ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতে ফুটপাতে বা রাস্তায় ব্যবসা করা যাবে না। তবে ক্ষুদ্র ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবসার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরের মুকুল ফৌজ মাঠে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১ পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে ভাসমান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসক বলেন, আমরা বিকল্প স্থানে ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেব। ফুটপাতে বা রাস্তায় আর ব্যবসা করা যাবে না—এটাকে মাথায় রেখে আপনাদের কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, আগে যারা ফুটপাতে ব্যবসা করতে সহযোগিতা করতেন, তারা আর সহযোগিতা করতে পারবেন না। ব্যবসায়ীদের সমস্যা রয়েছে, সেসব সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মানবিক কারণে আমরা আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি। চাইলে আমরা ফোর্স দিয়ে উচ্ছেদ করতে পারতাম, কিন্তু তা করিনি। আমরা চাই আমাদের এলাকার মানুষ ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করুক।
সভায় হকার ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। তারা পুনর্বাসনের জন্য নির্দিষ্ট স্থান, পর্যাপ্ত সময় এবং এমন স্থান চেয়েছেন যেখানে ব্যবসা পরিচালনা সম্ভব হবে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, বহু বছর ধরে তারা ফুটপাতে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। হঠাৎ উচ্ছেদ হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে সংকটে পড়তে হবে। তারা পুনর্বাসনের আগে নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার দাবি করেন।
প্রশাসক বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কার্যকর সমাধান বের করা হবে এবং এ বিষয়ে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশন থেকে আমরা ব্যবসায়ীদের একটি টোকেন প্রদান করব, যাতে কেউ চাঁদা দাবি করলে তা দিতে না হয়, এবং আপনারা জানাবেন। আমরা আপনাদের পাশে আছি।
মতবিনিময় সভায় ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসান, ডিএমপি মিরপুর জোনের ডিসি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন।