বিশ্ব
ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে আক্রান্ত হলে আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে: রাষ্ট্রদূত
ইরান কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধের পক্ষে নয়, তবে আক্রান্ত হলে জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদি।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি ইরানে ব্যবসায়ীদের আন্দোলন ও পরবর্তীতে সংঘটিত হতাহতের ঘটনায় ঢাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাষ্ট্রদূত জালিল। এ সময় তিনি দেশটিতে চলমান সংঘর্ষ ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।’
অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শুরু হওয়া ব্যবসায়ীদের আন্দোলন প্রথমদিকে স্বাগত জানালেও পরবর্তীতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দমন করতে ইরানের সরকার বল প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছিল দাবি করেন তিনি।
তার কথায়, ‘মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি চাপে আছে। বৈদেশিক মূদ্রার বিপরীতে ইরানের মুদ্রার মান নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ব্যবসায়ীরা, বিশেষ করে আমদানিকারকরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু করেন যা ইরানের বিদ্যমান আইনে বৈধ। কিন্তু সপ্তাহখানেকের মধ্যে একটি পক্ষ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, পুলিশ স্টেশনসহ আন্দোলনে যোগ দিতে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হামলা শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাবাহিনীগুলো অ্যাকশনে যায়।
‘এরপর সশস্ত্র একটি গোষ্ঠী আন্দোলনকারীদের ভেতর ঢুকে যায় এবং তাদের হাতে শতাধিক পুলিশ সদস্য নিহত হন। নিরাপত্তাবাহিনীর কিছু সদস্যকে গলা কেটে হত্যাও করা হয়। হাসপাতালে হামলা করে নার্স হত্যা, একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থানে যায়।’
তিনি বলেন, ‘নজরদারি ডিভাইসের মাধ্যমে কথোপথন শুনে এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জবানবন্দিসহ বিভিন্ন বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চত হয় যে, এটি কোনো সাধারণ আন্দোলন নয়, বরং তা সরাসরি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা নির্দেশিত সরকার পতনের সহিংস পরিকল্পনা।’
ইরানের পরিস্থিতিনি বর্তমানে শান্ত আছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে ইন্টারনেট সেবাও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
২ দিন আগে
গ্রিনল্যান্ড দখলে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন না দিলে শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের
গ্রিনল্যান্ড দখলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে না থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিদলীয় মার্কিন কংগ্রেস প্রতিনিধি দল ডেনমার্কের রাজধানীতে যখন উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে, তার মধ্যেই এমন মন্তব্য করলেন ট্রাম্প।
গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলে আসছেন, ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও তিনি বলেছেন, আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে না এলে তা ‘অগ্রহণযোগ্য’ হবে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প উদাহরণ দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগে তিনি কীভাবে ইউরোপীয় মিত্রদের ওষুধ খাতে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও আমি তা করতে পারি। যদি দেশগুলো গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে একমত না হয়, তাহলে আমি তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারি। কারণ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন। তাই আমি তা করতেই পারি।’
এর আগে অবশ্য গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে চাপ সৃষ্টি করতে শুল্ক আরোপের কথা বলতে শোনা যায়নি তাকে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন।
ওই বৈঠকে গভীর মতপার্থক্যের নিরসন না হলেও একটি ‘কার্যকরী দল’ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়, যার উদ্দেশ্য নিয়ে পরে ডেনমার্ক ও হোয়াইট হাউস ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রকাশ করে।
ইউরোপীয় নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই ভূখণ্ড নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডেরই। চলতি সপ্তাহে ডেনমার্ক জানিয়েছে, মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।
যে সম্পর্ক ‘লালন করতে হবে’
