স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে শিগগিরই অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
খুব শিগগিরই দেশব্যাপী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর রমনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তরে ডিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, আজকের মতবিনিময় সভায় দুটি বিষয়ে অনুশাসন দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো— আমরা চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করে খুব শিগগিরই দেশব্যাপী, বিশেষ করে ঢাকা থেকে অভিযান শুরু করব। সেজন্য চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করে সেই হিসেবে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, যারা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, দাগি আসামি, যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের একটি স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করে সে হিসেবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং এর মাধ্যমে জনমনে স্বস্তি প্রদান করা ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আর এক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। যেহেতু বাংলাদেশ বিগত সময়ে একটা ফ্যাসিবাদী সরকারব্যবস্থার মধ্যে ছিল, সে সময় অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশের এই প্রতিষ্ঠানটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই জায়গা থেকে ক্রমান্বয়ে আজকের এই পর্যায়ে এসেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানুষ যেন পুলিশকে সত্যিকার অর্থেই জনগণের বন্ধু মনে করে, আমরা পুলিশ বাহিনীকে সে লক্ষ্যে পরিচালিত করছি। আজকের মতবিনিময় সভায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ রাজনীতিক বলেন, ‘পুলিশ কোনো ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিক নির্দেশে চলবে না বা কোনো পিতৃতান্ত্রিক সিস্টেম এখানে চলবে না; পুলিশ চলবে আইনানুগভাবে।’
মন্ত্রী বলেন, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে পরিচালনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে বিষয়ে তারা আজ সংকল্প ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি পুলিশ বাহিনীকে জনগণের পক্ষে বর্তমান সরকারের যে প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলো আছে, তা স্মরণ করে দিয়েছি। আমি আশা করছি, তারা জনগণের পক্ষে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পুলিশ বাহিনীকে ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরাসরি মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। তবে মন্ত্রী যদি চান, যেকোনো স্তরের কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। কিন্তু ‘চেইন অব কমান্ড’ ভঙ্গ করে একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।
ঢাকার যানজটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারকে আমরা একটা সেল বা কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দিয়েছি। তিনি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে বসে যানজট নিয়ন্ত্রণে করণীয় ও সুপারিশমালা প্রস্তুত করে আমাকে একটি প্রতিবেদন দেবেন।
এ সময় ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশার আধিক্য নিয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, ঢাকার প্রধান ও ভিআইপি সড়কে, যেখানে ব্যাটারিচালিত রিকশা থাকার কথা নয়, সেখানেও তারা চলাচল করছে। এটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়—সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা পরীক্ষামূলকভাবে উত্তরা এয়ারপোর্ট রোড থেকে সচিবালয় পর্যন্ত রাস্তায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ করব। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রধান ও ভিআইপি সড়কে এটি করা হবে।
ব্রিফিংয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
পুলিশ পুনর্গঠনে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ সংস্কার ও পুনর্গঠনে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু ও অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) মাধ্যমে দেশটি মেট্রোরেল ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। দেশটির সঙ্গে আমাদের সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। জাপান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করেছে। ভবিষ্যতে পুলিশ সংস্কার ও পুনর্গঠনে জাপান সহযোগিতা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে কয়েকটি উপযুক্ত প্রস্তাব দেওয়া হবে।
বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, পুলিশ পুনর্গঠন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার নতুন পদে নিযুক্তির জন্য অভিনন্দন জানান।
বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ডিএমপির সড়ক নিরাপত্তা প্রজেক্টটি গত বছর শেষ হয়েছে। আমরা পুলিশ ও ডিএমপির সঙ্গে আরও কাজ করতে আগ্রহী।
চলতি বছর হলি আর্টিজান হামলার দশ বছর পূর্তি হবে উল্লেখ করে সাইদা শিন-ইচি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট বাংলাদেশে অবস্থানরত জাপানের নাগরিকদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ীসহ বাংলাদেশে বসবাসরত সকল জাপানের নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, জাপানের পক্ষ থেকে যেকোনো অনুরোধ আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করব।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, জাপান দূতাবাসের প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) কোমিনে কেন, প্রথম সচিব (অর্থনীতি) মোচিদা ইউতারোসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
মার্কিন দূতাবাসসহ কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মার্কিন দূতাবাসসহ কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
