বিশ্ব
প্যারিস চুক্তি প্রত্যাহার, জাতিসংঘকে জানাল যুক্তরাষ্ট্র
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত হয়েছে জাতিসংঘ।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) নিউ ইয়র্কের সদরদপ্তরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, ‘অর্থদাতা হিসেবে প্যারিস চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের কথা ২৭ জানুয়ারি মহাসচিবকে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
চুক্তির ২৮ ধারার অনুচ্ছেদ ২ অনুসারে, ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি থেকে এই প্রত্যাহারের বিষয়টি কার্যকর হবে বলেও জানান তিনি। এ সময়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রিতে সীমিত রাখতে ফলপ্রসূ পদক্ষেপ ও প্যারিস চুক্তির প্রতি জাতিসংঘের অঙ্গীকারের পুনর্ব্যক্ত করেন মুখপাত্র।
আরও পড়ুন: শুল্ক এড়াতে ইইউকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল গ্যাস কিনতে হবে: ট্রাম্প
হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার প্রথম দিনেই প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের নির্বাহী আদেশে সই করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের জন্য যা বড় একটি ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এরআগে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালে এই চুক্তি থেকে সরে আসার উদ্যোগ নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০২১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রথম দিনেই চুক্তি পুনর্বহাল করেন জো বাইডেন।
বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত যত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে এই চুক্তিকে। ২০২৪ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা এক দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। যা প্রাক-শিল্প যুগের চেয়ে বেশি। পৃথিবীর ইতিহাসে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র-কানাডাকে একীভূত করার প্রস্তাব ট্রাম্পের
বিবিসির খবরে বলা হয়, ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে হোয়াইট হাউস। জাতিসংঘের জলবায়ু সংক্রান্ত বিধিনিষেধ থেকে সরে এসে তেল ও গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে এই রূপরেখা প্রণয়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে দেশগুলোর প্রতি আইনগত কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণতার উৎসগুলোকে সীমিত করতে দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হয় এটিকে।
৪০২ দিন আগে
আফগানিস্তানে একই পরিবারের ১০ জনকে গুলি করে হত্যা
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশে দুর্বৃত্তের গুলিতে ১০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাদের সবাই একই পরিবারের।
বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে প্রদেশের আলী শির জেলার একটি বাড়িতে দুর্বুত্তরা ঢুকে তাদের গুলিয়ে চালিয়ে হত্যা করে।
নিহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ, আট নারী ও শিশু রয়েছে। তবে হামলাকারীদের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
বুধবার খোস্ত প্রদেশের গভর্নর মোস্তাগফার গারবাজ বলেন, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।
৪০২ দিন আগে
ভারতে কুম্ভমেলায় পদপিষ্ট হয়ে ৭ জনের প্রাণহানি
ভারতের উত্তর প্রদেশের মহাকুম্ভ মেলায় পদদলিত হয়ে সাতজনের বেশির মানুষের প্রাণহানি ও ১০ জনের মতো আহত হয়েছেন। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দেশটির কর্মকর্তারা এমন তথ্য দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশের ত্রিবেণী সঙ্গমে মৌনী অমাবশ্যায় পবিত্র স্নানের জন্য লাখ লাখ মানুষ জড়ো হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অপারগতা জানিয়ে একজন কর্মকর্তা বলেন, পদপিষ্ট হয়ে সাতজনের বেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ জন। স্থানীয় সময় রাত ১টার সময় এই পদদলন শুরু হয়েছে। কারণ এখনো জানা যায়নি। পরে পুণ্যার্থীরা বের হওয়ার চেষ্টা করলে তারা আরেকটি পদদলনের মুখে পড়েন।
