বিশ্ব
ইউক্রেনকে হারানো ভূখণ্ড ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়তে হবে: হেগসেথ
রাশিয়ার কাছে হারানো সব ভূখণ্ড ফিরে পাওয়ার আশা ত্যাগ করে শান্তি চুক্তি করতে ইউক্রেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এ সময় ইউক্রেনের ন্যাটোর সদস্যপদের দাবিও বাস্তসসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ন্যাটো সফরে হেগসেথ এসব কথা বলেন। এর আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি না যে, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়া বাস্তবসম্মত হবে। ইউক্রেনের হারানো সব ভূখণ্ড ফিরে পাওয়াটাও অসম্ভব।’
ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন।’ ক্রেমলিন ও কিয়েভ থেকেও ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইউক্রেনের উদ্দেশ্যে হেগসেথ বলেন, ‘যুদ্ধ করতে হলে কিয়েভকে অবশ্যই মস্কোর পরিকল্পনা নিয়েও ভাবতে হবে।’
আরও পড়ুন: ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একমত ট্রাম্প-পুতিন, বসবেন সৌদিতে
তিনি জানান, ‘মস্কো দাবি করেছে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগদান থেকে বিরত থাকতে হবে। তাছাড়াও ২০২২ সালে ইউক্রেনের যে ৪টি অঞ্চল নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করেছে, রাশিয়াকে সেখান থেকে তাদের সেনাপ্রত্যাহার করে নিতে হবে। ইউক্রেন এই শর্ত মানলে তারা ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করবে।’
হেগসেথ আরও জানিয়েছেন, ‘ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও সামরিক সাহায্য নিশ্চিত করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এছাড়াও সেখানে একটি শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়ন করার কথাও বলেছে ট্রাম্প।’
তবে ইউক্রেনে নিযুক্ত ওই বাহিনীতে থাকবে না যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা। এছাড়াও রাশিয়া আক্রমণের শিকার হলে ন্যাটোর আর্টিকেল ৫ এর আওতায় ওই শান্তিরক্ষী বাহিনী কোনো সাহায্য পাবে না বলে জানিয়েছেন এই রিপাবলিকান নেতা। উল্লেখ্য, ন্যাটোর আর্টিকেল-৫ অনুসারে, কোনো সদস্যরাষ্ট্র আক্রান্ত হলে সম্মিলিতভাবে অন্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
এর আগে, ভলোদিমির জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ আন্দ্রে ইয়ারমার্ক জানান, যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও পুনরায় রাশিয়ার আগ্রাসনের স্বীকার হওয়ার আশঙ্কা করছে কিয়েভ।
এ কারণে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কাছ থেকে শক্তিশালী সামরিক সহায়তা আশা করছে তারা। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে ন্যাটোর সদস্যপদ কিংবা দেশটিতে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়ন।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার হয়ে যেতে পারে ইউক্রেন: ট্রাম্প
রাশিয়া ও ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে আলোচনা করতে ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ট্রাম্প ও হেগসেথের বক্তব্যের পর ইউক্রেনের দাবি কতটুকু গুরুত্ব পাবে, মার্কিন প্রশাসনের কাছে তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় হামলা শুরু করে রাশিয়া। মস্কোর ভাষায় যা ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’। এর আগে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের উপদ্বীপ ক্রিমিয়া দখল করে নেয় রাশিয়া। এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূমি দখল করে নিয়েছে রাশিয়া।
৩৮৬ দিন আগে
সাগরতলে মিলল সবচেয়ে গতিসম্পন্ন ভুতুড়ে কণা
ভূমধ্যসাগরে এ পর্যন্ত সবচেয়ে গতিসম্পন্ন ভুতুড়ে কণাটির খোঁজ মিলেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে তারা বলেন, এর আগে যে অল্প কয়েক শ কণা আবিস্কার করা হয়েছে, সেগুলোর চেয়েও প্রায় ৩০ গুণ বেশি সক্রিয় এটি।
সাগরের গভীরে একটি নির্মাণাধীন নিউট্রিনো ডিটেক্টর দিয়ে এটি শনাক্ত করা হয়েছে। নিউট্রিনো বলতে ক্ষুদ্র পারমাণবিক কণাকে বোঝায়, যা আলোর কণার চেয়েও দ্রুতগতির। ধারণা করা হয়, এই ক্ষুদ্র কণা অশূন্য ভরের কণা।আরও পড়ুন: চাঁদের দূরবর্তী অংশের অজানা তথ্য দিলেন বিজ্ঞানীরা
পর্দাথের মধ্য দিয়ে এই কণা প্রায় অবিকৃতভাবে চলাচল করতে পারে। যে কারণে এটিকে ভুতুড়ে কণা বলা হয়। নিউট্রিনো অর্থ হচ্ছে ‘ক্ষুদ্র নিরপেক্ষ কণা’। গ্রীক বর্ণ নিউ (ν) দিয়ে এটিকে প্রকাশ করা হয়।
মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবরে বলা হয়েছে, ছায়াপথের বাইরে থেকে এই কণা এসেছে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। যদিও এই ভুতুড়ে কণার সঠিক উৎস রহস্যেই থেকে যাচ্ছে।
সূর্যের মতো তারকা থেকে এসব নিউট্রিনো আসে। কোটি কোটি কণা প্রতিটি মুহূর্তে মানব-শরীরের ভেতর দিয়ে চলাচল করছে। এগুলো এতোই মিহি যে শনাক্ত করা ব্যাপক কঠিন। সাধারণত দ্রুত গতিতে ছোটাছুটি করা নিউট্রিনো শনাক্ত করতে পারেন না বিজ্ঞানীরা।আরও পড়ুন: পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিজ্ঞানী জিওফ্রে হিন্টন ও জন হপফিল্ড
এই ক্ষুদে কণার সঙ্গে যখন আরেকটি বস্তুকণার সংঘর্ষ হয়, তখন কী ঘটে, তা গবেষণা করে দেখেন বিজ্ঞানীরা। বছর দুয়েক আগে এমন ঘটনায় মিউয়ন নামের একটি মৌলিক কণিকা তৈরি হয়েছিল। যেটি বায়ুমণ্ডলে ক্রিয়াশীল মহাজাগতিক রশ্মির মাধ্যমে পৃথিবী পৃষ্ঠ ভেদ করে বহু গভীরে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে।
নেদারল্যান্ডসের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর সাব-এটোমিক ফিজিক্স নিকহেফের বিজ্ঞানী আরার্ট হেইজবোয়ের বলেন, ‘মহাবিশ্বের সর্বোচ্চ-জ্বালানি প্রক্রিয়াগুলো বোঝার চেষ্টা করছি আমরা।’
সাধারণত ভূ-উপরিভাগের বিকিরণ থেকে সুরক্ষায় মাটির গভীরে, বরফের নিচে ও পানির নিচে রাখা হয় নিউট্রিনো ডিটেক্টর।
৩৮৬ দিন আগে
গাজায় ‘জাহান্নামের সব দরজা’ খুলে দেওয়ার হুমকি ইসরায়েলের
দুদিনের মধ্যে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া না হলে গাজাবাসীর জন্য ‘জাহান্নামের সব দরজা’ খুলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎয। বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি এমন হুমকি দিয়েছেন।তার এই হুমকিকে পরোয়া করছে না বলেও পাল্টা জবাব দিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। এতে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও চুক্তিটি টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও মিসর।
গত ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় আগামী শনিবারে (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্ত করে দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে স্থানীয় সময় সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত আর কোনো ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে না বলে জানায় হামাসের সামরিক শাখা কাশেম ব্রিগেডের এক মুখপাত্র।
হামাসের এই সিদ্ধান্তকে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির পুরোপুরি লঙ্ঘন’ বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।
হামাসকে হুমকি দিয়ে মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “হামাস যদি জিম্মি মুক্তির সময়সীমা মেনে না চলে, ‘তীব্র লড়াই’ শুরু করবে ইসরায়েল।”
আরও পড়ুন: চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ: জিম্মিদের ফেরত দিচ্ছে না হামাস
নেতানিয়াহু আরও বলেন, তিনি গাজার ভেতরে ও আশপাশে ইসরায়েলি বাহিনীকে জড়ো হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পরই গাজা সীমান্তবর্তী ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা পাঠানো ও রিজার্ভ সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেয় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।
এ ছাড়াও হামাসের সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শনিবারের মধ্যে বন্দিবিনিময় সম্পন্ন না করা হলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল হওয়া উচিত।’
তবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর হুমকিকে উড়িয়ে দিয়েছে হামাস। গতকাল মঙ্গলবার হামাসের এক নেতা সব ধরনের হুমকি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘কেবল যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চললেই গাজা থেকে জিম্মিদের ফেরত নিতে পারবে ইসরায়েল।’
এ পরিস্থিতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো চুক্তি বজায় রাখতে তৎপরতা শুরু করেছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য হামাসের একটি প্রতিনিধি দল মিসরে অবস্থান করছে।
