বিশ্ব
আমরা ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছি: ক্ষুধার্ত গাজাবাসীর আর্তনাদ
একটা সময় পর্যন্ত বিশ্ব মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর মানুষের চরম বিশ্বাস ছিল। কিন্তু ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে গাজার আজকের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে সেসব যেন ধুলোয় ঢাকা কোনো গল্প।
এখন সেখানে প্রতিদিনকার দৃশ্য— শুকিয়ে যাওয়া শিশুদের কঙ্কালসার দেহ, খাবারের আশায় হাত বাড়িয়ে থাকা মানুষের সারি এবং বাবা-মায়ের অসহায় কান্না—যাদের চোখের সামনেই অনাহারে ধুঁকে ধুঁকে মরছে সন্তানরা।
‘আমার ৫ বছরের মেয়ের ওজন এখনও মাত্র ১১ কেজি,’ বলছিলেন গাজার ৩৮ বছর বয়সী জামিল মুঘারি। তিনি বলেন, আমার ছেলের শরীরে চামড়া আর হাড় ছাড়া কিছু নেই। যুদ্ধ শুরুর পর আমি নিজেও ৩০ কেজি ওজন হারিয়েছি।
এটিই এখন গাজার প্রত্যাহিক চিত্র— শুধু যুদ্ধ নয়, এখন ক্ষুধাই হয়ে উঠেছে এখানকার নতুন মারণাস্ত্র।
দুর্ভিক্ষ: এখন আর আশঙ্কা নয়, বাস্তবতা
গত সপ্তাহে জাতিসংঘ-সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেইজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) জানিয়েছে, গাজা এখন চরম মাত্রার দুর্ভিক্ষে পতিত হয়েছে।
আইপিসি জানায়, গাজায় ২২ লাখ মানুষকে যেন একটি বন্দি চেম্বারে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে বাইরে থেকে ত্রাণ সহায়তা প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, আর ভেতরে কোনো খাদ্য নেই, কর্মসংস্থান নেই, আশ্রয় নেই— আছে শুধু ধ্বংসস্তূপ আর কান্না।
পড়ুন: গাজায় আগ্রাসনের প্রতিবাদে ইসরায়েলের সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য বন্ধ করল স্লোভেনিয়া
মুঘারি বললেন, ‘আমি ও আমার পরিবার এমনও দিন কাটাই যেদিন খাবারের জন্য একেবারেই কিছু খুঁজে পাই না। সেসব দিন শুধু পানি খেয়ে পেট ভরাতে হয়। খাবার না পেয়ে এমন হয়েছে, মাঝেমধ্যে হাঁটতে গিয়েও দুর্বলতার কারণে পড়ে যেতে যেতে নিজেকে সামলাই। কারণ, সন্তানরা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে।’
২১৬ দিন আগে
গাজায় আগ্রাসনের প্রতিবাদে ইসরায়েলের সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য বন্ধ করল স্লোভেনিয়া
গাজায় সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের অস্ত্র আমদানি, রপ্তানি ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশ স্লোভেনিয়া।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাতে দেওয়া এক সরকারি ঘোষণায় স্লোভেনিয়া সরকার জানায়, এটি ইউভুক্ত কোনো সদস্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রথম নিষেধাজ্ঞা।
স্লোভেনিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা এসটিএ’র খবরে বলা হয়, এর আগে স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলোব বেশ কয়েকবার বলেছিলেন, ইইউ যদি সম্মিলিতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার দেশ এককভাবে পদক্ষেপ নেবে।
দেশটির সরকারি বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ‘ইইউ অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে এই মুহূর্তে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অক্ষম। এমন ব্যর্থতার কারণে লজ্জাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পদ্ধতিগতভাবে মানবিক সহয়াতায় ইসরায়েলি বাধার কারণে (গাজায়) অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে। তারা পানীয় জল, খাদ্য ও প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়ে মারা পড়ছে।’
যদিও স্লোভেনিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের অস্ত্র বাণিজ্য প্রায় নেই বললেই চলে, তবু এ নিষেধাজ্ঞাটি কূটনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: অনাহারে ১২৭ প্রাণহানির পর গাজায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি ইসরায়েলের
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অস্ত্র বাণিজ্য বিশ্লেষক জাইন হুসেইন বলেন, ‘স্লোভেনিয়ার এই নিষেধাজ্ঞা প্রতীকী হলেও তাৎপর্যপূর্ণ।’
এর আগে স্লোভেনিয়া সরকার জুলাই মাসে চরম সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে দুইজন কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রীর দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
সম্প্রতি, ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তা বন্ধের তদবির করা আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ড্যারিল কিমবাল বলেন, ‘স্লোভেনিয়ার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবতার মৌলিক মূল্যবোধকে সম্মান দেখানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
