বিশ্ব
দুই জিম্মিকে ছাড়ল হামাস, ইসরায়েল মুক্তি দিল ৬০২ বন্দিকে
যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ৬ জিম্মির দুজনকে মুক্তি দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। বাকিদেরও ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় সময় শনিবারে (২২ ফেব্রুয়ারি) তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে ৬০২ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল।
এই বন্দি বিনিময়ের মধ্য দিয়ে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। ওই ছয় জিম্মির মধ্যে রয়েছেন, এলিয়া কোহেন (২৭), তাল শোহাম (৪০), ওমরশেম তোভ (২২) ও ওমর ওয়েনকার্ট (২৩)।
ইসরায়েল থেকে যারা মুক্তি পেয়েছেন, তাদের মধ্যে ৫০ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। এছাড়া মুক্তি পাওয়া আরও ৬০ বন্দি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলে কারাদণ্ড ভোগ করে আসছিলেন। আরও রয়েছেন আগে বন্দিবিনিময় চুক্তিতে মুক্তি পেয়েছিলেন এমন ৪৭ জন। মুক্তি পেতে যাওয়া বাকি ৪৪৫ জন গাজায় যুদ্ধচলাকালীন আটক হয়েছিলেন।
দোহাভিত্তিক আল-জাজিরার খবর বলছে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
আরও পড়ুন: হামাস একটি অজ্ঞাত লাশ ফেরত দিয়েছে, অভিযোগ ইসরায়েলের
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার হামাসের সদস্যদের হাতে জিম্মি হয়েছিলেন তারা। তবে হিশাম আল-সায়েদ (৩৬) ও আভেরা মেঙ্গিস্তু (৩৯) প্রায় এক দশক আগে গাজায় প্রবেশ করার পর হামাসের হাতে আটক হয়েছিলেন।
এর আগে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বেশ কয়েকবার ভাঙনের মুখে পড়লেও ১৯ জানুয়ারি কার্যকর হওয়া চুক্তিটি শেষ হয়েছে। চুক্তির শর্তানুসারে প্রথম ধাপে ৩৩ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিকে হস্তান্তর করার কথা ছিল। এরই মধ্যে বেশির ভাগ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। কয়েকশ ফিলিস্তানিও ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) যুদ্ধবিরতির চুক্তির আওতায় চলমান বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে জিম্মি অবস্থায় মারা যাওয়া চার ইসরায়েলির লাশ ফেরত দেয় হামাস। যাদের মধ্যে ছিল ইসরায়েলের কেফির বিবাস ও এরিয়েলের সঙ্গে তাঁদের মা জিম্মি শিরি বিবাসের মরদেহ।
আরও পড়ুন: হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি: চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা
তবে কেফির ও এরিয়েলের মরদেহ শনাক্ত করা গেলেও শিরির মরদেহের স্থলে অজ্ঞাতনামা একটি মরদেহ শনাক্ত করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। অজ্ঞাতনামা মরদেহ হস্তান্তরের মাধ্যমে হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বোনয়ামিন নেতানিয়াহু প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।
তবে হামাস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত শিরি ও তাঁর দুই ছেলের মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারের পর শিরির দেহ অন্য মরদেহের সঙ্গে মিশে গেছে বলে মনে হচ্ছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) হামাস আরেকটি মৃতদেহ হস্তান্তর করেছে। ওই মরদেহটি শিরির বলে ইসরায়েলি ফরেনসিক কর্মকর্তারা পরিচয় নিশ্চিত করেছেন বলে নিহতের পরিবার থেকে জানানো হয়েছে।
চলমান এই অস্থিরতা স্বত্তেও শনিবার ৬ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছে হামাসের সমরিক শাখা কাশেম ব্রিগেড। আগামী সপ্তাহে আরও ৪ মরদেহ হস্তান্তরের কথা রয়েছে হামাসের।
যুদ্ধ বিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে ৬৪ ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির কথা রয়েছে, বিনিময়ে মুক্তি পাবেন কয়েক শ ফিলিস্তিনি। তবে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
৩৭৭ দিন আগে
শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন যুদ্ধবিমানের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ও চার তারকাবিশিষ্ট পাইলট সি কিউ ব্রাউনকে বরখাস্ত করে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তর পেন্টাগনে যে অস্থিরতা চলছে, তার সর্বশেষ ঘটনা এটি।
