বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি
সবচেয়ে দূরবর্তী ব্ল্যাক হোলের সন্ধান পেল জোতির্বিজ্ঞানীরা
নাসার টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এক্স-রেতে শনাক্ত করা সবচেয়ে দূরবর্তী ব্ল্যাক হোলের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
সোমবার (৬ নভেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
ব্ল্যাক হোলটি বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে যা আগে কখনও দেখা যায়নি, যেখানে এর বিস্তৃতি তার ধারণকারী গ্যালাক্সির মতোই।
নাসার চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরি এবং নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য একত্রিত করে গবেষকদের একটি দল মহাবিস্ফোরণের মাত্র ৪৭০ মিলিয়ন বছর পরে ক্রমবর্ধমান ব্ল্যাক হোলের টেলিটেল স্বাক্ষর খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছেন।
আরও পড়ুন: টেশিসকে ডিজিটাল হাবে পরিণত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: মোস্তাফা জব্বার
নাসা জানিয়েছে, মহাবিশ্বের প্রথম সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের সৃষ্টি কীভাবে হয়েছিল তা এই ফলাফল ব্যাখ্যা করতে পারে।
গবেষকদল পৃথিবী থেকে সাড়ে ৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত গ্যালাক্সি ক্লাস্টার অ্যাবেল ২ হাজার ৭৪৪ এর দিকে ইউএইচজেড ১ নামের একটি গ্যালাক্সিতে ব্ল্যাক হোলের সন্ধান পান।
নাসার মতে, ওয়েবের তথ্য থেকে জানা গেছে যে পৃথিবী থেকে ১৩ দশমিক ২ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই গ্যালাক্সিটি ক্লাস্টারের চেয়ে অনেক বেশি দূরে, যখন মহাবিশ্ব তার বর্তমান বয়সের মাত্র ৩ শতাংশ ছিল।
আরও পড়ুন: উইংস উইমেন অব ডিসকভারি অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশের সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী আলিফা বিনতে হক
৮৫০ দিন আগে
উইংস উইমেন অব ডিসকভারি অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশের সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী আলিফা বিনতে হক
উইংস উইমেন অব ডিসকভারি অ্যাওয়ার্ড ২০২৩ পেয়েছেন বাংলাদেশের ড. আলিফা আলিফা বিনতে হক।
পুরস্কারের অংশ হিসেবে তিনি তার গঠনমূলক কাজকে আরও এগিয়ে নিতে সীমাহীন অনুদান পাচ্ছেন।
গত ১২ অক্টোবর নিউইয়র্ক সিটিতে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন: এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এর নতুন ভিসি রুবানা হক
আলিফা ওয়াইল্ডটিমের বোর্ড সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।
তিনি বলেন, ‘১০০তম পতাকাবাহী সংস্থা- উইমেন অব ডিসকভারি পুরস্কার পেয়ে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। আমি খুব ভাগ্যবান যে ইএসআরআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী ডন রাইট এবং প্রথম হটস্পট কাগজের লেখক ক্রিস্টিনা মিটারমিয়ারের সঙ্গে দলে নাম রেখাতে পেরেছি। এটা খুবই সম্মানের বিষয়!’
আলিফার কাজ গ্লোবাল সাউথ প্রেক্ষাপটে হাঙর এবং রশ্মি সংরক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করে। তিনি অক্সফোর্ডের জীববিজ্ঞান বিভাগের নেচার বেজড সলিউশন ইনিশিয়েটিভ থেকে বঙ্গবন্ধু স্কলারশিপের সহায়তায় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
‘বঙ্গোপসাগরে হাঙর ও রশ্মি সংরক্ষণের জন্য সামাজিকভাবে ন্যায়সঙ্গত টেকসই মৎস্য চাষ’ শীর্ষক তার গবেষণার লক্ষ্য হলো- বিপন্ন প্রজাতির হাঙর ও রশ্মির জন্য একটি টেকসই মডেল প্রস্তুত করা।
আলিফা ও তার দল বৈচিত্র্য, মৎস্য ও বাণিজ্যের উপর বৃহত্তম আঞ্চলিক ডেটাসেট প্রতিষ্ঠা করেছে, ১৫টি নতুন রেকর্ডসহ হাঙর ও রশ্মির অত্যন্ত বিপন্ন প্রজাতি আবিষ্কার করেছে।
এডিনবার্গ ওশান লিডার্স প্রোগ্রামের ২০২৩ সালের দলটির জন্য আলিফা নির্বাচিত হন এবং শার্কস ইন্টারন্যাশনাল ২০২২-এ সেরা শিক্ষার্থী উপস্থাপনার জন্য পুরস্কৃত হন।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতি চেয়ারম্যানের অসদাচরণ, বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের প্রতিবাদ
উইমেন লিডার অব দ্য ইয়ার-২০২৩ হলেন শেয়ারট্রিপের সাদিয়া হক
৮৫৬ দিন আগে
বছরের প্রথম ৯ মাসে হুয়াওয়ের মুনাফা বেড়েছে ১৬ শতাংশ
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে ২০২৩ সালের প্রথম ৯মাসের ব্যবসায়িক ফলাফল ঘোষণা করেছে।
এই সময়ের মধ্যে হুয়াওয়ের আয়ের পরিমাণ ছিল ৪৫৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন চীনা ইউয়ান অর্থাৎ বাংলাদেশি প্রায় ছয় লাখ সাতাশি হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে দুই দশমিক চার শতাংশ বেশি। একই হিসাবে গত বছরের তুলনায় মুনাফা বেড়েছে ১৬ শতাংশ।