সোমবার (২ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। তাছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে দুদেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়, অবৈধ অভিবাসন, সন্ত্রাসবাদ দমন, কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দূতাবাস সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যক্রম জোরদারকরণে বিশেষ কর্মসূচি (এসপিইএআর), ইলেকট্রনিক জাতীয়তা যাচাই (ইএনভি) বাস্তবায়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশটি শুরু থেকেই বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ দমন ও নিরাপত্তা খাতে ঘনিষ্ঠ অংশীদার হয়ে কাজ করে আসছে।
এ সময় রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। তিনি বলেন, ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসসহ সমগ্র কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করার লক্ষ্যে এসপিইএআর প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। এ লক্ষ্যে দ্রুত সমঝোতা স্মারক সই করা প্রয়োজন। অন্যথায়, যুক্তরাষ্ট্রের এ তহবিল ফেরত বা অন্যত্র চলে যেতে পারে।
রাষ্ট্রদূতের আহ্বানে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতি নিয়ে দ্রুত এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চাই।
রাষ্ট্রদূত এ সময় মন্ত্রীকে তার নতুন পদে দায়িত্ব পালনের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অবৈধ অভিবাসন রোধে বাংলাদেশে ইএনভি প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করতে চায়। এটি বাস্তবায়ন করলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন খাতে বাংলাদেশ গ্রিন জোনে অন্তর্ভুক্ত হবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, সন্ত্রাস দমন খাতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে আসছে। সন্ত্রাস দমন কর্মসূচিতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা থেকে উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পর্যায়ের প্রায় ৩০ হাজার কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহ করেছে। কিন্তু কর্মকর্তাদের অবসর ও বদলিজনিত কারণে এটি আশানুরূপ ফলপ্রসূ হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি সভা বা কর্মশালা আয়োজনের জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সিলর এরিক গিলান, রাজনৈতিক কর্মকর্তা শেন স্যান্ডারস, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ তানিক মুনির ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা রিলে পালমারট্রি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
সীমান্ত হত্যা যেন আর না শুনতে হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতকে আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা জানান। এর আগে, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন।
ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, ‘এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের হাইকমিশনারকে সীমান্ত নিয়ে কথা বলেছি। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা যেন আর শুনতে না হয়, সেজন্য বিজিবি ও বিএসফ যেন সব সময় এ বিষয়ে বৈঠক করতে থাকে। যতটুকু সম্ভব সীমান্ত হত্যা এড়িয়ে চলার জন্য বলা হয়েছে।
‘এ বিষয়ে ভারত বলেছে, তারাও আন্তরিক এবং তাদের সব সংস্থাকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।’
ভারতে ভ্রমণ ভিসার কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত এক-দেড় বছরে ভারতের কনস্যুলেট ও ভিসা অফিসগুলো আক্রমণের শিকার হয়েছে। যার জন্য তারা পুরোদমে সেই ভিসা কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। তবে তারা নিশ্চিত করেছে, ধারাবাহিকভাবে চালু করবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। নতুন একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে থাকে, এটি তারই অংশ। এছাড়া প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে আমাদের লেনদেন ও ব্যবসা-বাণিজ্য আছে। নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার কথা বলতে এসেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ, মর্যাদা ও লাভের ভিত্তিতে ভারতের কাছে আমরা একটি সহযোগিতা চেয়েছি। উভয় দেশ এ সম্পর্ক বজায় রাখব। ব্যবসা-বাণিজ্য, কুটনীতিকসহ সব ক্ষেত্রে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে। আমরা আশা করি, ভারত সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে এবং পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্কটা বহাল রাখবে।
৫ দিন আগে
বাংলাদেশে আরও বেশি হারে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বাংলাদেশে আরও বেশি হারে বিনিয়োগ করার জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাক্ষাৎ করতে এলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। আঞ্চলিক, কৌশলগত ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাই। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার ও অনেক বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। অদূর ভবিষ্যতে এ বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়াতে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান তিনি।
এ সময় রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছেন। উন্নয়ন ও নিরাপত্তা পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। তাই তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপের আহ্বান জানান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
