খেলাধুলা
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বৃষ্টির হানা, পণ্ড হলেই ফাইনালে ভারত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামার অপেক্ষা করছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও ভারত। বৃষ্টির কারণে টস হতে দেরি হচ্ছে। তবে বৃষ্টি হলেও ম্যাচটি নিয়ে নির্ভার থাকবে ভারতীয় শিবির। কারণ ম্যাচটি পণ্ড হয়ে গেলে ফাইনালে উঠে যাবে রোহিত শর্মা অ্যান্ড কোং।
চলমান বিশ্বকাপ আসরের জন্য আইসিসির খেলার শর্তে প্রথম সেমিফাইনালের জন্য রিজার্ভ ডে থাকলেও দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জন্য তা নেই। আবার সেমিফাইনালে উঠলে ভারতের আবদার মেটাতে তাদের দ্বিতীয় সেমিফাইনালেই রাখতে হয়েছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির।
এ দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক চলছে।
ভারতের স্থানীয় সময়সূচিকে প্রাধান্য দিয়ে দলটিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রাখে আইসিসি। কারণ হিসেবে জানা গেছে, প্রথম সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় ভারতের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ছয়টায়। এ সময়ে দেশটির বিপুলসংখ্যক ক্রিকেটভক্তের জন্য খেলা দেখা বেশ কঠিন। তাই রাত ৮টায় শুরু হওয়া দ্বিতীয় সেমিতেই দলটিকে রাখা হয়েছে।
আইসিসিতে ভারতের প্রভাব এবং ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে আইসিসির আয়- সবকিছু মিলিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
আরও পড়ুন: আফগানদের বিধ্বস্ত করে ‘চোকার’ তকমা ঘোচাল দক্ষিণ আফ্রিকা
দ্বিতীয় কারণটি নিয়েও সমালোচনা কম হচ্ছে না। প্রথম সেমিফাইনালে রিজার্ভ ডে থাকলেও দ্বিতীয় ম্যাচে কেন সেই সুবিধা রাখা হলো না, তা নিয়ে আইসিসিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন অনেকে।
তবে এ বিষয়ে আইসিসির সাফাই, ফাইনাল ম্যাচের আগে পর্যাপ্ত সময় না থাকার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তারা। সময় না থাকার পেছনে ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচিকে দায়ী করেছে সংস্থাটি।
২৯ জুন বার্বাডোজের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল হওয়ার কথা। অর্থাৎ দ্বিতীয় সেমিফাইনালের পর মধ্যে মাত্র একটি দিন সময় রাখা হয়েছে। তাই রিজার্ভ ডে রাখার সুযোগ নেই বলে আইসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
তবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জন্য অন্যভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বৃষ্টি বাগড়া দিলেও এই ম্যাচের জন্য ২৫০ মিনিট বাড়তি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়ের ৪ ঘণ্টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সময় নষ্ট হলেও তার জন্য ওভার কমানো হবে না, সম্পূর্ণ ম্যাচ খেলানো হবে।
এরপরও যদি খেলা শুরু করা না যায়, তবেই ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমানোর সিদ্ধান্তে যাবে আইসিসি। তবে এক্ষেত্রে দুদলকেই কমপক্ষে ১০ ওভার করে খেলানো হবে, গ্রুপ পর্বে যা ছিল মাত্র ৫ ওভার। এরপরও খেলা সম্ভব না হলে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে।
ম্যাচ পরিত্যক্ত হলেই কপাল পুড়বে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। কারণ, সুপার এইট পর্বে ইংল্যান্ডের চেয়ে (৪) ভারতের পয়েন্টই (৬) বেশি ছিল। আর টুর্নামেন্টের নিয়ম এটা।
আরও পড়ুন: রেকর্ড বইয়ে ১৩ পরিবর্তন আনল প্রোটিয়া-আফগান ম্যাচটি
৬১৭ দিন আগে
ইউরোর শেষ ষোলো চূড়ান্ত, কে কবে কার মুখোমুখি