২০২৪ সালের জুনে স্লোভেনিয়ার পার্লামেন্ট ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। এর আগে ইউরোপের আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে ও স্পেনও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
ইতোপূর্বে স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য আংশিক অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ করলেও স্লোভেনিয়ার মতো পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। স্লোভেনিয়ার এই পদক্ষেপ ইউরোপে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রতিক্রিয়ারই একটি বহির্প্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২১৬ দিন আগে
পাকিস্তানে ডাকাত দলের হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য নিহত
পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাঞ্জাব প্রদেশে পুলিশের একটি তল্লাশিচৌকিতে সশস্ত্র ডাকাতদের হামলায় অন্তত পাঁচ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাতে পাঞ্জাবের রহিম ইয়ার খান জেলায় ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত বেশ কয়েকজনের একটি ডাকাত দল পুলিশের এলিট ফোর্সের একটি তল্লাশিচৌকিতে হামলা চালায়।জেলা পুলিশ কর্মকর্তা ও পুলিশের মুখপাত্র ইরফান আলী সামো বলেন, ‘ডাকাতরা রাতের আঁধারে আধুনিক অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে আমাদের সাহসী সদস্যদের হত্যা করেছে।’
ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ও সাঁজোয়া যান পাঠানো হয় এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে অভিযান শুরু করা হয়।
সামো বলেন, ‘ডাকাতদের গোপন আস্তানাগুলোর দিকে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এখনও ব্যাপক অভিযান চলছে।’
আসামিদের ধরতে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী ভারী অস্ত্র ও সাঁজোয়া যানের সহায়তা নিয়ে অভিযানে অংশ নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
২১৭ দিন আগে
অস্তিত্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: জো বাইডেন
যুক্তরাষ্ট্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী চরম আক্রমণের শিকার হচ্ছে এবং দেশ অস্তিত্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) শিকাগোতে অনুষ্ঠিত দেশটির ন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের ১০০তম বার্ষিক পুরস্কার গালায় দেওয়া বক্তব্যে বাইডেন এই মন্তব্য করেন।
আফ্রো-আমেরিকান বিচারক, আইনজীবী ও আইন পেশাজীবীদের সবচেয়ে বড় সংগঠনটির অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করেন এবং বর্তমান প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন।
বাইডেন বলেন, ‘১৯৬০’র দশকের উত্তাল দিনগুলোর পরও আমেরিকার জনগণকে এমন গভীর অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে যেতে হয়নি।’
তিনি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে রাজনীতিবিদরা আইনি অভিবাসীদের হাতকড়া পরিয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে তাড়িয়ে দিতে দেখে খুশি হন।
বাইডেন অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান প্রশাসন ‘ইতিহাস মুছে দিয়ে সমতা ও ন্যায়বিচার বিলুপ্ত করতে চায়।’বক্তৃতায় তিনি বলেন, আইনবিরোধী পদক্ষেপে যেসব আইন সংস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতা করেছে, সেগুলোকে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এই চাপের কারণে বাধ্য হয়ে কিছু আইনি প্রতিষ্ঠান নতজানু হয়েছে, অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেছে।’
বাইডেন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিচারকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে এবং অনেকে নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের কথা ভাবছেন।
পড়ুন: আরও ৬৯ দেশের ওপর নতুন হারে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপ
স্বাস্থ্য ও স্মৃতিশক্তি নিয়ে সমালোচনার মধ্যে বক্তব্য
প্রসঙ্গত, সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। তিনি জানিয়েছেন, তিনি তার প্রেসিডেন্সি নিয়ে একটি স্মৃতিকথা লিখছেন এবং প্রোস্টেট ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন।
তবে বৃহস্পতিবারের বক্তব্যে তিনি তার পুনঃনির্বাচনের দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত বা প্রেসিডেন্ট থাকার সময় সহকারীদের ভূমিকা নিয়ে চলমান কংগ্রেস তদন্ত নিয়ে কিছু বলেননি।
যদিও তিনি পূর্বে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, প্রতিটি ক্ষমা মুক্তির সিদ্ধান্ত তিনি মৌখিকভাবে অনুমোদন করেছিলেন এবং এসব বিষয়ে রিপাবলিকানদের ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দেন।