এ বিষয়ে হুয়াওয়ের রোটেটিং চেয়ারম্যান কেন হু বলেন, ‘কোম্পানির পারফরম্যান্স আমাদের পূর্বানুমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমাদের ওপর আস্থা রেখে সমর্থন জুগিয়ে চলার জন্য আমি আমাদের গ্রাহক ও সহযোগীদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য, আমরা গবেষণা ও উন্নয়নে (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) আরও বিনিয়োগ বাড়াব। যাতে আমাদের পণ্য ও পরিষেবাগুলোকে আরও বিস্তৃত করতে পারি এবং একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, বরাবরের মতো আমাদের লক্ষ্য হলো আমাদের গ্রাহক, সহযোগী ও সমাজের জন্য আরও উন্নত সেবা নিশ্চিত করা।’
আরও পড়ুন: আগামী বছরেই নেট ৫.৫জি চালু করতে যাচ্ছে হুয়াওয়ে
মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে হুয়াওয়ের ৪ পুরস্কার অর্জন
৫০ কোটি মানুষকে ডিজিটাল আর্থিক সেবার আওতায় আনতে কাজ করবে হুয়াওয়ে
৮৫৯ দিন আগে
আগামী বছরেই নেট ৫.৫জি চালু করতে যাচ্ছে হুয়াওয়ে
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে ২০২৪ সালে নেট ৫.৫জি সল্যুশন্স চালু করার পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে। আল্ট্রা-ব্রডব্যান্ড অ্যাপ্লিকেশননির্ভর ৫.৫জি যুগে টেলিকম ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধিতে হুয়াওয়ের এই পরিকল্পনাটি সাহায্য করবে।
একটি পরিপূর্ণ নেট ৫.৫জি সল্যুশনস ১০ জিবিপিএস সংযোগ, অ্যাডাপ্টেবল আল্ট্রা-ব্রডব্যান্ড ট্রান্সপোর্ট এবং স্বয়ংক্রিয় নেটওয়ার্ক অপটিমাইজেশন নিশ্চিত করে। এর ফলে ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসার পরিধি ত্বরান্বিত হবে। হোম ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল ব্রডব্যান্ডকে ১০ জিবিপিএসে আপগ্রেড করার পাশাপাশি আইপি ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্কটি একটি ৪০০জিই কনভার্জড মেট্রো নেটওয়ার্ক এবং ব্যাকবোন নেটওয়ার্কে রূপান্তরিত হবে।
আরও পড়ুন: মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে হুয়াওয়ের ৪ পুরস্কার অর্জন
এ বিষয়ে হুয়াওয়ের ডেটা কমিউনিকেশন প্রোডাক্ট লাইনের প্রেসিডেন্ট লিওন ওয়াং বলেন, “৫.৫জি এর যুগে ‘গ্লাস-ফ্রি থ্রিডি, হাউজ ওয়াইড ইন্টেলিজেন্স, আল্ট্রা-এইচডি ভিডিও কনফারেন্সিং এবং কম্পিউটিং সার্ভিসেস’- এর মতো নতুন আল্ট্রা ব্রডব্যান্ড অ্যাপ্লিকেশনগুলো একের পর এক আসতে থাকবে। এর ফলে হোম ব্রডব্যান্ড, মোবাইল ব্রডব্যান্ড, এন্টারপ্রাইজ ক্যাম্পাস এবং এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লাইনে ১০ জিবিপিএস গতি প্রয়োজন হবে। বিনিময়ে, এটি সরবরাহকারীদের জন্য নতুন ব্যবসায়ের সুযোগ তৈরি করবে। সর্বব্যাপী ১০ জিবিপিএস এর সংযোগ, ইলাস্টিক আল্ট্রা-ব্রডব্যান্ড পরিবহন এবং স্বায়ত্তশাসিত নেটওয়ার্ক সেল্ফ-অপ্টিমাইজেশনে সহযোগিতা করার মাধ্যমে নেট ৫.৫জি সরবরাহকারীদের জন্য নতুন ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির পথ খুলে দিবে।”
প্রতিষ্ঠানগুলো নেটওয়ার্ক স্লাইসিং’ এর মতো নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের আইপি ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্কগুলোকে আপগ্রেড করতে পারবে এবং নতুন-নতুন সেবা দিতে পারবে যেগুলোর ক্ষেত্রে ১০ জিবিপিএস-এর থেকেও বেশি গতি দরকার হয়। সপ্তম প্রজন্মের ওয়াই-ফাই ৭ হাই-ডেনসিটি সুবিধা, দারুণ ভিডিও অভিজ্ঞতা এবং ক্লাউডভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মতো নতুন নতুন সক্ষমতা ব্যবহার করে সরবরাহকারীরা প্রাইভেট লাইনের শীর্ষে পৌঁছে ‘এন্টারপ্রাইজ ক্যাম্পাস নেটওয়ার্ক’ যুক্ত করতে সক্ষম হবে। ফলে, তারা ওয়ান-স্টপ পরিষেবা সরবরাহ করতে পারবে যাতে তারা এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের উচ্চ-মানের ১০ জিবিপিএস ওয়্যারলেস সংযোগ, ভিডিও পরিষেবা এবং ওঅ্যান্ডএম পরিষেবার অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম হবে।
আরও পড়ুন: ৫০ কোটি মানুষকে ডিজিটাল আর্থিক সেবার আওতায় আনতে কাজ করবে হুয়াওয়ে
দেশের ক্লাউড খাতের বিকাশে হুয়াওয়ে ও রেডডট ডিজিটাল
৮৬৬ দিন আগে
কিছু ফিলিস্তিনি ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর বায়োতে 'সন্ত্রাসী' উল্লেখ করায় ক্ষমা চেয়েছে মেটা
নিজেদের ফিলিস্তিনি হিসেবে পরিচয় দেওয়া কিছু ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর ‘বায়ো’তে 'সন্ত্রাসী' উল্লেখ করার জন্য ক্ষমা চেয়েছে টেক জায়ান্ট ফেসবুকের প্রধান কোম্পানি মেটা।