গ্রুপ পর্বের তৃতীয় রাউন্ডে অনেক চমক নিয়ে হাজির হয় ইউরোর চলতি আসর। অনেক দল আশাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক আন্ডারডগ হ্যাভিওয়েটদের হারিয়ে গ্রুপসেরা বা শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়েছে এবারের আসরের ইউরোপের শেষ ১৬টি ফেবারিট দল এবং ফাইনালে পৌঁছাতে কার রাস্তা কেমন, তা।
ইউরোর নকআউট পর্বের প্রথম ধাপের টিকেট পেয়েছে- স্বাগতিক জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ইতালি, ইংল্যান্ড, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, রোমানিয়া, বেলজিয়াম, পর্তুগাল, তুরস্ক, স্লোভাকিয়া, জর্জিয়া ও স্লোভেনিয়া।
চলতি আসরের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদপড়া দলগুলোর মধ্যে অন্যতম ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ও ২০২২ বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়া। রবের্ট লেভানডফস্কির পোল্যান্ড এবং এবারের আসরের ‘ব্ল্যাক হর্স’ খ্যাত হাঙ্গেরিও শুরুতেই ছিটকে গেছে।
আবার বেলজিয়ামকে টপকে গ্রুপসেরা হওয়া রোমানিয়া, ফ্রান্স-নেদারল্যান্ডসকে টপকে গ্রুপসেরা হওয়া অস্ট্রিয়া, এমনকি জর্জিয়ার মতো দলগুলো চমক দেখিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে।
চলুন দেখে নেই, গ্রুপপর্বে কার লড়াই কতটা শক্ত ছিল-
গ্রুপ ‘এ’
স্বাগতিক জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও স্কট্যলান্ডকে নিয়ে গড়া গ্রুপ ‘এ’ থেকে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করা সহজ ছিল না কোনো দলের জন্যই। সবগুলো দলই ইউরোপের লিগগুলোতে খেলা অসাধারণ সব ফুটবলারে ভরা। তবে জার্মানির দাপটের কারণে একটি স্পট নিয়ে বাকি তিন দলের প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে যায়।
অবশ্য স্কট্যল্যান্ড শক্তিতে কিছুটা খাটো পড়ে গেলে শুরুতেই ছিটকে যায় তারা। পরবর্তীতে হাঙ্গেরিকে রেখে শেষ ষোলোর টিকিট কাটে সুইজারল্যান্ড।
গ্রুপ ‘বি’
তিন ম্যাচে তিনটি জয় নিয়ে দাপটের সঙ্গে স্পেন নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে। তবে এক জয় ও এক হার নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে বিপাকে পড়ে গিয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইতালি। মারিও সাক্কায়নির শেষ মুহূর্তের গোলে ম্যাচটি ড্র হলে কেঁদে বিদায় নিতে হয় ক্রোয়েশিয়ার। আর বিধ্বস্ত হয়ে কোনোমতে শেষ ষোলোয় ওঠে ইতালি।
আরও পড়ুন: অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে মদ্রিচদের কাঁদিয়ে শেষ ষোলোয় ইতালি
গ্রুপ ‘সি’
ইংল্যান্ডের হতাশ পারফরম্যান্সের কারণে এই গ্রুপটি শেষ রাউন্ডেও ছিল উন্মুক্ত। যে কারও সুযোগ ছিল শেষ ষোলোর টিকিট কাটার। পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে গ্রপসেরা ইংল্যান্ডের সঙ্গে তিন পয়েন্ট নিয়ে ডেনমার্ক ও স্লোভেনিয়াও গ্রুপ ‘বি’ থেকে পরের রাউন্ডে উঠেছে। তবে শেষ ম্যাচে ডেনমার্কের সঙ্গে ড্র করে ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করা সার্বিয়া নকআউটের ট্রেন ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।
গ্রুপ ‘ডি’
এই গ্রুপেও ছিল দুই হ্যাভিওয়েট- ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস। তবে তাদের টপকে শেষ ম্যাচে ডাচদের হারিয়ে গ্রুপসেরা হয় অস্ট্রিয়া। টেবিলের তিন নম্বরে থেকে গ্রুপ শেষ করলেও কোটায় শেষ ষোলোর ডাক পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। আর প্রথম দুই ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে গেছে পোল্যান্ড।
গ্রুপ ‘ই’
ইউরোয় এবারের আসরে এই গ্রুপটি ছিল সবচেয়ে চমক জাগানিয়া। গ্রুপে নিশ্চিত ফেবারিট ছিল বেলজিয়াম। তবে তৃতীয় রাউন্ড শেষে সবগুলো দলের পয়েন্ট সমান (৪) হয়ে যায়। এরপর গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপসেরা হয় রোমানিয়া, দ্বিতীয় বেলজিয়াম আর তৃতীয় দল হিসেবে কোটায় নকআউট পর্বে ওঠে স্লোভাকিয়া।
