বিশ্ব
যুদ্ধ পরিকল্পনার চ্যাটগ্রুপে ভুলে সাংবাদিককে যুক্ত করলেন ট্রাম্প কর্মকর্তারা
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ওপর হামলার ঘটনায় গোপনীয় সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আলাপকালে গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সদস্য। যাদের মধ্যে ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও জাতীয় গোয়েন্দা পরিচারক তুলসি গ্যাবার্ড রয়েছেন।
হামলা পরিকল্পনা নিয়ে বাণিজ্যিক চ্যাটঅ্যাপ সিগনালে কথা বলছিলেন তারা। তখন ভুল করে দেশটির একজন বিখ্যাত সাংবাদিককেও গ্রুপে যুক্ত করা হয়েছিল। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এমন খবর দিয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। তদন্তের আহ্বান জানিয়ে সিনেটে সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বলেন, ‘বহু বছরের মধ্যে—আমি যতদূর জানি—এটা মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা তথ্যের সবচেয়ে মারাত্মক লঙ্ঘনের একটি।’
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের কাছে ‘অবাঞ্ছিত’ হলেও আফসোস নেই ইব্রাহিম রসুলের
স্পর্শকাতর তথ্য নিয়ে আলাপের জন্য সিগনাল ব্যবহারে মার্কিন সরকারের অনুমোদন নেই। সেদিনের এই আলোচনায় ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার, চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিফ উইটকফও ছিলেন।
গেল সোমবার দ্য আটলান্টিক সাময়িকীতে এক লেখায় সম্পাদক জেফরি গোল্ডবার্গ এমন তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানতে পারেন যে ‘হুতি পিসি স্মল গ্রুপ’ নামে সিগনাল আলাপে তাকে যুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার ১৮ সদস্য এই গ্রুপচ্যাটে ছিলেন।
জেফরি গোল্ডবার্গ বলেন, সিআইয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও বর্তমান আভিযানিক বিস্তারিত তথ্যসহ স্পর্শকাতর উপকরণ প্রতিবেদনে নিজের বিবরণ থেকে বাদ দিয়েছেন তিনি।
জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র ব্রিয়ান হিউগেস এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আটলান্টিক সাময়িকীকে তিনি বলেন, ‘একটি বার্তা প্রবাহ থেকে এমনটি ঘটেছে। কীভাবে অসাবধানতাবশত নম্বরটি যুক্ত হয়েছে, তা আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি।’
তবে এই ঘটনা সম্পর্কে জানতেন না বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আর আমি আটলান্টিক সাময়িকীর খুব একজন বড় ভক্ত না।’
পেট হেগসেথ বলেন, ‘কেউ যুদ্ধ পরিকল্পনা নিয়ে সেখানে বার্তা দেয়নি। এ বিষয়ে আমি এতটুকুই বলতে পারবো।’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সফর শেষে সোমবার হাওয়াইতে অবতরণ করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
আরও পড়ুন: ভয়েস অফ আমেরিকা বন্ধের ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত অবৈধ, মামলা
জবাবে জেফরি গোল্ডবার্গ বলেন, ‘হেগসেথ সত্যিকথা বলেননি। তিনি মিথ্যা বলেছেন। হেগসেথ যুদ্ধ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলছিলেন।’
পরবর্তীতে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্ডটসসহ জাতীয় নিরাপত্তা টিমের ওপর সর্বোচ্চ আত্মবিশ্বাস আছে ট্রাম্পের।
৪৩৭ দিন আগে
তুরস্কে ধরপাকড় উপেক্ষা করে এরদোগানবিরোধী বিক্ষোভ চলছে
তুরস্কের সরকারবিরোধীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর ধরপাকড় ক্রমাগত বাড়ছে। গেল ১৯ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজার ১৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে। যাদের মধ্যে সাতজন সাংবাদিকও রয়েছেন।
ইস্তানবুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে গেল বুধবার (১৯ মার্চ) আটকের পর থেকে তুরস্কে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। যা দেশটিতে গেল এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। এতে সেখানকার গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও নিউ ইয়র্ক টাইমস এমন খবর দিয়েছে।
আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ইস্তানবুলের মেয়রকে। কাজেই জনপ্রিয় একজন প্রার্থীকে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরিয়ে দিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমন একটি সময়ে এই ধরপাকড় শুরু হয়েছে, যখন একটি ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কেন্দ্রে রয়েছে তুরস্ক। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ‘এতে নিজের সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিশানা বানানোর মতো মুক্ত পরিবেশ পেয়েছেন এরদোগান।’
মেয়রের গ্রেপ্তারের ঘটনায় গুটিকয়েক ইউরোপীয় নেতা সমালোচনা করলেও বেশিরভাগই নিশ্চুপ রয়েছেন। শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারও এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না।
ফক্স নিউজের সাবেক সঞ্চালক টুকার কার্লসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ইস্তানবুলের মেয়রের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিফ উইটকফ। তিনি বলেন, সম্প্রতি এরদোগানের সঙ্গে কথা বলেছেন ট্রাম্প। তখন এই ফোনাপের কথা প্রকাশ করেনি হোয়াইট হাউস।
বিস্তারিত তথ্য নিয়ে উইটকফ বলেন, ‘তাদের এই কথোপকথনের মধ্য দিয়ে তুরস্ক থেকে ভালো ও ইতিবাচক কিছু খবর আসছে।’
রবিবার (২৪ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে একরেম ইমামোগলুকে আটকের নির্দেশ দেন আদালত। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা ও দুর্নীতির অভিযোগের বিচার চলছে, এছাড়াও ঘুষ, জালিয়াতি ও অবৈধভাবে ব্যক্তিগত উপাত্ত রেকর্ড করার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হবে কিনা; এখন পর্যন্ত আদালদের পক্ষ থেকে এমন কোনো আদেশ আসেনি। তাকে মেয়র পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: বিক্ষোভের তৃতীয় দিনে তুরস্কে গ্রেপ্তার ৩৪৩ জন
গেল দুই দশকের বেশি সময় ধরে তুরস্কের রাজনীতিতে একক আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছেন এরদোগান। সমালোচকদের অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বীদের দুর্বল করে দিতে তিনি রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করছেন। নির্বাচনী দৌড় থেকে একজন প্রার্থীকে সরিয়ে দিতে তাকে গ্রেপ্তার করার ঘটনা কর্তৃত্ববাদের এক নতুন অধ্যায়েরও সূচনা করেছে।
সাংবাদিকদের সংগঠন ডিস্ক-বেসিন-ইজ ইউনিয়ন জানিয়েছে, ‘অন্তত আট প্রতিবেদক ও ফটো সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে, যা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানুষের সত্য জানার অধিকারের ওপর বড় ধরনের আঘাত।’
সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইউনিয়ন লিখেছে, ‘সাংবাদিকদের নীরব করিয়ে দিয়ে কেউ সত্য গোপন করতে পারবে না।’
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইরলিকায়া বলেন, বিক্ষোভে ১২৩ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে এসিড, ছুরি ও অগ্নিবোমা জব্দ করা হয়েছে। জমায়েত ও বিক্ষোভ করার অধিকারের অপব্যবহার করছে কিছু চক্র। এরমধ্য দিয়ে তারা জনশৃঙ্খলা বিঘ্ন, রাস্তার অস্থিরতা ও পুলিশের ওপর হামলা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
‘আটকদের মধ্যে কিছু মানুষের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। বাকিদেরও অপরাধের অতীত ইতিহাস রয়েছে।’
জনগণ যাতে এসব উসকানিতে পা না দেন, সেই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের খবরে বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে একরেম ইমামোগলুকে সরিয়ে দিতে এই ধরপাকড় করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সরকারি কর্মকর্তারা।
৪৩৭ দিন আগে
ট্রাম্পের কাছে ‘অবাঞ্ছিত’ হলেও আফসোস নেই ইব্রাহিম রসুলের
ট্রাম্প প্রশাসন অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলেও এই নিয়ে কোনো ‘আফসোস’ নেই বলে জানিয়েছেন সম্প্রতি বহিষ্কৃত যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম রসুল। নিজ দেশে পৌঁছে এসব কথা বলেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৩ মার্চ) কাতার হয়ে প্রায় ৩২ ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে স্ত্রী রাশিদাকে সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখেন রসুল। বিমান বন্দরে প্রায় তিন শতাধিক সমর্থক তাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলেও এতে তার কোনো আফসোস নেই, কারণ নিজ দেশের জনগণের ভালোবাসায় তিনি সিক্ত। এর আগে গত ১৫ মার্চ ‘জাতি বিদ্বেষী’আখ্যা দিয়ে ইব্রাহিম রসুলকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমেরিকা ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘৃণা করেন ইব্রাহিম রসুল। তার সঙ্গে আমাদের আলোচনার কিছু নেই, এখন থেকে তাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।” বিদেশি কোনো নাগরিককে স্বাগতিক দেশ অবাঞ্জিত ঘোষণা করলে কূটনৈতিক পরিভাষায় তাকে পারসোনা নন গ্রাটা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূতকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও প্রিটোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এরই মধ্যে রসুলকে বহিষ্কারের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হবে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বহিষ্কারের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে দেশটির থিংক ট্যাংক মাপুঙ্গুবওয়ে ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক রিফ্লেকশন আয়োজিত এক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে ট্রাম্পের সমলোচনা করে রসুল বলেন, ‘ক্ষমতার বিরুদ্ধে, দক্ষিণ আফ্রিকায় যারা ক্ষমতায় আছেন, তাদের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।’