মেটা বলেছে, মাধ্যমটির কিছু ক্ষেত্রে ‘অনুপযুক্ত আরবি অনুবাদের কারণে’ সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।
তারা ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছে, ‘আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত যে এটি ঘটেছে।’
ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের সময় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানানো কনটেন্ট সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: গাজায় 'মানবিক বিরতির' আহ্বান জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবের ব্যর্থতায় ফ্রান্সের দুঃখ প্রকাশ
কিছু ব্যবহারকারী বলছেন, ফিলিস্তিনপন্থী পোস্টের জন্য ইনস্টাগ্রামে তাদের 'শ্যাডো ব্যান' (ব্যবহারকারীকে না জানিয়েই তার কনটেন্ট নিউজফিডে দেখানো থেকে বিরত রাখা) করা হয়েছে।
ব্যবহারকারীরা দাবি করেছেন, সংঘাতের কথা উল্লেখ করে স্টোরিজের ২৪ ঘণ্টার পোস্টে অন্যদের তুলনায় কম ভিউ পেয়েছেন তারা এবং অনুসন্ধানে তাদের অ্যাকাউন্টগুলো সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না।
প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা স্বীকার করেছে, একটি বাগ (ত্রুটি) স্টোরিজকে প্রভাবিত করেছে। তবে বিষয়বস্তুর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের জন্য বিশেষ দোয়া বাংলাদেশে
ইসরায়েলের হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের জন্য শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
৮৬৭ দিন আগে
বিভিন্ন দেশের যৌথ সহযোগিতা ছাড়া সাইবার স্পেস সুরক্ষিত রাখা সম্ভব নয়: পলক
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, সাইবার স্পেসে কোনো সীমানা নেই। কোনো ব্যক্তি, সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের যৌথ সহযোগিতা ছাড়া কেউ তাদের সাইবার স্পেস সুরক্ষিত করতে পারে না।
তিনি বলেন, নীতি, কাঠামো, আইন এবং একে অপরের সহযোগিতা ছাড়া কোনো দেশ সাইবার জগৎকে নিরাপদ রাখতে পারে না। তাই এ লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির উদ্যোগে এবং ইউএনডিপি’র সহযোগিতায় ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা পুরস্কার ২০২৩’- প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
এসময় পলক বলেন, সবাই জিমেইল ব্যবহার করলেও নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থাকা উচিত। কারণ জিমেইল ভালনারেবল। যেকোনো সময় আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে এখনও যারা হ্যাকিংয়ের শিকার হননি, তারাও কেউ বলতে পারবেন না যে তিনি হ্যাকড হননি। তাই আপনাকে সচেতন থাকতে হবে। কেননা, কেউ না কেউ ইন্টারনেটে আপনাকে নজরদারিতে রেখেছে।
প্রতিমন্ত্রী পলক সাইবার জগৎকে নিরাপদ রাখতে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ে সচেতনতা, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল ও নীতি অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আন্তঃসীমানা সহযোগিতায় এ চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।
তাই আন্তর্জাতিক আন্তঃসীমানা সহযোগিতায় একক প্লাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে। এখন থেকে প্রতি বছরই এ পদক দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা পুরস্কার -২০২৩ পেয়েছে ছয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ক্যাটাগরিতে প্লেন্টি প্রজেক্ট নিয়ে স্মার্ট স্টুডেন্ট হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে সেন্ট জোসেভ স্কুলের শিক্ষার্থী তামজিদ রহমান।
পাশাপশি এন্ট্রাপ্রেনিউর্স ক্যাটাগরিতে ভারতের ‘এন্ড নাও ফাউন্ডেশন’, স্টার্টআপ ক্যাটাগরিতে ‘বাইট ক্যাপসুল’, সরকারি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়র্ক এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং বিশেষ ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছে ‘পথচলা ফাউন্ডেশন’।
পরে প্রতিমন্ত্রী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জি এস এম জাফরুল্লাহ, ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির মহাপরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহযোগিতায় বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা পুরস্কার ২০২৩’ চালু করেছে।
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতার উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এই পুরস্কারের নামকরণ করা হয়েছে।
৮৬৯ দিন আগে
অ্যাপেল আইফোন ১৫ রিভিউ: নতুন কী থাকছে?