শুক্রবার ( ২১ ফেব্রুয়ারি) এক ঘোষণার মাধ্যমে জেনারেল ব্রাউনকে অপসারণ করে বিমানবাহিনীর তিন তারকাবিশিষ্ট অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ড্যান কেইনকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর বলছে, এই সিদ্ধান্ত পেন্টাগনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ যাকে অপসারণ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করা দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি তিনি। বাইডেন প্রশাসনের সময়ে এ পদে নিয়োজিত হয় ব্রাউন।
একজন সম্মানিত ও দায়িত্বশীল পাইলটকে অপসারণের এ সিদ্ধান্তকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের চলমান বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচিতে (ডিইআই) নিয়োজিত সামরিক কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার প্রকল্পের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বন্যা ও ঝড়ে ৯ জনের মৃত্যু
স্থানীয় সময় শুক্রবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে জেনারেল চার্লস কিউ ব্রাউনকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ৪০ বছরে সেবা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প। এ সময়কে ব্রাউনকে তিনি একজন ভদ্রলোক ও অসাধারণ নেতা হিসেবে অভিহিত করে তাকে ও তার পরিবারকে শুভকামনা জানান।
ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে আরও পাঁচজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে নির্দেশনা দিয়েছি। যেগুলো খুব দ্রুতই ঘোষণা করা হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রে আলোচিত কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের পুলিশি হত্যার পর ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনে প্রকাশ্য সমর্থন দেওয়ায় ব্রাউন সামরিক বাহিনীতে লক্ষ্যবস্তু হয়। সামাজিক ন্যায়বিচার, বর্ণবাদ ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সামারিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের বিরোধীতাকারী ট্রাম্প প্রশাসন।
পেন্টাগন আগামী সপ্তাহ থেকে ৫ হাজার ৪০০ জন বেসামরিক প্রবেশনারি কর্মী ছাঁটাই করার পাশাপাশি আগামী বছর বাতিল করা যেতে পারে এমন ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কর্মসূচি চিহ্নিত করার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
শুক্রবার এক বিবৃতির মাধ্যমে জেনারেল ব্রাউনের পাশাপাশি নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রাঙ্কচেট্টি ও বিমান বাহিনীর উপপ্রধান জেনারেল জেমস স্লিফকে বরখাস্তের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
নৌবাহিনীর প্রধান লিসা ফ্রাঙ্কচেট্টি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ এবং নৌবাহিনীর প্রথম নারী প্রধান ছিলেন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ডিমের আকাশছোঁয়া দাম
জানুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি শুনানিতেই ব্রাউনকে অপসারণ করার ব্যাপারে শঙ্কা তৈরি হয়। তাকে বরখাস্ত করা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, ‘সব সিনিয়র কর্মকর্তাকে যোগ্যতা, যুদ্ধক্ষমতা ও আইনের আদেশ পালনে তাদের অঙ্গীকারের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।’ ব্রাউনের মনোযোগ ডিইআই-এ সামরিক দায়িত্বের চেয়ে বেশি বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।
হেগসেথ এর আগেও ব্রাউনকে লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন। নভেম্বরে এক অনুষ্ঠারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘সবার আগে আপনাকে জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করতে হবে।’
এছাড়া তার এক বইয়ে কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ার কারণেই ব্রাউন এই পদ পেয়েছিলেন কিনা সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন হেগসেথ।
৩৭৭ দিন আগে
ক্রিপ্টোকারেন্সির ১৫০ কোটি ডলার চুরি
অত্যাধুনিক হ্যাকের শিকার হয়েছে ডিজিটাল মূদ্রা ক্রিপ্টোকারেন্সির ১৫০ কোটি ডলার। প্রধান একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, এটি এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় অনলাইন চুরির ঘটনা।
বাইবিট শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বলেছে, ডিজিটাল ওয়ালেটগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথেরিয়ামের একটি নিয়মিত স্থানান্তরে একজন আক্রমণকারী ‘কারচুপি’ করেছে। এর মাধ্যমে তিনি ক্রিপ্টোটিকে একটি অজ্ঞাত ঠিকানায় স্থানান্তর করেছেন।