আরও পড়ুন: সুদানে হাসপাতালে হামলায় নিহত ৭০
রাভিন নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমি বহু মানুষকে পড়ে যেতে দেখেছি, তাদের ওপর দিয়ে ভিড়ের লোকজন হেঁটে গেছেন। নারী-শিশুরা নিখোঁজ হয়েছেন। কেউ কেউ সাহায্য চেয়ে আর্তনাদ করছেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, পদদলনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় একাধিক মানুষের প্রাণহানির শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আর হিন্দুস্থান টাইমসের খবরে ১৫ জনের প্রাণহানির শঙ্কার কথা জানিয়েছে।
পদপিষ্ট হওয়ার ভিডিও ও ছবিতে স্ট্রেচারে করে মরদেহ নিয়ে যেতে দেখা গেছে। স্বজন হারিয়ে মাটিতে বসে লোকজন কান্নাকাটি করছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, মহাকুম্ভ মেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৌনী অমাবশ্য। এই বিশেষ দিনে বহু মানুষ পুণ্যস্নান করেন। এবার এই দিনটিতে ১৪৪ বছর পর ত্রিবেণী যোগ পড়েছে। এতে আগের তুলনায় কুম্ভমেলায় পুণ্যার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ১৫ কোটি মানুষের অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছেন কুম্ভ প্রশাসন।
অ্যাসিসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর বলছে, একটি অস্থায়ী হাসপাতালের বাইরে ব্যথিত পরিবারগুলোর লোকজন দাঁড়িয়ে আছেন। তারা হারানো স্বজনদের খোঁজ নিচ্ছেন। পুলিশ ভিড় সামলাতে ব্যস্ত, আর আহতদের নিরাপদ জায়গায় নিতে আসতে সহায়তা করছেন উদ্ধারকারীরা।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে সেনা অভিযানে নিহত ৩০
৪০২ দিন আগে
ফিরে আসার আনন্দে মেতেছেন ফিলিস্তিনিরা
তাদের কাছে যা কিছু ছিল—পোশাক, খাদ্য কিংবা কম্বল—যতটুকু তারা বহন করতে পারেন, তা নিয়েই টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে হেঁটে এসেছেন। মুখে হাসি নিয়ে আলিঙ্গন করছেন প্রিয়জনদের, কত মাস পর তাদের দেখা!
গাজা উপত্যকার মূল উপকূলীয় সড়কে জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। পনেরো মাসের যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর উত্তর গাজায় ফিরে এসেছেন তারা।
ফুরফুরে মেজাজ—যদিও তারা জানতেন, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় তাদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। উত্তরাঞ্চলসহ গাজা শহরের বড় একটি অংশ মাটিতে মিশে গেছে। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে বড় কথা হলো—তারা ফিরে এসেছেন, নিজ ভূখণ্ডে, আবাসভূমিতে।
আর কোনোদিন নিজ ভূখণ্ডে ফিরতে পারবেন কিনা; সেই শঙ্কাও জেগেছিল অনেকের মনে। ধারণা করেছিলেন, দেশ থেকে স্থায়ীভাবে বিতারণ করা হয়েছে তাদের।
৪০৩ দিন আগে
তুষারপাতের কবলে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ অঙ্গরাজ্য
তুষারপাতের কবলে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য। গত সপ্তাহের ঐতিহাসিক গালফ কোস্টের তুষারঝড়ের কারণে দেশটি বিরল লকডাউনের মুখোমুখি হয়।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ইউএসএটুডে জানিয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা আরও একটি বিরল পরিস্থিতির তৈরি করেছে। দেশটির দক্ষিণের কয়েকটি শহরে উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোর চেয়ে বেশি পরিমাণে তুষারপাত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ক্রিস ডলস ওয়েদার ডটকমকে জানিয়েছেন, ‘লুইসিয়ানার লাফায়েট এবং নিউ অরলিন্সে সরকারি রেকর্ড করা ঝড়ের মোট পরিমাণ মোবাইল, আলাবামা এবং পেনসাকোলা, ফ্লোরিডা, নিউ ইয়র্ক সিটি, ফিলাডেলফিয়া, সল্টলেক সিটি, ওমাহা, নেব্রাস্কার সিউক্স জলপ্রপাত এবং দক্ষিণ ডাকোটায় যা দেখা গেছে তার চেয়ে বেশি।’
তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘হাওয়াইতেও তুষারপাত হওয়ার বিষয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিগ আইল্যান্ডের মাওনা কিয়া আগ্নেয়গিরির চূড়ায় অক্টোবরের শেষের দিকে প্রথম তুষারপাত হয়েছিল। তাই ১৩ হাজার ফুট উঁচুতে তুষারপাত একটি সাধারণ ঘটনা।’
