স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ঈদে সার্বিক নিরাপত্তা ও মহাসড়ক তদারকিতে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার যেকোনো ধরনের অনিয়ম, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখবে। অতীত সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা ও দুর্বৃত্তায়নের অবসান ঘটিয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও তৎপর রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ‘ন্যাশনাল অপারেশন মনিটরিং সেন্টার’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মনিটরিং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ঈদের সাত দিন আগে থেকে সাত দিন পর পর্যন্ত দেশের মহাসড়ক, পশুর হাট, যমুনা ও পদ্মা সেতুসহ সব এক্সপ্রেসওয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় থাকবে। পর্যাপ্ত জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি যেসব স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই, সেখানে পুলিশ সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অতীতের তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনা কম হয়েছে। যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার বেশিরভাগই অসচেতনতা ও ব্যক্তিগত গাফিলতির ফল। নওগাঁয় লোহার রডবাহী ট্রাকে ছাদে যাত্রী বহনের ঘটনায় দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভাড়া বাঁচাতে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ করায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ সময় নিরাপদ যাতায়াতে জনগণকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পশুর হাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনুমোদনহীন কোনো হাট বসতে দেওয়া হবে না। সম্প্রতি মিরপুরে মেট্রোরেল লাইনের নিচে বসা একটি অবৈধ পশুর হাট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাল নোট প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে বিভিন্ন পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে ‘রাষ্ট্রের ভেতর রাষ্ট্র’ তৈরির অপচেষ্টা যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার এবং দাগী আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি জানান, ওই এলাকায় পুলিশ অ্যাকাডেমি, র্যাব অ্যাকাডেমি, পুলিশ স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং কারাগারসহ সমন্বিত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সন্ত্রাসীদের ঔদ্ধত্য কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
যমুনা সেতুর টোল প্লাজায় উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের দীর্ঘ যানজটের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ম্যানুয়াল টোল আদায়ের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানে ডিজিটাল অটোমেশন চালুর জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হবে। গাড়িতে কার্ডভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় টোল আদায় পদ্ধতি চালু এবং ব্যবহারকারীদের জন্য প্রণোদনার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
সাভারে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আহ্বান করে তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, গত তিন মাসে সংঘটিত প্রতিটি জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। মাদক চক্র ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৬ ঘণ্টা আগে
প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে ভারত, প্রত্যাশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বন্দি বিনিময় ও প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার চায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হোন।
রবিবার (২৪ মে) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানান।
শেখ হাসিনা দেশে আসবেন বলে গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, উনার ট্রাভেল পাস চাওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনা হচ্ছে; এ ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রস্তুতি বা কোনো তথ্য আছে কি না—জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমি আরও অনেক আগে বলেছি। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে তার প্রত্যর্পণের জন্য অনেক আগেই বারবার চিঠি পাঠিয়েছি।
তিনি বলেন, আমরা এখনো চাই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দুই দেশের মধ্যকার প্রত্যর্পণ চুক্তির বিধান অনুযায়ী ভারত সরকার তাকে ফেরত পাঠাবে। আমরা তো চাই তিনি বিচারের মুখোমুখি হোন।
জুয়া ও অনলাইন বাজি ঠেকাতে নতুন আইন
সংলাপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুয়া, অনলাইন জুয়া ও বাজি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, আশা করি ইনশাআল্লাহ আগামী অধিবেশনেই সেই আইনটি আমরা পাব। এখন পর্যন্ত যে আইনটি আছে, সেটা একদম মান্ধাতা আমলের। ১৮৬৭ সালের বোধহয় একটি আইন আছে।