এক্সচেঞ্জে তাদের ক্রিপ্টোকারেন্সির ঠিকানাগুলো নিরাপদ রয়েছে বলে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, হ্যাকিংয়ের খবরে কারেন্সি তুলে নেওয়ার অনুরোধ বেড়েছে এবং সেগুলো প্রক্রিয়াকরণে বিলম্ব হতে পারে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি: ফিলিপাইনের সাবেক ব্যাংক ম্যানেজারের কারাদণ্ড
বাইবিটের প্রধান নির্বাহী বেন ঝৌ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, হ্যাক হওয়া ক্রিপ্টো পুনরুদ্ধার না হলেও তার কোম্পানি সচ্ছল থাকবে।
তিনি বলেন, 'আমরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব।‘
ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করা হ্যাকারদের একটি প্রিয় কৌশল। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় হ্যাকাররা, বিশেষত, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি উচ্চ-ডলারের ক্রিপ্টো চুরির ঘটনায় জড়িত হয়েছে।
গত ডিসেম্বরে জাপানের এফবিআই, প্রতিরক্ষা বিভাগ ও ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সি এক যৌথ বিবৃতি দিয়ে জাপানের একটি ক্রিপ্টো ফার্ম থেকে ৩০৮ মিলিয়ন ডলার চুরির জন্য উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের দায়ী করে।
আরও পড়ুন: রিজার্ভ চুরি: জরিমানা করা অর্থ চায় ঢাকা
৩৭৭ দিন আগে
হামাস একটি অজ্ঞাত লাশ ফেরত দিয়েছে, অভিযোগ ইসরায়েলের
যুদ্ধবিরতির চুক্তির আওতায় চলমান বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে জিম্মি অবস্থায় মারা যাওয়া চার ইসরায়েলির লাশ ফেরত দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েল বলেছে, তারা ফরেনসিক বিশ্লেষণ নিশ্চিত করেছে যে, হামাসের কাছ থেকে জিম্মি শিরি বিবাসের লাশ হিসেবে পাওয়া মৃতদেহটি তার নয়। শিরি বিবাসের লাশ তার দুই সন্তান এবং অন্য এক ইসরায়েলির লাশের সঙ্গে হস্তান্তর করার কথা ছিল।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক মেডিসিন শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় জানা গেছে, লাশটি পরিচিত কোনো জিম্মির নয়। এতে বলা হয়, ‘এটি একটি সাধারণ ও অপরিচিত ব্যক্তির মৃতদেহ।’
আরও পড়ুন: দামেস্কে পা রাখতে পেরে আপ্লুত দুই ইহুদি ধর্মাবলম্বী
হামাস চার জিম্মির মৃতদেহ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
বিবাসের দুই ছেলের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। নিহত হওয়ার সময় এরিয়েলের বয়স ছিল চার বছর এবং কাফির বিবাসের বয়স ছিল ১০ মাস।
ইসরায়লি সেনাবাহিনী বলেছে, 'আমাদের কাছে থাকা গোয়েন্দা তথ্য এবং শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার ফরেনসিক তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের নভেম্বরে এরিয়েল ও কাফিরকে বন্দি অবস্থায় সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে।’
কিব্বুটজ নীর ওজের বাড়ি থেকে মায়ের সঙ্গে শিশুদের অপহরণ করা হয়েছিল। তাদের বাবা ইয়ার্ডেন বিবাসকে আলাদাভাবে নেওয়া হলেও ১ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে আরেক জিম্মি অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও শান্তি কর্মী ওদেদ লিফশিটজের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি: চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা
৩৭৯ দিন আগে
ইউরোপকে জেগে ওঠার আহ্বান গ্রিসের প্রধানমন্ত্রীর
ইউরোপকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ও ইউরোপীয় দেশগুলোর স্বার্থরক্ষায় সজাগ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস। এ সময় ইউরোপের নিজস্ব সেনাবাহিনী গঠনের ওপরও গুরুত্ব দিন তিনি। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই বক্তব্য দেন মিতসোতাকিস।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ) গ্রিসের থেসলানোকির একটি বাণিজ্যিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন মিতসোতাকিস।
সম্প্রতি ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলোকে বাদ দিয়ে ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়; বিতর্কিত মন্তব্যও করে যাচ্ছেন অনবরত। ইউক্রেন থেকে মুখ ফিরিয়ে ঝুঁকছেন রাশিয়ার দিকে।
