বিশ্ব
গাজায় ১৫ মাসের বিয়োগান্তক উপাখ্যান শেষে যুদ্ধবিরতির বার্তা
টানা ১৫ মাস ধরে গাজাবাসী অপেক্ষায় ছিলেন যুদ্ধ বন্ধের। শত-সহস্র প্রাণ ঝড়ে যাওয়ার পর অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।যুক্তরাষ্ট্র, মিসর আর কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বিরতিতে রাজি হয়েছে হামাস আর ইসরাইল। রোববার থেকে গাজার আকাশে দেখা যাবে না আর কোনো ইসরাইলি বোমারু বিমান।আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো বলছে, ২০২৪ সালের মধ্যভাগ থেকে চলছিল যুদ্ধবিরতির আলোচনা। একদিকে গোলটেবিল বৈঠক আর অন্যদিকে গাজার ওপর মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণ। ২০২৩ সালে ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় নিহত এক হাজার ২০০ ইসরাইলির লাশের কাফফারা দিতে হয়েছে ৪৭ হাজার ফিলিস্তিনির জীবনের বিনিময়ে।মা হারিয়েছেন তার সন্তান, সন্তান হারিয়েছেন বাবা-মাকে, মৃত সন্তানের কফিন কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে পিতাকে, বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকতে হয়েছে ক্যাম্পে ক্যাম্পে। অনাহারে অর্ধাহারে বেঁচে থাকা। সকালে যার সঙ্গে নাস্তা করেছেন, দুপুরে হয়তো সেই প্রিয়জনের লাশ কাঁধে নিয়ে যেতে হয়েছে গোরস্থানে। এইতো ছিল ১৫ মাস ধরে গাজাবাসীর জীবন।সারা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে গাজার আর্তনাদ। প্রতিটি মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, এটা আর কিছু না, নিরাপত্তার ধোয়া তুলে রীতিমতো প্রতিহিংসার খেলায় মেতে উঠেছে ইসরাইল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, স্রেফ গণহত্যা চালানো হয়েছে গাজায়। যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে।অবশেষে সেই খুশির খবর। প্রায় অর্ধলক্ষ নিরীহ ফিলিস্তিনির লাশের ওপর দাঁড়িয়ে বোধোদয় হলো বিশ্ব মোড়লদের, ঘোষিত হলো যুদ্ধবিরতি।রোববার থেকে গাজার রাতের আকাশে হয়তো আর যুদ্ধবিমান না, দেখা মিলবে জ্বলজ্বলে নক্ষত্রের। হয়তো স্বজনহারা গাজাবাসী আবারও নতুন উদ্যোমে বাঁচতে শুরু করবে। সব ভুলে হয়তো ফিলিস্তিনের ধ্বংসস্তূপের ওপর ফুটবে নতুন দিনের লাল গোলাপ।পাঁচ দিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের শেষ মুহূর্তে মুখ রক্ষা করলেন জো বাইডেন। জানালেন, রোববার থেকেই ইসরাইলের সৈন্যরা ছাড়তে শুরু করবে গাজার মাটি। যারা বাড়িছাড়া হয়ে এতদিন উদ্বাস্তুর মতো বেঁচে ছিলেন, তারা ফিরে যাবেন নিজ গৃহে। আবারও আন্তর্জাতিক সাহায্য আসবে গাজার মাটিতে, শিশুর শূন্য থালায় জায়গা করে নিবে শুকনো রুটি।জাতিসংঘেরও জোর সেদিকেই। যুদ্ধ তো শেষ হলো, এবার এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলানোর আহ্বান সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতারেসের।হামাসের হাতে এখনো বন্দি ৯৪ জন ইসরাইলের নাগরিক, চুক্তি মোতাবেক যাদের মুক্তি দিতে হবে শিগগিরই। যদিও ইসরাইল সরকারের ধারণা এদের মধ্যে ৩৪ জন হয়তো আর বেঁচেই নেই। তবে হামাস জানিয়েছে, যারা বেঁচে আছেন, তাদের সবাইকেই ফেরত পাঠানো হবে ইসরাইলে।বুধবার গাজার রাত ছিল ভিন্নরকমের। যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিমান হামলায় নিহত ৩ ফিলিস্তিনি। শেষবেলায়ও শোধ তুলে নিতে ভুল করেনি আগ্রাসী ইসরাইল। তবুও রাতের আঁধার আর বোমার আঘাতকে তুচ্ছ করে তাবু ছেড়ে রাস্তায় বেড়িয়ে পড়ে গাজাবাসী। সবচেয়ে অবাককাণ্ড এত ক্ষয়, এত মৃত্যু, এত রক্ত; এরপরও ফিলিস্তিনিদের সৃষ্টিকর্তঅর প্রতি বিশ্বাসে ভাটা পড়েনি এতটুকু। রীতিমতো আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে আনন্দ উদযাপন করেছেন তারা।এই আনন্দ ঘরে ফেরার, নিজের টেবিলে বসে আহার করার, নিজের বিছানায় ঘুমানোর। হয়তো যে সন্তানকে কোলে নিয়ে মা ঘুমাতো সেই বুকের ধন বেঁচে নেই। হয়তো যে বাবার আঙুল ধরে স্কুলে যাতায়াত বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে তার শরীর। যে ঘরে হয়তো প্রতিদিন বসতো চাঁদের হাট সেখানে ফিরতে হবে একা। তারপরও বেঁচে থাকাই যেন অনেক কিছু গাজাবাসীর জন্য। আর এই বেঁচে থাকার উদ্যোম নিয়েই এত আঘাতের পরেও মেরুদণ্ড সোজা করে মানচিত্র আঁকড়ে ধরে টিকে আছে ফিলিস্তিন, স্বপ্ন তাদের স্বাধীনতার।
