ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ঢাকা ইপিজেড) শ্রমিকদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও শ্রম ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন।
একই সঙ্গে আইএলও ও বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) মধ্যে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা ইপিজেড পরিদর্শন শেষে তিনি এসব মন্তব্য করেন। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ইপিজেডে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে বেপজার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
সফরকালে আইএলওর সোশ্যাল প্রোটেকশন প্রজেক্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সাদ গিলানি এবং আইএলও বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার তানজিলুত তাসনুবা তার সঙ্গে ছিলেন।
ঢাকা ইপিজেডে পৌঁছালে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান।
ঢাকা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯, বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা, ২০২২, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য, কমপ্লায়েন্স কার্যক্রম, শ্রমিকদের অধিকার, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং বিভিন্ন শ্রমিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়ে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।
পরবর্তী মতবিনিময় পর্বে বেপজার নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মো. খুরশিদ আলম বেপজার শ্রমবান্ধব নীতিমালা, কাঠামো এবং কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে প্রতিনিধিদলকে বিস্তারিত অবহিত করেন।
প্রতিনিধিদলটি শ্রমিক কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি উন্মুক্ত ও খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেয়। এ সময় শ্রমিক প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শ্রমিকদের অধিকার, কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ, অভিযোগ নিষ্পত্তি, সামাজিক সংলাপ এবং সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে শ্রমিক কল্যাণ সমিতির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
এছাড়া শ্রমিক প্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্ব, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং কারখানার সাধারণ অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গৃহীত বর্তমান কার্যক্রমগুলো আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টরের সামনে তুলে ধরেন। তারা ঢাকা ইপিজেডের কারখানাগুলোর সামগ্রিক পরিবেশ, কল্যাণমূলক সুবিধা এবং মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
পরিদর্শনকে স্মরণীয় করে রাখতে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা ইপিজেডের জোন কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি জলপাই গাছের চারা রোপণ করেন।
এ ছাড়াও প্রতিনিধিদলটি ঢাকা ইপিজেডের ওয়াইকেকে বাংলাদেশ পিটিই লিমিটেড এবং শান্তা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড পরিদর্শন করে। সেখানে তারা কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থা ও ডে-কেয়ার সেন্টার ঘুরে দেখেন।
কর্মক্ষেত্রের নিয়মকানুন ও শ্রমিকদের কল্যাণের বিষয়টি সরাসরি দেখতে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কোম্পানি ব্যবস্থাপনা, শ্রমিক এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেন।