বিশ্ব
ইরানে ফের ইসরায়েলের বিমান হামলা, ইরানের পাল্টা
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এবার ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহ শহরের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। জবাবে ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ জুন) সকালে ইরানে বিমান হামলার চালানোর কথা জানায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
এর আগে, ইরানের রাষ্ট্র সমর্থিত সংবাদমাধ্যম নুর নিউজ জানায়, আজ ভোরে তেহরানের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত বৃহৎ সামরিক কমপ্লেক্স পারচিনে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
জবাবে, ইরানও ইসরায়েলের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে সেটি ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা মাঝপথেই প্রতিহত করা হয় বলে দাবি করেছে আইডিএফ।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে বড় পরিসরে হামলা ইরানের, জাতিসংঘে চিঠি
গত ১৩ জুন প্রথম ইরানের শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নজিরবিহীন হামলা চালায় ইসরায়েল। এরপর থেকেই দুই দেশ নিজেদের প্রতিশোধের নেশায় মত্ত। শক্তির প্রদর্শন করে লক্ষ্য অর্জনে মরিয়া দুপক্ষই।
এর সঙ্গে গতকাল রবিবার (২২ জুন) যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তারা।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘আমরা ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় অত্যন্ত সফলভাবে হামলা পরিচালনা করেছি, যার মধ্যে রয়েছে ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহান।’
এই হামলারও প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে ইরান। তবে এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি এখনও।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টির সমাধান করতে চীনকে অনুরোধ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
২৫৬ দিন আগে
সিরিয়ায় গির্জায় আত্মঘাতীর হামলায় নিহত ২২
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় ঢুকে প্রার্থনাকারীদের ওপর গুলি চালান এক বন্দুকধারী। পরে তার নিজের শরীরে বাঁধা বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হন। এ ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত এবং ৬৩ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২২ জুন) দামেস্কের মার এলিয়াস গির্জায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া, রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার এক প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা জানানো হয়েছে।
এদিকে, ব্রিটেনভিত্তিক যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেক আহত হয়েছেন। তবে আহতদের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি তারা।
কিছু স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, হতাহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
বহু বছর পর সিরিয়ায় গির্জায় এই ধরনের হামলা হলো। এমন এক সময়ে এ হামলা ঘটনা হলো যখন দেশটি ইসলামপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা সেখানকার সংখ্যালঘুদের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছেন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় ১২ সেনাসদস্য নিহত
এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে আবারও উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কোনো গোষ্ঠী তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নূরুদ্দিন আল-বাবা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই হামলার পেছনে উগ্রবাদী ইসলামিক স্টেট (আইএস) জড়িত থাকতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এক বন্দুকধারী গির্জায় ঢুকে প্রার্থনারতদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং পরে শরীরের বাঁধা বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেই নিজেকে উড়িয়ে দেন।’
এই মুখপাত্রের দাবি, উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা তাদের জন্য একটি রেড লাইন। তবে আইএস ও উৎখাত হওয়া আসাদ সরকারের অবশিষ্ট সদস্যরা সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী হামজা মোস্তাফা এটিকে সন্ত্রাসী হামলা আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘এই কাপুরুষোচিত কাজ আমাদের নাগরিক মূল্যবোধের পরিপন্থী, যা আমাদের একসূত্রে বেঁধে রাখে। আমরা সমান নাগরিকত্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং রাষ্ট্র সব অপরাধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করে সমাজের রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাব।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুখ ঢাকা এক বন্দুকধারী গির্জায় ঢুকে গুলি চালান। তখন উপস্থিত জনতা তাকে থামাতে ধাক্কা দিলে তিনি গির্জার প্রবেশপথে বিস্ফোরণ ঘটান।
ঘটনার পর ওই দিন সন্ধ্যায় সিরিয়ার সমাজকল্যাণ ও শ্রমমন্ত্রী হিন্দ কাবাওয়াত গির্জায় গিয়ে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করে শোক প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: সোমালিয়ার রাজধানীতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৭
গির্জার ফাদার ফাদি ঘাট্টাস বলেন, ‘সবাই তখন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছিল। আমি নিজ চোখে অন্তত ২০ জনের লাশ দেখেছি। গির্জায় তখন ৩৫০ জন প্রার্থনারত ছিল।’
তবে আরেক যাজক, মেলেটিয়াস শাহাতি বলেন, ‘হামলাকারী একজন ছিলেন না, দ্বিতীয় আরেক বন্দুকধারীও গির্জার দরজার দিকে গুলি ছুঁড়েছিলেন, এরপর প্রথম হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটান।’