যুক্তরাষ্ট্রের এহেন কর্মকান্ড খোদ দেশটিরই বহুদিনের পররাষ্ট্রনীতির বড়সড় পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করছে। চিন্তিত হয়ে পড়েছেন ইউরোপের নেতারাও।
আরও পড়ুন: ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প-জেলেনস্কি দ্বন্দ্বে
মঙ্গলবারে সৌদি আরবে রুশ-মার্কিন বৈঠক নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা তখন ট্রাম্প ও জেলেনস্কির দ্বন্দ্ব ইউরোপের নেতাদের চিন্তা আরও কয়েকগুন বাড়িয়ে দিয়েছে।
বৈঠকে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ‘রাশিয়ার বিভ্রান্তিকর তথ্যের ফাঁদে’ পড়েছেন। কিয়েভকে ছাড়া করা বৈঠকের কোনো সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়ার কথাও সুস্পষ্ট করে জানান দেন তিনি।
তার বক্তব্যের জবাবে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে দ্রুতই আলোচনার টেবিলে বসতে জেলেনস্কিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। এ সময় জেলেনস্কিকে ‘অনির্বাচিত স্বৈরশাসক’ বলেও আখ্যা দেন তিনি।
দুই নেতার এই দ্বন্দ্ব ইউরোপীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে ইউরোপে যে ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, দ্রুতই তা কাটিয়ে উঠতে উদ্যোগ নিতে হবে তাদের।
এ সময় মিতসোতাকিস বলেন, ইউরোপের নিজস্ব একটি সেনাবাহিনী প্রস্তুত করার দাবি বেশ পুরনো। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ও দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে যে পরিবর্তন দেখা দিয়েছে; তা ইউরোপের সেনাবাহিনী গঠনের যে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা তা বাস্তবায়নকে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
এর আগে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টও ইউরোপের নিজস্ব সেনাবাহিনী গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরেই কী ইউক্রেন জয়ের পথে রাশিয়া?
মূলত, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর উপরই নির্ভরশীল ইউরোপের দেশগুলো। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্রমাগত ইউরোপকে প্রতিরক্ষায় বেশি বিনিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছেন ট্রাম্প ।
শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইউরোপকে অবশ্যই আরও বেশি সামরিক শক্তি প্রদর্শন করতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলোর নতুন করে নিজেদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বৈশ্বিক কূটনৈতিকবৃন্দ।
৩৭৯ দিন আগে
দামেস্কে পা রাখতে পেরে আপ্লুত দুই ইহুদি ধর্মাবলম্বী
প্রায় তিন দশক পর সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক শহরে পা রেখেছেন দুই ইহুদি ধর্মাবলম্বী। এসময় বাবা রাব্বি জোশেফ হামরা ও ছেলে হেনরি দামেস্কের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি সিনাগগে (ইহুদি উপাসনালয়) হিব্রু ভাষায় হাতে লেখা একটি তাওরাত পাঠ করেন। বহুবছর বছর পর নিজ দেশে পা রাখতে পেরে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তারা। খবর আরব নিউজের।
বিংশ শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে জোসেফ হামরা ও ছেলে হেনরি সিরিয়া ছেড়ে পাড়ি জমান নিউ ইয়র্কে। সে সময়ে সিরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাফিজ আল-আসাদ দেশটির ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে সিরিয়ার কয়েক হাজার ইহুদির মধ্যে প্রায় সকলেই সিরিয়া ছাড়তে বাধ্য হন। সে সময় জোসেফও পালিয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রে।
গত বছরের ৯ ডিসেম্বর বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামসের (এইচটিএস) হাতে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। এর মাধ্যমে প্রায় ৫০ বছর ধরে চলা আসাদ পরিবারের শাসনের অবসান ঘটে।
এরপরই জোসেফ হামরার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রচারগোষ্ঠী সিরিয়ান ইমার্জেন্সি টাস্ক ফোর্সের সহায়তায় দামেস্কে সফরের পরিকল্পনা করেন। সিরিয়াতে এসে তারা দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