১২ সেপ্টেম্বর ছিল বিশ্বজোড়া আইফোন প্রেমীদের জন্য এক বিস্ময়কর দিন। ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোর অ্যাপেল পার্কে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলো অ্যাপেলের নতুন পণ্য আইফোন ১৫-এর। পূর্বসূরী আইফোন ১৪ বের হওয়ার ঠিক এক বছর ৫ দিনের মাথায় দারুণ সব ফিচার নিয়ে মোড়ক উন্মোচন হলো নতুন সংস্করণটির। প্রতিবার নিজের সঙ্গে নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই প্রযুক্তি পণ্য আবারও জোয়ার আনতে চলেছে স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতায়। ২২ সেপ্টেম্বর নাগাদ বাজারে ছাড়া হবে আইফোন ১৫। কি কি থাকছে এই নতুন আইফোনে, ইতোমধ্যে মার্কেট কাঁপানো আইফোন ১৪ কে তা কতটুকুই বা ছাঁপিয়ে যেতে পারবে, চলুন জেনে নেওয়া যাক।
অ্যাপেল আইফোন ১৫ এর মূল বৈশিষ্ট
ডিসপ্লে
৬.১ ইঞ্চি সুপার রেটিনা এক্সডিআর (এক্সটেন্ডেড ডিটেকশন রেসপন্স) ও এলইডি(অর্গানিক লেড) ডিসপ্লের উপরের দিকে রয়েছে ডায়নামিক আইল্যান্ড। মডেলের লেআউট ডিজাইনে দৈর্ঘ্য আসে ১৪৭.৬ মিলিমিটার(মিলিমিটার), প্রস্থ ৭১.৬ মিলিমিটার এবং উচ্চতা ৭.৮ মিলিমিটার। আর পুরো ডিভাইসটার ওজন ১৭১ গ্রাম। ডিসপ্লে রেজুলিউশন ২৫৫৬ বাই ১১৭৯ পিক্সেল, যেখানে পিক্সেল ঘনত্ব প্রতি ইঞ্চিতে ৪৬০ পিক্সেল।
এইচডিআর (হাই ডাইনামিক রেঞ্জ) উজ্জ্বলতার সর্বোচ্চ মাত্রা ১৬০০ নিট, যা আউটডোরে ২০০০ নিট পর্যন্ত পৌঁছায়।
রঙ ও গঠন
কালো, নীল, সবুজ, হলুদ, ও গোলাপী- এই পাঁচটি ভিন্ন রঙ দেওয়া হয়েছে পেছনের গ্লাসে। পেছনের পাতলা কর্নিং গ্লাসে টেক্সচার্ড ম্যাটের কাজ করা। ফ্রেম অ্যারোস্পেস-গ্রেড অ্যালুমিনিয়ামের এবং মসৃণভাবে বাঁকানো প্রান্ত। পুরো মজবুত কভারটি সিরামিক শিল্ডের।
আরও পড়ুন: ডিএনসিসির অ্যাপে মিলবে দাফন ও পুরোনো কবরের তথ্য
প্রসেসর
ডায়নামিক আইল্যান্ডকে তৎপর করার জন্য আইফোন ১৫-তে রয়েছে এ১৬ বায়োনিক চিপ। সিপিইউকে সচল রাখার জন্য রয়েছে ৩.৪৬ গিগা হার্টজের দু’টি এবং ২.০২ গিগা হার্টজের চারটি; মোট ৬-কোর। মেমরি ব্যান্ডউইথের ৫০ শতাংশেরও বেশি জুড়ে রয়েছে ৫-কোর জিপিইউ(গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট)। ১৬-কোর নিউরাল ইঞ্জিন সফ্টওয়্যারগুলোকে সমুন্নত রাখে আইওএস(আইফোন অপারেটিং সিস্টেম) ১৭-এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে।
ক্যামেরা
৪৮ মেগাপিক্সেল ক্ষমতাসম্পন্ন প্রধান ক্যামেরায় থাকছে ২৬ মিলিমিটার লেন্স, কোয়াড-পিক্সেল সেন্সর এবং ১০০ শতাংশ ফোকাস পিক্সেল। সেকেন্ডারি ক্যামেরায় থাকছে ১২ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা ওয়াইড সেন্সর এবং ১৩ মিলিমিটার লেন্স।
এ১৬-এর কম্পিউটেশনাল ফটোগ্রাফির শক্তি ব্যবহার করে এমনিতেই ক্যামেরা ২৪ মেগাপিক্সেল সুপার-হাই-রেজুলিউশনে উঠতে পারে। ডুয়াল-ক্যামেরা সিস্টেমে ০.৫এক্স, ১এক্স ও ২এক্স; মোট তিনটি স্তরে রয়েছে অপটিক্যাল-কোয়ালিটির জুম করার সুবিধা।
সামনের দিকে আছে ১২ মেগাপিক্সেল ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সেলফি সেন্সর, যাতে রয়েছে ২৩ মিলিমিটার লেন্স।
আরও পড়ুন: ইসরো চন্দ্রযান-৩: ভারতের চন্দ্র বিজয়ে নারী বিজ্ঞানীদের সাফল্য
চার্জিং ও ডাটা কানেকশন হার্ডওয়্যার
চার্জিং ও ডাটা স্থানান্তরের হার্ডওয়্যার হিসেবে রয়েছে ইউএসবি‑সি, যা যে কোনো আইফোন ডিভাইসের সঙ্গে সংযোগের জন্য উপযুক্ত।
এছাড়াও রয়েছে ম্যাগসেফ এবং কিউআই-২ চার্জার সমর্থিত ওয়্যারলেস চার্জিং-এর সুবিধা। ব্যাটারি মাত্র ৩০ মিনিটে ৫০ শতাংশ চার্জ নিতে পারে। এমনকি, ম্যাগসেফের জন্য ১৫ ওয়াট এবং কিউআই-এর জন্য ৭.৫ ওয়াটে চার্জিং-এর সময়েও গতি একই থাকে।