ঘটনার পর হতাহতদের সহায়তায় সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত গির্জায় ছুটে যায়।
২৫৭ দিন আগে
দুই সপ্তাহের কথা বলে দুদিনের মাথায় হামলা চালানো ছিল ট্রাম্পের ‘রণকৌশল’
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আবার নিজের অস্থিতিশীল আচরণের জন্য আলোচনায় এসেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে হামলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে দুই সপ্তাহ সময় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দুদিন না যেতেই তেহরানে হামলা চালিয়ে বসেন ট্রাম্প। মূলত হামলার পরিকল্পনা গোপন রাখতেই ওই তিনি ওই ঘোষণা দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে সামরিক অভিযানের ব্যাপারে কয়েকদিন ধরেই দৃঢ়ভাবে আগ্রহী ছিলেন ট্রাম্প। হামলার বিষয়ে তার প্রকৃত চিন্তাভাবনা গোপন রাখতেই তিনি তার জ্যেষ্ঠ সহকারীদের একটি নির্দেশ দেন— প্রেসকে জানিয়ে দেওয়া হোক, দুই সপ্তাহের মধ্যে অভিযান চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প!
তার মানে দাঁড়ায়, দুই সপ্তাহের ঘোষণা দিয়ে দুদিনের মাথায় হামলা চালানো কোনো অস্থিতিশীল আচরণ নয়, বরং এটি ট্রাম্পের সুপরিকল্পিত রণকৌশল।
সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন বলছে, ইতোমধ্যেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন— কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশ হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন ট্রাম্প। এ কারণে দুই সপ্তাহের সময়সীমার ঘোষণা দেন তিনি।
আরও পড়ুন: শান্তি স্থাপন করুন, নইলে আরও হামলা আসছে: ইরানকে ট্রাম্প
ইরানিদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি এবং তার পরিকল্পনা গোপন রাখার অভিপ্রায়েই এই কৌশল অবলম্বন করেন ট্রাম্প।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানোর ব্যাপারে দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের ভাষ্যে, ওই দিন তিনি তার সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে দুপুরের খাবারের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। ব্যানন প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।
এরপরই তার প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট হোয়াইট হাউস ব্রিফিং রুমে গিয়ে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুসারে ওই দুই সপ্তাহের সময়সীমার ঘোষণা দেন।
যদিও হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এসেছিল শনিবার (২১ জুন), তবে ট্রাম্পের আশপাশের মানুষের বিশ্বাস, ইরানে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্টের মন অনেক আগেই স্থির হয়ে গিয়েছিল।
আরও পড়ুন: ইরানের আকাশসীমার উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি ট্রাম্পের
সূত্র আরও জানায়, ট্রাম্পকে আগেই হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল এবং তিনি প্রতিদিনই জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করছিলেন। এর পাশাপাশি দিনে একাধিকবার ফোনালাপও চলছিল বলে বিশ্বাস তার আশেপাশের লোকেদের।
এরপর, রবিবার (২২ জুন) ভোরে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমরা ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় অত্যন্ত সফলভাবে হামলা পরিচালনা করেছি, যার মধ্যে রয়েছে ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান।’
২৫৭ দিন আগে
ইরানে হামলার পর বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি
ইরানের একাধিক পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলা চালানোর পর বিশ্বজুড়ে নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় রবিবার (২২ জুন) দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সতর্কতা জারি করা হয়। এতে বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ‘ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ভ্রমণব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে এবং আকাশসীমা কখনো কখনো বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও স্বার্থের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ বা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।’
আরও পড়ুন: শান্তি স্থাপন করুন, নইলে আরও হামলা আসছে: ইরানকে ট্রাম্প
‘এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সারা বিশ্বে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে।’
এ ছাড়া, ভ্রমণ পরিকল্পনার আগে পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণসংক্রান্ত পরামর্শ, সংশ্লিষ্ট দেশের তথ্য ও সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সতর্কতাগুলো দেশটির নাগরিকদের মনোযোগ দিয়ে পড়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
২৫৭ দিন আগে
পুতিনের সঙ্গে বসতে রাশিয়া যাচ্ছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রাশিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমন তথ্য জানিয়েছেন।
আব্বাস আরাগচি বলেন, রবিবার (২২ জুন) দিন শেষে তিনি মস্কোর উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠক হবে। আমাদের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্ব রয়েছে। আমাদের অবস্থান নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে কথা হয় এবং আমাদের অবস্থান নিয়ে সমন্বয় করি।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন কোনো চূড়ান্ত সীমা নেই, যেটা যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করেনি। সর্বশেষ তারা যেটা করেছে, সেটা খুবই বিপজ্জনক। আমাদের পরমাণু স্থাপনায় হামলার মধ্য দিয়ে তারা আরেকটি বড় চূড়ান্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে।’
আরও পড়ুন: ওভালকাণ্ড: পুতিনের পৌষমাস, জেলেনস্কির সর্বনাশ!