নতুন কর্তৃপক্ষ বলেছে, সিরিয়ার সব সম্প্রদায় তাদের দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে ভূমিকা রাখবে। তারা অসাম্প্রদায়িক দেশগড়ার কথা বললেও ইতোমধ্যে দেশটিতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বেশ কয়েকটির ঘটনা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন: সিরিয়ায় অতর্কিত হামলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৪ কর্মকর্তা নিহত, আহত ১০
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাক্ষাৎ শেষে ৪৮ বছর বয়সী হেনরি হামরা বলেন, অর্ন্তবর্তী সরকার ইহুদি ঐতিহ্য রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের সহায়তা চাই, সরকারের নিরাপত্তা চাই।’
ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন দামেস্কের আল-কাদিমা শহরের একটি সরু গলি দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হেনরি ও জোসেফ তাদের এক সময়ের প্রতিবেশী ফিলিস্তিনি সিরীয়বাসীদের কাছে ছুটে যান।
পরে বেশ কয়েকটি সিনাগগে হাতে আঁকা হিব্রু অক্ষর দেখে অবাক হন। হেনরি বলেন, ‘আমি চাই আমার বাচ্চারা ফিরে আসুক এবং এই সুন্দর উপাসনালয়টি দেখুক। এটি একটি শিল্পকর্ম।’
আল-কাদিমা শহরের সিনাগগ এবং ইহুদি স্কুলটি অপেক্ষাকৃত ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকলেও, দামেস্কের পূর্বাঞ্চলীয় জোবার শহরে অবস্থিত সিরিয়ার সবচেয়ে বড় সিনাগগটি প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত বহুযুগ ধরে জোবার ছিল ইহুদি সম্প্রদায়ের আবাসস্থল। এই শহরে বাইবেলের নবী এলিয়ের সম্মানে নির্মিত এই বৃহৎ সিনাগগটি ধ্বংসের আগে হয়েছিল লুটপাটের শিকার।
৩৭৯ দিন আগে
কাশ্মীরে অভিযান চালিয়ে ৬৬৮ বই জব্দ করল পুলিশ
ভারতশাসিত কাশ্মীরে কয়েক ডজন বুকস্টোরে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৬০০ বই জব্দ করেছে পুলিশ। এসব বইয়ের বেশির ভাগই জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর লেখা।
গেল শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) কাশ্মীরের প্রধান শহর শ্রীনগরে অভিযান শুরু করেছে ভারতীয় পুলিশ। সম্প্রতি অঞ্চলটিতে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। ২০১৯ সালে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছে ভারতীয় সরকার। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এমন খবর দিয়েছে।
এক বিবৃতিতে শ্রীনগর পুলিশ জানিয়েছে, ‘একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের মতাদর্শ প্রচারে গোপনে এসব সাহিত্য বিক্রি ও বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানতে পারি। পরে অভিযান চালিয়ে ৬৬৮টি বই জব্দ করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: জব্দ অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা উদ্ধারের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএফআইইউ
বইগুলোর বেশিরভাগেরই প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লিভিত্তিক মারকাজি মাকতাবা ইসলামী পাবলিশার্স। জামায়াতে ইসলামীর ভারতীয় শাখার সঙ্গে এই প্রকাশনীর সম্পর্ক রয়েছে।
পুলিশ বলছে, ‘এসব বইয়ে আইনগত বিধিবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যাদের কাছে এগুলো পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জামায়াতে ইসলামীকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ওই একই বছরে কাশ্মীরের আংশিক স্বায়ত্তশাসনও বাতিল করে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। এরপর থেকে অঞ্চলটিতে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।
এই বই জব্দকে মানবাধিকার লঙ্ঘন আখ্যায়িত করে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলেন, ‘এটা অন্যায় ও অসাংবিধানিক। ভারতে বৈধভাবেই এগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।’
‘যদি সরকারের কোনো নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ থাকে, তবে যেকোনো তদন্তে সহযোগিতা করতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত,’ বলেন তারা। এই বই জব্দকে স্বেচ্ছাচারী ও অন্যায় পদক্ষেপ বলে আখ্যায়িত করেছে জামায়াতে ইসলামী।
সংগঠনটি জানিয়েছে, ‘পুলিশ যদি কোনো বৈধ তদন্তও করে, এই বই জব্দের ঘটনা, সেটার মধ্যেও পাড়ে না; বরং আমাদের কোণঠাসা করতেই তারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছে।’