এই আলোচনায় সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মিসরীয় কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েল ও গাজা একটি সমঝোতায় আসতে চলেছে। গাজায় আরও বেশি তাঁবু, আশ্রয়কেন্দ্র ও ভারী সরঞ্জাম পাঠানোতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল।
হামাসের কর্মকর্তা মাহমুদ মারদাওই বলেন, শনিবারে ৩ ইসরায়েলি বন্দি মুক্তির ক্ষেত্রে ‘ইতিবাচক ইঙ্গিত’ রয়েছে। তবে চুক্তি মেনে চলার ব্যাপারে ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা তারা পাননি।
চুক্তি বজায় রাখার এই চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলের কর্মকর্তারা।
৩৮৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে ডিমের আকাশছোঁয়া দাম
যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে ডিমের দাম। গড় হিসেবে ডজন প্রতি ডিমের দাম দাঁড়িয়েছে ৬০০ টাকার বেশি (৪.৯৫ ডলার), কোথাও কোথাও এটা এক হাজার ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। দেশটিতে চলমান বার্ড ফ্লু প্রাদুর্ভাবের কারণে এভাবে আকাশছুঁয়েছে ডিমের দাম।
মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জানুয়ারি মাসের মাসিক ভোক্তা মূল্য সূচকে ডিমের এই দাম প্রকাশ করা হয়েছে।-খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি)।
ডিমের বাজারের এই আগুনের আঁচ বোঝার জন্য যদিও সরকারি পরিসংখ্যানের প্রয়োজন নেই। কিছু কিছু এলাকায় ডিমের ডজন ছাড়িয়েছে ১০ ডলার, বাংলাদেশি মূল্যে যা ১২০০ টাকারও বেশি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে রেকর্ড হওয়া সর্বনিম্ন মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে বর্তমান দাম। এর আগে দাম বেড়ে গড় প্রতি ডজন দাঁড়িয়েছিল ৪ দশমিক ৮২ ডলারে । চলতি বছরে সেই মূল্যকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ডিমের দামের এই বৃদ্ধি ২০১৫ সালের শেষ বার্ড ফ্লু প্রাদুর্ভাবের পর থেকে সবচেয়ে বেশি। এই মূল্য বৃদ্ধির কারণে জানুয়ারি মাসে মার্কিন নাগরিকদের খাদ্যব্যয় দুই-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তারা।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাকের পেছন থেকে ১ লাখ ডিম চুরি
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, শিগগির না-ও কমতে পারে ডিমের দাম। বরং সামনে ইস্টার সানডের ছুটিতে আরও লাগামছাড়া হতে পারে এই দাম। দেশটির কৃষি বিভাগ গত মাসেই পূর্বাভাস দিয়েছিল, চলতি বছরে ২০ শতাংশ বাড়তে পারে ডিমের দাম।
সম্প্রতি দেশটিতে কয়েকটি অঞ্চলে বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়েছে। এতে খামারিদের উৎপাদন মূল্য বেড়েছে। আগের চেয়ে উন্নতমানের খাবারের পাশাপাশি প্রয়োজন হয় ঔষধ, এর প্রভাব পড়ে ডিমের দামে।
এ ছাড়াও খামারিরা সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির ১০টি রাজ্যে চালু হওয়া খাঁচা-মুক্ত ফার্মে মুরগির ডিম উৎপাদন ব্যবস্থাকে দায়ী করছেন এই দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে।তাদের ধারণা এতে ওই অঞ্চল গুলোতে ডিমের সরবরাহ কমে গিয়েছে। ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে দাম।
যুক্তরাষ্ট্রের খামারিদের আর্থিক সাহায্য ও ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কোব্যাংকের এক বিশ্লেষক ব্রায়ান আর্নেস্ট বলেছেন, ডিমের দাম বেশি থাকায় যদি ব্যবসায়ীরা মজুত শুরু করে তাহলে সংকট আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, ‘ডিমের অতিরিক্ত মূল্য ক্রেতাদের ডিম কিনতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। তার ধারণা, এতে ডিমের চাহিদা কিছুটা কমলেও দামের ওপর তেমন প্রভাব না-ও পড়তে পারে। ডিমের দাম কমে বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে মত দেন তিনি।
৩৮৬ দিন আগে
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একমত ট্রাম্প-পুতিন, বসবেন সৌদিতে
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করতে একমত হওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে এই বৈঠক হতে পারে বলেও তিনি আভাস দিয়েছেন।
এরমধ্য দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে গেল তিন বছর ধরে চলা মার্কিন নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছেন তিনি। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, ‘এই যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা করতে পুতিন ও আমি একমত।’-খবর এসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি)।
একঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। এরপর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কের সঙ্গেও কথা হবে বলে জানান ট্রাম্প। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ইউক্রেনও সমানভাবে অংশীদার হবে কিনা; সে বিষয়ে তার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা শান্তি অর্জনের পথে রয়েছি। আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট পুতিন ও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও শান্তি চান। আমিও শান্তি চাই। আমি কেবল দেখতে চাই, লোকজনের প্রাণহানি হচ্ছে না।’
আরও পড়ুন: ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ইউরোপীয়দের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক চলতি সপ্তাহে
পুতিনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘পুতিনের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে জনগণ সত্যিকার অর্থে জানেন না। কিন্তু আমি মনে করি, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, তিনিও এই যুদ্ধের অবসান দেখতে চান। কাজেই সেটা ভালো এবং আমরা এই যুদ্ধ বন্ধের দিকে যাচ্ছি, যত দ্রুত সম্ভব।’
এ সময়ে শিগগিরই পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প, যা সৌদি আরবে হতে পারে।
ট্রাম্প-পুতিন আলোচনার মাধ্যমে এই আভাসই দেওয়া হচ্ছে যে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ও মস্কো একটি চুক্তি পৌঁছাতে একমত হয়েছে। এরমধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ নিয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কিয়েভও যে পরিপূর্ণ একটি অংশীদার হবে বলে মনে করতো জো বাইডেন প্রশাসন, সেখান থেকে সরে এসেছে ওয়াশিংটন।
ইউক্রেনও কী এই যুদ্ধের সমান অংশীদার হতে যাচ্ছে, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘খুবই চমৎকার প্রশ্ন, আমি মনে করি, তারাও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান।’
এছাড়া ইউক্রেন যে পশ্চিমাদের সঙ্গে আরও ঘেঁষতে চাচ্ছে, সেই প্রত্যাশায় আরেকটি আঘাত করলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেট হেগসেথ। ব্রাসেলসে ন্যাটোর প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের জন্য ন্যাটোর সদস্য হওয়া বাস্তবসম্মত না।’
পরবর্তীতে ট্রাম্পও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, হেগসেথ যে কথা বলেছেন, সেটিই সত্য বলে আমি মনে করি।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অঙ্গীকার করেন, ইউক্রেনের জন্য এই পশ্চিমা সামরিক জোটের সদস্য হওয়া অপরিহার্য।
আরও পড়ুন: দালালের খপ্পরে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়াচ্ছেন বাংলাদেশিরা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৩৮৭ দিন আগে
রাশিয়ার হয়ে যেতে পারে ইউক্রেন: ট্রাম্প
ইউক্রেন ‘কোনো এক সময় রাশিয়ার হয়ে যেতে পারে’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান তৎপরতার মাঝেই এমন বক্তব্য দিলেন ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রিপাবলিকান-সমর্থিত ফক্স নিউজে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে পারে, আবার না-ও করতে পারে। কোনো এক সময় তারা রাশিয়ান হয়ে যেতে পারেন, আবার না-ও পারেন।’
এ সময় তিনি ইউক্রেনকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার বিনিময়ে মুনাফা অর্জনের ওপর জোর দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সেখানে যে পরিমান অর্থ খরচ করেছি, সেই সমমূল্যের বিরল খনিজসম্পদ চাই।’ তিনি আশা করেন ইউক্রেনও এই চুক্তিতে সম্মত হবেন।
এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ আন্দ্রে ইয়ারমার্ক জানিয়েছেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।’ বার্তা সংস্থা এসোসিয়েট প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা পেতে চুক্তির আলোচনায় প্রস্তুত কিয়েভ।
তবে আন্দ্রে জানান, যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও পুনরায় রাশিয়ার আগ্রাসনের স্বীকার হওয়ার আশঙ্কা করছে কিয়েভ। এ কারণে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কাছ থেকে শক্তিশালী সামরিক সহায়তা আশা করছে তারা। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে ন্যাটোর সদস্যপদ কিংবা দেশটিতে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়ন।
