বিশ্ব
চীন বাদে সব দেশের ওপর মার্কিন পাল্টা শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত
চীন ছাড়া বাকি দেশগুলোর ওপর আরোপ করা পাল্টা শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার (১০ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে তার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
তবে চীনের ওপর শুল্ক ১০৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৯ এপ্রিল) ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তিনি পাল্টা শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন। এই সময়ে পাল্টা শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘চীন বিশ্বের বাজারগুলোর প্রতি শ্রদ্ধার যে ঘাটতি দেখিয়েছে, তার ভিত্তিতে আমি যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ ধার্য করছি। এটা অবিলম্বে কার্যকর হবে।’
এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘আশা করি নিকট ভবিষ্যতে চীন ও অন্যান্য দেশ উপলব্ধি করতে পারবে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণার দিন আর থাকবে না বা গ্রহণযোগ্য হবে না।’
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘প্রকৃত অবস্থার ভিত্তিতে ৭৫টির বেশি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এসব প্রতিনিধির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ, অর্থ বিভাগ ও ইউএসটিআর (যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি) রয়েছে।’
‘দেশগুলো বাণিজ্য, বাণিজ্য বাধা, শুল্ক, মুদ্রা কারসাজি ও অশুল্ক বাধা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সমাধানে পৌঁছাতে সমঝোতা আলোচনার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে,’ বলেন তিনি।
৩৩১ দিন আগে
ভূমিকম্প: মিয়ানমারে তহবিল সংগ্রহে ‘সিংহ নাচ’
মিয়ানমারে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য ইয়াঙ্গুনের ব্যস্ততম চায়না টাউনের প্রাণকেন্দ্রে ‘সিংহ নাচ’ পরিবেশনের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করছেন দেশটির তরুণরা।
ফেং ই ড্রাগন ও লায়ন ড্যান্স অ্যাসোসিয়েশনের ৩০ জনেরও বেশি তরুণের একটি দল চলতি মাসের ৩ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত অভিনব এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
এ কার্যক্রমে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন বলে জানান তারা। ওই তরুনরা বলেন, অনেক পথচারীই তাদের নাচে আকৃষ্ট হয়েছেন এবং উৎসাহ দিয়েছেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দলটি মিয়ানমারেরে মুদ্রায় ৫ মিলিয়ন কিয়াট (প্রায় ২ হাজার ৩৮০ মার্কিন ডলার) সংগ্রহ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তারা।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারের ভূমিকম্পের পর ৮৯ আফটারশক অনুভূত
ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দলটির সদস্যরা বলেন, সংগৃহীত অর্থ সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মান্দালয় ও সাগাইং শহরে বাসিন্দাদের সহায়তায় ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
লায়ন ড্যান্স অ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্য মিয়ো মং মং মিন্ট (৩৫) বলেন, ‘তহবিল সংগ্রহ ও জরিপ শেষে বাসিন্দাদের সরাসরি সহায়তা করতে আমরা সেখানে যাবো। তাদের কি ধরনের সহায়তা প্রয়োজন বা কোনটি আগে প্রয়োজন সেটি জানতে আগেই একটি জরিপ করেছি আমরা।’
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের এই অর্থ দিয়ে সহায়তার পাশাপাশি পুনর্বাসনের পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে বলে জানান মিয়ো।
অ্যাসোসিয়েশনের আরেক সদস্য বলেন, ‘এভাবে তহবিল সংগ্রহ করা মোটেই সহজ কাজ নয়। বিশেষত রোদের মধ্যে সিংহ নাচের পোশাক পরে নাচ করা বেশ কঠিন। তবে আমরা এতে অভ্যস্ত।’
৩৩১ দিন আগে
ইসলামি শরিয়ায় ব্রিটিশ দম্পতির বিচার করবে তালেবান
আফগানিস্তানে গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্রিটিশ দম্পতির বিচার শিগগিরই ইসলামিক শরিয়া অনুসারে হবে বলে জানিয়েছে তালেবান সরকার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমদিকে পিটার রেনল্ডস ও বার্বি রেনল্ডস দম্পতিকে গ্রেপ্তারের পর এই প্রথম বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) এ বিষয়ে কথা বলেন তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল বাতেন। তিনি জানান, ওই দম্পতির অপরাধ তেমন গুরুতর নয়। দ্রুতই আফগানিস্তানের প্রচলিত ইসলামিক শরিয়া অনুযায়ী তাদের বিচারকাজ শেষ করা হবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানী কাবুলের মধ্য বামিয়ানের নিজ বাসভবন থেকে সত্তরোর্ধ রেনল্ডস দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে কি কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা জানায়নি দেশটির প্রশাসন।
আরও পড়ুন: বাদী পক্ষে লড়তে আদালতে এআই-উকিল!
রেনল্ডস দম্পতি আফগানিস্তানে একটি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম পরিচালনা করতেন বলে জানিয়েছেন লন্ডনে বসবাসরত তাদের পরিবারের সদস্যরা। পিটার ও বার্বিকে গ্রেপ্তারের পর পুল-ই-চরকি কারাগারে রাখা হয়েছে, কি কারণে এটি করা হয়েছে তা জানানো হয়নি। এমনকি ওই কারাগারে পিটার ও বার্বির সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তাদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন।
ওই দম্পতির মামলা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে এসোসিয়েট প্রেসকে (এপি) পাঠানো এক বার্তায় জানান মুখপাত্র মাতেন। তবে গ্রেপ্তারের কারণ ও তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
মাতেন বলেন, ‘আমি শুধু এতটুকুই বলতে পারি, বড় ধরনের কোনো অপরাধ করেননি তারা। ইনশাআল্লাহ, দ্রুতই শরিয়া আইনে রায় আসবে। সামান্য বিষয় এটি, চিন্তার কোনো কারণ নেই।’
এর আগে ওই দম্পতির সঙ্গে আটক হওয়া মার্কিন নাগরিক ফায়ে হল গত ৩০ মার্চ কাতারের মধ্যস্ততায় মুক্তি পেয়েছেন। বিনা অনুমতিতে ড্রোন ব্যবহার করার কারণে তাকে আটক করেছিল তালেবান সরকার। এ নিয়ে চলতি বছরে আফগানিস্তান থেকে চতুর্থ মার্কিনি মুক্তি পেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৩৩১ দিন আগে
ইসরায়েলি হামলায় গাজায় আরও ৬০ ফিলিস্তিনি নিহত
গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও ৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সোমবার (৭ এপ্রিল) ভোর থেকে চালানো হামলায় তারা নিহত হন।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মোহাম্মদ বাশালের বরাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় সংবাদ মাধ্যম মিডল ইস্ট আই।
এর আগে নাসের হাসপাতালের কাছে সাংবাদিকদের তাবুতে ইসরায়েলি বোমা হামলায় তিন সাংবাদিক নিহত হন।
চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজা নগরী ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। উপত্যকাটিতে ইসরায়েলের কড়াকড়ি আরোপের ফলে ৬ লাখ ২ হাজার শিশু পোলিও টিকা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় স্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে।
আরও পড়ুন: গাজার ৫০ শতাংশ ইসরায়েলের দখলে, নিজ ভূমিতে পরবাসী ফিলিস্তিনিরা
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত রবিবার তুরমাস আইয়ায় ইসরায়েলি বাহিনী ১৪ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি-আমেরিকান কিশোর ওমর মোহাম্মদ রাবেয়াকে গুলি করে হত্যা করেছে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় বড় আকারের বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করেছে। শুধু তাই নয় ক্রমাগতভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ করে চলেছে দখলদার ইসরায়েল। এখন পর্যন্ত উপত্যকাটির ৫০ শতাংশ অংশ দখলে নিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। এতে নিজ ভূমিতে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছেন অধিকাংশ ফিলিস্তিনি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতায় এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ৬৯৫ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
সূত্র: বিভিন্ন এজেন্সি
৩৩২ দিন আগে
ইসরাইলকে এআই সরবরাহের প্রতিবাদ: মাইক্রোসফটের ২ প্রকৌশলী বরখাস্ত
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কাছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহের প্রতিবাদ করায় দুই কর্মীকে বরখাস্ত করেছে আমেরিকান বহুজাতিক কোম্পানি মাইক্রোসফট।
গেল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের রেডমন্ড ক্যাম্পাসে কোম্পানিটির ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন অনুষ্ঠান চলাকালে এই প্রতিবাদ করা হয়েছে।
সোমবার (৮ এপ্রিল) চাকরিচ্যুতির একটি চিঠিতে একজন কর্মীর বিরুদ্ধে মাইক্রোসফট অভিযোগ করেছে, ‘তার অসদাচরণের কারণে বাজে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এতে বহুল প্রত্যাশিত একটি অনুষ্ঠান সর্বোচ্চ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’
আরেকজন কর্মী এরইমধ্যে তার পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও পাঁচদিন আগেই তাকে চাকরি ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট।
