বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি
২০২৫ সালে যে প্রযুক্তিগত দক্ষতাগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকবে
উত্তরোত্তর ক্রমবিকাশের ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তি খাতে এক বিপুল সমৃদ্ধির বছর হতে চলেছে ২০২৫। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে চাকরির বাজারে। অধিকাংশ নিয়োগের কর্মযজ্ঞগুলোতে আধিপত্য থাকবে আইটি বা তথ্য-প্রযুক্তিগত দক্ষতার। এআই থেকে শুরু করে সাইবার নিরাপত্তার ব্যবহারিক জ্ঞান ২০২৫-এর পরেও সর্বোচ্চ চাহিদার স্থানটি ধরে রাখবে। চলুন, নতুন বছরের কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি চাহিদা সম্পন্ন আইটি দক্ষতাগুলো দেখে নেওয়া যাক।
২০২৫ সালে চাহিদার শীর্ষে থাকা ১২টি প্রযুক্তিগত দক্ষতা
ফুল-টাইম চাকরি এবং ফ্রিল্যান্সিং নির্বিশেষে যেকোনো ধরনের কর্মক্ষেত্রে উচ্চ-চাহিদাসম্পন্ন আইটি দক্ষতাগুলো নিম্নরূপ:
ফুল-স্ট্যাক ডেভেলপমেন্ট
ডিজিটালকরণের ধারাবাহিকতায় ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও প্রশাসনের মতো সেক্টরগুলোতে প্রয়োজন হচ্ছে অ্যাপ এবং সফ্টওয়্যার।
বিভিন্ন ধরনের ডেস্কটপ সফ্টওয়্যারের পাশাপাশি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরির অপরিহার্য দক্ষতা হলো ফ্রন্ট-অ্যান্ড ও ব্যাক- অ্যান্ড সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট। সঙ্গত কারণেই চাহিদা বাড়ছে ফুল-স্ট্যাক ডেভেলপারদের, যা আগামী বছরগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।
আরো পড়ুন: টপ লোড বনাম ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিন: জেনে নিন সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ
ক্লাউড কম্পিউটিং
বর্তমানে অধিকাংশ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেরই রয়েছে অনলাইন বা ক্লাউড অবকাঠামো। এই অনলাইন কাঠামো গঠন ও তার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজন পড়ছে ক্লাউড আর্কিটেক্ট বা ইঞ্জিনিয়ার। ফলে নিয়োগের সময় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিস (এডব্লিউএস), মাইক্রোসফট আজুরে এবং গুগল ক্লাউডের মতো ক্লাউড প্ল্যাটফর্মগুলোতে বাস্তব অভিজ্ঞতাকে। এই দক্ষতাকে কেন্দ্র করে এক অভাবনীয় সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারের রূপরেখা তৈরি হয়েছে, যা নিকট ভবিষ্যতে চাকরির বাজারকে নেতৃত্ব দেবে।
ইউআই/ইউএক্স ডিজাইন
একটি সফ্টওয়্যার বা অ্যাপের ইন্টারফেস, নকশা এবং অপারেশন সহজবোধ্য এবং সার্বজনীন না হলে তার গ্রহণযোগ্যতা হুমকির মুখে পড়ে। অপরদিকে, একটি সার্বজনীন নকশার কারণে অ্যাপ বা সফ্টওয়্যারটিকে ঘিরে ব্যবহারকারীর ইতিবাচক অভিজ্ঞতার সৃষ্টি হয়। আর এখানেই আসে ইউজার ইন্টারফেস এবং ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ডিজাইন শেখার প্রসঙ্গ। এই দক্ষতার মাধ্যমে আউটসোর্সিং প্ল্যাটফর্মে ফুল-টাইম চাকরি বা ফ্রিল্যান্সিং করে অর্থ উপার্জনের পথ সুগম হতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা
বিভিন্ন ছোট-বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও অনলাইন হ্যাকিংয়ের শিকার হয়। শুধু তাই নয়, একজন ব্যক্তির অ্যাকাউন্টও এই ডিজিটাল বিশ্বে নিরাপদ নয়।ঘনঘন এই সাইবার অপরাধের বৃদ্ধির কারণে, সংস্থা ও মানুষ উভয়েরই অনলাইন ডেটা রক্ষার জন্য দরকার হচ্ছে বিশেষজ্ঞদের। তাই এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা, ইথিকাল হ্যাকিং এবং ঝুঁকি যাচাইয়ের দক্ষতা ২০২৫-এ কতটা মূল্যবান হতে যাচ্ছে!
আরো পড়ুন: আইফোন চুরি প্রতিরোধে অ্যাপলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ডেটা অ্যানালাইসিস এবং বিগ ডেটা
বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে বিপুল পরিমাণ ডেটার চুলচেরা বিশ্লেষণ জরুরি। এখানে বিশেষত্ব পায় এসকিউএল, পাইথন এবং ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন টুলগুলোর ব্যবহারিক দক্ষতা। ব্যবসা, বিপণন, ব্যাংকিং, ফিন্যান্স ও একাডেমিক গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে আজকাল নিয়োগ হচ্ছে ডেটা অ্যানালিস্ট এবং ডেটা সায়েন্টিস্ট। নতুন বছরে এই ধারা আরও বেগবান হবে।
পেশাদার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারদের পাশাপাশি পরিসংখ্যানবিদ, গণিতবিদসহ অন্যান্য সেক্টরের কর্মকর্তারাও এখন ঝুঁকে পড়ছেন এই দক্ষতাগুলো শেখার দিকে।
ডেভঅপ্স এবং অটোমেশন
খাবারের দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় কল-কারখানায় কম সময়ে উৎপাদন বাড়াতে অটোমেশনের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রত্যেকটি ইন্ডাস্ট্রির ব্যবহৃত সফ্টওয়্যারগুলো কাজের ধরণ অনুযায়ী ভিন্ন হয়ে থাকে। এগুলোর চালনার ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে হলে ডেভঅপ্স অনুশীলন এবং অটোমেশন সরঞ্জামগুলোতে সিদ্ধহস্ত হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। ফ্যাক্টরি নির্ভর কর্মসংস্থানগুলোতে ইতোমধ্যে এর এক বিশাল অবস্থান তৈরি হয়েছে, যা সামনের বছরগুলোতে আরও প্রসারিত হবে।
এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি (এআর/ভিআর)
গেমিং, ই-স্পোর্টস এবং বিনোদন ছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা এবং ই-কমার্সের মতো বিভিন্ন খাতে বিস্তৃতি পাচ্ছে অগমেন্টেড এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তি। তাই গ্রাহকদের সেবা প্রদানে বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরিতে ভিআর প্রযুক্তির দক্ষতা আগামী দিনে ক্রমশ মূল্যবান হয়ে উঠবে।
আরো পড়ুন: শীতকালে গরম পানির গিজার: জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, মডেল, ধরন ও দাম
ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি)
পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত ডিভাইসের মাধ্যমে স্মার্ট অবকাঠামো ও পণ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত আইওটি ডেভেলপমেন্ট ও সেন্সর প্রযুক্তির দক্ষতা। আগামী বছরগুলোতে স্মার্ট শহর, কারখানা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং, স্মার্ট হোম্স, স্মার্ট গ্রিড, পরিধানযোগ্য জিনিসপত্র ইত্যাদির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্ব বাড়বে আইওটি-দক্ষ পেশাদারদের।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং মেশিন লার্নিং (এমএল)
প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে এআই ও এমএল-এর সন্নিবেশ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাওয়ায় অনপেক্ষণীয় হয়ে পড়েছে দক্ষ পেশাদারদের উপস্থিতি। এই প্রবণতা ২০২৫ সালেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিংয়ের দক্ষতা বিভিন্ন গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে প্রয়োগ করা হবে। ব্যবসা, প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা ও ফিন্যান্সের পাশাপাশি আরও নানা খাত এআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ার কারণে বিশ্বব্যাপি চাকরির বাজারে আরও পেশাদারদের প্রয়োজন হচ্ছে।
রোবটিক্স এবং অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং
স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, উৎপাদন ও পরিবহনে অভূতপূর্বভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে স্বয়ংক্রিয়করণ ব্যবস্থা। সেই বিবেচনায় বলা যেতে পারে যে, আগামী বছরটি হতে যাচ্ছে রোবটিক্স ও অটোমেশনের বছর। এই পরিপ্রেক্ষিতে পুরো সিস্টেম ডিজাইন, নিয়ন্ত্রণ, এবং স্বয়ংক্রিয়তা বজায় রাখার জন্য রোবটিক্স ও অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ প্রচুর চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।
আরো পড়ুন: শীতে রুম হিটার: জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, মডেল, ধরন ও দাম
ডিজিটাল মার্কেটিং এবং এসইও
ব্যবসা, নিউজ পোর্টাল ইত্যাদির ডিজিটালকরণের জন্য সবচেয়ে তাৎপর্যবহুল দুটি বিষয় হচ্ছে এসইও এবং ডিজিটাল মার্কেটিং। প্রতিষ্ঠানের সার্বিক অবস্থা এখন নির্ভর করে কন্টেন্ট ডেভেলপমেন্ট টিম ম্যানেজমেন্ট, ইন্টারনেট পাঠকদের পছন্দ-অপছন্দ নিরীক্ষণ এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে গ্রাহক ধরে রাখার উপর। এগুলোর প্রতিটি একজন ডিজিটাল মার্কেটিং পেশাদারের বিশেষত্বের জায়গা। সুতরাং, আসছে বছর নতুন মাত্রায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ডিজিটাল মার্কেটিং পেশার।