এই বই জব্দের নিন্দা জানিয়েছেন কাশ্মীরের প্রধান ধর্মীয় নেতা ওমর ফারুক। তিনি বলেন, ‘এটা খুবই হাস্যকর। কারণ বর্তমান সময়ে এসে যখন ভার্চ্যুয়াল জগতে সব তথ্য পাওয়া যায়, সেখানে তারা অভিযান চালিয়ে বই জব্দ করছেন। এটা অদ্ভুত ঘটনা।’
আরও পড়ুন: ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত থেকে জব্দ ৩৫ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই কাশ্মীর সংঘাত চলছে। পুরো অঞ্চলটিকে নিজেদের বলে দাবি করছে ভারত-পাকিস্তান। এদিকে স্বাধীনতাকামীরাও ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রেখেছেন।
৩৮০ দিন আগে
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প-জেলেনস্কি দ্বন্দ্বে
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে দ্রুতই আলোচনার টেবিলে বসতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে হুঁশিয়ারি করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জেলেনস্কিকে ‘অনির্বাচিত স্বৈরশাসক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘শান্তি নিশ্চিত করতে হয় তাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে অথবা তার দেশকে হারানোর ঝুঁকি নিতে হবে।’
দুই নেতার এই দ্বন্দ্ব ইউরোপীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু করার জন্য ইউক্রেনকেই দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যাতে হাজার হাজার ইউক্রেনীয়কে জীবন দিতে হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘ভোটারদের মধ্যে তার (জেলেনস্কির) জনপ্রিয়তা তলানিতে চলে গেছে।’ আর বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার ছড়ানোর ভুল তথ্যের জগতেই বাস করছেন ট্রাম্প।’
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরেই কী ইউক্রেন জয়ের পথে রাশিয়া?
যদিও যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার নিজস্ব বয়ানের বাইরেও এসব এসব তথ্য ছড়িয়েছে বলে দাবি করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জেলেনস্কিকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি তিন বছর ধরে এই যুদ্ধের মধ্যে আছেন, আপনার এটা বন্ধ করা উচিত...আপনার এটা শুরু করা উচিত হয়নি, আপনার উচিত ছিল একটি চুক্তিতে পৌঁছানো।’
পশ্চিম ইউক্রেনে রুশভাষীদের রক্ষায় ও ইউক্রেন যাতে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দিতে না পারে, সে জন্য ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
জেলেনস্কিকে নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটদলীয় আইনপ্রণেতারা। কয়েকজন রিপাবলিকানকেও তাতে যোগ দিতে দেখা গেছে। কংগ্রেসে দ্বিদলীয় সমর্থনেই এই যুদ্ধে ইউক্রেনকে সমর্থন দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প ‘রাশিয়ার বিভ্রান্তিকর তথ্যের ফাঁদে’ পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘এসব অপতথ্য দেখেছি, আমরা জানি এগুলো রাশিয়া থেকে এসেছে।’ এ সময়ে প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে এভাবে সমালোচনার বিপদ সম্পর্কেও সতর্ক করে দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইলকে তিনি বলেন, ‘জেলেনস্কি ট্রাম্পের যে সমালোচনা করছেন, তা এই ঘটনায় সহায়ক হবে না। সংবাদমাধ্যমে বাজে ভাষা ব্যবহার করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন গলানোর চেষ্টা করছেন জেলেনস্কি। সবাই জানেন যে প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এই প্রশাসনকে মোকাবিলার জন্য এটা একটি জঘন্য উপায়।’
এদিকে যেসব শর্তে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেগুলো রাশিয়ার জন্য অনেক বেশি অনুকূলে বলে দাবি করেছে কিয়েভ। কিন্তু সামাজিকমাধ্যম ট্রুথে ট্রাম্প বলেন, ‘একটু ভেবে দেখুন তো, একজন মাঝারি সফল কৌতুকাভিনেতা, ভলোদিমির জেলেনস্কি, এমন একটি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়াতে বলছেন, সাড়ে ৩০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে বলছেন, যেটাতে জয়ী হওয়া যাবে না, কখনোই এই যুদ্ধ শুরু করা উচিত হয়নি, যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্পকে ছাড়া এই যুদ্ধের অবসানও করতে পারবে না।’
এছাড়া এই যুদ্ধঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে যে সহায়তা দিয়েছে, জেলেনস্কি সেগুলোর অপব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। এরইমধ্যে যুদ্ধ বন্ধে মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা। এতে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের ডাকা হয়নি।
