হয়ে ওঠেনি। তবে (ফলাফল) যাই হোক, দলকে নিয়ে আমি দারুণ গর্ববোধ করছি।’
ম্যাচ শেষে মার্করামকে জোর করে মুখে হাসি আনার চেষ্টা করতে দেখা যায়। ডেভিড মিলারের স্ত্রী এসে তাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। দলটির খেলেয়াড়দের অনেককেই দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তাদের এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না যে ম্যাচটি তারা হেরে গেছে।
মানসিকভাবে অনেকেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এমন সামান্য ব্যবধানের হার নিশ্চয় তাদের বেশ কিছুদিন ভোগাবে।
আরও পড়ুন: দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান, টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন ভারত
৬১৫ দিন আগে
কোহলির পর রোহিতেরও অবসরের ঘোষণা
ভারতের ক্রিকেট সমর্থকদের ১৭ বছরের শিরোপা খরা ঘুচিয়ে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন বিরাট কোহলি। এবার তার সুরে সুর বাঁধলেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা।
ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এই ফরম্যাটে ভারতের জার্সিতে তাকেও আর দেখা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন রোহিত। তবে টি-টোয়েন্টিতে না খেললেও ওয়ানডে ও টেস্ট খেলা চালিয়ে যাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রোহিত বলেন, ‘এটি আমারও শেষ (টি-টোয়েন্টি) ম্যাচ ছিল। বিদায় বলার জন্য এর চেয়ে আর ভালো সময় হতে পারে না।’
‘টি-টোয়েন্টি দিয়েই ভারতের জার্সিতে আমার অভিষেক হয়েছিল। আর এটিই চেয়েছিলাম আমি। (বিশ্ব) কাপ জিততে চেয়েছিলাম আমি।’
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ জিতেই অবসরের ঘোষণা কোহলির
তিনি বলেন, ‘এই ট্রফিটি জিততে আমি একেবারে মরিয়া হয়ে ছিলাম। তাই এটি জেতার পর আমার অনুভূতি এখন কেমন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’
১৫৯টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে এই ফরম্যাটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক রোহিত শর্মা। ৪ হাজার ২৩১ রান সংগ্রহকালে টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ ৫টি সেঞ্চুরিও তার দখলে। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপ আসরেও ১৫৬.৭ স্ট্রাইক রেট নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান (২৫৭) সংগ্রাহক হিটম্যান।
২০০৭ সালে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন রোহিত, আর ক্যারিয়ার শেষ করলেন অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে।
আরও পড়ুন: দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান, টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন ভারত
৬১৫ দিন আগে
বিশ্বকাপ জিতেই অবসরের ঘোষণা কোহলির
১৭ বছর পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে বিজয়ের মঞ্চেই ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণকে বিদায় বলে দিলেন ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার বিরাট কোহলি।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে ব্যাট হাতে তার ৭৬ রানের ইনিংসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে ফাইনালে ম্যান অব দ্য মাচও হয়েছেন তিনি।
ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার গ্রহণ করার পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়েই টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান কোহলি।
তিনি বলেন, ‘এটিই আমার শেষ বিশ্বকাপ ছিল। আমরা ঠিক এটিই অর্জন করতে চেয়েছিলাম।’
আরও পড়ুন: দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান, টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন ভারত