কোপেনহেগেনে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের একটি দল শুক্রবার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের পাশাপাশি দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেনসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রতিনিধি দলের নেতা ডেলাওয়ারের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস স্বাগতিকদের বলেন, ‘২২৫ বছর ধরে একজন ভালো ও বিশ্বস্ত মিত্র এবং অংশীদার থাকার জন্য ধন্যবাদ।’ তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতেও কীভাবে এই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে আমাদের শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’
আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, এই সফর বহু দশকের দৃঢ় সম্পর্কের প্রতিফলন এবং ‘এটি এমন একটি সম্পর্ক, যা আমাদের লালন করতে হবে।’
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডকে কোনো সম্পদ হিসেবে নয়, আমাদের একটি মিত্র হিসেবে দেখা দরকার। আমি মনে করি, এই প্রতিনিধিদলের কাছ থেকেও সেটিই শোনা যাচ্ছে।’
তবে এই সুর হোয়াইট হাউসের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের আহ্বানকে ন্যায্যতা দিতে ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, দুর্লভ খনিজ সম্পদে ভরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে চীন ও রাশিয়ার নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। আবার হোয়াইট হাউস এই ভূখণ্ড বলপ্রয়োগে দখল করার সম্ভাবনাও নাকচ করেনি।
শুক্রবারের বৈঠকে অংশ নেওয়া গ্রিনল্যান্ডের রাজনীতিক ও ডেনিশ পার্লামেন্ট সদস্য ওহা খিমনিৎস বলেন, ‘সত্যি বলতে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর হুমকি নিয়ে আমরা অনেক মিথ্যা ও অতিরঞ্জন শুনেছি। আমার মতে, বর্তমানে যে হুমকিগুলো আমরা দেখছি, তার বেশিরভাগ যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকেই আসছে।’
মারকাউস্কি ব্যয় ও ভোটারদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভূমিকার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা জোর দিয়ে বলা জরুরি—যখন আমেরিকার জনগণকে জিজ্ঞেস করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখল করার ধারণাটি ভালো কি না, তখন বিপুল সংখ্যক, প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটার বলেছে, আমরা মনে করি না যে এটি ভালো ধারণা।’
নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিনের সঙ্গে মারকাউস্কি একটি দ্বিদলীয় বিল উত্থাপন করেছেন, যাতে কোনো ন্যাটো সদস্যরাষ্ট্রের সম্মতি বা নর্থ আটলান্টিক কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া গ্রিনল্যান্ড কিংবা কোনো সার্বভৌম ন্যাটো ভূখণ্ড সংযুক্ত বা নিয়ন্ত্রণে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বা পররাষ্ট্র দপ্তরের তহবিল ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বক্তব্যের সমালোচনায় ইনুইট কাউন্সিল
চলমান এই উত্তেজনা গ্রিনল্যান্ডবাসীদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন মঙ্গলবার বলেন, ‘যদি আমাদের এখানে ও এখনই যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে কাউকে বেছে নিতে হয়, সেক্ষেত্রে আমরা ডেনমার্ককে বেছে নিচ্ছি। আমরা ন্যাটোকে বেছে নিচ্ছি। আমরা ডেনমার্ক রাজতন্ত্রকে বেছে নিচ্ছি। আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বেছে নিচ্ছি।’
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলাস্কা, কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ও রাশিয়ার চুকোটকা অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ইনুইটের প্রতিনিধিত্ব করা নুকভিত্তিক সংস্থা ইনুইট সার্কামপোলার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বলেন, গ্রিনল্যান্ড অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের দখলে থাকতে হবে—হোয়াইট হাউসের এমন ধারাবাহিক বক্তব্য ‘গ্রিনল্যান্ডের মানুষের সম্পর্কে মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি তাদের দৃষ্টি এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।’
সারা ওলসভিগ নুকে অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে বলেন, বিষয়টি হলো ‘বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শক্তি কীভাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল জনগোষ্ঠীগুলোর দিকে তাকায়। আর সেটি সত্যিই উদ্বেগজনক।’ গ্রিনল্যান্ডের আদিবাসী ইনুইটরা আবারও ঔপনিবেশিক শাসন চান না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
৫ দিন আগে
থাইল্যান্ডে যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর ক্রেন পড়ে নিহত ২২
থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর ক্রেন পড়ে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও ৬৪ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দেশটির নাখন রাতচাসিমা প্রদেশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রদেশের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, দ্রুতগতির উড়াল রেলপথ নির্মাণে ব্যবহৃত ক্রেনটি ব্যাংকক থেকে উবন রাতচাথানি প্রদেশগামী চলন্ত ট্রেনটির ওপর ভেঙে পড়ে। এতে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে আগুন ধরে যায়।
৮ দিন আগে
অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝে বিক্ষোভে ইরানে নিহত অন্তত ৩৫
ইরানে চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
আজ মঙ্গলবারও (৬ জানুয়ারি) বিক্ষোভ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ জানায়, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ২৯ জন বিক্ষোভকারী, চার শিশু এবং ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্য রয়েছেন। দেশটির ৩১টির মধ্যে ২৭টি প্রদেশের ২৫০টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
সমগ্র ইরানজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কর্মীদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে বিক্ষোভকারী সংগঠনটি। ফলে অস্থিতিশীল পরিবেশেও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারে তারা। অতীতেও বিক্ষোভের সময় নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের জন্য তারা পরিচিত।
দেশটির আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ডের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স সোমবার গভীর রাতে জানিয়েছে, বিক্ষোভে প্রায় ২৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সেইসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী বাসিজ বাহিনীর অন্তত ৪৫ সদস্য রয়েছেন আহতদের তালিকায়।
ক্রমবর্ধমান প্রাণহানির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, তেহরান যদি ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সহিংসভাবে হত্যা করে’, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে’।
গেল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ট্রাম্পের এসব মন্তব্য হেলায় উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তেহরানের দীর্ঘদিনের মিত্র ছিলেন মাদুরো।
অবশ্য ট্রাম্প কীভাবে এবং আদৌ হস্তক্ষেপ করবেন কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তার মন্তব্যের পর ইরান থেকে তাৎক্ষণিক তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
এটিকে ২০২২ সালের পর ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে। সে বছর পুলিশ হেফাজতে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে চলমান আন্দোলন এখনও আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া বিক্ষোভের মতো ব্যাপক ও তীব্র হয়নি। সঠিকভাবে হিজাব না পরার অভিযোগে আটক হওয়ার পর পুলিশ হেফাজতে আমিনির মৃত্যু হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে কয়েক দফা বিক্ষোভ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্প্রতি ১২ দিনের যুদ্ধের পর তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে দেশটি। গত ডিসেম্বরে ইরানি রিয়ালের মান ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখে নেমে আসে। এরপরই শুরু হয় বিক্ষোভ।
কিন্তু চলমান বিক্ষোভের প্রকৃত মাত্রা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ বিষয়ে খুব কম তথ্য দিচ্ছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে শুধু অল্প সময়ের জন্য রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি বা গুলির শব্দ শোনা যায়। পাশাপাশি ইরানে সাংবাদিকদের চলাচলে অনুমতির বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। মাঝে মধ্যেই তাদের হয়রানি কিংবা গ্রেপ্তারের খবর শোনা যায়।
এসবের মধ্যেও বিক্ষোভ থামছে না বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, ‘দাঙ্গাবাজদের উপযুক্ত জায়গায় রাখা উচিত।’
১৬ দিন আগে
ভেনিজুয়েলার নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী জাহাজের ওপর ট্রাম্পের ‘সর্বাত্মক অবরোধ’ ঘোষণা
ভেনিজুয়েলায় প্রবেশকারী এবং সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত সকল তেলের ট্যাঙ্কারের ওপর সর্বাত্মক অবরোধের নির্দেশ জারি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান চাপ প্রয়োগ তৎপরতার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে অবরোধের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের তৎপরতার অংশ হিসেবে ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনিজুয়েলার উপকূলবর্তী প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ান সাগরে বিভিন্ন জাহাজের ওপর ইতোমধ্যে বেশ কিছু সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব হামলা বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন।