৪১৫ দিন আগে
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইয়ন সুক গ্রেপ্তার
বিদ্রোহের অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইয়ন সুক ইয়লকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে দেশটির পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।তাকে আটক করতে তিন হাজারেরও বেশি পুলিশ তার বাসা ঘেরাও করে রাখে। পরে রক্তপাত এড়াতে তদন্তে সহায়তা করতে সম্মত হওয়ার কথা জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার এই রাজনীতিবিদ। ইয়ন সুক বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে তিনি নিজেকে সমর্পণ করেছেন।দক্ষিণ কোরিয়ার এই প্রেসিডেন্ট বলেন, যখন অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামাদি দিয়ে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলতে দেখি, তখন রক্তপাত এড়াতে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। যদিও এই জিজ্ঞাসাবাদ অবৈধ।বুধবার সকালে মোটরশোভাযাত্রা নিয়ে তদন্তকারীদের অফিসে যেতে দেখা গেছে তাকে। অভিশংসিত এই প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞাসাবাদে কর্তৃপক্ষের কাছে এখন ৪৮ ঘণ্টা সময় আছে। এরপর আদালতের কাছে তাকে ২০ দিনের মতো আটকে রাখার পরোয়ানা চাইবেন তারা অথবা ছেড়ে দেওয়া হবে।ইয়ন সুকের গ্রেপ্তারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তাকে জনসমক্ষে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা আইনজীবীরা। স্থানীয় একটি সম্প্রচার মাধ্যম জানিয়েছে, গ্রেফতারের সময় ইয়ন সুকের অশ্রুসিক্ত সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।গেল বছরের ৩ ডিসেম্বর স্বল্প-সময়ের জন্য দেশে সামরিক আইন জারি করেন তিনি, যা সবাইকে অবাক করে দিয়েছিল। এরপরই তাকে সরে দাঁড়াতে বলে ১৪ ডিসেম্বর পার্লামেন্টে অভিশংসন প্রস্তাব পাশ করা হয়েছে।ছোট্ট একদল নিরাপত্তা বাহিনীর প্রহরায় পাহাড়ের পদদেশে নিজের বাসস্থানে ছিলেন ইয়ন সুক। এরআগেও তাকে গ্রেপ্তার করতে এলে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর বাধার মুখে ফিরে যেতে হয়েছে তদন্তকারীদের।এশিয়ার সবচেয়ে প্রাণবন্ত গণতন্ত্র ও চতুর্থ বড় অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। সামরিক শাসন জারি করার পর দেশটিতে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। দেশটিতে এই প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট গ্রেপ্তার হলেন। যদিও আগে সেখানকার সাবেক নেতাদের কারাবন্দি ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার দৃষ্টান্ত আছে।
৪১৬ দিন আগে
অবশেষে পদত্যাগ করলেন টিউলিপ সিদ্দিক
ক্রমাগত চাপ ও বিতর্কের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিক (৪২)। গণঅভ্যুত্থানের মুখে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ভাগনি মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।শেখ হাসিনার সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে গেল কয়েক সপ্তাহ ধরেই তিনি যুক্তরাজ্যে খবরের শিরোনাম হয়ে আসছিলেন। তবে তিনি পদত্যাগ করলেও ভুল কিছু করেননি বলে দাবি করেন।গেল সপ্তাহে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘টিউলিপের ওপর তার পূর্ণ আস্থা আছে।’ তবে দুই মাসের মধ্যে সরকারের দ্বিতীয় কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা কিয়ার স্টারমারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যে শ্যাডো ইকোনমিক সেক্রেটারি হলেন টিউলিপ সিদ্দিকগেল বছরের জুলাইয়ে সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে লেবার পার্টি ক্ষমতার আসার পর কিয়ার স্টারমারের জনপ্রিয়তায়ও ধস নেমেছে।