বিশ্ব
১৯ মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলল নেপাল সরকার
নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে দেশটির সরকার।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশটির অন্তত সাতটি শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়, বিক্ষোভকারীদের বেশির ভাগই তরুণ বা জেন-জি প্রজন্মের।
কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে পুলিশের প্রতিবন্ধকতা ভেঙে পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। সে সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও জলকামান ব্যবহার করে নেপালের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একপর্যায়ে গুলিও চালানো হয়।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
সহিংসতার পর রাজধানীসহ আরও দুটি শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘পুরনো বন্ধু’ পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ‘প্রিয় বন্ধু’ শি
এরপর মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সামাজিক মাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয় দেশটির প্রশাসন।
এদিকে, বিক্ষোভ ও সহিংসতার পর গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক পদত্যাগ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী খড়গ প্রসাদ শর্মা অলি এক বিবৃতিতে বলেছেন, সহিংসতার ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়াও নিহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।
বিক্ষোভের শুরু যেভাবে
গত সপ্তাহে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্সসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম ও বার্তা আদান–প্রদানের অ্যাপের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে নেপাল সরকার। নতুন নিয়মনীতি মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ দেখিয়ে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে নিয়ম মানায় টিকটকসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বিধিনিষেধের আওতার বাইরে ছিল।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, মূলত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ভুয়া খবর ও অনলাইন অপরাধ দমনের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ওপর নতুন নিয়মনীতি কার্যকর করা হয়েছে।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে নেপালের জনগণ। একে সেন্সরশিপের হাতিয়ার এবং অনলাইনে সরকারের সমালোচনা করা বিরোধীদের শাস্তি দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারের বন্দিশিবিরগুলোতে নির্যাতনের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ
এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে ইউটিউবের মালিক গুগল কিংবা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ও ইলন মাস্কের এক্স প্ল্যাটফর্মের মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে, এর আগে ২০২৩ সালে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে ৯ মাস টিকটকের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে। পরে টিকটক কর্তৃপক্ষ সরকারের নিয়ম মেনে নিবন্ধন নেওয়ার পর তাদের আবার কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হয়।
১৭৮ দিন আগে
আফিগানিস্তানে তৃতীয় ভূমিকম্পের আঘাত, নিহত ২২০০ ছাড়িয়েছে
আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। এরই মধ্যে দেশটিতে তৃতীয় দফায় ৬.২ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
জার্মানির হেলমহোলৎস সেন্টার ফর জিওসায়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট হয়নি।
রোববারের (৩১ আগস্ট) ৬ দশমিক শূন্য মাত্রার ভূমিকম্পের পর গত মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ৫.৫ মাত্রার একটি আফটারশক আঘাত হানে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ফলে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ সময় ভূমিধসে আরও অনেক সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিত্রাত দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, রোববারের ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০৫ জনে। এই ভূমিকম্প সাম্প্রতিক দশকগুলোতে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রোববারের ভূমিকম্পটি আফগানিস্তানের দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় আঘাত হেনেছিল। ভূমিকম্পটি পাকিস্তানের সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি প্রদেশে আঘাত হানে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুর্গম কুনার প্রদেশ।
আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে ভূমিকম্প: নিহতের সংখ্যা ১৪০০ ছাড়াল
এই অঞ্চলে মাটি ও কাঠের তৈরি বাড়িগুলো ভূমিকম্পের ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে ধ্বংস হয়ে অনেক গ্রাম মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে অসংখ্য মানুষ।