সমান পয়েন্ট, এমনকি অন্য গ্রুপের দলগুলো থেকে তিন পয়েন্ট পেয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত হলেও টেবিলের তলানিতে থাকায় কপাল পুড়েছে ইউক্রেনের। ইউরোর ইতিহাসে চার পয়েন্ট সংগ্রহ করেও শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া একমাত্র দল তারাই।
আরও পড়ুন: ফ্রান্স-নেদারল্যান্ডসের ধারহীন লড়াইয়ে জিতল অস্ট্রিয়া
গ্রুপ ‘এফ’
পর্তুগাল, তুরস্ক, চেক প্রজাতন্ত্র ও জর্জিয়া- শক্তিমত্তার বিচারে টুর্নামেন্টের শুরুতে সবাই দলগুলোকে এই ধারায় রাখলেও শেষ ম্যাচে ফেবারিট পর্তুগালের জালে দুবার বল জড়ায় জর্জিয়া।
এতে টেবিলের তৃতীয় অবস্থানে থেকে চেকদের কাঁদিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে কিভিচা কেভারার দল। এর ফলে প্রথমবার কোনো বড় টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ, ইউরো) খেলতে এসেই নকআউটে পৌঁছেছে জর্জিয়ানরা।
ইউরোর শেষ ষোলোয় ম্যাচগুলোর সময়সূচি:
দিন-তারিখ
ম্যাচ
ভেন্যু
শুরুর সময়
২৯ জুন, শনিবার
ইতালি-সুইজারল্যান্ড
বার্লিন
রাত ১০টা
২৯ জুন, শনিবার
জার্মানি-ডেনমার্ক
ডর্টমুন্ড
রাত ১টা
৩০ জুন, রবিবার
ইংল্যান্ড-স্লোভাকিয়া
গেলসেনকির্খেন
রাত ১০টা
৩০ জুন, রবিবার
স্পেন-জর্জিয়া
কোলন
রাত ১টা
১ জুলাই, সোমবার
ফ্রান্স-বেলজিয়াম
ডুসেলডর্ফ
রাত ১০টা
১ জুলাই, সোমবার
পর্তুগাল-স্লোভেনিয়া
ফ্রাঙ্কফুর্ট
রাত ১টা
২ জুলাই, মঙ্গলবার
নেদারল্যান্ডস-রোমানিয়া
মিউনিখ
রাত ১০টা
২ জুলাই, মঙ্গলবার
অস্ট্রিয়া-তুরস্ক
লাইপসিগ
রাত ১টা
৬১৭ দিন আগে
রেকর্ড বইয়ে ১৩ পরিবর্তন আনল প্রোটিয়া-আফগান ম্যাচটি
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় চরম বিপর্যস্ত হয়েছে আফগানিস্তান। প্রোটিয়া বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৫৬ রানেই আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে আফগান ব্যাটারদের।
এমন এক ইনিংসে বেশকিছু রেকর্ড হয়েছে, আবার কিছু রেকর্ড ভেঙে গড়া হয়েছে, যার বেশিরভাগ দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য গৌরবের হলেও আফগানিস্তানের জন্য লজ্জার।
দ্বিতীয় সর্বনিম্ন
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৮ রান সংগ্রহ করেছে আফগানিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬ উইকেটে কোনো দলের এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন সংগ্রহ।
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে প্রথম রেকর্ডটিও তাদের। ২০১০ বিশ্বকাপে মাত্র ১৪ রান সংগ্রহ করতে গিয়ে ছয় উইকেট হারায় তারা।
পাওয়ার প্লেতে পাঁচ
বৃহস্পতিবারের প্রথম সেমিফাইনালে পাওয়ার প্লেতে পাঁচ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। এটি চলতি বিশ্বকাপে পঞ্চমবার ৫ উইকেট হারানোর ঘটনা।
মজার বিষয় হচ্ছে, এর আগের চারটি ইনিংসের দুটি ছিল এই আফগানদের বিপক্ষে অন্য দলের। তবে এবার আফগানিস্তানই এই লজ্জার রেকর্ডে নাম ওঠাল।
গ্রুপপর্বে উগান্ডা ও পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে প্রথম ৬ ওভারে ৫টি করে উইকেট নেন রশিদ-নবীরা।
এছাড়া গ্রুপপর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজও উগান্ডার পাঁচ উইকেট নেয়। আরেকটি ইনিংস আয়ারল্যান্ডের, পাকিস্তানের বিপক্ষে নাকানি-চুবানি খেয়েছিলেন পল স্টার্লিংরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বনিম্ন
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড গড়েছে আফগানিস্তান। এর মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপের শুরুতে গড়া রেকর্ডটি (৭৭) পেছনে ফেলে লঙ্কানদের স্বস্তি দিয়েছে তারা।