ডলসে আবহাওয়া বার্তায় আরও উল্লেখ করেছেন, এই একই সময়ে একাধিক স্থানে তুষার জমে থাকা একটি অস্বাভাবিক ঘটনা, তবে এটি ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেও ঘটেছিল।
৪০৩ দিন আগে
ফিলিপাইনে জাহাজে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার শিপইয়ার্ডে জাহাজ মেরামতের সময় অগ্নিকাণ্ডে জাহাজের স্টোরেজ রুমে আটকে পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দেশটির অগ্নিনির্বাপক ব্যুরো এই তথ্য জানিয়েছে।
দমকল কর্মী রোনালদো সানচেজ জানান, সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে আগুন লেগে নাভোটাস সিটির শিপইয়ার্ডে জাহাজ মেরামতের কাজে নিয়োজিত ২৫ শ্রমিকের মধ্যে দুই ওয়েল্ডার নিহত হয়েছেন।
সানচেজ আরও জানান, জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাঙ্কের কাছে স্টোরেজ রুমের ভিতরে নিহতদের লাশ পাওয়া গেছে।
আগুন নেভাতে দমকল কর্মীদের পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগেছে বলেও জানান এই দমকল কর্মী।
সানচেজ বলেন, আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: ফিলিপাইনে ট্রাকচাপায় নিহত ৭
৪০৩ দিন আগে
গাজা থেকে মিসর-জর্ডানে শরণার্থী বাড়াতে ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হামাসের
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা থেকে মিসর ও জর্ডানের আরও বেশি শরণার্থী নেওয়া উচিত বলে যে মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড করেছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে তাদের পক্ষে ট্রাম্পের এই নির্দেশনা গ্রহণ করা সম্ভব না।
গাজা উপত্যকার জন্য এটি কী অস্থায়ী কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান, প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘দুটোই হতে পারে।’
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলায় গাজায় ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: মার্কিন অভিবাসী ফ্লাইট অবতরণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান, নিষেধাজ্ঞার মুখে কলোম্বিয়া
ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। তিনি বলেন, এটি একটি চমৎকার আইডিয়া। এটি বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে দেব।
কিন্তু বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছে হামাস। বাড়িঘর থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের যে শঙ্কা রয়েছে, ট্রাম্পের বক্তব্যে সেটিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে তারা।
হামাসের রাজনৈতিক শাখার সদস্য বাসেম নাইম বলেন, বিষয়টি ভালো উদ্দেশ্য হিসেবে দেখা দিলেও এমন কোনো সমাধান কিংবা প্রস্তাব গ্রহণ করবে না ফিলিস্তিনিরা।
আর পূর্বসূরি জো বাইডেনের মতো ট্রাম্পকেও কোনো ‘ব্যর্থ ধারণার’ পুনরাবৃত্তি না করার আহ্বান জানিয়েছেন আরেক হামাস নেতা সামি আবু জুহরি। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিরা মরতে রাজি, কিন্তু তারা নিজেদের মাতৃভূমি ছাড়তে চায় না। কোনো অজুহাতে তারা এই ভূখণ্ড ছেড়ে যাবে না।’
ট্রাম্পের এই নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করেছে জর্ডানও। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি সাংবাদিকদের বলেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাতের বিরুদ্ধে জর্ডানের অবস্থান আগের মতোই অবিচল ও কঠোর।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মিসরের কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূখণ্ড থেকে উৎখাতের বিরোধিতা করে আসছেন তারা।
ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক গাসসান আল-খতিব বলন, অধিকৃত পশ্চিমতীর, গাজা উপত্যকাসহ জর্ডান ও মিসরে বাস করা ফিলিস্তিনিরাও ট্রাম্পের এই ধারণাকে গ্রহণ করবেন না। আমি মনে করি না, এমন কিছু ভাবার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