আরও পড়ুন: ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ইউরোপীয়দের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক চলতি সপ্তাহে
রাশিয়া ও ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে আলোচনা করতে ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে ইউক্রেনে অভিযান শুরু করে রাশিয়া। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নেয় ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গত রবিবার নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তবে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই ফোনালাপের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়াও চলতি সপ্তাহে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ।
৩৮৭ দিন আগে
মার্কিন শিক্ষককে ছেড়ে দিল রাশিয়া
মার্কিন শিক্ষক মার্ক ফোজেলকে ছেড়ে দিয়েছে রাশিয়া। তিনি গেল এক বছর তিন মাস ধরে রাশিয়ার কারাগারে বন্দি ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, তাকে ভুলভাবে আটক করা হয়েছে।
কাতারভিত্তিক আলজাজিরার খবরে বলা হয়, ২০২১ সালের আগস্টে রাশিয়ায় আটক করা হয়েছে ৪৩ বছর বয়সী ফোজেলকে। পরে ১৭ গ্রাম ঔষধি গাঁজা বহনের দায়ে ১৪ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ওয়াল্টজ বলেন, তাকে ফেরত আনার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আলোচনা করেছেন। তবে কীসের বিনিময়ে এই শিক্ষককে ফেরত দিচ্ছে রাশিয়া তা উল্লেখ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ: জিম্মিদের ফেরত দিচ্ছে না হামাস
তিনি বলেন, ‘রুশরা আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তা বলে দিচ্ছে ইউক্রেনে প্রাণঘাতী হামলা বন্ধে আমরা সঠিক পথে আছি। আজ রাতের মধ্যে মার্ক ফোজেল আমেরিকার মাটিতে থাকবেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে মিলিত হবেন।
নিজের নির্বাচনী প্রচারে প্রেসিডেন্ট হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের অঙ্গীকার করেছিলেন ট্রাম্প। এই যুদ্ধ এখন চার বছরে পা রাখতে যাচ্ছ। কিন্তু এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে ট্রাম্প কী পরিকল্পনা নিয়েছেন, তা এখনো কারও কাছে স্পষ্ট না।
৩৮৭ দিন আগে
ইস্পাত-অ্যালুমিনিয়ামে শুল্ক: যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাব দেবে ইউরোপ
ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে শুল্কারোপ করেছে, সেটার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান ভন ডের লিয়ন। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘তারাও কঠোর পাল্টা পদক্ষেপ নেবেন।’
আগের দিন বিদেশি ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ২৫ শতাংশ করারোপ করে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রথম মেয়াদেও এমনই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি।-খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের।
এই শুল্কারোপের কারণে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবেন মার্কিন ধাতব ব্যবসায়ীরা। কারণ এতে তারা অনেক বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। সোমবার দেশটির ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের শেয়ারের দামও বেড়ে গেছে।
ভন ডের লিয়ন বলেন, ‘ইউরোপের স্বার্থ সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ব্যবসায় শুল্ক খারাপ, কিন্তু ভোক্তাদের জন্য সেটা আরও খারাপ। ইউরোপের ওপর অন্যায়ভাবে কর চাপিয়ে দেওয়া হলে জবাব দেওয়া হবে—অনেক কঠোর ও সমানুপাতিক পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাভ শলজ পার্লামেন্টে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি আমাদের জন্য বিকল্প কোনো পথ খোলা না রাখে, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঐক্যবদ্ধভাবে জবাব দেবে।’
বাণিজ্য যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত উভয়পক্ষকেই খেসারত দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে ইউরোপ কী ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নেবে, তা স্পষ্ট করেনি। এরআগে ২০১৮ সালে ইস্পাতের ওপর শুল্কারোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তখন যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত মোটরসাইকেল, বোরবন হুইস্কি, পিনাট বাটারসহ বিভিন্ন পণ্যে পাল্টা করারোপ করেছিল ইইউ।
