জীবনধারা
ভিমরুলের কামড় কতটা ভয়ংকর? সাবধানতা ও করণীয়
বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব মানুষের বসবাসের পরিবেশকে অনায়াসেই প্রতিকূল করে তোলে। বোলতা ও মৌমাছির মতো কীটপতঙ্গগুলোর হুল ফোটানো বা কামড় থেকে প্রচণ্ড ব্যথা, এমনকি সংক্রমণের দিকে নিয়ে যেতে পারে। একসঙ্গে অনেকগুলোর আক্রমণ প্রাণঘাতী হতে পারে। যাদের পতঙ্গ নিয়ে গুরুতর অ্যালার্জি রয়েছে তাদের জন্য দু-একটির কামড়ই মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে। তবে এই বিষাক্ত পতঙ্গগুলোর মধ্যে আক্রমণাত্মক প্রকৃতি ও বিষের ভয়াবহতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভিমরুল। চলুন, বিষাক্ত পতঙ্গ ভিমরুল থেকে নিরাপদ থাকার উপায় এবং আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে করণীয় সম্বন্ধে জেনে নেওয়া যাক।
ভিমরুল কতটা বিপজ্জনক
মূলত বৈশিষ্ট্যগত কারণে ভিমরুলের ভয়াবহতা অন্য সব কীটপতঙ্গ থেকে বেশি। এই বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে আকার-আকৃতি, একাধিকবার কামড়ানোর প্রবণতা, প্রতি কামড়ে নির্গত বিষের তীব্রতা এবং তাতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। চলুন, এই বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা যাক।
ভিমরুল কেন অন্যান্য বিষাক্ত পোকামাকড় থেকেও বিপজ্জনক
প্রায় সময় বোলতার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হলেও ভিমরুল একটি স্বতন্ত্র প্রজাতি। এরা বোলতার সমগোত্রের; তবে আকারের দিক থেকে এগুলো অপেক্ষাকৃত বড় হয়ে থাকে। এগুলো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে আঁকড়ে পড়ে থাকে। নিজেদের আবাস বাঁচানোর ক্ষেত্রে এরা ভয়ংকর রকম রক্ষণাত্মক হয়। যার কারণে যেকোনো পরিস্থিতে হুমকি অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে শিকারের প্রতি ঝাঁকে ঝাঁকে আক্রমণ চালায়। এতে শিকারের শরীরে বেশ অল্প সময়ের মধ্যেই অসংখ্য হুল ফোটে।
সমগোত্রের অন্যান্য কীটপতঙ্গের হুল ফোটানো বা কামড়ানোর ক্ষেত্রে বৈশিষ্ট্যগত সীমাবদ্ধতা থাকে। তাই শুধু প্রাণনাশের হুমকি থাকলেই সেগুলো মরিয়া হয়ে আক্রমণ করে। কিন্তু ভিমরুলে এমন কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। কোনো রকম শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই এগুলো একের পর এক হুল ফোটাতে পারে। এমনকি এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিমার জন্য অত্যন্ত নগণ্য কারণই যথেষ্ট।
আরো পড়ুন: থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ
ভিমরুলের কামড়ে বিষের তীব্রতা
যে ধরনের পোকামাকড় হুলের মাধ্যমে বিষ ছড়ায়, সেগুলোর মধ্যে ভিমরুলের বিষের শক্তি সর্বাপেক্ষা বেশি। এগুলোর বিষে অ্যাসিটাইলকোলিনসহ বিষাক্ত কিছু পদার্থের মিশ্রণ থাকে। একটি ভিমরুল কামড়ের ফলে মানুষের দেহে ২ থেকে ৩ মিলিগ্রাম বিষ প্রবেশ করে। সাধারণত মানবদেহের প্রতি কেজি ওজনে ১০ মিলিগ্রাম বিষ ঢুকলে মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে। অর্থাৎ ৬০ কেজি ওজনের সুস্থ একজন ব্যক্তির দেহে ৬০০ মিলিগ্রাম বিষ প্রবেশ করলেই তার মৃত্যু হবে। আর বলাই বাহুল্য যে, একটি ভিমরুল শুধু একবার হুল ফুটিয়েই ক্ষান্ত হয় না।
ভিমরুলের কামড়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি
অ্যাসিটাইলকোলিনসহ বিষাক্ত পদার্থ শরীরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিকভাবেই কামড়ের স্থানটি ফুলে গিয়ে লাল বর্ণ ধারণ করে। তারপর ধীরে ধীরে সেখানে চুলকানি বাড়তে থাকে। এভাবে একে একে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, অতঃপর কিডনি বা লিভারের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে সারা দেহ ক্রমশ অবনতির দিকে এগোতে থাকে।
যাদের অ্যালার্জি আছে তাদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যের এই অবনতি আরও দ্রুততর হয়। চিকিৎসা শাস্ত্রে এই অবস্থা অ্যানাফিল্যাক্সিস নামে পরিচিত। এতে শ্বাসনালী ফুলে যেতে পারে, শ্বাসকষ্ট হতে পারে এবং রক্তচাপ দ্রুত হ্রাস পেতে পারে। অ্যানাফিল্যাক্সিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি থাকে।
আরো পড়ুন: মুখের দুর্গন্ধ দূর করার ঘরোয়া উপায়
ভিমরুলের কামড় থেকে নিরাপদ থাকার উপায়
.
ভিমরুলের আবাসস্থলগুলো এড়িয়ে চলা
সাধারণত গাছের ডালে এই পতঙ্গের বসতি বেশি দেখা যায়। এছাড়াও দালানের বাইরের দেওয়ালে সানশেডে, টালি দেওয়া ছাতের ফাঁকে এরা বাসা করে। গ্রীষ্মের শেষের দিকে এবং শরতের প্রথম দিকে এরা সংখ্যায় বেশি থাকে। সেই সঙ্গে এই মৌসুমগুলোতে বেশ সক্রিয়ও থাকে এরা। এই সময়ে বাড়ির আশেপাশে এদের আবাসস্থলের উপস্থিতি টের পেলেই সাবধান হয়ে যাওয়া উচিত।
উজ্জ্বল রঙের পরিধেয় এবং কড়া সুগন্ধি ব্যবহার না করা
ভিমরুল উজ্জ্বল রঙ বিশেষ করে হলুদ রঙ এবং কড়া সুগন্ধির প্রতি আকৃষ্ট হয়। এছাড়া মৌমাছির মতো এরাও অমৃতের জন্য ফুলের দিকে ধাবিত হয়। তাই ঘরের ভেতর বাগান থাকাটাও বিপজ্জনক। উপরন্তু, পারফিউম, কোলোন বা সুগন্ধি লোশনের তীব্র ঘ্রাণ শুঁকে ভিমরুল কাছাকাছি চলে আসতে পারে। ঠিক একই কারণে খাবারের মিষ্টি গন্ধও এদের আকৃষ্ট করে। তাই পরিধানের ক্ষেত্রে সাদা বা হাল্কা রঙ এবং ব্যবহারের জন্য হাল্কা সুগন্ধি বেছে নেওয়া উচিত।
খাবার ও পানীয় ঢেকে রাখা
মিষ্টি গন্ধ যেন চারপাশ ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য খাবার বা পানীয় ঢেকে রাখা জরুরি। বিশেষ করে বাইরে খোলা আকাশের নিচে ভোজের সময় এই বিষয়টি খেয়াল রাখা দরকার। এক্ষেত্রে সিল করা পাত্র ব্যবহার করা উত্তম। আর খাওয়া শেষে অবশ্যই সেগুলো ডাস্টবিনে ফেলে তার ওপর ঢাকনা লাগিয়ে দিতে হবে। এর জন্য কোনোভাবেই উন্মুক্ত ডাস্টবিন ব্যবহার করা সমীচীন নয়।
আরো পড়ুন: রক্তের গ্রুপ: কে কাকে রক্ত দিতে পারবে?
প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরিধান করা
বাগান বা পার্কের মতো স্থানে বিচরণের সময় প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরা আবশ্যক। লম্বা হাতার শার্ট, লম্বা প্যান্ট, গ্লাভ্স ও ক্যাপ প্রভৃতির মাধ্যমে শরীরের ত্বক তুলনামূলকভাবে কম উন্মুক্ত হয়।
এগুলো ভিমরুল দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। উষ্ণ আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হাল্কা ঢিলেঢালা কাপড় বেছে নেওয়া যেতে পারে। এমনকি জুতা পরার ক্ষেত্রেও কেডসের মতো পুরো পা ঢেকে রাখে এমন কিছু জুতাগুলো পড়া উচিত।
প্রাকৃতিক প্রতিরোধক ব্যবহার করা
সিট্রোনেলা, ইউক্যালিপ্টাস ও পেপারমিন্টের তেলগুলোতে ভিমরুল প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলো পানির সঙ্গে মিশিয়ে বাড়ির আঙিনা বা বাগানে স্প্রে করা যায়। চিলেকোঠা, স্টোর রুম, বা বাইরের সিঁড়ি ঘরে সিট্রোনেলা মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখলে তা ভিমরুলকে দূরে রাখতে পারে।
বাড়ির আশেপাশে ভিমরুলের বসতি ধ্বংস করা
ভিমরুলের উপদ্রব থেকে বাঁচার সর্বোত্তম পন্থা হলো তাদের সমূলে উৎপাটন করা। এর জন্য বাড়ির আঙ্গিনায় মিষ্টি টোপ দিয়ে ফাঁদ তৈরি করতে হবে। ফাঁদগুলো জনাকীর্ণ স্থান থেকে যথেষ্ট দূরে রাখা উচিত। অন্যথায় কোলাহলপূর্ণ জায়গায় ফাঁদ পাতা মানে উল্টো মানুষকে কামড়ানোর আশঙ্কা বাড়ে। এর জন্য বসন্তের প্রথম দিকের মাসগুলোকে বেছে নেওয়া যায়। কারণ এ সময় ভিমরুল সংখ্যা সবেমাত্র বাড়তে শুরু করে।
আরো পড়ুন: বন্যা পরবর্তী পানিবাহিত রোগ থেকে সতর্ক থাকার উপায়
ভিমরুল কামড়ালে করণীয়
.
দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে পড়া
ভিমরুল কামড়ানোর পর সঙ্গে সঙ্গেই প্রাণঘাতী পতঙ্গগুলোর কাছ থেকে দূরে সরে পড়তে হবে। অন্যথায় একাধিক কামড় খাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাছাড়া আশেপাশে ভিমরুলের বাসা থাকতে পারে। সেখান থেকে আরও ভিমরুল আক্রমণ চালাতে পারে।
মূলত একবার কামড়ানোর পর ভিমরুলের শরীর থেকে ফেরোমোন নিঃসৃত হয়। এই রাসায়নিক শিকারের ব্যাপারে অন্যান্য ভিমরুলদের জানান দেয়। ফলে তারাও আক্রমণ করতে উদ্দত হয়।
ক্ষত স্থান পরিষ্কার করে তাতে ঠান্ডা কম্প্রেস লাগানো
সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাবান ও পানি দিয়ে ক্ষত স্থানটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। অতঃপর একটি ঠান্ডা কম্প্রেস বা কয়েকটি বরফ টুকরা একটি কাপড়ে পেঁচিয়ে জায়গাটিতে চেপে ধরতে হবে। এই শীতল পরশ ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করবে, ব্যথা উপশম করবে এবং বিষের বিস্তার রোধে সহায়তা করবে।
আরো পড়ুন: এমপক্সের কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
ব্যথা উপশমকারী ব্যবহার
তাৎক্ষণিকভাবে ব্যথা কমানোর জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে। যেমন কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল, তুলসি পাতার রস, অ্যালোভেরা জেল, ইউক্যালিপ্টাস তেল প্রভৃতি ক্ষত স্থানে লাগানো যেতে পারে। এগুলোতে থাকা প্রদাহবিরোধী উপাদান ব্যথা, জ্বালাভাব, চুলকানি, ও ফোলা অবস্থা কমাতে সাহায্য করে।
এছাড়া অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ও বেকিং সোডার মিশ্রিত পেস্ট ব্যবহার করা যায়। ভিনেগারে সাধারণত বিষের অ্যাসিড নিষ্ক্রিয় করার ক্ষমতা থাকে। শুধু ভিনেগার তুলোয় ভিজিয়েও আক্রান্ত স্থানে আলতো করে বুলিয়ে দেওয়া যায়।
ফোলা ভাব ও ব্যথা কমাতে কার্যকর একটি ওষুধ হচ্ছে অ্যান্টিহিস্টামিন বা আইবুপ্রোফেন। তবে ব্যবহারের আগে ঠিক কতটুকু ডোজ ব্যবহার করতে হবে সে ব্যাপারে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
আক্রান্ত স্থান উঁচু করে রাখা
হাতে বা পায়ে কামড়ালে বিষ যেন সারা দেহে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ক্ষত স্থানযুক্ত অঙ্গটিকে উঁচু করে ধরতে হবে। এতে আক্রান্ত জায়গাটির অভ্যন্তর ভাগে বিষ জমাট বাঁধার গতি কমে গিয়ে ফুলে যাওয়ার তীব্রতা হ্রাস পায়। একই সঙ্গে উঁচু করে রাখলে অঙ্গটিতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা নিরাময় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
আরো পড়ুন: অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়
যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হওয়া
গুরুতর প্রভাবগুলো সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব হয় না। যেমন অ্যানাফিল্যাক্সিসের লক্ষণগুলো কেবল একজন বিশেষজ্ঞই ধরতে পারেন। এ অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে এপিনেফ্রিন অটো-ইনজেক্টর (এপিপেন) ব্যবহারের প্রয়োজন পড়তে পারে।
তাছাড়া অ্যালার্জি না থাকলেও যাদের শরীরে একাধিক হুল ফুটেছে তাদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই অবিলম্বে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিকটস্থ চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া অপরিহার্য।
পরিশিষ্ট
ভিমরুলের কামড়ে তীব্র ব্যথা ও ফুলে যাওয়া থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পর্যায়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এই বিষাক্ত পতঙ্গ থেকে নিরাপদে থাকতে এগুলোর আবাসস্থল থেকে দূরে থাকা এবং প্রয়োজনে এগুলোর বাসা ধ্বংস করা জরুরি। উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরিধান বা কড়া সুগন্ধি মাখা ত্যাগ করা এবং খাবার ও পানীয় ঢেকে রাখা উচিত। কেননা উজ্জ্বল রঙ ও কড়া গন্ধের মাধ্যমে ভিমরুল আকৃষ্ট হয়। ভিমরুল দ্বারা আক্রান্ত হলে কামড়ের স্থানটি পরিষ্কার করা, এবং সর্বাত্মক ভাবে জায়গাটি ঠাণ্ডা রাখা দরকার। এ অবস্থায় নানা রকম স্বাস্থ্য জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে, তাই অনতিবিলম্বে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা প্রদান আবশ্যক।
আরো পড়ুন: এসির বাতাসে শিশুকে নিরাপদ রাখবেন যেভাবে
৫৯৮ দিন আগে
ঢাকা ও নিকটবর্তী এলাকার ১০টি ঐতিহাসিক মন্দির
জনাকীর্ণ নগরী ঢাকার শত বছরের ইতিহাসের এক বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে এর আনাচে-কানাচে এখনও টিকে থাকা মন্দিরগুলো। তীর্থস্থানগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতিফলন। একই সঙ্গে স্থাপনাগুলো তৎকালীন সময়ের স্থাপত্যশৈলীর নীরব সাক্ষী হয়ে আছে। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে অধিকাংশগুলোতে এখনও পালিত হয় ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান। চলুন, ঢাকা ও নিকটবর্তী এলাকার এমনি ১০টি মন্দির সম্বন্ধে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ঢাকা ও আশেপাশের এলাকার ১০টি প্রাচীন মন্দির
.