নিজেদের মাটি থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদে সমর্থন করে না বলে গতবছর জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া গাজার পরিস্থিতি নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বছরজুড়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।
কিন্তু সমালোচনার মুখে পড়লেও ইসরাইলকে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। হিজবুল্লাহ, হুতি ও হামাসের মতো মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের প্রতিরক্ষায় সহায়তার কথা বলছে ওয়াশিংটন।
আরও পড়ুন: ইসরাইলি অবরোধ, বাড়িঘরে ফিরতে পারছেন না ফিলিস্তিনিরা
শনিবার জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে ফোনকলের পর ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে বলেছি, তারা যাতে আরও বেশি শরণার্থী গ্রহণ করেন। কারণ জায়গাটি (গাজা) এখন একেবারে বিশৃঙ্খলায় অবস্থায় আছে। মিসরকেও একই কথা বলবো।
এ বিষয়ে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
৪০৪ দিন আগে
নিষেধাজ্ঞার মুখে অভিবাসীবাহী মার্কিন ফ্লাইট অবতরণে অনুমতি দিল কলোম্বিয়া
অভিবাসীবাহী মার্কিন ফ্লাইট অবতরণের অনুমতি দিতে কলোম্বিয়া রাজি হয়েছে। এরআগে স্থানীয় সময় রোববার (২৬ জানুয়ারি) অভিবাসীদের তাড়িয়ে দিতে মার্কিন পরিকল্পনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে।
অভিবাসীদের গ্রহণ না করলে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ওপর চড়া শুল্কারোপ ও নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আর অভিবাসীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন কলোম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো। এ সময়ে অভিবাসীবাহী দুটি মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ অবতরণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
রোববার দিনের শেষভাগে এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভেট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সব শর্ত মেনে নিয়েছে কলোম্বিয়া। যুক্তরাষ্ট্রে কলোম্বিয়া থেকে যেসব অবৈধ বিদেশি প্রবেশ করেছেন, তাদেরকে অবাধে ফেরত নেওয়ার পাশাপাশি কোনো ধরনের বিলম্ব ও শর্ত ছাড়াই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ অবতরণেও অনুমতি দেবে তারা।’
সেক্ষেত্রে কলোম্বিয়ার পণ্যে শুল্কারোপে যে নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প, সেটা প্রস্তুত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ওই আদেশে এখনো প্রেসিডেন্ট সই করেননি। যে কারণে এটি প্রস্তুত থাকবে, প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে। আর যতক্ষণ না অভিবাসীবাহী প্রথম উড়োজাহাজটি কলোম্বিয়া থেকে ফেরত না আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দেশটির কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও পণ্যে শুল্ক তল্লাশির আদেশ বহাল থাকবে।
আরও পড়ুন: মার্কিন অভিবাসী ফ্লাইট অবতরণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান, নিষেধাজ্ঞার মুখে কলোম্বিয়া
এ নিয়ে কলোম্বিয়ার কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এরআগে অভিবাসীবাহী মার্কিন সামরিক বিমান অবতরণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকো। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকোর সম্পর্ক এখন আলোচনায়। দুই দেশের যৌথ সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন তিনি। সীমান্তে অতিরিক্ত দেড় হাজার সেনা মোতায়েনেরও নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের শাস্তিমূলক পদক্ষেপে এটি স্পষ্ট হচ্ছে যে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি আরও বেশি পেশিশক্তি প্রয়োগের দিকে যাচ্ছে; এছাড়াও ট্রাম্পের ইচ্ছার কাছে নত হতে দেশগুলোকে বাধ্য করার অভিপ্রায়ই ফুটে উঠেছে।
ট্রাম্প বলেন, জো বাইডেন প্রশাসন আমলে লাখ লাখ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন। কাজেই তাদের প্রত্যাবাসনে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
