স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের এক যৌথ প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্নেন্স অ্যাডভাইজার লুইস বেননের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন ঢাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসন, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চিফ অব পার্টি আমিনুল এহসান ও সিনিয়র প্রোগ্রাম ডিরেক্টর লিপিকা বিশ্বাস।
বৈঠকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির গঠন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইনসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সরকার জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে কিছু রাজনৈতিক দল অসত্য তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
আজকের আলোচনায় কমিটি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চেয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল প্রচার করছে, সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না। এটি সম্পূর্ণ অসত্য।
তিনি আরও বলেন, আমরা বলেছি, জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। রাজনৈতিক দলগুলো যে সনদে স্বাক্ষর করেছে, সেই সনদের আলোকে প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধন যত দ্রুত সম্ভব আনার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিতে কমিটির উদ্যোগের অংশ হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে এ বৈঠকে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে ১৫টি দল সরাসরি বৈঠকে অংশ নেয়। সেই সঙ্গে একটি দল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে তাদের প্রস্তাব লিখিতভাবে কমিটির কাছে পাঠায়। তবে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বৈঠক বর্জনকারী দলগুলোর মধ্যে ছিল।
এর আগে আজ (রবিবার) জুলাই জাতীয় সনদে সম্মত সাংবিধানিক সংস্কার এবং গণভোটে প্রতিফলিত জনগণের রায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটটি তাদের এ অবস্থান স্পষ্ট করে। সেখানে জোটের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সংসদীয় বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, ঠিক সেভাবেই তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে জুলাই জাতীয় সনদের বাইরেও কিছু প্রতিশ্রুতি ছিল এবং জনগণ সেসব প্রতিশ্রুতির পক্ষে তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতি ১৮তম সংবিধান সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশেষ কমিটি রাজনৈতিক দল, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, সাবেক বিচারক ও বিচারপতি, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, জুলাইয়ের যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করবে।
কমিটি দ্রুত প্রক্রিয়াটি শেষ করতে চায় উল্লেখ করে তিনি জানান, তারা সম্ভব হলে প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠক করার চেষ্টা করবে।
জুলাই জাতীয় সনদের বিভিন্ন প্রস্তাবে বিএনপির দেওয়া ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করব।
জুলাই জাতীয় সনদে কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকার উদাহরণ হিসেবে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। তবে উচ্চকক্ষ কীভাবে গঠিত হবে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রস্তাব করেছি, সংসদের নিম্নকক্ষে পাওয়া আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। কেউ কেউ ভোটের আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি।
সালাহউদ্দিন বলেন, আলোচনা চলতে থাকবে এবং বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেদন সম্পন্ন হলে আমরা তা সংসদে উপস্থাপন করতে পারব। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় বিল প্রস্তুত করবে, যা পরে সংসদে আসবে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন নামের একটি রাজনৈতিক দল বৈঠকের মাঝপথে বর্জন করে বেরিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দলটির প্রতিনিধিরা আসলে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন, তাদের মতামত উপস্থাপন করেছেন এবং পরে চলে গেছেন। এছাড়া আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) তাদের মতামত লিখিতভাবে জমা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
৫ দিন আগে
বিস্ফোরণ-অগ্নিসংযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপতৎপরতায় সরকার মোটেই শংকিত নয় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দুই দিন ধরে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত এবং কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুনেছি, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি, মাফিয়া শক্তি, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ আইসিটি কোর্টের (মানবতাবিরোধী অপরাধ আদালতের) একটা রায়ের প্রেক্ষিতে তথাকথিত কর্মসূচি দিয়েছে। সেটা মনে হয় আজকে ২০ তারিখ, লকডাউন না কি যেন নাম দিয়েছে। সেটাকে উদ্দেশ্য করে রাজধানীতে কিছু ককটেলবাজি করেছে, রাতের অন্ধকারে দুই-একটি জায়গায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটা আসামিকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি, মোটরসাইকেলসহ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হাইকোর্টের ফটকের সামনে যারা একটা ককটেল মেরেছিল, তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