এই বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তার সাবেক উপদেষ্টা মাইক ডনিলন এবং স্টিভ রিচেত্তি মার্কিন কংগ্রেসের ওভারসাইট কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেন।
সবশেষে বাইডেন বলেন, ‘আমাদের কঠিন সত্যের মুখোমুখি হতে হবে। এখনই সময় সঠিক ইতিহাসের পাশে দাঁড়ানোর।’
সূত্র: ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান
২১৭ দিন আগে
নির্বাচনের আগে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তর
আগামী ডিসেম্বরে পরিকল্পিত জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বেসামরিক অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেরর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেই।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনীকে যে ফরমানের (ডিক্রির) মাধ্যমে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। সেইসঙ্গে একটি তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসন গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচন তত্ত্বাবধানের জন্য একটি বিশেষ কমিশনও গঠন করা হয়েছে।
অবশ্য এ পদক্ষেপে মিয়ানমারের বাস্তব পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সিএনএন। কারণ হিসেবে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং এখনো কার্যত রাষ্ট্রপতি ও সামরিক প্রধান হিসেবে সব ক্ষমতার দখলেই রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ভূমিকম্প নতুন বিপর্যয় নিয়ে এসেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ মিয়ানমারে
সরকারের মুখপাত্র জাও মিন তুন জানান, অভ্যুত্থানের পর দেশে যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল, গতকাল তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারির পর তা সাত দফা নবায়ন করার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার তা বাতিল করা হয়।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমকে এই মুখপাত্র বলেন, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধান বলেছেন, আগামী ছয় মাস নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির সময়।
২০২১ সালে নির্বাচিত নেতা অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাতের পর থেকেই চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ওই সময় থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে চলছে গৃহযুদ্ধ। এই বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে সেনাবাহিনী ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যুত্থানের পর থেকে সেনাবাহিনী ৬ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষকে যথেচ্ছভাবে আটক করেছে। এ ছাড়া, দেশজুড়ে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৩৫ লাখ ছাড়িয়েছে, যদিও জান্তা সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এই নির্বাচনকে পশ্চিমা দেশগুলো একপ্রকার প্রহসন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জেনারেলরা কেবল নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করছেন।
নির্বাচনে সেনাবাহিনীর মদদপুষ্ট দলগুলোই প্রভাব বিস্তার করবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, বিরোধী দলগুলোকে হয় নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নয়তো তারা নিজেরাই অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
মিয়ানমার-বিষয়ক স্বাধীন বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসন বলেন, ক্ষমতায় যে রদবদল করা হয়েছে, তা লোক দেখানো। যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা আগের মতোই অত্যাচারী ও দমনমূলক আচরণ চালিয়ে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘তারা কেবল পুরনো মোড়কে নতুন নাম দিচ্ছেন। এটি এমন এক নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ, যেটি সম্পর্কে আমরা খুব একটা জানি না।’
এদিকে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআর টিভিতে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মিন অং হ্লাইং।
অন্যদিকে, মিয়ানমারের জান্তা সরকাররে সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে চীন।
২১৭ দিন আগে
আরও ৬৯ দেশের ওপর নতুন হারে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপ
আবারও প্রায় ৬৯টি বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ১০ থেকে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্কারোপের ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী সপ্তাহে এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) এই শুল্ক ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