ট্রেজারি মিনিস্টার হিসেবে অর্থপাচারের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব ছিল টিউলিপের। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তার অর্থনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে তদন্তে যদিও কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলেনি, কিন্তু তার অবস্থানের কারণে সরকারি কাজ থেকে মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হতে পারে। আর এ কারণেই মন্ত্রীত্বের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।তাৎক্ষণিকভাবে দেশটির পেনশন বিষয়ক মন্ত্রী এমা রেনল্ডসকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শেখ হাসিনা। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগে তদন্ত চলছে।বাংলাদেশের অবকাঠামো খাত থেকে অর্থ পাচারে শেখ হাসিনার পরিবার জড়িত কিনা, সেই তদন্তের মধ্যেই গেল ডিসেম্বরে টিউলিপের নাম উঠে আসে। ওই অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।২০১৩ সালে শেখ হাসিনার মস্কো সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠকের সময় টিউলিপ সিদ্দিকও উপস্থিত ছিলেন। তার ওই ছবি এ সময় ফলাও করে প্রচার করে বেশ কয়েকটি ব্রিটিশ গণমাধ্যম।টিউলিপ সিদ্দিককে বরখাস্ত করতে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বেশ কয়েকজন বিরোধী দলীয় নেতা। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিত খবর, সম্পাদকীয় প্রকাশিত হতে থাকে।এর মধ্যে শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন ব্যক্তির সম্পত্তি টিউলিপের ব্যবহার করা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।এই প্রেক্ষাপটে টিউলিপ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের অনুরোধ জানিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাডভাইজার অন মিনিস্ট্রিয়াল স্ট্যান্ডার্ডস) লাউরি ম্যাগনাসের কাছে চিঠি (রেফারেল) লিখেছিলেন। মন্ত্রীদের আচার-আচরণ, নীতিনৈতিকতা বিষয়ে ম্যাগনাস যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীকে উপদেশ দিয়ে থাকেন। ওই তদন্ত চলার মধ্যেই পদত্যাগ করলেন টিউলিপ সিদ্দিক।
৪১৬ দিন আগে
এমপক্স শনাক্ত: সিয়েরা লিওনে জরুরি অবস্থা জারি
মাত্র চার দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ব্যক্তির শরীরে এমপক্স শনাক্ত হওয়ার পর জরুরি অবস্থা জারি করেছে আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন।
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দেশটি এই জরুরি অবস্থা জারি করে বলে এক প্রতিবেদনে বলেছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস(এপি)।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আক্রান্তদের কারোরই সম্প্রতি সংক্রমিত প্রাণী বা ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার রেকর্ড নেই। প্রথম যে ব্যক্তির শরীরে এমপক্স শনাক্ত হয়, তিনি গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৬ জানুয়ারির মধ্যে উত্তরাঞ্চলীয় পোর্ট লোকো জেলার একটি বিমানবন্দর শহর লুঙ্গিতে সম্প্রতি ভ্রমণ করেছিলেন।
এখন পর্যন্ত আক্রান্ত দুই রোগীকেই রাজধানীর ফ্রিটাউনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: এমপক্স ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
এমপক্স ভাইরাসটিকে মাঙ্কিপক্সও বলা হয়। ১৯৫৮ সালে বানরের মধ্যে ‘পক্সের মতো’ রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় প্রথম শনাক্ত করা হয়েছিল। ঐতিহাসিকভাবে, মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকায় বেশিরভাগ মানব শরীরে এসব সংক্রমণ হয়েছে। সাধারণত সংক্রামিত প্রাণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ লোকদের মধ্যে এটির সংক্রমণ ঘটে থাকে।