বর্তমান বাস্তবতায় অনলাইন জুয়া, অফলাইন জুয়া ও ইন্টারনেটভিত্তিক বাজির মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় পুরোনো আইন বাতিল করে আধুনিক ও যুগোপযোগী আইন আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে সংলাপে উপস্থিত ছিলেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
২ দিন আগে
রামিসা হত্যার বিচার ৫-৭দিনের মধ্যে, বিশেষ আদালতের ছুটি বাতিলের চিন্তা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২৪ মে) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ কথা বলেন।
রামিসার পর আবার রাজধানীর কলাবাগানে একই ঘটনা ঘটেছে। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে সরকার কি আসলে ঠিক বার্তা তাদের কাছে দিতে পারছে না?—প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা আসলে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। এখানে সমাজ সংস্কারের দরকার। যেখানে সামাজিক মূল্যবোধকে তুলে ধরা দরকার আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে, আমাদের কালচারের ভিত্তিতে। কিন্তু কিছু কিছু অপসংস্কৃতির আছর আমাদের সমাজে পড়েছে। কিছু অপসংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের মাত্রা বা ধর্ষণের যে অবস্থা এবং সংখ্যা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আমাদের সহ্য সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, তো আমরা কি করতে পারি? সরকার হিসেবে আমরা করতে পারি যে তার আইনানুগ ব্যবস্থা এবং বিচারের ব্যবস্থাটা নিশ্চিত করা। আমরা সবচেয়ে বেশি মনোযোগ এখানেই দিয়েছি যে দ্রুততম সময়ে যাতে অভিযুক্ত বা অপরাধীরা গ্রেপ্তার হয়। সেই জায়গায় আমরা এই তিন মাসে প্রত্যেকটি ঘটনায় সফল হয়েছি ইনশাআল্লাহ। আর আল্লাহর রহমতে ভবিষ্যতেও আমরা এই জাতীয় যেকোনো ঘৃণ্য অপরাধে অভিযুক্ত বা অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেব না।
রামিসাকে ধর্ষণ এবং হত্যা করার পর আসামিকে সাত ঘণ্টার ভেতরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এক দিনের মধ্যে আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেই ১৬৪-এর স্টেটমেন্টে তার সহযোগী অপরাধী হিসেবে তার স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা খুব দ্রুততার সঙ্গে আদালতের অনুমতি নিয়ে ডিএনএ টেস্ট করিয়েছি। সেই টেস্টে তিন দিন সময় লাগে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেটা সমাপ্ত হয়েছে। ডিএনএ প্রতিবেদন গতকাল বিকেলে জমা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আমরা হাতে পেয়েছি ইতোমধ্যেই।
তিনি বলেন, এগুলো সব কম্পাইল (একত্রিত) করে চার্জশিট প্রণয়নের কাজটা গতকাল রাতের মধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। আজকে আদালতে সেটা সোপর্দ করা হবে, হয়তো ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। আদালত এর মধ্যে ছুটিতে যাবে, আপনারা অনেকে তা জানেন। কিন্তু এই বিশেষ আদালতের ছুটি প্রধান বিচারপতি বাতিল করার চিন্তা করছেন। বাতিল এখনও হয়েছে কি না আমি জানি না, এটা আইন মন্ত্রণালয় দেখছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা একজন বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নিয়োগ করেছি শুধুমাত্র এই মামলাটা পরিচালনা করার জন্য। সবকিছু বিবেচনায় আমরা আশা করছি যে আজকের মধ্যে তো চার্জশিট প্রদান করা হবেই এবং খুব সম্ভবত পাঁচ থেকে সাত দিনের ভেতরে এই বিচার কার্য সমাপ্ত হবে।
বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে উপস্থিত ছিলেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
২ দিন আগে
দক্ষ চালক ও মালী হিসেবে বাংলাদেশের প্রশিক্ষিত জনবল চায় আরব আমিরাত
সংযুক্ত আরব আমিরাতে দক্ষ চালক বা চালক ও মালীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী খাসিফ আল-হামুদী। তিনি বলেছেন, এ খাতে বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত জনবল নিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশেষভাবে আগ্রহী।
শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত এ আগ্রহের কথা জানান।
অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, মানবপাচার প্রতিরোধ, বাংলাদেশ থেকে চালক ও মালীসহ দক্ষ জনবল রপ্তানি, এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, বাংলাদেশে আমিরাতের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী সুনামের সঙ্গে কর্মরত রয়েছেন এবং তারা দুই দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে তার দেশে দক্ষ চালক ও মালীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশ থেকে এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষিত জনবল নিতে বিশেষভাবে আগ্রহী।
তিনি আরও জানান, বিশেষ করে চালক নিয়োগের ক্ষেত্রে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় নীতিমালা অনুযায়ী ছয় মাসের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল প্রেরণের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহায়তা দেবে। তিনি প্রস্তাব দেন, দুই দেশ যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে ছয় মাস মেয়াদি আন্তর্জাতিক মানের চালক প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করতে পারে। এই প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারীদের আরব আমিরাতে দক্ষ চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।
