আওয়ামী লীগ
শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ.লীগের নেতা-কর্মীরা: উপদেষ্টা জাহেদ
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শর্ত মানলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে কি না জানতে চাইলে—প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো রকমের সমস্যা নেই। একজন ব্যক্তি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান, তিনি যদি আওয়ামী লীগের হয়েও নির্দলীয় থাকেন তাও পারবেন। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়, এখানে কেউই দলের কথা বলবেন না।
‘একজন নির্দলীয় ব্যক্তি আসলেন, কিন্তু তিনি যদি তার প্রচারণায় আওয়ামী লীগ বা তাদের দলের যা যা বলার সেগুলো বলেন, সেটা কিন্তু সমস্যা হবে। এর বাইরে নির্দলীয় ব্যক্তি নির্বাচনটা করার জন্য যে ক্রাইটেরিয়া (শর্ত) আছে, সেটা যদি তিনি পূরণ করতে পারেন, তাহলে তিনি নির্বাচন করতে পারেন। নিশ্চয়ই পারেন।’
যদি নির্বাচনে আসা কারও আওয়ামী লীগের দলীয় পদ-পদবি থাকে তাহলে কী হবে— এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সংগঠনের কর্মসূচি যেহেতু নিষিদ্ধ আছে এই পোস্ট পজিশন তিনি তো আসলে ব্যবহার করছেন না, তিনি করতে পারেন না। ব্যক্তি হিসেবে কেউ যদি নির্বাচনের শর্তে যা আছে সেটা পূরণ করতে পারেন, তাহলে তিনি নির্বাচন করতে পারেন। এ ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই।
১০ দিন আগে
যশোরে আওয়ামী লীগ নেতা টিংকু গ্রেপ্তার
যশোরের শার্শায় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে উপজেলার চালিতাবাড়ী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি উপজেলার কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি।
তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন।
তিনি জানান, ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ৪টি মামলা রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। দীর্ঘদিন পর এলাকায় ফিরে এসে তিনি নাশকতার পরিকল্পনা করছেন, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে যশোর আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।
১১ দিন আগে
হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় তোফায়েল আহমেদকে শেষ বিদায়
কিংবদন্তি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং নয়বারের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদকে দলমত নির্বিশেষে হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার প্রতি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে তার জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
তারা জানাজার নামাজে ইমামতি করেন ভোলা খলিফাপট্টি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জমির উদ্দিন।
জানাজায় ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ বিএনপি, বিজেপি, কমিউনিস্ট পার্টি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সর্বস্তরের হাজারো মানুষ অংশ নেন। তীব্র গরম ও রোদ উপেক্ষা করে তারা প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
১৭ দিন আগে
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন প্যারালাইসিসসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি।
তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আজ (সোমবার) মাগরিবের নামাজের পর ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। তারপরে স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে মরদেহ রাখা হবে। এরপর আগামীকাল হেলিকপ্টার বা মরদেহবাহী ফ্রিজিং ভ্যানে তার মরদেহ ভোলায় নেওয়া হবে। মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পরে ভোলা জিলা স্কুল মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় সক্রিয় ছিলেন দেশের রাজনীতিতে।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মৌলভী আজহার আলী ও মা ফাতেমা বেগম। দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও একমাত্র সন্তান ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নীকে রেখে গেছেন।
শিক্ষাজীবনে ১৯৬০ সালে ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৬২ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৪ সালে বিএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি সম্পন্ন করেন।
ছাত্রলীগের মাধ্যমে তোফায়েল আহমেদের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ইকবাল হলের (বর্তমানে শহিদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) নির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) ছিলেন তিনি। ১৯৬৮-৬৯ সালের গণজাগরণ ও ছাত্র আন্দোলনে তিনি ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব আসামিকে মুক্তি দেয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সেই বছরেরই ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভার আয়োজন করে। লাখো জনতার অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলনে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি ঘোষণা দেন তোফায়েল আহমেদ।
প্রথমবারের মতো ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন তিনি। এরপর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন।
দেশ স্বাধীনের পরের বছর ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব লাভ করেন।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নিজের জেলা ভোলা থেকে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন।
১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে ২০১৩-১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন।
রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৫ সাল থেকে টানা ৩৩ মাসসহ অসংখ্যবার কারাভোগ করেন এই নেতা।
১৮ দিন আগে
দেওয়ালে ‘জয় বাংলা’ গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে হামলা: কক্সবাজারে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের
কক্সবাজারের উখিয়ায় ছেলেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মারধর থেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে এক মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম ছৈয়দা খাতুন (৫০)।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ছৈয়দা খাতুন ওই এলাকার সৈয়দ হোসেনের স্ত্রী ছিলেন।
নিহতের ছেলে আব্দুর রহমানকে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ দাবি করে মারধর করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
নিহতের স্বজনরা জানান, সম্প্রতি দেওয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মামলার আসামি দাবি করে আব্দুর রহমানকে আটক করা হয়। এরপর তাকে মারধর শুরু করেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও ছাত্রদল নেতা জিসানের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। ছেলেকে রক্ষা করতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মা ছৈয়দা খাতুন, কিন্তু হামলাকারীদের মারধরে তিনিও গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থলে যাওয়া উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উমেছিং মারমা বলেন, খবর পেয়েছিলাম একজন আসামিকে এলাকাবাসী আটক করে রেখেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুর রহমানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মারধরের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, আব্দুর রহমানকে সন্দেহভাজন হিসেবে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে কোন মামলায় তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলতে পারেননি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে আব্দুর রহমান কোন মামলার আসামি ছিলেন, সে বিষয়ে তিনিও স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি।
৩৩ দিন আগে
সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন।
বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ৮৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিক নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তার বড় ছেলে সাবেদুর রহমান সুমু মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের ৭ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ একমাস তিনি অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাকে এইচডিইউসহ কয়েক দফায় আইসিইউতে রাখা হয়। তিনি নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বাদ আসর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম শহরে কোনো জানাজা অনুষ্ঠিত হবে না। ঢাকায় একটি জানাজা হবে, তবে সেটির স্থান ও সময় এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মোশাররফ হোসেনকে অক্টোবর মাসে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে কেন্দ্রীয় কারাগারের হাসপাতাল থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তখন তার কারামুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত জামিন চেয়ে তার স্ত্রী আয়েশা সুলতানা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে তিন-চার দফায় লিখিত আবেদন করেছিলেন। তবুও তার জামিন হচ্ছিল না। সর্বশেষ আইসিইউতে থাকাকালীন তার জামিন হয়। এরপর থেকেই তিনি মারত্মক অসুস্থ ছিলেন।
এরপর গত মাসে তার ছোট ভাইয়ের মৃত্যুতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এর তিন দিন পর থেকে তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে ৭ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরে ১৯৬৬ সালে লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
ছাত্রজীবনেই তিনি ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দেশে ফিরে এম এ আজিজের হাত ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
১৯৭০ সালে প্রথমবার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।
মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে শুভপুর সেতু উড়িয়ে দেওয়ার অভিযানে তিনি নেতৃত্ব দেন। পরে বিভিন্ন গেরিলা অভিযানে অংশ নেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালেও তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
দলীয় রাজনীতিতে তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তার পিতা এস রহমান ছিলেন তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। তিনি ‘ওরিয়েন্ট বিল্ডার্স করপোরেশন’ এবং কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী ‘হোটেল সায়মন’ প্রতিষ্ঠা করেন।
৩৭ দিন আগে
তোফায়েল আহমেদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ দুই জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত ।
মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজ এ আদেশ দেন।
অবৈভাবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় আজ অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ছিল। তবে তোফায়েল আহমেদের অসুস্থতার কথা জানিয়ে সময়ের আবেদন করেছেন তার আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার।
তিনি বলেন, তোফায়েল আহমেদের বয়স ৮২ বছর। তিনি বার্ধ্যক্যজনিত নানা জটিলতা নিয়ে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি কাউকে চিনতে পারেন না। তার স্মৃতিশক্তি নেই। আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে তিনি শারীরিকভাবে অক্ষম।