এই আইফোনের দ্বিতীয়-প্রজন্মের আল্ট্রা ওয়াইডব্যান্ড চিপ তিনগুণ রেঞ্জের ভেতর দুটি আইফোন ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ করতে সক্ষম।
আরও পড়ুন: হোয়াটসঅ্যাপে এইচডি ছবি যেভাবে পাঠাবেন
মেমোরি ও সিম কার্ড
১২৮ জিবি (গিগাবাইট), ২৫৬ জিবি, এবং ৫১২ জিবির প্রতিটি ভ্যারিয়েন্টের স্টোরেজের সঙ্গে থাকছে ৬ জিবি র্যাম।
ন্যানোসিমের সঙ্গে আইফোন ১৫-এর রয়েছে ২৯৫টিরও বেশি ক্যারিয়ার সমর্থিত ই-সিম সুবিধা।
আইফোন ১৫ বনাম আইফোন ১৪
অধিক মজবুত ও হাল্কা গঠন
পূর্বের স্টেইনলেস স্টিলের জায়গা দখল করেছে টাইটেনিয়াম ফ্রেম, যা নতুন ফোনে দিয়েছে মজবুত ও হাল্কা ওজন।
ডাইনামিক আইল্যান্ড
পুরানো সংস্করণগুলোর মত স্ক্রিনের উপরের দিকে নচের বদলে স্থান পাচ্ছে ডাইনামিক আইল্যান্ড। উদ্ভাবনী এই প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারিরা গুরুত্বপূর্ণ অ্যালার্ট সহ বিভিন্ন লাইভ ক্রিয়াকলাপগুলোর রিয়েল টাইম অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারেন।
আরও পড়ুন: অগমেন্টেড রিয়েলিটি প্রযুক্তির ‘ভিশন প্রো’ হেডসেট নিয়ে এলো অ্যাপল
আউটডোরে উজ্জ্বল ডিসপ্লে
সুপার রেটিনা এক্সডিআর ও এলইডি ডিসপ্লের এইচডিআর উজ্জ্বলতা রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশে ২০০০ নিট পর্যন্ত পৌঁছে, যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ উজ্জ্বল।
ব্যাটারিকে দীর্ঘায়ু করা প্রসেসর
এ১৬ বায়োনিক চিপের ৬টি কোরের ৩.৪৬ গিগা হার্টজের কোর দুটি সক্রিয় থাকার জন্য ২০ শতাংশ কম শক্তি নেয়। ফলে আগের তুলনায় এটি অনেক কম ব্যাটারি খরচ করে দ্রুত কাজ করতে পারে।
ডুয়েল ক্যামেরায় নতুন সংযোজন
তিনটি স্তরে অপটিক্যাল-কোয়ালিটির জুম করার ক্ষমতা আইফোন ডুয়েল-ক্যামেরা সিস্টেমে এই প্রথমবারের মত সংযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া আইফোন ১৫-তে পেছনের প্রধান ক্যামেরা করা হয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেল, আর সেকেন্ডারি ক্যামেরা আগের মত ১২ মেগাপিক্সেলতেই থাকছে। সামনের ক্যামেরা রেজুলিউশন ১২ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেল।
চার্জিং ও ডাটা কানেক্টর সুইচ
পূর্বের লাইটনিং পোর্টে সার্বিক পরিবর্তন এনে এবারের অ্যাপেল পণ্যে থাকছে ইউএসবি ২.০ সম্পন্ন ইউএসবি-সি চার্জিং সুইচ।
আরও পড়ুন: দেশের প্রথম এআই সংবাদ উপস্থাপক 'অপরাজিতা'
৯০১ দিন আগে
টেশিসকে ডিজিটাল হাবে পরিণত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: মোস্তাফা জব্বার
ডাক ও টেলিযোগাযোযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিফোন শিল্প সংস্থাকে (টেশিস) গুণগত মানের ডিজিটাল যন্ত্র উৎপাদনের হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।
বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর মিলনায়তনে আয়োজিত ‘টেশিসের ভৌত অবকাঠামো আধুনিকায়ন, নতুন ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন ও সংযোজন প্লান্ট স্থাপন এবং বিদ্যমান প্লান্টসমূহের উৎপাদন–সংযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণের সমন্বিত সম্ভাব্যতা’ সমীক্ষার খসড়া প্রতিবেদন সংক্রান্ত কর্মশালায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: প্রচলিত গণমাধ্যমের বিদ্যমান ধারা ভবিষ্যতে সম্পূর্ণরূপে বদলে যাবে: মোস্তাফা জব্বার
