বিশ্ব
ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দিতে শুরু করেছে ইসরায়েল
হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে গাজার যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েলি কারাগার থেকে ৬ শতাধিক ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়া শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বন্দীদের মুক্তি দেওয়া শুরু করেছে ইসরায়েল।
ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো সিনহুয়াকে জানিয়েছে, মধ্য পশ্চিম তীরের ওফার কারাগার থেকে বন্দীদের বহনকারী বাসগুলো বেইতুনিয়া এলাকার একটি অভ্যর্থনা কেন্দ্রের দিকে রওনা হয়েছে।
হামাস সংশ্লিষ্ট প্রিজনার্স ইনফরমেশন অফিস জানিয়েছে, সপ্তম ও অষ্টম ব্যাচের বন্দী মুক্তির বিষয়টি একীভূত করা হয়েছে। যার ফলে মোট ৬৪২জন বন্দী মুক্তি পাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: গাজায় যুদ্ধবিরতি: আরেক দফা বন্দি বিনিময়ে সম্মত ইসরায়েল-হামাস
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির প্রথম ধাপের অংশ হিসেবে এসব বন্দী মুক্তি পাচ্ছেন। হামাস এটিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় বন্দী মুক্তির ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এক বিবৃতিতে বলেন, 'সপ্তম ও অষ্টম ব্যাচের বন্দিদের মুক্তির মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের একটি অর্জন আমরা প্রত্যক্ষ করছি, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বন্দী মুক্তি।’
তিনি আরও বলেন, হামাস যেকোনো বিনিময় চুক্তিতে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তিকে অগ্রাধিকার দেয়। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তারা মৃতদেহ বিনিময়ের জন্য নতুন পদ্ধতি সম্পর্কিত মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে সাড়া দিয়েছেন। যা প্রক্রিয়াটির প্রতি ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করে।
মঙ্গলবার হামাস ঘোষণা করেছে, ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিলম্বিত মুক্তি নিয়ে তারা একটি বিরোধ নিষ্পত্তি করেছে, যা মূলত গত শনিবার হওয়ার কথা ছিল। কায়রোতে হামাসের প্রতিনিধি দল ও মিশরীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার পর এই প্রস্তাব আনা হয়।
আরও পড়ুন: কেমন কাটছে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাবাসীর জীবন?
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে আশ্বাস দাবির পরে বন্দীদের মুক্তিতে এই বিলম্ব হয়। আগের বন্দী বিনিময় কার্যক্রমের সময় হামাস আয়োজিত ‘উসকানিমূলক সামরিক কুচকাওয়াজ’র পুনরাবৃত্তি হবে না। যেটিকে তিনি ‘ইসরায়েলি জিম্মিদের অধিকারের জন্য অপমানজনক’ বলে মনে করেছিলেন।
৩৭৩ দিন আগে
অভিবাসন নীতিতে কঠোর ট্রাম্প, তবে ধনী হলে অন্য কথা
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ধনকুবের বিদেশি ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করতে সেই তিনিই এবার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘গোল্ড কার্ড’ নামে এক নতুন অভিভাসন নীতির কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তবে এই সুবিধা নিতে গুণতে হবে বিরাট অঙ্কের অর্থ, ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ৬০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা)।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ওভাল অফিস থেকে এই ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘আমরা গোল্ড কার্ড বিক্রি করতে যাচ্ছি, যার প্রত্যেকটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ লাখ ডলার।’
‘এই গোল্ড কার্ড গ্রিন কার্ডের সুবিধা দেবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ারও পথও সুগম করবে। ধনী ব্যক্তিরা এই কার্ড কিনে যক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে পারবেন।’
আরও পড়ুন: শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প
দুই সপ্তাহের মধ্যে এই কার্ড বিক্রি শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, লাখ লাখ কার্ড বিক্রির আশা করছেন তারা।
ট্রাম্পের বাণিজ্যসচিব হাওয়ার্ড লুটনিক এ সময় ইবি-৫ (গ্রিন কার্ড) প্রোগ্রামের সমালোচনা করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান ইবি-৫ ভিসা কর্মসূচির জায়গায় নতুন এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।
তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আবেদনকারীদের ভেটিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তারা বিশ্বস্ত কিনা তা যাচাই করা হবে।’
রুশ ধনকুবেররাও এ গোল্ড কার্ড পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন কি না—জানতে চাইলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, তা তো হতেই পারে! বেশ কয়েকজন রুশ ধনকুবেরকে আমি চিনি, তারা তো বেশ ভালো মানুষ।’
১৯৯২ সালে প্রথম ইবি-৫ কর্মসূচি চালু করে মার্কিন কংগ্রেস। এতে ন্যূনতম ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোতে (টিইএ) কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে ৮ লাখ ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতেন বিদেশিরা।
ট্রাম্প ও তার পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরাও এই কর্মসূচির সুবিধা নিয়ে বড় বড় কিছু প্রকল্পে অর্থায়ন করেছেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসে এই কর্মসূচিটি নিয়ে সমালোচনা ওঠে। যে লক্ষ্যে ইবি-৫ চালু করা হয়েছিল, সেখান থেকে এটি সরে যাচ্ছে বলে সে সময় অভিযোগ করা হয়। সমালোচকরা কর্মসূচিটির সংস্কার দাবি করেন।
আরও পড়ুন: চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধ: ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শি জিন পিংয়ের
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে টিইএতে ন্যূনতম বিনিয়োগ ৯ লাখ ডলার এবং অন্যান্য এলাকায় ১৮ লাখ ডলারে উন্নীত করার চেষ্টা করলেও ২০২১ সালে এক ফেডারেল জজ এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন।
এরপর ২০২২ সালে প্রোগ্রামটি আবার চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় বাইডেন প্রশাসন। বর্তমান বিনিয়োগ শর্তাবলী বাইডেনের আমলেই কার্যকর করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেই অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে একের পর এক নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের আইন বাতিল করেন, সীমান্তে জারি করেন জরুরি অবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান।
এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের আটক করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ সময়ে অভিবাসীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণেরও অভিযোগ উঠেছে।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই ‘গোল্ড কার্ড স্কিম’ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প এটিকে সরকারের জন্য বিপুল রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি ধনী ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করার হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন।
তবে কংগ্রেসে এই পরিকল্পনা বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষত অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
৩৭৩ দিন আগে
গাজায় যুদ্ধবিরতি: আরেক দফা বন্দি বিনিময়ে সম্মত ইসরায়েল-হামাস
ইসরায়েলি বন্দিদের মরদেহ হস্তান্তর ও বিনিময়ে শতাধিক ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে ইসরায়েল প্রশাসন ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরই মধ্যে দিয়ে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে আরেক দফা বন্দি বিনিময় হতে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতির মাধ্যমে ইসরায়েল ও হামাসের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চলতি সপ্তাহে শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ৬০০ ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের মুক্তি দেয়নি হামাস। স্থানীয় সময় রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক ঘোষণার মাধ্যমে বন্দি বিনিময় স্থগিত করে ইসরায়েল। হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্তির সময়ে ‘অপমানজনক অনুষ্ঠান’ করার প্রতিবাদে এ সিদ্ধান্ত নেয় নেতানিয়াহু প্রশাসন।
শনিবার হামাসের জিম্মি মুক্তির সময় জিম্মিদের সমবেত জনতার উদ্দেশে হাত নাড়তে দেখা যায়। এমনকি হামাসের দুই যোদ্ধার কপালে এক জিম্মি চুমু খাওয়ার ছবি, ভিডিও ভাইরাল হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে ইসরায়েল লেছে, ‘লজ্জাজনক অনুষ্ঠান ছাড়াই পরবর্তী জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শনিবারের নির্ধারিত ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
