পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার বহুল আলোচিত মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি আইনানুগভাবে দ্রুত এগিয়ে আনতে সরকার সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (৭ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও এই বিষয়টা সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনব এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে বলব, যাতে রামিসা হত্যার এই ডেথ রেফারেন্স শুনানিটা আইনানুগভাবে কিছুটা এগিয়ে আনা যায়।’
আজ (রবিবার) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মাত্র ১৭ দিনের বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী বলেন, সরকারের নীতি হলো ভালো কাজের জন্য পুলিশকে পুরস্কৃত করা এবং ব্যর্থতার ক্ষেত্রে তিরস্কার করা। তবে বর্তমানে পুলিশ বাহিনীর অর্জন প্রশংসার দাবি রাখে।
তিনি বলেন, সমস্ত অগ্রগতিগুলো আমরা যেমন পুলিশকে পুরস্কৃত করব তাদের ভালো কাজের জন্য, তিরস্কারের সময় তিরস্কৃত করব। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের পুলিশ বাহিনীর যে অ্যাচিভমেন্ট (অর্জন), এগুলো প্রশংসার দাবি রাখে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার নৃশংস ঘটনায় সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং চার্জশিট আদালতে দাখিল করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে সারা দেশে একটা তোলপাড় অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দ্রুততার সঙ্গে ডিএনএ টেস্ট করে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছি। খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এই বিচারকার্য পরিচালনায় সহযোগিতা করেছি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঈদের ছুটির মধ্যেও আদালত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। আদালত তাদের ছুটি বাতিল করে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তারা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সেটা করেছেন।
তিনি জানান, বিচার প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো অবিচার না হয়, সে জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর পাশাপাশি আসামিপক্ষের জন্যও আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল। এছাড়া চিকিৎসক ও পুলিশ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা সাক্ষ্য দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে আসামি দুইজন, ১৬৪ ধারায় তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে, ডিএনএ টেস্ট এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে মামলাটি প্রমাণ করা খুব বেশি কঠিন ছিল না। আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালত ন্যায়বিচার করেছেন, আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এবং পুলিশের গ্রেপ্তার ও তদন্ত কার্যক্রমের ইতিহাসে এটা একটি মাইলফলক। এভাবেই আমরা ইনশাআল্লাহ জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আশা করি, আমরা সকলের সহযোগিতা পাব।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে সেটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে শুনানি হতে হয়। সাধারণত পুরোনো মামলার শুনানি আগে এবং নতুন মামলার শুনানি পরে হয়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও দেখা গেছে।
তিনি আরও বলেন, ডেথ রেফারেন্স শুনানির পর যদি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে, তাহলে কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব হবে না।