গত সপ্তাহে ক্যারিবিয়ান সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় ভেনিজুয়েলা উপকূল থেকে একটি তেলের ট্যাঙ্কার জব্দ করে মার্কিন বাহিনী। নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, ট্যাঙ্কারটিতে ভেনিজুয়েলার প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকাণ্ডকে ‘প্রকাশ্যে চুরি’ এবং ‘আন্তর্জাতিক দস্যুবৃত্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অবরোধের ঘোষণা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ভেনিজুয়েলা মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধে অর্থায়নের জন্য এই তেল ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে (ভেনিজুয়েলা উপকূলে) সামরিক শক্তি আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় নৌবহর দিয়ে ভেনিজুয়েলাকে সম্পূর্ণভাবে ঘিরে ফেলা হয়েছে। এই বহর আরও বড় হবে এবং তারা (ভেনিজুয়েলা) এমন এক ধাক্কা খাবে যা তারা আগে কখনো দেখেনি... আজ আমি ভেনিজুয়েলায় আসা-যাওয়া নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত সকল তেলের ট্যাঙ্কারের ওপর “সর্বাত্মক ও সম্পূর্ণ অবরোধ”-এর নির্দেশ দিচ্ছি।’
তবে কীভাবে এই অবরোধ কার্যকর করা হবে এবং গত সপ্তাহের মতো জাহাজ আটকানোর কাজে কোস্ট গার্ডকে ব্যবহার করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ওই অঞ্চলে হাজার হাজার সৈন্য এবং একটি বিমানবাহী রণতরীসহ প্রায় বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে।
৩৬ দিন আগে
সিডনিতে গুলিতে ১৫ প্রাণহানির পর কঠোর অস্ত্র আইনের পথে অস্ট্রেলিয়া
সিডনির বন্ডি সমূদ্রসৈকতে ইহুদিদের হনুক্কা উৎসব চলাকালে গুলিবর্ষণে শিশুসহ ১৫ জন নিহতের ঘটনার পর জাতীয় পর্যায়ে আরও কঠোর অস্ত্র আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।
এই ঘটনার তদন্তের পর জানা যায়, হামলাকারী ছিলেন দুজন। তারা পিতা-পুত্র। তাদের মধ্যে পিতার গত এক দশক ধরে অস্ত্রের লাইসেন্স ছিল এবং তিনি অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুসারেই ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন।
এই তথ্য সামনে আসার পর স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের আলবানিজ বলেন, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কতটি আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে পারবেন, তা পুনর্নির্ধারণ করে নতুন অস্ত্র আইনের প্রস্তাব দেওয়া হবে। এ ধরনের হামলা ঠেকাতে সরকার প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। আর এ জন্য কঠোর অস্ত্র আইনের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মানুষ বদলায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেউ কেউ চরমপন্থা দ্বারাও প্রভাবিত হতে পারে। তাই (আগ্নেয়াস্ত্রের) লাইসেন্স কোনোভাবেই আজীবনের জন্য হওয়া উচিত নয়।’
রবিবারের ওই হামলায় অন্তত ৩৮ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আর নিহত ১৫ জনের মধ্যে ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে ও একজন রাব্বি ছিলেন।
সৈকত-সংলগ্ন ছোট এক পার্কে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে হাজার খানেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। গরমের মধ্যে ওই সন্ধ্যায় সৈকতে প্রচুর ভিড় ছিল। এরই মধ্যে গুলি চালান দুই হামলাকারী।
গণহামলা ঠেকাতে অস্ত্র আইন
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় সৈকতটিতে সংঘটিত এই নৃশংস হামলা দেশটিতে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণের ঘটনা। রাইফেলের মাধ্যমে ব্যাপক হারে গুলিবর্ষণ ঠেকাতে দেশটিতে কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন রয়েছে।
তারপরও একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর এমন বর্বরতাকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ। তিনি বলেছেন, এই ঘটনা গোটা দেশের হৃদয়ে আঘাত করেছে। যত দ্রুত সম্ভব এই ধরনের নৃসংশতা ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
এ লক্ষ্যে স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে নিউ সাউথ ওয়েলসের নেতাদের নিয়ে গঠিত জাতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি অস্ত্র আইনসংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান। কারণ কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়নে রাজ্য আইনের প্রয়োগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তার কথায়, ‘কিছু আইন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রণয়ন করা যায়, কিন্তু আরও কিছু আইন রয়েছে যেগুলো বাস্তবায়নের এখতিয়ার রাজ্য সরকারগুলোর। আমরা চাই সবাই যেন সম্পূর্ণভাবে সমান অবস্থানে থাকে।’