তালেবার সরকার জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা ইতোমধ্যে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কিছু গ্রামে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। বৃহস্পতিবারও ধ্বংসস্তূপ থেকে লাশ উদ্ধার অব্যাহত ছিল।
দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থার কারণে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই তালেবান কর্তৃপক্ষ আহতদের হেলিকপ্টার বা অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থায় যাতায়াত সম্ভব না— এমন স্থান থেকে সরাতে কমান্ডো মোতায়েন করেছে।
কুনার প্রদেশের বাসিন্দা মুহাম্মদ ইসরায়েল জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে কারণে হওয়া ভূমিধসে তার বাড়ি, গবাদিপশু ও যাবতীয় সম্পদ চাপা পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘পাহাড় থেকে সব পাথর নেমে এলো। আমি অতি কষ্টে সন্তানদের বের করতে পেরেছি। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি এখনও অনুভব হচ্ছে। ওখানে থাকা একেবারেই অসম্ভব।’
ভূমিকম্পে ক্ষতিগুস্ত নুরগাল অঞ্চলে জাতিসংঘের একটি চিকিৎসা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন মুহাম্মদ ইসরায়েল। তিনি জানান, ওই শিবিরের অবস্থাও ভালো নয়।
আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে ভূমিকম্প: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০০, আহত ৩ হাজারের বেশি
মুহাম্মদ ইসরায়েল বলেন, ‘আমাদের আসলে কোনো আশ্রয়ই নেই। খোলা আকাশের নিচে ছাড়া আমাদের আর থাকার জায়গা নেই।’
আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সম্পদের ঘাটতির কারণে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতা দখল করার পর কঠোর ধর্মীয় আইন চাপিয়ে দেওয়ায় এনজিও ও সাহায্য সংস্থাগুলোর কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এসব কারণে দেশটিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যাপক হারে কমে গেছে।
নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের আফগানিস্তানে ৪৫০ জনেরও কম কর্মী আছেন। অথচ ২০২৩ সালে সর্বশেষ ভূমিকম্পের সময় কর্মী সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১০০। তাদের হাতে কেবল একটি গুদামঘর আছে, তাতেও কোনো জরুরি মজুত নেই।
আফগানিস্তানে সংস্থাটির যোগাযোগ ও অ্যাডভোকেসি পরামর্শক মাইসাম শাফিয়ি বলেন, তহবিল পেলেই আমাদের সরঞ্জাম কিনতে হবে। এতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, কিন্তু মানুষের তো এখনই প্রয়োজন। আমাদের হাতে কেবল ১ লাখ ডলার আছে। জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ১৯ লাখ ডলারের ঘাটতি রয়েছে।
নুরগালের জাতিসংঘ শিবিরে আহতদের চিকিৎসা করছেন চিকিৎসক শমশের খান। তিনি জানান, সরবরাহ ইতোমধ্যেই ফুরিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, ‘ওষুধও যথেষ্ট নয়, সেবাও যথেষ্ট নয়। এসব মানুষের আরও ওষুধ দরকার, তাঁবু দরকার। তাদের খাবার ও নিরাপদ পানি দরকার। তাদের আরও সাহায্য প্রয়োজন। তারা চরম কষ্টে আছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে খরা ও তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে আফগানিস্তান। এরই মধ্যে আঘাত হানল এই ভয়াবহ ভূমিকম্প।
এদিকে, চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের কাটছাঁটের পর যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডি অর্থায়ন প্রত্যাহার করায় বহু হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে।
এর সঙ্গে পাকিস্তান ও ইরান থেকে ২০ লাখেরও বেশি আফগান নাগরিককে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোয় সংকট আরও বেড়েছে। তাদের অনেকেরই বসবাস বা কাজের কোনো জায়গা নেই।
১৮২ দিন আগে
হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেডারেল অর্থ ফেরত দিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালতের নির্দেশ
হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তহবিল থেকে কাঁটছাট করা প্রায় ২৬০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ ফেরত দিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে চলমান এই রায় আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য এটি একটি বড় জয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বোস্টনের ডিস্ট্রিক্ট বিচারক অ্যালিসন ব্যুরোজ এই আদেশ দিয়েছেন।
ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় ব্যর্থতার কারণে হার্ভার্ডের গবেষণা তহবিল আটকে দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে দেওয়া ফেডারেল তহবিলের সঙ্গে এ ধরনের বৈষম্যের খুব সামান্যই সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন বিচারক আলিসন।
তার ভাষ্যে, নথিপত্র থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে ইহুদিবিদ্বেষের অজুহাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক ও মতাদর্শ-প্রণোদিত আক্রমণ চালানো হয়েছে।