এর আগে, গত এপ্রিলে বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্কারোপ করেছিলেন ট্রাম্প। পরে তা তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। সে সময় শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন দেশকে আলোচনার সুযোগও দেয় ওয়াশিংটন।
বৃহস্পতিবার ‘সংশোধিত পাল্টা শুল্ক হার’ (Further Modifying the Reciprocal Tariff Rates) শিরোনামে প্রায় ৬৯টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের নাম ও তাদের জন্য নির্ধারিত সংশোধিত শুল্কহারের তালিকা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
দেশটির সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের ওপর সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ হারে ভিত্তিমূল শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। বাকি দেশগুলোর ওপর ১৫ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি হারে শুল্কারোপ করা হয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক ঘাটতি মেটাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, নির্বাহী আদেশ ১৪২৫৭-এ ঘোষিত জাতীয় জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত অ্যাড ভ্যালোরেম (মূল্যভিত্তিক) শুল্ক আরোপ করা প্রয়োজন ও যৌক্তিক।’
আরও পড়ুন: মার্কিন পণ্যে পাল্টা ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ব্রাজিলের
এদিকে, কানাডার সঙ্গে ২৫ শতাংশ শুল্ক সমঝোতা হওয়ার পরও নতুন করে তা বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। কানাডা থেকে ফেন্টানিলসহ অন্যান্য মাদক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতে কানাডার ব্যর্থতার কারণ হিসেবে নতুন করে এই শুল্কহার ঘোষণা করা হয়েছে বলে নির্বাহী আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
কানাডার ওপর আরোপিত এই শুল্ক আজ (১ আগস্ট) থেকেই কার্যকর হবে এবং বাকি দেশগুলোর ওপর ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রত্যাশা বনাম ফলাফল
গত এপ্রিলে শুল্ক ধার্যের পর অনেক দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে শুল্কের পরিমাণ নিয়েও দ্বিমত রয়েছে অনেকের।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক হিনরিচ ফাউন্ডেশনের বাণিজ্য নীতিবিষয়ক প্রধান ডেবোরা এলমস আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা এসেছে সর্বশেষ সময়সীমার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে।’
তবে নতুন এই শুল্কহার ‘অস্বাভাবিক হিসাবের’ ওপর ভিত্তি করে করার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
তার ভাষ্যে, আগের শুল্ক নির্ধারণের পদ্ধতিটা হয়তো বাজে ছিল, কিন্তু অন্তত একটা যুক্তি ছিল। নতুন শুল্কহার বাস্তবতার সঙ্গে একদম খাপ খায় না। কিছু দেশ কঠিন দরকষাকষি করেও ভালো ফল পেয়েছে, কেউ কেউ পায়নি। আবার কেউ আলোচনার সুযোগ না পেয়েও কম শুল্ক পেয়েছে, আবার কিছু দেশের ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: কানাডায় ৩৫ শতাংশ শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের, অনিশ্চয়তায় ইউএসএমসিএ চুক্তি
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের ট্রেড পলিসি ফেলো ইনু মানাক বলেন, নতুন হারে শুল্ক কার্যকর হতে সাত দিন সময় লাগবে। এই সময়ে যেসব দেশ আগেই আলোচনা শুরু করেছিল, তারা চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য বাড়তি সময় পেয়েছে।
কীভাবে নির্ধারিত হলো এই শুল্কহার
নতুন করে ঘোষিত এই শুল্কে যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে, এমন বেশিরভাগ দেশের ওপরই সর্বজনীন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
তবে যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের ওপরই আরোপিত এই শুল্কহারে মূলত পরিবর্তন এসেছে। ওই দেশগুলোর ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভিত্তিমূল শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। যদিও ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো চুক্তি হওয়া সাপেক্ষে এবং ওই দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় শুল্কহারে দেশভেদে তারতম্য দেখা গেছে।
এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে শুল্ক চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিল হোয়াইট হাউস। তাছাড়া সেমিকন্ডাক্টর, মোটরযান, গাড়ির যন্ত্রাংশ, স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও রপ্তানি পণ্যের জন্য পৃথক শুল্ক নির্ধারণ করা হচ্ছে।
যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের বেশিরভাগের জন্যই শুল্কহার কিছুটা কমানো হয়েছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে বিস্ময়কর সিদ্ধান্তও দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: শুল্ক আলোচনা: বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও অগ্রগতির দেখা নেই