এদিকে ইরানের প্রধান তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বাহিনীর বড় ধরনের হামলা চালানোর পর ইসরায়েলে প্রায় ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিব, হাইফাসহ ইসরায়েলের অন্তত ১০টি এলাকায় আঘাত হেনেছে। আর এতে ৮৬ জন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, রবিবার সকালে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে ইরান থেকে ছোড়া প্রায় ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে তারা।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, এ সময় ইসরায়েলজুড়ে ভারী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
২৫৭ দিন আগে
ইসরায়েলে বড় পরিসরে হামলা ইরানের, জাতিসংঘে চিঠি
নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ পরমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইসরায়েলে বড় পরিসরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে তেল আবিবের বেশ কয়েকটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড আদম (এমডিএ)। এই হামলায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
রবিবার (২২ জুন) এক বিবৃতিতে ইরানের হামলার বিষয়টি জানায় এমডিএ।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তেহরানের হামলায় বেশ কয়েকটি দ্বিতল আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু ভবন ধসে পড়েছে।’
এর আগে, ইরানের হামলার পর ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার খবর পেয়ে অন্তত ১০টি স্থানে উদ্ধারকাজের জন্য রওনা দেওয়ার কথা জানায় এমডিএ।
সংস্থাটির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গত কয়েক মিনিটে সতর্কতামূলক সাইরেন শোনার পর যেসব স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে, সেসব জায়গার উদ্দেশে উদ্ধারকারী দল রওনা দিয়েছে।’
সংস্থাটির সম্প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ভবনের অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং আশপাশের অন্যান্য ভবনেরও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সে সময় ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক উদ্ধারকারী ও জরুরি সেবাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিক ও সেনারা এখন বৈধ লক্ষ্যবস্তু: ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভির হুঁশিয়ারি
ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, মধ্য ইসরায়েলে গোলাবারুদ পড়ার ঘটনাস্থলে কর্মকর্তারা ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট কাজ করছে।
উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফার এক কর্মকর্তাও ওই শহরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।
জেরুজালেমে অবস্থানরত মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রযোজক জানিয়েছেন, তিনি শহরের আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং ভিডিওতে আকাশে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রও দেখা গেছে।
২৫৭ দিন আগে
মার্কিন হামলার শিকার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন
ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েল-ইরানের চলমান সংঘাতে জড়িয়ে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় রবিবার (২২ জুন) ভোরে ফোরদো, ইসফাহান ও নাতাঞ্জের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘আমরা ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় অত্যন্ত সফলভাবে হামলা পরিচালনা করেছি, যার মধ্যে রয়েছে ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান।’
হামলার বিষয়টি ইরানের পারমাণবিক সংস্থা থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে হামলা সত্ত্বেও ওই স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ না করে বরং চালিয়ে যাওয়া হবে বলে দাবি করেছে তেহরান।
নিচে ট্রাম্প ঘোষিত ইরানের তিনটি স্থাপনার বিবরণ ও এগুলোর পারমাণবিক কর্মসূচিতে গুরুত্ব তুলে ধরা হলো—
নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা
ইরানের মূল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতাঞ্জ। এটি রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার (১৩৫ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। এটি ইতোমধ্যে ইসরায়েলি বিমান হামলার শিকার হয়।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানায়, নাতাঞ্জে ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ সমৃদ্ধ করা হয়েছিল। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আর মাত্র এক ধাপ পেছেনে ছিল এটি।
আরও পড়ুন: ইরানের তিন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে যুদ্ধে যোগ দিল যুক্তরাষ্ট্র
এই স্থাপনাটির একটি অংশ ইরানের সেন্ট্রাল প্লেটোর নিচে অবস্থিত, যা বিমান হামলা থেকে রক্ষার জন্য ভূগর্ভে নির্মিত। এখানে একাধিক সেন্ট্রিফিউজ ক্যাসকেড চালু রয়েছে, যা দ্রুত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে ব্যবহৃত হয়।