বিচারক আরও বলেন, ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে অবশ্যই লড়াই করতে হবে, সেই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও রক্ষা করতে হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যখন ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ চলেছে, সে সময় ইহুদি শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে হাভার্ড কর্তৃপক্ষ। এর জেরেই বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে বেশিরভাগ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে নিজেদের ধারণার কথা জানিয়েছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
এর জেরে ফেডারেল তহবিল বন্ধ করা, করছাড় সুবিধা বাতিলসহ বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার সুযোগও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন সরকার। পরে বিচারক অ্যালিসন সেই সিদ্ধান্তও স্থগিত করে দেন।
বিচারকের নির্দেশে ফেডারেল অর্থ ফেরত পেলে হার্ভার্ডের ব্যাপক গবেষণা কার্যক্রম ও শত শত প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আসলেই এই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়টি পাবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লিজ হুস্টন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে আপিল করা হবে। বিচারক অ্যালিসনকে তিনি ‘ওবামার আমলে নিয়োগ পাওয়া’ বিচারক বলেও অভিহিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় যে তাদের শিক্ষার্থীদের হয়রানি থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বহু বছর ধরেই ক্যাম্পাসে বৈষম্য চলতে দিয়েছে, তা যেকোনো নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকের কাছেই পরিষ্কার। হার্ভার্ডের করদাতাদের অর্থ পাওয়ার কোনো সাংবিধানিক অধিকার নেই।
এদিকে, বিচারকের এই রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতার লড়াইকে বৈধতা দিলেও সামনের দিনগুলোতে নতুন লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন হার্ভার্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালান গারবার।
তবে আদালতের বাইরেও ট্রাম্প প্রশাসন ও হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ একটি সমঝোতায় আসতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি হলে আর তদন্তের প্রয়োজন পড়বে না।
যদিও এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি চান হাভার্ড অন্তত ৫০০ মিলিয়ন ডলার দিক।
মামলার হাভার্ড অভিযোগ করে, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল গত বসন্তে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরেুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য চান দেশটির জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস্টি নোম। কিন্তু তার অনুরোধ রাখতে ব্যর্থ হয় বিশ্বের অন্যতম সেরা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। এ কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক অভিযান চালিয়েছে।
অ্যালান গারবার ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কী পড়াবে, কাকে ভর্তি ও নিয়োগ দেবে, কিংবা কোন ক্ষেত্রে গবেষণা চালাবে— তা কোনো সরকারই নির্ধারণ করে দিতে পারে না।
বিচারক অ্যালিসনের ভাষ্যে, হাভার্ডের তহবিল কাঁটছাট করা হলো সেটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেওয়া মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। কারণ এখন ইহুদিদের নামে বাকস্বাধীনতা সীমিত করা হলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অন্য অন্য যেকোনো গোষ্ঠীর বাকস্বাধীনতাও সমানভাবে সীমিত করা যেতে পারে।
১৮৩ দিন আগে
ইউক্রেনে ৫ শতাধিক ড্রোন ও মিসাইল ছুড়েছে রাশিয়া
ইউক্রেনে পাঁচ শতাধিক ড্রোন ও অন্তত দুই ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। কিয়েভের বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষত জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে মস্কো এসব হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে জেলেনস্কি প্রশাসন। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা জোরদারের চলমান তৎপরতার মধ্যেই এ হামলা চালাল মস্কো।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতভর এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ। পশ্চিম ও মধ্য ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
এ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতারা।
গত কয়েক মাস ধরেই আকাশপথে হামলা ও সম্মুখসারির ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ভাঙার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে যুদ্ধ বন্ধের তৎপরতা চালালেও পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনায় জেলেনস্কি সম্মতি জানালেও ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এদিকে বেইজিং সম্মেলনে গিয়ে পুতিন বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে, টানেলের শেষে একটুখানি আলো আছে। দেখা যাক পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়।’