গেল শুক্রবার মাইক্রোসফটের এআই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুস্তাফা সুলেমান যখন নতুন পণ্য বাজারে নিয়ে আসার ঘোষণা দিচ্ছিলেন, তখন ইবতিহাল আবুসাদ নামের একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী মঞ্চের দিকে গিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে মাইক্রোসফটের দীর্ঘমিয়াদি উচ্চাভিলাষের কথাও তুলে ধরা হচ্ছিল।
এ সময়ে তাকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে আবুসাদ বলতে থাকেন, ‘মানুষের কল্যাণের জন্য আপনি এআই ব্যবহারের কথা বলে আসছিলেন। কিন্তু মাইক্রোসফট তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অস্ত্র ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কাছে বিক্রি করছে।’
তিনি যখন প্রতিবাদ করছিলেন, তখন রেডমন্ডে মাইক্রোসফটের ক্যাম্পাস থেকে এই অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছিল।
‘এখন পর্যন্ত পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। আমাদের অঞ্চলে গণহত্যায় মাইক্রোসফট মদত দিচ্ছে,’ বলেন এই সফটওয়্যার প্রকৌশলী।
তার প্রতিবাদের মুখে নিজের বক্তব্য কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখেন মুস্তাফা সুলেমান। অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে ছিলেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তঅ স্টিফ বলমার।
মাইক্রোসফটের দাবি, ‘খুবই শান্তভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন সুলেমান।’ ওই নারীকর্মীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনার প্রতিবাদের জন্য ধন্যবাদ। আমি আপনার কথা শুনেছি।’
এ সময়ে আবুসাদ তার প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন। তিনি বলেন, ‘মাইক্রোসফটের সবার হাতে রক্ত লেগে আছে।’ মঞ্চের দিকে একটি কুফিয়া ছুড়ে মারেন তিনি। ফিলিস্তিনিদের সমর্থনের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে কুফিয়াকে। পরে তাকে অনুষ্ঠান থেকে ধরে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশে প্রতিবাদ করেন বন্যা আগরওয়াল নামের এক নারী। পরে সোমবার মাইক্রোসফটের মানবসম্পদ বিভাগ থেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে তাকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে।
টরোন্টোতে মাইক্রোসফটের কানাডীয় প্রধান কার্যালয়ে কাজ করতেন আবুসাদ। সোমবার কোম্পানির মানবসম্পদ বিভাগ থেকে তাকে তাৎক্ষণিক বরখাস্তের কথা জানানো হয়েছে।
নো অ্যাজুর ফর অ্যাপার্টহাইড নামের একটি অ্যাডভোকেসি গোষ্ঠী এমন তথ্য জানিয়েছে। মাইক্রোসফটের অ্যাজুর ক্লাউড কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম ইসরাইলের কাছে বিক্রির প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে এই গোষ্ঠীটি।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, গাজা ও লেবাননে সাম্প্রতিক যুদ্ধে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালাতে মাইক্রোসফট ও ওপেনএআইয়ের কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মডেল ব্যবহার করেছে আইডিএফ।
আবুসাদকে বরখাস্তের চিঠিতে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ‘গোপনে ব্যবস্থাপকের কাছে নিজের উদ্বেগের বিষয়টি জানাতে পারতেন তিনি। কিন্তু তার বদলে সুলেমান ও মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে বৈরী ও খুবই অযাচিত অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তার আচরণ এতটাই আগ্রাসী ও বিশৃঙ্খল ছিল যে তাকে জোর করে অনুষ্ঠান থেকে বাইরে নিয়ে যেতে হয়েছে।’
এদিকে চাকরি ছাড়তে দুই সপ্তাহের নোটিস দিয়েছিলেন বন্যা আগারওয়াল। আগামী ১১ এপ্রিল কোম্পানি থেকে তার বিদায় নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সোমবার এক ইমেইল বার্তায় মাইক্রোসফট তাকে জানিয়ে দিয়েছে, ‘তাৎক্ষণিকভাবে তার পদত্যাগপত্র কার্যকর করা হয়েছে।’
মাইক্রোসফটের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক নিয়ে এরআগেও কয়েকবার প্রতিবাদ করা হয়েছে। কিন্তু এটি ছিল খুবই প্রকাশ্য কোনো প্রতিবাদ, যা আগে কখনো হয়নি।
এরআগে গেল ফেব্রুয়ারিতে ইসরাইলের সঙ্গে মাইক্রোসফটের চুক্তি নিয়ে প্রতিবাদ করা হলে তখনকার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য নাদেলার সঙ্গে বৈঠক থেকে পাঁচকর্মীকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।