বাসে অগ্নিসংযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা কিছু বাস, পরিত্যক্ত বাস এবং কিছু বাস, যেগুলো চালক ও হেলপারবিহীন অবস্থায় বিভিন্ন জায়গায় পার্কিং করা থাকে রাতে, সেগুলো টার্গেট করে দুই-একটাতে অগ্নিসংযোগ করেছে। এগুলোও আমরা ফাইন্ড আউট করার চেষ্টা করছি সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। তাদেরকে শনাক্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা তাদের অপতৎপরতা, আগে থেকেই দৃশ্যমান ছিল। এগুলোতে আমরা খুব একটা মনোযোগ দিচ্ছি না।’
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডিসেম্বরে ফেরার বার্তা দিয়েছেন এবং গত শুক্রবার গুলশানের ঘটনা ও আজকের লকডাউনের মতো কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে আগামী কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘লকডাউন আমরা শব্দ শুনেছি, তো এখানে লকডাউন কি দৃশ্যমান হয়েছে? এগুলো জাতি প্রত্যাখ্যান করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেই আওয়ামী শক্তি ১৪০০ লোকের প্রাণ নিয়েছে, ম্যাসাকার করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, এটা জাতিসংঘের রিপোর্ট, আমাদের রিপোর্ট অনুসারে সেটা ২০০০-এরও বেশি, সেই গণহত্যাকারীরা এখনও জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে নাই, ভুল স্বীকার করে নাই, উচ্চবাচ্য করছে বিদেশে বসে, তাদের এই সমস্ত অপতৎপরতায় আমরা মোটেই শংকিত না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই জাতি তাদেরকে কখনও এই দেশে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ করবে না। সুতরাং এগুলো অপাংক্তেয়। তারা ডিসেম্বরে ফিরবে বলে, না ফেব্রুয়ারিতে ফিরবে বলে, এগুলোতে আমাদের কোনো মনোযোগ নাই।’
এছাড়া বিরোধী দল যে লং মার্চ করছে, সেটার সুযোগ আওয়ামী লীগ নিচ্ছে কি না এবং রাজপথে নামার সুযোগ বিরোধী দলের কাছ থেকে পাচ্ছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল যখন সমালোচনা করে, সেটা আমরা মনোযোগের সাথে নেই। বিরোধী দল কিছু দাবি নিয়ে লং মার্চ করেছে, করতেই পারে। এটা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, তারা তাদের কর্মসূচি পালন করবে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে সেই কর্মসূচি পালন করতে পারে, সহযোগিতা করা। আমরা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামে লং মার্চ করেছে, কোথাও কোনো দুর্ঘটনা হয় নাই, সহিংসতা হয় নাই, কোনো ক্ল্যাশ (সংঘর্ষ) হয় নাই। কালকে উত্তরাঞ্চলে লং মার্চ করেছে ঢাকা থেকে, শান্তিপূর্ণভাবে করেছে। তারা তাদের বক্তব্য দিয়েছে, এখন তাদের বিভিন্ন রকমের দাবি থাকতে পারে, সেই দাবির পক্ষে যদি জনগণ থাকে, তখন জনগণ কথা বলবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছর পরে নির্বাচন হবে বিধি মোতাবেক, নিয়ম মোতাবেক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়, তখন জনমত কাদের পক্ষে যায় সেটা তখন দেখা যাবে। এখন এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় অংশ নিতে যাচ্ছেন। তার যাওয়ার সময়ে এক সপ্তাহ ধরে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, তা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে বিশৃঙ্খলাগ্রস্ত দেশ হিসেবে উপস্থাপন করছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের সভায় যে অংশগ্রহণ, এটা প্রতিবছর একবার হয়ে থাকে, তিনি তাতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন। তার সাথে এ সমস্ত ঘটনাবলীর কোনো সম্পর্ক নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তি এগুলো করে আসছে আরও দুই বছর আগে থেকেই। এটা কন্টিনিউয়েশন। বিরোধী দলের কর্মসূচির সাথে তাদের কোনো যোগসূত্র আছে কি না সেটা আপনারাই খুঁজে বের করুন, আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।’
তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত দাবি-দাওয়া বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের সংকট সমাধানের জন্য, তারা আলোচনা করতে চেয়েছে সংসদে, আমরা দীর্ঘ আলোচনা করেছি। এ বিষয়ে কমিটি করতে চেয়েছে, বিরোধী দল-সরকারি দল মিলায়ে কমিটি করে তারা পরামর্শ দিয়েছে। তো এই বিষয়টায় ওখানেই শেষ হওয়া উচিত ছিল।’
৫ দিন আগে
গ্রেপ্তাররা ‘অপরাধ স্বীকার করেছে’, দ্রুত বিচারের আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগে তিনজন এবং আজকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, ‘তারা অপরাধ স্বীকার করেছে। এখন বাকি আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান।’
গ্রেপ্তারদের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের কম হতে পারে। এনআইডি যাচাইয়ের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি বলেন, ‘তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে এই ছেলের সম্পর্ক ছিল, ওঠাবসা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল। প্রায় সময় আড্ডা দিত। খোঁজখবর এবং অন্যান্য তথ্য নিয়ে যা দেখা গিয়েছে, তারা এই ছেলের বয়সের ৫ থেকে ১০ বছর বড়।’
অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘সমস্ত আলামত পাওয়া গিয়েছে। তারা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া যায় কি না—এসব নিয়ে কাজ করছে।’
পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তারা ১২ ঘণ্টার মধ্যে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং আলামতসহ অন্যান্য বিষয় জব্দ করতে পেরেছে।’