তাইওয়ানের প্রাথমিক শুল্কহার ৩২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে, যেখানে প্রতিবেশী জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার চুক্তির তুলনায় এই হার এখনো বেশি।
আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ভারতের জন্য ২৫ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের জন্য শুল্ক ২৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে।
তবে সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, সুইজারল্যান্ডের শুল্কহার ৩১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৯ শতাংশ করা হয়েছে। আবার যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার জন্য ৪১ শতাংশ এবং মিয়ানমারের জন্য ৪০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য শুল্কহারগুলোর মধ্যে রয়েছে— লাওসের জন্য ৪০ শতাংশ, ইরাক ও সার্বিয়ার জন্য ৩৫ শতাংশ এবং আলজেরিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, লিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ৩০ শতাংশ।
এ ছাড়া শ্রীলঙ্কার ওপর ২০ শতাংশ, বাংলাদেশের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের ওপর ২০ শতাংশ, কম্বোডিয়ার ওপর ১৯ শতাংশ ও পাকিস্তানের ওপর ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দেশভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করে মনে করেন সিঙ্গাপুরভিত্তিক এপ্যাক অ্যাডভাইজর্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী স্টিভ ওকুন।
তার মতে, প্রতিটি দেশের জন্য নির্ধারিত শুল্কহারের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামগ্রিক বা নির্দিষ্ট তত্ত্ব নেই। বাণিজ্য-সংক্রান্ত হোক বা অন্য যেকোনো কারণে, দেশগুলোর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্টের মনোভাবের ওপর ভিত্তি করেই আলাদা শুল্ক নির্ধারিত হয়।
২১৭ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে ৮২৯ কিমি দীর্ঘ বজ্রপাত, বিশ্বে রেকর্ড
২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে ঘটে যাওয়া একটি বজ্রপাত বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) ৫১৫ মাইল বা ৮২৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই বজ্রপাতকে ইতিহাসের দীর্ঘতম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর বজ্রপাতের ঘটনাটি ঘটে। এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব টেক্সাস অঙ্গরাজ্য থেকে মিসৌরির কানসাস সিটি পর্যন্ত বিস্তৃত। যা ইউরোপের প্যারিস থেকে ভেনিস পর্যন্ত দূরত্বের সমান।
এই বজ্রপাতটি পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত রেকর্ডকৃত সর্বাধিক দৈর্ঘ্যের বজ্রপাত। এর আগের রেকর্ডটিও গ্রেট প্লেইন্স নামের একই অঞ্চলে ঘটেছিল। ২০২০ সালের ২৯ এপ্রিলের ওই বজ্রপাতটি ছিল ৭৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ।
২০১৬ সাল থেকে স্যাটেলাইটভিত্তিক উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এমন বিস্তৃত বজ্রপাত পর্যবেক্ষণ সম্ভব হচ্ছে। ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সর্বশেষ ভূ-স্থির কক্ষপথে থাকা আবহাওয়া স্যাটেলাইটের সহায়তায় ২০১৭ সালের বজ্রপাতটি শনাক্ত করা হয়।
স্যাটেলাইট চিত্র দিয়ে বজ্রপাতের বিভিন্ন অংশে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক শাখাগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে স্থলভিত্তিক সেন্সরের মাধ্যমে বজ্রপাতের সময় ও দূরত্ব পরিমাপ করা হতো, তবে এতে সীমাবদ্ধতা থাকত বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পড়ুন: বাল্যবিবাহ ঠেকাতে প্রধান শিক্ষকের কাছে স্কুলছাত্রীর দরখাস্ত
এ ছাড়া সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বজ্রপাতের রেকর্ডও প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করা হয়েছিল। ২০২০ সালের ১৮ জুন উরুগুয়ে ও উত্তর আর্জেন্টিনার আকাশে একটি বজ্রপাত টানা ১৭ দশমিক ১ সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আবহাওয়া ও জলবায়ুর চরম অবস্থা বিষয়ক প্রতিবেদক অধ্যাপক র্যান্ডাল সারভেনি বলেন, ‘এমন দীর্ঘতম বজ্রপাতের ঘটনার দৈনন্দিন প্রভাব রয়েছে। বজ্রপাত মূল উৎস থেকে অনেক দূরেও আঘাত হানতে পারে। তাই বজ্রসহ ঝড়-বৃষ্টি চলাকালে মানুষকে বাইরে থাকা থেকে বিরত থাকতে হবে।’
বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ ও পানির লাইন আছে এমন মজবুত ভবন অথবা সম্পূর্ণ বদ্ধ ধাতব ছাদবিশিষ্ট গাড়ির মধ্যে আশ্রয় নেওয়ার সুপারিশ করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।