মূলত, একটি সেন্ট্রিফিউজ একা খুব অল্প পরিমাণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারে। তাই ইউরেনিয়ামকে পর্যায়ক্রমে বেশি মাত্রায় সমৃদ্ধ করতে হলে অনেকগুলো সেন্ট্রিফিউজকে একটি ক্যাসকেড বা ধাপক্রমিক পদ্ধতিতে সাজাতে হয়।
আইএইএ জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে এসব সেন্ট্রিফিউজের বেশিরভাগই ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া, ওই হামলাগুলোর ফলে তেজস্ক্রিয়তা কেবল সংশ্লিষ্ট স্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, আশপাশের এলাকায় ছড়ায়নি বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইরান এখন নাতাঞ্জের দক্ষিণ সীমানার ঠিক বাইরে অবস্থিত কুহ-ই কোলাং গাজ লা বা ‘পিকঅ্যাক্স পর্বতের’ নিচে সুড়ঙ্গ খনন করছে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি হামলার প্রথম দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র জড়িত: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এর আগেও স্টাক্সনেট ভাইরাসের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল নাতাঞ্জ। স্টাক্সনেট ভাইরাসটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বলে ধারণা করা হয় এবং এটি ইরানি সেন্ট্রিফিউজ ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হয়েছিল। এ ছাড়াও, ইসরায়েলের পরিচালিত দুটি পৃথক হামলার লক্ষ্যও ছিল এই স্থাপনাটি।
ফোরদো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা
তেহরান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬০ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ফোরদো স্থাপনাটিতেও সেন্ট্রিফিউজ ক্যাসকেড রয়েছে, তবে এটি নাতাঞ্জের তুলনায় ছোট।
আইএইএ জানায়, ২০০৭ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানত। তবে ইরান এ বিষয়ে জাতিসংঘকে জানায় ২০০৯ সালে।
ফোরদো স্থাপনাটি একটি পাহাড়ের নিচে অবস্থিত এবং শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা সুরক্ষিত।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ ধরনের স্থাপনাকে কেবল ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমার মাধ্যমেই ধ্বংস করা সম্ভব, যেমন: যুক্তরাষ্ট্রের জিবিইউ-৫৭ এ/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর বোমা। এই বোমাটি প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড (১৩ হাজার ৬০০ কেজি) ওজনের এবং এটি মাটির গভীরে প্রবেশ করে বিস্ফোরিত হয়, বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার ও সুড়ঙ্গ ধ্বংসের জন্য তৈরি।
আরও পড়ুন: ইরানের আরাক হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টর এলাকা খালি করতে ইসরায়েলের সতর্কবার্তা
এই বোমাটি শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য, যা কেবল মার্কিন বিমান বাহিনী পরিচালনা করে এবং নর্থরপ গ্রুম্যান এটি উৎপাদন করে থাকে।
এর মানে, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া এমন অভিযান পরিচালনা সম্ভব নয়।
ইসফাহান পারমাণবিক প্রযুক্তি কেন্দ্র
তেহরান থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার (২১৫ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ইসফাহান স্থাপনাটিতে হাজার হাজার পরমাণু বিজ্ঞানী কাজ করেন। এখানে একই সঙ্গে তিনটি চীনা গবেষণা চুল্লি এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণাগারও রয়েছে।
ইসফাহানে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপরও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যার মধ্যে রয়েছে ইউরেনিয়াম রূপান্তর কেন্দ্র।
আইএইএ জানায়, সেখানেও কোনো ধরনের তেজস্ক্রিয়তা বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা যায়নি।
আরও কিছু পারমাণবিক স্থাপনা
ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে, যেগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানোর খবর পাওয়া যায়নি।
এর মধ্যে রয়েছে বুশেহরে অবস্থিত ইরানের একমাত্র বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। পারস্য উপসাগরের তীরে তেহরান থেকে ৭৫০ কিলোমিটার (৪৬৫ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত এটি। সেখানে আরও দুটি চুল্লি নির্মাণাধীন।
আরও পড়ুন: গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ: দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ
এই চুল্লিগুলো রাশিয়ায় উৎপাদিত ইউরেনিয়াম দিয়ে পরিচালিত হয় এবং আইএইএয়ের নজরদারির আওতায় রয়েছে।
এ ছাড়া, তেহরান থেকে ২৫০ কিলোমিটার (১৫৫ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আরাক হেভি ওয়াটার রিয়্যাক্টর। এই চুল্লিটি পারমাণবিক রিয়্যাক্টর ঠান্ডা করতে হেভি ওয়াটার ব্যবহার করে।