তিনি বলেন, বিদ্যমান অবকাঠামো এবং ডিভাইস উৎপাদনের প্লান্টসমূহের আধুনিকায়নের পাশাপাশি স্মার্ট ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, সিমকার্ড, ব্যাটারি সেল (লিথিয়াম-আয়ন) চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক, রাউটার ও আইওটি, রোবটিক্স ডিভাইস উৎপাদনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
মন্ত্রী টেলিফোন শিল্প সংস্থাকে স্মার্ট বাংলাদেশের উপযোগী ডিজিটাল যন্ত্র উৎপাদনে সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের অভিযাত্রা শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী দিনে বইয়ের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের হাতে ট্যাব কিংবা ল্যাপটপ দিতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের হাতে ল্যাপটপ পৌঁছে দিতে ২০১৫ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্স বৈঠকে টেশিসকে শক্তিশালী করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে টেশিসকে পুরোপুরি প্রস্তুত করার কাজ আমরা শুরু করেছি।
তিনি আরও বলেন টেশিসকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই একমাত্র লক্ষ্য নয়, এর সাথে আবেগ জড়িয়ে আছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। টেশিসকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আমাকেই বলা হয়েছিল। এটা আমার আবেগের জায়গা।
আরও পড়ুন: আমরা ডাকঘর ডিজিটাল করার কাজ শুরু করেছি: মোস্তাফা জব্বার
স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দক্ষ জনবল ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও টেলিফোন শিল্প সংস্থাকে লাগসই ডিজিটাল যন্ত্র উৎপাদন ও সংযোগের জন্য নির্ভরযোগ্য করে গড়ে তোলা যাবে না তা হতে দিতে পারি না।
সমীক্ষার খসড়া প্রতিবেদনের ওপর তার বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি টেশিসকে লাভজনক ডিজিটাল যন্ত্র উৎপাদক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও তার প্রতিকারের উপায়সহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয় চূড়ান্ত সমীক্ষা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করার পরামর্শ ব্যক্ত করেন। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতসহ কারিগরি বিভিন্ন বিষয় সন্নিবেশিত করে সম্ভাব্য স্বল্প সময়ের মধ্যে এটি চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করার জন্য তিনি নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ, কে, এম, আমিরুল ইসলাম, জিনাত আরা ও মোহাম্মদ রেজাউল করিম, টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
৯০৫ দিন আগে
ডিএনসিসির অ্যাপে মিলবে দাফন ও পুরোনো কবরের তথ্য
কোটির উপরে জনসংখ্যার এই ঢাকায় আবাসন একটি বড় সমস্যা। অট্টালিকার প্রতিযোগিতায় একটুকরো ফাঁকা জায়গা মেলা ভার। নগরবাসী যেখানে একটু দম ফেলে হাটাহাটি করবেন বা একটু জিরিয়ে নেবেন, সেরকম খোলা জায়গার পরিমাণও দিন দিন কমছে। সেখানে জীবনের শেষ যাত্রায় স্থায়ী সাড়ে ৩ হাত জায়গা পাওয়া অসম্ভব।
তবে রাজধানীর দু’টি সিটি করপোরেশন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কবর সংরক্ষণের সুযোগ রেখেছে। কিন্তু অর্থের বিবেচনায় অধিকাংশ সাধারণ মানুষ সে সুযোগ নিতে পারবেন না। প্রশ্ন জাগতেই পারে- তাহলে এত সংখ্যক মৃত্যু-দাফন তথা কবর ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশন কী ব্যবস্থা নিয়ে থাকে?
নির্দিষ্ট সময় পর পুরোনো কবরেই নতুন করব দেওয়া হয়। আরেকটি প্রশ্ন জাগতে পারে- পুরোনো কবরেই যদি নতুন কবর দেওয়া হয়, তাহলে স্বজনরা কাছের মানুষের কবর খুঁজে পান কীভাবে? অথবা যাদের কবর দেওয়ার প্রয়োজন হয় তাদের সিটি করপোরেশন সেবা কীভাবে দেয়?