রাষ্ট্রদূত চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিত হতে চলা ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্স কমব্যাটিং টেলিকম অ্যান্ড সাইবার’ জোটে বাংলাদেশকে যোগদানের অনুরোধ করেন এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে জানান। তিনি দুই দেশের মধ্যে ‘প্লান অব অ্যাকশান অন ল এনফোর্সমেন্ট ট্রেনিং কর্পোরেশন’-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হওয়ায় এটি পুনরায় রিভিউ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় তার সুবিধাজনক সময়ে চীন সফর করবেন বলে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপরাধ দমন, পুলিশ প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। তিনি মন্ত্রীকে চীন সরকারের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন তদন্ত কমিশন গঠন হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় শহিদ সেনা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহিদ পরিবারসহ জাতিকে জানাতে চাই— পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হবে, যাতে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটা চেষ্টা ছিল। এ কাজটা তারাই করতে পারে, যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।
তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড শুধু বাংলাদেশের নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের একটি। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল্য উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানার জন্য তৎকালীন সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তার ফলাফল আজও প্রকাশিত হয়নি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়, যার প্রতিবেদন আমাদের সামনে এসেছে। তবে সেটি বাস্তবায়নে সে সরকার তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
তিনি বলেন, আমরা নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করব না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথোপযুক্ত লোক দিয়েই তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। কমিশনের প্রতিবেদনে যে সুপারিশগুলো এসেছে, বিচারাধীন যে মামলাগুলো আছে, এই বিচারিক প্রক্রিয়াগুলোকে সমাপ্ত করা হবে। অন্যান্য সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
এই রাজনীতিক বলেন, আজ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় শহিদ সেনা দিবস পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বিজিবি'র মহাপরিচালক এবং শহিদ পরিবারের সদস্যবৃন্দসহ আমি বনানী কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি। আজ (বুধবার) বিকালে এ উপলক্ষ্যে সেনানিবাসে ইফতার, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারাই জীবন দিয়েছে, তারাই চিরস্মরণীয় ও চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিন বাহিনীর প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে কিছু পরিবর্তন আসবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে কিছু পরিবর্তন আসবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি আগামী ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শোনা যাচ্ছে যে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আসতে পারে; সেটা কি শিগগিরই আসবে নাকি আরও দেরি হতে পারে—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু পরিবর্তন তো আসবে, একটু সময় দিলে আর কি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশন কবে আহ্বান করা যায়, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এটা নির্ধারণ হয়েছে যে রাষ্ট্রপতির অধিবেশন আহ্বানের যে প্রজ্ঞাপন, সেটা যেদিন সেশন হবে তার কমপক্ষে ১৫ দিন আগে করতে হয়। এই সামারিটা সংসদ সচিবালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। এরপর রাষ্ট্রপতি সেটা অনুমোদন করে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমেই সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন রাষ্ট্রপতি এবং মার্চের ১২ তারিখে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হবে।
তিনি বলেন, সেই অধিবেশনে কী কী কর্মসূচি থাকবে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যেমন: সেই অধিবেশনে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবে; অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যেসব অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে সেগুলো উপস্থাপন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, সুপ্রস্তাব হবে প্রথামাফিক এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ হবে। আর অন্যান্য যে সমস্ত বিষয় থাকবে, সেগুলো সংসদের নৈমিত্তিক কার্যক্রম।
নতুন রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার নির্বাচনের বিষয় আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, সে বিষয়ে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি। তবে স্পিকার নির্বাচন পরে হবে বলে জানান তিনি।
মোহাম্মদপুরের আদাবরে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়েছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ডগুলোতে আপনারা কী পদক্ষেপ নেবেন জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এরকম একটা সংবাদ আমাদের কানেও এসেছে। আমি এটা খোঁজ নিতে বলেছি, তদন্ত করে আমাদের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি। যদি সেরকম কিছু হয় আমরা এই সমস্ত বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেব।
১২ দিন আগে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে দ্রুত জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রায় দীর্ঘ দেড় যুগ পর একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার গঠিত হয়েছে। তাই আমাদের নিকট জনগণের প্রত্যাশা অনেক। সে প্রত্যাশা পূরণে আমরা দ্রুত আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে যে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই, প্রথমে তার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠন ও নৈতিকতা উন্নতকরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে আমাদের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে। এখানে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাজেট মঞ্জুরির বিষয়ও রয়েছে। নতুন জনবল নিয়োগের মাধ্যমে এবং সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।