হেভি ওয়াটারের (Heavy Water) রাসায়নিক নাম ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D₂O)। সাধারণ পানিতে (H₂O) হাইড্রোজেনের দুটি পরমাণু থাকে, যেগুলো সাধারণত প্রোটিয়াম নামে পরিচিত, যা হাইড্রোজেনের সবচেয়ে হালকা আইসোটোপ। অন্যদিকে, ভারী পানিতে এই হাইড্রোজেন পরমাণুগুলোর বদলে থাকে ডিউটেরিয়াম, যা হাইড্রোজেনের একটি ভারী আইসোটোপ। ডিউটেরিয়ামের পরমাণু ভর সাধারণ হাইড্রোজেনের চেয়ে দ্বিগুণ। এজন্য D₂O দেখতে পানির মতো হলেও এর ঘনত্ব, গলনাঙ্ক ইত্যাদি আলাদা। ভারী পানি পরমাণু চুল্লিতে নিউট্রন মডারেটর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তাছাড়া রয়েছে তেহরান গবেষণা চুল্লি। এটি ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার সদর দপ্তরে অবস্থিত। এটি প্রাথমিকভাবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তবে প্রসারণ-সংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলায় পরবর্তীতে কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামে রূপান্তর করা হয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কা হলেও, এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বিস্তারের আশঙ্কাও বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
২৫৭ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিক ও সেনারা এখন বৈধ লক্ষ্যবস্তু: ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভির হুঁশিয়ারি
ইরানের একাধিক পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত সব মার্কিন নাগরিক ও সেনা সদস্যকে এখন থেকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
রবিবার (২২ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক ঘোষক বলেন, ‘এই অঞ্চলে অবস্থানরত প্রত্যেক মার্কিন নাগরিক বা সেনা সদস্য এখন একেকটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু।’
এ ছাড়া, আজ ভোরে দেশটির অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা দিয়েছে, ‘এখন থেকে যুদ্ধ শুরু হলো।’
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ এক উপদেষ্টা মার্কিন নৌবহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএনএন।
আরও পড়ুন: শান্তি স্থাপন করুন, নইলে আরও হামলা আসছে: ইরানকে ট্রাম্প
খামেনির প্রতিনিধির পরিচয় দেওয়া হোসেইন শারিয়তমাদারি নামের ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এখন আমাদের পাল্টা জবাব দেওয়ার পালা।’
শারিয়তমাদারির বরাত দিয়ে ইরানের কট্টরপন্থী দৈনিক কায়হান এক টেলিগ্রাম বার্তায় বলেছে, ‘বিলম্ব বা দ্বিধা না করে, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো এবং একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকান, ব্রিটিশ, জার্মান ও ফরাসি জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া উচিত।’
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়ে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি।
তবে, এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাদের যে ক্ষতি হবে, তা হবে অপূরণীয়।’
আরও পড়ুন: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ
পক্ষান্তরে, হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি প্রতিশোধের পথে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তার চেয়ে অনেক ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের যেকোনো প্রতিশোধমূলক হামলার জবাবে আজ রাতে যা দেখা গেছে, তার চেয়েও অনেক ভয়ঙ্কর শক্তি প্রয়োগ করা হবে।’
চলমান পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল। শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার পাশাপাশি জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা এবং অপ্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে তারা।
২৫৭ দিন আগে
শান্তি স্থাপন করুন, নইলে আরও হামলা আসছে: ইরানকে ট্রাম্প
ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের জন্য শান্তি স্থাপন করার এখনই সময়।
হোয়াইট হাউজ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মূল অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসা ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান এলাকায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১০টায় হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ওই ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘এই নামগুলো আমরা বহু বছর ধরে শুনে আসছি, যখন তারা একটি ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড গড়ে তুলছিল।’
‘আজ রাতে, আমি বিশ্বকে জানাতে পারি, ইরানে হামলা ছিল অসাধারণ সামরিক সাফল্য।’
তার দাবি, ‘ইরানের মূল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসের মদদদাতা বিশ্বের এক নম্বরে থাকা দেশটির পারমাণবিক হুমকি থামিয়ে দেওয়াই এ হামলার উদ্দেশ্য।’
আরও পড়ুন: ইরানের তিন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে যুদ্ধে যোগ দিল যুক্তরাষ্ট্র
ট্রাম্প বলেন, ‘তেহরান যদি এখনই শান্তির পথ বেছে না নেয়, তবে ভবিষ্যতের হামলাগুলো হবে আরও ভয়াবহ।’