লো-কোড ও নো-কোড ডেভেলপমেন্ট
একটা সময় ছিল, যখন ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরি বা ব্যবহারের জন্য আবশ্যিকভাবে একজন আইটি বিশেষজ্ঞেরই দরকার হতো। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে ন্যূনতম কোডিং দক্ষতাতেই অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের সুযোগ থাকে। এই কার্যক্রম দ্রুত সমাধান প্রদানের তাগিদে অনলাইন টুলস ব্যবহারে দক্ষ জনগোষ্ঠীর এক বিশাল ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছে।
পরিশিষ্ট
পেশাগত ক্ষেত্রে যেখানে সর্বত্র ডিজিটাল রূপান্তর ঘটছে, সেখানে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার উপযুক্ত হাতিয়ার হলো এই চাহিদাসম্পন্ন প্রযুক্তিগত দক্ষতাগুলো। পরিবর্তনের সঙ্গে এই আলিঙ্গন কেবল ২০২৫-এ নয়, তার পরেও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গঠনের জন্য সুদীর্ঘ মাইলফলক স্থাপন করবে।
আরো পড়ুন: শীতে ঘরের শুষ্কতা দূর করতে হিউমিডিফায়ার: জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, মডেল ও দাম
৪৩১ দিন আগে
শীতে ঘরের শুষ্কতা দূর করতে হিউমিডিফায়ার: জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, মডেল ও দাম
শীতকালে ঘরের অভ্যন্তরীণ বাতাসের গুণমান বৃদ্ধিতে উৎকৃষ্ট গৃহস্থালি ডিভাইস হিউমিডিফায়ার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশেও ব্যাপক পরিসরে এসব ডিভাইসের ব্যবহার বেড়েছে। এই ডিভাইসগুলো চার দেয়ালের মাঝের শুষ্ক পরিবেশকে নিমেষেই আরামদায়ক করে তোলে। এতে শুষ্ক ত্বক ও শ্বাসকষ্টের আশঙ্কা থাকে না। এমনকি কম আর্দ্রতার কারণে কাঠের আসবাবপত্রের সমস্যাও দূর করতে পারে হিউমিডিফায়ার। আজকের নিবন্ধে বর্তমান বাজারে সেরা কিছু হিউমিডিফায়ারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হবে। চলুন, সঠিক ডিভাইসটি কেনার জন্য কোন কোনও বিষয়গুলো যাচাই করা উচিত- তা জেনে নেওয়া যাক।
হিউমিডিফায়ার কেনার সময় যে বিষয়গুলো দেখে নেওয়া উচিত
একটি মানসম্পন্ন হিউমিডিফায়ারের ন্যূনতম কিছু বিশেষত্ব থাকে, যা সামগ্রিকভাবে এর ব্যবহারের উপর প্রভাব ফেলে। ক্রয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের যাওয়ার পূর্বে সেই বিষয়গুলো যাচাই করে দেখা উচিত। চলুন সেগুলোর বিশদ বিশ্লেষণ করা যাক।
ধরণ
নির্দিষ্ট পরিবেশের জন্য নির্ধারিত ফাংশনের হিউমিডিফায়ার তৈরি করা হয়। কুল মিস্ট মডেলগুলো কক্ষ-তাপমাত্রার আর্দ্রতা ছড়ায় বিধায় এগুলো উষ্ণ মৌসুমের জন্য ব্যবহার করা হয়। অপরদিকে, শীতকালে ব্যবহৃত ওয়ার্ম মিস্ট হিউমিডিফায়ার জলীয়বাষ্প নির্গত করে। এতে ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন অ্যালার্জেন ধ্বংস হয় এবং হিম শীতল পরিবেশে আরামদায়ক উষ্ণতা বিরাজ করে।
আল্ট্রাসনিক হিউমিডিফায়ার উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে সূক্ষ্ম মিস্ট তৈরি করে শব্দবিহীন অপারেশন নিশ্চিত করে। ইভাপোরেটিভ মডেলগুলো আর্দ্রতা ছড়ানোর জন্য ফ্যান এবং ল্যাম্প ফিল্টারের উপর নির্ভর করে। কম পাওয়ারের স্টিম ভ্যাপোরাইজার সাধারণত থেরাপি বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত হয়।
আরো পড়ুন: আইফোন চুরি প্রতিরোধে অ্যাপলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
কভারেজ এলাকা এবং ধারণক্ষমতা
হিউমিডিফায়ারের কার্যকারিতা মূলত পুরো আবদ্ধ স্থানটিকে সঠিকভাবে মিস্ট ছড়াতে পারছে কিনা সেই ক্ষমতার উপর নির্ভর করে। ছোট রুমের জন্য ডিজাইন করা মডেলগুলো স্বাভাবিকভাবেই বড় লিভিং রুমের জন্য প্রযোজ্য হবে না। তাই ঘরের মাত্রা পরিমাপ করে তার সঙ্গে ডিভাইসের বাক্সের গায়ে লিপিবদ্ধ কভারেজ এলাকা মেলাতে হবে। এটি সাধারণত বর্গফুট বা বর্গমিটারে উল্লেখ থাকে।
একইসঙ্গে ট্যাঙ্কের পানি ধারণক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এখানে যাচাইয়ের মূল দিক হচ্ছে অপারেশনের সময়কাল। ট্যাঙ্ক আকারে বড় হলে ঘন ঘন রিফিল করার দরকার পড়ে না। অন্যদিকে, ছোট ট্যাঙ্কগুলো বারবার পানি ভরার সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। এগুলো সহজে বহনযোগ্য এবং যে কোনো স্থানে সহজেই রাখা যায়।
সহজে রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধা
ডিভাইসটি দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহারের মাঝে কতটা পরিষ্কার বা প্রতিস্থাপন করতে হবে তা জানা জরুরি। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ছাড়া এগুলো নিমেষেই ছাঁচ, ব্যাকটেরিয়া এবং খনিজের আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এটি এর যথাযথ কার্যকারিতার ক্ষেত্রে প্রতিকূলতা সৃষ্টি করে ঘরের বাতাসের গুণমানকে নষ্ট করে।
এর জন্য ভেতরের অংশ সহজে খুলে ফেলা যায় এবং ডিশওয়াশার পার্ট আছে এমন মডেলগুলো পছন্দ করা যেতে পারে। ফিল্টার ভালো হলে পর্যায়ক্রমিক প্রতিস্থাপনের পরেও ময়লা পরিষ্কারে সাহায্য করে। আল্ট্রাসনিক মডেলগুলোতে জমতে থাকা খনিজ পদার্থগুলো বারবার পরিষ্কারের প্রয়োজন হয়। মোট কথা তুলনামূলকভাবে কম রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে এমন ডিজাইনগুলো অনেক দিন স্থায়ী হয়।
আরো পড়ুন: শীতকালে গরম পানির গিজার: জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, মডেল, ধরন ও দাম
শব্দের মাত্রা এবং শক্তির যথার্থ ব্যবহারযোগ্যতা যান্ত্রিক শব্দ প্রায়শই বিরক্তির উদ্রেক করে। এদিক থেকে আল্ট্রাসনিক মডেলগুলো সেরা হিউমিডিফায়ার, কেননা এগুলোর অপারেশনের কোনো শব্দ হয় না বললেই চলে। কিন্তু ইভাপোরেটিভ মডেলের কার্যকারিতা বেশি হলেও ফ্যান ঘূর্ণনে সৃষ্ট শব্দ যথেষ্ট লক্ষণীয়।
নিঃশব্দে দীর্ঘ সময় ধরে ডিভাইস চালানোর ক্ষেত্রে আমলে নিতে হয় শক্তির মাত্রা। কম বিদ্যুৎ খরচ করে পুরো ঘর কভার করতে পারবে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক। এনার্জি সেভিং মোড থাকলে তা কেবল বিদ্যুৎ বিলই কমায় না বরং পরিবেশগত নেতিবাচক প্রভাবও হ্রাস করে।
অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য এবং খরচ
আধুনিক হিউমিডিফায়ারগুলোতে প্রায়শই উন্নত বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। অতিরিক্ত মান সংযোজনের জন্য অধিকাংশ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান একের ভেতর অনেক কিছু রাখার চেষ্টা করেন। যেমন পরিবর্তনযোগ্য টাইমার, রিমোট কন্ট্রোল এবং অ্যাপভিত্তিক পরিচালনার জন্য স্মার্ট কানেক্টিভিটির সংযোগ।
খরচের ন্যায্যতা বিচারের জন্য এই উন্নত ফিচারগুলো উৎকৃষ্ট নির্ধারকের কাজ করবে। সেই সঙ্গে প্রতিস্থাপন ফিল্টার আছে কিনা ও অত্যাধুনিক ফিচার থাকলেও তা সহজে ব্যবহারযোগ্য কিনা- সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত।
আরো পড়ুন: শীতে রুম হিটার: জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, মডেল, ধরন ও দাম
বর্তমানে বাজারের সেরা ১০টি হিউমিডিফায়ার
প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে হিউমিডিফায়ারের ঐতিহ্যবাহী কাঠামো ও কার্যপ্রক্রিয়াতে আসছে নতুন নতুন সংযোজন।
তন্মধ্যে দেশের বাজারে চলমান ১০টি ভিন্ন ব্র্যান্ডের ডিভাইসের দাম ও প্রধান ফিচারগুলো নিম্নে দেওয়া হলো-
রিম্যাক্স আরটি-এ৭১০ অ্যারোমা ম্যাগ সিরিজ / দাম: ১৪০০ টাকা
ইউএসবি পোর্ট সংযুক্ত রিম্যাক্স-এর এই ম্যাগ মডেলটিতে আর্দ্রকরণের পাশাপাশি আছে অ্যারোমাথেরাপির সুবিধা। তেল যোগ করার পর সৃষ্ট মিস্ট সুগন্ধিযুক্ত। এর নকশা এমনভাবে করা যে সহজেই যে কোনো স্থানে মানিয়ে যায় এবং একই সঙ্গে সহজে বহনও করা যায়। তাছাড়া এটি বিভিন্ন ধরণের পাওয়ার সকেটের সঙ্গে স্থাপনের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ। যারা অ্যারোমাথেরাপির ফিচারকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন তাদের জন্য এটি দারুণ একটি বাজেট-বান্ধব সমাধান।
ওরিকো ডি২০-ডব্লিউএইচ / দাম: ১৬৯০ টাকা