তিনি বলেন, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যুগোপযোগী উন্নয়নে আমাদের একটি সঠিক পরিকল্পনা দরকার। মন্ত্রী এসময় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের পরামর্শ ও সুপারিশমালা তৈরির নির্দেশ দেন। মন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আমরা যে সংস্কার করতে চাই, তার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (নিয়মিত দায়িত্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন, আইজিপি বাহারুল আলমসহ বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনু্বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
১৫ দিন আগে
রবিবার থেকে কারফিউ ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত শিথিল
কারফিউ শিথিলের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রবিবার (৪ আগস্ট) থেকে ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা- মোট ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকবে।
শনিবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় কারফিউ শিথিল বা প্রয়োগের বিষয়ে অন্যান্য জেলার জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানান তিনি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতির জন্য তিনি ও অন্যান্য মন্ত্রীদের পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করবেন কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যদি প্রয়োজন হয় ... এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে এবং প্রধানমন্ত্রী যদি উপযুক্ত মনে করেন... আমরা সব সময় দেশের জন্য কাজ করি। প্রধানমন্ত্রী যদি প্রয়োজন মনে করেন তাহলে আমরা তা করব।’
উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে জড়িত শিক্ষার্থীদের। এর প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
৫৭৯ দিন আগে
কোনো গণগ্রেপ্তার করছি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, আমরা কোনো নিরাপদ মানুষকে গ্রেপ্তার করছি না। তথ্য ও প্রমাণ সাপেক্ষে যাদের শনাক্ত করতে পেরেছি, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা কোনো নিরাপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করব না।
তিনি বলেন, আমরা কোনো গণগ্রেপ্তার করছি না। এমন কোনো জেলা নেই যেখানে তারা ধ্বংস না করলেও নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করেনি। ধ্বংসগুলো আপনারা সবাই দেখেছেন। তারা আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে, প্রাণহানি ঘটিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এসব কথা বলেন।
কোটা আন্দোলনকে ঘিরে কী পরিমাণ গুলি ব্যবহার করা হয়েছে, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, খুবই ধৈর্যের সঙ্গে ধ্বংসযজ্ঞ মোকাবিলা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। একেবারে না পেরে সেনাবাহিনীকে আসতে হয়েছে। যেখানে না পেরেছে, সেখানে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় গুলি করতে বাধ্য হয়েছে। সব হিসাব পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাখেন। কোনো একটি গুলি, কোনো একটি মৃত্যু যদি অনাকাঙ্ক্ষিত হয়, তাহলে একটা তদন্ত হয়, সেটা হবে।
তিনি বলেন,‘এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিচারবিভাগীয় কমিশন হয়েছে। তারাও একটি প্রতিবেদন দেবে, কী ঘটনা ঘটেছিল কয়েকদিনে। তখন আমরা সারা বিশ্বকে জানাতে পারব কী ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিল স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি।’
দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে জানিয়ে আসাদুজ্জামান আরও বলেন, বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঢাকা মহানগর, ঢাকা জেলা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী এই চার জেলার ক্ষেত্রে এই শিথিলতা কার্যকর হবে। বাকি জেলাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে।আরও পড়ুন: কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতায় নিহত ১৪৭: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সবাইকে কারফিউ মেনে চলার অনুরোধও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, সবার প্রতি অনুরোধ থাকবে, তারা যেন কারফিউ মেনে চলেন। যত তাড়াতাড়ি নিরাপত্তা বাহিনী স্বাভাবিক অবস্থা ঘোষণা করতে পারবে, তত তাড়াতাড়ি আমাদের দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারব।
ছাত্রদের অহিংস আন্দোলন ও দাবির প্রতি সবসময় আমাদের সহানুভূতি ছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘২০১৮ সালে যখন এই দাবি ওঠে, তখন আমরা কয়েকটি খাতে কোটা বাতিল করে দিই। সানন্দে আন্দোলনকারীরা তখন ফিরে গিয়েছিলেন।’
বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আপনি যে তদন্ত কমিশনের কথা বলছেন, সেটার টিওআর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন চলে গেছে। ২১ জুলাই পর্যন্ত যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেটার তদন্ত করবে তারা। যেহেতু এর পরিধি, অনুসন্ধান ও তদন্তের পরিসর বেড়ে গেছে, আমরা চিন্তা করছি, যেহেতু তদন্ত কমিশনের একজনই সদস্য, সেটাকে বাড়িয়ে তিনজন করার সিদ্ধান্ত হয়ত খুবই শিগগিরই নিতে পারি।
আরও পড়ুন: ঢাকাসহ ৪ জেলায় সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিথিল থাকবে কারফিউ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৫৮৪ দিন আগে