তবে ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো যৌন সংক্রমণের মাধ্যমে এমপক্স ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এর ফলে ৭০ টিরও বেশি দেশে প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল। এর আগে আগে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের হার কঙ্গোতে। এই বছর আফ্রিকায় আনুমানিক ৪৩ হাজার মানুষের শরীরে সন্দেহভাজন ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার মৃত্যুর বেশিরভাগই ঘটেছে আফ্রিকাতে।
সিরেয়ার লিওনে ২০১৪ সালে ইবোলা প্রাদুর্ভাব হয়েছিল সবচেয়ে বেশি। এটি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভাইরাস। মূলত পশ্চিম আফ্রিকাকে প্রভাবিত করা এই প্রাদুর্ভাবটি। সারা বিশ্বের মোট ১১ হাজার মৃত্যুর মধ্যে সিয়েরা লিওনেই ৪ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল ভাইরাসটি। ওই মহামারিতে দেশটি তার ৭ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা কর্মী হারিয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতে তৃতীয় ব্যক্তির শরীরে এমপক্স শনাক্ত
৪১৬ দিন আগে
গাজায় বিমান হামলার সময় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুথি
মঙ্গলবার ভোরে মধ্য ইসরায়েলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এসময় সতর্কতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সাইরেন বেজে উঠলে ইসরায়েলিরা বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। হামাসের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে যুদ্ধবিরতি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানো সত্ত্বেও গাজা উপত্যকায় যখন ইসরায়েলি বাহিনী রাতভর ও মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বিমান হামলা চালায়, ঠিক তখনি হুথিদের এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে একাধিক বাধা দেওয়ার চেষ্টার কথা জানিয়ে বলেছে যে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘সম্ভবত প্রতিহত করা হয়েছিল।’
আরও পড়ুন: হামাসের নিরাপত্তা বিভাগের প্রধানকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের
ক্ষেপণাস্ত্র বা এর ধ্বংসাবশেষ থেকে কেউ আহত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা বিভাগ ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় কিছু লোক আহত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসরায়েলি আকাশসীমায় ঢোকার আগেই একটি ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা হয় বলে জানিয়েছে।
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণকারী ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা গাজায় হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘর্ষের মধ্যে ইসরায়েল ও প্রায় ১০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। বিদ্রোহীরা এখনও সর্বশেষ হামলার দায় স্বীকার করেনি। যা তারা কখনও কখনও কয়েক ঘণ্টা বা দিন দেরি করে।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় দুই নারী, তাদের চার সন্তান (এক মাস থেকে ৯ বছর বয়সী) এবং এক অনাগত শিশুসহ ছয়জন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এক নারী দুই সন্তানের জননী এবং অন্যজন তার ছেলে ও মেয়ের সঙ্গে নিহত হয়েছেন।
দেইর আল-বালাহর আল আকসা মার্টারস হাসপাতাল লাশগুলো গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আরও পড়ুন: আইসিজে’র প্রেসিডেন্ট নওয়াফ সালাম লেবাননের নতুন প্রধানমন্ত্রী
৪১৭ দিন আগে
আইসিজে’র প্রেসিডেন্ট নওয়াফ সালাম লেবাননের নতুন প্রধানমন্ত্রী
নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) প্রেসিডেন্ট নওয়াফ সালামকে লেবাননের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দেশটিতে একটি নতুন সরকার গঠনের জন্য সোমবার (১৩ জানুয়ারি) প্রেসিডেন্ট তাকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের ঘোষণা দেন।