শুক্রবার এই বহুজাতিক কোম্পানি থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা সব ধরনের মতামত শুনতে অনেক পথ খোলা রেখেছি। কিন্তু সেগুলো এমনভাবে করতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো ব্যবসায়িক বাধা তৈরি না হয়।’
ইসরাইল সরকারকে এআই প্রযুক্তি সরবরাহে ‘নিমবা প্রকল্প’ নামে ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি চুক্তির প্রতিবাদ করায় গেল বছরে কয়েক ডজন গুগলকর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।
৩৩২ দিন আগে
মেক্সিকোতে ক্লিনিকে বন্দুক হামলায় নিহত ৯
মেক্সিকোর একটি মাদকাসক্তি নিরাময় ক্লিনিকে সশস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
সোমবার (৭ এপ্রিল) দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
স্থানীয় জননিরাপত্তা সচিবালয়ের মতে, সোমবার (৭ এপ্রিল) সকালে সশস্ত্র হামলাকারীরা উত্তর-পশ্চিম মেক্সিকোর সিনালোয়া রাজ্যের কুলিয়াকান পৌরসভার একটি ক্লিনিকে হামলা চালায়।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো রাজ্যে পার্কে বন্দুক হামলায় নিহত ৩
মুখোশধারী হামলাকারীরা ক্লিনিকের গেট খুলে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রাইফেল দিয়ে রোগী ও কর্মীদের উপর গুলি চালায়।
৯১১ জরুরি হটলাইনে একাধিক ফোনের পর স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেখানে নিহত ও আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই ৮জন নিহত হন। আহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর আরেকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।
৩৩৩ দিন আগে
ফিলিপাইনে আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত, ৪ গ্রামের স্কুল বন্ধ
ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলের একটি আগ্নেয়গিরি অল্প সময়ের জন্য সক্রিয় হয়েছিল। এর ফলে আকাশে চার কিলোমিটার (২.৪ মাইল) উঁচু ছাই এবং ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে।
কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) আগ্নেয়গিরিটির অগ্ন্যুৎপাতের ছাই ছড়িয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত নিকটবর্তী চারটি গ্রামের স্কুলের ক্লাস বাতিল করেছে।
ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, কানলাওন পর্বতের অগ্ন্যুৎপাত এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। ছাই নেগ্রোস দ্বীপের আগ্নেয়গিরির দক্ষিণ-পশ্চিমে কমপক্ষে চারটি কৃষি গ্রামে পৌঁছেছিল। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে ডিসেম্বরে আগ্নেয়গিরিটিতে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে হাজার হাজার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সিভিল ডিফেন্স অফিস জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের অনেকেই আজ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। কারণ, কানলাওন যেকোনো সময় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে—এমন লক্ষণ প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে।
আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মেরাপিতে অগ্ন্যুৎপাত
ফিলিপাইনের প্রধান আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ তেরেসিতো বাকোলকোল অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেছেন, আগ্নেয়গিরির ভূমিকম্প বৃদ্ধির মতো উচ্চতর আগ্নেয়গিরির ক্রিয়াকলাপের কোনো উল্লেখযোগ্য নতুন সূচক নেই। এজন্য সতর্কতার বর্তমান স্তর ৩ থেকে বাড়ানোর প্রয়োজন হবে—যা ‘উচ্চ স্তরের আগ্নেয়গিরির অস্থিরতা’ নির্দেশ করে। সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তর ৫ সংকেতটি তখনি দেওয়া হয়—যখন একটি ‘বিপজ্জনক অগ্ন্যুৎপাত হয়’।
জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং আগ্নেয়গিরির চারপাশে ৬ কিলোমিটার (৩.৭ মাইল) স্থায়ী বিপদজনক অঞ্চল এড়াতে পরামর্শ দিয়ে বেকোলকোল বলেন, ‘বড় অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে।’
মাউন্ট কানলাওন ২ হাজার ৪৩৫ মিটার (৭৯৮৮ ফুট) লম্বা এবং ফিলিপাইনের ২৪টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে একটি।
কর্মকর্তারা স্মরণ করেন যে, ১৯৯৬ সালে চূড়ার কাছে অপ্রত্যাশিত অগ্ন্যুৎপাতের পর তিনজন পর্বতারোহী মারা যান এবং বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়।
ফিলিপাইন প্রশান্ত মহাসাগরের 'রিং অব ফায়ার' বরাবর অবস্থিত। এর ফলে ঘন ঘন ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের জন্য পরিচিত দেশটি। ফিলিপাইনে বছরে প্রায় ২০টি টাইফুন এবং ঝড়ের কবলে পড়ে। আর একারণে এটি সারা বিশ্বের মধ্যে একটি অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল।