এ কারণেই ওয়াশিংটন তাকে বহিষ্কার করেছে বলে অভিমত দিয়েছেন অনেকে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে কোনো আফসোস নেই উল্লেখ করে বিমানবন্দরে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অপমান করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন তাকে পারসোনা নন গ্রাটা ঘোষণা করলেও নিজ দেশের মানুষের ভালোবাসায় সেটি সম্মানে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মানুষের এমন ভিড় ও তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলে উবুন্টু (আফ্রিকান শব্দ উবুন্তু মানে হলো মানবতা বা অন্যের প্রতি মানবিকতা) অনুভব হয়।’ মানুষের প্রতি ভালোবাসা বোঝাতে এবং একে অপরের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়। তাই উবুন্টুর মানে দাঁড়ায় ‘আমি আছি কারণ আমরা আছি।’
সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়ে রসুল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া পারসোনা নন গ্রাটার অপমান আমি সম্মান হিসেবে গ্রহণ করছি। এই বহিষ্কারাদেশ প্রমাণ করে আমরা ঠিক কাজটিই করেছি।’
এ সময় আফ্রিকার কূটনীতি এ বিষয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশে প্রচলিত নীতির পাশাপাশি উবুন্টুর মতাদর্শের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উবুন্টু কূটনীতি স্বাগতিক দেশকে তোষামোদ করায় বিশ্বাস করে না, বরং যেকোনো বিষয়ে ওই দেশকে সঠিক পথ দেখাতে আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকার কূটনীতি ব্যর্থ হয়েছে কিনা; সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ইব্রাহিম রসুল বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন আমাকে বহিষ্কার করেছে, এর মানে আমার বক্তব্য তাদের সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছেছে।’
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন তার বক্তব্যে অসন্তুষ্ট হলেও তিনি তার সমাজের মূল্যবোধ রক্ষা করেছেন বলে অভিমত দেন তিনি। এতে উবুন্টু কূটনীতি কাজ করেছে বলেও তার ধারণা প্রকাশ করেন রসুল।
শিগগিরই তার জায়গায় যোগ্য কাউকে নিয়োগ দেবেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। আফ্রিকার মূল্যবোধ বিসর্জন না দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে কাজ করবেন, এমন কাউকে প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব দেবেন বলে অভিমত দেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রসুল তাদের প্রেসিডেন্টকে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৪৩৮ দিন আগে
গাজার হাসপাতালে ইসরাইলি হামলা, হামাস নেতাসহ নিহত ৫
দক্ষিণ গাজায় সবচেয়ে বড় হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। এতে হামাসের রাজনৈতিক শাখার এক নেতাসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতালটিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও গার্ডিয়ান এমন তথ্য দিয়েছে। খান ইউনিস শহরের নাসের হাসপাতালে অস্ত্রোপচার ভবনে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এমন এক সময়ে হামলা চালানো হয়েছে, যখন হতাহতে পরিপূর্ণ ছিল ভবনটি। হামলার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে ইসরাইল।
তারা বলছেন, একজন হামাস সদস্য ওখান থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছিল বলে তারা এই অভিযান চালিয়েছে। ব্রিট্শি দৈনিক গার্ডিয়ানের খবর বলছে, এতে হামাসের রাজনৈতিক নেতা ও চিকিৎসকসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ মিছিল
৪৩৮ দিন আগে
প্রেসিডেন্টপ্রার্থী হিসেবে মনোয়ন পাওয়ার দিনই কারাগারে ইস্তানবুলের মেয়র
তুরস্কের ইস্তানবুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে অবশেষে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আদালত। বিচারপূর্ব আটক করে তাকে এমন একদিন কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যেদিন প্রেসিডেন্টপ্রার্থী হিসেবে তার দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার কথা ছিল।
দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী বিবেচনা করা হয় তাকে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়া, ঘুষ, অসদাচরণসহ বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে গত বছরের স্থানীয় নির্বাচনের আগে বামপন্থি রাজনৈতিক জোটকে সহযোগিতারও অভিযোগ তোলা হয়েছে।-খবর গার্ডিয়ানের