২১৮ দিন আগে
ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ গেল আরও ৪৮ ফিলিস্তিনির
গাজা উপত্যকায় ত্রাণ নিতে গিয়ে আরও অন্তত ৪৮ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০) এ হতাহতের তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এই হামলা ও হতাহতের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিফ উইটকফ।
গাজা শহরের শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, নিহত ও আহতরা জিকিম ক্রসিং এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। এটি উত্তর গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের প্রধান পথ। তবে কে গুলি চালিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি এবং ওই ক্রসিংয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, আল-সারায়া ফিল্ড হাসপাতাল জানিয়েছে, তাদের হাসপাতালে শতাধিক আহত ও নিহতদের নিয়ে আসা হয়েছে।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি বিভাগের প্রধান ফারেস আওয়াদ জানান, কিছু লাশ অন্য হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছে। এ কারণে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গুলিতে অন্তত ৪৬ ফিলিস্তিনি নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই খাবারের খোঁজে জড়ো হয়েছিলেন।ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই হামলাগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। সেনাবাহিনীর দাবি, তারা কেবল যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই হামলা চালায়। তাছাড়া বেসামরিক মৃত্যুর জন্য হামাসকেই দায়ী করে। কারণ তাদের ভাষ্যে, হামাসের যোদ্ধারা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান নেন।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি আগ্রাসনে ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি ছাড়ালো ৬০ হাজার
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, অনাহারে এক শিশুসহ আরও সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে অনাহারে ৮৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক ৬৫ ফিলিস্তিনি মারা গেছেন।
ত্রাণ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলেও রয়ে গেছে বাধা
গাজায় ত্রাণ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণে উপত্যকাটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। একের পর এক অনাহারে মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক চাপের কারণে গাজায় ত্রাণ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করেছে ইসরায়েল।
তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, গাজায় যে পরিমাণ ত্রাণ প্রয়োজন, তা সম্পূর্ণভাবে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে কাজ করা ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাট জানিয়েছে, মঙ্গলবার গাজায় ২২০টিরও বেশি ট্রাক প্রবেশ করেছে।
তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে যুদ্ধবিরতির সময় প্রতিদিন গড়ে জাতিসংঘের ৫০০–৬০০ ট্রাক ত্রাণ প্রবেশ করত। সে তুলনায় বর্তমানে পর্যাপ্ত ত্রাণ পাচ্ছেন না গাজাবাসী। তাছাড়া এখনো গাজায় প্রবেশ করা সহায়তা যথাযথভাবে বিতরণে হিমশিম খাচ্ছে জাতিসংঘ। কারণ অধিকাংশ ট্রাক ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ভিড় করা জনতার মাধ্যমে খালাস হয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ত্রাণ প্রবেশে সীমিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ফিলিস্তিনিরা
অন্যদিকে, ইসরায়েল-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) থেকে খাবার নিতে গিয়ে মে থেকে এ পর্যন্ত অন্তত এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানে এবার কানাডা ও মাল্টার সম্মতি
এদিকে, গাজায় ইসরায়েলের ক্রমাগত হামলা ও অনাহারে একের পর এক মৃত্যুতে নড়েচড়ে বসেছে পশ্চিমা বিশ্বও।
দ্বি-রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের ভিত্তি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের পর আগামী সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা ও মাল্টা।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি মন্ত্রিসভার এক বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেন। এর আগে মাল্টার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ক্রিস্টোফার কুটাজার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানবিষয়ক অধিবেশনে মাল্টার অবস্থান ঘোষণা করেন।
তবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ হামাসের ‘সন্ত্রাসবাদ’ পুরস্কৃত করার শামিল হবে বলে মন্তব্য করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