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির
রাজধানীর পলাশীতে অবস্থিত বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহত্তম এই উপাসনালয়টি ঢাকার প্রথম হিন্দু মন্দির। এর গোড়াপত্তন হয় সেন রাজবংশের সম্রাট বল্লাল সেনের হাতে ১২শ শতকে।
কথিত আছে যে, বল্লাল সেনের জন্ম হয় বুড়িগঙ্গার এক জঙ্গলে। সেখানে বেড়ে ওঠার সময় একদা তিনি এক দুর্গা মূর্তি পান। তার বিশ্বাস ছিল যে, জঙ্গলের যাবতীয় বিপদ থেকে তাকে রক্ষার পেছনে রয়েছে এই দেবী। পরবর্তীতে রাজ ক্ষমতায় বসার পর বল্লাল সেন এই স্থানে একটি মন্দির স্থাপন করেন। বনের ভেতর আবৃত অবস্থায় ছিল বলে এই দেবীকে ডাকা হতো ‘ঢাকেশ্বরী’ তথা ‘ঢাকা ঈশ্বরী’। অতঃপর মন্দিরটিও এই নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করে।
কয়েকটি মন্দির ও সৌধের সমন্বয়ে গঠিত ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মূল ভবনগুলোর রঙ লাল ও উজ্জ্বল হলুদাভ। এখানকার চারটি শিব মন্দিরের প্রত্যেকটি একই নকশায় গড়া।
প্রতি বছর রাজধানীর দুর্গা পূজার সব থেকে বড় আয়োজনটি হয় এখানে। এছাড়া জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রাও শুরু হয় এই মন্দির প্রাঙ্গণ থেকেই।
গুলিস্তান বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজি অটো, রিকশা বা পাবলিক বাসে করে সরাসরি আসা যায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে।
আরো পড়ুন: রাজশাহীর পুঠিয়া মন্দির কমপ্লেক্স ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
জয় কালী মন্দির
পুরান ঢাকার ঠাটারি বাজার এবং ওয়ারীর ঠিক মাঝামাঝি ২৪ নম্বর জয় কালী মন্দির সড়কটির কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই মন্দির।
প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো এই উপাসনালয়টি তৈরি হয় ১০০১ বঙ্গাব্দে তৎকালীন নবাব তুলসী নারায়ণ ঘোষ এবং নব নারায়ণ ঘোষের তত্ত্বাবধানে।
মন্দিরের মোজাইক করা মেঝে আর টালি করা দেয়ালে খচিত রয়েছে হিন্দু দেব-দেবীর ছবি। মন্দিরের প্রবেশ দ্বারে দেখা যায় স্টেইনলেস স্টিলে তৈরি ঐশ্বরিক প্রতীক ‘ওম’। পুরো স্থাপনাটি মূলত একটি বর্গাকার কাঠামো, যার কলামগুলো আপাদমস্তক যথেষ্ট ভারী ও পুরু উপাদান দিয়ে গড়া। আর উপরের দেয়ালগুলো করা হয়েছে খিলান আকৃতির।
গুলিস্তান বাস-স্টপেজ থেকে এই তীর্থস্থানটি ১৫ মিনিটের পায়ে হাঁটা পথ।
আরো পড়ুন: দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজীর মন্দির ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
রমনা কালী মন্দির
বাংলা একাডেমির বিপরীতে ও ঢাকার রমনা পার্কের বহির্ভাগে অবস্থিত গোটা মন্দির কমপ্লেক্সের আয়তন প্রায় ২ দশমিক ২৫ একর।
জনশ্রুতি অনুসারে, আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে গোপালগিরি নামের এক সন্ন্যাসী ঢাকায় সাধন-ভজনের একটি আখড়া গড়ে তোলেন। এই আখড়াতেই আরও ২০০ বছর পর আরেক বড় সাধু হরিচরণ গিরি নির্মাণ করেন মূল রমনা কালীমন্দির।
সেই থেকে মন্দিরের স্থাপত্য শৈলী বহু পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গেছে। মন্দিরের সামনে বড় দিঘিটি একসময় দর্শনার্থী ও উপাসকদের সাঁতার কাটার জন্য বেশ জনপ্রিয় ছিল। প্রধান অনুষ্ঠান কালী পূজা হলেও এখানে দুর্গাপূজাও বেশ আড়ম্বরের সঙ্গে পালিত হয়।
গুলিস্তান থেকে বাসে করে মৎস্য ভবন পর্যন্ত এসে অথবা রিকশা যোগে গুলিস্তান থেকে সরাসরি যাওয়া যায় রমনা কালীবাড়িতে।
আরও পড়ুন: কলকাতায় কেনাকাটার জনপ্রিয় স্থান
৬০৩ দিন আগে
এসির বাতাসে শিশুকে নিরাপদ রাখবেন যেভাবে
উষ্ণ মৌসুমের ভয়াবহ উত্তাপ থেকে স্বস্তির জন্য এখন একটি অপরিহার্য গৃহস্থালি যন্ত্র এসি (এয়ার কন্ডিশনার) বা এয়ার কুলার। এটি শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে সবার জন্য প্রযোজ্য হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন। শিশুদের প্রাথমিক শারীরতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য পরিবেশের যে কোনো প্রতিক্রিয়ার জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত নয়। যার ফলশ্রুতিতে দীর্ঘক্ষণ যাবত ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই এসি ব্যবহারের সময় সার্বিক দিক থেকে তাদের আরামপ্রদ পরিবেশ ও নিরাপত্তা বজায় রাখা জরুরি। চলুন, এসিতে শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ ও তা থেকে বাঁচতে করণীয়গুলো সম্বন্ধে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
এসির বাতাসে শিশুদের ঠান্ডা লেগে যায় কেন?
এসি থেকে নির্গত জীবাণু (ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস)
শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য এসির সবচেয়ে গুরুতর বিষয়টি হচ্ছে এর বাতাসের সঙ্গে নির্গত জীবাণু। বিশেষত সময়মতো পরিষ্কার করা না হলে এসির বাতাস রীতিমতো বিষাক্ত হয়ে যায়। কারণ দীর্ঘদিন নোংরা থাকা এসিতে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ফাঙ্গাস জন্ম নেয়। এই জীবাণুগুলো বাতাসে সঞ্চালিত হয়ে শিশুদের দেহে প্রবেশ করে। এর ফলে শিশুদের নানা ধরনের বায়ুবাহিত রোগে সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
শিশুর দুর্বল শারীরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
এসি থেকে ক্রমাগত ঠান্ডা বাতাসে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো শিশুরা অভ্যস্ত হতে পারে না। এ মূল কারণ হচ্ছে এমন পরিবেশের জন্য শিশুদের শারীরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনও পরিপক্ক নয়। ভয়ের বিষয় হচ্ছে- এসির শীতলতার সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়ার পরিবর্তে তাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা উল্টো বরং কমে যেতে পারে। এটি ক্রমশ তাদের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষাকে দুর্বল করে বিধায় তারা সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়।
আরো পড়ুন: এয়ার কন্ডিশনার ছাড়াই গরমে ঘর ঠান্ডা রাখার কার্যকরী উপায়
তাপমাত্রার আকস্মিক ওঠানামা
অনেকটা সময় এসি রুমে থাকার পর হঠাৎ সেখান থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাইরের গরম বাতাস রীতিমত হামলে পড়ে। এরকম দ্বৈত আবহাওয়া শিশুদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। বিষয়টি বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে এসি রুমে প্রবেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাপমাত্রার এই আকস্মিক ওঠা-নামা শিশুর শরীরকে সর্দি-কাশিসহ অন্যান্য অসুস্থতার জন্য আরও সংবেদনশীল করে তোলে।
এসির বাতাসের ফলে সৃষ্ট শুষ্কতা
এয়ার কুলার ও এসির শুষ্ক বাতাস ঘরের আর্দ্রতাকে আশঙ্কাজনক হারে কমিয়ে দেয়। এই শুষ্কতা সরাসরি শিশুর নাসারন্ধ্র ও গলাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা বেষ্টনী হিসেবে কাজ করে শ্লেষ্মা ঝিল্লি। শুষ্ক বাতাস এই বেষ্টনীকে দুর্বল করে দিতে পারে। ফলে শিশুদের শ্বাসকষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
আরো পড়ুন: শিশুকে ডেঙ্গু থেকে রক্ষার উপায়
৬০৩ দিন আগে
তুলনামূলক কম দামে বিমানের টিকিট কেনার কৌশল