এর আগের রেকর্ডটিও ছিল আফগানদের (৮০)। ২০১০ সালে ব্রিজটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে ৮০ রানে গুটিয়ে যায় তারা। সেবারও ২০০৯ সালে স্কটল্যান্ডের গড়া রেকর্ড (৮১) ভেঙে দেয় তারা।
নিজেদের সর্বনিম্ন
এদিন টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান সংগ্রহ করেছে রশিদ খানের দল। এর আগে ২০১৪ সালে মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭২ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
এছাড়া এই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই ২০১০ সালে এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১২ সালে ৮০ রানে ইনিংস শেষ করার রেকর্ড আছে আফগানদের।
বিশ্বকাপে দ্বিতীয়
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে পূর্ণ একাদশ নিয়ে খেলে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান সংগ্রহ করেছে আফগানিস্তান। তবে ৫৫ রান নিয়ে তালিকার তলানিতে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। দুবাইয়ে ২০২১ আসরে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে এই লজ্জার রেকর্ড গড়ে ইংলিশরা।
এছাড়া ২০১৪ আসরে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড (৬০) এবং ২০১৬ আসরে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে কিউইদের বিপক্ষে বাংলাদেশের (৭০) নামও রয়েছে এই তালিকায়।
সেমিতে সর্বনিম্ন আফগানিস্তান
৫৬ রানে অলআউট হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ইতিহাসে প্রথম এত কম রানে গুটিয়ে গেল কোনো দল।
এর আগে প্রোটিয়াদের বিপক্ষেই ১০১ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এছাড়া ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ১৩১ রানে গুটিয়ে যাওয়ার রেকর্ড আছে অস্ট্রেলিয়ার।
ফারুকির অর্জন
অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের মতো টেস্ট খেলুড়ে দলের বিপক্ষে জিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা আফগানিস্তানের সাফল্যের নেপথ্যে ছিল ফজলহক ফারুকির অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্য।
৮ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে এখন পর্যন্ত চলতি আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী তিনিই। শুধু তাই নয়, এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহের রেকর্ড।
এ তালিকার পরের তিনটি রেকর্ডই শ্রীলঙ্কার, একটি ভারতের। ২০২১ বিশ্বকাপে ১৬ উইকেট নেওয়ার পরের আসরে (২০২২) ১৫ উইকেট নিয়ে পরপর দুই আসরে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ছিলেন ওয়ানিন্দু হাসরাঙ্গা।
এছাড়া ১৫টি উইকেট আছে ২০১৫ বিশ্বকাপে ত্রাস ছড়ানো অজন্তা মেন্ডিসের নামের পাশেও।
তবে চলতি আসরে ভারতের আর্শদীপ সিংয়ের ঝুলিতেও ১৫টি উইকেট রয়েছে। আজ রাতে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে ভারত। এই ম্যাচেও তাকে দেখা যেতে পারে। আবার ম্যাচটি জিতলে ফাইনালেও খেলার সুযোগ থাকবে এই তরুণ পেসারের। ফলে ফারুকির রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়ার সুযোগ থাকছে তার সামনে।
৬১৭ দিন আগে
আফগানদের বিধ্বস্ত করে ‘চোকার’ তকমা ঘোচাল দক্ষিণ আফ্রিকা
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারতে হারতে ‘চোকার’ তকমা পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সব মিলিয়ে সাতবার বিশ্বকাপের সেরা চারে উঠেও ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা হয়নি দলটির। সবশেষ গত নভেম্বরে ভারত বিশ্বকাপেও সেমিফাইনালে তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়। অবশেষে তাদের সেই দুর্দশা ঘুচল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে আফগানদের ৯ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোনো সংস্করণে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে আইডেন মার্করামের দল।