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার (রাজ্য সরকারপ্রধান) ক্রিস্টোফার মিন্স আলবানিজের প্রস্তাবে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তিনিও মনে করেন, অস্ত্রের লাইসেন্স আজীবনের জন্য দেওয়া উচিত নয়।
রাজ্যের রাজধানী সিডনিতে সাংবাদিকদের মিন্স বলেন, ‘রাজ্যের বিদ্যমান অস্ত্র আইনে পরিবর্তন আনা হবে। এ লক্ষ্যে সংসদে একটি বিল উপস্থাপন করা হবে, যাতে এসব ভয়ংকর অস্ত্র প্রাপ্তি আরও কঠিন হয়। আমাদের সমাজে যেসব অস্ত্রের কোনো বাস্তব প্রয়োজন নেই, সেগুলোর ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।’
৩৭ দিন আগে
হামাসের শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের
গাজায় বিস্ফোরক ডিভাইস দিয়ে চালানো হামলায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের শীর্ষ পর্যায়ের এক সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। এই হামলায় আরও ২ জন আহত হয়েছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) গাজার শহরের উপকণ্ঠে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত ওই কমান্ডারের নাম রায়েদ সাদ বলে দাকি করেছে ইসরায়েল।
এক বিবৃতি দিয়ে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিহত ব্যক্তি সাদই কি না তা স্পষ্ট করেনি হামাস। বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ইসরায়েল একটি বেসামরিক গাড়িতে হামলা করেছে যা যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
হামাসের উৎপাদন বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন সাদ। তার আগে তিনি এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির অপারেশন বিভাগের নেতৃত্বে ছিলেন।
এদিকে ইসরায়েলের বিবৃতিতে তাকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তিনি হামাসের পুনর্গঠনে যুক্ত ছিলেন, যা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) একজন সাংবাদিক জানান, গাজা শহরের পশ্চিমে ইসরায়েলের এই হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। শিফা হাসপাতালে তাদের মরদেহ দেখেছেন তিনি। আল-আওদা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই হামলায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
এদিকে, ইসরায়েল এবং হামাস বারবার একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ১০ অক্টোবর সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গুলিবর্ষণে অন্তত ৩৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের সৈন্যদের ওপর সশস্ত্র হামলার জবাবেই সাম্প্রতিক এসব হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া গাজার ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত অংশের এবং বাকি অংশের মধ্যে নিয়ন্ত্রণরেখা ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছাকাছি আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর সৈন্যরা গুলি চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা।
ইসরায়েলের দাবি, হামাসের হাতে থাকা শেষ ইসরায়েলি জিম্মি রান গভিলির দেহাবশেষ ফেরত দিতে হবে। এটি শান্তি চুক্তির দ্বিতীয় ও সবচেয়ে জটিল ধাপে প্রবেশের একটি শর্ত। ওই ধাপে হামাসের শাসনের অবসান এবং আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে একটি নিরস্ত্রীকৃত গাজা পুনর্গঠনের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালে দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে আটক করা হয়। যুদ্ধবিরতি বা অন্যান্য চুক্তির মাধ্যমে আটককৃত প্রায় সবাইকে ও নিহতদের মরদেহকে ফেরত দেওয়া হয়েছে ইসরায়েলকে।
অপরদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলের দুই বছরের অভিযানে ৭০ হাজার ৬৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু। তবে এদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক ও কতজন সেনা তা আলাদা করে বলা হয়নি।
এ যুদ্ধে গাজার বেশিরভাগ এলাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি উপত্যকার ২০ লক্ষাধিক জনসংখ্যার অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, যে পরিমাণ মানবিক সহায়তা প্রবেশের কথা ছিল, তার চেয়ে কম সহায়তা প্রবেশ করছে গাজায়। এ ছাড়া, যুদ্ধে যারা অঙ্গ হারিয়েছেন, তারা কৃত্রিম অঙ্গের সংকটে ভুগছেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ বিলম্বের শিকার হচ্ছেন।
৩৯ দিন আগে
জাপানে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, আহত ২৩, সাগরে ২ ফুট সুনামি