২৬০ এমএল (মিলিলিটার) ট্যাঙ্কের এই ডিভাইসে রয়েছে ৫০ এমএল/এইচ (মিলিলিটার পার আওয়ার) এর মিস্ট ভলিউম নির্গত করার ক্ষমতা। এর ৯০ ডিগ্রি কোণে (উল্লম্ব ও আনুভূমিক বরাবর) মিস্ট ছড়ানোর প্রক্রিয়া ৩ দশমিক ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এর নেপথ্যে মূল চালিকা শক্তি হিসেবে রয়েছে ১০০০ এমএএইচ (মিলি-অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার)-এর ব্যাটারি। আরজিবি (রেড-গ্রিন-ব্লু) লাইট মুডগুলো যোগ করে নান্দনিকতা। সেই সঙ্গে কমপ্যাক্ট ডিজাইনের হওয়ায় এটি বেডসাইড থেকে শুরু করে অফিস স্পেস পর্যন্ত সব পরিবেশের জন্য উপযুক্ত।
আরো পড়ুন: টপ লোড বনাম ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিন: জেনে নিন সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ
জো এইচএফ০৯ / দাম: ১৭৫০ টাকা
এতে একসঙ্গে ডিফিউজার এবং হিউমিডিফায়ার দুটি ডিভাইসের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। পোর্টেবল ডিভাইসটিতে রয়েছে ৩০০ এমএল ট্যাঙ্ক। একটি মুড দিয়ে অবিরাম প্রবাহ পরিচালনা করা হয়, আরেকটি মুড অল্প বিরতিতে মিস্ট ছড়ানোর প্রক্রিয়া চালু থাকে। আরজিবি লাইটিং বৈশিষ্ট্য শিথিলতা বাড়ায়, সঙ্গে ৩০ ডেসিবলের নিচে থাকা নয়েজ লেভেল প্রশান্তির পরিবেশ নিশ্চিত করে। ইউএসবি পোর্ট থাকায় এটি অনায়াসেই ছোট কক্ষ; এমনকি ডেস্কের উপর মানিয়ে যায়।
লর্ডউয়ে এ৮ / দাম: ১৯৯০ টাকা
দেখতে বেশ সাধারণ হলেও কার্যকারিতার দিক থেকে এটি অতুলনীয়। ১ হাজার ১৫০ এমএল ট্যাঙ্ক এবং ডাবল মিস্ট মোড এর বিরতিহীন মিস্ট তৈরির কাজ চালু রাখে। এতে থাকা আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তি ৩০ ডেসিবল-এর নিচে কাজ করে বিধায় এটি গভীর রাতের পিনপত্তন নিরবতায় কোনো বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে না। উপরন্তু, ৭টি রঙ-পরিবর্তনকারী লাইট পুরো পরিবেশে এক ভিন্ন অলঙ্করণ যোগ করে। নিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত করতে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় শাট-অফ সুবিধা। ইউএসবি ডিভাইসটি যে কোনো জায়গায় সেট করার জন্য উপযোগী।
বেসউস অ্যারোমাথেরাপি হিউমিডিফায়ার / দাম: ১৯৯৫ টাকা
কমপ্যাক্ট ডিজাইনের এই মডেলে অ্যারোমাথেরাপির সঙ্গে আর্দ্রতার মেলবন্ধন ঘটেছে। ৭৫ এমএল ধারণক্ষমতার ট্যাঙ্ক ২০ থেকে ৩৫ এমএল/এইচ আউটপুট দিতে পারে। স্বভাবতই এটি ছোট জায়গার জন্য সেরা। কাঠামোতে উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে পিসি+এবিএস, যা দীর্ঘ সময়ের জন্য টেকসই হয়। মাত্র ২০০ গ্রাম ওজনের এই ডিভাইস সহজে বহনযোগ্য। নয়েজ ফ্রি হওয়ায় ডেস্ক বা বেডসাইড টেবিলে রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়া যায়।
আরো পড়ুন: স্মার্টফোনে ভূমিকম্প সতর্কতা চালু করবেন যেভাবে
জিসুলাইফ জেবি০৮ / দাম: ২২৯০ টাকা
পোর্টেবল এবং ইউএসবি-চালিত এই হিউমিডিফায়ারে সর্বপ্রথম দৃষ্টিগোচর হয় অগ্রভাগের ডাবল স্প্রে। এর প্রতিটি পোর্ট ৩৫ এমএল/এইচ মিস্ট ভলিউম সরবরাহ করে, যা সর্বোচ্চ ১০ বর্গ মিটার পর্যন্ত আবদ্ধ জায়গা কভার করতে পারে। ৩ হাজার ৬০০ এমএএইচ-এর ব্যাটারি ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত রানটাইম প্রদান করে। শুষ্কতা দূরীকরণের জন্য এতে রয়েছে ডুয়েল পাওয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আল্ট্রাসনিক পরমাণুকরণ ব্যবস্থা বেশ সূক্ষ্ম মিস্ট তৈরি করে। শব্দের মাত্রা সীমাবদ্ধ থাকে ৩৬ ডেসিবলের মধ্যে। এর সঙ্গে একটি ক্লিনিং ব্রাশও দেওয়া হয়। আরও আকর্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে- যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপনের জন্য এর ৬ মাসের ওয়ারেন্টি আছে।
এইচ-টু-ও ডিকিউ১১৬ / দাম: ২৩৫০ টাকা
মাত্র ১৮০ গ্রাম ওজনের এই ডিভাইসে রয়েছে ৬০ থেকে ৯০ এমএল/এইচ পর্যন্ত ডুয়েল মিস্ট মোড এবং একটি ২ হাজার এমএএইচ রিচার্জেবল ব্যাটারি। আলাদাভাবে এসি বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই এটি কাজ করে প্রায় ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত। ট্যাঙ্ক ধারণক্ষমতা ৩০০ এমএল হওয়ায় এটি যে কোনো সংকীর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত কভারেজ নিশ্চিত করে। অটো স্লিপ মুড ৩ বা ৬ ঘণ্টা পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপারেশন বন্ধ করে দেয়। কম্পেক্ট ডিজাইনকে আবৃত করে রেখেছে টেকসই এবিএস উপাদান। যে কারণে একই সঙ্গে এটি সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা যায়।
বিম্পেরিয়াল পোর্টেবল হিউমিডিফায়ার / দাম: ৩৮৯০ টাকা
আধুনিক বৈশিষ্ট্য ও শৈলীর এক দারুণ সংমিশ্রণ ঘটেছে বিম্পেরিয়ালের এই মডেলটিতে। উর্ধ্বগামী শীতল মিস্টের পাশাপাশি এটি দ্বিগুণ অনুপাতে বাতাস পরিশোধন করে। ৮৫০ এমএল ট্যাঙ্কের এই হিউমিডিফায়ার ছোট বেডরুম বা অফিসের জন্য উপযুক্ত। এর সর্বোচ্চ মিস্ট কভারেজ প্রতি ঘণ্টায় ২০০ ঘনমিটার। সবচেয়ে চিত্তকার্ষক ফিচার হচ্ছে- এই হালকা ও পোর্টেবল ডিভাইস ন্যূনতম রক্ষণাবেক্ষণ করে দীর্ঘদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।
আরো পড়ুন: নারীর নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষায় মোবাইল অ্যাপ
কিউম্যালন টু পোর্ট স্প্রে / দাম: ৪৭৯০ টাকা
বিপুল জায়গার জন্য ডিজাইনকৃত কিউম্যালন টু পোর্ট স্প্রে’র রয়েছে ৮ লিটারের বিশাল পানিরভান্ডার। এর রানটাইম প্রায় ২৪ ঘণ্টা এবং এই পুরোটা সময়ে ন্যানো আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তির দৌলতে এটি অতি-সূক্ষ্ম মিস্ট সরবরাহ করতে পারে। এর অগ্রভাগের পোর্ট থেকে ৩৬০ ডিগ্রিতে মিস্ট ছড়িয়ে ঘরের সর্বত্র সমহারে মিস্ট ছড়ানো নিশ্চিত করা হয়। এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় তিনটি সামঞ্জস্যপূর্ণ মিস্ট কন্ট্রোল সেটিংসের মাধ্যমে। শীর্ষ কভারটি অপসারণযোগ্য এবং ট্যাঙ্ক স্বচ্ছ হওয়ায় এর রিফিলিং এবং পরিষ্কার করা বেশ সহজ। পানির স্তর একটি নির্দিষ্ট মাত্রার নিচে নেমে এলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। নয়েজ ফ্রি অপারেশনের জন্য এটি বেডরুম ও মিটিং রুমের জন্য উৎকৃষ্ট।
শাওমি স্মার্ট হিউমিডিফায়ার টু / দাম: ৬ হাজার ৯৯০ টাকা
উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সংস্পর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে হিউমিডিফায়ার ক্যাটাগরিতে শাওমির কোনো জুড়ি নেই। ট্যাঙ্কের ধারণক্ষমতা ৪ দশমিক ৫ লিটার হওয়ায় এই মডেল থেকে ৩২ ঘণ্টা একটানা অপারেশন পাওয়া যায়। এই উল্লেখযোগ্য সময়ে এর মিস্ট সরবরাহ ৩৫০ এমএল/এইচ মাত্রায় অব্যাহত থাকে। অতিবেগুনী পরিস্রাবণ ব্যবস্থার কল্যাণে মিস্ট আউটপুট পরিষ্কার থাকে। শাওমির নিজস্ব মি হোম অ্যাপের মাধ্যমে ডিভাইসের মিস্ট সেটিংস এবং টাইমারগুলোকে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর স্বয়ংক্রিয় মুডটি অতিরিক্ত আর্দ্রতা প্রতিরোধ করে ঘরের আসবাবপত্র এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশকে রক্ষা করে।
পরিশিষ্ট
উপরোক্ত ১০টি হিউমিডিফায়ারের যে কোনোটি শীতকালীন শুষ্কতা দূর করে ঘরকে স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারে। উন্নত বৈশিষ্ট্য এবং স্মার্ট কন্ট্রোলের জন্য শাওমি স্মার্ট হিউমিডিফায়ার টু নিঃসন্দেহে অতুলনীয়। বৃহৎ ক্ষমতা এবং কভারেজের জন্য একই সারিতে থাকবে কিউম্যালন ২ পোর্ট স্প্রে। জিসুলাইফ, এইচটুও, এবং ওরিকো’র মতো ছোট কাঠামো সহজে বহনের জন্য আদর্শ। নান্দনিকতার নিরিখে বিম্পেরিয়াল বা বেসিউস-এর মডেলগুলো বেছে নেওয়া যেতে পারে। আর সাশ্রয়ী খরচে উল্লেখযোগ্য কার্যকারিতার বিচারে লর্ডউয়ে, জো, এবং রিম্যাক্স-এর যথেষ্ট মান-সম্পন্ন।
আরো পড়ুন: মোবাইল ফোন বিস্ফোরণ: কারণ ও বাঁচার উপায়
৪৩২ দিন আগে
স্তন ক্যান্সার শনাক্তে ভুমিকা রাখতে পারে এআই: গবেষণা
স্তন ক্যান্সার শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা- এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে একটি মার্কিন গবেষণায় উঠে এসেছে।
স্তন-স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম ম্যামোগ্রাফি স্ক্রিনিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে দারুণ ফল পেয়েছেন গবেষকরা। তাদের দাবি, এআই দিয়ে স্ক্যান করা হলে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২১ শতাংশ বেশি।
সোমবার প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের একটি প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশিত হয়।
রেডিওলজিক্যাল সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকার (আরএসএনএ) বার্ষিক সভায় এই ফল উপস্থাপন করে রেডিওলজি জায়ান্ট র্যাডনেটের মালিকানাধীন এআই ফার্ম ডিপহেলথ।
১২ মাসে ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬০৪ জন নারীর ওপর ম্যামোগ্রাফি স্ক্রিনিংয়ের পর এই ফলাফল উপস্থাপন করে র্যাডনেট।
আরও পড়ুন: অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়: অস্ট্রেলিয়ায় গবেষণা
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গবেষণার আওতাধীন নারীদের অনেকে ম্যামোগ্রাফিতে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের এআই সফটওয়্যার বেছে নেন। চিকিৎসকের চোখ এড়িয়ে গেলেও ওই সফটওয়্যার ক্যান্সারের জীবাণু শনাক্তে সহযোগিতা করায় ম্যামোগ্রাফিতে এটি ‘দ্বিতীয় চোখ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই প্রকল্পে যেসব নারী অংশগ্রহণ করেন বাকিদের চেয়ে তাদের মধ্যে ক্যান্সার শনাক্তের হার ৪৩ শতাংশ বেশি ছিল বলে জানানো হয়।
তবে স্তন ক্যান্সারের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা নারীদের ওপরই শুধু এআইয়ের পরীক্ষা চালানো হয়। ফলে ৪৩ শতাংশ বেশি শনাক্ত হারকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পরে সার্বিকভাবে এই হার ২২ শতাংশ বলে জানানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা ২১ শতাংশের কম নয় বলে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
গবেষকরা বলছেন, তারা এখন এআই থেকে আরও বেশি সুবিধা কীভাবে নেওয়া যায়, তার চেষ্টা করছেন।
আরও পড়ুন: ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে গাজীপুর: গবেষণা
৪৫১ দিন আগে
রোগ ছড়ানো মশা নির্মূলে অস্ট্রেলিয়ার নতুন উদ্যোগ
রোগ ছড়ানো মশা নির্মূলে একটি নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে জিন সম্পাদনার মাধ্যমে পুরুষ মশাদের মধ্যে এমন এক ধরনের জিন প্রবেশ করানো হবে যা রোগবাহী স্ত্রী মশার সংখ্যা কমাতে কার্যকর।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিএসআইআরও) ও যুক্তরাজ্যের বায়োটেকনোলজি কোম্পানি অক্সিটেকের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে অক্সিটেক অস্ট্রেলিয়া।
ডেঙ্গু জ্বর, চিকুনগুনিয়া, জিকা ভাইরাস ও হলুদ জ্বরের বিস্তার রোধে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভাইরাস বহনকারী সবচেয়ে মারাত্মক দুটি প্রজাতির মশা- এডিস ইজিপ্টি ও এডিস অ্যালবোপিকটাসকে লক্ষ্য করে এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অক্সিটেক অস্ট্রেলিয়ার পরীক্ষায় দেখা গেছে, ল্যাবে এডিস ইজিপ্টি মশার জিন সম্পাদনার পর সেগুলোকে বনে ছেড়ে দেওয়ার পর বিশেষ ওই পুরুষ মশাগুলো বনের স্ত্রী মশাদের সঙ্গে মিলনের ফলে যে বাচ্চার জন্ম দেয়, সেগুলোও টিটিএভি (tTAV) নামক প্রোটিনযুক্ত বিশেষ ওই জিন নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে।
ওই প্রোটিন স্ত্রী বাচ্চাগুলোকে মেরে ফেলে, তবে পুরুষগুলোর ক্ষতি করে না।
এই পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে একটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি রোধের উদ্দেশে এশিয়ান টাইগার মশা, এডিস অ্যালবোপিকটাস মশার বিস্তার রোধেও কাজ শুরু করেছে অক্সিটেক অস্ট্রেলিয়া।
৪৫১ দিন আগে
শীতে রুম হিটার: জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, মডেল, ধরন ও দাম
শীতের প্রকোপ যত বাড়তে থাকে, বাসা-বাড়ির প্রতিটি ঘরের তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পেতে অস্বস্তিকর মাত্রায় পৌঁছে যেতে শুরু করে। বিশেষ করে ভোরবেলা এবং গভীর রাতে অতিরিক্ত গরম কাপড় ছাড়া থাকাটা মুশকিল হয়ে পড়ে। নানা প্রতিকূল আবহাওয়ায় পরম আশ্রয়ের জায়গাটি রীতিমতো হিমঘরে পরিণত হয়। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য একটু আরামপ্রদ উষ্ণতা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। আর এখানেই আসে রুম হিটার, যা মাঘের শীতেও ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে পারে। চলুন, বর্তমান সময়ের কয়েকটি রুম হিটারের দাম ও ফিচারের পাশাপাশি জেনে নিই, গৃহস্থালি যন্ত্রটি কেনার সময় কোন বিষয়গুলো যাচাই করা উচিত।
রুম হিটার কেনার সময় যে বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি
.
উষ্ণায়নের ক্ষমতা
মূল উদ্দেশ্য যেহেতু ঘর গরম করা, তাই প্রথমেই যন্ত্রটির ক্ষমতা কতটুকু, তা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত প্রতি বর্গফুট গরম করার জন্য ন্যূনতম ১০ ওয়াট ক্ষমতার দরকার হয়। সে অনুযায়ী ছোট একটি ঘরের জন্য ন্যূনতম ৬০০ ওয়াট হিটারের প্রয়োজন হবে।আর বড় জায়গাগুলোর জন্য ২ হাজার ওয়াটের মডেলগুলো উপযুক্ত হবে। সুতরাং কিনতে যাওয়ার আগে ঘরের ক্ষেত্রফলটি ভালোভাবে মাপা জরুরি।জায়গার তুলনায় কম ক্ষমতার হিটার নিলে সঠিক মাত্রায় উষ্ণতা পাওয়া যাবে না,আবার অতিরিক্ত হয়ে গেলে বিদ্যুৎ অপচয় হবে।
নিরাপত্তা
বাজেট যেমনি হোক না কেন, এ ধরনের গৃহস্থালি যন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার ব্যাপারে কখনই আপস করা উচিত নয়। অত্যধিক তাপ সুরক্ষা, টিপ-ওভার সুইচ এবং অন্তর্নির্মিত থার্মাল ফিউজ থাকা হিটারগুলো যান্ত্রিক ত্রুটি বা আগুন লাগার ঝুঁকি হ্রাস করে। অ্যান্টি-ফায়ার প্লাস্টিক বা অটো শাট-অফ মেকানিজম অতিরিক্ত নিরাপত্তার সংযোজনের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্যতা বাড়ায়। এই ফিচারগুলোর মাধ্যমে যন্ত্রকে সার্বক্ষণিক সতর্ক নজরে রাখার বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি মেলে।
আরো পড়ুন: নারীর নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষায় মোবাইল অ্যাপ
বিদ্যুতের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারের কার্যকারিতা
সর্বোচ্চ মাত্রার উষ্ণতা দেওয়ার জন্য যন্ত্রটি কতটুকু বিদ্যুৎ শক্তি খরচ করছে, তা ভালো মানের হিটার বাছাইয়ের অত্যাবশ্যকীয় একটি নির্ধারক। এনার্জি-এফিশিয়েন্ট হিটারগুলো বিদ্যুৎ বিল সংরক্ষণ করে। থার্মোস্ট্যাট এবং ইকো-এনার্জি মোড সঠিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে, যাতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ শক্তি নষ্ট না হয়। সিরামিক হিটিং উপাদান ঘরের সর্বত্র সমানভাবে এবং দ্রুত তাপ বিতরণ করে, শক্তির অপচয় রোধ করে। এই বিষয়গুলোর প্রতি নজর রাখার ফলে একদিকে যেমন দীর্ঘ মেয়াদে বাজেট বাঁচানো যায়, অন্যদিকে পরিবেশকেও ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা যায়।
পোর্টেবিলিটি এবং ডিজাইন
যাদের ঘন ঘন বাসা বদলের প্রয়োজন হয় তাদের জন্য তাৎপর্যবহুল একটি ব্যাপার হচ্ছে গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির ওজন। কাঠামোগত দিক থেকে সহজে বহনযোগ্য হলে স্থানান্তর ও পুনরায় স্থাপনের কাজগুলো সহজ হয়ে যায়। বিশেষ করে ক্যারি-হ্যান্ডেল সমেত হাল্কা মডেলগুলো বহন করা সুবিধাজনক। লম্বা কমপ্যাক্ট ডিজাইনেরগুলো ঘরের মেঝেতে জায়গা বাঁচায়। কিছু হিটার দেয়ালেও সেট করা যায়। নান্দনিক ও সুবিধাজনক নকশা ব্যবহারযোগ্যতার পাশাপাশি ঘরের সৌন্দর্য্যও বাড়ায়।
শব্দের মাত্রা
হিটার নির্বাচনের সময় আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর শব্দ। সিরামিক প্রযুক্তি বা সাইলেন্ট অপারেশন মুডের মডেলগুলো ঘরের মধ্যে শান্ত পরিবেশ বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট উপযোগী। অবশ্য পুরাতন ডিজাইনের ফ্যান হিটারগুলোর আওয়াজ থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় থাকে না। এদিক থেকে অত্যাধুনিক ডিজাইনগুলো অনেকটা এগিয়ে। একেবারে পিন-পিতম নিরবতা না দিতে পারলেও এগুলো প্রশান্তিদায়ক উষ্ণতা প্রদানে কোনো ঘাটতি রাখে না।
আরো পড়ুন: কীভাবে বুঝবেন ছবিটি এআই দিয়ে বানানো কিনা
স্থায়িত্ব এবং ওয়ারেন্টি
ঘন ঘন মেরামত বা প্রতিস্থাপনের ঝামেলা থেকে দূরে থাকতে অবশ্যই হিটারের ওয়ারেন্টি দেখে নেওয়া উচিত। পরপর কমপক্ষে দুটি শীত কাটানোর জন্য কাঠামোগত উপাদান হিসেবে অগ্নিরোধী প্লাস্টিক, সিরামিক উপাদান বা মজবুত ধাতব উপাদানগুলোর প্রতি অগ্রাধিকার দিতে হবে। অন্তত এক বছরের ওয়ারেন্টি থাকলে আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধা পাওয়া যায়। বিক্রয় পরবর্তী সার্ভিস ওয়ারেন্টি দীর্ঘ মেয়াদে খরচ বাঁচায় বিধায় কোম্পানির প্রতি গ্রাহকদের নির্ভরতা বাড়ে।
বর্তমানে বাজারের সেরা কয়েকটি রুম হিটার
.