এ সংঘাত সমাধানে ‘কমন সেন্সের’ প্রাধান্য থাকতে হবে বলে মনে করেন তিনি। তা ছাড়া সমাধান খুঁজতে ট্রাম্পেরও আন্তরিক ইচ্ছা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পুতিন জানান, তিনি জেলেনস্কিকে মস্কোয় আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে রাজি আছেন, তবে বৈঠকটি ‘ভালোভাবে প্রস্তুত’ হতে হবে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে ৮২৫ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র
যদিও ক্রেমলিনের কর্মকর্তারা আগেই জানিয়েছেন, যেকোনো শীর্ষ সম্মেলন কেবল তখনই সম্ভব, যখন নিম্নপর্যায়ের বৈঠকে প্রাথমিক চুক্তি চূড়ান্ত হবে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার এ হামলাকে পুতিনের ‘দায়মুক্তি দেখানো’ বলে অভিহিত করেছেন জেলেনস্কি। যুদ্ধ অর্থনীতির ওপর বেশি চাপ না থাকার কারণেই পুতিন এ আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ফোনালাপ হওয়ার কথা রয়েছে।
বেইজিং বৈঠকে রাশিয়ার সমর্থকরা
সাংহাই কো-অপারেশন অরগানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলন ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজে অংশ নিতে বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন পুতিন। সম্মেলনে তার সঙ্গে ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ ছাড়া কুচকাওয়াজে যোগ দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।
এই তিন নেতাই ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন করছেন বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন। তাদের দাবি, উত্তর কোরিয়া মস্কোকে সেনা ও গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে আর চীন-ভারত রুশ তেল কিনে রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাঙ্গা রেখেছে।
বুধবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলনে ইইউয়ের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বলেন, ইউক্রেনে হামলায় রাশিয়া একা নয়, চীনও আছে সঙ্গে। তারা মস্কোকে অস্ত্র সরবরাহ করছে। ফলে ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ইউক্রেন ও মিত্রদের নতুন সামরিক সহায়তার আলোচনা
রাশিয়া হামলার মাত্রা বাড়ানোর পর থেকে নিজদেশের প্রতিরক্ষা জোরদারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
নতুন সামরিক সহায়তা ও কূটনৈতিক সমর্থন পেতে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ডেনমার্ক সফর করেছেন জেলেনস্কি। সেখানে গিয়ে তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র আনার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। প্রতি মাসে এ তহবিলে আরও প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার যোগ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: শান্তিচুক্তির বিনিময়ে কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেতে পারে ইউক্রেন
এরপর যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে বুধবার ফ্রান্সে যান জেলেনস্কি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁখো তাকে প্যারিসে সমর্থন জানিয়েছেন।
শান্তি চুক্তি সই হওয়ার দিন থেকেই তারা ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলেও জানান মাঁখো। তবে রাশিয়া চুক্তির ব্যাপারে আন্তরিকতা ও প্রতিশ্রুতি অটুট রাখবে কিনা এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করতে কিয়েভ সফর করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি।
জেলেনস্কি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, রাশিয়ার কাছ থেকে এখনো আমরা যুদ্ধ শেষ করার কোনো ইঙ্গিত পাইনি। তা সত্ত্বেও ইউরোপ-আমেরিকার সঙ্গে কিয়েভের ঐক্য কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াবে বলে মনে করেন তিনি।
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, প্যারিস বৈঠকের পর স্পষ্ট হবে কে কী ধরনের সহায়তা দিতে পারবে।
১৮৩ দিন আগে
প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে কিম-কন্যা, বেইজিংয়ে তার উপস্থিতি কী বার্তা দিচ্ছে?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দিতে ছয় বছর পর প্রথমবারের মতো চীন সফরে গেছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) যখন বেইজিংয়ে পৌঁছে নিজের সবুজ ট্রেন থেকে নামেন কিম, তখন তার পেছনে দেখা যায় হাস্যেজ্জ্বল এক তরুণীকে। ওই তরুণী কিমের কন্যা কিম জু আয়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত কয়েক বছর ধরেই উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন সামরিক অনুষ্ঠানে কিমের সঙ্গে দেখা গেছে তাকে। তবে নিজ দেশের বাইরে এটিই ছিল জুয়ের প্রথম সফর। তার বেইজিং সফর নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো, তাহলে জু-ই কি কিমের উত্তরসূরি হতে চলেছেন?