ইসরায়েলের এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানায় হামাস। একে যুদ্ধবিরতির চুক্তির ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, বন্দিদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় বসবে না তারা।
এই অচলাবস্থার কারণে চলমান ছয় সপ্তাহের প্রথম ধাপের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি স্থগিত করল ইসরায়েল: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
তবে মঙ্গলবার আরেক বিবৃতিতে হামাস জানায়, সশস্ত্র দলটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা খলিল আল হায়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কায়রো সফরকালে এই বিরোধ নিষ্পত্তির একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।
আলোচনায় অগ্রগতির ফলে চার ইসরায়েলি জিম্মির লাশ ও যুদ্ধবিরতির আওতায় মুক্তি পাওয়া কয়েকশ অতিরিক্ত ফিলিস্তিনি বন্দিকে ঘরে ফেরানোর পথ সুগম হয়েছে বলে জানানো হয়।
গত শনিবার যেসব ফিলিস্তিনির মুক্তি স্থগিত করা হয়েছিল, তাদের সমন্বয়ে চুক্তি অনুযায়ী নতুন বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলি জিম্মিদের লাশ হস্তান্তর করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে হামাস।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা হামাসের হাতে নিহত জিম্মিদের লাশ ফিরিয়ে আনার চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আজই (বুধবার) এই বিনিময় কার্যকর হতে পারে। কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান ছাড়াই মিসরীয় কর্তৃপক্ষের কাছে দেহগুলো হস্তান্তর করা হবে বলে ইয়নেট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এর আগে, শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) হামাস জিম্মিদের মুক্তির সময় একটি সমাবেশের আয়োজন করে। সেখানে ইসরায়েলি জিম্মিদের সমাবেশের উদ্দেশে হাত নাড়তে দেখা যায়। এমনকি এক জিম্মিকে হামাসের দুই যোদ্ধার কপালে চুমু খেতেও দেখা যায়। পরবর্তীতে এ ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ইসরায়েল এ ঘটনার প্রতিবাদ জানায়।
তবে মঙ্গলবারের ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের চুক্তির শর্ত পূরণ হবে। গাজায় গত ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ কার্যকর হয়। আর এ ধাপে ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে আটক কয়েকশ ফিলিস্তিনি ও বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে।
বন্দি বিনিময়ে এই অগ্রগতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যপ্রাচ্যে সফরের পথও সুগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি এবং যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়ে আলোচনায় উইটকফের অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: দুই জিম্মিকে ছাড়ল হামাস, ইসরায়েল মুক্তি দিল ৬০২ বন্দিকে
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে হঠাৎ হামলা চালায় হামাস। সে সময় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত হন। পাশাপাশি আরও প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যান হামাস যোদ্ধারা।
এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে পরের দিন থেকে গাজাজুড়ে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। আকাশ ও স্থলপথে গত প্রায় ১৫ মাস ধরে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৪৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে, এই সময়ে হামাসের ১৭ হাজারের বেশি যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। তবে এই তথ্যের পক্ষে তারা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।
ইসরায়েলের হামলায় ধ্বংসনগরীতে পরিণত হয়েছে গাজা। সেখানকার ৯০ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে; ধ্বংস হয়েছে অবকাঠামো, ভেঙে পড়েছে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা। পাশাপাশি লড়াই চলাকালে প্রয়োজনীয় ত্রাণবাহী ট্রাকগুলোকে গাজায় প্রবেশ করতে না দেওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে গাজাবাসীর।
৩৭৩ দিন আগে
থাইল্যান্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৭, আহত ৩২
থাইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় প্রাচিনবুরি প্রদেশের একটি সড়কে বাস উল্টে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দেশটির স্থানীয় সড়ক নিরাপত্তা কেন্দ্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বাস দুর্ঘটনার জায়গাটি তুলনামূলকভাবে ঢালু ছিল।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে সেনা অভিযানে ১০ জন নিহত