বিশ্বকাপের চলতি আসরের শুরু থেকে একেবারেই রানের মধ্যে ছিলেন না তিনি। আগের ৭ ম্যাচে তার মোট রান ছিল ৭৫। এর মধ্যে দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন মাত্র দুইবার, শূন্য রানেও আউট হন দুইবার। তবে ফাইনাল ম্যাচে এসে অবশেষে জ্বলে ওঠে তার ব্যাট। কিন্তু বিশ্বকাপ অভিযানে নিজের পারফরম্যান্সের বিষয়টি সচেতনভাবেই খেয়াল করেছেন তিনি।
কোহলি বলেন, ‘একদিন আপনার মনে হবে যে, আপনি রান পাচ্ছেন না, আর তখনই এমন সিদ্ধান্ত মাথায় আসে। ঈশ্বর মহান (যে তিনি আমাকে শেষটা সুন্দর করার সুযোগ দিয়েছেন)।’
‘এবার আমরা পণ করেই এসেছিলাম- হয় এবার, নয়তো কখনও নয়। ভারতের হয়ে এটিই ছিল আমার শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। আর কাপটি আমি তুলে ধরতে চেয়েছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘দেখুন, এটি একপ্রকার ওপেন সিক্রেট ছিল। এই টুর্নামেন্ট শেষেই আমি (অবসরের) ঘোষণা দিতে চেয়েছিলাম। এমন নয় যে, হেরে গেলে এই ঘোষণাটি আমি দিতাম না। নতুন প্রজন্মকে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার এখনই সময়।’
আরও পড়ুন: ফাইনালে হাসল কোহলির ব্যাট, প্রোটিয়াদের সামনে বড় লক্ষ্য
২০১০ সালে ভারতের জার্সিতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হয় বিরাট কোহলির। এরপর ওয়ানডে, টেস্টের মতো এই ফরম্যাটেও আলো ছড়িয়েছেন তিনি। দেশের হয়ে মোট ১২৫ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ১৩৭.৯৪ স্ট্রাইক রেট ও ৪৮.৬৯ গড়ে ৪ হাজার ১৮৮ রান করেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে একটি সেঞ্চুরি ও ৩৮টি হাফ-সেঞ্চুরি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ছয়টি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে দুইবার টুর্নামেন্ট সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন কোহলি। ক্যারিয়ারের শেষ টুর্নামেন্টেও ম্যান অব দ্য ফাইনাল হয়েছেন তিনি। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে রোহিত শর্মার পরই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ভারতের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ব্যাটার।
৬১৫ দিন আগে
দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান, টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন ভারত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর প্রথম আসরেই ফাইনালে ওঠে ভারত। সেবার পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় দলটি। এরপর আরও একবার ফাইনালে উঠলেও শ্রীলঙ্কা কাঁদায় তাদের। ১৭ বছর পর ফের ফাইনালে কাঁদল ভারত। তবে এবার আর হতাশা নয়, শিরোপা জয়ের আনন্দে কাঁদলেন রোহিত-হার্দিকরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ২০২৪ সালের আসরে এসে অবশেষে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম এ সংস্করণে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে রোহিত শর্মার দল। ১৭ বছরের চেষ্টার পর একেবারে টি-টোয়েন্টির প্রথম অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে টিম ইন্ডিয়া।
টস জিতে এদিন শুরুতে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৭৬ রান করে ভারত। জবাবে খেলতে নেমে নাটকের পর নাটক, ম্যাচে একের পর এক পালাবদলের পর মাত্র ৭ রান বাকি থাকতে থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।
দুই দলই তুমূল লড়াইয়ের স্মরণীয় এক ফাইনাল উপহার দিল। তবে প্রথমবার কোনো বিশ্ব আসরের ফাইনালে উঠেও জয় ছিনিয়ে আনতে ব্যর্থ হলো আইডেন মার্করাম-ডেভিড মিলাররা। ফলে সামান্য ব্যবধানে হেরে আরও একবার হৃদয় ভাঙল প্রোটিয়াদের। আর প্রায় দেড় যুগের অপেক্ষা শেষে শিরোপা উঁচিয়ে ধরল ভারত।