সিএনএন বলছে, উত্তর কোরিয়ার বাইরে তার এই প্রথম প্রকাশ্য সফর নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এই আয়োজনে তার বাবা কিম বিশ্বের অপর দুই ক্ষমতাধর নেতা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়াবেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের সম্পর্ক তাকেও সামলাতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) কুচকাওয়াজে যখন লাল গালিচায় হাঁটছিলেন কিম, তখন জু কে তার সঙ্গে দেখা যায়নি।
পড়ুন: চীনে এসসিও সম্মেলন ও সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিচ্ছেন কারা
১৮৪ দিন আগে
এক ফ্রেমে পুতিন-শি-কিম, ‘ষড়যন্ত্রের গন্ধ’ পাচ্ছেন ট্রাম্প
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কুচকাওয়াজের আয়োজন করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে এই আয়োজনে সবচেয়ে বেশি যে দৃশ্যটি বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে তা হলো, লাল গালিচায় একসঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে শি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের আলাপ ও করমর্দন।
বিরল এই দৃশ্যটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরেই শুল্ক যুদ্ধকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে মিত্র ও প্রতিপক্ষদের প্রতি তার পরিবর্তিত নীতির কারণে অনেক দেশই প্রভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দেশের নেতা আজ একসঙ্গে দাঁড়িয়েছেন।
কুচকাওয়াজে সামরিক শক্তি ও সৈন্যদের ব্যাপক প্রদর্শনী করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট। আর এ সময় তার পাশে ছিলেন দুই শক্তিধর নেতা পুতিন ও কিম। বিষয়টিকে পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি এক ধরনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
দ্য গার্ডিয়ান বলছে, বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ তিন নেতার এই মেলবন্ধনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন ট্রাম্প।
এ বিষয়ে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট শি এবং চীনের চমৎকার জনগণকে মহান ও দীর্ঘস্থায়ী উদযাপনের শুভেচ্ছা। আপনারা যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, তখন দয়া করে পুতিন ও কিমকে আমার উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাবেন।’
শি বলেছেন, ‘মানবজাতি এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে যখন শান্তি বা যুদ্ধ, সংলাপ অথবা মুখোমুখি সংঘর্ষ, পারস্পরিক কল্যাণ কিংবা সবার অকল্যাণ— এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।’ তবে চীনের জনগণ ইতিহাসের সঠিক পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, কিছু দেশ ‘বুলিং আচরণ’ করছে। তবে চীনকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না বলেও সতর্ক করে দেন তিনি।
অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের গ্লোবাল চায়না হাবের নন-রেসিডেন্ট ফেলো ওয়েন-তি সাং বলেন, ‘চীনের এই আয়োজন আরও একটি বার্তা দিচ্ছে। সেটি হলো, পশ্চিমারা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা চালিয়ে গেলেও বন্ধুর পাশে দাঁড়াতে ভয় পায় না চীন।’
কুচকাওয়াজে আরও উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও মিয়ানমারের সামরিক জান্তার প্রধান মিন অং হ্লাইং। কিমের সঙ্গে ছিলেন তার মেয়ে কিম জু। তবে কোনো বড় পশ্চিমা নেতা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক শৃঙ্খলা পুনর্গঠনে আগ্রহী— এমন কিছু দেশের কাছে এই কুচকাওয়াজ ছিল শিয়ের প্রভাব প্রদর্শনের একটি কৌশল।
এর আগে, তিয়ানজিন শহরে সাংহাই কো-অপারেশন অরগানাইজেশনের (এসসিও) দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন বিভিন্ন দেশের ২০ জনের বেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা। সেখানেও পুতিন উপস্থিত ছিলেন। তবে এসসিও সম্মেলনে যোগ দেননি কিম। তবে ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন সম্প্রতি শুল্কারোপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এই মুহুর্তে বিশ্লেষকদের নজর এখন শি, পুতিন ও কিমের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয় কি না, সেদিকে আটকে রয়েছে।
আরও পড়ুন: চীনে এসসিও সম্মেলন ও সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিচ্ছেন কারা
টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অন এশিয়ার গবেষক লিম চুয়ান-তিয়ং বলেন, যদি এই তিনজনের ত্রিপক্ষীয় কোনো বৈঠক হয়, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ হবে। এমনকি সেটি বিশ্বকে আরেকটি স্নায়ুযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
লিমের ভাষ্যে, যদি এমন কোনো বৈঠক না হয়, তাহলে বুঝতে হবে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে খুব বেশি উসকানি দিতে চায় না। তাছাড়া ত্রিপক্ষীয় কৌশলগত অস্পষ্টতাও বজায় রাখতে চান শি।
কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত সামরিক সরঞ্জামও পর্যবেক্ষণ করেছেন বিশ্লেষকরা। সেখানে ছিল— ট্যাংক, ড্রোন, দূরপাল্লার ও পারমাণবিক হামলায় সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও স্টেলথ বিমান। আবার কয়েকটি নতুন উন্নত অস্ত্রও উন্মোচন করা হয়।