উচ্চশিক্ষা, চাকরি ও ভ্রমণসহ নানা কাজে বিদেশ যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিমানের টিকিট কেনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এবং সবচেয়ে কম সময় লাগে বলে বিদেশগামী মানুষ ভ্রমণের জন্য আকাশপথ বেছে নেয়। কিন্তু বিমান ভাড়ার চওড়া মূল্যের কারণে বাজেট-সচেতন ভ্রমণকারীদের অভিজ্ঞতাটি খুব একটা সুখকর হয় না। তাই ব্যয়বহুল যাত্রাপথের চাপ এড়াতে আগে থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে কিছু কৌশল অবলম্বন করা জরুরি। সাশ্রয়ী বিকল্পের এই অনুসন্ধান অর্থসংকটের বিড়ম্বনা অনেকটাই লাঘব করতে পারে। চলুন, অপেক্ষাকৃত কম দামে ফ্লাইট বুকিং দেওয়ার দশটি কার্যকর কৌশল সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
স্বল্পমূল্যে বিমানের টিকিট কেনার ১০টি টিপস
অগ্রিম টিকিট বুকিং
বিমান ভাড়ায় খরচ বাঁচানোর সাধারণ এবং কার্যকরি উপায় হচ্ছে অগ্রিম ফ্লাইট বুক করা। এয়ারলাইন্সগুলোর সাধারণত প্রস্থানের সর্বোচ্চ ১১ মাস আগ পর্যন্ত টিকিট প্রকাশ করে। যত আগে টিকিট সংগ্রহ করা যায় ততোই ভালো। তবে এর সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ভ্রমণের তারিখের ন্যূনতম ১ থেকে ৩ মাস। এই শেষ সময়ের আগেই বুকিং দেওয়া হলে নিজের পছন্দসই সিট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। টিকিট ছাড়ার সময় থেকে চালু হওয়া প্রচারণামূলক ভাড়া এবং ছাড়ের সুবিধাগুলোর মেয়াদ সাধারণত এই সময়ে এসেই শেষ হয়।
এই সুযোগগুলো পাওয়ার জন্য যেকোনো উদ্দেশ্যে ভ্রমণের জন্য পর্যাপ্ত সময় নিয়ে আগে থেকে পরিকল্পনা রাখা উচিত।
আরো পড়ুন: ভুটান ভ্রমণ: জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান, যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ইন্টারনেট ব্রাউজারের ইন্কগ্নিটো মুড ব্যবহার করা
অনেক ট্রাভেল ওয়েবসাইট যাত্রীদের টিকিট খোঁজার বা কেনার ইতিহাস ট্র্যাক করে। কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো এয়ারলাইন্সের একই ফ্লাইট বা রুট বারবার সার্চ করলে এই অনুসন্ধান কুকিজ আকারে তার ব্যবহৃত ব্রাউজারে জমা হয়। এতে করে সেই এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীর সার্চ করা রুটগুলো দেখে তার চাহিদা বুঝতে পারে। এর ফলে তারা সেই নির্দিষ্ট রুটে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। ফলে ভাড়া আরও বেড়ে যাওয়ার আগেই সেই যাত্রী দ্রুত টিকিট কিনে ফেলার জন্য তাগাদা অনুভব করেন। এমন মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার বশবর্তী হয়ে অধিকাংশরাই টিকিট কিনেও ফেলেন।
কিন্তু ইন্কগ্নিটো মুডে গিয়ে এই সাইটগুলো ব্রাউজ করলে সেই ট্র্যাকিং সিস্টেম আর কাজ করে না। ফলে একজন ব্যবহারকারী যেকোনো সময়ের স্বাভাবিক দামটি দেখতে পারেন। এই পদ্ধতিতে একসঙ্গে কয়েকটি টিকিট বিক্রি প্লাটফর্মের দামগুলো পক্ষপাতহীনভাবে যাচাই করা যায়।
এই সুবিধাটি পাওয়ার জন্য যেকোনো ব্রাউজারের একদম ওপরে ডান কোণে উল্লম্বভাবে থাকা তিনটি বিন্দুতে ক্লিক করতে হবে। অতপর ড্রপডাউন লিস্ট থেকে বাছাই করতে হবে ‘নিউ ইন্কগ্নিটো উইন্ডো। অথবা কিবোর্ড থেকে এক সঙ্গে প্রেস করতে হবে কন্ট্রোল, শিফ্ট এবং এন বোতাম তিনটি। এরপর নতুন যে উইন্ডোটি ওপেন হবে এখানেই পাশাপাশি একাধিক ট্যাবে ওপেন করা যাবে বিভিন্ন ট্র্যাভেল ওয়েব পোর্টাল।
আরো পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপ ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
৬১২ দিন আগে
কুমার নদে ১২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচে মানুষের ঢল
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার তেলজুড়ী এলাকায় কুমার নদে ১২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বছরের এই উৎসবের অপেক্ষায় থাকে ওই এলাকাসহ আশপাশের কয়েক উপজেলার নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। নৌকা বাইচ দেখতে নদের দুই পাড়ে অর্ধলক্ষাধিক নারী-পুরুষের ঢল নামে।
বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ব্যবসায়ী আরডিডি গ্রুপের কর্নধার আজিজুল আকিল ডেভিড শিকদার।
ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে ঘিরে তিন দিনব্যাপী গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বাইচে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোটবড় ১০টি নৌকা অংশ নেয়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জেলার বোয়ালমারী উপজেলার তেলজুড়ি বাজারসংলগ্ন এলাকায় কুমার নদের দুই পাড়ে অর্ধলক্ষাধিক নারী-পুরুষ বিভিন্ন সাজে দাঁড়িয়ে নৌকা বাইচ উপভোগ করছেন। অনেকেই নৌকা ও ট্রলার ভাড়া করে এই উৎসব দেখছেন। নৌকা বাইচ উপলক্ষে মেলায় মিষ্টির দোকান, ইলিশের দোকান, খেলনা ও বিভিন্ন খাবার দোকানের পসরা সাজিয়েছে দোকানিরা। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অঞ্চলের জামাইয়েরা বউ নিয়ে শ্বশুরবাড়ি এসেছেন। আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজন নিয়ে মেতে ওঠেন আনন্দে।
নৌকা বাইচ দেখতে আসা তেলজুড়ি গ্রামের ও পাংশা উপজেলার গৃহবধূ শাহিদা বেগম বলেন, প্রতি বছরের এইদিনে কুমার নদে নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলা স্বামীর বাড়ি থেকে ছুটে আসি। মেয়েরা জামাই নিয়ে বাবার বাডিতে আসেন। প্রতিবারের মতো স্বামী সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে নৌকা বাইচ দেখতে এসেছি। মেলা থেকে অনেক কিছু কেনাকাটা করেছি।
মেলা দেখতে আসা শিক্ষার্থী নুর নাহার জানান, বান্ধবীদের নিয়ে নৌকা বাইচ দেখতে এসেছি। মেলায় ঘুরে উপভোগ করছি। খুব আনন্দ লাগছে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামের ধরলায় নৌকা বাইচে ব্যতীক্রমী পুরস্কার
৬১৬ দিন আগে
রাজশাহীর পুঠিয়া মন্দির কমপ্লেক্স ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
শত বছরের ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতিফলক দেশের মন্দিরগুলো। এগুলোর কোনো কোনোটির স্থাপত্য সৌন্দর্য্য অভিভূত করে দর্শনার্থীদের। কোনো কোনোটির ধ্বংসাবশেষ মনে করিয়ে দেয় একে ঘিরে শত শত চড়াই-উৎরাইয়ের কিংবদন্তির কথা। এসব বৈচিত্র্যপূর্ণ অনুভূতির সবগুলো একসঙ্গে এসে ধরা দেবে রাজশাহীর পুঠিয়া মন্দির কমপ্লেক্স ভ্রমণে গেলে। কারণ দেশের ভেতর এই একমাত্র অঞ্চলে সর্বাধিক সংখ্যক মন্দিরের সন্নিবেশ ঘটেছে। অল্প দূরত্বে থাকা ছোট-বড় স্থাপনাগুলো ধারণ করে রয়েছে গোটা একটি শতাব্দীকে।
চলুন, দেশের এই প্রত্নতাত্ত্বিক দর্শনীয় স্থানটিতে ভ্রমণ নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
পুঠিয়া মন্দির কমপ্লেক্সের অবস্থান
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনেকগুলো পুরাতন মন্দিরের সমন্বয়ে গঠিত এই কমপ্লেক্সটির অবস্থান রাজশাহীর পুঠিয়ায়। রাজশাহী থেকে নাটোর অভিমুখী মহাসড়কের কাছে বিশাল পরিসর জুড়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছড়িয়ে আছে মন্দিরগুলো। জায়গাটি পড়ছে রাজশাহীর ২৩ কিলোমিটার পূর্বে এবং নাটোর থেকে ১৬ কিলোমিটার পশ্চিমে।
পুঠিয়া মন্দিরগুলোর ইতিহাস
১৭ শতকের এই অঞ্চলের প্রভাবশালী রাজবংশের নাম পুঠিয়া, যাদের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছিল এই মন্দিরগুলো। ১৮ এবং ১৯ শতক জুড়ে তাদের শাসনামলে নির্মিত হওয়ায় পুঠিয়া রাজবংশের নামেই অভিহিত হয় এই মন্দিরগুলো। ধর্মীয় কার্যাবলির পাশাপাশি এগুলো ব্যবহৃত হতো তৎকালীন জমিদারের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে।
পুঠিয়া অধ্যুষিত এলাকা ছিল ব্রিটিশ বাংলার দ্বিতীয় বৃহত্তম সাম্রাজ্য। ১৭৭৮ সালে ভুবনেন্দ্র নারায়ণের নির্দেশে নির্মাণ করা হয় দোল মন্দির। ১৭৯০ থেকে ১৮০০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত হয় চৌচালা ছোট গোবিন্দ মন্দির। ১৮২৩-এ রাণী ভুবনময়ী দেবী শিব সাগরের উপকণ্ঠে গড়ে তোলেন ভুবনেশ্বর শিব মন্দির। পঞ্চরত্ন গোবিন্দ মন্দিরের গোড়াপত্তন হয় ১৯ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে।