মন্ত্রী গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-ভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি অভিন্ন চালক প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলেও রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত আল-হামুদী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করতে চায়। তিনি জানান, আমিরাতের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি বাংলাদেশে সাইবার সিকিউরিটিসহ তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন উদীয়মান খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগে আগ্রহী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
বৈঠকে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমনে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, মানবপাচার ইস্যু মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধসহ সব ধরনের ফৌজদারি অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে একটি ব্যাপকভিত্তিক ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ সই করা যেতে পারে। এতে দুই দেশের আইনি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সুসংহত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। এ সময় রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
দেশে রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি জটিল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সর্বদা শান্তিপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই অভিবাসনে বিশ্বাসী। তবে রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।’
শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইকের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠিত এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সমর্থন ও সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাতিসংঘের দৃশ্যমান ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও গভীর, সুসংহত ও বেগবান হবে।
জবাবে আবাসিক সমন্বয়কারী বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণে অংশীদার হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার কৌশলগত ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে মন্ত্রীর মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ জানতে চান।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রাসমূহ সময়মতো বাস্তবায়নে জাতিসংঘের সর্বাত্মক ও নিবিড় সহযোগিতা কামনা করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য অত্যন্ত নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে উজ্জ্বল করেছে।
রোহিঙ্গা সংকটের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বিশ্বসম্প্রদায়ের মনোযোগের কেন্দ্রে রেখেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসার যোগ্য এবং আশাব্যঞ্জক।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘বাংলাদেশ সর্বদা শান্তিপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই অভিবাসনে বিশ্বাসী। তবে রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।’
এই মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ছায়াতলে বাংলাদেশের আরও ব্যাপক ও জোরালো আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং বৈশ্বিক তহবিল প্রয়োজন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য কয়েকটি মানবিক প্রকল্প চলমান রয়েছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের অবারিত উদারতা ও অনন্য সংহতির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের এই মানবিক দৃষ্টান্ত অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বাস্তবসম্মত উপলব্ধি ব্যক্ত করে বলেন, এত বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর এই দীর্ঘমেয়াদি বোঝা বাংলাদেশের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও বেশি মনোযোগ, কার্যকর চাপ এবং দৃশ্যমান সমর্থন প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় জাতিসংঘের যেকোনো আহ্বানে সাড়া দিতে বাংলাদেশ সর্বদা অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীকে বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের জন্য উষ্ণ স্বাগত জানান। আবাসিক সমন্বয়কারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের হেড অব অফিস লুইস বারবার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত চায় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে যে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসবেন, তার ফিরে আসার জন্য মিছিল হচ্ছে। আপনারা পর্যবেক্ষণ করছেন কি না?—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফিরে আসার কার্যক্রম কী? আমরাও তো তাকে ফেরত চাই, সেটা আইনিভাবে।