এস রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো ড্রু থম্পসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ চীনের যেসব প্রতিবেশি দেশ তাদের মৌলিক জাতীয় স্বার্থ চ্যালেঞ্জ করার কথা চিন্তা করে, এই প্রদর্শনী তাদের প্রতি এক ধরনের সতর্কবার্তা।
তিনি বলেন, মৌলিক জাতীয় স্বার্থের মধ্যে সরাসরি নাম উচ্চারণ না করা হলেও যা সবকিছুতে উপস্থিত থেকেছে, তা হলো তাইওয়ান। শি নিজের বক্তব্যে বারবার ‘চীনা জাতির পুনর্জাগরণের’ কথা বলেছেন। এটি তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ এবং এর মূল ভিত্তি তাইওয়ানকে চীনের ভূখণ্ড হিসেবে সংযুক্ত করা।
তাইওয়ানকে বরাবরই চীনের একটি প্রদেশ হিসেবে দাবি করে আসছেন শি ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। তবে চীনের এই দাবি মানতে নারাজ তাইওয়ানের সরকার ও সেখানকার জনগণ।
১৮৪ দিন আগে
আফগানিস্তানে ভূমিকম্প: নিহতের সংখ্যা ১৪০০ ছাড়াল
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহতের সংখ্যাও তিন হাজারের অধিক বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ।
সরকারের মুখপাত্র মুজাহিদের দেওয়া হতাহতের সংখ্যাটি কেবল কুনার প্রদেশের।
জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রবিবার (৩১ আগস্ট) রাতে আফগানিস্তানে ৬ দশমিক শূন্য মাত্রার ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত দুর্গম ও দূরবর্তী পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারীদের ব্যাপক কাঠখড় পোহাতে হচ্ছে।
জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা হতাহতদের সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধির সতর্কবার্তাও দিয়েছেন।
রবিবারের ভূমিকম্পটি পাকিস্তানের সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি প্রদেশে আঘাত হানে। এর মধ্যেসবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুর্গম কুনার প্রদেশ। ভূমিকম্পের পাশাপাশি ভূমিধস ও তীব্র বন্যাও আঘাত হেনেছে।
এই অঞ্চলে মাটি ও কাঠের তৈরি বাড়িগুলো ভূমিকম্পের ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে ধ্বংস হয়ে অনেক গ্রাম মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে অসংখ্য মানুষ।
দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থার কারণে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই তালেবান কর্তৃপক্ষ আহতদের হেলিকপ্টার বা অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থায় যাতায়াত সম্ভব না—এমন স্থান থেকে সরাতে কয়েক ডজন কমান্ডো মোতায়েন করেছে।
পড়ুন: সুদানে ভূমিধসে প্রাণহানি হাজার ছাড়াল
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ইন্দ্রিকা রাটওয়াটে বলেন, আমরা আফগানিস্তানের মানুষদের ভুলতে পারি না। তারা একাধিক সংকট ও একাধিক ধাক্কার মুখোমুখি হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, একের পর এক নিষেধাজ্ঞা, বিদেশি সহায়তা ফিরিয়ে নেওয়া, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আফগানদের ফেরত পাঠানোসহ নানা সমস্যায় ইতোমধ্যেই জর্জরিত ছিল তালেবান প্রশাসন। এরই মধ্যে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশটির প্রশাসনকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে তালিবান সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।
সোমবার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তবে তালেবানের প্রশাসনের মাধ্যমে নয়, বরং বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
আফগানিস্তানের প্রয়োজন ও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা দিতে চীনও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র।
এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, কাবুলে ইতোমধ্যে এক হাজার পরিবারের জন্য তাঁবু সরবরাহ করা হয়েছে এবং কুনার প্রদেশে ১৫ টন খাদ্যসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার থেকে ভারত আরও ত্রাণ পাঠাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরো সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সহায়তা দেবে কিনা—এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য জানাননি।
১৮৫ দিন আগে
সুদানে ভূমিধসে প্রাণহানি হাজার ছাড়াল
আফ্রিকার দেশ সুদানের দক্ষিণাঞ্চলের দারফুর প্রদেশে ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণকারী একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী মন্তব্য করেছে, এটি দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনাগুলোর অন্যতম।
এক বিবৃতিতে সুদান লিবারেশন মুভমেন্ট-আর্মি জানায়, কয়েকদিন ধরে তীব্র বৃষ্টিপাতের পর রবিবার (৩১ আগস্ট) মধ্য দারফুরের মারাহ পর্বতমালায় অবস্থিত তারাসিন গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বিবৃতি বলা হয়, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী কেবল একজন ছাড়া ওই গ্রামের সব বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। তাই এক হাজারেরও বেশি প্রাণহানি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, পুরো গ্রামটি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি লাশ উদ্ধারে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ বিতরণ সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