তুরস্কের সবচেয়ে বড় শহর ইস্তানবুলের এই মেয়রসহ আরও চারজনের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে মামলা করা হয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন একরেম ইমামোগলু।
জিজ্ঞাসাবাদকালে তিনি বলেন, তাকে আটকের এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গণে তুরস্কের ভাবমর্যাদাই কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, দেশের অর্থনীতি ও বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে।
‘গণতন্ত্রের একজন সুরক্ষাকারী ও জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাসী হিসেবে, আমি মনে করি, সত্যের বিজয় হবে,’ বলেন তিনি। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তার মুখপাত্র মুরাত অনগুন বলেন, ‘এমন এক অপবাদে আমাকে আটক করা হয়েছে, যার সপক্ষে ন্যূনতম কোনো প্রমাণ নেই।’
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি হামলায় হামাসের রাজনৈতিক নেতাসহ নিহত ১৯
এদিকে এরদোগানের পদত্যাগে দাবিতে বিক্ষোভে ৩৪৩ জনকে আটক করা হয়েছে। চারদিন আগে দেশটির জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ও রাজধানী ইস্তানবুলের মেয়র একরেম ইমামোগুলকে আটকের পর শুরু হয়েছে এই বিক্ষোভ।
শুক্রবার (২১ মার্চ) রাতে দেওয়া এক ভাষণে বিক্ষোভের নিন্দা জানিয়ে এরদোগান বলেন, ‘রাস্তার সন্ত্রাস কিংবা ধ্বংসোন্মদনার কাছে তার সরকার আত্মসমর্পণ করবে না। জনশৃঙ্খলা ব্যাহত হয়, এমন কিছু মেনে নেওয়া হবে না।’
স্থানীয় সময় শনিবার (২২ মার্চ) দিনের শেষভাগে ইমামোগলুকে আদালতে তোলার কথা রয়েছে। এরআগে গেল তিন ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দেশটির পুলিশ।
এরদোগানের সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন একরেম ইমামোগলু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) নেতা। তিনি ছাড়া আরও শতাধিক রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
৪৩৮ দিন আগে
ইসরায়েলি হামলায় হামাসের রাজনৈতিক নেতাসহ নিহত ১৯
ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাসের এক জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাসহ ১৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শনিবার (২২ মার্চ) দিবাগত রাতে এই হামলা চালানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন নারী ও শিশুও রয়েছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের খবর অনুসারে, মিসর সীমান্তের রাফাহ শহরের একটি অংশ থেকে লোকজনকে সরে যেতে বলেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
সেখানকার তেল-সুলতান অঞ্চলে অভিযান পরিচালনার কথা বলেছে তারা। এরইমধ্যে বিমান হামলায় অঞ্চলটি ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। গেল মে মাসে সেখানে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ মিছিল
মিসর সীমান্তের এই শহরটিতে একটি কৌশলগত করিডোর ও রাফাহ ক্রোসিং রয়েছে।
মাওয়াসি এলাকায় একটি একমুখী পথ ধরে পায়ে হেঁটে লোকজনকে চলে যেতে বলা হয়েছে। মাওয়াসিতে ব্যাপক দারিদ্র্যপীড়িত শরণার্থী শিবির রয়েছে, যেখানে উল্লেখ করার মতো সরকারি সেবা নেই।
লোকজনকে চলে যেতে এই নির্দেশ নতুন করে স্থল অভিযানের আভাস দিচ্ছে কিনা; তা এখনো পরিষ্কার না।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল অভিচাই আদ্রেই বলেন, ‘তেল আল-সুলতানের এসব বসতি, তাঁবু কিংবা শারণার্থী শিবিরে থাকা বা অন্য কোনো পথ ধরে হেঁটে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে আপনার ও আপনার পরিবারের জীবন ঝুঁকিতে ঠেলে দেওয়া।’
হামাস জানিয়েছে, মাওয়াসিতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় স্ত্রীসহ রাজনৈতিক ব্যুরো ও ফিলিস্তিনি পার্লামেন্ট সদস্য সালাহ বারদাওয়েল নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনটির রাজনৈতিক শাখার একটি পরিচিত মুখ হলেন সালাহ। বহুবছর ধরে তিনি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে আসছিলেন।
দক্ষিণাঞ্চলীয় গাজার দুটি হাসপাতাল জানিয়েছে, কয়েকজন নারী ও শিশুসহ তারা সতেরোটি মরদেহ পেয়েছেন। তবে হামাস নেতার ও তার স্ত্রীর মরদেহ সেখানে ছিল না।
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নারী ও শিশুসহ ১২ ফিলিস্তিনি নিহত
দ্য ইউরোপীয় হাসপাতাল জানিয়েছে, এসব মরদেহের মধ্যে খান ইউনিসের পাঁচটি শিশু ও তাদের বাবা-মা রয়েছেন।
এছাড়া এক নারী ও শিশুর মরদেহ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দ্য কুয়েত হাসপাতাল।
রাফাহে হামলার পর সেখানে অ্যাম্বুলেন্স যেতে দিচ্ছে না ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট। তাদের কয়েকজন চিকিৎসকও আহত হয়েছেন।