কেন্দ্রের মতে, স্থানীয় সময় ভোর ৩টার দিকে গাড়িটি উল্টে যায়। এসময় বাসটিতে ৪৯ জন যাত্রী ছিলেন। বাস উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই ১৬ জন নিহত হন। আর হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়।
এছাড়া আহত ৩২ জনকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাস্তার ওই অংশটি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে , বাসটির ব্রেক সিস্টেম কাজ না করার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
৩৭৪ দিন আগে
ইরাকের আদমশুমারির ফল ঘোষণা, জনসংখ্যা ৪ কোটি ৬১ লাখ
ইরাকে প্রায় চার দশক পরে অনুষ্ঠিত আদমশুমারিতে দেশটির জনসংখ্যা বেড়ে ৪ কোটি ৬১ লাখে পৌঁছেছে। গত বছর শুমারির শুরুতে করা প্রাথমিক অনুমানের চেয়েও যা ১০ লাখ বেশি। শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বি জনসংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে কুর্দিরা। সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে শুমারির ফলাফল ঘোষণা করেন ইরাকের পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মদ তামিম।
এর আগে ২০০৯ সালের বেসরকারি এক হিসাবে দেশটির জনসংখ্যা ছিল ৩ কোটি ১৬ লাখ। ইরাকের কর্মকর্তারা বলেন, ‘ভবিষ্যতে ইরাকের সম্পদ বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে এই শুমারির তথ্য সহযোগিতা করবে বলে তদের বিশ্বাস। দীর্ঘদিন পরে শুমারি অনুষ্ঠিত হওয়ায় একে সরকারের সাফল্য হিসেবে দেখছেন তারা।’
এ বিষয়ে দেশটির পরিকল্পনা মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে বর্তমান সরকারের কতখানি দৃঢ়সংকল্প, তারই প্রমাণ বহন করে এই উদ্যোগ।’
দশকের পর দশক ধরে চলা যুদ্ধে নানা দিক থেকেই ক্ষত-বিক্ষত ইরাক। দেশটির অর্থনীতিতে চলছে অস্থিরতা। দেশে চলমান বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করেছে দেশটির সরকার।
আরও পড়ুন: আইসিজে’র প্রেসিডেন্ট নওয়াফ সালাম লেবাননের নতুন প্রধানমন্ত্রী
এরই ধারাবাহিকতায় ইরাকের আদমশুমারির আয়োজন করা হয়েছে। শুমারিতে দেশটির অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও বাসস্থান সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও ইরাক এবং দেশটির উত্তরাঞ্চলের আধা-স্বায়ত্বশাসিত কুর্দি অঞ্চলের তথ্য শুমারিতে আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
শুমারির তথ্যমতে, ফেডারেল ইরাকের মোট জনসংখ্যার ৭০ দশমিক ২ শতাংশ শহরে বাস করেন। অন্যদিকে কুর্দি জনগোষ্ঠীর ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ লোক শহরগুলোতে বাস করেন।
ফেডারেল ইরাকের থেকে অর্থনৈতিক দিক থেকেও তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছেন কুর্দিরা। ফেডারেল ইরাকের তুলনায় কর্মক্ষম জনসংখ্যা বেশি কুর্দি অঞ্চলে। কুর্দিতে ৪৬ শতাংশ জনগণ অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল, সেখানে ইরাকে ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ।
এমনকি শিক্ষাক্ষেত্রে যেখানে ৯৩ শতাংশ কুর্দি শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, সেখানে ফেডারেল ইরাকের ৮৮ শতাংশ শিশু স্কুলে যায়। তবে শুমারির তথ্যমতে, ফেডারেল ইরাকের জনগণ বাড়ির মালিকানা, বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
শুমারির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে ইরাকের পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘চার দশকের মধ্যে প্রথমবার আয়োজিত এই আদমশুমারি সফলতার সঙ্গে শেষ করেছে ফেডারেল সরকার।’
গত নভেম্বরে আদমশুমারি পরিচালনা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দেশটির ১৮টি প্রদেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ কাজে ১ লাখ ২০ হাজার গবেষক নিয়োগ করে সরকার।
এর আগে ১৯৮৭ সালে যখন সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতায় থাকাকালীন আদমশুমারি করা হয়েছিল ইরাকে।
৩৭৪ দিন আগে
কেমন কাটছে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাবাসীর জীবন?
রাতের ঘুটঘুটে কালো অন্ধকার কেমন যেন একটা ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি করে, যা কোমলমতি শিশুদের মনে ভয়ের সৃষ্টি করে। যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত গাজার রাতগুলো যেন অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে আরও বেশি ভয়ানক!