টস জিতে শুরুতে ব্যাটিং করে মাত্র ৫৬ রানেই গুটিয়ে যায় আফগানদের ইনিংস। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৮.৫ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
ইনিংস শুরু করতে নেমে দলীয় পাঁচ রানের মাথায় কুইন্টন ডি ককের (৫) উইকেটটি হারালেও রিজা হেন্ড্রিকস (২৯) ও মার্করামের (২৩) ব্যাটিং দৃঢ়তায় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্রোটিয়ারা।
অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্সের কারণে ম্যাচসেরা হয়েছেন মার্কো ইয়ানসেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান: ৫৬/১০ (১১.৫)- (আজমতউল্লাহ ১০, গুলবাদিন ৯; শামসি ৩/৬, ইয়ানসেন ৩/১৬, নর্টিকিয়া ২/৭, রাবাদা ২/১৪)।
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৬০/১ (৮.৫)- (হেন্ড্রিকস ২৯, মার্করাম ২৩; ফারুকি ১/১১)
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মার্কো ইয়ানসেন।
আরও পড়ুন: প্রোটিয়া বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারল না আফগানিস্তান
৬১৮ দিন আগে
প্রোটিয়া বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারল না আফগানিস্তান
বাংলাদেশকে হারিয়ে স্বপ্নের সেমিফাইনালে ওঠা আফগানিস্তানের সেমির যাত্রা শুরু হয়েছে দুঃস্বপ্নের মতো। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে আফগান ব্যাটিং লাইন-আপ।
ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে টস জিতে শুরুতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। তবে প্রোটিয়া বোলিং তোপে মাত্র ৫৬ রানেই গুটিয়ে গেছে তাদের ইনিংস।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১০ রান করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ব্যটারদের আর কেউই দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি।
দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের ঝুলিতেই গেছে আফগানদের ৭টি উইকেট। এর মধ্যে ৩ ওভারে ১৬ রান দিয়ে মার্কো ইয়ানসেন নিয়েছেন সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট। এছাড়া কাগিসো রাবাদা ও আনরিখ নর্টকিয়ার ঝুলিতে গেছে দুটি করে উইকেট। স্পিনার তাবরাইজ শামসি নিয়েছে বাকি তিনটি উইকেট।
ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবার ফাইনালে উঠতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ৫৭ রান।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে সেমিফাইনালে আফগানিস্তান
ম্যাচ শুরুর আগে এই মাঠের রেকর্ড বলছিল, টস জিতলে ব্যাটিং নেওয়ার মতো উইকেট এটি। ১৪০-১৫০ রান করতে পারলেই তা এই পিচের ভালো স্কোর হবে। বিশ্বকাপে এখানে ৫১ উইকেটের মধ্যে ৩৮টিই গেছে পেসারদের ঝুলিতে।
উইকেটের কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেলেও সম্ভব্য রানের বিষয়টি নতুন করে লিখল দক্ষিণ আফ্রিকা।
ইনিংস শুরু করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেটের দেখা পান মার্কো ইয়ানসেন। ওভারের শেষ বলে চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করা (৭৬, ৮০, ৬০ ও ৪৩) রহমানউল্লাহ গুরবাজ ফিরে যান রানের খাতা না খুলেই। আর চার রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
পরের ওভারে কেশব মহারাজ কায়দা করতে না পারলেও তৃতীয় ওভারে ফের উইকেটের দেখা পান ইয়ানসেন। এবার তার শিকার হন তৃতীয় ব্যটার গুলবাদিন নাইব।
চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসেই মেইডেন ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নেন কাগিসো রাবাদা। প্রথম বলেই আফগানদের অপর ওপেনার ইব্রাহিম জাদরানকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান তিনি। চতুর্থ বলে নতুন নামা মোহাম্মদ নবীকেও বোল্ড করেন রাবাদা। বেচারা নবী তার তিন বল মোকাবিলা করে রানের খাতাই খুলতে পারেননি।
এর ফলে চার ওভার শেষে ২০ রানে ৪ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। তবে তাদের এই ধারা বহাল থাকে পরের ওভারেও। ইয়ানসেন নিজের তৃতীয় ওভার বোলিং করতে এসে ফের উইকেটের দেখা পান। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে উইকেটের পেছনে নানগেলিয়া খারোতের ক্যাচ নেন ডি কক।
আরও পড়ুন: টি-টোয়েন্টিতে কামিন্সের বিরল কীর্তি
মাঝে ষষ্ঠ ওভারটি বিরাম দিয়ে পরের ওভারে ফের উইকেট হারায় আফগানিস্তান। এবার নর্টকিয়ার প্রথম ওভারেই ক্যাচ হয়ে ফেরেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। দুটি চারের সাহায্যে ১২ বলে ১০ রান করেন তিনি। এর ফলে ৭ ওভার শেষে ২৯ রানে ৬ উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
এরপর উইকেটে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করেন করিম জানাত ও রশিদ খান। দুটি ওভার ধরে খেলে সে ইঙ্গিতও দেন তারা।
তবে দশম ওভারে শামসির হাতে বল তুলে দেন আইডেন মার্করাম, আর অধিনায়কের আস্থার প্রতিদানও দেন তিনি। ওভারের তৃতীয় বলে জানাতকে এবং পঞ্চম বলে নতুন নামা নুর আহমাদকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে জোড়া উইকেট নেন তিনি।
পরের ওভারে নর্টকিয়া রশিদ খানকে বোল্ড করেন। আর দ্বাদশ ওভারে শামসি ফেরান নাভিন-উল-হককে। ফলে ১১.৫ ওভারে মাত্র ৫৬ রানে গুটিয়ে যায় প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা আফগানিস্তান।
৬১৮ দিন আগে
প্রোটিয়া বোলিং তোপে কাঁপছে আফগানিস্তান
বাংলাদেশকে হারিয়ে স্বপ্নের সেমিফাইনালে ওঠা আফগানিস্তানের সেমির যাত্রা শুরু হয়েছে দুঃস্বপ্নের মতো। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের বোলিং আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে আফগান ব্যাটারদের টপ অর্ডার।
ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে টস জিতে শুরুতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। তবে ইনিংসের শুরুতেই প্রোটিয়া বোলিং তোপের মুখে পড়ে আফগান ব্যাটাররা।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৯.৩তম ওভারে ৫০ রানে ৭ উইকেট হারিয়েছে আফগানিস্তান।
অধিনায়ক রশিদ খান ৬ বলে ৮ এবং নুর আহমাদ শূন্য রানে অপরাজিত রয়েছেন।
৬১৮ দিন আগে
ইউরোয় এমবাপ্পের প্রথম গোলেও জিততে পারল না ফ্রান্স
ইউরোতে ক্যারিয়ারের প্রথম গোল পেলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, চলতি আসরে নিজেদের খেলোয়াড়দের পা থেকে প্রথম গোল পেল ফ্রান্স, তবুও ‘ডি’ গ্রুপের তৃতীয় ও শেষ রাউন্ডের ম্যাচটিতে জয়বঞ্চিত হয়েছে ফ্রান্স।
ডর্টমুন্ডের জিগনাল ইডুনায় মঙ্গলবার রাতে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। দুই গোলই এসেছে পেনাল্টি থেকে। ফ্রান্সের হয়ে এমবাপ্পে ও পোল্যান্ডের হয়ে রবের্ট লেভানডফস্কি গোল দুটি করেন।
এই ড্রয়ে তিন ম্যাচে এক জয় ও দুটি ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। অপরদিকে, মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে থেকে বিদায় নিয়েছে পোল্যান্ড।
দিনের অন্য ম্যাচে নাটকীয় লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছে অস্ট্রিয়া। ফলে ফেবারিট ফ্রান্স ও ডাচদের টপকে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে তারা।
আরও পড়ুন: অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে মদ্রিচদের কাঁদিয়ে শেষ ষোলোয় ইতালি
নাকে আঘাত লাগায় এক ম্যাচ বিশ্রামে থেকে এদিন বিশেষ মাস্ক পরে মাঠে নামেন এমবাপ্পে। অন্যদিকে, ইনজুরিতে পড়া লেভানডফস্কিও ইউরোরর চলতি আসরে প্রথমবার পোল্যান্ডের শুরুর একাদশে ফেরেন।