ভিশন ইজি-হোয়াইট / ১ হাজার ৪৮৫ টাকা
বরাবরের মতো এবারও সাশ্রয়ী মূল্যের বিপরীতে চমৎকার সব ফিচার পাওয়া যাচ্ছে ভিশনে। মডেলটির দুই ধরণের (১ হাজার ওয়াট/২ হাজার ওয়াট) তাপমাত্রা সেটিং-এ তাপ বিতরণের জন্য রয়েছে পিটিসি হিটিং উপাদান। অপারেশন চলাকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রয়েছে টিপ-ওভার সুইচ, অতিরিক্ত হিটিং সুরক্ষা ও একটি ফিউজ। এর তাপমাত্রা কমবেশি করার নব এবং একাধিক এয়ার মোড (ফ্যান/লো/উচ্চ) যন্ত্রের উপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও আরামদায়ক অনুভূতির সঞ্চার করে।
হাল্কা ওজন এবং ইন্টিগ্রেটেড হ্যান্ডেল হিটারটিকে সহজে বহন করার জন্য উপযোগী করে তুলেছে। ১২০ বর্গফুট জায়গার জন্য উপযুক্ত যন্ত্রটি সংকীর্ণ স্থানেও স্থাপনযোগ্য।
আরো পড়ুন: মোবাইল ফোন বিস্ফোরণ: কারণ ও বাঁচার উপায়
ভিগো কজি / ১ হাজার ৬৫০ টাকা
২ হাজার ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এই হিটারে রয়েছে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী থার্মোস্ট্যাট ও তাপীয় ফিউজ। এগুলো অতিরিক্ত তাপ সরবরাহে সুরক্ষা মাত্রা নিশ্চিত করে। এক স্থান থেকে অন্যস্থানে সহজে স্থানান্তর এবং স্থাপনে সুবিধার জন্য রয়েছে সহায়ক ক্যারি হ্যান্ডেল। ব্যবহারযোগ্যতায় আলাদা মাত্রা যোগ করে এর পাওয়ার ইন্ডিকেটর লাইটটি। মাঝারি আকারের কক্ষগুলোর জন্য বেশ ভালো একটি পছন্দ এই হিটারটি।
নোভা এনএইচ-১২০১এ / ১ হাজার ৮৯৯ টাকা
টেকসই অ্যান্টি-ফায়ার প্লাস্টিক বডির এই হিটারটি নিরাপত্তার দিক থেকে যথেষ্ট নির্ভরতা প্রদান করে। কেননা ২ হাজার ওয়াট দ্বারা চালিত এই যন্ত্রে আছে তাপীয় ফিউজ ও অতিরিক্ত উত্তাপ সুরক্ষা। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ফ্যানের গতি কমবেশি করার সুবিধা এর প্রধান আকর্ষণ। উপরন্তু, এই সামঞ্জস্যতার নেপথ্যে সুদূরপ্রসারি নিয়ন্ত্রক হিসেবে রয়েছে থার্মোস্ট্যাট।
মডেলটিতে দেওয়া হচ্ছে ২ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি এবং ১ বছরের স্ট্যান্ডার্ড ওয়ারেন্টি।
আরো পড়ুন: টপ লোড বনাম ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিন: জেনে নিন সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ
ওয়াল্টন ডব্লিউআরএইচ-পিটিসি০০৭ / ২ হাজার ৬১ টাকা
ব্র্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী সহজ ডিজাইনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ওয়াল্টনের এই হিটারটি বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। অতিরিক্ত তাপ সুরক্ষায় এতে অংশ নেয় পিটিসি হিটিং প্রযুক্তি, যা এর নিরবচ্ছিন্ন কার্যকারিতাকে অটুট রাখে। ৫০০/১ হাজার ওয়াট রেটিং ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যযোগ্য তাপ সেটিংয়ের জন্য যন্ত্রটি যেকোনো ছোট বা সংকীর্ণ জায়গার জন্য উপযুক্ত।
এলজি ব্লু ম্যাজিক কেপিটি-৬০২এম / ২ হাজার ৫০০ টাকা
নজরকাড়া ডিজাইন সমৃদ্ধ এই হিটারটিতে প্রথমেই চোখে পড়ে ডিজিটাল ডিসপ্লে। চিত্তাকর্ষক বেশভূষার সঙ্গে সিরামিক প্রযুক্তি দ্রুত এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ হিটিং নিশ্চিত করে। অপসারণযোগ্য ডাস্ট ফিল্টারের পরিবর্তে পাওয়া যায় পরিস্কার বায়ু সঞ্চালন। এক্সট্রা হিটিং সেফ্টি এবং টিপ-ওভার সুইচ থাকায় সৌন্দর্য্যের সঙ্গে এর নির্ভরযোগ্যতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুৎ ক্ষমতার মাত্রা ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ ওয়াট পর্যন্ত ওঠা-নামা করতে পারে। এই পরিবর্তন প্রয়োজনীয়তার স্বাপেক্ষে হিটিং সেটিংসের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়।
কনিয়ন বিই-৫০০এন / ২ হাজার ৬০০ টাকা
সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চমানের ক্ষমতা ও সার্বিক ফাংশন পাওয়ার ক্ষেত্রে কনিয়নের এই মডেলটিকে অনেকটা এগিয়ে রাখা যেতে পারে। এর নিরাপত্তার দিকটা দেখে থার্মাল কাট-আউট সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং কুলিং মুড। এটি বছর জুড়ে যন্ত্রটিকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলে। টেকসই গঠনের বডিতে হিটারটির সর্বোচ্চ ক্ষমতা ২ হাজার ওয়াট। কোম্পানির পক্ষ থেকে ১ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি এর নির্ভরযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে দেয়।
আরো পড়ুন: রয়্যাল এনফিল্ড ৩৫০ সিসির নতুন চারটি মোটরবাইক মডেলের আকর্ষণীয় সব ফিচার
মিয়াকো পিটিসি-১০এম / ৩ হাজার ৮০ টাকা
৪০০ বর্গফুটের বৃহৎ এলাকার জন্য তৈরি হয়েছে মিয়াকোর এই হিটার। ১ দশমিক ৫ কিলোওয়াট উষ্ণতায়ন ক্ষমতা এবং ৯০-ডিগ্রি ঘূর্ণন ফাংশন আবদ্ধ কক্ষের সমস্ত জায়গা জুড়ে উষ্ণতা ছড়াতে সক্ষম। কার্যকর থার্মোস্ট্যাটের পাশাপাশি কমপ্যাক্ট বডি যত্ন সহকারে ব্যবহারের ভিত্তিতে দীর্ঘস্থায়িত্বের প্রতিশ্রুতি রাখে। মূল্য সহ পণ্যের যাবতীয় ফিচারগুলো পূর্ণতা পেয়েছে অতিরিক্ত সংযোজন হিসেবে ১ বছর সার্ভিস ওয়ারেন্টির মাধ্যমে।
শাওমি ডুহি ডেস্কটপ ইলেক্ট্রিক হিটার / ৩ হাজার ৮০ টাকা
প্রযুক্তি-বান্ধব পণ্যশ্রেণিতে শাওমির খ্যাতি রয়েছে দীর্ঘদিনের। এই ইলেক্ট্রিক হিটারটিও তার ব্যতিক্রম নয়। যন্ত্রটির প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে অপারেটিংয়ের জন্য টাচ প্যানেল এবং ওয়াইড-এঙ্গেল ঘূর্ণন প্রক্রিয়া। স্মার্ট ফিচারগুলোতে আরও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে দ্রুত উষ্ণতায়নের পিটিসি প্রযুক্তি।
কমপ্যাক্ট ডেস্কটপ গঠন ও ডিজাইন নিমেষেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বহনে সহায়ক হয়। সাধারণ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে টিপ-ওভারের অতিরিক্ত সুরক্ষা বেষ্টনী। ৬০০ ওয়াটের পাওয়ার রেটিং সম্পন্ন হিটারটি ছোট জায়গায় ব্যবহারের জন্য উত্তম।
আরো পড়ুন: আইফোন চুরি প্রতিরোধে অ্যাপলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ডানাজ ডিএএন-আরএইচ২৫০ইসি / ৩ হাজার ৯০০ টাকা
সিরামিক ফ্যান প্রযুক্তি এবং অটো-রোটেশনের মত প্রিমিয়াম সুবিধার বেশ কম পাওয়া রেটিং-এর মধ্যে দিচ্ছে ডানাজ। অবশ্য রেটিংটি ৭৫০ ওয়াট এবং ১ হাজার ৫০০ ওয়াটের দুটি হিটিং গ্রেডেশনে বিভক্ত। এটি সরাসরি অংশগ্রহণ করে থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা পরিচালনায়। অন্যান্য হিটারগুলোর সঙ্গে এর সুরক্ষা ক্যাটাগরির ভিন্নতা হলো এক্সট্রা হিটিং সেফ্টির পাশাপাশি এর আছে অ্যান্টি ওভারটার্নিং সুরক্ষা। সঙ্গে ১ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি মূল্যের পরিমিত ন্যায্যতা প্রদান করে।
রোওয়া কেপিটি-০৯১৮জি / ৪ হাজার ৪৫৯ টাকা
১ হাজার ৮০০ ওয়াট হিটিং পাওয়ারের এই হিটারটির বিশেষ দিক হচ্ছে অসিলেটিং সিরামিক প্রযুক্তি। এটি থার্মোস্ট্যাটের সঙ্গে সমন্বয় করে তাপমাত্রার সঠিক নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখে। বড় কক্ষগুলোর জন্য উপযুক্ত এই যন্ত্র টিপ-ওভার সুইচ, অতিরিক্ত তাপ সুরক্ষা, এবং স্বয়ংক্রিয় শাট-অফ ব্যবস্থা সমৃদ্ধ। ওজন ২ দশমিক ৫ কেজি এবং ডিজাইন কমপ্যাক্ট হওয়ায় হিটারটিকে স্থানান্তর এবং পুনঃস্থাপন করা সহজ।
শেষাংশ
উপরোক্ত ১০টি রুম হিটারের যেকোনোটি পৌষ-মাঘের মৌসুমের প্রতিটি দিনকে আনন্দদায়ক এবং স্বাস্থ্যকর করে তুলতে সহায়ক হতে পারে। তন্মধ্যে স্বল্প বাজেটের জন্য দেখা যেতে পারে ভিশন ইজি-হোয়াইট এবং ভিগো কোজি মডেল দুটি। অপরদিকে, রোওয়া এবং ডানাজের মতো প্রিমিয়াম মডেলগুলোতে মিলবে ফ্যানের নিখূঁত ঘূর্ণন এবং সিরামিক হিটিংয়ের মতো উন্নত ফিচার। নোভা এবং এলজি ব্লু ম্যাজিক মিড-রেঞ্জার হিসেবে যথেষ্ট কার্যক্ষমতার অধিকারি এবং সেই সঙ্গে নির্ভরযোগ্য। আর প্রযুক্তিপ্রেমিদের জন্য রয়েছে চমকপ্রদ ডিজাইনের শাওমি ডুহি। সর্বপরি, ক্রয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে কর্মক্ষমতা ও নিরাপত্তামূলক ফিচারগুলোতে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
আরো পড়ুন: শীতকালে গরম পানির গিজার: জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, মডেল, ধরন ও দাম
৪৫৩ দিন আগে
শীতকালে গরম পানির গিজার: জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, মডেল, ধরন ও দাম
শীতের মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই যে বিপত্তির অনুষঙ্গ আসে তা হলো ঠান্ডা পানিতে গোসলের অস্বস্তি। প্রাথমিক পর্যায়ে অস্বস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ক্রমেই তা ধাবিত হয় সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন ধরনের ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার দিকে। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে অনায়াসেই মুক্তি পাওয়ার একটি কার্যকর উপায় হলো গিজার ব্যবহার করা। ইতোমধ্যে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা যন্ত্রটি শীতকালে প্রতিদিনের স্নানকে আরামদায়ক এবং স্বাস্থ্যকর করে তোলে। চলুন,বর্তমান বাজারে চলমান কয়েকটি গিজারের দাম ও ফিচারের পাশাপাশি জেনে নিই- এই গৃহস্থালি যন্ত্রটি কেনার ক্ষেত্রে কোনো বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
গিজার কেনার সময় যে বিষয়গুলো দেখে নেওয়া উচিত
.
