জীবনধারা
ভিয়েতনাম ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ভ্রমণ নাগরিক জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে দিতে পারে স্বস্তি ও মুক্তি। এশিয়ার মধ্যে আছে এমন কিছু ভ্রমণ গন্তব্য আছে যা সাধ্যের মধ্যে আপনাকে দিতে পারে অনন্য এক অভিজ্ঞতা। পাহাড়, সমুদ্র আর ঐতিহাসিক নিদর্শনের এক অপূব সমন্বয় ভিয়েতনাম। নিরাপদ ও সুন্দর এই দেশটিতে রয়েছে জনপ্রিয় সব দর্শনীয় স্থান। চলুন, এই ভ্রমণ নিবন্ধে ভিয়েতনাম ঘুরতে যাওয়ার উপায় এবং আনুষঙ্গিক খরচের বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ভিয়েতনামের ভৌগলিক অবস্থান
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত ৩ লাখ ৩১ হাজার বর্গ কিলোমিটার আয়তনের একটি দেশ ভিয়েতনাম। এর উত্তরে চীন এবং পশ্চিমে লাওস ও কম্বোডিয়ার স্থল সীমানা। আর সামুদ্রিক সীমানা ভাগ হয়েছে থাইল্যান্ডের উপসাগরের মধ্যে দিয়ে থাইল্যান্ডের সঙ্গে এবং দক্ষিণ চীন সাগরের মধ্যে দিয়ে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে।
ভিয়েতনামের নামকরণের ইতিহাস
সর্বপ্রথম ২য় শতাব্দীতে ‘ন্যানিউ’ বা ‘নাম ভিয়েত’ শব্দের নিদর্শন পাওয়া যায়, যেটি মূলত বর্তমান ‘ভিয়েতনাম’ শব্দেরই উল্টো রূপ। এর মধ্যে ‘ভিয়েত’ শব্দটি প্রাচীন মধ্য চীনা ভাষার, যা সর্বপ্রথম দেখা যায় একটি কুঠারে শিলালিপি আকারে। কুঠারটি ছিল ১ হাজার ২০০ খ্রিস্টপূর্বে শ্যাঙ রাজবংশের শেষ দিকে ওরাকল নামের বিশেষ হাড় এবং ব্রোঞ্জের অংশ।
খ্রিস্টপূর্ব ৭ম এবং ৪র্থ শতাব্দীর মধ্যে নিচু ইয়াংজি অববাহিকার ইউ রাজ্য ও এর জনগণকে বোঝানো হতো ‘ইউ’ বা ‘ভিয়েত’ শব্দ দিয়ে। খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দী থেকে এই একই শব্দ ব্যবহার করা হয় দক্ষিণ চীন এবং উত্তর ভিয়েতনামের অ-চীনা জনগোষ্ঠীকে বোঝাতে।
আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায়, জনপ্রিয় স্থান ও খরচ
১৭ এবং ১৮ শতকের মাঝামাছি সময়ে শিক্ষিত ভিয়েতনামিরা নিজেদেরকে প্রকাশ করতো ‘নোই ভিয়েত’ (ভিয়েত জনগণ) বা ‘নোই নাম’ (দক্ষিণের জনগণ) বলে।
‘ভিয়েত’-এর পরে ‘নাম’ শব্দটির উপস্থাপন সর্বপ্রথম দেখা যায় ১৬ শতকের কবিতা স্যাম ত্র্যাঙ তৃণ-এ। এছাড়া ১৬ ও ১৭ শতকে ১২টি পাথুরে স্তম্ভেও খোদাই করা অবস্থায় পাওয়া যায় ‘ভিয়েতনাম’ শব্দটি।
১৯ শতকের শুরুর দিকে নুইয়েন রাজবংশের রাজা গিয়া লং ‘আনাম’ নামের রাজ্য দখল করেন। তিনি ‘আনাম’-এর নাম বদলে ‘ভিয়েত’ বা ‘ন্যানিউ’ রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কিং রাজবংশের সম্রাট জিয়াকিং তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। কারণ নামটি কিং সাম্রাজ্যের সেনাপ্রধান ঝাও তুওর এলাকা ‘ন্যানিউ’ নামটির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এছাড়া এই ন্যানিউয়ের মধ্যে দক্ষিণ চীনের জায়গা গুয়াঞ্জি এবং গুয়াংডংও ছিল। পরবর্তীতে সম্রাট জিয়াংকিং অঞ্চলটির জন্য সেই ‘ভিয়েতনাম’ শব্দটি পছন্দ করেন।
১৮০৪ এবং ১৮১৩ সালের মধ্যে সম্রাট গিয়া লং ‘ভিয়েতনাম’ নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করেন। নামটির পুনর্ব্যবহার হয়েছিল ২০ শতকের গোড়ার দিকে ফ্যান বই চোউয়ের ‘ভিয়েতনামের ক্ষতির ইতিহাস’ বইতে। পরে ভিয়েতনামের জাতীয়তাবাদী দল বেশ জোরেসোরে নামটির প্রচারণা চালায়।
আরও পড়ুন: ঈদ অবকাশ: ভিসা-মুক্ত এশিয়ায় সেরা ভ্রমণ গন্তব্য
এরপরেও ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ‘আনাম’ নামেই পরিচিত ছিল অঞ্চলটি। অতঃপর বর্তমান ভিয়েতনামের উত্তর মধ্য উপকূলীয় সাম্রাজ্য হুয়ে সরকার এই অঞ্চলের জন্য ‘ভিয়েতনাম’ নামকে চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এই নামটিই অপরিবর্তিত হয়ে আছে।
৭৪৮ দিন আগে
কলকাতায় কেনাকাটার জনপ্রিয় স্থান
ঈদের আগের দিনগুলো মানেই পোশাক, উপহার এবং সুস্বাদু খাবারের কেনাকাটা। রঙিন ব্যানার ও আলোক-সজ্জার রাস্তাগুলো যেন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষিতে। এ দোকান সে দোকান ঘুরে প্রিয় জিনিসটি খুঁজে বের করার উন্মাদনা ঈদের আনন্দের সঙ্গে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। আর এই কেনাকাটা বাংলার ঐতিহ্যবাহী শহর কলকাতায় হলে সেই উৎসব মুখরতার সঙ্গে যেন যোগ হয় ভ্রমণের আনন্দ।
শত বছরের সংস্কৃতি মিশে থাকা এই শহরের কোলাহলপূর্ণ বাজারগুলো যেন রঙ এবং স্বাদের চির অর্বাচীন ফেরিওয়ালা। শপিং উৎসাহী বাঙালিদের প্রত্যাশিত এই গন্তব্যকে নিয়েই আজকের নিবন্ধ। চলুন, কলকাতায় গিয়ে কোথায় কী কিনবেন তা বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
কলকাতার সবচেয়ে জনপ্রিয় কয়েকটি শপিংমল
কলকাতা নিউ মার্কেট
ঔপনিবেশিক যুগের প্রাচীনতম বিপণীগুলোর মধ্যে অন্যতম এই শপিংমল যে কোনো উৎসবে কলকাতার ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ। জুতা, শাড়ি, বিদেশি ফুল ও স্থানীয় প্রসিদ্ধ খাবারের দোকানগুলোতে থাকে উপচে পড়া ভিড়। কেননা সুনামের পাশাপাশি এদের রয়েছে বিশদ সংগ্রহ। তাছাড়া একটি নির্দিষ্ট আইটেমের সব দোকান আলাদা আলাদা ব্লকে সুবিন্যস্তভাবে সাজানো। তাই ২ হাজারেরও বেশি দোকান থাকলেও পছন্দের জিনিসটি খুঁজে পেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় না ক্রেতাদের। লিন্ডসে স্ট্রিটে অবস্থিত এই সুপরিচিত জায়গাটি নিমেষেই খুঁজে পান বাইরে থেকে আগত পর্যটকরা।
আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডের ক্রাবি ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
গড়িয়াহাট বাজার
বালিগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন বাজারটি গড়িয়াহাটের অন্যতম বিখ্যাত মল। দীর্ঘ প্রসারিত জায়গা জুড়ে বিস্তৃত রাস্তার দুপাশে দোকানগুলো জামাকাপড়, গহনা এবং ইলেকট্রনিক আইটেমের বিশাল সংগ্রহশালা। বড় দোকান ছাড়াও ছোট ছোট অস্থায়ী তাঁবুগুলোতে বসে স্বল্প দামের বিপণী। দোকানের বাইরে ঝুলে থাকা নানা আইটেমের সঙ্গে চকচকে আলোগুলো মাঝের দীর্ঘ রাস্তাকে আলোকিত করে রাখে। এখানকার রেস্তোরাঁ এবং খাবারের দোকানগুলোর অবস্থান এমন জায়গাতে যেন কেনাকাটার ফাঁকেই হুট করে যে কেউ খেতে বসে যেতে পারে।
অবনী রিভারসাইড মল
হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এই ৫ তলা শপিংমলটি যেন নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেছে। এর ভেতরে ২০০টিরও বেশি ব্র্যান্ডেড স্টোর সারা দিন ধরে আটকে রাখে ক্রেতাদের। শুধু কি তাই! সুপারশপের মুদি থেকে শুরু করে প্যান্টালুনের পোশাক এবং আর্চিসের অনন্য উপহার সবকিছু পাওয়া যায় এখানে। এছাড়া সিনেমা উপভোগ করার জন্য আছে একটি পিভিআর থিয়েটার। কেনাকাটা করতে যেয়ে খিদে পেয়ে গেলে তার জন্যও রয়েছে জনপ্রিয় সব রেস্তোরাঁ এবং ফুড ক্যাফে।