আরও পড়ুন: ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় নেই ইউক্রেন
ট্রাম্প বলেন, ‘জেলেনস্কের উচিত ছিল আগেই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে কাজ করা। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াই তার জন্য ভালো, নতুবা তিনি তার দেশকে হারাতে যাচ্ছেন। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে আমরা সফলভাবে আলোচনা করছি। সবাই এটা স্বীকার করবেন যে ট্রাম্প ও ট্রাম্প প্রশাসনই এটা পারে। ইউরোপ শান্তি আনতে ব্যর্থ হয়েছে, জেলেনস্কি সম্ভবত এই অপচেষ্টা অব্যাহত রাখতে চাচ্ছেন।’
৩৮০ দিন আগে
হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি: চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা
চলতি সপ্তাহে গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায় নিয়ে ‘পরোক্ষ’ আলোচনা শুরু করবে ইসরায়েল ও হামাস। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও ইসরায়েল প্রশাসন।—খবর আল জাজিরার
এদিকে হামাসের নেতা খলিল আল-হায়া বলেছেন, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলের বিবাস পরিবারের সদস্যসহ চার জিম্মির মরদেহ ফেরত দেওয়া হবে। এরপর শনিবার জীবিত ছয় জিম্মিকে হস্তান্তর করা হবে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, বৃহস্পতিবার চার জিম্মির মরদেহ, শনিবার ছয় জীবিত জিম্মি ও এরপর আরও চারজনের মুক্তি নিশ্চিত করতে মিসরের কায়রোতে একটি চুক্তি হয়েছে।
তবে জিম্মিদের পরিচয় প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নেতানিয়াহুর কার্যালয়। মৃত জিম্মিদের নাম প্রকাশের আগে তাদের শনাক্তকরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: পশ্চিমতীরে এক হাজার অবৈধ বসতি নির্মাণ করবে ইসরায়েল
যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা গত ৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তা শুরু হয়নি বলে জানায় কাতার। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘এটি (দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা) এ সপ্তাহেই হবে।’
তিন ধাপের যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপের আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে ইসরায়েল গত কয়েক সপ্তাহে মিশ্র সংকেত দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গাজায় ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ কার্যকর হয়। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ ৪২ দিন স্থায়ী হওয়ার কথা রয়েছে। এ ধাপে ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে আটক কয়েক শ ফিলিস্তিনি ও বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও মিসর ও কাতারের মধ্যস্ততায় এখনো চুক্তিটি কার্যকর রয়েছে।
আরও পড়ুন: গাজায় ‘জাহান্নামের সব দরজা’ খুলে দেওয়ার হুমকি ইসরায়েলের
দ্বিতীয় ধাপে ৬৪ ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির কথা রয়েছে, বিনিময়ে মুক্তি পাবেন কয়েক শ ফিলিস্তিনি। তবে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, এ ধাপে চুক্তির শর্তে যুদ্ধ পরবর্তী গাজার প্রশাসনের রূপ কেমন হবে, সে বিষয়টি রয়েছে।
এ বিষয়ে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে বড় মতপার্থক্য রয়েছে। গাজায় হামাসের অস্তিত্ব মেনে নেবে না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের কর্মকর্তারা।
৩৮০ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরেই কী ইউক্রেন জয়ের পথে রাশিয়া?
হয়ত এই মুহূর্তটির জন্যই অপেক্ষা করছিল রাশিয়া! ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, ‘যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় বসতে রাজি তিনি।’ যার সূত্র ধরে দুই প্রেসিডেন্টের দীর্ঘ ফোনালাপ এবং অবশেষে সৌদি আরবের রিয়াদে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
২০২২ সালে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রায় হাজারখানেক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও টলানো যায়নি যে পুতিনকে, সেই তিনি কেন হঠাৎ সমাধান চাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে?
এই প্রশ্নের সহজ উত্তর মিলবে মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার চিত্র থেকে।
ইউক্রেন আক্রমণের পর এই প্রথম রাশিয়ার উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা। যে ইউক্রেনকে ঘিরে এতকিছু তাকেই রাখা হয়েছে আলোচনার টেবিলের বাইরে। আর যেখানে ইউরোপের নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা সেই ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কোনো দেশকে আমন্ত্রণ জানায়নি ট্রাম্প প্রশাসন।
আরও পড়ুন: রুশ-মার্কিন বৈঠক: যুদ্ধ বন্ধ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্ব
যুদ্ধ চলছে ইউরোপে, বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত কিয়েভ- কিন্তু আলোচনার টেবিলে মুখ্য বিষয় ছিল রাশিয়াকে সর্বোচ্চ লাভ নিশ্চিত করে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং চলমান সব নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে রুশ-আমেরিকান বাণিজ্যকে আবারও বিস্তৃত করা।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ (এপি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই লাভরভের নেতৃত্বে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। ট্রাম্প-পুতিনের দীর্ঘ ফোনালাপের পর যত দ্রুত সম্ভব এবার দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মুখোমুখি বৈঠকের ব্যবস্থার ওপরে জোর দেওয়া হয়েছে দুই পক্ষ থেকেই।
চার ঘণ্টার আলোচনা শেষে মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, শুধু রাজনৈতিক না, রাশিয়ার সঙ্গে সমাধান করা হবে সব ধরনের অর্থনৈতিক টানাপোড়েন। অন্যদিকে সেরগেই লাভরভ বেশ খোশ মেজাজে বলেছেন, এতদিন পর রাশিয়ার দিকটাও বুঝতে পারছে যুক্তরাষ্ট্র।
দুপক্ষের বার্তা থেকে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার বিজয়ের প্রথম স্বীকৃতি হয়ত যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরেই আসতে চলেছে।’
বাইডেন আমলে রাশিয়ার ওপর যুদ্ধাপরাধের দায় চাপানো, পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি; সব ছাপিয়ে ট্রাম্প চাচ্ছে রাশিয়ার সঙ্গে নিরঙ্কুশ সুসম্পর্ক। এতদিন মার্কিনিরা ইউক্রেনকে দেদারসে অস্ত্র দিয়ে আসলেও এবার অন্য নীতি নিবে যুক্তরাষ্ট্র।
নিষেধাজ্ঞার কারণে বড় বড় আমেরিকান কোম্পানি রাশিয়া ছাড়ায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট খাতে। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে মরিয়া ট্রাম্প প্রশাসন।
আরও পড়ুন: যুদ্ধ বন্ধে ‘কার্যকর আলোচনায়’ থাকবে ইউক্রেন ও ইউরোপীয়রা
এদিকে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উদ্ভ্রান্ত দশা। রিয়াদের আলোচনায় রুশদের সঙ্গে এক টেবিলে বসতে না পারায় ক্ষোভ ঝেড়েছেন তিনি। তিনি জানান, নিজেরা নিজেরা আলোচনা করে ইউক্রেনের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
যুদ্ধ বন্ধে তিন ধাপে কাজ করবে রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যার প্রথমটিই হচ্ছে মস্কো এবং ওয়াশিংটনের সম্পর্ক উন্নয়ন। মার্কো রুবিও জানান, মস্কোর ওপর সব ধরনের অযাচিত চাপ প্রত্যাহার করা হবে। বিনিময়ে ওয়াশিংটনের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেবে পুতিন সরকার।
রুবিও বলেন, যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেন-ইউরোপের সঙ্গে আলোচনা হবে। তবে রাশিয়া এগিয়ে না এলে কোনোদিনও এ যুদ্ধ বন্ধ সম্ভব না। তাই রাশিয়ার দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াকেই যথোপযুক্ত মনে করছে ট্রাম্প সরকার।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে যা কিছু করা দরকার; সবকিছুই করা হবে বলে জানান এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ব্যবসায়িক সুসম্পর্কের ব্যাপারে বৈঠক শেষে রুশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিরিল দিমিত্রিভ বলেন, ‘কোনো কাটখোট্টা আলোচনা হয়নি। দুপক্ষই বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন সময় ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক এবং বিশ্বাসের পুনঃনির্মাণের।'
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জেলেনস্কির পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে বেশ মজার ছলে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলেনস্কি ভালো করেই বুঝতে পেরেছেন- এত এত সংগ্রামের পর শেষমেশ আমেরিকার বলির পাঁঠা হতে যাচ্ছেন তিনি। বিশেষত এতদিনের বড় ভরসা যুক্তরাষ্ট্রই এবার পিঠ দেখাচ্ছে ইউক্রেনকে।
এর বাইরে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কেনার খায়েসে ইউরোপের বাগড়া দেওয়া এবং ন্যাটো নিয়ে ঝামেলার ঝাল পুরোটাই তুলল যুক্তরাষ্ট্র। সৌদিকে কেন্দ্রে রেখে ইউরোপকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ায় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো এক রকমের হতবাকই হয়েছে।
৩৮০ দিন আগে