এমবাপ্পে একাদশে ফেরায় ফ্রান্সের আক্রমণে কিছুটা ধার বাড়ে। তবে প্রথম দুই ম্যাচ হারা পোল্যান্ডও ভয়ডরহীন ফুটবল খেলে। ফলে সমানে সমানে লড়াইতে শেষ হয় প্রথমার্ধ।
তবে, তারকা আর অভিজ্ঞতায় ভরা ফ্রান্সই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ, গোলের সুযোগ তৈরি, বলের দখল ইত্যাদি ক্ষেত্রে পোলিশদের চেয়ে এগিয়ে ছিল।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার কিছু আগে পোল্যান্ডকে চেপে ধরে ফ্রান্স। দেম্বেলে ও এমবাপ্পে দুটি দারুণ সুযোগ তৈরি করলেও তা থেকে গোলবঞ্চিত হয় তারা। ফলে জাল অক্ষত রেখেই বিরতিতে যায় দুই দল।
৬১৮ দিন আগে
লাউতারোর গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনাকে ৮৮ মিনিট পর্যন্ত আটকে রেখেও শেষ পর্যন্ত হেরে গেল চিলি। দ্বিতীয় ম্যাচেও গোল পেয়ে প্রতিপক্ষের ডেডলক ভেঙে দলকে জয় এনে দিলেন সুপার সাব লাউতারো মার্তিনেস।
জর্জিয়ার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কোপা আমেরিকার দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও চিলি। লাউতারো মার্তিনেসের ৮৮তম মিনিটের গোলে ১-০ গোলে ম্যাচটি জিতেছে আর্জেন্টিনা।
এই জয়ে প্রথম দুই ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে টুর্নামেন্টে সবার আগে শেষ আট নিশ্চিত করেছে মেসি অ্যান্ড কোং। গ্রুপের বাকি ম্যাচটি তারা খেলবে ৩০ জুন। ওইদিন সকাল ৬টায় পেরুর বিপক্ষে মাঠে নামবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
ম্যাচে মোট ২২টি শট নেয় আর্জেন্টিনা, এর মধ্যে ৯টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে, মাত্র তিনটি শট নিয়ে তিনটিই লক্ষ্যে রাখে চিলি। এই তিন শটের প্রতিটিই ছিল বিপজ্জনক।
৬১৯ দিন আগে
বাংলাদেশের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে সেমিফাইনালে আফগানিস্তান
বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ রানের নাটকীয় জয়ে (ডিএল পদ্ধতিতে) চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে আফগানিস্তান। এতে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দুই দলই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ল।
নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল আফগানিস্তান।
বাংলাদেশি বোলারদের দক্ষতায় আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১১৫ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশের পক্ষে ৩ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার রিশাদ হোসেন।
জবাবে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ১২.১ ওভারে জয় তুলে নিয়ে আফগানিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ভালো রান রেট বজায় রেখে সেমিফাইনালে ওঠা। কিন্তু তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। বৃষ্টিও দু'বারের বেশি তাদের চেষ্টায় বাধা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: সেমির দৌড়ে ১১৬ রানের লক্ষ্যে সমীকরণ মেলাতে হচ্ছে টাইগারদের
নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান ও তৌহিদ হৃদয় সবাই প্রভাব ফেলতে পারেননি। সাকিব ও তানজিদ হাসান তামিম শূন্য রানে আউট হয়েছেন। মাত্র ৫ রান করে ফেরেন শান্ত।
এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো একাদশে যুক্ত হওয়া সৌম্য সরকারও প্রভাব রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শূন্য রান করেন তিনি।
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৯ বল খেলে মাত্র ৬ রান দেন। সেমিফাইনালে ওঠার দারুণ সুযোগ যখন বাংলাদেশের সামনে ছিল, এরকম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সব ব্যাটসম্যান তাদের যোগ্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন।