আরো পড়ুন: দিনাজপুরের রামসাগর দীঘি ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
বর্তমানে পর্যটকদের নিকট সর্বাধিক জনপ্রিয় পুঠিয়া রাজবাড়ি নির্মাণকাল ১৮৯৫ সাল। তৎকালীন পুঠিয়ার রানী হেমন্ত কুমারী দেবী তার শাশুড়ি শরৎ সুন্দরী দেবীকে উৎসর্গ করে নির্মাণ করেছিলেন মন্দিরটি। সে সময় স্থানীয়ভাবে এটিকে পাঁচআনি প্রাসাদ নামে ডাকা হত।
ঢাকা থেকে রাজশাহীর পুঠিয়া মন্দির কমপ্লেক্স যাওয়ার উপায়
সড়কপথে বাসে যেতে হলে ঢাকার কল্যাণপুর, গাবতলী, মহাখালী, বা আব্দুল্লাহপুর থেকে রাজশাহীগামী বাসে উঠতে হবে। এসি কোচগুলোতে সম্ভাব্য ভাড়া মাথাপিছু ৯০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। আর নন-এসিতে ভাড়া পড়তে পারে জনপ্রতি ৭১০ থেকে ৭৫০ টাকা।
ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন সময়ে রাজশাহীর উদ্দেশে যাত্রা করে। এগুলোতে শ্রেণিভেদে ভাড়া নিতে পারে সর্বনিম্ন ৩৪০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৭৩ টাকা পর্যন্ত।
দ্রুত সময়ে পৌঁছানোর জন্য উত্তরা বিমান বন্দর থেকে আকাশপথেও যাওয়া যেতে পারে। তবে এই যাত্রাপথে ভাড়া বেশ ব্যয়বহুল; জনপ্রতি প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
আরো পড়ুন: সুন্দরবনের কটকা সমুদ্র সৈকত: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক ভ্রমণ খরচ
বাসে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে পুঠিয়া বাসস্ট্যান্ড নেমে যাওয়া যায়। তারপর সেখান থেকে মন্দির কমপ্লেক্সের দূরত্ব ৫ থেকে ১০ মিনিটের পায়ে হাঁটা পথ।
ট্রেন বা বিমানের ক্ষেত্রে স্টেশন বা বিমানবন্দর থেকে লোকাল বাসে করে পুঠিয়ায় যেতে হবে। এছাড়া নাটোরগামী আন্তঃনগর বাস বা রিজার্ভ গাড়িতে করেও পুঠিয়া যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
পুঠিয়া মন্দির কমপ্লেক্স ভ্রমণে কি কি দেখবেন
এখানকার পুরাকীর্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে পাঁচআনি রাজবাড়ী বা পুঠিয়া রাজবাড়ী, চারআনি রাজবাড়ী এবং ১৩টি মন্দির।
এগুলো হলো- বড় শিব মন্দির, রথ মন্দির, দোল মন্দির, পঞ্চরত্ন গোবিন্দ মন্দির, ছোট আহ্নিক মন্দির, বড় আহ্নিক মন্দির, গোপাল মন্দির, ছোট গোবিন্দ মন্দির, কৃষ্ণপুর গোবিন্দ মন্দির, কৃষ্ণপুর শিব মন্দির, কেষ্ট ক্ষ্যাপার মঠ, বড় গোপাল মন্দির ও জগদ্ধাত্রী মন্দির।
অধিকাংশ মন্দিরেরই বিশেষত্ব হচ্ছে সূক্ষ্ম পোড়ামাটির ফলক। জোড় বাংলা স্থাপত্য রীতির সাদৃশ্য থাকলেও এগুলোতে বিদেশি নকশারও মিশেল ঘটেছে। যেমন প্রধান পর্যটন আকর্ষণ পুঠিয়ার রাজবাড়িটিতে অনুসরণ করা হয়েছে ইন্দো-সারাসেনিক স্থাপত্য রীতি। কক্ষের দেওয়াল ও দরজায়, কাঠের কাজে, ভবনের সম্মুখের স্তম্ভ, অলংকরনে লতাপাতা ও ফুলের চিত্রকর্ম। এখানে গতানুগতিক হিন্দু স্থাপত্যশৈলীর পাশাপাশি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রেনেসাঁ যুগের ইউরোপীয় নকশা। একটি বিশালাকার লেকের চারপাশ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা মন্দিরগুলোর মাঝে রয়েছে একটি নান্দনিক সবুজ চত্বর।
আরো পড়ুন: বর্ষাকালে সুউচ্চ ঝর্ণা-পাহাড়ে হাইকিং ও ট্রেকিং: ঝুঁকির কারণ ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা
পঞ্চ রত্ন গোবিন্দ মন্দিরকে বড় গোবিন্দ মন্দিরও বলা হয়ে থাকে। এর দেওয়ালে চমৎকার পোড়ামাটির অলঙ্করণে প্রকাশ পেয়েছে কৃষ্ণ এবং রাধার ঐশ্বরিক প্রণয়। দরজার দুপাশ ও ভবনের চারপাশের কর্ণারেও পোড়ামাটির ফলকের জয়জয়কার। এগুলোতে ফুটে আছে যুদ্ধের কাহিনী এবং বিভিন্ন হিন্দু দেব-দেবীর চিত্র।
চৌচালা ছোট গোবিন্দ মন্দির নির্মাণে অনুসরণ করা হয়েছে চার চালা শৈলী। দক্ষিণের সম্মুখ ভাগটিতে দেখা যায় ব্যাপক পোড়ামাটির কাজ। এই অঙ্কনের বিষয়বস্তু হচ্ছে বিষ্ণুর দশ অবতার, ফুলের নকশা, জ্যামিতিক আঁকিবুকি এবং তৎকালীন নাগরিক জীবনাচরণ।
ভুবনেশ্বর বা পঞ্চরত্ন শিব মন্দিরটি বাংলাদেশের বৃহত্তম শিব মন্দির। এর সজ্জায় ব্যবহৃত পাঁচটি চূড়া মূলত পূর্ব ভারতে প্রচলিত মনোমুগ্ধকর পঞ্চ রত্ন শৈলীকে প্রতিনিধিত্ব করে। পাঁচটির মধ্যে চারটি চূড়ার প্রত্যেকটিতে রয়েছে ছোট ছোট ১৭টি উপ-চূড়া। কেন্দ্রীয় বৃহত্তর চূড়াটিতে উপ-চূড়ার সংখ্যা ১০৮।
ছোট শিব মন্দিরের অবস্থান পুঠিয়া রাজবাড়ীর ঠিক পিছনে। চার চালা স্থাপত্য শৈলীতে গড়া ছোট এই মন্দিরের সামনের অংশটি ঢেকে আছে পোড়ামাটির ভারী অলঙ্করণে।
ভুবনেশ্বর শিব মন্দিরের পাশেই রয়েছে রথ মন্দির, যেটি অন্য নাম জগন্নাথ মন্দির। দ্বিতল এই স্থাপনাটির কাঠামো অষ্টভুজাকৃতির। দরজার চৌকাঠে ব্যবহার করা হয়েছে বেলে পাথর, যেটি চমৎকার অলঙ্করণে সজ্জিত।
আরো পড়ুন: কলকাতায় কেনাকাটার জনপ্রিয় স্থান
পুঠিয়া রাজবাড়ির সামনের মাঠ পেরিয়ে গেলেই পড়ে দোল মন্দির। এর নিচতলার প্রত্যেক দেওয়ালে সাতটি করে ২৮টি দরজা রয়েছে। দোতলায় পাঁচটি করে ২০টি, তিন তলায় তিনটি করে ১২টি এবং চতুর্থ তলায় একটি করে চারটি দরজা। সব মিলিয়ে প্রবেশের জন্য মোট দরজার সংখ্যা ৬৪। এ কারণে স্থানীয়রা মন্দিরটি নাম দিয়েছে হাজারদুয়ারী। পুরো কমপ্লেক্সে শুধু এই মন্দিরে কোনো প্রতিমা বা পূজার ঘর নেই। সে কারণে এখানে পুরোহিত বা পূজারিদেরও খুব একটা আনাগোনা দেখা যায় না।
পঞ্চরত্ন গোবিন্দ মন্দিরের কাছেই ছোট আহ্নিক মন্দিরে ব্যবহার করা হয়েছে দো চালা শৈলী। পুরোটা পাতলা ইট ও চুনসুরকিতে বানানো হলেও মন্দিরের কর্ণার ও কার্নিশগুলো রাঙানো হয়েছে পোড়ামাটির চিত্রফলকে। ভেতরের চার দেওয়ালে চারটি পদ্ম এবং পূর্ব দেওয়ালের বাইরের দিকে পোড়ামাটির কারুকাজে জীবজন্তু ও লতা-পাতার সঙ্গে অঙ্কিত হয়েছে শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবনলীলা।
অন্যদিকে, বড় আহ্নিক মন্দিরে নকশাটি বাংলার মন্দির স্থাপত্যের একটি অভূতপূর্ব মিশ্র রূপ। এখানে দুই পাশে দুটি চার চালা কাঠামো, আর কেন্দ্রীয় ভাগে দেওয়া হয়েছে দোচালা শৈলী।
পাশাপাশি অবস্থিত বড় আহ্নিক মন্দির, গোপাল মন্দির, ও ছোট গোবিন্দ মন্দির মূলত চারআনি জমিদারবাড়ীর অংশ।
পোড়ামাটির নান্দনিক চিত্রকর্ম আরও দেখা যায় কৃষ্ণপুর গোবিন্দ মন্দিরে, যাকে স্থানীয়রা সালামের মঠ নামে ডাকে। এছাড়া খিতিশ চন্দ্রের মঠ বা কৃষ্ণপুর শিব মন্দিরটিতেও রয়েছে পোড়ামাটির অপূর্ব চিত্রফলক।
আরো পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে ভারতের ডাবল এন্ট্রি ভিসা পাওয়ার উপায়
৬১৯ দিন আগে
দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজীর মন্দির ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
বাংলাদেশের স্থাপত্য নিদর্শন ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের এক বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে দেশের ঐতিহাসিক মন্দিরগুলো। অনন্য নকশা, কিংবদন্তি শাসক ও সম্প্রদায় এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিকতার সন্নিবেশে মহাকালের বিবর্তনের সাক্ষী হয়ে আছে এই স্থাপনাগুলো। যুগ যুগ ধরে শত পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে যাওয়া তেমনি এক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান দিনাজপুরের কান্তজীর মন্দির। কেবল বাংলাদেশেই নয়; গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের মন্দিরের ইতিহাসকে প্রতিনিধিত্ব করছে তিনশত বছরেরও বেশি সময়ের পুরাতন এই নান্দনিক তীর্থস্থানটি। চলুন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ নিয়ে যাবতীয় তথ্যাবলি জেনে নেওয়া যাক।
