বিশিষ্ট শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
এক শোকবার্তায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, বাংলাদেশের প্রবাদপ্রতিম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বাংলা একাডেমির সম্মানসূচক ফেলো মুস্তাফা মনোয়ার সোমবার সকালে মারা গেছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ দেশের গণমাধ্যমের সৃজনশীল বিকাশে মুস্তাফা মনোয়ারের অবদান অবিস্মরণীয়।
এছাড়া তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
পারিবারিক সূত্র জানায়, মুস্তাফা মনোয়ার দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
মুস্তাফা মনোয়ার ‘বাংলাদেশের পাপেট ম্যান’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পশ্চিমবঙ্গের শরণার্থী শিবিরগুলোতে যুদ্ধ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে পুতুলনাচের আয়োজন করেছিলেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশনে তার জনপ্রিয় পাপেট অনুষ্ঠান ‘মনের কথা’ টানা ১২ বছর প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানটিতে পারুল নামে এক কিশোরী ও তার সাত ভাই চম্পার গল্প তুলে ধরা হয়, যারা অভিশাপে ফুলে পরিণত হয়েছিল।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর যশোরে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তিনি ছিলেন ছয় ভাইবোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। তার বাবা ছিলেন খ্যাতিমান কবি গোলাম মোস্তফা।
মুস্তাফা মনোয়ার নারায়ণগঞ্জ সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে স্বল্প সময় অধ্যয়ন করেন।
পরবর্তীতে তিনি কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্রাফটে ভর্তি হন এবং ১৯৫৯ সালে চারুকলায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে পেশাজীবন শুরু করার পর তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপমহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং জাতীয় গণযোগাযোগ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
এই বরেণ্য শিল্পাচার্য অল ইন্ডিয়া ফাইন আর্টস কম্পিটিশন পুরস্কার, জয়নুল আবেদিন স্বর্ণপদক এবং সর্বোপরি ২০০৪ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন।
তার সৃজনশীল কর্মযজ্ঞ কয়েক প্রজন্মের শৈশবকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।