এর সমাধান মিলবে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সহযোগিতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) 'কবর ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে'।
যে মাধ্যমে সেবা নেওয়া যাবে
ডিএনসিসি আপাতত ৬টি কবরস্থানকে এই সিস্টেমের আওতায় এনেছে। সেগুলো হলো- বনানী, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী, রায়ের বাজার, উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর, উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর এবং উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টর। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের মুঠোফোন অ্যাপ্লিকেশনে (অ্যাপ) খুব সহজেই জানা যাবে কোথায় কবরের স্থান ফাঁকা আছে, পূর্বের কবর কোথায় অবস্থিত, করা যাবে নতুন কবরের জন্য নিবন্ধন। এছাড়া এ সংক্রান্ত নানা তথ্য রয়েছে অ্যাপটিতে। পর্যায়ক্রমে অ্যাপটির মাধ্যমেই পাওয়া যাবে দাফনের সনদ।
৯১৭ দিন আগে
ইসরো চন্দ্রযান-৩: ভারতের চন্দ্র বিজয়ে নারী বিজ্ঞানীদের সাফল্য
শুধুমাত্র কায়িক শ্রমে গড়া অবকাঠামোতে নয়; নারীদের মস্তিষ্ক প্রসূত সভ্যতা বিকাশেরও সাক্ষী হয়ে আছে চির পরিবর্তনশীল মহাকাল। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তাদের অবদান যেমন ভেদ করেছে সুগভীর পাতাল, তেমনি ছাড়িয়ে গেছে আকাশের মেঘের স্তর। মহাকাশের শূন্যতাকে প্রথম নারীর অস্তিত্বে সমৃদ্ধ করেছিলেন ভ্যালেন্তিনা তেরেস্কোভা। তার পথ ধরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মহাকাশ গবেষণায় নারীদের সম্পৃক্ততা বেড়েছে দ্রুতগতিতে। এমনকি এই সাফল্যের আলোর মশাল জ্বলে উঠেছে ভারতীয় উপমহাদেশেও। গত ২৩ আগস্ট ভারতের চন্দ্র বিজয়ে নারী বিজ্ঞানীদের সাফল্য যেন তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। চলুন, জেনে নেই সেই যুগান্তকারী অভিযানের ঘটনা। সেইসঙ্গে পরিচিত হওয়া যাক ভারতের চন্দ্রযান-৩ মিশনের নেপথ্যে থাকা নারী মহাকাশ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে।
চন্দ্রযান-৩ উপাখ্যান
নাসার ভারতীয় সংস্করণ ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন; সংক্ষেপে আইএসআরও বা ইসরো। চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করে সেখানকার প্রকৃতি পর্যালোচনার উদ্দেশ্য নিয়ে এরা শুরু করেছিলো চন্দ্রযান নামের প্রজেক্টটি। পর পর দুটি অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর চন্দ্রযান-৩ গত ২৩ আগস্ট নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয় চন্দ্রপৃষ্ঠে।
যাত্রা শুরু হয়েছিলো ১৪ জুলাই; সর্বজনীন সমন্বিত সময় বা কোঅর্ডিনেটেড ইউনিভার্সাল টাইম (ইউটিসি) অনুযায়ী সময় ৯ টা ৫ মিনিট। রকেটের উৎক্ষেপণ হয় ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে।টানা কয়েকবার চেষ্টার পর ৫ আগস্ট চাঁদের কক্ষপথে ঢুকতে সক্ষম হয় মহাকাশযান চন্দ্রযান-৩।
পুরো মহাকাশযানটি মূলত ল্যান্ডার, রোভার ও প্রোপালশান মডিউল- এই তিন ভাগে বিভক্ত। ল্যান্ডারের কাজ হলো যানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো। এর নাম দেওয়া হয়েছে বিক্রম। অবতরণের জন্য এর নিবেদিত চারটি পায়ে রয়েছে চারটি শক্তিশালী ইঞ্জিন। অন্যদিকে, রোভার হচ্ছে ছয় চাকার একটি গাড়ি, যার উদ্দেশ্য পুরো যানটিকে নিয়ে নির্বিঘ্নে চন্দ্রপৃষ্ঠে ঘুরে বেড়ানো। এই অংশের নাম হচ্ছে প্রজ্ঞা।আর এই বিক্রম ও প্রজ্ঞাকে চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব হচ্ছে প্রোপালশান মডিউলের। ১৭ আগস্ট এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে বিক্রম ও প্রজ্ঞা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় প্রোপালশান মডিউল।