কান্তজীর মন্দিরের ভৌগলিক অবস্থান
উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জেলা দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার অন্তর্গত সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্তনগর গ্রামে এই মন্দিরের অবস্থান। জেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে দিনাজপুর-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পশ্চিমের নদীটির নাম ঢেঁপা। এই নদীর তীরবর্তী শ্যামগড় এলাকার কান্তনগর গ্রামটি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে প্রাচীন কান্তজীউ মন্দিরের জন্য।
কান্তজিউ মন্দির বা কান্তজীর মন্দিরের নামকরণ
হিন্দু পুরাণ মতে এই অঞ্চলে শ্রীকৃষ্ণের যুদ্ধ-বিগ্রহ অধিষ্ঠান হয়েছিল। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান দেবতা শ্রীকৃষ্ণের ১০৮ নামের একটি হচ্ছে শ্রীকান্ত বা রুক্সিনীকান্ত। শ্রীকৃষ্ণের নামের এই কান্ত শব্দটি দিয়েই দিনাজপুরের তৎকালীন জমিদার প্রাণনাথ মন্দিরটির নাম রাখেন কান্তজীউ মন্দির। জীউ বা জী শব্দটি ব্যবহৃত হয় সম্মানার্থে। মন্দিরের গোড়াপত্তনের আগে স্থানীয় গ্রামটির নাম ছিলে শ্যামনগর। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকে গ্রামের নাম বদলে রাখা হয় কান্তনগর।
মন্দিরটিতে ছিলো ৯টি রত্ন বা চূড়া, যার কারণে একে নবরত্ন মন্দির নামেও অভিহিত করা হতো।
আরো পড়ুন: সোনাদিয়া দ্বীপ ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
কান্তজীর মন্দিরের ইতিহাস
শ্রীকৃষ্ণের যুদ্ধ-বিগ্রহ অধিষ্ঠানকে চির স্মরণীয় করে রাখতে জমিদার প্রাণনাথ রায় ১৭০৪ খ্রিস্টাব্দে এই মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করেন। পোড়ামাটির অলঙ্করণ সমৃদ্ধ এ মন্দিরটি উৎসর্গ করা হয় শ্রীকৃষ্ণ ও তার স্ত্রী রুক্মিণীর প্রতি।
মন্দিরের কাজ অসমাপ্ত রেখেই মারা যান প্রাণনাথ। পরে তার পালক পুত্র রামনাথ রায় ১৭৫২ সালে সফলভাবে মন্দির নির্মাণের বাকি কাজ সম্পন্ন করেন। সব মিলিয়ে পুরো নির্মাণ কাজে সময় লেগেছিলো প্রায় ৪৮ বছর।
১৮৯৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে মন্দিরটির ৯ চূড়ার সবগুলোই ধ্বংস হয়ে যায়। পরবর্তীতে রাজা গিরিজনাথ মন্দিরের সংস্কার করলেও নবরত্নের চূড়াগুলো আর পুনঃনির্মাণ করা হয়নি। ১৯৬০ সালে তৎকালীন সরকার কান্তনগর মন্দিরকে সংরক্ষিত প্রাচীন কীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে মন্দিরটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
আরো পড়ুন: বাংলাদেশের শীর্ষ ১৫টি ঐতিহ্যবাহী স্থান
ঢাকা থেকে দিনাজপুরের কান্তজীর মন্দির যাওয়ার উপায়
ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন, এবং বিমান তিনভাবে যাওয়া যায় দিনাজপুর। ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুর, আসাদগেট, কলেজগেট, শ্যামলী, টেকনিক্যাল মোড়, এবং উত্তরা থেকে পাওয়া যাবে দিনাজপুরের বাস। প্রায় সারাদিনই ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পরপর গাড়িগুলো দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যায়। নন-এসি এবং এসি কোচগুলোর ভাড়া পড়তে পারে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা।
ট্রেনে যেতে হলে ঢাকার কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পাওয়া যাবে দিনাজপুরের ট্রেন। অধিকাংশ ট্রেনগুলো সন্ধ্যা ৭টা ৪০ এবং সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে। শ্রেনীভেদে এই ট্রেনগুলোর টিকেট মূল্য নিতে পারে ৫৭৫ থেকে ১ হাজার ৯৭৮ টাকা পর্যন্ত।
আকাশপথে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে সরাসরি সৈয়দপুরের বিমান রয়েছে। আভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলোতে খরচ পড়তে পারে সর্বনিম্ন ৩ হাজার ৭৯৯ থেকে ৫ হাজার ৩২৫ টাকা পর্যন্ত। সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রিজার্ভ গাড়ি নিয়ে অথবা পাবলিক বাসে সরাসরি কান্তজীও মন্দির যাওয়া যায়।
বাস ও ট্রেন যাত্রার ক্ষেত্রে দিনাজপুর সদর থেকে সরাসরি মন্দির যাওয়ার অটোরিক্সা বা ইজিবাইক পাওয়া যায়। শহর থেকে অটোরিকশায় মন্দির পর্যন্ত যেতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে।
কান্তজীর মন্দিরের যে বিষয়গুলো পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।
আরও পড়ুন: দিনাজপুরের ১০ জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান
কান্তনগর মন্দিরের স্থাপত্য সৌন্দর্য্য
পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের ২৬৬টি পোড়ামাটির অলঙ্কৃত মন্দিরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর হচ্ছে এই মন্দির। এর পুরো অবয়বে স্পষ্ট ফুটে আছে ইন্দো-পারস্য ভাস্কর শৈলীর নকশা।
মন্দিরের বাইরের দেয়াল জুড়ে রয়েছে পোড়ামাটির উৎকৃষ্ট ফলকচিত্রের অলংকরণ। ফলকগুলোতে লিপিবদ্ধ রয়েছে মহাভারত ও রামায়ণসহ নানা পৌরাণিক কাহিনী। পুরো মন্দিরে টেরাকোটা টালির সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। পাথরের ভিত্তির উপরে দাঁড়ানো মন্দিরের আসল উচ্চতা ৫০ ফুট। মন্দিরের নিচতলায় খিলান সংখ্যা ২১টি এবং দ্বিতীয় তলায় ২৭টি এবং তৃতীয় তলায় ৩টি। নিচের প্রতিটি প্রবেশপথের বহু খাঁজযুক্ত খিলানগুলোর যে কোনওটিতে চোখ রাখলে দেখা যায় ভেতরের দেবমূর্তি। খিলানগুলোকে আলাদা করা অলঙ্করণযুক্ত ইটের স্তম্ভগুলোও বেশ সুন্দর।
মন্দিরের টেরাকোটা ও ইটগুলো স্থানীয় নদী ও পুকুরের এটেঁল মাটি দিয়ে তৈরি। তবে ভিত্তির পাথরগুলো আনা হয়েছে হিমালয়ের তড়াই, আসামের পার্বত্য এলাকা, বিহারের রাজমহল ও বিন্ধ্যাঞ্চল পার্বত্য এলাকা থেকে। টেরাকোটা ও ইটগুলোর প্রত্যেকটি আগুনে পোড়ানো এবং রক্তের মতো লালবর্ণের। এ সমস্ত ইটের কাজ ও টেরাকোটাগুলোর করেছেন স্থানীয় গ্রাম্য মিস্ত্রি ও কারিগররাই।
আরও পড়ুন: শীতকালে বাংলাদেশে ভ্রমণের জনপ্রিয় ১০ স্থান
কান্তনগর মন্দিরে ধর্মীয় উৎসব
মন্দির ভ্রমণে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হলো রাস মেলা। প্রতি বছর শীতের শুরুতে মন্দির প্রাঙ্গণে এক মাস ধরে উদযাপিত হয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসব। রাস মেলা রাজা রামনাথ রায়ের শাসনামল থেকেই পালিত হয়ে আসছে। এ সময় বাংলাদেশসহ গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের অনেক তীর্থ যাত্রী এই মন্দিরে আসেন।
মেলা উপলক্ষে পুরো মাস ধরে বসে নানা ধরণের বিপণী। এগুলোতে বিক্রি করা হয় বিশেষ করে গুড়ের জিলাপী, শাখা-সিদুর, মুনহারী, জুতা, কাপড়, খেলনা এবং ফার্নিচার। এছাড়াও মেলায় আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু থাকে নাগরদোলা, সার্কাস, মোটরসাইকেল খেলা, এবং যাত্রাপালা।
জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথী অথবা জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ বা আষাঢ়ের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয় শ্রীকৃষ্ণ স্নান উৎসব। এ সময়টাতে গোটা কান্তনগরে থাকে হাজার হাজার শ্রীকৃষ্ণ ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়।
স্থানীয় গ্রামবাসীদের আরও একটি প্রথা হচ্ছে ফাল্গুন মাসের দোল পুর্ণিমা। গৌড় পুর্ণিমার এই দিনে একে অপরকে হলি ছিটিয়ে বা লাল রঙে রাঙিয়ে উৎসব পালন করা হয়।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদী ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
৬২২ দিন আগে
এমপক্স ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
