আওয়ামী লীগ
‘ভারতে বসে উস্কানি দেওয়া আ.লীগ নেতাদের ইস্যুতে দিল্লির সঙ্গে কথা বলবে সরকার’
ভারতে অবস্থান করে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের উস্কানিমূলক বক্তব্যের বিষয়টি দিল্লির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সরকার আলোচনা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, এসব নেতার অনেকেই বিভিন্ন মামলার আসামি এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাই শুধু উস্কানিমূলক বক্তব্য নয়, তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়টিও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়মিতভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
গত কয়েকদিন ধরে দেখছি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা ভারতে পলাতক, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সরকার কথা বলবে কি না—সাংবাদিকরা জানতে চান।
জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আপনার এই কথাটার সঙ্গে আমি একমত। ভারতে বসে তারা যে কাজটা করছেন, রাষ্ট্রীয় জায়গা থেকে এটা নিয়ে আগেও কথা বলা হয়েছে, সামনেও এটা নিয়ে বলা হবে। কারণ এদের অনেকেই মামলার আসামি আছেন, অনেকের নামেই ওয়ারেন্ট আছে, কারও কারও নামে সাজা হয়ে গেছে। তারা কথা বলা দূরে থাক, তাদের তো আমাদের কাছে হস্তান্তর করারই কথা আছে। সেই জায়গা থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভারতের সঙ্গে নিয়মিতভাবে কথা বলা হচ্ছে।
সম্প্রতি তুরাগ নদী ঘিরে দুপক্ষের অপপ্রচার হচ্ছে। সরকার বিষয়টি পরিষ্কার করছে না—এ বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ওখানে কিছু মৃত্যু হয়েছে যা খুবই অপ্রত্যাশিত। আমরা প্রায়ই বলি, এমন অপ্রত্যাশিত মৃত্যু হতে পারে না, এটা হওয়া উচিত না। কিন্তু আপনারা জানেন, ঘটনাগুলো কীভাবে হয়েছে। তবে এর সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কি না, তা সরকার তদন্ত করবে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন যে তুরাগ নদীর অপ্রত্যাশিত বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আছে এবং দেশীয় ও দেশের বাইরের সংস্থারও প্রতিবেদন আছে, যেখানে পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে তারা আসলে পালাতে গিয়েছিলেন এবং সে ধরনের পরিস্থিতিতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, যারা এখনও আওয়ামী লীগ করেন, এখনও যারা আওয়ামী লীগের মিছিল করতে আসেন, আমি সত্যিই খুব দুঃখ পাই। কিন্তু তাদের জীবনও মূল্যবান, তারা এই রাষ্ট্রের নাগরিক, এটাও আমরা বিশ্বাস করি। প্রত্যেকের প্রতি আমরা এই আহ্বান জানাতে চাই, রাষ্ট্রের আইন যেন তারা মেনে চলেন।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ হয়নি, তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আছে। তারা একটু অপেক্ষা করুন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন এবং আইসিটি থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। সেই সময়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই হবে। যদি বিচারে দেখা যায় যে তাদের নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, আবারও বলছি এটা আদালতের এখতিয়ার, তিনি (বিচারক) সব পক্ষকে শুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাহলে তারা তাদের কর্মকাণ্ড করতে পারবেন।’
২ দিন আগে
অন্য কোনো নামে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না: তথ্য উপদেষ্টা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অন্য কোনো নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রবীণ আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ গঠন হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সফট বা হার্ড আওয়ামী লীগ না। আমি আগেও বলেছি, এই নির্বাচনে (স্থানীয় সরকার নির্বাচন) বিএনপিও তো নাই, আছে কি? স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কি বিএনপি আছে? জামায়াত, এনসিপি আছে? নেই। এক সময় ছিল, মানে যে আইনটা মাঝখানে পরিবর্তিত হয়েছিল আওয়ামী লীগের সময়, সেখানে একটা নির্বাচনে দল ছিল, সেটা হচ্ছে চেয়ারম্যান বা মেয়র। তখনও কিন্তু মেম্বার এবং কমিশনার নির্বাচনে কোনো দল অংশগ্রহণ করত না। এখন এটা তুলে দেওয়া হয়েছে, মানে আমরা আগের জায়গায় চলে গেছি।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত কেউই অংশগ্রহণ করছে না। এটা হলো একদম নিশ্চিত কথা। আর দ্বিতীয় কথাটি হচ্ছে, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের একটা আলাপ মাঝে মাঝে কোথাও কোথাও দেখা যায়, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কর্মসূচি যত দিন নিষিদ্ধ আছে, তত দিন সে যে নামেই হোক না কেন, রিফাইন্ড হোক বা অন্য কোনো নতুন আওয়ামী লীগ, তৃণমূল আওয়ামী লীগ—যাই বলি না কেন, কোনো নামেই আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। এই জিনিসটা আমাদের বুঝতে পারতে হবে।’