ধারণ ক্ষমতা
পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে একটি গিজারের উপযুক্ত ধারণ ক্ষমতা ভিন্ন হয়ে থাকে। ছোট পরিবারের জন্য সাধারণত ৬ থেকে ১৫ লিটার ইউনিট-ই যথেষ্ট,অপরদিকে বড় পরিবারগুলো জন্য দরকার হয় ২৫ থেকে ৫০ লিটার। ধারণ ক্ষমতা কি রকম হবে তার সঙ্গে সারা মাসে বিদ্যুৎ শক্তির খরচও সম্পৃক্ত। ছোট গিজারগুলো কম শক্তি ব্যবহার করে চাহিদা মেটাতে পারে, অন্যদিকে বড় আকারের গিজারগুলোর জন্য মাসে বিদ্যুৎ বিল অতিরিক্ত বেড়ে যায়।
আরো পড়ুন: নারীর নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষায় মোবাইল অ্যাপ
গিজারের ধরন
গিজার প্রধানত দুই ধরনের হয়- ইন্স্ট্যান্ট এবং স্টোরেজ। ইন্স্ট্যান্ট মডেলগুলো চাহিদা অনুযায়ী পানি গরম করে, স্থাপনে কম জায়গা নেয়, এবং বিদ্যুৎ শক্তি সঞ্চয় করে। এগুলো মূলত রান্নাঘর বা ছোট বাথরুমের মতো সংকীর্ণ রুমগুলোতে স্থাপনের জন্য উপযুক্ত। আর স্টোরেজ গিজারে থাকে উত্তাপযুক্ত ট্যাংক,যেখানে পরবর্তীতেও ব্যবহারের জন্য গরম পানি সংরক্ষণ করা থাকে। ফলে দিনে দুইয়ের অধিকবার গোসল করা যায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত লোড নিতে পারে বিধায় স্টোরেজের মডেলগুলোতে বেশি পরিমাণে বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়।
কর্মদক্ষতা
পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের জন্য উচ্চ কর্মদক্ষতা সম্পন্ন গিজারের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এর জন্য উচ্চ শক্তির স্টার রেটিং বা উচ্চ-ঘনত্ব পিইউএফ (পলিউরেথেন ফোম) নিরোধকের মতো উন্নত বৈশিষ্ট্যগুলো আছে কিনা তা দেখা উচিত। এই ধরনের নিরোধক তাপের অপচয় রোধ করে পানির তাপমাত্রা বেশিক্ষণ ধরে রাখে এবং কম বিদ্যুৎ খরচ করে। এর সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় শাটঅফের ফিচারটি থাকলে সর্বোত্তম কর্মক্ষমতা নিশ্চিতের জন্য অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহারের দরকার হয় না।
পানির ট্যাংকের গাঠনিক উপাদান
পানি সংরক্ষণের ট্যাংকটি কি ধরনের উপাদান দিয়ে বানানো হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে গিজারের স্থায়িত্ব এবং কার্যক্ষমতা। স্টেইনলেস স্টিলের ট্যাংকে প্রায়শই কাচ বা এনামেলের প্রলেপ থাকে। এতে করে পুরো গঠনটি ক্ষয় প্রতিরোধী হয় এবং উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। একইভাবে,এবিএস প্লাস্টিকের ট্যাংকগুলো ওজনে হালকা,মরিচারোধী এবং সহজে রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য হয়। এভাবে যন্ত্রটি টেকসই হওয়ার মাধ্যমে এতে কোনো রকম ফাটল বা চিড় ধরার আশঙ্কা লোপ পায়।
আরো পড়ুন: কীভাবে বুঝবেন ছবিটি এআই দিয়ে বানানো কিনা
গরম করার উপকরণ
পানি কতটা দ্রুত গরম হচ্ছে এবং উষ্ণতার মাত্রা কতটুকু এগুলোর জন্য কিছু উপকরণের দিকে খেয়াল রাখতে হয়। এক্ষেত্রে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উপাদান হচ্ছে কপার, কেননা এর আছে উচ্চতর তাপ পরিবাহিতা এবং স্থায়িত্ব। এর বিকল্প হিসেবে গ্লাসের প্রলেপ থাকা উপাদানগুলোর যান্ত্রিক ক্ষয় প্রতিরোধ এবং আয়রনযুক্ত পানি প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা রয়েছে। এটি দীর্ঘ মেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণের খরচও যথেষ্ট পরিমাণে কমিয়ে আনে।
নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য
অধিকাংশ গিজারের একটি সাধারণ যন্ত্রাংশ হলো থার্মোস্ট্যাট। যখন যন্ত্রের মধ্যে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় তখন এর চাপ রিলিজ ভাল্বগুলো খুলে যায়। এভাবে গিজার অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে মুক্তি পায়। এর সঙ্গে আরও যুক্ত করা যায় শকপ্রুফ এক্সট্যারিয়র এবং ড্রাই হিটিং সুরক্ষা,যেগুলো নানা ধরনের বৈদ্যুতিক বিপদের আশঙ্কা দূর করে। এই অন্তর্ভুক্তিগুলোতে অতিরিক্ত খরচের ধাক্কা থাকলেও বাসা-বাড়িতে নিরাপদে থাকার নিশ্চয়তা প্রদান করে।
স্থাপনের জায়গা
বাথরুম বা রান্নাঘরে যে স্থানেই বসানো হোক না কেন,সেই জায়গাটির প্রশস্ততা এবং উচ্চতা কতটুকু তা আগে থেকেই দেখে নিতে হবে। উল্লম্ব গিজারগুলো সীমিত প্রস্থের লম্বা বাথরুমের জন্য প্রযোজ্য,অপরদিকে অনুভূমিকগুলো উচ্চতায় কম অথচ প্রশস্ত সিলিং স্পেসগুলোতে ভালো ফিট করে। এই জায়গা নির্ধারণটি গিজারের সুষ্ঠভাবে কাজ করার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয়।অপর্যাপ্ত জায়গায় যন্ত্রের সামগ্রিক উষ্ণতা বৃদ্ধি করে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে।
আরো পড়ুন: অ্যাপলের আইফোন ১৬ সিরিজ উদ্বোধন: নতুন ফিচার ও মূল্য তালিকা
ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয় পরবর্তী সেবা
যেকোনো ইলেক্ট্রিক যন্ত্রপাতির গুণমানের নিশ্চয়তা বিচারের একটি বড় নির্ধারক হলো ওয়ারেন্টি। সার্ভিস ও পার্ট্স দুটোতেই ওয়ারেন্টি থাকলে সেই যন্ত্রের কোম্পানি বা ব্র্যান্ডের প্রতি নির্ভরতা বাড়ে। বিষয়টি গিজারের জন্যও প্রযোজ্য। স্ট্যান্ডার্ড কভারেজ ট্যাংকের জন্য ৩ থেকে ৫ বছর এবং গরম করার সামগ্রীগুলোর জন্য ১ থেকে ২ বছর ওয়ারেন্টি থাকা উচিত। সেই সঙ্গে ডিস্কেল করা এবং নিরাপত্তা ভাল্ব চেক করার মতো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণগুলো করা হলে তা যন্ত্রের আয়ু বাড়ানো ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গিজারে যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি। তেমনি একটি প্রযুক্তি হচ্ছে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী সেটিংস,যেখানে পছন্দ অনুযায়ী যন্ত্রের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সেট করা যায়। এ ক্ষেত্রে কোনো কোনো গিজারে সামঞ্জস্যযোগ্য নব থাকে;একদম সাম্প্রতিকগুলোতে থাকে ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এই ফিচারের মূল উদ্দেশ্য হলো যন্ত্রের কার্যক্ষমতার সঙ্গে আরামদায়ক উষ্ণ গোসলের সমন্বয় করা। এতে করে যন্ত্র সর্বোচ্চ পাওয়ারে পরিচালিত হয় না বিধায় তাপশক্তি অপচয় কমে এবং সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ শক্তিও তুলনামূলকভাবে কম খরচ হয়।
দাম এবং ব্র্যান্ড
যারা যন্ত্রের প্রতিটি সুক্ষ্ম বিষয় যাচাই করা নিয়ে বিড়ম্বনায় থাকেন তারা কেবল ব্র্যান্ড পরিচয়কে গুরুত্ব দিতে পারেন। গ্রাহকদের কাছে কোম্পানিটির গ্রহণযোগ্যতা কেমন শুধু এক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করা হলে কোম্পানিটির পণ্যের গুণমান এবং বিক্রয়োত্তর পরিষেবা যাচাই করা যায়। এ ধরনের বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডগুলো সর্বস্তরের গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে তাদের পণ্য ডিজাইন বা আমদানি করে থাকে। তাই যারা স্বল্প বাজেটের ওপর নির্ভর করে দাম ও ফিচারের সঙ্গতির হিসেব করেন তারাও ব্র্যান্ড যাচাইকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন।
আরো পড়ুন: মোবাইল ফোন বিস্ফোরণ: কারণ ও বাঁচার উপায়
বর্তমানে বাজারের সেরা কয়েকটি গিজার
.