আফ্রিকার পর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার প্রারম্ভে এমপক্সের প্রথম ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়ে শুক্রবার ডব্লিউএইচও বলেছে, আফ্রিকাসহ বিশ্বজুড়ে এমপক্সের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটি একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’।
ডেনমার্কের ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাভারিয়ান নর্ডিক এ/এস এই ভ্যাকসিনটি প্রস্তুত করেছে।
তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শুধুমাত্র ইউনিসেফ এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থা এই ভ্যাকসিন কিনতে পারবে। একটিমাত্র প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে এই ভ্যাকসিনটির প্রাপ্যতা এবং সীমিত সরবরাহের কারণে আপাতত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডব্লিউএইচও।
আরও পড়ুন: এমপক্সের কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেছেন, ‘আফ্রিকায় বর্তমান প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে ভ্যাকসিনের এই প্রথম প্রাক-যোগ্যতা ভবিষ্যতে এমপক্সের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
এদিকে, অন্যান্য পদক্ষেপের পাশাপাশি যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেখানে জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন সংগ্রহ, অনুদান ও সরবরাহের পরিমাণ বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের দুই ডোজে টিকা দেওয়া যাবে।
অনুমোদনে আরও বলা হয়েছে, ভ্যাকসিনটি বর্তমানে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য লাইসেন্স না পেলেও প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতি বুঝে এটি শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের শরীরে ব্যবহার করা যেতে পারে। যদি কোথাও এই টিকার ঝুঁকির চেয়ে জীবনের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়, সেক্ষেত্রে বয়সের সীমা না মেনেও এই টিকা প্রয়োগ করা যাবে।
আরও পড়ুন: এমপক্স প্রতিরোধে দেশের প্রবেশ পথ-বিমানবন্দরে নতুন নির্দেশনা
গত মাসে আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, এমপক্সে বিশ্বে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভুগছে কঙ্গো। দেশটির মোট আক্রান্তদের প্রায় ৭০ শতাংশই ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু। এমনকি এমপক্সে সেখানে নিহতদের ৮৫ শতাংশেরই বয়স ১৫ বছরের কম।
বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আফ্রিকা সিডিসি জানায়, এমপক্সে আক্রান্ত হয়ে গত সপ্তাহে ১০৭ জনের প্রাণ গেছে। এছাড়া নতুন করে ৩ হাজার ১৬০ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
এমপক্স গুটিবসন্তের মতো ভাইরাসের একই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। আক্রান্তের শরীরে এটি জ্বর, সর্দি ও শরীরের ব্যথার মতো হালকা লক্ষণ সৃষ্টি করে। আরও গুরুতর ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ, হাত, বুক, এমনকি যৌনাঙ্গেও ক্ষত বিস্তৃত হতে পারে।
৬২৯ দিন আগে
ভুটান ভ্রমণ: জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান, যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
অনন্য সংস্কৃতি এবং রাফটিং ও হাইকিংয়ের মতো রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিতে খুব বেশি দূরে যাওয়ার দরকার নেই। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেই এমন ভ্রমণের সুযোগ মিলবে যথেষ্ট সাশ্রয়ী খরচে। স্বতন্ত্র স্থাপত্য শিল্পকর্মের সাক্ষী হতে পৃথিবীর নানা প্রান্তের বিশ্বপরিব্রাজকরা ভীড় করেন এই দেশগুলোতে। বিশেষ করে বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে বাজেট ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পছন্দের দেশ ভুটান। সার্কভুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এই বৌদ্ধ রাজ্য ভ্রমণ বেশ সুবিধাজনক। চোখ ধাঁধানো প্রাকৃতিক নৈসর্গের মাঝে তাদের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর দর্শন এক অভূতপূর্ব অনুভূতির সঞ্চার করে। চলুন, দেশটির সেরা পর্যটন স্থানগুলো ঘুরে দেখার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি জেনে নেওয়া যাক।
ভুটানের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলো
থিম্পু
রাজধানী শহর থিম্পুতে হাঁটা দূরত্বেই দেখা যাবে থিম্পু নদী, মেমোরিয়াল চর্টেন, সিটি ভিউ পয়েন্ট, ক্লক টাওয়ার, থিম্পু জং, পার্লামেন্ট হাউস, লাইব্রেরি ও থিম্পু ডিজং। শহর থেকে একটু দূরেই রয়েছে বুদ্ধ দর্দেন্মা স্ট্যাচু, থিম্পু ন্যাশনাল মেমোরিয়াল চর্টেন ও চিড়িয়াখানা, যেখানে সংরক্ষিত আছে ভুটানের জাতীয় পশু তাকিন।
পুনাখা
এখানে কম সময়ে অনেকগুলো পর্যটন এলাকা ঘোরার উপায় হচ্ছে সর্বপ্রথম দোচুলা পাস যাওয়া। অবশ্য পুরো দোচুলা পাস ঘুরতে প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। তবে ফেরার পথে একে একে পড়বে পুনাখা জং, আর্ট স্কুল, ন্যাশনাল লাইব্রেরি ও ফোক হেরিটেজ যাদুঘর।
ভুটানের যে স্থানটি রাফটিংয়ের জন্য জগদ্বিখ্যাত, সেটি হচ্ছে এই পুনাখা। রাফটিংয়ের জন্য এই শহরে একটা দিন থাকা উচিত।
আরো পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপ ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
লাখাং মন্দির, তালো মনস্ট্রি ও পেলিরি মন্দির ঘুরে চলে যাওয়া যেতে পারে ফু ছু নদীতে। এখানে রাফটিংয়ের সময় চোখে পড়বে সাস্পেন্শন ব্রিজ। এছাড়া পুনাখার নান্দনিক ঐশ্বর্যের পরশ পেতে ঘুরে আসা যেতে পারে টর্সা ন্যাচারাল রিজার্ভার ও ন্যাশনাল পার্ক।
পারো
ভুটানের সর্বোচ্চ রাস্তা চেলে লা পাস অবস্থিত এই শহরে। মেঘমুক্ত দিনে এই রাস্তা থেকে চোখে পড়ে দূরের জলমহরি পর্বত। পারোর জনপ্রিয় পর্যটন স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে টাইগারস নেস্ট, রিনপুং জং, ন্যাশনাল মিউজিয়াম, পারো মনস্ট্রি, পারো চু ও কিচু মনস্ট্রি। শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের খাঁজে রয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান তাং সাং। হিমালয়ের এই দর্শনীয় জায়গাটি দেখার জন্য পারোতে ন্যূনতম একটি দিন অবশ্যই থাকতে হবে।
ভুটান ভ্রমণের সেরা সময়
সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এই তিন মাস ভুটান ভ্রমণের সর্বোত্তম সময়। বিশেষ করে অক্টোবর থেকে নভেম্বরের সময়টা পারোতে ভুটানিদের নানান ধরনের উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পরিষ্কার আকাশসহ এ সময়ের অনুকূল আবহাওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি রাফটিং ও হাকিংয়ের জন্যও উপযোগী। এছাড়া মার্চ থেকে মে মাসে পুনাখাতে পর্যটকদের বেশি ভীড় থাকে।
আরো পড়ুন: ভিয়েতনাম ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
৬৩২ দিন আগে
দিনাজপুরের রামসাগর দীঘি ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রত্নতাত্বিক নিদর্শনগুলোর সঙ্গে মিশে আছে শত বছরের ঐতিহ্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমণ্ডিত এই ঐতিহাসিক স্থানগুলো দেশ-বিদেশি পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য। একদিকে যেমন ভ্রমণের ক্ষুধা মিটে, অন্যদিকে পুরাতন সভ্যতার অবশিষ্টাংশের সান্নিধ্য দেয় অভূতপূর্ব রোমাঞ্চকর অনুভূতি। এমনি রেশ থেকে অভিজ্ঞতার সঞ্চার করতে পারে দিনাজপুরের রামসাগর ভ্রমণ। বিংশ শতাব্দীর শেষ সময়ে গড়ে তোলা এই দর্শনীয় স্থানটি স্থানীয়সহ দেশজুড়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। চলুন, স্থানটির বিশেষ আকর্ষণ, যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচসহ যাবতীয় ভ্রমণ বৃত্তান্ত জেনে নেওয়া যাক।