আরও পড়ুন: আইসল্যান্ড ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
সাউথ সিটি মল
কলকাতা শহরের দক্ষিণ প্রান্তে প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে প্রায় ১০ লাখ বর্গফুটের জায়গা নিয়ে এই মলটির অবস্থান। এই অত্যাধুনিক মলে একচেটিয়াভাবে ব্যবসা করে চলেছে দেশ-বিদেশের নামকড়া সব ব্র্যান্ডগুলো। সম্প্রতি চালু হওয়া নতুন বিশাল ফুড কোর্টে জায়গা পেয়েছে মেইনল্যান্ড চায়না, চিলিস, স্টারবাক্স সহ স্বনামধন্য অনেক খাবারের ব্র্যান্ড। সারা বিপণী ঘুরতে যেয়ে স্বাদ বদলের জন্য রয়েছে মাল্টিপ্লেক্স। এখানে শপিং উৎসাহী ও সিনেমাপ্রেমি দু’শ্রেণীর মানুষেরই ভিড় হয়।
কোয়েস্ট মল
পার্ক সার্কাসের সৈয়দ আমির আলী এভিনিউয়ের এই অভিজাত মলটি তরুণ এবং ব্যবসায়ী উভয়কেই আকর্ষণ করে। ২০১৩ সালে উদ্বোধন করা এই মল শহরের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মলগুলোর একটি। মান সম্পন্ন পোশাকের দোকানের পাশাপাশি খাবার, গেমিং, ও মাল্টিপ্লেক্স সুবিধা খুব কম সময়েই কোয়েস্ট মলের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। এখানে আইনক্স মাল্টিপ্লেক্সে রয়েছে ছয়টি স্ক্রিন। এছাড়া রয়েছে চিলিস, বোম্বে ব্রাসেরি, স্মোক হাউস ডেলি, ও সেরাফিনার মতো কলকাতার সেরা সব রেস্তোরাঁ।
সিটি সেন্টার ১ শপিং মল
সল্টলেকের এই টুইন মলটিতে শহরের সব ধরণের লোকেরই সমাগম ঘটে। স্বভাবতই মলের প্রতিটি আউটলেটেই থাকে উপচে পড়া ভিড়। বিশাল এই মলের অন্যতম আকর্ষণ হল এর কেন্দ্রে জলাশয় সমৃদ্ধ কয়েকটি ধাপযুক্ত প্লাজা, যাকে কুণ্ড বলা হয়। এই বিরাট স্থাপনাকে ঘিরে দর্শনার্থীরা বসে সময় কাটাতে পারেন। মনোরম অভ্যন্তরীণ সজ্জার অ্যাম্ফিথিয়েটারে চলে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। আর হাল ফ্যাশনের পোশাকের দোকানগুলো স্বতন্ত্র শৈলী নিয়ে আকৃষ্ট করে ক্রেতাদের।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে ভারতের ডাবল এন্ট্রি ভিসা পাওয়ার উপায়
৭৫২ দিন আগে
থাইল্যান্ডের ক্রাবি ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
দ্বীপদেশের মনমুগ্ধতার নেপথ্যে রয়েছে রোদের আলোয় চিকচিক করা বালি আর আলোক ছটা দেওয়া ঢেউ। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বালুকাবেলায় ঝিনুকের আঁকিবুকিগুলো যেন সাবধানে পা ফেলতে বলে সৈকতপ্রেমিককে। এরপরেও উপেক্ষা করা যায় না খালি পায়ে হাঁটা বা সূর্যস্নানের হাতছানি। সমুদ্রের বিশাল বিস্তৃতির উপর দিয়ে লালিমার দিগন্ত রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে যাওয়া এক অদ্ভূত শিহরণ জাগিয়ে তোলে।
এই প্রতিটি উপাচারকে সঙ্গে নিয়ে মহাদেশগুলোতে বিচিত্রভাবে সেজে ওঠে সমুদ্রবিলাস। এমনি একটি মহাদেশ এশিয়া, যেটি বিশ্বের সেরা দ্বীপদেশগুলো নিয়ে যুগ যুগ ধরে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান ধরে রেখেছে। এমনকি দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার জনপ্রিয় কিছু পর্যটন স্থান পরম যত্নে লালন করে চলেছে মনোরম সব সমুদ্র সৈকত। তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ মিলবে থাইল্যান্ডের ক্রাবিতে গেলে। চলুন, অনন্য নান্দনিকতায় ভরপুর ক্রাবি ভ্রমণের আদ্যোপান্ত জেনে নেওয়া যাক।
ক্রাবির ভৌগলিক অবস্থান
দক্ষিণ থাইল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলের ক্রাবি প্রদেশের রাজধানীর নাম ক্রাবি। চুনাপাথরের কার্স্ট এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে অবস্থিত এই শহর থেকে ক্রাবি নদী ফাং নাগা উপসাগরের সঙ্গে মিশেছে। আন্দামান উপকূলের কাছাকাছি এই রিসোর্ট শহরটি ব্যাংকক থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।
ক্রাবির নামকরণের ইতিহাস
এই শহরের নাম নিয়ে দুটি গল্প প্রচলিত আছে। প্রথম গল্পটি একটি প্রাচীন তলোয়ার নিয়ে। একবার এই স্থানের অধিবাসীরা এখানকার মাটি থেকে অতিকায় একটি তলোয়ার খুড়ে বের করে। এই তলোয়ারটি পরে প্রদেশের গভর্নরের কাছে পেশ করা হয়। এরপর আরও একটি তলোয়ার মাটি খুড়ে বের করা হয়, তবে এবারেরটা একটু ছোট ছিল। এটিও সেই গভর্নরের কাছে সোপর্দ করা হয়। গভর্নরসহ তখনকার সাধারণ মানুষ এই তলোয়ার দুটিকে বেশ মূল্যবান এবং পবিত্র বলে মনে করতেন। অতঃপর গভর্নরের নির্দেশে তলোয়ার দুটিকে আড়াআড়িভাবে ‘খাও কানাব নাম’ নামে একটি গুহায় স্থাপন করা হয়। এই তলোয়ার দুটির নাম ছিল ক্রাবি। যেটির নামেই পরবর্তীতে এই স্থানের নামকরণ হয়। বর্তমানে পর্যটকরা ক্রাবিতে ঘুরতে যেয়ে একবার হলেও এই তলোয়ার দুটিকে দেখে যান।
আরও পড়ুন: আইসল্যান্ড ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
দ্বিতীয় গল্পটি লুম্ফি নামের একটি গাছ নিয়ে। চীনা এবং মালয় বণিকরা এটিকে খো-লো-বি কিংবা কা-লু-বি উচ্চারণ করতো। কিন্তু এই দুই শব্দই ছিল ভুল। আর এই ভুল শব্দেই জায়গাটি কয়েক যুগ ধরে পরিচিত থাকে। পরে পাওয়া যায় যে, সেই ভুল শব্দগুলোর সঠিক শব্দ হচ্ছে ক্রাবি। অবশেষে এই নতুন নামেই জায়গাটি ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে।
৭৫২ দিন আগে
আইসল্যান্ড ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
কোনো পর্যটন স্থানের সৌন্দর্য গৌণ হয়ে যায় যখন সেখানে ভ্রমণকালীন নিরাপত্তার প্রসঙ্গ আসে। একটি দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবস্থা উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে সে দেশের পর্যটন শিল্পের উপর। সামগ্রিকভাবে নিরাপদ ভূ-খণ্ড নিশ্চিন্তে ভ্রমণের রসদ যোগায়। এই দিক থেকে নিমেষেই শীর্ষস্থানটি পেয়ে যেতে পারে আইসল্যান্ড নামের দেশটি। কেননা ২০২৩ সালের বৈশ্বিক শান্তি সূচক অনুসারে দেশটি অর্জন করেছে সর্বনিম্ন স্কোর; ১ দশমিক ১২৪।
এই সর্বনিম্ন মান বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থার দিকে নির্দেশ করে। এ নিয়ে দেশটি টানা ১৬ বার বিশ্বের এক নম্বর শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে মনোনীত হলো। নর্ডিক এই দেশটিতে ঘুরে বেড়ানো নিয়েই আজকের ভ্রমণ কড়চা। চলুন, আইসল্যান্ডের দর্শনীয় স্থানসহ যাবতীয় ভ্রমণ খরচ নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
আইসল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান
উত্তর আটলান্টিক এবং আর্কটিক মহাসাগরের মধ্যবর্তী একটি দ্বীপ দেশ আইসল্যান্ড। উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের মধ্যবর্তী আটলান্টিক রিজের উপর অবস্থিত এই দেশটি বিশ্বের ১৮-তম বৃহত্তম দ্বীপ। গ্রেট ব্রিটেনের পরে এটিই ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। এর প্রধান দ্বীপ ১ লাখ ১ হাজার ৮২৬ বর্গ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। সমগ্র দেশটির ১ লাখ ৩ হাজার বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে ৬২ দশমিক ৭ শতাংশই তুন্দ্রা অঞ্চল।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া ভ্রমণ: জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান, ঘুরতে যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