আরও পড়ুন: চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ: জিম্মিদের ফেরত দিচ্ছে না হামাস
এভাবে রাজস্ব আরোপ করা হলে তাতে দুপক্ষের জন্যই হীতে বিপরীত ফল আসবে বলে মনে করেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মারকোস সেফকোভিক। তিনি বলেন, আটলান্টিক মহাসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার ব্যাপক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্কের কারণে যে গভীর ও সমন্বিত উৎপাদন চেইন তৈরি হয়েছে, সেটা বিবেচনায় নিলে এই শুল্কারোপ ভালো ফল দেবে না।
মারকোস সেফকোভিক বলেন, ‘আমাদের শ্রমিক, ব্যবসা ও ভোক্তাদের আমরা রক্ষা করবো। যদিও এটা আমাদের পছন্দনীয় পথ না, আমরা গঠনমূলক আলোচনার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিশীল থাকব। আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। কাজেই দুপক্ষের স্বার্থরক্ষা করে একটি সমাধানের পথ বের করতে হবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের হিসাবে, দুপক্ষের বাণিজ্যের আকার হবে এক লাখ ৫০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের, যা বিশ্ব বাণিজ্যের ৩০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। মারকোস সেফকোভিক বলেন, ‘এই করারোপে দুপক্ষের জন্যই ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে।’
৩৮৮ দিন আগে
চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ: জিম্মিদের ফেরত দিচ্ছে না হামাস
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বন্দিবিনিময় স্থগিত করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি না দিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল হতে পারে।
চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় আগামী শনিবারে (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিন ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির কথা রয়েছে। তবে স্থানীয় সময় সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত আর কোনো ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন হামাসের সামরিক শাখা কাশেম ব্রিগেডের এক মুখপাত্র।
হামাসের এই সিদ্ধান্তকে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির পুরোপুরি লঙ্ঘন’ বলেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎয।
হামাসের সিদ্ধান্তকে চলমান চুক্তির লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে সেনাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন কাৎয। জিম্মিদের পরিবারকেও হামাসের সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবগত করেছে ইসরায়েল প্রশাসন।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ গেল অন্তঃসত্ত্বা ফিলিস্তিনি নারীর
এদিকে হামাসের মুখপাত্র আবু ওবেইদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির মূল শর্তগুলোই অমান্য করেছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি সেনারা সময়মতো ফিলিস্তিনিদের উত্তর গাজায় প্রবেশ করতে দেয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, এমনকি গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাতেও বাধা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, হামাসের বন্দিবিনিময় চুক্তি স্থগিত করায় তীব্র চাপের মুখে পড়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে নেতানিয়াহু।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ( ১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা এসোসিয়েট প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এ ছাড়াও হামাসের সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শনিবারের মধ্যে বন্দিবিনিময় সম্পন্ন না করা হলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল হওয়া উচিত।’
আরও পড়ুন:ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান সৌদির
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলব শনিবার ১২টার মধ্যে তাদের ফেরত দেওয়া উচিত......দুই, এক বা তিন চারজন করে নয় সবাইকে।’