হায়ার ইএস৩০এইচ-সিকে৩ (বিডি)
মূল্য: ১০ হাজার ৫০০ থেকে ১২ হাজার ৮০০ টাকা
এই অনুভূমিক মডেলটির পানি ধারণ ক্ষমতা ৩০ লিটার এবং এটি ছোট থেকে সর্বোচ্চ মাঝারি পরিবারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এর ১ হাজার ৬৫০ ওয়াটের এনকোলজি হিটিং উপাদানটি শক্তির ব্যবহার কমিয়ে কার্যকরভাবে উষ্ণকরনের বিষয়টি নিশ্চিত করে। আর্দ্র পরিবেশে যন্ত্রের স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তাকে অটুট রাখতে রয়েছে পানিরোধী আইপিএক্স৪ এবং শকপ্রুফ রেটিং। ইউএমসি ট্যাংক এবং ম্যাগনেসিয়াম রড ক্ষয় রোধ করে ট্যাংকের আয়ুষ্কাল বাড়ায়। উপরন্তু,ট্যাংকে ৭ বছর এবং হিটিং পার্টসে ৪ বছরের ওয়ারেন্টি আছে।
ওয়ালটন ডব্লিউজি-ডব্লিউ৬৭এল
মূল্য: ৯ হাজার ৭১১ টাকা
৬৭ লিটারের এই বৃহদাকৃতির মডেলটি যেকোনো যৌথ পরিবারের জন্য উপযোগী। এর বিশেষত্বের মধ্যে রয়েছে মোবাইল অ্যাপ কন্ট্রোল,অ্যালেক্সা এবং গুগল হোমের মাধ্যমে ভয়েস কমান্ড। ব্যবহারের সময় সেট করার জন্য রয়েছে স্বয়ংক্রিয়-শিডিউলার ব্যবস্থা। গ্যালভানাইজ্ড স্টিলের ট্যাংকে প্রলেপ রয়েছে ২৭৫জিএসএম পর্যন্ত এবং হিটিং সামগ্রীর কেন্দ্রে আছে ইনকলয়-৮০০। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সুবিধা দেয় ডাবল-পোল থার্মোস্ট্যাট এবং ক্ষয়রোধের জন্য একটি ম্যাগনেসিয়াম অ্যানোড রড।
আরো পড়ুন: টপ লোড বনাম ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিন: জেনে নিন সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ
মিডিয়া ডি৪০-২০এ
মূল্য: ১২ হাজার ৮০০ থেকে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা
এখানে হিটিং উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে কপার এবং ঘন ম্যাগনেসিয়াম অ্যানোড ৬০ শতাংশ শক্তি সাশ্রয়ের ক্ষমতা রাখে। ৪০ লিটারের গিজারটি সিলিং থেকে ঝুলিয়ে স্থাপন করতে হবে। মাত্র ৭ কেজি ওজনের যন্ত্রটি যথেষ্ট টেকসই, তাই স্থাপন এবং রক্ষণাবেক্ষণে খুব একটা ঝামেলা পোহাতে হয় না। মিডিয়া থেকে এর বডি ওয়ারেন্টি দেওয়া হচ্ছে ৫ বছর এবং কপার কয়েল গ্যারান্টি ৩ বছর। কার্যকারিতা ও সহজে বহনযোগ্যতার বিবেচনায় মাঝারি পরিবারের জন্য এটি উৎকৃষ্ট হতে পারে।
ভিশন গিজার ৩০ লিটার প্রাইম
মূল্য: ৭ হাজার ৭০০ থেকে ৮ হাজার ২৫০ টাকা
এই সিলিং-টাইপ গিজারটির মূল আকর্ষণ হচ্ছে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের অটোস্টপ থার্মোস্ট্যাট যন্ত্রাংশ। ৩০ লিটার ধারণ ক্ষমতার ট্যাংকটির অভ্যন্তরীণ ভাগ গ্লাস ফাইবার দিয়ে গড়া বিধায় উত্তাপের মাত্রা নিখুঁত থাকে। মজবুত বডি ৭ বার (চাপের একক) পর্যন্ত চাপ সহ্য করার ক্ষমতা রাখে। অবশ্য ২ বছরের ওয়ারেন্টি অনেক কম, তবে শক্তিশালী বিল্ড এবং সাশ্রয়ী মূল্যের দিক থেকে এটি ছোট পরিবারের জন্য একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে।
আরো পড়ুন: রয়্যাল এনফিল্ড ৩৫০ সিসির নতুন চারটি মোটরবাইক মডেলের আকর্ষণীয় সব ফিচার
ডিওয়ানকো ৪৫ লিটার গিজার
মূল্য: ৪ হাজার ৭৯৯ থেকে ৫ হাজার ১০০ টাকা
অভূতপূর্ব সীমিত মূল্যের এই গিজার বডি অগ্নিরোধী গ্লাস ফাইবারে সমৃদ্ধ। স্বয়ংক্রিয় তাপীয় কাট-অফ ব্যবস্থা দক্ষতা বাড়ানো পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তার দিকটি তদারক করে। প্রতিবার পানি গরম করতে এটি ২৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় নেয়, যার পর উষ্ণতা বজায় থাকে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা পর্যন্ত। যন্ত্রাংশ এবং সার্ভিস ওয়ারেন্টি ৩ বছর। সব মিলিয়ে,এটি ন্যূনতম খরচে গিজারের অত্যাধুনিক ফিচারগুলোর অভিজ্ঞতা নেওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ।
পরিশিষ্ট
উপরোক্ত গরম পানির গিজারগুলোর মাধ্যমে এক নজরে চলমান শীতের বাজারের ধারণা লাভ করা যায়। মূলত পরিবারের সুনির্দিষ্ট চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গিজারের ধারণক্ষমতা,কর্মদক্ষতা ও ওয়ারেন্টিসহ প্রয়োজনীয় ফিচারগুলো যাচাই করা উচিত। বড় পরিবারের জন্য ওয়াল্টনের ৬৭ লিটারের মডেলটি উৎকৃষ্ট, অন্যদিকে হায়ারের ৩০ লিটারের মডেলটি ভারসাম্যতা দিচ্ছে দক্ষতা এবং স্থায়িত্বে। বাজেট-সচেতন ক্রেতাদের জন্য উপযুক্ত হতে পারে ডিওয়ান্কো বা ভিশন। এক্ষেত্রে অবশ্য কর্মদক্ষতার বিচারে এগিয়ে থাকবে মিডিয়ার ডি৪০। উপরন্তু,দীর্ঘ মেয়াদে খরচ বাঁচানোর ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফিচারকে অগ্রাধিকার দিয়ে ক্রয়ের সময় বাজেট বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটু নমনীয় হওয়া উত্তম।
আরো পড়ুন: আইফোন চুরি প্রতিরোধে অ্যাপলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
৪৬১ দিন আগে
পরীক্ষামূলক টেলিটক অনলাইন সিমসেবা চালু
পরীক্ষামূলকভাবে টেলিটক অনলাইন সিম সেবা চালু করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে বুধবার (২৭ নভেম্বর) বিকাল থেকে কমার্শিয়াল পাইলটিং হিসেবে রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, নওগাঁ ও চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার ১১টি পোস্ট অফিসে এই সেবা শুরু করা হয়েছে। পরে বাংলাদেশের সব জেলার পোস্ট অফিসের মাধ্যমে সেবাটি পাওয়া যাবে।
বুধবার ঢাকার হেয়ার রোডে উপদেষ্টার কার্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে টেলিটক অনলাইন সিম সেবা চালু করা হয়। ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড সিম গ্রাহকের দরজায় পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের পোস্ট অফিস এবং তাদের বিলি বণ্টন সেবাকে একীভূত করেছে। এর ফলে অনলাইনে গ্রাহক তার সিম নম্বর পছন্দ ও অর্ডার করে তার সুবিধাজনক ডাকঘর থেকে অথবা বাসায় বসেও সংগ্রহ করতে পারবেন।
এখন থেকে গ্রাহক তার টেলিটকের পছন্দের সিমটি নিতে নির্দিষ্ট ডাকঘর থেকে ২৫০ টাকা এবং ঘরে বসে ৩০০ টাকায় সিম সংগ্রহ করতে পারবেন।
৪৬৩ দিন আগে
হোয়াটসঅ্যাপকে ২১৩.১৪ কোটি রুপি জরিমানা ভারতের
২০২১ সালের বিতর্কিত গোপনীয়তা সম্পর্কিত নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে মেটার মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপকে ২১৩.১৪ কোটি রুপি জরিমানা করেছে ভারতের প্রতিযোগিতা কমিশন (সিসিআই)।
প্রযুক্তি সাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে সোমবার এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।
একইসঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য মেসেজিং অ্যাপটিকে বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে অন্যান্য মেটা ইউনিটের সঙ্গে ব্যবহারকারীদের ডেটা শেয়ার করা বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালে অভিযোগ ওঠার পর ওই বছরই এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করে সিসিআই।
আরও পড়ুন: আইফোন চুরি প্রতিরোধে অ্যাপলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
অনুন্ধানে দেখা গেছে, ‘টেক ইট অর লিভ ইট’ গোপনীয়তা আপডেটে ব্যবহারকারীদের অস্বীকৃতি জানানোর কোনো সুযোগ না রেখেই ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে এই নীতি গ্রহণ করতে তাদের বাধ্য করে হোয়াটসঅ্যাপ।
হোয়াটসঅ্যাপের সংগৃহীত ব্যবহারকারীদের ডেটা মেটার অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার ফলে প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য বাধা তৈরি হয়েছে।
ভারতে মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪৫ কোটিরও বেশি।
৪৭২ দিন আগে
চাঁদের দূরবর্তী অংশের অজানা তথ্য দিলেন বিজ্ঞানীরা
নতুন একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে, কোটি কোটি বছর আগে চাঁদের রহস্যময় দূরবর্তী অংশেও আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল।
চীনের চ্যাং’ই-৬ প্রথম মহাকাশযান চাঁদের দূরবর্তী দিক থেকে পাথর ও ধুলা নিয়ে ফেরার পর তা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এ দাবি করেছেন। শুক্রবার নেচার অ্যান্ড সায়েন্স জার্নালে এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে।