গাজা উপত্যকায় যখন রাত নামে ভাঙা ঘরবাড়ির বিভিন্ন অংশ অন্ধকারে ঢেকে গিয়ে ভয়ার্ত দৃশ্য তৈরি করে। এতে আতঙ্কিত হয় শিশুরা।
ইসরায়েলের তান্ডবে নিজের বাড়ি বিধ্বস্ত হলেও ধংসস্তূপের মধ্যেই বাস করছেন ফিলিস্তিনি নারী রাওয়া তাম্বুরা ও তার বাচ্চারা। তবে রাত হলেই অন্ধকারে নিজেদের বাড়ির ভগ্নদশায় ভয় পায় তার ছেলেরা।
ভয় তাড়াতে বাধ্য হয়ে মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে রাখেন তাম্বুরা। অবশ্য যতক্ষণ চার্জ থাকে মোবাইলে। পনেরো মাসের হামলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে গাজায়। তার কর্মস্থলে থাকা একটি জেনারেটরে রোজ চার্জ করে আনেন মোবাইল।
আরও পড়ুন: এবার অধিকৃত পশ্চিমতীরে ট্যাংক পাঠাল ইসরায়েল
দীর্ঘ ১৬ মাস পর বাড়ি ফিরেছেন তাম্বুরা। যদিও বাড়ি বলতে সেই অর্থে কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। প্রচণ্ড হতাশা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে পানি, বিদ্যুৎ, তীব্র শীতে উষ্ণতা পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা, এমনকি ময়লা আবর্জনা দূর করার উপায়ও তাদের নেই।’
জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজায় যুদ্ধ-বিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রায় ৬ লাখ বাস্তুচ্যুত গাজাবাসী প্রবল আগ্রহ উদ্দিপনা নিয়ে নিজেদের বাসস্থানে ফিরেছিলেন।
তবে ঘরে ফেরার আনন্দে বিভোর গাজাবাসী ধীরে ধীরে অনুভব করতে শুরু করেছেন তাদের কঠোর বাস্তবতা। ঠিক কতদিন তাদের এই মানবেতর জীবনযাপন করতে হবে তার কোনো ইয়ত্তা নেই।
কয়েক কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে খাবার পানি আনেন তারা। নেই খাবারেরও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। খাবার রান্না করতে হলে মাইলের পর মাইল খুঁজতে হয় জ্বালানি। ভাঙা বাড়িঘর গুলো থেকে ইট-পাথর সরানোর মতো কোনো সরঞ্জামও নেই গাজাবাসীর কাছে।
তাম্বুরা বলেন, ‘গাজাবাসী এতটা কষ্টে রয়েছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন এরকম যুদ্ধবিরতির চেয়ে তারা যুদ্ধে শহীদ হলেই ভালো হতো।’ তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, ভবিষ্যতে আমরা কি করবো, আমি আর কিছু চিন্তা করতে পারছি না।’
এদিকে, আগামী শনিবার (১ মার্চ) শেষ হতে চলেছে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ। দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। পুনরায় চুক্তি হবে কিনা তা অনিশ্চিত। যদি চুক্তি না করে ইসরায়েল পুনরায় হামলা করে অসহায় গাজাবাসীর ভাগ্যে কি রয়েছে, তারা নিজেরাও তা জানেন না। আশ্রয়ের সন্ধানে কোথায় যাবেন জানেন না দুর্ভাগা মানুষগুলো।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি স্থগিত করল ইসরায়েল: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
অন্যদিকে ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই গাজার পুনর্গঠন নিয়ে নানা পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বিশ্বব্যাংকের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের হিসাব মতে গাজাকে ফের বসবাসযোগ্য করে তুলতে প্রায় ৫৩০ কোটি টাকা (৫৩ বিলিয়ন ডলার) প্রয়োজন। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কিভাবে আর কোন উৎস থেকে আসবে তা নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রাথমিকভাবে মানুষগুলো যেন কোনোভাবে বাস করতে পারে উপত্যকাটিতে সেটি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, আশ্রয়ের জন্য তাঁবু, খাবার পানি ও রান্না করার ব্যবস্থা করতে শুরু করেছে তারা।
তবে একদিকে ইসরায়েলের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত ঘরবাড়িতেই কোনোভাবে টিকে থাকার চেষ্টার মাঝেই আরেক শঙ্কা তৈরি করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে গাজাবাসীদের অন্যত্র সরিয়ে তিনি গাজা দখল করার ঘোষণা দেন। এর আগে তিনি গাজাকে পুর্নগঠনের নামে তার ‘ক্লিন গাজা’ মিশনের কথা বলেন। তিনি মিসর ও জর্ডানে গাজাবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার কথা বলেন।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছেন গাজার বাসিন্দারা। কোনো মূল্যেই তারা জন্মভূমি ত্যাগ করবেন না বলে জানান।
এই বিধ্বস্ত নগরীতেই নিজেদের অদৃষ্ট মেনে নিয়েই বাঁচতে শুরু করেছে গাজাবাসী। বৈইত লাহিয়ার তাম্বুরা রোজ ঘণ্টাখানেক হেঁটে গিয়ে একটি হাসপাতালে নার্সের চাকরি করেন। তার মাত্র ১২ বছর বয়সী ছেলে কয়েক কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে খাবার পানি সংগ্রহ করেন। তারা বাস করেন তাদের বাড়ির অর্ধেক ভাঙা একমাত্র রক্ষা পাওয়া রুমটিতে।