প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের পরিচালিত বাধ্যতামূলক পরামর্শ গ্রহণের সময় ১২৮টি সংসদীয় ভোটের মধ্যে সালাম ৮৪টি ভোট পেলে তাকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট আউন সালামকে তলব করে তাকে এই দায়িত্ব দেন। তবে সালাম বর্তমানে বিদেশে আছেন এবং মঙ্গলবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
লেবাননের প্রচলিত রাজনৈতিক রীতিনীতির অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পদে ঐতিহ্যগতভাবে একজন সুন্নি মুসলমান আসীন থাকেন। আর প্রেসিডেন্ট সর্বদা একজন ম্যারোনাইট খ্রিস্টান এবং সংসদীয় স্পিকার একজন শিয়া মুসলিম।
১৯৫৩ সালে একটি বিশিষ্ট রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণকারী সালাম একজন সুন্নি মুসলিম। লেবাননের ১৯৭৫-১৯৯০ সালে লেবাননের গৃহযুদ্ধের আগে তার চাচা সায়েব সালাম দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তার চাচাতো ভাই তাম্মাম সালাম ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একই পদে ছিলেন।
আরও পড়ুন: লেবানন থেকে ফিরলেন আরও ১০৫ বাংলাদেশি
সালাম হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে দুটি ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে লেবাননের রাষ্ট্রদূত এবং স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১৪ মাস ধরে চলা সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে সালামকে এই নিয়োগ দেওয়া হলো।
সংঘাত-পরবর্তী পুনর্গঠন ছাড়াও দেশটি গভীর অর্থনৈতিক সংকটসহ উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৫
৪১৭ দিন আগে
নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় অস্থির জ্বালানির বাজার, ভারতসহ ৩ দেশ বিপদে
নতুন করে রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় বিপদে পড়েছে চীন ও ভারত। এতে করে এই দুই দেশকে জ্বালানি তেল আমদানিতে খুঁজতে হবে বিকল্প বাজার। অন্যদিকে তেল বিক্রির বড় বাজার হারালে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে রাশিয়ার জন্য।চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর আরেক দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ক্ষমতা ছাড়ার আগমুহূর্তে এটি বাইডেন প্রশাসনের রাশিয়ার অর্থনীতিতে সর্বশেষ আঘাত বলে অভিমত ব্যবসা বিশ্লেষকদের।রাশিয়ার তেল উৎপাদনকারী প্রধান দুটি প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম এবং সারগেটনেফটগ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বড় ক্ষতি হয়েছে ১৮৩ তেলবহনকারী ভেসেল জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায়।যেসব জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, এর বড় একটি অংশ চীন-ভারতে জ্বালানি তেল পরিবহন করে। ২০২২ সালে জি-৭ দেশগুলো তেলের দাম বেধে দিলে রাশিয়া বাজার ধরতে বেছে নেয় এশিয়াকে। এদিকে সস্তায় তেল কিনতে পারায় রাশিয়া হয়ে উঠেছে চীন-ভারতের মুনাফার বড় বাজার।নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত জাহাজগুলো ২০২৪ সালে মোট ৫৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রফতানি করেছে, যা দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানির ৪২ শতাংশ। রফতানি হওয়া এ তেলের ৩০০ মিলিয়ন ব্যারেলই গিয়েছে চীনে এবং বাকিটা ভারতের বাজারে।বাণিজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান কেপলারের বিশ্লেষণ বলছে, রুশ জ্বালানি তেলের বাণিজ্যে এটা বড় রকমের ধাক্কা। সমুদ্রে রাশিয়ার তেল বহনকারী জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় বিকল্প খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত ভুগতে হবে দেশটিকে।এদিকে রুশ তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে বিশ্ববাজারে বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ ব্রেন্ট ক্রুড জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা নতুন বছরে সর্বোচ্চ।