পাথরগুলোর মধ্যে প্রায় ২৮০ কোটি বছরের পুরনো আগ্নেয়গিরির শিলার টুকরা খুঁজে পেয়েছে দুটি পৃথক গবেষক দল। সেগুলোর মধ্যে এমন একটি শিলার টুকরা পাওয়া গেছে যা ৪২০ কোটি বছর আগের।
অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রহ আগ্নেয়গিরি বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার হ্যামিল্টন বলেছেন, ‘(চাঁদের) ওই অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা নমুনা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি এমন একটি অঞ্চল যেখানকার বিষয়ে আমাদের কাছে তেমন কোনো তথ্য নেই।’
আরও পড়ুন: ইসরো চন্দ্রযান-৩: ভারতের চন্দ্র বিজয়ে নারী বিজ্ঞানীদের সাফল্য
পৃথিবী থেকে চাঁদের যে অংশ দেখা যায়, অর্থাৎ নিকটবর্তী অংশে যে একসময় সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ছিল, বিজ্ঞানীরা সে বিষয়ে আগেই জেনেছেন। ফলে একটি ধারণা সবসময়ই ছিল যে, দূরবর্তী অংশেও এমন আগ্নেয়গিরি থাকার সম্ভাবনা প্রবল। আর সাম্প্রতিক গবেষণা এ ধারণাকেই সত্যতা দিয়েছে।
চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষক কিউ-লি লি বলেন, নতুন অনুসন্ধানে চাঁদের দূরবর্তী অংশে ১০০ কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের তথ্য পাওয়া গেছে। এই প্রক্রিয়া কীভাবে এত দিন স্থায়ী হয়েছিল তা ভবিষ্যতের গবেষণায় জানা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
৪৭৬ দিন আগে
আইফোন চুরি প্রতিরোধে অ্যাপলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে ব্যবহৃত বস্তুটি হওয়ায় ক্রমশ মূল্যবান হয়ে উঠছে স্মার্টফোনগুলো। বিশেষ করে পুনঃবিক্রয় মূল্য এবং জনপ্রিয়তার কারণে রীতিমতো সম্পদতুল্য বস্তু আইফোনগুলো। তাই ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এই ফোনগুলো চুরি হওয়ার পরিমাণ। এই সমস্যার নিরসনে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের রয়েছে অত্যাধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। এই প্রতিরক্ষামূলক ফিচারগুলো চুরি করা ডিভাইস ব্যবহার বা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। ফলশ্রুতিতে, ব্যবহারকারীর ডেটাগুলোর চূড়ান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। চলুন, আইফোন চুরি প্রতিরোধে অ্যাপলের কয়েকটি কার্যকরী ফিচার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
আইফোন চুরি প্রতিরোধে কয়েকটি কার্যকরী নিরাপত্তা ফিচার
.
অ্যাক্টিভেশন লক
ইন্টারনেটের মাধ্যমে অ্যাপলের তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা বা ক্লাউড সার্ভিসটি আইক্লাউড নামে পরিচিত। এখানে আইফোনকে একটি অনন্য অ্যাপল আইডির সঙ্গে লিংক করা হয়। যখন ডিভাইসে থাকা ফাইন্ড মাই আইফোন ফিচারকে সক্রিয় করা হয়, তখন তার সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যায় অ্যাক্টিভেশন লক। এর ফলে চুরির পর ডিভাইসটি পুরো ফর্মেট দেয়া বা রিসেট করা হলেও, আসল মালিকের অ্যাপল আইডি ও পাসওয়ার্ড ছাড়া ফোন খোলা যাবে না। সঙ্গত কারণেই কল করা বা এসএমএস পাঠানোসহ বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের মতো কাজগুলো করা সম্ভব হবে না। এতে করে বিক্রয়ের জন্য একের পর এক হাত বদল হলেও প্রান্তিক গ্রাহক পর্যায়ে ফোনটি আর বিক্রয় উপযোগী থাকে না।
ফেস ও টাচ আইডি
মুখের ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ আইফোন আনলক করার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়গুলোর শীর্ষে রয়েছে। এখান ফেস আইডি মূলত উন্নত ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করার মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যবহারকারীর জন্য একটি অনন্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করে। বিষয়টি টাচ আইডির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যেখানে আঙ্গুলের ছাপও প্রতিটি মানুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হয়। তাই কোনোভাবে পিন কোড বা পাসওয়ার্ড যোগাড় করা সম্ভব হলেও এই বায়োমেট্রিক তথ্যগুলোর অভাবে ফোনটি আনলক করা দুষ্কর হয়ে পড়ে।
টপ লোড বনাম ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিন: জেনে নিন সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ
ফাইন্ড মাই নেটওয়ার্ক
অ্যাপলের এই উদ্ভাবনী ব্যবস্থাটি হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া আইফোন খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কার্যকর। এমনকি অফলাইনে থাকলেও এই ট্র্যাকিং সিস্টেমটি চালু থাকে। অবশ্য এখানে ব্লুটুথ অন থাকার প্রয়োজন হয়। ফাইন্ড মাই নেটওয়ার্ক প্রধানত কাছাকাছি থাকা অ্যাপল ডিভাইসের ব্লুটুথ সংকেত ব্যবহার করে হারিয়ে যাওয়া আইফোনের অবস্থান চিহ্নিত করে। এই বেনামী ও এন্ক্রিপ্ট করা সংকেতগুলো চোরের অলক্ষ্যেই ফোনের অবস্থানটি আসল মালিককে জানিয়ে দিতে পারে।
দূর থেকে ডেটা মুছে ফেলা
এখানে আগে থেকে আইফোনে ফাইন্ড মাই আইফোন অ্যাপটি চালু বা আইক্লাউডের সঙ্গে ফোনকে লিংক করে রাখতে হয়। এতে করে পরবর্তীতে চুরি হলে ব্যবহারকারীরা দূর থেকেই ডিভাইসে থাকা যাবতীয় সংবেদনশীল তথ্য মুছে ফেলতে পারে। ফলে কোনোভাবে ফোনের নিরাপত্তা বূহ্য ভাঙা সম্ভব হলেও ফোনের আসল মালিকের গোপনীয়তাগুলো প্রকাশিত হয় না। ফোনের ডেটা নিয়মতি আইক্লাউডে ব্যাকআপ রাখা হলে, ডিভাইস পুনরুদ্ধারের পর সেই মুছে ফেলা তথ্যগুলোও ফিরে পাওয়া যেতে পারে।
টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (টুএফএ)
পিন কোড বা পাসওয়ার্ডের ওপর নিরাপত্তার অতিরিক্ত স্তর যোগ করে এই টুএফএ সিস্টেম। এই পদ্ধতিতে অ্যাপল আইডিতে সফলভাবে সাইন ইন করার জন্য ডিভাইসে নিবন্ধিত ফোন নম্বরে একটি ভেরিফিকেশন কোড পাঠানো হয়। ফলে অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড জেনে যাওয়ার পরেও যাচাইকরণ কোড ছাড়া অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা সম্ভব হয় না। এই পদ্ধতিটি আইক্লাউড ও আইটিউন্সসহ অন্যান্য অ্যাপল পরিষেবাগুলোকে অননুমোদিত লগইন থেকে বিরত রাখে।
মোবাইল ফোন বিস্ফোরণ: কারণ ও বাঁচার উপায়
সিকিউর ইন্ক্লেভ
বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিকশিত হওয়ার পাশাপাশি তথ্যচুরির মতো সাইবার অপরাধগুলোতেও ব্যবহৃত হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। ফলে প্রায় ক্ষেত্রে পেশাদার হ্যাকারদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারকারীরা। এই পেশাদার চৌর্যবৃত্তি থেকে সাধারণ আইফোন ব্যবহারকারীকে নিরাপত্তা দিতেই ডিজাইন করা হয়েছে সিকিউর ইন্ক্লেভের। এটি অনেকটা ব্যক্তিগত লকারের মতো কাজ করে, যেখানে সংরক্ষিত থাকে ফেস আইডি, টাচ আইডি এবং অ্যাপল পে-এর মতো বায়োমেট্রিক তথ্যাদি। প্রত্যেকটি গোপনীয় তথ্য এখানে এমনভাবে এন্ক্রিপ্ট করা থাকে যে আপাত অবস্থায় এগুলোকে কোনো পাসকোড বলে মনে হয় না। ফলে হ্যাকিংয়ের জন্য এগুলো খুঁজে বের করাটাই যথেষ্ট কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। অবশ্য এই প্রচেষ্টাটি একেবারে ব্যর্থ হয় না; তবে তাতে অনেক বেশি সময় লাগে। আর এই সময়টি অ্যাপলের ট্র্যাকিং সিস্টেম কাজে লাগিয়ে ফোনের অবস্থান শনাক্ত করার জন্য যথেষ্ট।
পরিশিষ্ট
আইফোন চুরি প্রতিরোধে এই নিরাপত্তা ফিচারগুলো সামগ্রিকভাবে ডিভাইসের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলে। অ্যাক্টিভেশন লক, টুএফএ, এবং ফেস ও টাচ আইডি আইফোনকে অননুমোদিত অ্যাক্সেস থেকে রক্ষা করে। অপরদিকে ফাইন্ড মাই নেটওয়ার্ক ও রিমোট ডেটা ইরেজ ফোন চুরির পরেও ডেটা পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে। এগুলোর মধ্যে প্রায় সবগুলো ফিচারই আইফোন এক্স ও এর পরবর্তী মডেলগুলোতে পাওয়া যায়। তবে টাচ আইডি আইফোন ৬ থেকে ৮ এবং আইফোন এসই-এর ২য় প্রজন্ম ও তার পরবর্তী মডেলগুলোতে রয়েছে। উপরন্তু, সিকিউর এন্ক্লেভ ফিচারটি রয়েছে আইফোন ৫এসসহ তার পরবর্তী ভার্সনগুলোতে।
রয়্যাল এনফিল্ড ৩৫০ সিসির নতুন চারটি মোটরবাইক মডেলের আকর্ষণীয় সব ফিচার
৪৯৯ দিন আগে