মারাহ পর্বতমালা হলো একটি দুর্গম আগ্নেয়গিরির শৃঙ্খল, যা রাজধানী খার্তুম থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার (৫৬০ মাইল) পশ্চিমে এবং এল-ফাশের থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে ১৬০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত।
এদিকে দেশটির ক্ষমতাসীন সার্বভৌম পরিষদ মারাহ পর্বতমালার ভূমিধসে ‘শত শত নিরীহ বাসিন্দার মৃত্যুতে’ শোক প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ওই এলাকায় সহায়তার জন্য ‘সম্ভাব্য সব ধরনের সক্ষমতা’ কাজে লাগানো হচ্ছে।
একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, মারাহ পর্বতমালার মাঝখানে সমতল হয়ে যাওয়া এলাকায় একদল উদ্ধারকারীকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
সুদানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটল। দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সংঘর্ষ ও কঠোর বিধিনিষেধের কারণে দারফুরের সংঘাতপীড়িত অঞ্চলগুলোর বেশিরভাগই বর্তমানে জাতিসংঘ ও মানবিক সহায়তাদানকারী সংগঠনগুলোর জন্য কার্যত অগম্য হয়ে পড়েছে।
মানবিক সংগঠন ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) সতর্ক করেছে, মারাহ পর্বতমালাসহ দরফুরের বহু এলাকা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতার কারণে বাইরের বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিছিন্ন হয়ে গেছে।
পড়ুন: আফগানিস্তানে ভূমিকম্প: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০০, আহত ৩ হাজারের বেশি
সুদান লিবারেশন মুভমেন্ট-আর্মি, যা মারাহ পর্বতমালা এলাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে সক্রিয়। গোষ্ঠীটি দারফুর ও কোরদোফান অঞ্চলে সক্রিয় একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম হলেও চলমান যুদ্ধে কোনো পক্ষ নেয়নি।
এল-ফাশের বর্তমানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যকার ভয়াবহ সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আর আশপাশের এলাকা থেকে পালিয়ে আসা বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য মারাহ পর্বতমালা একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রূপ নিয়েছিল।
সুদানে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আর ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। দুর্ভিক্ষের কারণে অনেক পরিবার বেঁচে থাকার জন্য ঘাস খেতে বাধ্য হচ্ছে।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই যুদ্ধে জাতিগত হত্যাযজ্ঞ ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ নৃশংসতা ঘটছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) জানিয়েছে, তারা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করছে।মারাহ পর্বতমালা ৩ হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত একটি ইউনেস্কো স্বীকৃত বৈশ্বিক ঐতিহ্যবাহী স্থান। এটি আশেপাশের এলাকার তুলনায় শীতল ও বেশি বৃষ্টিপাতের জন্য পরিচিত।
দেশটিতে প্রতি বছর জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মৌসুমি বর্ষায় শত শত মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক ভূমিধসটি ছিল সুদানের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে একটি।
১৮৫ দিন আগে
আফগানিস্তানে ভূমিকম্প: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০০, আহত ৩ হাজারের বেশি
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০০-তে দাঁড়িয়েছে। এই দুর্যোগে আহতের সংখ্যাও তিন হাজার ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধারকাজ এখনো চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে দেশটির প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র ইউসুফ হাম্মাদ।
তিনি বলেন, আহতদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাই এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।
ইউসুফ হাম্মাদ আরও জানান, ভূমিকম্পে কিছু এলাকায় ভূমিধস হয়ে সড়ক বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলো আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় পৌঁছানের জন্য বাকি সড়কগুলোও খুলে দেওয়া হবে।
রোববার (৩১ আগস্ট) রাতে আফগানিস্তানে ৬ দশমিক শূন্য মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ভূমিকম্পটি পাকিস্তানের সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি প্রদেশে আঘাত হানে, এর মধ্যে দুর্গম কুনার প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের পাশাপাশি ভূমিধস ও বন্যার ঘটনাও ঘটেছে।
ইউসুফ হাম্মাদ জানান, কুনার প্রদেশেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।
ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও ভেঙে যাওয়া সড়কের কারণে তাদের দলগুলো অনেক জায়গায় হেঁটে পৌঁছাতে বাধ্য হচ্ছে।
এদিকে, একের পর এক নিষেধাজ্ঞা, বিদেশি সহায়তা ফিরিয়ে নেওয়া, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আফগানদের ফেরত পাঠানোসহ নানা সমস্যার ইতোমধ্যেই জর্জরিত ছিল তালেবান প্রশাসন। এরই মধ্যে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশটির প্রশাসনকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন কাবুলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফাত জামান। তিনি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ভূমিকম্পটি যে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়েছে, তা মোকাবিলায় বাইরের সহায়তা জরুরি।