তাদের মতোই তেল আল হায়ার আসমা দাওইমাও ফিরেছেন নিজ বাসভূমে। কিন্তু তার বাড়িটির কিছুই অবশিষ্ট না থাকায় থাকছেন ভাড়া বাড়িতে। আসমা বলেন, ‘আমি এখানে ফেরার সাহস পাচ্ছিলাম না। সত্যটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিল যে আমাদের বাড়িটা আর নেই।’
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলিরা শুধু বাড়িই নয়, আমাদের স্বপও ভেঙে দিয়েছে।’ গাজার শহরে ফিরে ভাঙা বাড়ির ছোট একটি রুমে পুরো পরিবার নিয়ে বাস করছেন ২০ বছর বয়সী যুবক হুডা শায়েক। তার ভাষ্যে, অন্তত নিজের জন্মস্থানে তো রয়েছেন তারা।
এমনই মানসিক শক্তিতে বলীয়ান গাজাবাসী। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ জেনেও জন্মভূমির মাটি আটকে পড়ে রয়েছেন গাজার মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছে, গাজার পুর্নগঠনে লাগতে পারে কয়েক দশক।
জাতিসংঘ, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা অঞ্চলটিতে আরও বেশি পরিমানে ত্রান পাঠানোর চেষ্টা করছে।
৩৭৪ দিন আগে
পাকিস্তানে সেনা অভিযানে ১০ জন নিহত
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সেনাবাহিনীর অভিযানে ১০ জন নিহত হয়েছেন।স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এমন তথ্য দিয়েছে।-খবর সিনহুয়ারএতে বলা হয়, ‘গোয়েন্দা সূত্রে ওই এলাকাটিতে সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে এ অভিযান চালানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সন্ত্রাসীদের আস্তানা লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। এতে ১০ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়।’
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে সেনা অভিযানে নিহত ৩০ এলাকাটির সন্ত্রাসী হামলা নির্মূল করতে বর্তমানে 'ক্লিয়ারেন্স অপারেশন' নামে একটি অভিযান চলমান রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সেনাবাহিনী বলেছে, ‘দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদের বিপদ নির্মূল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।’
সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষত খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে।
নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করার পর থেকে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
৩৭৪ দিন আগে
সিরিয়ার সেনা ঘাঁটিতে অভিযান ইসরাইলি বাহিনীর
সিরিয়ার সেনা ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। সেখানে পাওয়া অস্ত্র জব্দ বা ধ্বংস করেছে। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই তথ্য জানায়।
প্যারাট্রুপারস ব্রিগেডের সেনারা বলেছে, ‘অভিযানের সময় প্যারাট্রুপার্স ব্রিগেডের সৈন্যরা 'সিরিয়ার আগের সরকারি বাহিনীর ফেলে যাওয়া রাইফেল, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম খুঁজে পায়। "খুঁজে পাওয়া সবকিছু বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বা নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।’
সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ডিসেম্বর থেকে তারা এ ধরনের 'বেশ কয়েকটি' অভিযান চালিয়েছে, যার মধ্যে 'অস্ত্র শনাক্ত, জব্দ ও ধ্বংস' করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করা ৪৭৪তম ব্রিগেডের এক ব্যাটালিয়ন কমান্ডার সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে বলেছেন, অভিযানের লক্ষ্য ছিল সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ‘সমস্ত অস্ত্র ও সক্ষমতা ধ্বংস করা’।
তিনি বলেন, ‘এটি ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ যেখানে আমরা রকেট, বিস্ফোরক এবং মাইন, অন্যান্য বিস্ফোরক এবং এমনকি ট্যাঙ্ক এবং সাঁজোয়া কর্মী বাহকও খুঁজে পেয়েছি, যেগুলো আমরা ধ্বংস করেছি।’
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী হারমন পর্বতের চূড়ায় এবং সিরিয়া সীমান্তের বাফার জোনে 'অনির্দিষ্টকালের' উপস্থিতি বজায় রাখবে। তিনি দামেস্কের দক্ষিণের অঞ্চলটিকে বেসামরিকীকরণের আহ্বান জানান।