পুলিশ ফরেনসিক বিশ্লেষণ করছে এবং নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপ্রতিমের দাফনও আজ রবিবার সম্পন্ন হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডটির বিচার দ্রুত শেষ করার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আশা করি, রামিসা হত্যার বিচারের মতো এই হত্যাকাণ্ডের বিচারটাও আমরা সংক্ষিপ্ত সময়ে সমাপ্ত করাতে পারব। বিচার করবে আদালত। আমরা আমাদের সমস্ত আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে সহযোগিতা করব।’
রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার যেভাবে দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হয়েছে, একইভাবে এ মামলার বিচারেও বিচার বিভাগ গুরুত্ব দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
৫ দিন আগে
এসআই আলতাফ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এসআই (নিরস্ত্র) মো. আলতাফ হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে নিহতের পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে এলে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দেন। এ সময় শোকসন্তপ্ত পরিবারকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার সর্বাত্মক আশ্বাস দেন তিনি।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সার্বিক কল্যাণে ইতোমধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ৬ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। নিহতের পারিবারিক ব্যবসা সচল রাখার সুবিধার্থে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহায়তার ঘোষণাও দেন তিনি।
কর্মজীবনে আলতাফ হোসেনের নৈতিকতা ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে মরণোত্তর পুলিশ পদক (পিপিএম) দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি মরহুমের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীনের হাতে অনুদানের টাকা তুলে দেন।
গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে সৃষ্ট তর্ক-বিতর্ক মেটাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়েন এসআই আলতাফ হোসেন।
প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার বড় ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেন। রাত ৮টা ১০ মিনিটে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সেখানে হামলা চালায়।
৮ দিন আগে
অপরাধের মূল কারণ অনুসন্ধানে ক্রাইম রিপোর্টারদের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
অপরাধের মূল কারণ অনুসন্ধান করে সমাজকে অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ করতে ক্রাইম রিপোর্টারদের দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, অপরাধ কেবল একটি বাহ্যিক উপসর্গ। এর মূল কারণ অনুসন্ধান করে গোড়ায় আঘাত করতে হবে। সমাজে সংঘটিত বিভিন্ন ঘৃণ্য ও চাঞ্চল্যকর অপরাধ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে মাদক ও জুয়া কাজ করে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে অপরাধ বা অনুসন্ধানী সাংবাদিক তথা ক্রাইম রিপোর্টারদের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে অপরাধের ধরনও বদলেছে। এখন অপরাধ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও ডিজিটাল রূপ নিয়েছে। এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে আধুনিক আইনি কাঠামোর পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল এবং বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, অপরাধ, অপরাধী, অপরাধবিজ্ঞান, পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—এগুলো গভীরভাবে সম্পর্কিত। অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তথ্য প্রদান ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য ক্র্যাবের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের প্রয়োজন রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ৩১৮ জন পেশাদার সদস্য নিয়ে ৪৩ বছরের দীর্ঘ যাত্রায় ক্র্যাব অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা একটি উচ্চমানের জ্ঞানভিত্তিক শাখা, যেখানে গভীর পড়াশোনা ও তথ্য-বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়।
অপরাধের মূল কারণ অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীকে সাজা দেওয়ার পাশাপাশি সমাজকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে—কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অপরাধের উৎসমুখে সমাধান আনতে পারলে সমাজে অপরাধের হার কার্যকরভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ক্রাইম রিপোর্টারদের সহায়তার আশ্বাস
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্রাইম রিপোর্টাররা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব ক্রাইম রিপোর্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত হন, সিএসআর ফান্ডের মাধ্যমে বা অন্য কোনো মাধ্যমে তাদের সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
পাশাপাশি পেশাগত শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সনদ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও আইনগত দিক পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা যদি সমাজের প্রতি তাদের অর্পিত দায়বদ্ধতা সঠিকভাবে পালন করেন, তবে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। রাষ্ট্র যা চায় এবং সমাজ যা আশা করে, তা বাস্তবায়নে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাংবাদিকদের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।