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা সন্ত্রাস দমন অধ্যাদেশকে বর্তমান সরকার আইনে পরিণত করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তার মানে সরকারের অবস্থান হচ্ছে, সরকার মনে করে আদালত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি হবে না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দলটির কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকা উচিত। আমি আগের দিনই বলেছিলাম, এটা আসলে আদালতের এখতিয়ার।
৯ দিন আগে
আ.লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) পরিচালিত পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর মধ্যে মিরপুর থানা পুলিশ ৩ জন, রমনা, ধানমণ্ডি, হাজারীবাগ, ও তেজগাঁও থানা পুলিশ ২ জন করে এবং শাহবাগ, বংশাল, সূত্রাপুর, পল্টন, শিল্পাঞ্চল, পল্লবী ও কাফরুল থানা পুলিশ একজন করে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি জানিয়েছে, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১৬ দিন আগে
আ.লীগ নিষিদ্ধ কি না, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে: উপদেষ্টা জাহেদ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ, দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল)। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি না, সেই বিচারের পর তা নির্ধারিত হবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাস্তায় নেমেছে। দলটির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ঘিরে ছয়টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনকে সরকার কতটুকু যুক্তিযুক্ত মনে করছে? এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো আমি মনে করি তারা একটা সিম্বলিক কারণে আছে। কারণ হচ্ছে, একটা নিষিদ্ধ ঘোষিত দল, নিষিদ্ধ ঘোষিত আসলে কথাটা ঠিক না, আমরা টেকনিক্যালি যদি বলি, নাম যদি এভাবে বলি আওয়ামী লীগ, দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, এই জিনিসটা একটু স্পষ্ট করে রাখা দরকার, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আইসিটিতে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি না, সেই বিচারের পর তা নির্ধারিত হবে।
তিনি বলেন, যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত যেহেতু তারা বিচারাধীন থাকবে, সেই পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে ‘সন্ত্রাস দমন আইন, ২০০৯’-এর অধীনে। তাই তাদের কর্মসূচি নিষিদ্ধ। এই দলটা এখন যেকোনো কর্মসূচি নিয়ে যদি মাঠে নামতে চায়, সেটা তারা একটা আইন ভঙ্গকারী কাজ করছে। তাই সরকার সেখানে ব্যবস্থা নেবে এটাই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক দলগুলোর আসলে ওখানে করার কিছু নেই, এটা তারা সিম্বলিক্যালি হয়তো মাঠে আছেন, যেহেতু তারা (আওয়ামী লীগ) বলছেন, তারা অনেক কিছু করে ফেলবেন।
সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এর মানে এই না যে অনেক কিছু তারা করে ফেলতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না আওয়ামী লীগের সেই রকম নৈতিক সাহসও আছে। কিছু করতে হলে অন্তত একটা নৈতিক সাহস লাগে।
তিনি বলেন, আমরা একটা কথা বলি না, ‘চোরের মায়ের বড় গলা’, মানে আওয়ামী লীগের বড় গলা হতে আমাদের সবার মেমোরি (স্মৃতিশক্তি) শেষ হয়ে যেতে হবে। আমাদের সবার ডিমেনশিয়া (স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া রোগ) হবে, তারপর কোনোদিন আওয়ামী লীগ আমাদের সামনে বড় গলা করে কথা বলতে পারবে, এর আগে পারবে বলে আমার মনে হয় না। তাই, তাদের ওই নৈতিক সাহসও নেই। কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর-বাটপারের আসলে খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমি একটু পেছনে যাই, একটু অপ্রাসঙ্গিক হলেও বলি— জুলাইয়ে এরকম বন্দুকের সামনে মানুষ দাঁড়াতে পেরেছিল, কারণ তার নৈতিক সাহসটা ছিল। ও ধান্দাবাজ লোক ছিল না, ও দেশকে ভালোবেসেছে, এ দেশের ভালো করতে চেয়েছে। এত গুলি, এত মৃত্যু, এরপরও মানুষ পরের দিন আবার গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তো তাদের (আওয়ামী লীগ) দিয়ে আসলে তেমন কিছু হওয়ার কোনো কারণ নাই।
১৬ দিন আগে