স্থলভাগের দিক দিয়ে উত্তর আমেরিকার তুলনায় আইসল্যান্ড ইউরোপের বেশি কাছাকাছি। কিন্তু জলভাগের দিক থেকে এটি উত্তর আমেরিকার দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের সবচেয়ে কাছে। তবে ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, এবং ভাষাগত কারণে আইসল্যান্ড ইউরোপের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
৭৫৪ দিন আগে
মালদ্বীপের মাফুশি দ্বীপ ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
বিধ্বস্ত জলরাশির ঐকতানের সঙ্গে রোদের আলোয় সোনালি বালির মৃদু আলিঙ্গন, এর সঙ্গে সাগরতলের জীববৈচিত্র্যের মাঝে নিজেকে পরখ করার নেশা কিছুতেই উপেক্ষা করার নয়। গভীর রাতে শীতল সৈকতে আকাশ ভরা তারার সমীপে নিজেকে সপে দেওয়ার মাঝেই যেন চির প্রশান্তি। এই প্রাকৃতিক উপাচারগুলো নিয়ে ভারত মহাসাগরের বুকে মালদ্বীপের প্রতিটি দ্বীপ সরবে জানান দেয় নিজেদের উপস্থিতির কথা। কিন্তু মাফুশি নামের দ্বীপটি যেন আদ্যোপান্ত শব্দহীন এক নৈসর্গ। খুব কম সময়ের মধ্যে মালদ্বীপের জনপ্রিয় পর্যটন স্থানে পরিণত হওয়া এই দ্বীপটি নিয়েই আজকের ভ্রমণ কড়চা। চলুন, মালদ্বীপের মাফুশি দ্বীপ ভ্রমণ নিয়ে বিশদ জেনে নেওয়া যাক।
মাফুশি দ্বীপের ভৌগলিক অবস্থান
দ্বীপ রাষ্ট্র মালদ্বীপের রাজধানী মালে থেকে ২৬ দশমিক ০৮ কিলোমিটার দক্ষিণে মাফুশি দ্বীপের অবস্থান। মাফুশি দ্বীপপুঞ্জের এই মধ্যমণির ১ হাজার ২৭০ মিটার দীর্ঘ এবং ২৬৫ মিটার প্রশস্ত। অ্যাটলে অবস্থিত বাকি দ্বীপগুলোর তুলনায় এটি সব থেকে বড়।
মাফুশি দ্বীপ ৩টি এলাকায় বিভক্ত। স্থানীয় অধিবাসীদের এলাকা, পর্যটন এলাকা এবং দ্বীপের এক-তৃতীয়াংশ নিয়ে কারাগার এলাকা। পর্যটন এলাকাটি আবার বিকিনি সৈকত, পাবলিক সৈকত এবং ওয়াটার-স্পোর্টস সৈকতে বিভক্ত।
মাফুশি দ্বীপের ইতিহাস ও নামকরণ
এই দ্বীপবাসীরা মাছ ধরা সম্প্রদায় হিসেবে সুপরিচিত ছিল। দু-একজন পর্যটকের আনাগোণা হওয়া শুরু করতেই এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। কম খরচে গেস্টহাউস পাওয়ার জন্য মাফুশি দ্বীপের বেশ সুখ্যাতি রয়েছে। প্রথম দিকে এই কারণেই স্থানীয় দ্বীপগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত হয়ে উঠেছিল।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে ভারতের ডাবল এন্ট্রি ভিসা পাওয়ার উপায়
২০০৪ সালের বিধ্বংসী সুনামি দর্শনীয় জায়গাটির অনেক স্থাপনাই নষ্ট করে দেয়। পরবর্তীতে অবশ্য অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যটনকে আবার পুনরুজ্জীবিত করা হয়।
‘মাফুশি’ নামটির উৎপত্তি মালদ্বীপের শব্দ ‘মা’ (maa) এবং ‘ফুশি’ (Fushi) থেকে। ‘মা’-এর অর্থ ‘বড়’ এবং ‘ফুশি’-এর অর্থ ‘দ্বীপ’। সমগ্র দেশের অন্যান্য অধ্যুষিত দ্বীপের তুলনায় এই দ্বীপটি বড় বলে এরকম নামকরণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপের মাফুশি দ্বীপ ভ্রমণের উপায়
মালদ্বীপের পর্যটন ভিসা
মাফুশি দ্বীপে ঘুরতে যেতে হলে প্রথমেই মালদ্বীপের ভিসা নিশ্চিত করতে হবে। মালদ্বীপ সরকার বাংলাদেশিদের মালদ্বীপ ভ্রমণের জন্য আগমনী ভিসা দেয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশি পর্যটকদের দেশ ছাড়ার পূর্বে পর্যটন ভিসার জন্য কোনো রকম আবেদনের প্রয়োজন হয় না। তবে মালদ্বীপের বিমান বন্দরে অভিবাসন ছাড়পত্র পেতে কিছু প্রাথমিক শর্ত রয়েছে যেগুলো আগে থেকেই নিশ্চিত করতে হয়। শর্তগুলো হলো:
- কমপক্ষে ১ মাস মেয়াদী একটি বৈধ পাসপোর্ট। এমনকি শিশু বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বিষয়টি প্রযোজ্য।
- আসা-যাওয়ার টিকিট, অগ্রীম হোটেল বুকিংয়ের প্রমাণপত্রসহ মালদ্বীপে থাকার জন্য পর্যাপ্ত তহবিলের জন্য আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রমাণ অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কর্তৃক অনুমোদিত ভিসা স্পনসরশিপ।
- পূরণকৃত ট্রাভেলার ডিক্লারেশন ফর্ম, যা ফ্লাইটের সময় ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে জমা দিতে হয়। https://imuga.immigration.gov.mv/ethd লিঙ্কের মাধ্যমে ফর্মটি অনলাইনে পূরণ করে জমা দিতে হয়।
আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায়, জনপ্রিয় স্থান ও খরচ
এই শর্তগুলো পূরণ সাপেক্ষে মালদ্বীপের অন-অ্যারাইভাল ভিসা বিনামূল্যেই বাংলাদেশিরা পেতে পারেন। এই পর্যটন ভিসার মেয়াদ ৩০ দিন।
ঢাকা থেকে মাফুশি দ্বীপ যাতায়াত
ঢাকা - মালে রাউন্ড ট্রিপ বিমান ভাড়া নির্ভর করবে কিছু বিষয়ের উপর যেমন এয়ারলাইন্স কোম্পানি, বুকিংয়ের সময়, বিভিন্ন অফার, ইত্যাদি।
মালে থেকে মাফুশি দ্বীপ পর্যন্ত যাওয়ার জন্য স্পিডবোট বা ফেরিতে যেতে হবে। স্পিডবোটের ভাড়া লাগবে ২৫ মার্কিন ডলার বা ২ হাজার ৭৫০ টাকা। এভাবে দ্বীপে পৌছতে প্রায় ৪৫-মিনিট সময় লাগবে। মালে শহরের ব্যাঙ্ক অফ সিলনের সামনে থেকে ৬ নম্বর জেটি থেকে পাওয়া যাবে এই স্পিডবোটগুলো।
আর সরকারি ফেরিগুলো শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন চলে এবং ভ্রমণপথে প্রায় দেড় ঘন্টা সময় নেয়। ফেরিতে টিকেট খরচ নিতে পারে জনপ্রতি ২ মার্কিন ডলার বা ২২০ টাকা।
আরও পড়ুন: ঈদ অবকাশ: ভিসা-মুক্ত এশিয়ায় সেরা ভ্রমণ গন্তব্য
মাফুশি দ্বীপে ঘুরতে যাওয়ার সেরা সময়
মালদ্বীপের অন্যান্য পর্যটন স্থানগুলোর মতো এখানেও সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ মাসে বেশি ভিড় থাকে। এই শুষ্ক মৌসুমে আবহাওয়া পরিষ্কার থাকে এবং সামগ্রিকভাবে কম আর্দ্রতা থাকায় ভ্রমণের পরিবেশ বেশ মনোরম হয়। আর এরপর থেকে; অর্থাৎ মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত অধিকাংশ সময় আকাশ মেঘলা থাকে।
কখনো কখনো ঝড়ে কবলে পড়তে হয় বলে এই সময়টি অনেকেই এড়িয়ে চলেন। তবে এই সময়গুলোর সবচেয়ে সেরা সুবিধা হচ্ছে- দ্বীপে ভ্রমণ খরচ অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক কম থাকে।
৭৫৭ দিন আগে
বাংলাদেশ থেকে ভারতের ডাবল এন্ট্রি ভিসা পাওয়ার উপায়
বাংলাদেশিদের ভারতের পর্যটন, চাকরি, শিক্ষা এবং চিকিৎসার সুবিধা গ্রহণের সর্বপ্রথম ও আবশ্যক শর্ত হচ্ছে ভারতীয় ভিসা। এই অনুমতিপত্র দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক প্রটোকল রক্ষা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতে একাধিক প্রবেশের অনুমিত বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভারতে ভ্রমণসুবিধা আরও বাড়িয়ে দেয়। চলুন, এই সুবিধাগুলো পেতে বাংলাদেশ থেকে ভারতের ডাবল এন্ট্রি ভিসা পাওয়ার উপায় জেনে নেওয়া যাক।
ভারতের ডাবল এন্ট্রি ভিসা কী?