আরও পড়ুন: অনাহারে ১২৭ প্রাণহানির পর গাজায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি ইসরায়েলের
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু লেখেন, ‘আজ ইসরায়েলের সীমান্তে একটি জিহাদি রাষ্ট্র গড়া হলে, কাল সেটি আপনাদের জন্যেই হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’
২১৯ দিন আগে
আফ্রিকান নারীদের শরীরে ক্যানসার ছড়াচ্ছে ত্বক ফর্সাকারী পণ্য
আফ্রিকার দেশ টোগোর ৬৫ বছর বয়সী এক নারী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মাত্র দুই মাস পর মারা যাওয়ার ঘটনা বেশ সাড়া ফেলেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ত্বক ফর্সা করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত প্রসাধনী ক্রিমই তার মৃত্যুর কারণ। শরীরে জমা হওয়া বিষক্রিয়াই প্রাণহানির কারণ হয়েছে।
এই মৃত্যু নতুন নয়; আফ্রিকার নানা দেশে এমন ঘটনা এখন ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—মানুষ কেন এমন বিপজ্জনক পথে হাঁটছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর শিকড় লুকিয়ে আছে বহু পুরোনো এক মানসিকতায়—যেখানে ফর্সা ত্বক মানেই সৌন্দর্য, মর্যাদা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা। এই মানসিকতা এসেছে ঔপনিবেশিক শাসনের সময় থেকে, যখন শাসকগোষ্ঠী তাদের গায়ের রঙকে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক বানিয়ে তুলেছিল। আফ্রিকায়, এমনকি এশিয়া ও লাতিন আমেরিকাতেও সেই মানদণ্ড আজও অনেকের মননে গেঁথে আছে।
টোগোর ওই নারী জীবনের শেষ পর্যন্ত হয়তো বিশ্বাস করেছিলেন, ফর্সা ত্বক তাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। সে কারণেই বছরের পর বছর ব্যবহার করে গেছেন রাসায়নিকসমৃদ্ধ প্রসাধনী, যা তার শরীরকে ধীরে ধীরে বিষিয়ে তুলেছে।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যে তথাকথিত সৌন্দর্যবর্ধক প্রসাধনী ব্যবহারের প্রবণতা ব্যাপকহারে বেড়েছে। তবে এসব পণ্যের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে ক্যানসারের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।
সম্প্রতি, একের পর এক ঘটনায় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে নারীদের মধ্যে তথাকথিত ত্বক ফর্সাকারী ক্ষতিকর ক্রিম ও লোশন ব্যবহারের ভয়াবহতা সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন: ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ধরন নারী-পুরুষ ভেদে ভিন্ন: গবেষণা
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কালো ত্বকে প্রাকৃতিকভাবে মেলানিনের উপস্থিতি থাকে, যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক। কিন্তু এসব তথাকথিত সৌন্দর্যবর্ধক ক্রিম মেলানিন ধ্বংস করে প্রাকৃতিক সুরক্ষা ভেঙে দেয়।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে নারীদের মধ্যে তথাকথিত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহারের হার ২৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, ঔপনিবেশিক যুগ থেকে চলে আসা সৌন্দর্য মানদণ্ডে ফর্সা ত্বককে শ্রেষ্ঠ ও আকর্ষণীয় মনে করা হয়। এই মানসিকতার কারণেই ক্রিম ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে।
আফ্রিকাজুড়ে তথাকথিত ত্বক ফর্সাকারী পণ্যের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে ১০.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এ বাজার ২০৩৩ সালের মধ্যে ১৮.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এমনকি এসব পণ্য শিশু ও নবজাতকদের ওপরও ব্যবহৃত হচ্ছে বলে কিছু রিপোর্টে উঠে এসেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এনকোজা ডলোভা ডলোভা ও তার সহকর্মীরা মালি, সেনেগালসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে সংগৃহীত অন্তত ৫৫টি ত্বক ক্যানসারের ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। এসব রোগীর অধিকাংশই দীর্ঘ সময় ধরে সৌন্দর্যবর্ধক ক্রিম ব্যবহার করতেন।
আরও পড়ুন: এখন দেশেই বিশ্বমানের প্রসাধনী তৈরি করছে রিমার্ক-হারল্যান
ডলোভা এই প্রবণতাকে ‘গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি অবিলম্বে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। প্রতিদিনই তার ক্লিনিকে ত্বক ফর্সাকারী পণ্যের কারণে ত্বকের সমস্যায় ভোগা রোগী আসছেন।
সবাই ক্যানসার নিয়ে আসছেন না, তবে অনেকেই এমন ছত্রাক সংক্রমণ নিয়ে আসছেন যেগুলো সাধারণ চিকিৎসায় প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। অনেকে স্টেরয়েড-প্ররোচিত ব্রণ, রোসেশিয়া, স্থায়ী স্ট্রেচ মার্কসহ নানা জটিলতা নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
২১৯ দিন আগে