নাশকতা প্রতিরোধে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মিছিল বা সমাবেশের মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া মাফিয়া চক্র আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় তারা মিছিল বা সমাবেশের মাধ্যমে জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, তারা যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো ধরনের নাশকতা, বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা এবং ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলায় ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর মোতায়েনকে নিয়মিত দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গত ১৫ জুন দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন শেষে সেনাসদস্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতিতে কেবল সুনির্দিষ্ট এলাকায় এই সীমিত মোতায়েন সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ তথ্য ও মাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারসহ অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে সামগ্রিক অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
পুলিশ বাহিনীর ওপর জনগণের আস্থা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে আস্থা বা অনাস্থার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমাদের পুলিশ বাহিনী বহু কৃতিত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশকে সহযোগিতা করতে বিজিবি কিংবা সেনাবাহিনী মোতায়েন একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান। সংসদ সদস্য কিংবা সাধারণ নাগরিক—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের সমাবেশ ও দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশ দেশে গণতন্ত্র বিকাশেরই বহিঃপ্রকাশ। তারা জনগণের সামনে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে। আমরাও আমাদের কথা জনগণের মাঝে তুলে ধরব।
১৭ দিন আগে
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আ.লীগ অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আগামীকাল মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
আগামীকাল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো নাশকতার আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। কিন্তু বাহিনী হিসেবে এবং আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ যে মাফিয়া বাহিনী আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্টে (জেলা) আমরা দেখেছি, তারা মিছিল-মিটিং করার মতো কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, দুয়েকটা জায়গায় এসব দেখেছি। তাতে করে আমাদের মনে হয়েছে, তারা হয়তো একটা অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে। এই বিবেচনায় আমরা আমাদের সমস্ত বাহিনীগুলোকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি, যা সবসময় থাকে।’
তিনি বলেন, তার বাইরে আমরা আজকে থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত আমাদের সেনা সদস্যদের আবার ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার আইন মোতাবেক ঢাকা মেট্রো, চট্টগ্রাম মেট্রো, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর মেট্রো এবং এর বাইরে দুটো জেলাতে আমরা (সেনাবাহিনী) ডেপ্লয় (মোতায়েন) করেছি, যাতে যেকোনো রকমের অপতৎপরতা চিহ্নিত করা যায়।
১৭ দিন আগে
শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ.লীগের নেতা-কর্মীরা: উপদেষ্টা জাহেদ
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শর্ত মানলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে কি না জানতে চাইলে—প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো রকমের সমস্যা নেই। একজন ব্যক্তি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান, তিনি যদি আওয়ামী লীগের হয়েও নির্দলীয় থাকেন তাও পারবেন। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়, এখানে কেউই দলের কথা বলবেন না।
‘একজন নির্দলীয় ব্যক্তি আসলেন, কিন্তু তিনি যদি তার প্রচারণায় আওয়ামী লীগ বা তাদের দলের যা যা বলার সেগুলো বলেন, সেটা কিন্তু সমস্যা হবে। এর বাইরে নির্দলীয় ব্যক্তি নির্বাচনটা করার জন্য যে ক্রাইটেরিয়া (শর্ত) আছে, সেটা যদি তিনি পূরণ করতে পারেন, তাহলে তিনি নির্বাচন করতে পারেন। নিশ্চয়ই পারেন।’
যদি নির্বাচনে আসা কারও আওয়ামী লীগের দলীয় পদ-পদবি থাকে তাহলে কী হবে— এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সংগঠনের কর্মসূচি যেহেতু নিষিদ্ধ আছে এই পোস্ট পজিশন তিনি তো আসলে ব্যবহার করছেন না, তিনি করতে পারেন না। ব্যক্তি হিসেবে কেউ যদি নির্বাচনের শর্তে যা আছে সেটা পূরণ করতে পারেন, তাহলে তিনি নির্বাচন করতে পারেন। এ ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই।
