সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রদত্ত বিভিন্ন ভাতার তালিকা সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলের স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম দূর করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের ভাতা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের অবৈধ ও মনগড়া কর্মসূচিগুলোও সংশোধন করা হবে।
রবিবার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রশ্নটি রাখেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক ও শাহাজাহান চৌধুরী।
প্রশ্নোত্তর পর্বের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে স্বৈরাচারমুক্ত একটি সার্বভৌম সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য জনগণকে সংসদের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।
বিগত সরকারের সময়কার অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ফারজানা শারমিন বলেন, সে সময় সমাজকল্যাণ বিভাগ যেসব অবৈধ ও মনগড়া কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল, সেগুলো দ্রুত সংশোধন করা প্রয়োজন। বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা ভাতাভোগীদের তালিকা পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরাই এ সুবিধা পান।
ফ্যামিলি কার্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ১৪টি ইউনিটে কাজ শুরু হয়েছে এবং সেখান থেকে ফিডব্যাক নেওয়া হচ্ছে। ভাতার কার্ডে থাকা অনিয়মগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের দিকে যাচ্ছি। একইসঙ্গে পূর্ববর্তী সময়ে প্রণীত আইন ও নীতিমালাও যাচাই করে একটি সুষ্ঠু নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
দেশে ভাতা কর্মসূচি চালুর কৃতিত্ব সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ কর্মসূচি প্রথম চালু করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকার তা বাস্তবায়ন করে। তবে অতীতে তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক স্বজনপ্রীতি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাঠপর্যায়ে তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদেরই কার্ড ও সরকারি সহায়তা দেওয়া নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে যাদের প্রকৃত প্রয়োজন, তাদের কাছেই সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।