আওয়ামী লীগ
ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসির সঙ্গে আ. লীগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
সম্প্রতি ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানার ওসি বদলি, বিশেষ করে শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকরা জানতে চান, শুধু বদলি করাই কি সমস্যার সমাধান?
প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘না, বদলি প্রশাসনিক কারণে হয়, কোনো বিষয়ে কর্তব্য অবহেলার কারণে হয় অথবা কোনো কিছুর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সে জন্য হয়। কিন্তু বদলিটা লাস্ট (শেষ) নয়, বদলির পরে তাদের বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং (বিভাগীয় ব্যবস্থা) হচ্ছে।’
ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসির ভাইরাল হওয়া ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি বলেন, কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং বিভাগীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
ওই সাবেক ওসির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন ক্যান্টনমেন্ট থানার তৎকালীন ওসি মো. রাকিবুল হাসান।
অডিও বক্তব্যে রাকিবুল হাসানকে পুলিশের বর্তমান পরিস্থিতি, কর্মকর্তাদের পদায়ন ও অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। তিনি পুলিশের পদায়ন ও নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন।
তিনি দাবি করেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, অথচ মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা তা করছেন না। ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে পোস্টিং এবং যোগ্য কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
একই সঙ্গে শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে ঠেকানোর সক্ষমতা পুলিশের নেই বলেও মন্তব্য করেন রাকিবুল।
অডিওটি নিয়ে তদন্তের পর রাকিবুলকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয় এবং গত ২৪ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। পরে মামলাটির তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) দেওয়া হয়।
১ দিন আগে
লালমনিরহাটে গোপন বৈঠক থেকে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
লালমনিরহাটে গোপন বৈঠক ও অনলাইন মিটিংয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করার সময় পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. মজিবর রহমান টুলুকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল শহরের চাঁদনী বাজার এলাকার একটি ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার মজিবর রহমান টুলু পৌরসভার নামাটারী এলাকার বাসিন্দা।
ওসি সাদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ওই এলাকায় একটি চক্র গোপন বৈঠকে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানে মজিবর রহমান টুলুর মোবাইল ফোন তল্লাশি করে অনলাইনে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া তার মোবাইল ফোনে আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন উসকানিমূলক পোস্ট ও স্ট্যাটাস পাওয়া গেছে, যা জনমনে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওসি সাদ আরও জানান, গ্রেপ্তার মজিবর রহমান টুলুর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করার কাজ প্রক্রিয়াধীন।
জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
৪ দিন আগে
নওগাঁয় আওয়ামীপন্থি অধ্যক্ষের হাত-পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা, মোটরসাইকেলে আগুন
নওগাঁর রাণীনগরে ৫ আগস্টের পর বরখাস্ত হওয়া আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জিএম মাসুদ রানা জুয়েল হামলার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা মারধর করে তার এক হাত এবং দুই পা ভেঙে দিয়েছে। এছাড়া, তার মোটরসাইকেলেও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ঘটনাটি ঘটে।
হামলার পর মাসুদ রানা জুয়েলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি রাণীনগর উপজেলার রাতোয়াল গ্রামের বাসিন্দা।
আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাউদ্দীন আহম্মেদ জানান, মহাবিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন—এমন অভিযোগে বেশ কয়েকজন ভুক্তযোগী গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে এবং ৫ আগস্টের পর মহাবিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা জুয়েলকে প্রায় দুই বছর আগে পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে দীর্ঘ দুই বছর পর তিনি উচ্চ আদালত থেকে চাকরিতে পূর্নবহালের আদেশ পান।
আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং মহাবিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসানের আদেশে গতকাল (রবিবার) মাসুদ রানা আবার মহাবিদ্যালয়ে যোগদান করতে আসেন বলে জানান অধ্যক্ষ সালাউদ্দীন আহম্মেদ।
তিনি আরও জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মাসুদ রানা অফিসকক্ষে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় বেশ কয়েকজন লোক এসে সেখান থেকে মাসুদ রানাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর শুরু করে এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
পরে গুরুতর আহত মাসুদ রানাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে হামলাকারী কারা ছিলেন তা বলতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
হামলার শিকার মাসুদ রানার ভাই প্রিন্স আহম্মেদ বলেন, আমার ভাই কলেজে যোগদান করতে গেলে বেশ কিছু লোকজন তার সঙ্গে আমাকেও বেধড়ক মারধর করে। তাদের মারধরে ভাইয়ের এক হাত এবং দুই পা ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি ও ইউএনও মো. রাকিবুল হাসান বলেন, সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভায় ছিলাম। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নিকট থেকে মারধরের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, অধ্যক্ষকে মারধর এবং মোটরসাইকেলে আগুন ধরে দেওয়ার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্ত করা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, আজ (সোমবার) সকালে হামলার শিকার মাসুদ রানা জুয়েলের স্ত্রী রানীনগর শের ই বাংলা কলেজের প্রভাষক রোকসানা পারভিন জানান, নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্বামীর অবস্থার অবনতি হলে গতকাল রাতে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৭ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী আসিফ ইনান।
সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। রায়ে আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়। ২০২৫ সালের ১৮ জুন মামলার তদন্ত শুরু করে তদন্ত সংস্থা। একই বছরের ৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এরপর ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ও মামলাটি আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের মোট ২৯ জন সাক্ষী ছিলেন। তাদের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়ে ২৭ জুলাই, ২৯ জুলাই ও ২ আগস্ট সাক্ষীদের সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়।
মামলায় আদালতে ১২৩ সিরিজের নথি ও ডকুমেন্ট প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি ২৭টি বস্তুগত আলামতও প্রদর্শন করা হয়েছে।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ৪ আগস্ট যুক্তিতর্ক শুরু হয়। ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এ জন্য আদালত মোট নয় কার্যদিবস সময় দেন।
যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। নথিতে রায় ঘোষণার তারিখ হিসেবে ১৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলাটির বিচারিক নিষ্পত্তি হলো।
১৩ দিন আগে
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় মঙ্গলবার
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ অন্য প্রসিকিউটররা।
মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন: আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।
এরপর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আসামিদের ভূমিকা ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয় যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।
১৪ দিন আগে
বাঁধনের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, এ ঘটনা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাঁধনের ওপর হামলার প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা ভিডিও দেখেছি। যারা হামলা করেছেন, তারাও নিজেরা ভিডিও করে এটা প্রকাশ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘এই ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা ওই দেশে যা যা নেওয়া, এটার প্রসেস (প্রক্রিয়া) শুরু হয়েছে। আমরা অবশ্যই এটা ছেড়ে দেব না। এটা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না।’
‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল নয়, মাফিয়া গ্যাং’
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার প্রসঙ্গ তুলে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কী বস্তু? আওয়ামী লীগ কারা করেন? আওয়ামী লীগ কী? তারা আমাদের সামনে আবার হাজির করছেন।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটা রাজনৈতিক দল কি না, এই আলাপটা আমরা কেউ কেউ করেছি, খুব করেছি। আমি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল মনে করি না। ইট ইজ এ্যা মাফিয়া গ্যাং।’
আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে দেশে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উচিত কি না, বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এনেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনি যদি যা যা ঘটিয়েছেন, এরপর যদি ন্যূনতম আপনার দুঃখবোধ থাকত, আপনার যদি রাজনীতিতে ফিরে আসার উদ্দেশ্য থাকত, এই সহিংসতাগুলো করা হতো না। কোনোভাবেই হতো না।’
‘বাঁধনের ওপর হামলা প্রমাণ করে তিনি সঠিক পথে ছিলেন’
বাঁধনের ওপর হামলাকে তার জন্য এক ধরনের অর্জন ও সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আজমেরী হক বাঁধনের উদ্দেশে বলব, এটা এক ধরনের কী বলব, তার অর্জন, সম্মান প্রাপ্তি যে, আওয়ামী লীগের হেনস্তা হওয়ার শিকার হওয়া, একটা মাফিয়া গ্যাংয়ের শিকার হওয়া প্রমাণ করে আপনি আসলে সঠিক পথে ছিলেন।’
বাঁধন ফেসবুক লাইভে নিজেকে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করার প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ইয়েস, আই অ্যাম।’
তিনি বলেন, ‘একইভাবে আমরা অনেকেই সেরকম আছি, আমরা হামলার শিকার হতে পারি। বাট উই ডোন্ট কেয়ার। একেবারেই না।’
২০ দিন আগে
ইতালিতে আ. লীগ সমর্থকদের হাতে হেনস্তা ও হামলার শিকার বাঁধন
ইতালির ভেনিসে স্থানীয় একটি পার্কে ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে একদল মানুষের হেনস্তা ও শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ফেসবুকে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে বাঁধন ঘটনার বর্ণনা দেন।
আরেকটি ভিডিওতে একদল মানুষকে অভিনেত্রীর ওপর হামলা করতে এবং তার দিকে ডিম, পানি ও কোকাকোলা ছুড়তে দেখা যায়।
ভিডিওতে হামলাকারীদের বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলতে এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বলতে শোনা যায়। তারা পুরো ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন।
বাঁধন দাবি করেন, ঘটনার সময় তার মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং তার কানের কাছে আঘাত করা হয়। এ সময় তার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা নিজেদের ভেনিস আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করেন।
বাঁধন বলেন, ‘আমি অবশ্যই জুলাইযোদ্ধা। জুলাইয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।’
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে এ ধরনের আচরণের সমালোচনা করে এই অভিনেত্রী বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
হামলাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি ভেনিস উৎসবে যে সিনেমাটি নিয়ে এসেছি, সেটির পরিচালক রুবাইয়াত হাসানের বাবা আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ছিলেন। আমি তার সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের পরেও কাজ করছি। আপনাদের এ ধরনের অসংলগ্ন আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত ছিল। আপনারা এভাবে নিজেদের ফেরাতে পারবেন না।’
তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি ইতোমধ্যে ভেনিসের স্থানীয় পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বাঁধন বলেন, ‘একজন আজমেরী হক বাঁধনকে দমানো এত সহজ হবে না। আপনারা আজ সারা বিশ্বের মানুষকে দেখালেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী একজন অভিনেত্রীকে হেনস্তা করা হলো।’
এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কোনো রাজনৈতিক দলের অংশ হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমানে ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে ভেনিসে অবস্থান করছেন বাঁধন। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ছবিটির প্রদর্শনী উপলক্ষে তিনি সেখানে রয়েছেন। ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরের প্রতিযোগিতামূলক ‘অরিজন্তি’ বিভাগে ছবিটি প্রদর্শিত হচ্ছে।
৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে সালা দারসেনায় ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে উৎসবে বাংলাদেশের একটি চলচ্চিত্রের ঐতিহাসিক উপস্থিতি ঘটে।
ছবিটিতে চারটি প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাঁধন, জাইনিন করিম, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রুবাইয়াত হোসেন।
‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বাঁধন বর্তমানে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ভেনিসের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
২০ দিন আগে
রাজধানী থেকে সিলেট আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম পল্লবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মো. মাহফুজুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গতকাল (শনিবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বাড্ডা থানা পুলিশ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে আবুল কাশেম পল্লবকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, সিলেট, বিয়ানীবাজারসহ বিভিন্ন থানায় পল্লবের বিরুদ্ধে হত্যা, বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনাসহ অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও বিয়ানীবাজারে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে পল্লবের বিরুদ্ধে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মিছিল-সমাবেশ আয়োজন এবং আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
২৯ দিন আগে
ঝিনাইদহে সাবেক এমপি নায়েব আলী জোয়ার্দ্দারসহ গ্রেপ্তার ৫
১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা ও সাম্প্রতিক সময়ে শৈলকুপার সারুটিয়া ইউনিয়নে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল আয়োজনের অভিযোগে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নায়েব আলী জোয়ার্দ্দারসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ শহর ও শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন: শৈলকুপার দুধসর গ্রামের নায়েব আলী জোয়ার্দ্দার (৭২) ও বাদশা আলমগীর (৫৬), বালাপাড়া গ্রামের মাজিবুল ইসলাম (৫৭), গোসাইডাঙ্গা গ্রামের আল নাহিয়ান সাকিব (১৯) এবং মহিষাখোলা গ্রামের মো. হাসিবুল ইসলাম (২৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে ভারতে অবস্থানরত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা, এলাকায় বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা এবং সারুটিয়া ইউনিয়নে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল আয়োজনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচ জনের বিরুদ্ধে শৈলকুপা থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। আজ (শনিবার) দুপুরে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
৪৪ দিন আগে
দিনদুপুরে লুট করা গরু দিয়ে আ. লীগ নেতাদের ভূরিভোজ
রংপুরের পীরগাছায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে চার দিনমজুরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছয়টি গরু, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ঘরের আসবাবপত্র লুট করার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
রবিবার (৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের দামুরস্বর গ্রামে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এ তাণ্ডব চালানো হয় বলে স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ছাওলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও পাওটানাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পশুচিকিৎসক রেজাউল করিম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুকুল মিয়া এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব হোসেনের নেতৃত্বে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলা হলে নিরাপত্তার খাতিরে বাড়ির লোকজন সরে গেলে ঘরের ফ্রিজ, আসবাবপত্র, সেচযন্ত্র, মোটর ও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও লুট করা হয়। পরে প্রায় ২০০ গজ দূরে সৈয়দ আলী, এরশাদ আলী ও রুবেল মিয়ার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। সেখানে আটটি ঘর ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ টাকা, জমির দলিল, পাসপোর্ট, স্বর্ণালংকার ও ছয়টি গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী সৈয়দ আলী ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের ঘরে এখন থাকার বা খাওয়ার মতো কিছুই অবশিষ্ট নেই। চালডাল তো বটেই, রান্না করা তরকারির পাতিল পর্যন্ত নিয়ে গেছে তারা। হামলার সময় গ্রামের বিভিন্ন স্থানে লোকজন পাহারায় ছিল। ফলে কেউ তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারেননি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে এ ধরনের হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, লুট করা একটি গরু জবাই করে হামলাকারীরা এলাকায় ভোজের আয়োজনও করেন।
আওয়ামী লীগের প্রয়াত প্রতিমন্ত্রীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আইয়ুব হোসেন ও রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা এলাকায় ছিলেন না। তারা বাইরে ছিলেন।
অপর অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মুকুল মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় দুপক্ষ থেকে দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। গরু লুটের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে।
৪৮ দিন আগে