৩০ দিন আগে
যশোরে আওয়ামী লীগ নেতা টিংকু গ্রেপ্তার
যশোরের শার্শায় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে উপজেলার চালিতাবাড়ী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি উপজেলার কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি।
তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন।
তিনি জানান, ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ৪টি মামলা রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। দীর্ঘদিন পর এলাকায় ফিরে এসে তিনি নাশকতার পরিকল্পনা করছেন, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে যশোর আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।
৩১ দিন আগে
হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় তোফায়েল আহমেদকে শেষ বিদায়
কিংবদন্তি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং নয়বারের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদকে দলমত নির্বিশেষে হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার প্রতি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে তার জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
তারা জানাজার নামাজে ইমামতি করেন ভোলা খলিফাপট্টি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জমির উদ্দিন।
জানাজায় ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ বিএনপি, বিজেপি, কমিউনিস্ট পার্টি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সর্বস্তরের হাজারো মানুষ অংশ নেন। তীব্র গরম ও রোদ উপেক্ষা করে তারা প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
৩৭ দিন আগে
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন প্যারালাইসিসসহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি।
তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আজ (সোমবার) মাগরিবের নামাজের পর ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। তারপরে স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে মরদেহ রাখা হবে। এরপর আগামীকাল হেলিকপ্টার বা মরদেহবাহী ফ্রিজিং ভ্যানে তার মরদেহ ভোলায় নেওয়া হবে। মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পরে ভোলা জিলা স্কুল মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় সক্রিয় ছিলেন দেশের রাজনীতিতে।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মৌলভী আজহার আলী ও মা ফাতেমা বেগম। দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও একমাত্র সন্তান ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নীকে রেখে গেছেন।
শিক্ষাজীবনে ১৯৬০ সালে ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৬২ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৪ সালে বিএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি সম্পন্ন করেন।
ছাত্রলীগের মাধ্যমে তোফায়েল আহমেদের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ইকবাল হলের (বর্তমানে শহিদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) নির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) ছিলেন তিনি। ১৯৬৮-৬৯ সালের গণজাগরণ ও ছাত্র আন্দোলনে তিনি ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব আসামিকে মুক্তি দেয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সেই বছরেরই ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভার আয়োজন করে। লাখো জনতার অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলনে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি ঘোষণা দেন তোফায়েল আহমেদ।
প্রথমবারের মতো ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন তিনি। এরপর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন।
দেশ স্বাধীনের পরের বছর ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব লাভ করেন।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নিজের জেলা ভোলা থেকে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন।
১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে ২০১৩-১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন।
রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৫ সাল থেকে টানা ৩৩ মাসসহ অসংখ্যবার কারাভোগ করেন এই নেতা।
৩৮ দিন আগে