অ্যাসিড অপরাধ দমনে অতীতের সফলতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে অ্যাসিড নিক্ষেপ রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কঠোর আইনি কাঠামো, গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ ভূমিকা এবং ব্যাপক সামাজিক সচেতনতার সম্মিলিত প্রয়াসে বর্তমানে দেশে অ্যাসিড-সম্পর্কিত অপরাধ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
একইভাবে মাদক ও অনলাইন জুয়াসহ অন্যান্য অপরাধ নির্মূলেও সাংবাদিক, রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনলাইন জুয়া ও মাদক দমনে নতুন আইন
অনলাইন জুয়া ও মাদক নির্মূলে আইনি কাঠামো সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুরোনো আইনগুলোর আধুনিকায়ন আবশ্যক।
তিনি বলেন, দেড়শ বছরের পুরোনো গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭ পরিবর্তন করে ডিজিটাল স্পেসে অনলাইন জুয়া, ম্যাচ ফিক্সিং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র মোকাবিলায় ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটি ১ জুলাই ২০২৬ প্রণীত হয়ে পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭ রহিত করেছে।
এছাড়া ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটি ১৬ জুলাই ২০২৬ প্রণীত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, দুর্বল আইনের ফাঁক গলে যেন অপরাধীরা পার পেতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার ও নতুন আইন প্রণয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ।
বক্তারা ক্র্যাবের ৪৩ বছরের অবদানের প্রশংসা করেন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরে মন্ত্রী কেক কেটে ক্র্যাবের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
৯ দিন আগে
ইসির স্থানীয় নির্বাচনের সময়সূচি সম্ভাব্য, চূড়ান্ত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে সময়সূচি ঘোষণা করেছে, সেটি কেবল ‘সম্ভাব্য’ পরিকল্পনা, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ইসির পরিকল্পনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কমিশন যে সময়সূচি উপস্থাপন করেছে, সেখানে সেটিকে স্পষ্টভাবেই ‘সম্ভাব্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং এর জন্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ঢাকা শহরে মেগা প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট যানজট রোধ-সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসির ঘোষণা এবং পরে এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আইন অনুসারে চলে। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের দুটি দায়িত্ব হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। এর বাইরে আইনে প্রদত্ত অন্যান্য নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করার কথা বলা আছে।’
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকারগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে আইনের মধ্যে এমন কিছু নেই যে সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ছাড়া নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কাজ করতে পারে। এটি সমন্বয়ের বিষয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশন গতকাল (সোমবার) ‘টেন্টেটিভ’ একটি পরিকল্পনা দিয়েছে, যার ভিডিও তিনি দেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘টেন্টেটিভ’ মানেই তারা ‘সম্ভাব্য’ সময়সূচি দিয়েছে। মনে হয়, গণমাধ্যমে বিষয়টি অন্যভাবে এসেছে, যেন কমিশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। তারা বক্তব্যেই বলেছে, এটি একটি ‘টেন্টেটিভ প্ল্যান’। ‘টেন্টেটিভ’ পরিকল্পনার ওপর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।
এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সম্ভবত নির্বাচন কমিশন ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আহ্বান করেছে। ওই সভায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা অংশ নেবেন।’
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা যে মতামত দেবেন, তার আলোকে নির্বাচন কমিশন সম্ভাব্য তফসিল সাজাবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এর আগে ইসি যে পরিকল্পনার কথা বলেছে, সেটি ‘টেন্টেটিভ’। তাই সেটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
১০ দিন আগে
পুলিশের পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট করার পরিকল্পনা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ইউনিটে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার সায়েন্সে দক্ষ পুলিশ সদস্যদের কাজে লাগানো হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) বোর্ডরুমে কলেজটির পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ইউনিট ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অ্যাডহক ভিত্তিতে বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ করছে। তবে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের অনেক সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তাদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চলছে।
পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের ওপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ করে তুলতে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক এনে কিংবা আধুনিক সুবিধা গড়ে তুলে কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে সাইবার স্পেসসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনীকে সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত করা হবে।
সভায় পিএসসির ভূমি ব্যবহারের জন্য এমআরটির প্রস্তাব, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সের বৈদেশিক অংশে প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ, পুলিশ স্টাফ কলেজের অধীনে পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, কলেজের বিধিসমূহের সরকারি অনুমোদন এবং বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণকে পদোন্নতি ও পদায়নের অগ্রাধিকার শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া ইন্টারপার সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশে প্রশিক্ষণ আয়োজন ও বিদেশে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানো, পিএসসির অবকাঠামো উন্নয়ন, মাস্টার্স ইন ফরেনসিক সায়েন্স ও মাস্টার্স ইন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড গভর্ন্যান্স কোর্স চালু, পুলিশ স্টাফ কলেজের রজতজয়ন্তী উদযাপন এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভার শুরুতে পরিচালনা বোর্ডের ২০তম সভার কার্যবিবরণী পেশ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন সাপেক্ষে তা অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে আগের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পরিচালনা বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুল মতিন, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শামীম সোহেলসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ স্টাফ কলেজের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।
১০ দিন আগে
ডিজিটাল পরিসরে শালীনতা ফেরানো সাইবার সুরক্ষা আইন পরিমার্জনের অন্যতম লক্ষ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ডিজিটাল পরিসরে শালীনতা ফিরিয়ে আনা, সাইবার বুলিং থেকে নারী ও তরুণদের সুরক্ষা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ পরিমার্জনের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে সাইবার অপরাধ, অনলাইন বুলিং এবং প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে আলোচনা হয়।
আইআরআইয়ের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে ছিলেন সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, আইআরআইয়ের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার রুকসানা হক এবং তরুণ রাজনীতিবিদ ও আইআরআই প্রশিক্ষণার্থী চামন ফারিয়া ও মোহাম্মদ প্রিন্স।
সাক্ষাৎকালে আইআরআইয়ের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাদের চলমান যুব নেতৃত্ব গঠন ও সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক চর্চা-সংক্রান্ত কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক কর্মীরা সাইবার বুলিং এবং সংগঠিত অপপ্রচারের কারণে হয়রানি ও মানহানির শিকার হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর জন্য একটি সর্বসম্মত নীতি ও আইনগত সুরক্ষার আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার নাগরিকের বাক্স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রতিটি নাগরিকের মতপ্রকাশ ও গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার রয়েছে। তবে গঠনমূলক সমালোচনা আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চরিত্রহনন বা গালিগালাজ এক নয়।’
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন পরিমার্জনের ক্ষেত্রে গত দুই মাস ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ও সুশীল সমাজের অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আইনটির মূল লক্ষ্য হবে ডিজিটাল পরিসরে শালীনতা ফিরিয়ে আনা, নারী ও তরুণদের সাইবার বুলিং থেকে রক্ষা করা এবং একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, যাতে আইনের কোনো ধরনের অপব্যবহার না ঘটে।
সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা সুসংহত করতে সরকার আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অংশীজনদের ইতিবাচক পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১২ দিন আগে
সরকার ৩ চাকার বৈদ্যুতিক যান নিয়ন্ত্রণে আনবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইকসহ আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ তিন চাকার বৈদ্যুতিক যানকে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু (সংরক্ষিত নারী আসন-৪) কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেওয়া নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তুলনামূলক কম ভাড়া, সহজলভ্যতা ও স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের সুবিধার কারণে গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও এ ধরনের তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান শহর ও গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, এ খাত চালক, মালিক, গ্যারেজ মালিক ও শ্রমিক, ব্যাটারি ও খুচরা যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী, চার্জিং সেবা প্রদানকারী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে একটি বড় অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থান নেটওয়ার্কও তৈরি করেছে।
তবে এ খাতের দ্রুত ও অনেকাংশে অনিয়ন্ত্রিত সম্প্রসারণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, যানজট, পরিবেশদূষণ, জনস্বাস্থ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক যানবাহন একই সময়ে চার্জ দেওয়ায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
মন্ত্রী এসব যানবাহনে ব্যবহৃত লিড-অ্যাসিড ব্যাটারি অনিরাপদভাবে ব্যবহার এবং নিয়ম না মেনে পুনর্ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এই বিপুল চাহিদার বিপরীতে দেশে বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। অন্যদিকে শুধু ঢাকাতেই অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে ৪৮ হাজারের বেশি। তিনি বলেন, এর ফলে অনুমোদনহীনভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সরকার বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
নিবন্ধনহীন যানবাহন, অপ্রশিক্ষিত চালক, ত্রুটিপূর্ণ নকশা, দুর্বল ব্রেক ও আলোকব্যবস্থা, অতিরিক্ত গতি এবং মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তার উল্লেখ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৯১১ জন নিহত ও ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ ছিল ব্যাটারিচালিত রিকশা।
রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে পরিচালিত রিকশার গ্যারেজের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) যৌথ অভিযানও পরিচালনা করছে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অটোরিকশাকে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হলে অনুমোদিত ও বৈধ অটোরিকশাকে নম্বর প্লেট দেওয়ার মাধ্যমে লাইসেন্সিং ব্যবস্থার আওতায় আনা, কিউআর কোডের মাধ্যমে চালকদের নিবন্ধন শনাক্ত করা এবং ধাপে ধাপে চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, সম্ভাব্য নির্দেশনার আলোকে অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া, রুট নির্ধারণ, চালক ও তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং আইন প্রয়োগ করা হবে। এসব পদক্ষেপ রাজধানীর যানজট কমাতে, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।
যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে রাজধানীর ১৭টি ট্রাফিক সিগন্যালে বর্তমানে ৫০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা চালু রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে এসব ক্যামেরা ইতিবাচক ফল দিয়েছে। রমনা ও তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের আওতায় আরও ২০০টি এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া ঢাকার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়েও ধীরে ধীরে আরও এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
রেহানা আক্তার রানু তার নোটিশে বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এআইভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপনের পর, বিশেষ করে রাজধানীর সড়কে ধীরে ধীরে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। লাল বাতি অমান্য করা, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লেন পরিবর্তন ও গতিসীমা অতিক্রমের মতো আইন লঙ্ঘনের ঘটনা কমেছে। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো এখনও নিয়ম না মেনে বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, এসব যানবাহনে নম্বর প্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরা সেগুলো শনাক্ত করতে পারলেও জরিমানা করা সম্ভব হয় না।
তিনি আরও বলেন, এসব বেপরোয়া যান নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই। অন্তত প্রধান সড়কগুলো থেকে এসব রিকশা সরিয়ে নিতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অটোরিকশার নকশার ত্রুটি দূর করে নম্বর প্লেট সংযোজন, চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ও লাইসেন্স দেওয়াসহ সবকিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আনার ওপর জোর দেন তিনি।
বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা এ খাতের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল পুরোপুরি বন্ধ না করে সরকারকে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা উচিত বলেও মনে করেন রানু। তিনি বলেন, জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা না করে তাদের যানবাহন জব্দ করে ফেলে দেওয়া এবং পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা ঠিক নয়।
জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারকেও শর্ত হিসেবে রাখা হবে এবং নিবন্ধন নম্বরের সঙ্গে যুক্ত ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে সংযোগ নিয়ে অবৈধ চার্জিং স্টেশন পরিচালনার কারণে রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে এবং এর সঙ্গে দুর্নীতিও জড়িত। যারা এসব অবৈধ চার্জিং কার্যক্রম পরিচালনা ও ব্যবহার করছে, তাদের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের কিছু কর্মকর্তাও এর সঙ্গে জড়িত বলেও মন্ত্রী অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, বেকারত্ব যাতে না বাড়ে, কর্মসংস্থান যাতে ব্যাহত না হয়, পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে, যানবাহনে শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি হয়—সরকার সব দিক বিবেচনায় রাখবে।
১৮ দিন আগে