গেল বছর প্রথম ১১ মাসে ভারত ৩৬ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করেছে রাশিয়া থেকে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় সাড়ে ৪ শতাংশ বেশি। একইসময়ে চীনের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেলের জোগানদাতা ছিল রাশিয়া, যা আগের বছরের থেকে ২ শতাংশ বেশি।হঠাৎ করে রাশিয়ার ওপর এমন নিষেধাজ্ঞায় ভারত-চীনকে মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার দিকে ঝুঁকতে হবে। রাশিয়া ও ইরানের তেল সরবরাহ কমে আসায় মধ্যপ্রাচ্যে তেলের দাম এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী। এতদিন ভারত-চীন রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কিনতে পারলেও এবার বেশি দামে বিকল্প বাজারমুখী হওয়া ছাড়া দেশ দুটির সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।এরইমধ্য সরবরাহ কমায় জ্বালানি তেলের বাজারে আবারও শঙ্কা জেগেছে অস্থিরতা সৃষ্টির। তেলের দাম বেড়ে গেলে তার প্রভাব প্রতিটি পণ্যের ওপর পড়বে বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
৪১৭ দিন আগে
পূর্ণ স্বাধীনতা চায় গ্রিনল্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্র বা ডেনমার্ক, কারও অধীনে থাকতে চায় না গ্রিনল্যান্ড। সংকটকালীন এই সময়ে নিজেদের পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি করেছেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মেত এজেদ।
সম্প্রতি ডেনিশ সরকারের সঙ্গে এক সম্মিলিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তোলেন এজেদ।
ডেনমার্কের স্বায়ত্ত্বশাসিত দ্বীপভূমি গ্রিনল্যান্ড বহুদিন ধরে নিজেদের স্বাধীনতার দাবি তুলে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার ইচ্ছা প্রকাশের পর থেকে নতুন করে ফের নিজেদের স্বাধীনতার দাবি তুলল অঞ্চলটির অধিবাসীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের অধিবাসীরা জানান, ইউরোপীয় ফ্রি শিক্ষা ও চিকিৎসার সুবিধা পান তারা। আমেরিকা যত শক্তিশালীই হোক নাগরিক সুবিধার দিক থেকে তারা ইউরোপের তুলনায় নিঃসন্দেহে পেছনে। তাই আর যা-ই হোক নাগরিক সুবিধা হারাতে চান না দ্বীপটির অধিবাসীরা।
ডেনিশরা এতদিন গ্রিনল্যান্ড এবং এর সংস্কৃতিকে বৈষম্যের চোখে দেখেছে। এমনকি ডেনিশ চিকিৎসক দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের নারীদের অজ্ঞাতসারে বন্ধ্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এবার নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করেছে সেখানকার অধিবাসীরা।
কোন প্রক্রিয়ায় গ্রিনল্যান্ড স্বাধীনতা পাবে সে ব্যাপারে ধারণাও দিয়েছেন এজেদ। গ্রিনল্যান্ডের মানুষের ওপর সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গণভোটের মাধ্যমে দেশটির স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আসতে পারে বলে মত তার।
এদিকে, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে নিজের সমর্থন বাড়াতে ঘুষ দিয়ে আমেরিকার পক্ষে স্লোগান দেওয়াচ্ছে— এমন অভিযোগ তুলেছে কয়েকটি রুশ মিডিয়া। মাত্র ৫৬ হাজার মানুষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপের ভবিষ্যৎ।
তবে অনেকেই বলছেন, এ যাত্রায় ট্রাম্পের উসকানিতে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হয়ে গেলে সেটি হবে মন্দের ভালো।
৪১৮ দিন আগে
লস অ্যাঞ্জেলেস দাবানলে মৃত্যু বেড়ে ১৬
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসের দাবানলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। হতাহতের সংখ্যাটি নিশ্চিত করেছে লস অ্যাঞ্জেলস কাউন্টির চিকিৎসা পর্যবেক্ষকরা। তারা বলেছেন, এখনো হতাহতদের ঘটনার তদন্ত চলছে।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে করোনারের কার্যালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন প্যালিসেডস ফায়ারে এবং ১১ জন ইটন ফায়ারের।
তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে নিহতের সংখ্যা ছিল ১১ জন ছিল। লাশগুলো খুঁজে পেতে কুকুরের মাধ্যমে তল্লাশি চালানোয় এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