‘এভাবে আর চলতে পারে না। হয় শান্তি আসবে, না হয় ইরানের জন্য অপেক্ষা করছে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি; গত আট দিনে আমরা যা দেখেছি, তার চেয়েও অনেক বেশি। মনে রাখবেন, এখনও অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র চাইলে অবশিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতেও গতি এবং দক্ষতার সঙ্গে নির্ভুল হামলা চালাতে পারে। আর তা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই করা সম্ভব।’
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
এদিকে, এই হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানঘনিষ্ঠ ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী।
গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ সদস্য হেজাম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ওয়াশিংটনকে এর ফল ভোগ করতে হবে।’
এই হামলার ঘটনায় বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতারও সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ ঘটনাকে একটি ‘বিপজ্জনক উত্তেজনার বিস্তার’ আখ্যা দিয়ে এটি মধ্যপ্রাচের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ
রবিবার (২২ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বলপ্রয়োগে আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। চরম অস্থিতিশীলতায় থাকা একটি অঞ্চলে এই হামলা উত্তেজনা আরও বাড়াবে। এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
এর আগে স্থানীয় সময় রবিবার (২২ জুন) ভোরে ফোরদো, ইসফাহান ও নাতানজের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘আমরা ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় অত্যন্ত সফলভাবে হামলা পরিচালনা করেছি, যার মধ্যে রয়েছে ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহান।’
তবে হামলা সত্ত্বেও ওই স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ না করে বরং চালিয়ে যাওয়া হবে বলে দাবি করেছে ইরান।
২৫৮ দিন আগে
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ
ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ ঘটনাকে একটি ‘বিপজ্জনক উত্তেজনার বিস্তার’ আখ্যা দিয়ে এটি মধ্যপ্রাচের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
রবিবার (২২ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব এসব কথা বলেন।
আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বলপ্রয়োগে আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। চরম অস্থিতিশীলতায় থাকা একটি অঞ্চলে এই হামলা উত্তেজনা আরও বাড়াবে। এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ইরানের তিন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে যুদ্ধে যোগ দিল যুক্তরাষ্ট্র
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘এই সংঘাত দ্রুতই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে সাধারণ নাগরিক, পুরো (মধ্যপ্রাচ্য) অঞ্চল ও বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ দুর্ভোগ নেমে আসতে পারে।’
গুতেরেস জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সংঘাত থেকে সরে আসার এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা পালনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘উত্তেজনা প্রশমন এবং জাতিসংঘ সনদসহ আন্তর্জাতিক আইনের অন্যান্য বিধান অনুযায়ী নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে আমি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আহ্বান জানাচ্ছি।’
সংঘাত এড়িয়ে কূটনীতির মাধ্যমে শান্তি ফেরানোর আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে স্থানীয় সময় রবিবার (২২ জুন) ভোরে ফোরদো, ইসফাহান ও নাতানজের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘আমরা ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় অত্যন্ত সফলভাবে হামলা পরিচালনা করেছি, যার মধ্যে রয়েছে ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহান।’
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি হামলার প্রথম দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র জড়িত: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তবে হামলা সত্ত্বেও ওই স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ না করে বরং চালিয়ে যাওয়া হবে বলে দাবি করেছে ইরান।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি স্থগিত করার অজুহাতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। এবার তেল আবিবের সঙ্গে যুক্ত হলো ইসরায়েলের মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র।
তবে ট্রাম্পের এই হামলার সিদ্ধান্ত তার নিজ রাজনৈতিক দলের ভেতর থেকেই সমালোচিত হয়েছে। এই সংঘাতে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়া ট্রাম্পের যুদ্ধবিমুখ প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করবে বলেও সতর্ক করেছেন অনেকে।
২৫৮ দিন আগে