গত বছরের ডিসেম্বরে বাশার আল আসাদ সরকারের পতনের পর ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত গোলান মালভূমি ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী বেসামরিক এলাকা বাফার জোনে স্থলবাহিনী মোতায়েন করে ইসরায়েল। বাফার জোনটি জাতিসংঘের ডিসএনগেজমেন্ট অবজারভার ফোর্সের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়, যা ১৯৭৪ সালের ডিসএনগেজমেন্ট সম্পর্কিত চুক্তির অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক নিন্দা সত্ত্বেও, ইসরায়েল পরে মাউন্ট হারমনের সিরিয়ান-নিয়ন্ত্রিত অংশে ‘কৌশলগত পয়েন্ট’ হিসাবে বর্ণনা করে এবং দাবি করে যে, এই পদক্ষেপটি ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে।
৩৭৫ দিন আগে
মাস্কের কানাডীয় নাগরিকত্ব বাতিলের পিটিশনে সই
মার্কিন ধনকুবের ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের কানাডীয় নাগরিকত্ব বাতিল করতে একটি পিটিশনে সই করেছেন দেড় লাখেরও বেশি মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে দেশটির স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে। একারণে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মাস্কের জন্মসূত্রে পাওয়া কানাডার নাগরিকত্ব বাতিলের দাবিতে এই পিটিশনে সই করেছেন দেশটির নাগরিকরা।
দ্য কানাডিয়ান প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার লেখক কোয়ালিয়া রিড এই পিটিশনটি কানাডার হাউস অব কমন্সে উত্থাপন করেন। নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির এমপি ও মাস্কের সমালোচক চার্লি অ্যাঙ্গাসের অর্থায়নে এই পিটিশনটি হয়েছে।’
ট্রাম্পঘনিষ্ঠ মাস্ক দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি টেসলা, স্পেসএক্স এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর প্রধান। মায়ের সূত্রে কানাডার নাগরিক মাস্ক। কানাডার সাসকাচোওয়ান প্রদেশের রাজধানী রেজিনা তার মায়ের জন্মস্থান।
আরও পড়ুন: কানাডাকে ‘সত্যিকার অর্থে’ ৫১তম অঙ্গরাজ্য করতে চাচ্ছেন ট্রাম্প: ট্রুডো
ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রশাসনের সরকারি দক্ষতা বিভাগের (ডিওজিই) প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় মাস্ককে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি দাখিল করা রিডের পিটিশনে অভিযোগ করা হয়েছে, মাস্ক ‘ট্রাম্পের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে কানাডার জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত’ হয়েছেন।
ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণ করেই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কানাডার পণ্যে উচ্চ শুল্কারোপ করেন। এছাড়াও কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত করার হুমকি দেন। এতে কানাডার জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
পিটিশনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া মানে মাস্ক এমন এক ‘বিদেশি সরকারের সদস্য, যারা কানাডার সার্বভৌমত্ব মুছে ফেলতে চায়।’
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর কাছে মাস্কের নাগরিকত্ব অবিলম্বে বাতিল করার এবং তার কানাডীয় পাসপোর্ট প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়েছে পিটিশনে। ট্রাম্প আগেও ট্রুডোকে ব্যঙ্গ করে ‘গভর্নর’ বলেছেন। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রধান নির্বাহীদের গর্ভনর বলা হয়।
গেল জানুয়ারিতে কানাডার ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টির প্রধানের পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন ট্রুডো, এই ঘোষণার পর মাস্ক এক্সে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন: মেক্সিকো ও কানাডার পণ্যে শুল্কারোপ করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প
কানাডার সংবাদমাধ্যম দ্য কানাডিয়ান প্রেস জানিয়েছে, সাধারণত এ ধরনের পিটিশনটি স্বীকৃতি পেতে কমপক্ষে ৫০০ স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। তাহলে সেটি হাউস অব কমন্সে উপস্থাপন করা যায় এবং সরকারিভাবে প্রতিক্রিয়া পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
রিডের পিটিশন সহজেই এই শর্ত পূরণ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। জানা যায়, রোববার রাত পর্যন্ত পিটিশনে প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার স্বাক্ষর পড়েছে এবং ক্রমেই স্বাক্ষরের সংখ্যা বাড়ছে। আগামী ২০ জুন পর্যন্ত স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হবে।
কানাডার হাইস অব কমন্সের কার্যক্রম আগামী ২৪ মার্চ পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে পার্লামেন্টের সদস্যদের ফিরে আসার আগেই দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৩৭৫ দিন আগে