লোকজনের কাছ থেকে নিখোঁজদের বিষয়ে তথ্য পেতে কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে একটি তথ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে।
দমকলকর্মীরা সম্ভাব্য শক্তিশালী বাতাস ফিরে আসার আগে ছড়িয়ে পড়া দাবানল বন্ধ করতে প্রাণপন চেষ্টা করেছিল। কারণ এটি বিশ্বখ্যাত জে পল গেটি যাদুঘর এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের দিকে দাবানলের আগুনকে ছড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে নতুন করে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার সতর্কতা বাড়ির মালিকদের আরও বিপদে ফেলেছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের অদূরে আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার এবং অন্যান্য সেলিব্রিটিদের আবাসস্থল ম্যান্ডেভিলি ক্যানিয়নেও আগুন নিয়ন্ত্রণে তীব্র লড়াই করছিল দমকলকর্মীরা। এই এলাকায় হেলিকপ্টারগুলো আগুন নেভাতে নিচে নেমে এসে পানি ফেলেছিল।
পাহাড়ের ঢাল ঘন ধোঁয়ায় আছন্ন হওয়ায় মাটিতে থাকা দমকলকর্মীরা ফুসে ওঠা আগুনকে নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পাইপ ব্যবহার করেছিলেন।
এক ব্রিফিংয়ে ক্যালফায়ার অপারেশনের প্রধান ক্রিশ্চিয়ান লিটজ বলেন, শনিবার মূল গুরুত্ব থাকবে ইউসিএলএ ক্যাম্পাসের অদূরে গিরিখাত এলাকায় জ্বলতে থাকা আগুন নিয়ন্ত্রণের।
আরও পড়ুন: দাবানলে ভস্মীভূত লস অ্যাঞ্জেলেস উপকূল
লিটজ বলেন, 'আমাদের সেখানে বেশি পরিমাণে জোর দিতে হবে।’
কাউন্টি সুপারভাইজার লিন্ডসে হোরভাথ বলেছেন, লস অ্যাঞ্জেলস অঞ্চলটি ‘অকল্পনীয় আতঙ্ক ও হৃদয়বিদারক আরেকটি রাত ছিল এবং প্যালিসেডস ফায়ারের উত্তর-পূর্ব সম্প্রসারণের কারণে আরও বেশি অ্যাঞ্জেলসের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।’
হালকা বাতাস আগুনে ঘি ঢালছে। তবে জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা সতর্ক করে দিয়েছে যে, শক্তিশালী সান্তা আনা বাতাস - দমকলকর্মীদের নেমেসিস - শিগগিরই ফিরে আসতে পারে। এই বাতাসটি মূলত দাবানলকে নরকে রূপ দেওয়ার জন্য দায়ী করা হয়েছে। এটি শহরের আশেপাশের পুরো এলাকাকে মিশিয়ে দিয়েছে। এই এলাকায় আট মাসেরও বেশি সময় ধরে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি।
আগুনটি ইন্টারস্টেট ৪০৫ -এর উপর দিয়ে হলিউড হিলস এবং সান ফার্নান্দো ভ্যালির ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: দাবানলে লস অ্যাঞ্জেলেসে ১২ হাজার স্থাপনা বিধ্বস্ত, নিহত ১১
৪১৮ দিন আগে
আট মাস আগে প্রেমিকাকে খুন, প্রেমিকের ফ্রিজে মিলল লাশ
প্রেমিক সঞ্জয় পতিদারের সঙ্গে পাঁচ বছর ধরে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন প্রেমিকা পিংকি প্রজাপতি। বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করায় গত বছর জুন মাসে পিংকিকে খুন করে ফ্রিজে লাশ লুকিয়ে রাখেন সঞ্জয়।
এমন লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশে। পুলিশ বলছে, ফ্রিজ খুলে প্রতিবেশীরা লাশ দেখতে পান। অর্ধগলিত লাশের শরীরে ছিল শাড়ি আর সোনার গহনা।
বাড়ির মালিক ধীরেন্দ্র শ্রীবাস্ত বলেন, প্রতিবেশীরা কয়েকদিন ধরে ফ্ল্যাটটি থেকে উৎকট গন্ধ পাচ্ছিল। পরে দরজা ভেঙে ফ্রিজ খুলে এ দৃশ্য দেখে রীতিমতো সবাই হতবাক।
পুলিশ জানায়, সঞ্জয় ২০২৩ সালের জুন মাসে এই বাসা ভাড়া নিয়েছিল। লাশ দেখে মনে হচ্ছে ২০২৪ সালের জুন মাসে পিংকিকে খুন করে এতদিন ফ্রিজে লুকিয়ে রেখেছিল সে। ঘটনা ঘটানোর পর কালেভদ্রে এখানে আসতেন সঞ্জয়।
ধীরেন্দ্র বলেন, শুরুতে পুরো ফ্ল্যাট ভাড়া নিলেও পরে দুই রুম রেখে বাকিটা ছেড়ে দেন সঞ্জয়। বহুদিন ধরে সঞ্জয় না ফেরায় বুধবার থেকে তার রুমের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। এরপরই ফ্রিজ থেকে পচা মাংসের উৎকট গন্ধ আসতে শুরু করে।
এ ঘটনার ঘন্টাখানেকের মধ্য মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নী থেকে সঞ্জয়কে আটক করেছে পুলিশ।
৪১৯ দিন আগে