তিনি বলেন, আমরা তো তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফেরত চাই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবং বিদ্যমান এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে, যেন তিনি বাংলাদেশে মামলার মুখোমুখি হন।
রাজধানীর মিরপুরে চাঞ্চল্যকর রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল ও তার সহযোগী স্ত্রীকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মূল আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ততম সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে সংঘটিত প্রতিটি জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারত্বের সঙ্গে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় জড়িত আসামিদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং এর কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
তিনি বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ ও ‘রি-অ্যাক্টিভ’ উভয় পদ্ধতিতে কাজ করছে। মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানগুলো মূলত ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যাতে অপরাধ সংঘটিত না হয়। অন্যদিকে ধর্ষণ বা হত্যার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধের ক্ষেত্রে ‘রি-অ্যাক্টিভ’ ব্যবস্থা হিসেবে দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার এবং তদন্ত সম্পন্ন করা হচ্ছে।
৫ দিন আগে
সীমান্তহত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত: নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। দয়িত্ব পালন না করতে পারলে আমাদের দায়িত্ব দিন। আমরা সরকারে এলে ইনশাআল্লাহ সীমান্ত হত্যা চিরতরে বন্ধ করব।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত খাদেমুলের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সীমান্ত হত্যা বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, সীমান্তে মানুষ মরলেও সরকার নিশ্চুপ থাকছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। তারা যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তবে আমাদের দায়িত্ব দিক; আমরা সরকারে এলে ইনশাআল্লাহ সীমান্ত হত্যা চিরতরে বন্ধ করব। অস্ত্র না থাকলেও আমরা বাঁশ হাতে নিয়ে রেডি হব সীমান্তে।
তিনি বলেন, বিএসএফ গুলি করে বাংলাদেশি হত্যা করে আর বিজিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভারতীয় বয়ান উল্লেখ করে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের মানুষ চোরাচালান করতে পারে না। বাংলাদেশের সকল মানুষ অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার। আমরা সীমান্তের শহিদদের পাশে থাকব। আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, এ মানুষগুলোর জন্য ফাউন্ডেশন গঠন করে দেব। সীমান্তে শহিদদের সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মাছ ধরতে যাওয়া বাংলাদেশি খাদেমুলকে বিএসএফ গুলি করে শহিদ করেছে বলে এ সময় উল্লেখ করেন তিনি।
এই রাজনীতিক বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যের সীমান্তে অস্থিতিরতা বিরাজ করছে। সে জায়গা থেকে আমরা সরকারকে বলব, রেড এলার্টে যাওয়ার জন্য, সীমান্তবাসীকে বলব সংঘবদ্ধ হওয়ার জন্য।
এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক বলেন, ইতিহাস থেকে চিন্তা করলে দেখা যায়, জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন, তখন ওই সময় শেখ মুজিবের সঙ্গে ‘গুন্ডা বাহিনী’ ভারতে পলাতক ছিলেন। সেখান থেকে তারা জিয়াউর রহমান সরকারকে বিরক্ত করেছিলেন। একই কায়দায় শেখ হাসিনা ভারতে থেকে বাংলাশেদের মানুষকে বিরক্ত করে যাচ্ছে এবং তারা ওই দেশের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে মিলে সীমান্তে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। সরকারকে বলব, আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘লিয়াজোঁ’ করবেন না। বরং আমরা এসে শেখ হাসিনাকে যদি ফাঁসির দড়িতে ঝুলাইতে পারি, তাহলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হয়ে যাবে এবং সীমান্তের মানুষ নিরাপদ থাকবে।
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, সরকারকে বলব সকল ধরনের পুশ-ইন বন্ধ করার জন্য। সীমান্তবাসীকে সজাগ থাকার জন্য, রাতে বাঁশ নিয়ে পাহারা দেওয়ার জন্য, যাতে ভারত থেকে তারা কাউকে পুশ-ইন করাতে না পারে। রোহিঙ্গা নিয়ে আমরা ঝামেলায় আছি, নতুন করে ঝামেলা নিতে চাই না।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন, আপনারাও ভালো, আমরাও ভালো। আর গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে এ সরকার থাকতে পারবে না। এ সরকার নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারছে না।
সাংবাদিক নিপীড়ন প্রসঙ্গে পাটওয়ারী বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এখনও নিপীড়ন চলছে। আগে করত শেখ হাসিনা সরকার, এখন করছে বর্তমান সরকার। সকল সাংবাদিককে মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি দিতে হবে। যারা সত্য সাংবাদিক আমরা তাদের পক্ষে। ভারতে পক্ষের ও মিথ্যা সাংবাদিকদের আমরা ছাড় দিব না।
এ সময় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সমন্বয়ক রাসেল আহমেদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী প্রথমে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত খাদেমুলের বাড়িতে যান। তাদের খোঁজখবর নেন। পরে তার কবর জিয়ারত করে হাতীবান্ধা ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মে হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে খাদেমুল নামে এক স্থানীয় যুবক নিহত হন।
৭ দিন আগে
ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতার বিষয়ে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের জন্য বিশেষ ভাতা হিসেবে ‘ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতা’ এবং ফ্রেশ মানি প্রদানের বিষয়টি পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর পূর্বাচলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ, পদক বিতরণ এবং পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস সেবা প্রদান করে যাচ্ছে যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। এ বিবেচনায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজও চলমান রয়েছে। তাছাড়া ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে ৭২টি পদ সৃজনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে যা বাস্তবায়িত হলে নৌ-দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এ বাহিনীর সেবা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
৭ দিন আগে
র্যাব পরিচালনায় আসছে নতুন আইন, নাম বদলেরও ইঙ্গিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
সরকার র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাবকে জনবান্ধব, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ লক্ষ্যে দ্রুত নতুন র্যাব আইন প্রণয়ন এবং বাহিনীটির নাম পরিবর্তনের বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র্যাব সদরদপ্তরে র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তনশীল অপরাধের ধরন ও কৌশল মোকাবিলায় র্যাবকে যুগোপযোগী ও বিশ্বমানের বাহিনীতে রূপ দিতে বিদ্যমান আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাহিনীটির সদস্যদের পেশাদারত্বের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক রাখতে একটি এলিট ফোর্সের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সে বিবেচনায় র্যাবের বিদ্যমান আইন পরিবর্তন ও সংশোধন করে এটিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, র্যাবকে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে এর সদস্যদের মানবাধিকার, ন্যূনতম বল প্রয়োগ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং অপরাধ দমনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৮ দিন আগে
চাঁদাবাজির তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ার দাবি করা বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চাঁদাবাজির তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কোরবানির পশুরহাটের নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার কাছে যদি চাঁদাবাজি বেড়েছে—সেই খতিয়ান থাকে, তা আমার কাছে আপনারা দিলে সেই জায়গাটা মোকাবিলা করতে পারব। কোথায় চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পেল, সেই তালিকা পেলে ব্যবস্থা নেব।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি দাবি করেছেন, চাঁদাবাজির কারণে বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদাবাজি কোথায় বেড়েছে, সেই তথ্য পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারব।’
তিনি বলেন, গত ৩০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক কারবারি ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। বিশেষ করে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে জোর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর, ডিএমপি ও জেলা পুলিশ সুপারদের নিয়মিতভাবে অভিযানের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সেই তালিকাটা আপনাদের মাধ্যমে বিরোধীদলীয় নেতার কাছে যেতে পারে। অথবা পত্রিকায় আমরা আরও বেশি করে প্রকাশ করতে পারি। কোথায় চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পেলো, সেই তালিকা পেলে ব্যবস্থা নেব।
এর আগে, রাজধানীর মিরপুর-১-এর শাহ আলী পাইকারি বাজার পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরিদর্শনকালে ব্যবসায়ীরা বিরোধীদলীয় নেতার কাছে অভিযোগ তুলে বলেন, সরকারিভাবে ৫ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া রাজধানীর মিরপুর শাহআলী কাঁচাবাজারে দোকান দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিচ্ছেন বরাদ্দ পাওয়া মালিকরা, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। দোকান ভাড়ার সঙ্গে চলছে নীরব চাঁদাবাজি। কারা চাঁদাবাজি করছে, তা বলতেও ভয় পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, চাঁদাবাজি সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। ব্যবসায়ীরা চাইলে প্রতিরোধের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।
১৪ দিন আগে