ইসরায়েলি আগ্রাসনে ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি ছাড়ালো ৬০ হাজার
ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের নিহতের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) এ তথ্য জানায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাদের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৬০ হাজার ৩৪ জন নিহত এবং এক লাখ ৪৫ হাজার ৮৭০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অর্ধেকই নারী ও শিশু। তবে হতাহতের এ সংখ্যা নিয়ে সন্দিহান ইসরায়েল। যদিও তারা নিজেরা কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
এদিকে, ২০ লাখ ফিলিস্তিনি বর্তমানে ইসরায়েলি হামলার পাশাপাশি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ত্রাণ আনতে গিয়ে
গাজার আল-আওদা হাসপাতাল জানিয়েছে, সোমবার (২৮ জুলাই) নুসেইরাত আশ্রয়কেন্দ্রে ১২ শিশু ও ১৪ নারীসহ ৩০ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ গাজায় ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৩৩ জন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ত্রাণের জন্য কিছু লোক জড়ো হলে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
আবার, মধ্য গাজায় ‘গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন’ থেকে ত্রাণ নেওয়ার সময় মঙ্গলবার আরও ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হন।
এ নিয়ে মে মাস থেকে এ পর্যন্ত ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। যদিও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা কেবল হুমকি মনে করলে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। এছাড়া হামাসের উপস্থিতি টের পেলেই কোনো স্থাপনায় হামলা চালায় তারা।
আরও পড়ুন: রাতভর ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত ৭২
অনাহারে মৃত্যু
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, চলতি মাসে অপুষ্টিজনিত কারণে গাজায় ৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে ২৪ জন।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অপুষ্টিজনিত কারণে মোট ৮৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুধু চলতি মাসেই অপুষ্টিজনিত কারণে ৫৮ জন প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যু হয়েছে।
খাদ্য সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) জানিয়েছে, গাজা গত দুই বছর ধরে দুর্ভিক্ষের ধারপ্রান্তে রয়েছে। তবে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘গাজায় সৃষ্ট এই দুর্ভিক্ষ নিয়ে তথ্য-প্রমাণ স্পষ্ট— এবং সেগুলো অস্বীকার করার উপায় নেই।’
তবে ইসরায়েলের কারণে গাজায় দুর্ভিক্ষ তৈরি হয়েছে— এমন অভিযোগ অস্বীকার করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার বলেন, দুর্ভিক্ষ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে আলোচনা চলছে, তা বিকৃত আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের একটি অংশ।
আকাশ থেকে ফেলা ত্রাণ সাঁতরে নিচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা
সম্প্রতি গাজায় ত্রাণ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ইসরায়েল। এর পরপরই জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমানবাহিনীর কার্গো বিমান গাজায় আকাশপথে ত্রাণ ফেলতে শুরু করে। ফ্রান্স ও জার্মানিও এই কার্যক্রমে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে।
তবে আকাশ থেকে ফেলা ত্রাণের বেশিরভাগই পড়ছে ‘রেড জোনে’, যেখান থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আগেই ফিলিস্তিনিদের সরে যেতে বলেছে।
মঙ্গলবার অনেককে ত্রাণের জন্য ভূমধ্যসাগরে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে। অনেককে ভেজা চায়ের প্যাকেট বা আটা নিয়ে ফিরতে দেখা গেছে। একজনের হাতে ছিল এক ক্যান শস্যদানা।
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৯৪ ফিলিস্তিনি নিহত
মোমেন আবু আতাইয়া নামে এক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘আমি ত্রাণ নিতে সাগরে নেমেছিলাম। প্রায় ডুবে যাচ্ছিলাম। শেষ পর্যন্ত মাত্র তিন প্যাকেট বিস্কুট সংগ্রহ করতে পেরেছি।’
জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই গাজায় আকাশপথে ত্রাণ পাঠানো নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছে। তাদের মতে, এই পদ্ধতিতে ত্রাণ দেওয়া ব্যয়বহুল এবং স্থলপথে সহায়তা পাঠানোর তুলনায় অনেক কম ত্রাণ পৌঁছায়।
তাছাড়া ত্রাণের প্যাকেটগুলো ভিড়ের মধ্যে পড়লে আহত বা নিহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সেই সঙ্গে হাজারো মানুষ একত্রে ছুটে আসায় মারাত্মক পদদলিত হওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন তারা।
২১৯ দিন আগে