এসময় চুক্তি ভঙ্গ হলে গাজায় পুনরায় সর্বাত্বক যুদ্ধ শুরু হওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। এমন হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের পক্ষ থেকে প্রতিশোধ হিসেবে কিনা জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা দেখতে পারবেন, তারাও দেখবে…..হামাসও দেখতে পারবে আমি কি বুঝাতে চেয়েছি।’
প্রসঙ্গত, গেল পনেরো মাস ধরে গাজায় নির্বিচারে সামরিক হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে ৪৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন, যাদের বেশিরভাগ নারী ও শিশু। মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়, যা কার্যকর হয় গত ১৯ জানুয়ারি।
৩৮৮ দিন আগে
নেভাডায় বার্ড ফ্লুর নতুন ধরন শনাক্ত: সিডিসি
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডায় নতুন ধরনের বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন এক দুগ্ধ শ্রমিক। গত বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়া বার্ড ফ্লু থেকে এটি নতুন ও ভিন্ন ধরনের ভাইরাস।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন।
ওই ব্যক্তির অসুস্থতাটিকে হালকা বলে মনে করা হয়েছিল। তার শরীরে প্রধান লক্ষণ ছিল চোখের লালভাব এবং জ্বালা। এমন অসুস্থতা সাধারণত বেশিরভাগ দুগ্ধবতী গরুর ক্ষেত্রে দেখা যায়। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলো জানায়, আক্রান্ত ওই ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হননি, তবে সুস্থ হয়েছেন।
এর আগে হাঁস-মুরগির সংস্পর্শে আসা এক ডজনেরও বেশি মানুষের শরীরে নতুন এই ধরনটি দেখা গেছে। তবে এই প্রথম কোনো গরুর মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ল। অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেভাদার পশ্চিম-মধ্যাঞ্চলের চার্চিল কাউন্টির একটি খামারে আক্রান্ত ওই দুগ্ধ শ্রমিকের সন্ধান পাওয়া গেছে।
সিডিসির কর্মকর্তারা বলেছেন, এই ব্যক্তির থেকে ভাইরাসটি অন্য কারও মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে— এমন কোনো প্রমাণ নেই। সংস্থাটি নিয়মিতই বলছে, ভাইরাসটি সাধারণ মানুষের জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ।
বর্তমানে প্রাণী এবং কিছু মানুষের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বার্ড ফ্লু বিজ্ঞানীদের কাছে ‘টাইপ এ এইচ৫এন১’ ইনফ্লুয়েঞ্জা নামে পরিচিত। তবে এটির বিভিন্ন ধরন রয়েছে।
আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু নেই, শনাক্ত ১
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের শেষের দিকে গবাদি পশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরের বছরের মার্চে বি৩.১৩ নামে পরিচিত একটি সংস্করণ নিশ্চিত করা হয়েছিল। এটি ১৬টি রাজ্যের ৯৬২টি গবাদি পশুকে সংক্রামিত করেছে। আর এসব আক্রান্তের বেশিরভাগই ক্যালিফোর্নিয়ায় হয়েছিল।
ডি১.১ নামে পরিচিত নতুন ধরনের ভাইরাসটি ৩১ জানুয়ারি নেভাদা গবাদি পশুর শরীরে শনাক্ত করা হয়। ডিসেম্বরে শুরু হওয়া পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংগ্রহ করা দুধে এটির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৬৮ জন বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন। হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া বাকি সবাই গরু বা হাঁস-মুরগির সংস্পর্শে কাজ করতেন।
ভাইরাসটির ডি ১.১ ধরনটি বার্ড ফ্লু এবং কানাডায় একটি গুরুতর অসুস্থতার কারণ। যেটি প্রথম মার্কিন মৃত্যুর কারণও ছিল। লুইজিয়ানায় বন্য এবং বাড়ির উঠোনের পাখির সংস্পর্শে এসেছিলেন এক ব্যক্তি। পরে তার তীব্র শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা দেয় এবং জানুয়ারিতে তিনি মারা যান। ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় হাঁস-মুরগি থেকে ছড়ানো ভাইরাসে আক্রান্ত এক কিশোরী কয়েক মাস হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন।
সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম থাকলেও সিডিসি বলছে, বার্ড ফ্লু সংক্রামিত গরু, পাখি বা অন্যান্য প্রাণীর সংস্পর্শ বা দীর্ঘস্থায়ী যোগাযোগে থাকা লোকদের জন্য বৃহত্তর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই লোকদের প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম ব্যবহার এবং অন্যান্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উত্সাহিত করা হয়।
আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু নেই, শনাক্ত ১
৩৮৯ দিন আগে