রামসাগর দীঘির ভৌগলিক অবস্থান ও বিশেষত্ব
দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগ রংপুরের দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত আউলিয়াপুর ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামে রামসাগরের অবস্থান। দিনাজপুর জেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে গেলে দেখা মিলবে এই দীঘিটির।
রামসাগর বাংলাদেশের বৃহত্তম মানবসৃষ্ট দীঘি, তটভূমিসহ যার দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৩১ মিটার, প্রস্থ ৩৬৪ মিটার এবং আয়তন ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৯২ বর্গমিটার। দীঘিটি গড়ে প্রায় ১০ মিটার গভীর। এর পাড় ১৩ দশমিক ৫ মিটার উঁচু।
আরো পড়ুন: তাজিংডং ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও খরচ
অনেক আগে দীঘির পশ্চিম পাড়ের মাঝখানে একটি ঘাট ছিল, যেটি বানানো হয়েছিল বিভিন্ন আকৃতির বেলেপাথরের স্ল্যাব দিয়ে। ঘাটটি ছিল ৪৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ ও প্রস্থে ১৮ দশমিক ৩ মিটার প্রশস্ত। প্রতিটি পাড় ছিল ১০ দশমিক ৭৫ মিটার উঁচু। এই পাড়ের কিছু অবশিষ্টাংশ এখনও দৃশ্যমান রয়েছে।
রামসাগর দীঘির নামকরণের ইতিহাস
পলাশীর যুদ্ধের পূর্বে ১৭৫০ থেকে ১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে খনন করা হয় রামসাগর দীঘি। সে সময়ে দিনাজপুরের এই অঞ্চলটির রাজা ছিলেন রামনাথ আলীবর্দী খান। তার নামানুসারেই দীঘিটি রামসাগর নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। দীঘিটি খননে কাজ করেছিল ১৫ লাখ শ্রমিক এবং খরচ হয়েছিল তৎকালীন সময়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
এই দীঘির নামকরণ নিয়ে নানা ধরনের লোককথা প্রচলিত রয়েছে। ১৭৫০ সালে এক প্রচণ্ড খরায় রাজ্য জুড়ে ভয়াবহ পানির অভাব দেখা দেয়। এ সময় রাজ্যের রাজা প্রাণনাথ স্বপ্নযোগে পুকুর খননের নির্দেশ পান। পানি সমস্যার এমন সমাধানের উপায় পেয়ে তিনি মাত্র ১৫ দিনে তিনি একটি পুকুর খনন করে ফেলেন। কিন্তু অদ্ভূত বিষয় হচ্ছে খনন করা জায়গা থেকে কোনো পানি উঠছিল না। এতে করে রাজ্যে চরম হতাশা নেমে এলো। কিছু দিন বাদে রাজা আবার স্বপ্নাদেশে নতুন বার্তা পেলেন। আর সেটি ছিল যে, দীঘি পানিতে ভরে যাবে যদি তার একমাত্র ছেলেকে বলি দেওয়া হয়। অতঃপর রাজার নির্দেশে দীঘির মাঝখানে একটি ছোট মন্দির তৈরি করা হয়। তারপর একদিন ভোরবেলা রাজার ছেলে যুবরাজ রামনাথ সাদা পোশাক পরে হাতির পিঠে চড়ে সেই দীঘির উদ্দেশে যাত্রা করেন। দীঘির পাড়ে পৌঁছানোর পর যুবরাজ হাতি থেকে নেমে সিঁড়ি বেয়ে নেমে যান সেই মন্দিরে। আর সঙ্গে সঙ্গে দীঘির নিচ থেকে অঝোর ধারায় পানি বেরুতে থাকে। সবার বিস্ফারিত দৃষ্টির সামনে নিমেষেই যুবরাজ রামনাথসহ কানায় কানায় পানিতে ভরে যায় বিশাল দীঘি। সেই সঙ্গে রচিত হয় রাজপুত্র রামনাথের জীবন্ত জলজ সমাধি।
আরো পড়ুন: খাগড়াছড়ির মায়ুং কপাল, হাতিমুড়া বা হাতি মাথা ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও যাবতীয় খরচ
আরেকটি লোককথায় শোনা যায় যে, রাজা আসলে স্বপ্নে স্পষ্টভাবে নিজের ছেলেকে বলি দেওয়ার বার্তা পাননি। বার্তাটি ছিল- দিঘিতে পানি পেতে হলে কারও প্রাণ বিসর্জন দিতে হবে। তখন রাম নামের স্থানীয় এক যুবক স্বেচ্ছায় দিঘিতে নিজের প্রাণ বিসর্জন দেয়। পরবর্তীতে রাজা এই আত্মত্যাগী যুবকের নামে দীঘিটির নাম রাখেন রামসাগর।
১৯৬০ সালে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে আসে রামসাগর দীঘি। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ সালে এই দিঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয় সবুজ ছায়াঘেরা উদ্যান, যা স্থানটিকে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করে। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল এই রামসাগর উদ্যান জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষিত হয়।
ঢাকা থেকে দিনাজপুরের রামসাগর যাওয়ার উপায়
রামসাগর ঘুরে দেখার জন্য প্রথমে ঢাকা থেকে দিনাজপুর যেতে হবে। বাসে যাওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকার গাবতলী, টেকনিক্যাল মোড়, কল্যাণপুর, শ্যামলী, আসাদগেট, কলেজগেট ও উত্তরা থেকে সরাসরি দিনাজপুরগামী বাস পাওয়া যায়। আধঘণ্টা থেকে ১ ঘণ্টা পর পর দিনাজপুরের উদ্দেশে রওনা হয় গাড়িগুলো। এসি বা নন-এসি কোচভেদে বাস ভাড়া ৯০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা হয়ে থাকে।
আরো পড়ুন: মহেশখালী ভ্রমণ গাইড: বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপে যাওয়ার উপায়, আনুষঙ্গিক খরচ
যারা ট্রেন যাত্রা করতে ইচ্ছুক, তাদের ঢাকার কমলাপুর থেকে সকাল ১০টা ১৫ মিনিট, রাত ৮টা ও সাড়ে ১১টার দিনাজপুরগামী ট্রেনগুলোতে উঠতে হবে। শ্রেণিভেদে ট্রেনগুলোতে টিকেট মূল্য হতে পারে ৫৭৫ থেকে ১ হাজার ৯৭৮ টাকা পর্যন্ত।
আকাশপথে যেতে হলে সৈয়দপুরগামী বিমানে উঠতে হবে। বিমানযোগে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর যেতে সময় লাগে সর্বোচ্চ প্রায় ১ ঘণ্টা। পরিবহন কোম্পানি ও মানভেদে বিমান ভাড়া পড়তে পারে ৩ হাজার ৭৯৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। দিনাজপুরে প্লেন থেকে নেমে গাড়িতে করে দিনাজপুর পর্যন্ত যেতে হবে।
দিনাজপুর সদর থেকে পাওয়া যাবে রামসাগর যাওয়ার অটোরিকশা বা সিএনজি। এই যাত্রায় সময় লাগবে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। এছাড়া শহরের কাচারি ঘুন্টি মোড়ে ইজিবাইক পাওয়া যায়, যেগুলো জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় নিয়ে যায় রামসাগর মোড় পর্যন্ত।
আরো পড়ুন: ঈশা খাঁ'র জঙ্গলবাড়ি দুর্গ ভ্রমণ গাইড, আনুষঙ্গিক খরচ
রামসাগর দীঘি ঘুরতে যেয়ে যা যা দেখতে পাবেন
.
রামসাগর দীঘি
পূর্ণিমা রাতে ক্যাম্পিংয়ের জন্য সেরা স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম রামসাগর দীঘি। দীঘির চারপাশে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পর্যন্ত পায়ে চলা পথের দুই পাশে লাগানো হয়েছে মুছকন্দ, দেবদারু ও ঝাউ গাছ। পাড়ের কাছাকাছি অংশে আরও রয়েছে কাঁঠাল, আম, জাম, হরীতকী, সেগুন, আমলকী, জারুল, কাঁঠালিচাঁপা, কাঞ্চন, নাগেশ্বর এবং বটসহ ১৫২ রকমের গাছ।
রামসাগর জাতীয় উদ্যান
দীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা রামসাগর জাতীয় উদ্যানটিতে রয়েছে ৭টি পিকনিক স্পট। স্পটগুলোতে আছে- ক্যাফেটেরিয়া, বিভিন্ন পশু-পাখির মূর্তি দিয়ে গড়া শিশুপার্ক ও মিনি চিড়িয়াখানা। চিড়িয়াখানায় দেখা যাবে হরিণ, অজগর সাপ, বানর, মুখপোড়া হনুমান ও ময়ূর।
উদ্যানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা একটি পাঠাগার, যেটি বানানো হয় ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর। রামসাগরের উত্তর পার্শ্বের প্রাচীন মন্দিরটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর স্বীকৃত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এই উঁচু গোলাকার মন্দিরের অভ্যন্তরে রয়েছে তিনটি কক্ষ। পরিচর্যার অভাবে বর্তমানে ভগ্নপ্রায় মন্দিরটি ঢাকা পড়েছে ঘন গাছগাছালিতে। দীঘির পশ্চিম দিকে রয়েছে সুদৃশ্য একটি দ্বিতল ডাকবাংলো।
আরো পড়ুন: বান্দরবানের বাকলাই জলপ্রপাত ভ্রমণ: বাংলাদেশের অন্যতম সুউচ্চ ঝর্ণায় যাবার উপায় ও খরচ
৬৩৪ দিন আগে