সোমবার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তবে তালেবানের প্রশাসনের মাধ্যমে নয়, বরং বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এক বিবৃতিতে বলেন, আফগানিস্তানের জনগণের পাশে রয়েছে যুক্তরাজ্য। এই জরুরি সহায়তা আমাদের অংশীদারদের মাধ্যমে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি চিকিৎসা ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।
আফগানিস্তানের প্রয়োজন ও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা দিতে চীনও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র।
আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে ভূমিকম্প: নিহত ৮০০ ছাড়িয়েছে, আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান তালেবানের
এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, কাবুলে ইতোমধ্যে এক হাজার পরিবারের জন্য তাঁবু সরবরাহ করা হয়েছে এবং কুনার প্রদেশে ১৫ টন খাদ্যসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার থেকে ভারত আরও ত্রাণ পাঠাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরো সোমবার সামাজিক এক্সে ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সহায়তা দেবে কিনা— এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য জানানো হয়নি।
১৮৫ দিন আগে
‘পুরনো বন্ধু’ পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ‘প্রিয় বন্ধু’ শি
নিজ দেশে আয়োজিত বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘পুরনো বন্ধু’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আবার বৈঠকের শুরুতে শি-কে ‘প্রিয় বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করে পুতিন বলেছেন, বেইজিং-মস্কো সম্পর্কে নজিরবিহীন উন্নতি ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) এই দুই নেতার মধ্যে বৈঠক শুরু হয়। এমন একটি সময়ে তাদের এই বৈঠক হচ্ছে, যখন এই দুই দেশেরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন আর নানা চ্যালেঞ্জ চলছে।
আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর শীর্ষ কর্মকর্তাদের কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে চায়ের আড্ডায় বসার পরিকল্পনাও করেছেন তারা।
এর আগে, চীনের তিয়ানজিন শহরে সাংহাই কো-অপারেশন অরগানাইজেশনের (এসসিও) দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন শি ও পুতিন। আগামীকাল (বুধবার) বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের ৮০ বছর উপলক্ষে এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজেও একসঙ্গে অংশ নেবেন তারা।
আরও পড়ুন: চীনে এসসিও সম্মেলন ও সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিচ্ছেন কারা
মঙ্গলবারের দ্বিপাক্ষীয় বৈঠকের আগে মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট খুরেলসুখ উখনার সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন পুতিন ও শি। তৃণভূমি ও খনিজ সমৃদ্ধ স্থলবেষ্টিত এ দেশটি চীন ও রাশিয়ার মাঝে অবস্থিত। এই তিন প্রতিবেশি দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে তাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পুতিন। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা উপেক্ষা করে পুতিনকে স্বাগত জানিয়েছিল মঙ্গোলিয়া সরকার।
রাশিয়া-চীন সম্পর্কের উন্নতি
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও চীনের সম্পর্কে ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। বিশেষত ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর পশ্চিমা বিশ্বে মস্কো যখন কোণঠাসা হয়ে পড়ে, সে সময় থেকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে।
ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এশিয়া যুদ্ধের সময় ব্যাপক একটা সময়জুড়ে নিরপেক্ষ অবস্থানে ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। তবে ১৯৩০-এর দশকে জাপানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চীনকে সহায়তা দিয়েছিল সোভিয়েত। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বেযুদ্ধের সময় জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে জাপান অধিকৃত চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সেনা পাঠিয়েছিল সোভিয়েত।
এদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধে কাগজে-কলমে নিরপেক্ষ অবস্থান নিলেও মস্কোর আগ্রাসনকে নিন্দা জানায়নি বেইজিং। বরং পশ্চিমা বিশ্ব যখন রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে গেছে, সে সময় মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রেখে তাদের অর্থনীতি সচল রাখতে সহায়তা করেছে চীন। এমনকি রাশিয়াকে অস্ত্রের যন্ত্রাংশ বিক্রির অভিযোগও রয়েছে চীনের বিরুদ্ধে।
এসসিও সম্মেলনে শি-পুতিনের সঙ্গে একত্রিত হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। দুই নেতার সঙ্গেই সম্মেলনের ফাঁকে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক শাস্তি মোদিকে চীন ও রাশিয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক। যদিও চীনের সামরিক কুচকাওয়াজে থাকছেন না মোদি, তবে এসসিও সম্মেলনে এই তিন নেতার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
১৮৫ দিন আগে