৪৩৯ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নির্দেশিকা কঠোর করল ইউরোপ
জার্মান নাগরিকসহ বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় নাগরিককে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আটকের ঘটনায় দেশটিতে ভ্রমণ নির্দেশিকায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ।
জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ভ্রমণকারী জার্মান নাগরিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
একজন মুখপাত্র সরকারি গণমাধ্যম এআরডির তাগেসচাউকে বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের অনুমতি পেতে শুধু ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথোরাইজেশন (ইএসটিএ) অনুমোদন বা মার্কিন ভিসাই যথেষ্ট নয়। এসব অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তিকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি নাও দেওয়া হতে পারে।’
আরও পড়ুন: আমি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বন্দি: মাহমুদ খলিল
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তিনজন জার্মান নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন গ্রিন কার্ডধারীও ছিল। পরে তাদের দুইজনকে জার্মানিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর যুক্তরাজ্যও তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ নির্দেশিকায় পরিবর্তন এনেছে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয় এবং যদি কেউ আইন ভঙ্গ করে, তাহলে তাকে আটক বা নির্বাসিত করা হতে পারে। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন অফিস জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় নাগরিকদের সব নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে।’
রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর চলতি মাসের শুরুতে নিশ্চিত করেছে যে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আটক এক ব্রিটিশ নাগরিককে সহায়তা করেছে।
এছাড়াও ফিনল্যান্ডও শুক্রবার একই ধরণের ভ্রমণ নির্দেশিকায় পরিবর্তন এনে বলেছে, যথাযথ বৈধ ভ্রমণ নথি বর্তমান মার্কিন নীতির অধীনে প্রবেশের নিশ্চয়তা নাও দিতে পারে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলোর মধ্যে ভিসা বা ইস্তা আবেদনকারীকে তার লিঙ্গ ও জন্মের সময়ের লিঙ্গ বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করতে বলেছে। এক্ষেত্রে কোনো অসঙ্গতি পেলে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি বাতিল করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।
এছাড়া, ফিনিশ কর্তৃপক্ষ ভ্রমণকারীদের সতর্ক করে বলেছে, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতে জনসমাগম এড়িয়ে চলে। কারণ, ওইসব স্থানে রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঝুঁকি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন কর্তৃপক্ষ।
ফিনল্যান্ডের সম্প্রচারমাধ্যম ইয়েলের মতে, এই কঠোর নীতিমালা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির ক্রমবর্ধমান রূপকে তুলে ধরে।
৪৩৯ দিন আগে
ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননে নিহত ৬, আহত ২৮
ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ২৮ জন লেবানিজ।
রবিবার (২৩ মার্চ) লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
লেবাননের জনস্বাস্থ্য জরুরি বিভাগ জানিয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের শহর তায়ার শহর, বেশ কয়েকটি উপত্যকা ও গ্রামকে লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় ছয়জন নিহত হয় ও আহত হন আরও ২২ জন।
এদিকে লেবাননের একটি নিরাপত্তা সূত্র বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী ১৫টি বিমান হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী আইডিএফ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী লেবাননের হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার, অবকাঠামো, সামরিক রকেট লঞ্চার ও অস্ত্রাগারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনে তারা আরও হামলা চালাবে বলে জানিয়ে ইসরায়েল।
আইডিএফের বিবৃতির অল্প সময় আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলার প্রতিক্রিয়ায় লেবাননে হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর জন্য আইডিএফকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৫
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই অঞ্চলে যা কিছু ঘটছে এর জন্য লেবাননের সরকার দায়ী।’ ‘ইসরায়েল তার নাগরিক ও সার্বভৌমত্বের কোনো ক্ষতি হতে দেবে না। একই সঙ্গে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের নাগরিকদের নিরাপত্তায় সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতির ফলে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের অবসান ঘটে, যা ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়। ইসরায়েলের সঙ্গে হিজবুল্লাহর শত্রুতার মূল বিষয় ছিল গাজায় ইসরালি বর্বরতা। এই যুদ্ধবিরতির ফলে ইসরায়েলের সঙ্গে হিজবুল্লাহর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসান হয়।
যুদ্ধবিরতির ফলে লেবাননের বিতর্কিত অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের শর্ত ছিল। তবে ইসরায়েলি বাহিনী ১৮ ফেব্রুয়ারির সময়সীমার পরেও পাঁচটি সীমান্ত পোস্ট দখল করে রেখেছে বলে লেবাননের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে ইসরাইলের হামলা
৪৩৯ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো রাজ্যে পার্কে বন্দুক হামলায় নিহত ৩
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো রাজ্যের একটি পার্কে বন্দুকধারীর গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন।
শুক্রবার রাতে এই গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: গাজায় এমন হামলা হবে, যা আগে কেউ কখনো দেখেনি: ইসরায়েল
নিহতদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী দুই তরুণ ও ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
গুলির ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
৪৩৯ দিন আগে
বিক্ষোভের তৃতীয় দিনে তুরস্কে গ্রেপ্তার ৩৪৩ জন
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের পদত্যাগে দাবিতে বিক্ষোভের তৃতীয় দিনে ৩৪৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনদিন আগে দেশটির জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ও রাজধানী ইস্তানবুলের মেয়র একরেম ইমামোগুলকে আটকের পর শুরু হয়েছে এই বিক্ষোভ।
সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাকে যেদিন পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছে, তার পরদিন আগামী ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণার কথা ছিল এই রাজনীতিবিদের।
শুক্রবার (২১ মার্চ) রাতে দেওয়া এক ভাষণে বিক্ষোভের নিন্দা জানিয়ে এরদোগান বলেন, ‘রাস্তার সন্ত্রাস কিংবা ধ্বংসোন্মদনার কাছে তার সরকার আত্মসমর্পণ করবে না। জনশৃঙ্খলা ব্যাহত হয়, এমন কিছু মেনে নেওয়া হবে না।’
স্থানীয় সময় শনিবার (২২ মার্চ) দিনের শেষভাগে ইমামোগলুকে আদালতে তোলার কথা রয়েছে। এরআগে গেল তিন ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দেশটির পুলিশ।
এরদোগানের সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন একরেম ইমামোগলু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) নেতা।
তিনি ছাড়া আরও শতাধিক রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শুক্রবারও এরদোগানের পদত্যাগ দাবিতে ইস্তানবুলে হাজার মানুষকে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।
এ ঘটনাকে ২০১৩ সালের পরে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন বলে অভিহিত করেছেন অনেকে। সে বছরের আন্দোলন চলাকালে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: বিক্ষোভে উত্তাল তুরস্কে এবার এরদোয়ানের পদত্যাগ দাবি
এবার অবশ্য বিক্ষোভ দমনে ইস্তানবুলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির প্রশাসন। এছাড়া বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়া শহরগুলোতে সব ধরনের জমায়েতের ওপর পাঁচ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঘটা সহিংসতার কারণে আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে অবস্থিত একটি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার ইস্তানবুলে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর পেপার স্প্রে, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। রাজধানী আঙ্কারা ও ইজমির শহরেও বলপ্রয়োগে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। আঙ্কারায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একটি প্রধান সড়ক ধরে অগ্রসর হতে গেলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
দেশটির প্রশাসনের এমন বাধা ও প্রেসিডেন্টের হুমকির তোয়াক্কা না করেই আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন বিক্ষোভকারীরা। এমনকি, এরদোয়ানের শাসনকে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তুলনা করে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। সেইসঙ্গে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে তাকে সরে দাঁড়ানোর দাবি তোলেন অনেকে।
৪৩৯ দিন আগে