ভারতের নাগরিক নন এমন কোনও ব্যক্তির জন্য ভারতে দুইবার প্রবেশের অনুমতিই হচ্ছে ডাবল এন্ট্রি ভিসা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভারত হয়ে অন্য কোনও দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই ভিসা ইস্যু করা হয়। এ সময় প্রতিবার প্রবেশের জন্য অনূর্ধ্ব ৭২ ঘণ্টা বা ৩ দিন সময় দেওয়া থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় এই ভিসাপ্রাপ্তদের ভারতে সর্বোচ্চ ১৫ দিন থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে পরে প্রয়োজনে ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ৯০ দিন বা ৩ মাস বাড়িয়ে নেওয়া যায়।
যাদের জন্য ভারতের ডাবল এন্ট্রি ভিসা দরকার
বাংলাদেশী পাসপোর্টধারী যে সকল ব্যক্তিদের এই ভিসাটি প্রয়োজন তারা হলেনঃ--> বিমান/রেল/সড়ক/সমুদ্রপথে ভারতের মধ্য দিয়ে তৃতীয় কোনো দেশে যেতে ইচ্ছুক--> চাকরী, ব্যবসা, শিক্ষা বা পর্যটনের কারণে ফিনল্যান্ড, রোমানিয়া, মাল্টা, পর্তুগাল, ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিকের মত ইউরোপের দেশগুলোতে গমনকারী--> সাংবাদিক--> চলচ্চিত্র ও টিভি নাট্য কর্মী
আরও পড়ুন: ২০২৪ সালে ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা
ভারতের ডাবল এন্ট্রি ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- ন্যূনতম ৬ মাসের বেশি মেয়াদ সম্পন্ন পাসপোর্ট। পাসপোর্টে কমপক্ষে ২টি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকতে হবে। এর সঙ্গে প্রয়োজন হবে বিগত সমস্ত পুরাতন পাসপোর্ট। এগুলোর মধ্যে কোনো একটি হারিয়ে গেলে তার জিডি (জেনারেল ডায়েরি) কপি সঙ্গে থাকতে হবে।
- এনআইডি (জাতীয় পরিচয় পত্র) বা জন্ম নিবন্ধনপত্র
- প্রার্থীর অনূর্ধ্ব ৩ মাসের মধ্যে তোলা রঙিন ছবি। ছবি হতে হবে ২/২ ইঞ্চি বা ৩৫০ বাই ৩৫০ পিক্সেল রেজুলেশনের। সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে ফ্রেমে মাথা মাঝখানে রেখে চুলের উপর থেকে চিবুকের নিচ পর্যন্ত পুরো মাথা প্রদর্শিত হতে হবে। কোনও ছায়া পড়া যাবে না। ছবির স্ক্যান কপি জেপিইজি ফরমেটের হবে। আকার হবে সর্বনিম্ন ১০ কেবি (কিলোবাইট) আর সর্বোচ্চ ৩০০ কেবি।
- অনূর্ধ্ব ৬ মাসের ইউটিলিটি (বিদ্যুৎ, টেলিফোন, গ্যাস বা পানির বিল) বিলের কপি
আরও পড়ুন: সাধ্যের মধ্যে মালদ্বীপের বিকল্প হতে পারে এশিয়ার যেসব ট্যুরিস্ট স্পট
আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণস্বরূপ দেখাতে হবে:
- আন্তর্জাতিক ভ্রমণকার্ড যেমন- এসবিআই (স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া)
- ট্র্যাভেল কার্ড অথবা বিগত ৩ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট
- কিংবা আবেদনকারী নামে ১৫০ মার্কিন ডলার, যা পাসপোর্টে চলমান বছরের অনুমোদনকৃত আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড-এ এন্ডোর্সমেন্ট করা থাকবে।
- আসা-যাওয়ার টিকেট এবং হোটেল বুকিং-এর নথি
- পেশা প্রমাণ স্বরূপ নিয়োগকর্তার কাছ থেকে প্রশংসাপত্র, শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য অবসরের কাগজপত্র
- তৃতীয় দেশের জন্য বৈধ ভিসা
আরও পড়ুন: ঈদ অবকাশ: ভিসা-মুক্ত এশিয়ায় সেরা ভ্রমণ গন্তব্য
পরবর্তীতে অনলাইন আবেদনপত্রের সময় আপলোডের জন্য এগুলোর স্ক্যান কপি আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখতে হবে।
অনলাইনে ভারতীয় ডাবল এন্ট্রি ভিসার আবেদন পদ্ধতি
অনলাইনে ভিসার আবেদনপত্র পূরণের জন্য যে কোনও ইন্টারনেট ব্রাউজারের মাধ্যমে সরাসরি চলে যেতে হবে https://indianvisa-bangladesh.nic.in/visa লিঙ্কে। এখানে নিজের একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এ সময় যে লগইন আইডি ঠিক করা হবে সেটি দিয়ে পরবর্তীতে প্রতিবার নিজের প্রোফাইলে প্রবেশ করা যাবে।
বাংলাদেশে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া পরিচালিত ১৫টি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভিএসি) বা আইভ্যাক রয়েছে। এগুলো হলো- ঢাকা, যশোর, খুলনা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সাতক্ষীরা, বগুড়া, এবং ঠাকুরগাঁও।
ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, যশোর, এবং সাতক্ষীরার কাছাকাছি বসবাসকারী আবেদনকারীরা অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণের সময় ঢাকা মিশন নির্বাচন করবেন। চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, এবং নোয়াখালীর কাছাকাছি বসবাসকারী আবেদনকারীরা নির্বাচন করবেন চট্টগ্রাম মিশন। রাজশাহী, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, এবং বগুড়ার কাছাকাছি এলাকার আবেদনকারীরা নির্বাচন করবেন রাজশাহী মিশন। আর সিলেট মিশন যারা নির্বাচন করবেন তাদের অবশ্যই সিলেটের কাছাকাছি বসবাসকারী হতে হবে।
আরও পড়ুন: ঈদে ঘরে ফিরতে অনলাইনে প্লেন, বাস ও ট্রেনের টিকেট কাটার উপায়
অনলাইন আবেদন ফর্মের উপরে ডানদিকে ডিজিটাল ছবি আপলোড করতে হবে। প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য একটি একক ও অদ্বিতীয় ওয়েব ফাইল নাম্বার প্রদর্শিত হবে। এই নাম্বারটি ভবিষ্যতের রেফারেন্সের জন্য সংরক্ষণ করা জরুরি।
কলাম-এ-এর ব্যক্তিগত বিবরণী অংশে নাম, জন্ম তারিখ সহ অন্যান্য বিবরণ পাসপোর্ট, এনআইডি বা জন্ম সনদে উল্লেখিত তথ্যানুযায়ী হতে হবে। কলাম-বি-এর পাসপোর্টের বিবরণী অংশে বর্তমান পাসপোর্ট অনুযায়ী পাসপোর্ট নম্বর, ইস্যু করার স্থান, তারিখ এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ উল্লেখ করতে হবে। কলাম-সি-তে বর্তমান ঠিকানা, ইমেইল ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার দিতে হবে। এখানে বর্তমান ঠিকানা অবশ্যই ইউটিলিটি বিলগুলোতে উল্লেখিত ঠিকানার সাথে মিল হতে হতে হবে। বর্তমান ঠিকানাটি এমন হতে হবে যেখানে প্রার্থী কমপক্ষে ৬ মাস ধরে অবস্থান করছেন। কলাম-ডি-তে দিতে হবে পরিবারের বিবরণ। কলাম-ই ও এফ-এ ভিসা সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে।
রেফারেন্সের কলামে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে একজনের যোগাযোগের বিশদ বিবরণী দিতে হবে।
এই আবেদন ফর্মে কোনও ভুল হলে পুনরায় নতুন করে আবেদন করা ছাড়া কোনও উপায় নেই। তাই ফর্ম পূরণের সময়ে সর্বাত্মকভাবে সচেতন থাকা জরুরি।
আরও পড়ুন: দিল্লি ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ভারতের ডাবল এন্ট্রি ভিসা প্রক্রিয়াকরণ খরচ
বাংলাদেশের যে কোনও আইভ্যাক-এ ভিসার জন্য আবেদনকারী সকল ব্যক্তিকে অফেরতযোগ্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ফি প্রদান করতে হয়। ডাবল এন্ট্রি ভিসার জন্য প্রক্রিয়াকরণ ফি ৮০০ টাকা। এর সঙ্গে কনভেনিয়েন্স ফি হিসেবে যুক্ত হয় স্থানীয় পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারীর ধার্যকৃত চার্জ ২৪ টাকা।
অনলাইনে ফি প্রদানের জন্য যেতে হবে https://payment.ivacbd.com লিংকে। প্রবেশের সময় পরপর ২ বার ওয়েব ফাইল নাম্বার চাওয়া হবে। এরপর আবেদনের জন্য নির্বাচিত হাইকমিশন নির্বাচন করতে হয়। ভিসার আবেদন জমা এবং অর্থপ্রদানের জন্য কেন্দ্রের নাম একই হতে হয়।
তারপর ভিসা আবেদনের টাইপ নির্বাচন করে প্রার্থীর নাম, মোবাইল নাম্বার, ও ইমেইল আইডি সহ যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করতে হয়।
আরও পড়ুন: সোনাদিয়া দ্বীপ ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
এবার চূড়ান্তভাবে পেমেন্টের পালা। এখানে বিভিন্ন ধরনের কার্ড, ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবা রয়েছে। এগুলো থেকে নিজের পছন্দ মতো যে কোনও মাধ্যমে ভিসা ফি পেমেন্ট করা যাবে। জমা সম্পন্ন হলে অনলাইন থেকে একটি পেমেন্ট স্লিপ দেওয়া হবে। এটি প্রিন্ট করে পরবর্তীতে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমাদানের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।
ভিসা আবেদনপত্র জমা
জমা সফলভাবে হলে অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনের উপরের ডানদিকে রিপ্রিন্ট অপশনে লগ ইন করতে হবে। এ সময় সেই ওয়েব ফাইল নাম্বার এবং জন্ম তারিখ প্রয়োজন হবে। অতঃপর অনলাইনে আবেদনকৃত পুরো ফর্মটির প্রিন্ট নেওয়া যাবে। প্রিন্টকৃত নথিটিতে ছবির নিচের অংশে এবং ভিসা আবেদনের শেষ পৃষ্ঠায় সইয়ের অংশে সই দিতে হবে।
অতঃপর অনলাইন পেমেন্ট স্লিপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ভিসা আবেদনপত্র জমা দেওয়ার তারিখ ও সময় উল্লেখ থাকে। সাধারণত ফর্ম পূরণের ৮ দিনের মধ্যে নির্ধারিত আইভ্যাক কেন্দ্রে আবেদনপত্র জমা দিতে হয়।
আরও পড়ুন: ১০ হাজার টাকা বাজেটে দেশের বাইরে কোথায় ঘুরতে যাবেন?
বায়োমেট্রিক নিবন্ধন ও সাক্ষাৎকার
আবেদনপত্র জমা দেওয়ার দিন প্রার্থীর ১০ আঙ্গুলের বায়োমেট্রিক ডাটা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রার্থীর ছবি তোলা ও প্রয়োজনীয় সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করা হয়। সব কাজ শেষে প্রার্থীকে একটি ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হয়। এটি প্রদর্শনের মাধ্যমে পরবর্তীতে ভিসাসহ মূল পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যায়।
ভিসা প্রাপ্তি
বায়োমেট্রিক ও সাক্ষাৎকারের পর থেকে ভিসার সর্বশেষ অবস্থা https://indianvisa-bangladesh.nic.in/ visa/StatusEnquiry- লিঙ্কের মাধ্যমে জানা যেতে পারে।
এছাড়া ০৯৬১২৩৩৩৬৬৬ অথবা ০৯৬১৪৩৩৩৬৬৬ নাম্বারেও যোগাযোগ করা যেতে পারে। এ সময় প্রার্থীকে অবশ্যই তার স্টিকার নম্বর বা পাসপোর্ট নাম্বার বলতে হবে।
নির্দিষ্ট দিনে ভিসাসহ মূল পাসপোর্টটি প্রার্থী নিজে সংগ্রহ করতে পারেন অথবা তার মনোনীত ব্যক্তিও তার হয়ে সংগ্রহ করতে পারেন। এক্ষেত্রে মনোনীত ব্যক্তির সঙ্গে সেই ডেলিভারি স্লিপ এবং মূল ব্যক্তির পক্ষ থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহের ক্ষমতা হস্তান্তর পত্র থাকতে হবে।
পরিশেষে
বিভিন্ন দেশে পর্যটন, শিক্ষা ও জীবিকা গ্রহণের জন্য ভারতের ডাবল এন্ট্রি ভিসা বাংলাদেশিদের জন্য এক উপযুক্ত প্রবেশদ্বার। সেই সুবাদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আইভ্যাকগুলো ভিসা প্রাপ্তির অপরিহার্য মাধ্যম। তাই প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য স্ব স্ব আইভ্যাক নির্ধারণ করা আবশ্যক। বর্তমানে আবেদন পদ্ধতি সম্পূর্ণ অনলাইন বিধায় প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোডের ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে সঠিক তথ্য দিয়ে অনলাইন ফর্ম পূরণের ক্ষেত্রে। কেননা একমুখী আবেদনের এ প্রক্রিয়ায় সংশোধনের কোনও উপায় নেই।
আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায়, জনপ্রিয় স্থান ও খরচ
৭৫৯ দিন আগে
অতিরিক্ত দাবদাহে যেভাবে ঘরের ছাদ ঠান্ডা রাখবেন
গ্রীষ্মকালসহ অন্যান্য উষ্ণ ঋতুগুলোতে বহুতল আবাসিক এলাকায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে একদম উপরের তলার বাসিন্দারা। রোদের প্রখর তাপ সরাসরি ঘরের ছাদে পড়ায় তাপ জমে ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা অস্বস্তিকরভাবে বেড়ে যায়। বৈশ্বিক উষ্ণতার ধারাবাহিকতায় চলমান গরমের অবিরাম প্রতাপ থেকে ছাদকে রক্ষা করা এখন আর ঐচ্ছিক বিষয় নেই। বাইরের তাপ থেকে গা বাঁচিয়ে ঘরের ভেতর থাকার জন্য ছাদকে ঠান্ডা রাখা এখন আবশ্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে চলুন, তীব্র গরম আবহাওয়াতে ঘরের ছাদ ঠান্ডা রাখার উপায়গুলো জেনে নেওয়া যাক।
গ্রীষ্ম ও অন্যান্য উষ্ণ মৌসুমে ঘরের ছাদ ঠান্ডা রাখার ১০টি টিপ্স
ছায়াদানকারী উঁচু দেওয়াল বা নেট স্থাপন
খুব ঘন উপাদান সম্পন্ন কংক্রিটে তৈরি হওয়ায় ছাদের স্ল্যাবগুলো খুব দীর্ঘ সময়ের জন্য তাপ ধরে রাখে। এই তাপ পরিবাহিত হয় নিচের ফ্ল্যাটগুলোর প্রতিটি কক্ষে। তাই স্ল্যাব পর্যন্ত যেন সূর্যালোক পৌঁছাতে না পারে, তার জন্য উৎকৃষ্ট উপায় হচ্ছে ছাদে ছায়ার ব্যবস্থা করা। এর ফলে নিদেনপক্ষে ছায়াযুক্ত জায়গাগুলো আশেপাশের স্ল্যাবগুলো থেকে অনেক কম গরম থাকে।
এই ছায়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে ছাদের সীমানার ধার ঘেষে উঁচু দেয়াল বা নেটের মাধ্যমে। এই নেট বা দেওয়াল বিভিন্ন নকশা দিয়ে আকর্ষণীয় করা যায়। সুতরাং ছায়াদানকারী এই স্থাপনা শুধু তাপ নিয়ন্ত্রণই করে না, সেই সঙ্গে দালানের সৌন্দর্য্যও বৃদ্ধি করে। তবে এখানে খেয়াল দেওয়াল বা নেটে হালকা রঙ দেওয়া হচ্ছে কি না সেদিকে দৃষ্টি রাখা উচিৎ।