প্রোটিয়াদের হয়ে ব্যাট হাতে হাইনরিখ ক্লাসেন করেন সর্বোচ্চ ৫২ রান। এছাড়া কুইন্টন ডি কক ৩৯ এবং ডেভিড মিলার ২১ রান করেন।
অন্যদিকে, বল হাতে সর্বোচ্চ তিন উইকেট শিকার করেন হার্দিক পান্ডিয়া। তবে ব্যক্তিগত চার ওভারে ১৮ ও ২০ রান দিয়ে দুটি করে উইকেট তুলে নেন যথাক্রমে জসপ্রিত বুমরাহ ও আর্শদীপ সিং। প্রথম ইনিংসে বিরাট কোহলির ৭৬ রানের পর এই দুই পেসারের দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে চেপে ধরে হারিয়েছে ভারত।
প্রথম ইনিংসে দলের সংগ্রহ বড় করে দেয়ায় ফাইনাল ম্যাচের রাজা বিরাট কোহলি। আর আসরজুড়ে বোলিংয়ে ঝলক দেখানো জসপ্রিত বুমরাহ হয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা।
৬১৫ দিন আগে
ডি ককের ব্যাটে ম্যাচে ফিরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা
মাত্র ১২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে শুরুতেই যে চাপের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ট্রিস্টান স্টাবসকে সঙ্গে নিয়ে সেই চাপ ভালোভাবেই সামাল দিয়েছেন প্রোটিয়া ওপেনার কুইন্টন ডি কক।
দলকে স্থিতিশীলতা এনে দিয়ে স্টাবস আউট হয়ে ফিরলেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ডি কক ও হাইনরিখ ক্লাসেন।
শেষ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১১ ওভার শেষে তিন উইকেটে ৯৩ রান সংগ্রহ করেছে প্রোটিয়ারা। বিশ্বকাপ জিততে বাকি ৯ ওভারে তখন তাদের প্রয়োজন ৮৪ রান। প্রয়োজনীয় রান রেট ৯ দশমিক ৪।
২৬ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত রয়েছেন ডি কক। অন্য প্রান্তে ১০ বলে ১৬ রান নিয়ে অপরাজিত ক্লাসেন।
আরও পড়ুন: ভারতীয় বোলিং তোপে কাঁপছে দক্ষিণ আফ্রিকা
এর আগে, ১৭৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ভারতীয় পেসারদের তোপের মুখে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা। তিন ওভার শেষ হতে না হতেই দুই উইকেট হারিয়ে বসে তারা।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রথম বলেই আউট হয়ে যাচ্ছিলেন কুইন্টন ডি কক। আর্শদীপের আউটসাইড অফ স্ট্যাম্পের ডেলিভারিতে ব্যাট ছুঁইয়েই বিপদে পড়েছিলেন তিনি। তবে উইকেটরক্ষক পর্যন্ত না পৌঁছানোয় বেঁচে যান ডি কক।
তবে পরের ওভারে বুমরাহর প্রতাপ থেকে বাঁচতে পারেননি অপর প্রান্তের রিজা হেন্ড্রিক্স। ওভারের তৃতীয় বলেই দুর্দান্ত এক ইয়র্কার স্ট্যাম্প গুঁড়িয়ে দিয়ে চলে যায়। ফলে দলীয় ৭ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
এর পরের ওভারে আর্শদীপের শিকার হন প্রোটিয়া অধিনায়ক আইডেন মার্করাম। উইকেটের পেছনে ঋষভকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ফলে প্রথম দুই ব্যাটারই পাঁচ বল মোকাবিলা করে একটি করে চার মেরে ফিরে যান। এতে মাত্র ১২ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে ভারতের মতোই শুরুতে চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
ওই ওভারের পঞ্চম বলে আরও একটি কট বিহাইন্ডের সম্ভাবনা জাগে। তবে রিভিউ নিয়ে ব্যর্থ হয় ভারত।
এরপর ট্রিস্টান স্টাবসকে সঙ্গে নিয়ে মাচে ফিরতে শুরু করেন ডি কক। এই দুজনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় পাওয়ার প্লেতে দুই উইকেটে ৪২ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে ৩৮ বলে ৫৮ রানের জুটি গড়ে ফিরে যান স্টাবস। ৮.৫তম ওভারে অক্ষরের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ফেরার আগে একটি ছক্কা ও তিনটি চারের মারে ২১ বলে ৩১ রান করেন তিনি। এর ফলে দলীয় ৭০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা।
আরও পড়ুন: ফাইনালে হাসল কোহলির ব্যাট, প্রোটিয়াদের সামনে বড় লক্ষ্য
ফাইনালের খুঁটিনাটি: আবহাওয়া, পিচ, দলের খবর
৬১৫ দিন আগে