জাপানের উত্তরাঞ্চলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় এলাকায় সুনামির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ১১টার দিকে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটি হাচিনোহের উত্তর-পূর্বে প্রায় ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) দূরে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার (৩০ মাইল) গভীরে আঘাত হানে।
এরপর সম্ভাব্য আফটারশক ও বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কতা জারি করে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল জাপানের প্রধান দ্বীপ হোনশুর উত্তরে আওমোরির উপকূল থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে প্রশান্ত মহাসাগরে। তবে, জাপান সরকার এখনো সুনামি ও ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করছে বিধায় চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।
জাপানের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর আওমোরির ঠিক দক্ষিণে ইওয়ার কুজি বন্দরে ৭০ সেন্টিমিটার (২ ফুট ৪ ইঞ্চি) পর্যন্ত উচ্চতার সুনামি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া এই অঞ্চলের অন্যান্য উপকূলীয় এলাকায় ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত উচ্চতার সুনামি আঘাত হেনেছে।
ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
এনএইচকে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের বেশিরভাগই ধসে পড়া বস্তুর আঘাতে আহত হয়েছেন। হাচিনোহের একটি হোটেলে বেশ কয়েকজন আহত হন এবং তোহকুতে গাড়ি খাদে পড়ে এক ব্যক্তি আঘাত পেয়েছেন।
জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্কতা না ওঠা পর্যন্ত উঁচু স্থান বা নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জানান, ভূমিকম্পের ফলে প্রায় ৮০০ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং এই অঞ্চলের কিছু অংশে শিনকানসেন বুলেট ট্রেন ও লোকাল রেললাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
আওমোরি হাচিনোহে শহরের দোকান মালিক নোবুও ইয়ামাদা সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে’কে বলেন, ‘আমি এত বড় কম্পন আগে কখনো অনুভব করিনি। সৌভাগ্য যে আমাদের এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ সচল রয়েছে।’
ওই অঞ্চলের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কিহারা।
পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আওমোরির রোক্কাশো জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্টের জ্বালানি শীতলীকরণ এলাকা থেকে প্রায় ৪৫০ লিটার পানি উপচে পড়েছে। তবে পানির স্তর স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই রয়েছে এবং কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি জানান, হাচিনোহে বিমান ঘাঁটিতে প্রায় ৪৮০ জন বাসিন্দা আশ্রয় নিয়েছেন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য ১৮টি প্রতিরক্ষা হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।
এনএইচকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে হোক্কাইডোর নিউ চিটোস বিমানবন্দরে প্রায় ২০০ যাত্রী সারা রাত আটকা পড়েছিলেন।
এদিকে, আগামী কয়েকদিনে সম্ভাব্য আফটারশকের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। তারা জানিয়েছে, টোকিওর পূর্বে চিবা থেকে হোক্কাইডো পর্যন্ত জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলজুড়ে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প এবং সম্ভাব্য সুনামির ঝুঁকি কিছুটা বেড়েছে।
সংস্থাটি এই এলাকার ১৮২টি পৌরসভার বাসিন্দাদের আগামী সপ্তাহে তাদের জরুরি প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সাংবাদিকদের জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত নিরূপণের জন্য সরকার একটি জরুরি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। তিনি বলেন, আমরা মানুষের জীবনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি এবং আমাদের পক্ষে যা সম্ভব সবই করছি।
তিনি ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের স্থানীয় পৌরসভাগুলোর সর্বশেষ তথ্যের দিকে নজর রাখার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ‘দয়া করে প্রস্তুত থাকুন যাতে কম্পন অনুভব করার সাথে সাথেই আপনারা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারেন।’
আবহাওয়া অফিসের ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি বিভাগের কর্মকর্তা সাতোশি হারাদা বলেন, ‘আপনাদের এমন একটি দুর্যোগ আবারও ঘটতে পারে ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিতে হবে।’
তবে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে কর্তৃপক্ষ উত্তর জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের জন্য জারি করা সব সুনামি সতর্কতা তুলে নেয় বলে খবরে বলা হয়েছে।
৪৩ দিন আগে
গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে কিউবার সাবেক অর্থমন্ত্রীর যাবজ্জীবন
কিউবার সাবেক অর্থমন্ত্রী আলেহান্দ্রো হিল ফের্নান্দেসকে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে কোনো শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনার সর্বোচ্চ ঘটনা এটি।
স্থানীয় সময় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) কিউবার সুপ্রিম কোর্টের পপুলার ট্রাইব্যুনাল এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আলাদা মামলায় ঘুষ, নথি জালিয়াতি ও কর ফাঁকিসহ অন্যান্য অপরাধে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় হিলকে আরও ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হিল। প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে তাকে উপ-প্রধানমন্ত্রীও করা হয়।
তবে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাকে পদচ্যুত করা হয়। ওই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর কিউবার প্রেসিডেন্ট বলেন, হিল ‘গুরুতর ভুল’ করেছেন এবং কোনোভাবেই দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
কিউবার সর্বোচ্চ আদালতও সাবেক এই মন্ত্রী ঠিক কী করেছেন বা কার জন্য গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন—তা জানায়নি।
২০০৯ সালে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্লোস লাগে ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেলিপে পেরেস রোকেকে বহিষ্কারের পর কিউবায় এটি সবচেয়ে আলোচিত মামলা। তাদের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের অভিযোগ থাকলেও তাদের শাস্তি দেওয়া হয়নি।
২০২১ সালে কিউবার মুদ্রা ও আর্থিক খাতের সংস্কার কার্যক্রমের মুখপাত্র ছিলেন হিল। তৎকালীন সরকারের পক্ষে সে সময় দেশটির মুদ্রাব্যবস্থা একীভূত করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে আগে থেকেই চলতে থাকা অর্থনৈতিক সংকট ও নিত্যপণ্যের ঘাটতিতে ভুগতে থাকা কিউবায় তখন মুদ্রাস্ফীতি চরম আকার ধারণ করে।
সৃপ্রিম কোর্ট জানায়, হিল নিজ স্বার্থে প্রদত্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি অর্থ গ্রহণ করেছেন এবং অন্য কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছেন।
৪৪ দিন আগে
মার্কিন মুসলিম অধিকার গ্রুপকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করলেন ফ্লোরিডার গভর্নর
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অ্যাডভোকেসি গ্রুপ আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স কাউন্সিল (কেয়ার)-কে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করেছেন ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেস্যান্টিস। টেক্সাসে গত মাসে নেওয়া একই ধরনের সিদ্ধান্তের পর তিনি এ ঘোষণা দিলেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) এক্স-এ প্রকাশিত এক নির্বাহী আদেশে কেয়ারের বিরুদ্ধে তিনি এই নির্দেশনা জারি করেন। একইসঙ্গে ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’কেও একই তকমা দেওয়া হয়।
প্রাদেশিক সরকার ‘সন্ত্রাসী’ তকমা দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার কেয়ার বা মুসলিম ব্রাদারহুড—কোনোটিকেই ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করেনি।
ওই আদেশে ফ্লোরিডার বিভিন্ন সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন এসব সংগঠন বা যেসব ব্যক্তি এদের সহযোগিতা করেছেন, তাদের কোনো ধরনের চুক্তি, চাকরি কিংবা অর্থ বরাদ্দ না দেয়।
গভর্নরের ঘোষণার পর ইমেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে কেয়ারের কেন্দ্রীয় ও ফ্লোরিডা শাখা জানিয়েছে, গভর্নর ডেস্যান্টিসের ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘মানহানিকর’ ঘোষণার বিরুদ্ধে তারা মামলা করবে।
১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কেয়ারের যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ২৫টি শাখা রয়েছে।
গত মাসে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট সংগঠনটিকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা দিলে কেয়ার তার বিরুদ্ধেও ফেডারেল আদালতে আবেদন করে। মামলায় তারা বলে, এ ঘোষণা ‘মার্কিন সংবিধানের পরিপন্থী’ এবং এর পক্ষে ‘টেক্সাসের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।’
অন্যদিকে, মিসরভিত্তিক মুসলিম ব্রাদারহুড প্রায় এক শতাব্দী আগে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বিশ্বের নানা দেশে তাদের শাখা রয়েছে। সংগঠনটির নেতারা বলেন, বহু আগেই তারা সহিংসতা পরিত্যাগ করেছেন এবং নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা কাজ করেন। তবে সমালোচকেরা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সরকার সংগঠনটিকে হুমকি হিসেবে দেখে।
৪৪ দিন আগে