আরও পড়ুন: তীব্র গরমে পানিশূন্যতা প্রতিরোধে উপকারী শাকসবজি
ছাদে বাগান করা
বিভিন্ন ধরনের ফুল-ফল ও শাক-সবজির গাছ দিয়ে সাজানো বাগানে তৈরি হয় সবুজ ছাদ। এই সবুজ ছাদ নিচের ফ্ল্যাটকে সরাসরি সূর্যের আলো থেকে ছায়া দেয়। উদ্ভিদগুলো নিজেদের খাবার প্রক্রিয়ার কাজে সূর্যের আলো শুষে নেওয়ার কারণে ছাদের পৃষ্ঠসহ আশেপাশের বায়ুর তাপমাত্রা উভয়ই হ্রাস পায়। এতে করে ছাদের আর্দ্রতা অপসারিত হয়ে ছাদ ও নিজের ঘরের পরিবেশ সহনীয় অবস্থায় থাকে।
৭৬১ দিন আগে
সোনাদিয়া দ্বীপ ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
বাংলাদেশের উপকূল থেকে বিশাল জলরাশির উপর বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত বুককে আশ্রয় করে আছে বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলো। চর নামের প্লাবনভূমিগুলো অঙ্গে ধারণ করে আছে গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের পলি মাটিকে। এই দ্বীপপুঞ্জের প্রত্যেকটিতে আছে আদিম জীবনের ঘ্রাণ। আছে অপরিচিত সম্প্রদায়ের মাঝে সাবলীল প্রবেশাধিকার। জেলে গ্রামগুলোর সংগ্রামী দিন যাপন, আতিথেয়তা, আর সংস্কৃতি নিমেষেই আপন করে নেয় স্তম্ভিত পর্যটককে। এমনি শত শত দ্বীপের মাঝে অন্যতম একটি দ্বীপ সোনাদিয়া। সমুদ্র-বিলাসীদের এই চিরন্তন গন্তব্যে পাড়ি জমাতে চলুন, এই দ্বীপাঞ্চলে ভ্রমণ নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
সোনাদিয়ার ভৌগলিক অবস্থান
বাংলাদেশের জনপ্রিয় পর্যটন স্থান কক্সবাজার থেকে ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত মহেশখালী। এই উপজেলার অন্তর্গত কুতুবজোম ইউনিয়নের ছোট্ট একটি দ্বীপ সোনাদিয়া। প্রায় ৯ বর্গকিলোমিটারের এই দ্বীপটি একটি খাল দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে মহেশখালী দ্বীপ থেকে।
ভূতত্ত্ববিদ ও ভূগোলবিদদের মতে, বাঁকখালী নদীর স্রোতধারা ও মহেশখালী প্রণালীর সঙ্গে সাগরের ঢেউয়ের সংঘর্ষে এই দুই এলাকার ঠিক মাঝে বালি জমে জমে জন্ম নিয়েছে সোনাদিয়া দ্বীপ।
আরও পড়ুন: বান্দরবানের বাকলাই জলপ্রপাত ভ্রমণ: বাংলাদেশের অন্যতম সুউচ্চ ঝর্ণায় যাবার উপায় ও খরচ
সোনাদিয়া দ্বীপের নামকরণের ইতিহাস
১০০ থেকে ১২৫ বছর আগে সাগরের মাঝে জেগে ওঠা এই চরে মানুষের বসতি গড়ে উঠে। এরই মাঝে এ দ্বীপের সঙ্গে জড়িয়ে যায় রোমাঞ্চকর সব কিংবদন্তি।
একদা এক বিদেশী জাহাজ মহেশখালীর উপকূলের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় পর্তুগিজ জলদস্যুদের কবলে পড়ে। মালবাহী এই বাণিজ্যিক জাহাজে ছিল প্রচুর পরিমাণ স্বর্ণ। নাবিকদের সঙ্গে জলদস্যুদের সংঘর্ষে পুরো জাহাজটি সাগরের নিচে তলিয়ে যায়। পরবর্তীতে এই দূর্ঘটনাস্থলে বালি ও পলি জমে আস্ত এক দ্বীপের সৃষ্টি হয়। স্বর্ণবাহী জাহাজডুবির ঘটনার কারণে স্থানীয় জেলেদের মাঝে দ্বীপটি স্বর্ণ দ্বীপ বা সোনাদিয়া দ্বীপ নামে পরিচিতি পায়।
এই জায়গাটি নিয়ে লোকমুখে আরও মজার মজার গল্প শোনা যায়। প্রায় পৌনে তিনশ’ বছর আগের কথা। একবার লুতু বহদ্দার নামের এক জেলের জালে এক অদ্ভূত ও রহস্যময় পাথর ধরা পড়ে। পাথরটি সে সঙ্গে করে বাড়ি নিয়ে আসে এবং তা ঘরে ঢোকার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে।
আরও পড়ুন: বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড় ভ্রমণ: বাংলার দার্জিলিং যাওয়ার উপায় ও খরচের বৃত্তান্ত
একদিন এক নাপিত এই সিঁড়িতে বসে কাঁচিতে ধার দেওয়ার সময় অসাবধানে পাথরটি ভেঙ্গে ফেলে। আর সঙ্গে সঙ্গেই তার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে একটি স্বর্ণমুদ্রা। অতঃপর বহদ্দার ও নাপিত সেই স্বর্ণমুদ্রা বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয়। লুতু বহদ্দার যে স্থানে জাল ফেলেছিল সেটি ছিল মূলত একটি চরের সৈকত। আর সেই চরটিই আজকের সোনাদিয়া দ্বীপ।
কেউ কেউ মনে করেন, এক সময় এখানে মুক্তার চাষ হতো। সেই মুক্তা কেনা-বেচা হতো স্বর্ণের দামে। আর এই কারণেই দ্বীপের নামকরণ করা হয় সোনাদিয়া।
৭৬৪ দিন আগে
অতিরিক্ত গরমে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য রক্ষার উপায়
বর্তমানে গরমের তীব্রতা অসহনীয় করে তুলেছে মানুষের জীবন। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রতিকুল অবস্থা আশঙ্কাজনক। অত্যধিক ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় তরল বেরিয়ে যাওয়ার কারণে নানা ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হয়। আর এই ঝুঁকির মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে এই কম বয়সী শিক্ষার্থীরাই। তাই উষ্ণ আবহাওয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজন যথাযথ পদক্ষেপের। উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। তাই চলুন, গরমের তীব্রতা থেকে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়গুলো জেনে নেওয়া যাক।
তীব্র গরমে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের সুস্থ রাখার ১০টি উপায়
দিনের তীব্র গরমের সময় সূর্যালোক এড়িয়ে চলা
সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অতিবেগুনি রশ্মি সবচেয়ে বেশি তীব্র থাকে। আর দিনের এই সময়টাতেই শিক্ষার্থীরা সাধারণত ক্লাস এবং স্কুল-পরবর্তী খেলাধুলার জন্য ঘরের বাইরে থাকে। তাই এই সময়টাতে শিক্ষার্থীদের বিচরণের জায়গাগুলোতে সর্বাত্মকভাবে ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে। গাছ-গাছালি ঘেরা প্রাকৃতিক ছায়া শোভিত স্থান সর্বোত্তম। তবে এর পাশাপাশি ছাউনির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। খেলাধুলার সময় ছাত্রছাত্রীরা যেন উন্মুক্ত জায়গায় চলে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
সূর্যালোকের সংস্পর্শ এড়ানোর জন্য আরেকটি উত্তম উপায় হলো ছাত্রছাত্রীদের ইনডোর গেমের প্রতি আকৃষ্ট করা। এতে করে তাদের বিনোদনও হবে, একই সঙ্গে তাদের শরীরও ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচবে। এটি ছুটির দিনে ঘরের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
আরও পড়ুন: অটিজম কী? অটিজম সচেতনতা ও সহমর্মিতা কেন জরুরি?