৪০৪ দিন আগে
মার্কিন অভিবাসী ফ্লাইট অবতরণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান, নিষেধাজ্ঞার মুখে কলোম্বিয়া
অভিবাসীবাহী মার্কিন উড়োজাহাজ অবতরণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় কলোম্বিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করা হবে বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি।
হোয়াইট হাউসে ফিরে যাওয়ার পর বেশ কিছু নির্বাহী আদেশে সই করেন যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন প্রেসিডেন্ট। দেশটিতে প্রবেশে অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিরস্ত করতে চাচ্ছে তার প্রশাসন। পাশাপাশি লাখ লাখ কাগজপত্রহীন অভিবাসীকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ারও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, জো বাইডেন প্রশাসন আমলে লাখ লাখ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন। কাজেই তাদের প্রত্যাবাসনে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
এরআগে অভিবাসীবাহী মার্কিন সামরিক বিমান অবতরণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকো। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকোর সম্পর্ক এখন আলোচনায়। দুই দেশের যৌথ সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন তিনি। সীমান্তে অতিরিক্ত দেড় হাজার সেনা মোতায়েনেরও নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আর দক্ষিণ আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার কলোম্বিয়া। দেশটির পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। জবাবে কলোম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো এক এক্স পোস্টে বলেন, মার্কিন আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করতে বাণিজ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছি।
বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের শাস্তিমূলক পদক্ষেপে এটি স্পষ্ট হচ্ছে যে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি আরও বেশি পেশিশক্তি প্রয়োগের দিকে যাচ্ছে; এছাড়াও ট্রাম্পের ইচ্ছার কাছে নত হতে দেশগুলোকে বাধ্য করার অভিপ্রায়ই ফুটে উঠেছে।
নিজের সামাজিকমাধ্যম ট্রুথে ট্রাম্প লিখেছেন, ফ্লাইট অবতরণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে মার্কিন নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছেন গুস্তাভো পেট্রো।
কলোম্বিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে, দেশটির যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবে, সেগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে তা ৫০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির কর্মকর্তাদের ভিসা বাতিল ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি জরুরি রাজস্ব, ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়তে পারে কলোম্বিয়া।
ট্রাম্প বলেন, সীমান্তে কলোম্বিয়ার নাগরিক ও কার্গোতে তল্লাশি চালাতে নির্দেশ দেওয়া হবে। এটা কেবল শুরু।
৪০৪ দিন আগে
ইসরাইলি অবরোধ, বাড়িঘরে ফিরতে পারছেন না ফিলিস্তিনিরা
যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা উত্তর গাজায় নিজেদের বসতবাড়িতে ফিরতে চাইলেও ইসরাইলি সামরিক বাহিনী অবরোধ করে রাখায় সড়কেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। এদিকে জর্ডান ও মিসরসহ অন্য আরব দেশগুলো আরও বেশি ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে গ্রহণ করবে, সেটিই দেখতে চাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তা সন্দেহের চোখে দেখছেন ফিলিস্তিনিরা।
বসতবাড়িতে ফিরতে না পেরে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি রাস্তায় রাত যাপন করেছেন। হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে অভিযোগ তুলে অবরুদ্ধ সড়ক খুলে দিতে অস্বীকার করছে ইসরাইল।-খবর এপি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের।