৩৩৩ দিন আগে
এবার জরুরি খাদ্য সহায়তা বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র
এবার জরুরি খাদ্য সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তকে ঝুঁকিতে থাকা লাখ লাখ মানুষের জন্য ‘মৃত্যুদণ্ড’ বলে অভিহিত করেছে জাতিসংঘের সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি।
জরুরি খাদ্য সহায়তা হিসেবে মূলত আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং আরও ১১টি দরিদ্র দেশে লাখ লাখ মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) জরুরি কর্মসূচিতে অর্থায়ন করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত এসব দেশে দীর্ঘ সময় ধরে চলা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া লাখ লাখ মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলবে বলে সংস্থাটির এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েডেট প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন।
খাদ্য সহায়তার বৃহত্তম সরবরাহকারী বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সোমবার (৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে নতুন কাটছাঁট প্রত্যাহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা, জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা এবং এপির হাতে আসা নথিপত্র থেকে জানা যায়, অপ্রত্যাশিত এই চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট পরিচালিত সর্বশেষ কিছু মানবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে।
ডব্লিউএফপি এক্সের ওই পোস্টে বলেছে, ‘নতুন এই সিদ্ধান্তটি চরম ক্ষুধা ও অনাহারে থাকা লাখ লাখ মানুষের জন্য মৃত্যুদণ্ডের সমান হতে পারে।’
সংস্থাটি বলেছে, জীবন রক্ষাকারী কর্মসূচির জন্য ‘অব্যাহত সহায়তার আহ্বান জানাতে’ তারা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং অতীতের অবদানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দাতাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে।
মার্কিন বৈদেশিক সহায়তার ব্যাপক কাটছাঁটের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেখানে জরুরি খাদ্য কর্মসূচি এবং অন্যান্য জীবন রক্ষাকারী সহায়তা কাটছাঁট করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। তবে সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ
ইলন মাস্কের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সির শীর্ষ লেফটেন্যান্ট জেরেমি লিউইনের নির্দেশে 'যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সুবিধার জন্য' প্রকল্পগুলো বাতিল করা হচ্ছে। ইউএসএআইডি প্রোগ্রামগুলো বাদ দেওয়ার তত্ত্বাবধানের জন্যও নিযুক্ত ছিলেন এই জেরেমি লিউন।
সহায়তা বন্ধের ব্যাপক প্রভাব
মানবিক সহায়তাদানকারী গোষ্ঠীগুলোর মতে, ডব্লিউএফপি কর্মসূচির আকস্মিক সমাপ্তির সিদ্ধান্তটি হুমকির মুখে ফেলেছে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে। বৈশ্বিক বাস্তবতায় এসব জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগই এ ধরনের খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দাতা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সংকট নিরসনের প্রচেষ্টাকে তাদের কৌশলগত স্বার্থে গণ অভিবাসন, সংঘাত ও চরমপন্থা দমন করে আসছে, যা সম্পদ করায়ত্ত করার জন্য হতে পারে।
ডব্লিউএফপি প্রধান সিন্ডি ম্যাককেইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, এই কাটছাঁট 'বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে।’
রুবিও গত মাসে কংগ্রেস ও আদালতকে জানিয়েছেন, ইউএসএআইডি চুক্তি কাটছাঁট করা শেষ হয়েছে। এর সঙ্গে বিশ্বব্যাপী প্রায় এক হাজার কর্মসূচি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে এবং আরও পাঁচ হাজারেরও বেশি কমূসূচি বাদ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ইউএসএআইডির বিরুদ্ধে অপচয় এবং উদারপন্থী উদ্দেশ্যকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার অভিযোগ এনেছে।
ইউএসএআইডি এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে সমস্ত বৈদেশিক সহায়তা স্থগিত করার ফলে আল-হোল শিবিরে পরিষেবাগুলো দ্রুতই বন্ধ হয়ে যায়। ওই শিবিরটিতে হাজার হাজার অভিযুক্ত ইসলামিক স্টেট যোদ্ধা এবং তাদের পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