গরমের জন্য আরামদায়ক পোশাক পরিধান করা
শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা-যাওয়াসহ বিভিন্ন উপলক্ষে ঘরের বাইরে থাকার সময়ে হাল্কা বুনন, হাল্কা ও এক রঙের কাপড় পড়তে হবে।
হাতাকাটা শার্ট বা গেঞ্জি এবং হাফ প্যান্ট বা শর্টস এক্ষেত্রে উপযুক্ত মনে হতে পারে। কিন্তু কাপড়ের উপাদান এবং শিক্ষার্থীদের শরীরের কতটা অংশ উন্মুক্ত থাকছে সেদিকে কড়া নজর দেওয়া আবশ্যক।
এছাড়া হাতাকাটা বা শর্টসের ক্ষেত্রে কাপড় যদি অনেক মোটা বা ভারী হয়, তাহলে তা আরও গরম করে তুলতে পারে। উপরন্তু, রোদের সংস্পর্শে উন্মুক্ত হাত-পায়ের চামড়া পুড়ে যেতে পারে। তাই শরীর যতটা ঢেকে রাখা যায় ততই ভালো। অর্থাৎ লম্বা হাতা এবং লম্বা প্যান্ট বেছে নেওয়া উত্তম। আর কাপড় ঢিলেঢালা ফিটিং ও হাল্কা রঙের হলে তা বাতাস চলাচলের জন্য উপযোগী হয়।
আরও পড়ুন: নারীদের চেয়ে পুরুষদের আত্মহত্যার হার বেশি যে কারণে
সানস্ক্রিন ব্যবহার করা
সকালে স্কুলে যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে বাচ্চাদের শরীরের উন্মুক্ত অংশে সানস্ক্রিন লাগিয়ে দিতে হবে। কিশোর বয়সীদের ক্ষেত্রে বাবা-মায়েদের তাদের সন্তানকে সানস্ক্রিন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ছোট থেকে অভ্যাস করানো হলে কিশোর বয়সীরা নিজেরাই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে শিখে যাবে। এই অভ্যাস কার্যকর করার জন্য প্রতিবার ঘর্মাক্ত হওয়ার দুই ঘণ্টা পরপর সানস্ক্রিন প্রয়োগ করা যেতে পারে। এছাড়া স্কুলের খেলাধুলার পর বাচ্চাদের সানস্ক্রিন প্রয়োগ করতে মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
একটি গল্ফ বলের মাপের সমান বা প্রায় ২৮ গ্রাম সানস্ক্রিন পুরো শরীরে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে শরীরের যে অংশগুলো সাধারণত এড়িয়ে যায় সেগুলোতে বেশি নজর দেওয়া উচিত। যেমন- কানের পিছনে, ঘাড়ে, হাত ও পায়ের উল্টো পিঠের অংশগুলো।
ছাতা ব্যবহার করা
স্কুলে যাওয়া ও আসা নিয়ে প্রতিদিনই বাচ্চাদের একটি উল্লেখযোগ্য সময় রোদের আলোয় কাটাতে হয়। এই সময়টিতে শুধুমাত্র সানস্ক্রিনের উপর নির্ভর করাটা যথেষ্ট নয়। সূর্যালোক প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরিধান ছাড়াও এ সময়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ছাতা ব্যবহার করা। খুব নান্দনিক এবং রঙচঙা নয়, এ ক্ষেত্রে খেয়াল দিতে হবে ছাতাটি রোদ থেকে কতটা ছায়া দিতে পারছে তার উপর। মুষলধারে বৃষ্টি থেকে মাথা বাঁচাতে যেভাবে ছাতা ব্যবহার করা হয়, এক্ষেত্রেও একই কাজ করা উচিত। আর ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের এই অভ্যাস তৈরিতে আদর্শ হতে পারে পিতামাতা ও পরিবারের অন্যান্য প্রাপ্তবয়স্করা।
আরও পড়ুন: সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ
ঘরকে ঠান্ডা রাখা
গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে ঘরে থাকতে হলে সেই ঘরকেও রাখতে হবে তাপমুক্ত। কেননা বাইরে থেকে রোদের আলো ঘরে ঢুকে অথবা ঘরের দেয়াল রোদ শুষে নিয়ে ঘরকে উত্তপ্ত করে তোলে। এ অবস্থা থেকে শতভাগ মুক্তি না মিললেও সম্ভাব্য কার্যকর উপায়গুলো অবলম্বন করা যেতে পারে।
যেমন হলুদ এবং হ্যালোজেন বাল্বগুলো প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে। তাই এগুলোর বদলে ব্যবহার করতে হবে এলইডি লাইট, যা ঘর ঠান্ডাও রাখে আবার বৈদ্যুতিক খরচের দিক থেকেও বেশ সাশ্রয়ী।
দিনের উত্তপ্ত সময়গুলোতে জানালার পর্দা টেনে দিতে হবে। জানালা বন্ধ রাখা হলে সূর্যালোকের ঘরের ভেতর ঢুকতে আরও একধাপ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। ঠিক সন্ধ্যার দিকে পর্দা সরিয়ে জানালা খুলে দিলে বাইরের ঠান্ডা বাতাস ভেতরে প্রবেশ করবে। এতে করে দিনের বেলা বাইরের গরম বাতাস ভেতরে আসবে না। রাতভর ঘরের ভেতর জমা হওয়া ঠান্ডা বাতাস দিনের বেলা বাইরে যেতে পারবে না।
আরও পড়ুন: মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ
৭৬৭ দিন আগে
থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ
থ্যালাসেমিয়া সৃষ্টিকারী জিন মিউটেশনের সর্বপ্রথম উদ্ভব ঘটেছিল ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে আংশিক সুরক্ষা হিসেবে। তাই বিশ্বের যে অঞ্চলগুলোতে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেশি সেখানে থ্যালাসেমিয়া সক্রিয়। এই অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ এবং পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত প্রতিটি রোগীর বংশানুক্রমিক যোগসূত্র থাকে তাদের পূর্বপুরুষের সঙ্গে। থ্যালাসেমিয়া রোগ দ্রুত শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। এতে সম্পূর্ণভাবে রোগমুক্তি না মিললেও জটিলতাগুলো অনেকাংশে কমানো যায়। তাই চলুন, থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ, লক্ষণ, ও নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলো জেনে নেওয়া যাক।
থ্যালাসেমিয়া কী
লোহিত রক্তকণিকার প্রোটিন অণু হিমোগ্লোবিন সারা শরীরে অক্সিজেন বহন করে। থ্যালাসেমিয়া এমন একটি বংশানুক্রমিক ব্যাধি, যার ফলে এই হিমোগ্লোবিনে অসঙ্গতি দেখা দেয়। ফলে লোহিত রক্তকণিকা অত্যধিক মাত্রায় ধ্বংস হয়ে শরীরকে রক্তাল্পতার দিকে ঠেলে দেয়।
থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ
মা-বাবার মধ্যে যে কোনো একজনের থ্যালাসেমিয়া হলে সন্তানও এই রোগে আক্রান্ত হয়। এটি মূলত জেনেটিক মিউটেশন বা জিনগত পরিবর্তনের কারণে ঘটে। এই পরিবর্তনটি ঘটে কোষের ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিইক এসিড) তে, যা হিমোগ্লোবিনকে প্রভাবিত করে।
হিমোগ্লোবিন অণুগুলো আলফা এবং বিটা নামক চেইন দিয়ে তৈরি। থ্যালাসেমিয়ায় এই আলফা বা বিটা চেইনের উৎপাদন কমে যায়। আর এ কারণে থ্যালাসেমিয়া প্রধানত দুই ধরনের- আলফা-থ্যালাসেমিয়া এবং বিটা-থ্যালাসেমিয়া।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ, নির্ণয়ের প্রক্রিয়া, চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
আলফা-থ্যালাসেমিয়ায় রোগের তীব্রতা নির্ভর করে পিতামাতার কাছ থেকে প্রাপ্ত পরিবর্তিত জিন সংখ্যার উপর। যত বেশি পরিবর্তিত জিন, থ্যালাসেমিয়া তত গুরুতর।
অন্যদিকে, বিটা-থ্যালাসেমিয়ায় হিমোগ্লোবিন অণুর কোন অংশ প্রভাবিত হয়েছে তার উপর নির্ভর করে রোগের মাত্রা কম-বেশি হয়।
আলফা-থ্যালাসেমিয়া
এই রোগে হিমোগ্লোবিনের আলফা চেইনকে প্রভাবিত করতে সর্বোচ্চ চারটি পরিবর্তিত জিন অংশ নেয়। মা ও বাবার প্রত্যেকের কাছ থেকে দুটি করে।
শুধু একটি জিন পেয়ে থাকলে আক্রান্তের দেহে রোগের কোন লক্ষণ থাকে না। কিন্তু এরপরেও আক্রান্তের দেহ থেকে পরবর্তীতে তার সন্তানদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু সম্পর্কে ১০টি প্রচলিত ধারণা: জেনে নিন সঠিক তথ্য
দুটি জিনের ক্ষেত্রে থ্যালাসেমিয়ার উপসর্গ হালকা হয়। আর এই অবস্থাতেই রোগীকে আলফা-থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বলা হয়।
তিনটি জিন প্রাপ্ত হলে উপসর্গ মাঝারি থেকে গুরুতর হয়। বংশানুক্রমিকভাবে চারটি জিন পাওয়াটা দুর্লভ। এই ক্ষেত্রে শিশুরা প্রায়ই জন্মের পরেই মারা যায় বা আজীবন ট্রান্সফিউশন থেরাপির প্রয়োজন হয়।
বিটা-থ্যালাসেমিয়া
রোগের এই সংস্করণে হিমোগ্লোবিন বিটা চেইনকে প্রভাবিত করতে দুটি পরিবর্তিত জিন অংশ নেয়। সন্তান মা ও বাবার প্রত্যেকের কাছ থেকে একটি করে জিন পায়।
একটি জিন পেলে রোগের হালকা লক্ষণ দৃশ্যমান হয়। এই অবস্থাকে থ্যালাসেমিয়া মাইনর বা বিটা-থ্যালাসেমিয়া বলা হয়।
আরও পড়ুন: সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ
দুটি জিন প্রাপ্ত হওয়া মানেই রোগ মাঝারি থেকে গুরুতর পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। এই অবস্থাকে থ্যালাসেমিয়া মেজর বা কুলি অ্যানিমিয়া বলা হয়।
দুটি বিটা হিমোগ্লোবিন জিন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশুরা সাধারণত জন্মের সময় সুস্থ থাকে। কিন্তু প্রথম দুই বছরের মধ্যেই লক্ষণগুলো দেখা দিতে শুরু করে।
থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণ
উপসর্গহীনতা বা হালকা উপসর্গ
একদম প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গই পরিলক্ষিত হয় না। সর্বোচ্চ হালকা রক্তাল্পতার কারণে মৃদু ক্লান্তি বোধ হতে পারে।
হালকা থেকে মাঝারি উপসর্গ
লক্ষণ হালকা রক্তাল্পতা থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে মাঝারি পর্যায়ের দিকে এগোতে থাকে। এ সময়-
- দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটে
- বয়ঃসন্ধিকাল আসতে বিলম্ব হয়
- অস্টিওপরোসিস বা হাড়ের অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়
- তলপেটের অভ্যন্তরের প্লীহা নামক অঙ্গটি অস্বাভাবিক ভাবে বড় হয়ে যায়। এই প্লীহা পেটের ভেতরে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভূমিকা পালন করে।
আরও পড়ুন: মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ
গুরুতর লক্ষণ
রক্তাল্পতা এ ক্ষেত্রে মাঝারি থেকে প্রকোট আকার ধারণ করে। এ সময় যে উপসর্গগুলো দেখা দেয় তা হলো:
- আহারে রুচি কমে যাওয়া
- ত্বক ফ্যাকাশে বা হলুদ হওয়া
- প্রস্রাব গাঢ় রঙের হওয়া
- মুখের হাড়ের গঠন অস্বাভাবিক হওয়া|
আরও পড়ুন: অটিজম কী? অটিজম সচেতনতা ও সহমর্মিতা কেন জরুরি?
থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা
থ্যালাসেমিয়া নির্ণয়
স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী থ্যালাসেমিয়া নির্ণয়ের জন্য জরুরি ভাবে বিভিন্ন রক্ত পরীক্ষা করতে পারেন। এই টেস্টগুলো হলো:
কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট
এর মাধ্যমে হিমোগ্লোবিন এবং লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ এবং আকার সম্বন্ধে জানা যায়। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্তদের সাধারণত স্বাভাবিকের চেয়ে কম স্বাস্থ্যকর লোহিত রক্তকণিকা এবং কম হিমোগ্লোবিন থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের লোহিত রক্তকণিকা স্বাভাবিক মাত্রায় থাকতে পারে।
রেটিকুলোসাইট কাউন্ট
এটি মূলত তরুণ লোহিত রক্ত কোষের একটি পরিমাপ। এর মাধ্যমে জানা যায়, অস্থি মজ্জা যথেষ্ট পরিমাণে লোহিত রক্ত কোষ তৈরি করছে কি না।
এছাড়া আয়রনের টেস্টের মাধ্যমে রক্তশূন্যতার কারণ যাচাই করা হয়। বিটা-থ্যালাসেমিয়া নির্ণয়ের জন্য ব্যবহার করা হয় হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস। আর আলফা থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে জেনেটিক পরীক্ষা করা হয়।
আরও পড়ুন: সার্কেডিয়ান রিদম বা দেহ ঘড়ি নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
চিকিৎসার সম্ভাব্য উপায়
ব্লাড ট্রান্সফিউশান
এই চিকিৎসার প্রধান উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যকর লোহিত রক্তকণিকা এবং হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা পুনরুদ্ধার। এর জন্য শিরাতে লোহিত রক্ত কোষ প্রবেশ করানো হয়। মাঝারি বা গুরুতর থ্যালাসেমিয়াতে প্রতি চার মাসে এবং বিটা-থ্যালাসেমিয়া মেজরে প্রতি দুই থেকে চার সপ্তাহে একবার করে ট্রান্সফিউশন দেয়া হয়। হিমোগ্লোবিন এইচ রোগ বা বিটা থ্যালাসেমিয়া ইন্টারমিডিয়ার জন্য মাঝে মাঝে ট্রান্সফিউশনের প্রয়োজন হতে পারে।
আয়রন চিলেশন
এই চিকিৎসার মাধ্যমে শরীর থেকে অতিরিক্ত আয়রন অপসারণ করা হয়। ব্লাড ট্রান্সফিউশানের একটি ঝামেলা হলো, এর ফলে আয়রন বেড়ে যেতে পারে। আর অত্যধিক আয়রন বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতির কারণ হতে পারে। ঘন ঘন ট্রান্সফিউশন দেয়া হলে তার সাথে আয়রন চিলেশন থেরাপিও দেওয়া হয়।
ফলিক অ্যাসিডের সাপ্লিমেন্ট্স
শরীরে সুস্থ রক্তকণিকা তৈরির জন্য ডাক্তার এই প্রতিষেধকগুলো গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
আরও পড়ুন: নারীদের চেয়ে পুরুষদের আত্মহত্যার হার বেশি যে কারণে
বোন ম্যারো অ্যান্ড স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট
এই জটিল চিকিৎসায় একজন উপযুক্ত দাতার কাছ থেকে অস্থি মজ্জা এবং স্টেম সেল রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়। উপযুক্ত মানে গ্রহীতার মত দাতার কোষের পৃষ্ঠে থাকতে হবে একই ধরনের প্রোটিন, যাকে হিউম্যান লিউকোসাইট অ্যান্টিজেন (এইচএলএ) বলা হয়। চিকিৎসা চলাকালীন গ্রহীতার রক্তপ্রবাহে দাতার অস্থি মজ্জা স্টেম সেল প্রবেশ করানো হয়। প্রতিস্থাপিত কোষগুলো এক মাসের মধ্যে নতুন ও সুস্থ রক্তকণিকা তৈরি করতে শুরু করে।
থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের উপায়
শুধুমাত্র বংশানুক্রমিকভাবে যোগসূত্র থাকা ব্যক্তিরাই থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হন। অর্থাৎ, আক্রান্ত শিশু এই ব্যাধি নিয়েই জন্ম নেয়। ফলশ্রুতিতে, জিনগত এই ব্যাধি থেকে দূরে থাকার কোনো প্রশ্ন থাকে না। তবে এর জটিলতাগুলো প্রতিরোধ করার জন্য নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
স্বামী বা স্ত্রী যে কারো এই ব্যাধি থাকলে সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে জেনেটিক্স কাউন্সিলরের সরণাপন্ন হতে হবে। এখানে খেয়াল রাখতে হবে যে, গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্য ঝুঁকির সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঝুঁকির মাত্রা কমিয়ে নিয়ে আসাটাই এখানে মূল উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন: ব্লু জোন রহস্য: রোগহীন দীর্ঘজীবী সম্প্রদায়ের খোঁজে
একজন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর জীবন ধারণ পদ্ধতি মেনে চলতে হয়। এখানে প্রথমেই নজর দিতে হয় খাবারের দিকে। এ সময় সহায়ক খাবারের তালিকায় যুক্ত করতে হবে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল ও সবজি। যেমন- কমলা, আঙ্গুর, সবুজ ও লাল মিষ্টি মরিচ, স্ট্রবেরি, কিউই ফল, ফুলকপি, এবং টমেটো।
তবে এড়িয়ে চলতে হবে আয়রন সমৃদ্ধ খাবারগুলো। এই তালিকায় রয়েছে মাছ, মাংস এবং পালং শাক।
খাদ্যাভ্যাস গঠনের পাশাপাশি মনোন্নিবেশ করতে হবে শরীর চর্চার প্রতিও। মূলত এই খাদ্যাভ্যাস ও শরীর চর্চা পরিপূর্ণ ভাবে থ্যালাসেমিয়া নিরাময় করতে পারে না। তবে ঝুঁকির তীব্রতা অনেকটা উপশম করা যায়।
আরও পড়ুন: জিমে অনুশীলনের সময় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানোর উপায়
পরিশিষ্ট
থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ ও লক্ষণগুলোর ব্যাপারে সম্যক ধারণা নিয়ন্ত্রিত জীবনধারা বজায় রাখার মোক্ষম হাতিয়ার। খাবার ও ওষুধ গ্রহণে ভিটামিনের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। আর এড়িয়ে চলতে হবে আয়রন উপাদান।সর্বপরি, ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে নিত্যদিনের করণীয়গুলো সাজালে মুক্তি মিলতে পারে গুরুতর জটিলতাগুলো থেকে। দীর্ঘমেয়াদে যা সহায়ক হতে পারে আয়ু বৃদ্ধির ক্ষেত্রে।
৭৬৭ দিন আগে