তার মানসিক অবস্থা পরীক্ষার অনুরোধ জানিয়ে শুনানি পেছানোর আবেদন করেছেন তার আইনজীবী। তবে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে বৃহস্পতিবার (৭ মে) অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেন।
এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন—মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং মোশাররফ হোসেন। তিন আসামির মধ্যে মোশারফ হোসেন জামিনে থেকে আদালতে হাজিরা দেন।
২০০২ সালে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম মামলাটি করেছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, তোফায়েল আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করেছেন। পরবর্তীতে ওই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে তিন জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল।
৪৫ দিন আগে
ময়মনসিংহের পাঁচবারের সাবেক এমপি মোসলেম উদ্দিন আর নেই
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের আওয়ামী লীগ নেতা ও দলটি থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য হওয়া অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মোসলেম উদ্দিন ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, গণপরিষদের সাবেক সদস্য, জাতীয় সংসদ সদস্য ও ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে, দুই মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজন ও বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে মোসলেম উদ্দিনকে জাপান- বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
তার ছেলে ইমদাদুল হক সেলিম বলেন, ঢাকার ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে বাদ যোহর তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া আগামীকাল (রবিবার) সকাল ১০টায় ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতিতে, বিকেল ৩টায় ফুলবাড়ীয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, বিকেল ৫টায় আলহাজ্ব মো. মোসলেম উদ্দিন এতিমখানা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে নিউগী কুশমাইলের নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-৬ থেকে ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এই নেতা।
৪৮ দিন আগে
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী
বিগত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলো যাচাই-বাছাই এবং প্রত্যাহারের সুপারিশ করতে সরকার ইতোমধ্যে দুটি কমিটি গঠন করেছে। গত ৫ মার্চ জেলা প্রশাসক (ডিসি)-এর সমন্বয়ে ৪ সদস্যবিশিষ্ট জেলা পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
জেলা কমিটির সুপারিশগুলো চূড়ান্তভাবে পর্যালোচনার জন্য ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত কমিটির নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। তবে বর্তমান প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যসহ যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা, এমনকি হত্যা মামলাও যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হলে তা উভয় কমিটি পর্যালোচনা করবে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যদি কোনো মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে তা প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা থেকে ভুক্তভোগীদের প্রতিকার প্রদানে আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, জেলা পর্যায় থেকে আসা সুপারিশগুলো কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়মিতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে এবং মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
৬৪ দিন আগে
সাবেক এমপি সফুরা বেগম রুমীর জামিন নামঞ্জুর
লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভানেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমীর জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে তাকে লালমনিরহাট আমলী আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে, বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে আজ (বৃহস্পতিবার) তাকে লালমনিরহাটে নিয়ে যাওয়া হয়।
গ্রেপ্তার সফুরা বেগম রুমী লালমনিরহাট শহরের তালুক খুটামারা এলাকার বাসিন্দা। তিনি সংরক্ষিত নারী আসন-২ (লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম)-এর সাবেক সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, নাশকতা ও হত্যাসহ ৫টি মামলার আসামি সফুরা বেগম রুমী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর আজ বিকেলে তাকে লালমনিরহাট আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
আদালতে নেওয়ার পর তার পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হয়। তবে, বিচারক তাকে লালমনিরহাট সদর থানার একটি মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। লালমনিরহাট জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় হামার বাড়ি ভাঙচুর মামলায়ও তাকে জামিন দেওয়া হয়নি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু আহাদ খন্দকার লেলিন বলেন, আদালত একটি মামলায় জামিন দিলেও অপর একটি মামলার জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করে দিয়েছেন। আশা করছি আগামী কার্যদিবসে তিনি জামিন পাবেন।
লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, লালমনিরহাট সদর থানায় ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারিতে করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৭১ দিন আগে