এবার অধিকৃত পশ্চিমতীরে ট্যাংক পাঠাল ইসরায়েল
দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অধিকৃত পশ্চিমতীরে ট্যাংক পাঠিয়েছে ইসরায়েল। এতে পশ্চিমতীরে অস্থিরতা বাড়বে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ফিলিস্তিনি কতৃপক্ষ।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতানিয়াহুর সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি সেনাবাহিনীকে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। পশ্চিমতীরের শরণার্থী শিবিরে সন্ত্রাসবাদ দমনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এ ছাড়াও তিনি জানান, ‘অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের সেনারা এক বছর অবস্থান করবেন। এ সময় কোনো ফিলিস্তিনিকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’
১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দুদিন পর থেকে পশ্চিমতীরে অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধি করেছে ইসরায়েল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর হতে পশ্চিমতীরে এ পর্যন্ত ৮০০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে আট মাসের গর্ভবতী এক নারীর মৃত্যু বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি স্থগিত করল ইসরায়েল: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
পশ্চিমতীরে নিজেদের আধিপত্য দীর্ঘস্থায়ী করতে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন ফিলিস্তিনিরা। অঞ্চলটিতে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি সামরিক শাসনের অধীনে বাস করেন। এই অভিযানে গাজা উপত্যকার মতো পরিস্থিতি হতে পারে আশঙ্কা করছেন পশ্চিমতীরের ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা।
এর আগে, পশ্চিমতীরের কিছু শরণার্থী শিবির এলাকায় সেনাবাহিনীকে দীর্ঘদিন অবস্থানের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ওই এলাকাগুলো থেকে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ প্রাণভয়ে পালিয়ে গেছেন।
কয়েক দশক আগে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর পালিয়ে আসা ফিলিস্তিনিরা এই শিবিরগুলোতে বাস করতেন। চলমান অভিযান কবে শেষ হবে, কবে নাগাদ তাদের ফিরতে দেওয়া হবে; সে বিষয়ে সুস্পষ্ট করে কিছু জানায়নি ইসরায়েল প্রশাসন।
আরও পড়ুন: পশ্চিমতীরে এক হাজার অবৈধ বসতি নির্মাণ করবে ইসরায়েল
প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ বলেছেন, ‘সেনাবাহিনী চলতি বছর পুরোটাই অবস্থান করতে পারে।’ নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘যতদিন প্রয়োজন, সেনাবাহিনী ততদিন অবস্থান করবে।’
২০০২ সালে শেষবার পশ্চিম তীরে সাঁজোয়া যান পাঠিয়েছিল ইসরায়েল। সে সময় শক্তহাতে ফিলিস্তিনি আন্দোলন দমন করেছিল তেলআবিব।
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অভিযানকে অবৈধ আগ্রাসন হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ আহ্বান করেছে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইসরায়েলি সেনাদের অভিযানে পশ্চিমতীরের অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।
জেনিন থেকে পালিয়ে আসা এক ফিলিস্তিনি মোহাম্মদ আল-সাদি বলেছেন, ‘পশ্চিম তীরের ভূমি আমাদের অধিকার। আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলের বাত ইয়াম ও হোলোন শহরের পার্কিং লটে তিনটি বাসে বিস্ফোরণ ঘটে।
ওই ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গভীর রাতে নিরাপত্তা পর্যালোচনা শেষে পশ্চিম তীরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।
এছাড়াও রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক ঘোষনার মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার সময় ‘অপমানজনক অনুষ্ঠান’ করার অভিযোগ এনে ৬২০ ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি আটকে দেয় ইসরায়েল প্রশাসন।
এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েল-হামাস দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চুক্তির মধ্যস্ততাকারী দেশ মিসর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্র তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বন্দিদের মুক্তি না দিলে কোনো চুক্তি হবেনা বলে জানিয়েছে হামাস। চুক্তির আলোচনা নিয়ে অগ্রগতি নিয়ে ইসরায়েল প্রশাসন থেকেও দেখা যায়নি কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ।
৩৭৫ দিন আগে