এই কাটছাঁটের সিন্ধান্তের ফলে শিবিরে বিদ্রোহ বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন কর্মকর্তারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিষেবা চালু করেছিলেন।
এপির হাতে আসা স্টেট ডিপার্টমেন্টের নথিতে সেভ দ্য চিলড্রেন এবং ইউএন পপুলেশন ফান্ড পরিচালিত দুটি নতুন বাতিল হওয়া চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— আল-হোল শিবিরে নারী ও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য পরিষেবা সরবরাহ। শিবিরে অন্য কোনো পরিষেবা প্রভাবিত হয়েছে কিনা—তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।
ডব্লিউএফপির প্রধান অর্থদাতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর খাদ্য সংস্থাটিকে অনুদানের ৯৮০ কোটি ডলারের মধ্যে ৪৫০ কোটি ডলার সরবরাহ করেছিল দেশটি।
আরও পড়ুন: চোখে সামনে যা পড়েছে, তা-ই হত্যা করেছি: ইসরায়েলি সেনাদের বিবরণ
৩৩৩ দিন আগে
চোখে সামনে যা পড়েছে, তা-ই হত্যা করেছি: ইসরায়েলি সেনাদের বিবরণ
‘যতদূর চোখ গিয়েছে, চোখের সামনে যা কিছু পেয়েছে, ধ্বংস করা হয়েছে। যেখানেই কোনো ধরনের নড়াচড়া চোখে পড়েছে, গুলি করে তা স্তিমিত করে দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা যেন আর কোনোদিনই এখানে ফিরতে না পারেন, সেই ব্যবস্থাই করেছে সেনারা।’
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাদের চালানো গণহত্যার বিবরণ এটি। পরিচয় গোপন করে নিজেদের অপরাধের এই স্বীকারক্তি দিয়েছে কয়েকজন ইসরায়েলি সেনা।
শুধু তাই নয়; বাফার জোনকে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করার ‘কিলিং জোনে’ পরিণত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের ট্যাঙ্ক স্কোয়াডে থাকা এক সেনা কর্মকর্তা। ট্যাঙ্কগুলোর ৫০০ মিটারের মধ্যে কেউ এলেই তাকে গুলি করা হত, হোক সে নারী বা শিশু!
হতভাগ্য ফিলিস্তিনিরা জানেনও না ঠিক কোন পর্যন্ত এই বাফার জোনের বিস্তৃতি। না জেনেই হয়তো প্রবেশ করে ফেলেন মরণ ফাঁদে।
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও দুই সাংবাদিক নিহত
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সেনা বলেন, ‘২০২৩ সালের অক্টোবরে তারা (হামাস যোদ্ধারা) আমাদের মেরেছে, তাই আমরা তাদের মারতে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে দেখছি, আমরা শুধু তাদের নয়, তাদের স্ত্রী, সন্তান, কুকুর, বিড়াল সব কিছুই মারছি।’
৩৩৩ দিন আগে
আইসিসি পরোয়ানা এড়াতে নেতানিয়াহুর বিমানের পথ পরিবর্তন: হারেৎস
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানার ঝুঁকি এড়াতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রবিবার (৬ এপ্রিল) তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেছেন।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎসের খবরে বলা হয়েছে, আসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে পারে এমন দেশগুলোর আকাশপথ এড়িয়ে চলতে স্বাভাবিক পথের চেয়ে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার বেশি পথ ঘুরেছেন তিনি।
আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো তাকে গ্রেফতার করতে তাকে বহনকারী বিমানের জরুরি অবতরণ করাতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন ইসরাইলি কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: গদি রক্ষায় পাখির মতো মানুষ মারছে নেতানিয়াহু?
গত বছরের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আইসিসি।
নেতানিয়াহুর হাঙ্গেরি সফরের আগেই ভিক্টর অরবানের সরকার জানায়, তারা ‘রোম সংবিধি’ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আইসিসির বিচারিক কাঠামোর ভিত্তি। যদিও সদস্যপদ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া কার্যকর হতে এক বছর সময় লাগে, হাঙ্গেরির সরকার আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি হওয়া পরোয়ানা কার্যকর করবে না।
রবিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছালে নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুকে স্থানীয় কর্মকর্তারা স্বাগত জানান। এই ঘটনা ইঙ্গিত দেয়, আন্তর্জাতিক আদালতের জারি করা পরোয়ানা কেবল কাগজে-কলমে নয়, বাস্তব কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সিদ্ধান্তেও গভীর প্রভাব ফেলে।
৩৩৩ দিন আগে