এই অচলাবস্থার কারণে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে একটা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, মধ্য গাজায় উত্তর দিকের সড়ক বরাবর সারি সারি ফিলিস্তিনি অপেক্ষার প্রহর গুণছেন—কখন বাড়িঘরে ফিরতে পারবেন। তাদের মধ্যে কেউ গাড়িতে বসে, কেউ আছেন দাঁড়িয়ে।
তামের আল-বুরাই নামের এক বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি বলেন, গাজায় ফিরে যেতে এক বিশাল জনসমুদ্র অপেক্ষা করছেন। তাদের আর তর সইছে না।
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরাইলি হামলায় নারী ও শিশুসহ ১২ ফিলিস্তিনি নিহত
কিন্তু ইসরাইলি বাহিনী সড়ক অবরোধ তুলে নিচ্ছে না। সবাই বিরক্ত ও হতাশ।
গাজা যুদ্ধে বাড়িঘর হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন তামের। তিনি বলেন, ‘এখানের অনেকেই জানেন না তারা যে বসতবাড়ি রেখে এসেছেন, তা কী আগের মতো আদৌ দাঁড়িয়ে আছে, নাকি ইসরাইলের বোমায় মাটিতে মিশে গেছে। কিন্তু এসব সত্ত্বেও তারা ফিরতে চাচ্ছেন।’
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে বহু বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি সালাউদ্দিন সড়কে রাত কাটিয়েছেন। উত্তর থেকে দক্ষিণ গাজায় যাওয়ার মূলসড়ক এটি। গাজা উপত্যকার কেন্দ্রস্থল বরাবর নেৎজারিম করিডরে অবস্থান নিয়ে আছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা এই পথ দিয়েই বসতবাড়িতে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
জাজিম, খাবার ও তাঁবুভর্তি গাড়ি, ট্রাক ও রিকশা নিয়ে তারা অপেক্ষা করছেন। যুদ্ধের সময় আশ্রয়ের জন্য তাদের এসব দিয়েছিলেন স্বেচ্ছাসেবীরা। মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় ও মার্কিন সমর্থনে দুই পক্ষের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, তাতে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের নিজেদের আবাসভূমিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথাও আছে।
কিন্তু ইসরাইল বলছে, জীবিত ইসরাইলি জিম্মিদের তালিকা দিতে ব্যর্থ হয়েছে হামাস। এছাড়াও আরবেল ইহুদ নামের এক নারীকেও তারা ফেরত দিতে পারেননি। ফলে উত্তর গাজায় যাওয়ার ক্রসিংগুলো খুলে দিতে অস্বীকার জানিয়েছে তারা।
এদিকে শনিবার দুই হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা ইসরাইলের হাতে হস্তান্তরের নির্দেশনা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গাজায় নিরপরাধ মানুষের ওপর এই বোমা দিয়ে হামলা হতে পারে ভেবে এটির হস্তান্তর স্থগিত করে দিয়েছিলেন জো বাইডেন প্রশাসন।
ডর্জান ও মিসরকে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান
গাজা থেকে আরও বেশি ফিলিস্তিনিকে অস্থায়ী কিংবা স্থায়ীভাবে আশ্রয় দিতে মিসর ও জর্ডানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহর সাথে কথা বলার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমাদের স্রেফ পুরো জায়গাটি পরিষ্কার করে ফেলা উচিত। আক্ষরিক অর্থে এটি একটি ধ্বংসস্তূপ, সেখানের প্রায় সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে এবং লোকজন মারা যাচ্ছেন।
‘আমি চাই, মিসর লোকজন নিয়ে যাক। তারা সম্ভবত ১৫ লাখ লোক নিতে যাচ্ছেন এবং পুরো জায়গাটা পরিষ্কার করে ফেলুন,’ বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১৫ ফিলিস্তিনি নিহত
ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে সন্দেহের চোখে দেখছেন হামাসের এক নেতা। এটিকে ফিলিস্তিনিদের তাদের বাড়িঘর থেকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করার আভাস হিসেবেই বিবেচনা করছেন তিনি।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম বলেন, পুনর্গঠনের আড়ালে ভালো উদ্দেশ্য থাকলেও এ ধরনের প্রস্তাব কিংবা সমাধান আমরা গ্রহণ করবো না।
আল-আওদা হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরাইলি গুলিতে চার ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। তারা যাতে সড়ক ক্রসিংয়ের কাছে ঘেঁষতে না পারে, সে জন্যই এই গুলি করা হয়েছে।
৪০৪ দিন আগে