নাভিন-উল-হক ও রশিদ খান ৪টি করে উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের জয়ের মূল কারিগর ছিলেন। আফগান বোলাররা এতটাই সুশৃঙ্খল ছিলেন যে এই ম্যাচে তিনবার হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন তারা।
২৭ জুন সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। অপর সেমিফাইনালে ভারত খেলবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: অজিদের অনিশ্চয়তায় ফেলে সেমিতে ভারত
৬১৯ দিন আগে
সেমির দৌড়ে ১১৬ রানের লক্ষ্যে সমীকরণ মেলাতে হচ্ছে টাইগারদের
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে মঙ্গলবার নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১১৫ রানে রুখে দিয়েছে বাংলাদেশি বোলাররা।
সেমিফাইনালে যেতে বাংলাদেশকে এখন ১২ দশমিক ১ ওভারে ১১৬ রান করতে হবে।
তাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে তারা কেবল তখনই যোগ্যতা অর্জন করতে পারে যদি তারা ১২ দশমিক ১ ওভারে লক্ষ্য তাড়া করে বা ১২ দশমিক ৫ ওভারে এই রান টপকালেও চলবে বাংলাদেশকে। সে ক্ষেত্রে স্কোর সমান হওয়ার পর একটি ৬ মারতে হবে। অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ ওভারে বাংলাদেশকে করতে হবে ১২১ রান।
১২ দশমিক ৩ ওভারে আফগানিস্তানকে টপকাতে পারলেও সেমিফাইনালে যাবে বাংলাদেশ। করতে হবে ১২ দশমিক ৩ ওভারে ১১৯ রান।
আরও পড়ুন: অজিদের অনিশ্চয়তায় ফেলে সেমিতে ভারত
তবে এতদিন বোলারদের পক্ষে থাকা পিচে শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ।
এই শর্তগুলোর কোনো একটি পূরণ করতে পারলেই বাংলাদেশ সেমিফাইনালের জন্য যোগ্য হবে। আর তারা যদি তা না করতে পারে এবং আফগানিস্তান জিতে যায়, তাহলে প্রথমবারের মতো আফগানরা সেমিফাইনাল খেলবে।
বাংলাদেশ যদি শর্ত পূরণ না করে জয়লাভ করে, তাহলে অস্ট্রেলিয়া সেমিফাইনালে উঠবে।
টাইগারদের জন্য আরেকটি চিন্তার কারণ বৃষ্টি। আফগানিস্তানদের ইনিংসের পর ভেন্যু এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত অবিরাম বৃষ্টি হয়েছে। ওভার কমে গেলে কম ওভারেই নতুন টার্গেটের মুখে পড়বে বাংলাদেশ।
কিংসটাউনের আর্নোস ভেল গ্রাউন্ডের উইকেটে রান তোলা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে মাত্র ২৭ রান তোলে আফগানিস্তান।
আরও পড়ুন: রোহিতের তাণ্ডবে দুর্জয় লক্ষ্যের সামনে অস্ট্রেলিয়া
বাংলাদেশের বোলাররা ম্যাচের শুরুটা দুর্দান্ত করেছে। সেখান থেকে দ্রুত রান তুলতে হিমশিম খেতে হয় আফগানিস্তানকে।
ম্যাচে রিশাদ হোসেন বাংলাদেশের সফলতম বোলার, ৪ ওভারে ৩ উইকেট নেন তিনি। তিনি তৃতীয় ওভার পর্যন্ত কোনো বাউন্ডারি দেননি। তবে এরপর রহমানউল্লাহ গুরবাজ বল বাউন্ডারিতে দিয়ে ৪ রান সংগ্রহ করেন।
তার সবচেয়ে সফল ওভারটি ছিল চতুর্থ ওভার, তিনি মাত্র ৮ রান খরচ করে ২ উইকেট নিয়েছেন।
একটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। ৪ ওভারে তাসকিন দিয়েছেন মাত্র ১২ রান, আর মুস্তাফিজ দিয়েছেন ১৭ রান।
শেষ ওভারে তানজিম হাসান সাকিবের বলে রশিদ খানের দুটি ছক্কা আফগানিস্তানকে ১১০ রানের গণ্ডি পার করতে সাহায্য করে।
এই ভেন্যুতে যে ৪টি ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে আফগানিস্তানের জয় তাদেরকে আজকের ম্যাচের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী করতে পারে।
অন্যদিকে, টি-টোয়েন্টি বা ৫০ ওভারের ফরম্যাটে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারেনি। এই উৎসাহ কাজে লাগিয়ে তারা সামনে এগিয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ার ‘মহা গুরুত্বপূর্ণ’ ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে ভারত
৬২০ দিন আগে