২৩ আগস্ট কক্ষপথের একদম শেষ বিন্দুর কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে একসাথে গর্জে উঠে বিক্রমের চারটি ইঞ্জিন। এরপর ঠিক সাড়ে ১১ মিনিট পর বিক্রম নেমে আসে চাঁদের ভূপৃষ্ঠ থেকে ৭.২ কিলোমিটার উচ্চতায়। এ অবস্থায় প্রায় ১০ সেকেন্ড ভেসে থেকে এটি ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে উল্লম্ব দিকে ঘুরে যায়। কিছুক্ষণ পর নেমে যায় আরও প্রায় ১৫০ মিটার। এই উচ্চতায় থেকেই বিশ্ববাসীর স্তম্ভিত দৃষ্টির সামনে প্রায় ৩০ সেকেন্ড ঘুরে বেড়ায় বিক্রম ও প্রজ্ঞা। অতঃপর ইউটিসি সময় ঠিক ১২ টা ৩২ মিনিটে চাঁদের মাটি স্পর্শ করে ভারতের চন্দ্রযান-৩।
আরও পড়ুন: চাঁদে ভারতের চন্দ্রযানের সফল অবতরণ উপলক্ষে নরেন্দ্র মোদিকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন
চন্দ্রযান-৩-এর অভিযানের নেপথ্যে থাকা নারী বিজ্ঞানীরা
ইসরো চন্দ্রযান-৩ কে পরিচালনায় সরাসরি কাজ করেছেন প্রায় ৫৪ জন নারী প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানী। তাদের মধ্যে থেকে যাদের নাম ওতপ্রোতভাবে এই চন্দ্রাভিযানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তারা হলেন:
ঋতু কাড়িধাল শ্রীভাস্তাভ
৪৮ বছর বয়সী ঋতু কাড়িধাল ভারতবাসীর কাছে পরিচিত ‘রকেট উইমেন’ হিসেবে। ইসরোর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ১৯৯৭ সাল থেকে। সেই থেকে তিনি মার্স অরবিটার মিশন (এমওএম) বা মম ও চন্দ্রযান প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছেন। তিনি মম মিশনের ডেপুটি অপারেশন্স ডিরেক্টরও ছিলেন।
মুথাইয়া বনিতা
এই ৫৯ বছর বয়সী ইলেকট্রনিক্স সিস্টেম প্রকৌশলী নেতৃত্ব দিয়েছেন ইসরোর বিভিন্ন উপগ্রহের প্রকল্পগুলোতে। তিনি ইসরোর চন্দ্রযান-২-এর প্রকল্প পরিচালক ছিলেন।
ইসরোর সঙ্গে তার শুরুটা ছিল শুধুমাত্র হার্ডওয়্যার নিরীক্ষণ কাজের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে তিনি ইসরো স্যাটেলাইট সেন্টারের ডিজিটাল সিস্টেম গ্রুপে টেলিমেট্রি এবং টেলিকমান্ড বিভাগের পরিচালক পদে অধীষ্ঠিত হন। ২০১৩-এর সফল মঙ্গলযান মিশনেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
তিনিই ছিলেন ইসরোতে আন্তঃগ্রহ মিশনে নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম নারী। চন্দ্রযান-২ মিশনের সহযোগী পরিচালক থেকে তাকে প্রকল্প পরিচালক পদে উন্নীত করা হয়েছিলো। এর মাধ্যমে তিনি ইসরোর প্রথম নারী প্রকল্প পরিচালক হওয়ার সম্মান অর্জন করেন।
আরও পড়ুন: অগমেন্টেড রিয়েলিটি প্রযুক্তির ‘ভিশন প্রো’ হেডসেট নিয়ে এলো অ্যাপল
বনিতা ২০০৬ সালে অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি অব ইন্ডিয়ার সেরা নারী বিজ্ঞানীর পুরস্কার পেয়েছিলেন।
মিশন মঙ্গল ছিল ইসরোর অন্যতম সেরা সাফল্য। এর মাধ্যমে ভারত চতুর্থ দেশ হিসেবে মঙ্গল গ্রহে অবতরণের মর্যাদা লাভ করে।
সেই ধারাবাহিকতায় ঋতু কাড়িধাল মিশন ডিরেক্টর হিসেবে চন্দ্রযান-২-এর মিশনের তত্ত্বাবধান করেন।
কাড়িধাল ২০০৭ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি এ.পি.জে. আব্দুল কালামের কাছ থেকে ইসরোর তরুণ বিজ্ঞানীর পুরস্কার পান।
কল্পনা কালাহাস্তি
ইসরোর সঙ্গে ৪৩ বছর বয়সী এই মহাকাশ প্রকৌশলীর যাত্রা শুরু হয় ২০০৩ সাল থেকে। তার দায়িত্ব ছিল স্যাটেলাইটের অবস্থান সুনির্দিষ্ট করার জন্য প্রপালশান সিস্টেম তৈরি করা। এছাড়াও তার বিশেষত্ব ছিল পৃথিবীর পরিষ্কার ছবি তোলার জন্য উন্নত ইমেজিং সরঞ্জামের নকশা প্রণয়নে। তিনি ধীরে ধীরে মম এবং চন্দ্রযান-২-এর মত যুগান্তকারী প্রকল্পগুলোর অংশ হয়ে ওঠেন।
২০১৯ সালে তাকে চন্দ্রযান-৩ মিশনের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তিনি বিক্রমের সিস্টেমের নকশা তৈরি ও এর কর্মকাণ্ড সুস্পষ্ট করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
আরও পড়ুন: মোবাইল ফোন হ্যাকিং প্রতিরোধে করণীয়
৯২১ দিন আগে