স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘ভোট ব্যাংক’ মিথ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—সবার আগে বাংলাদেশ। আর যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তবে আমরা প্রত্যেকেই সবার আগে বাংলাদেশি। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।’
অতীতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অতীতে যারা মনে করত এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল যে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’, এ দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা হয়েছে। জনগণই বিচারক উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন এবং আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা থাকবে।’
সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না।
তিনি বলেন, সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সরকার শুধু সংবিধানে এ বিষয়টি ‘কিতাবী’ রূপে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বাস্তবেও সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
১ দিন আগে
জুবায়েরপন্থীদের বিশ্ব ইজতেমা জানুয়ারিতে ২ পর্বে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তাবলিগ জামাতের মাওলানা জুবায়েরপন্থীদের বিশ্ব ইজতেমা আগামী জানুয়ারিতে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। তবে মাওলানা ওয়াসিফুল ইসলাম বা সাদপন্থীদের ইজতেমা কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সাদপন্থী নেতাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বৈঠক শেষে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, মাওলানা জুবায়েরপন্থীদের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজকে বিশ্ব ইজতেমা তাবলিগ জামাতের দুই অংশের একটি অংশ, যারা সাদপন্থী হিসেবে পরিচিত, তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ইতোপূর্বে কয়েক দিন আগে ইজতেমার আরেক অংশ জুবায়েরপন্থী হিসেবে যারা পরিচিত, তাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তখনই আমরা বলেছিলাম, অপর অংশের সঙ্গেও আলোচনা করব।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রথম সভায় প্রাথমিকভাবে তারিখ নির্ধারণের যে সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করেছিলাম, সেটা এই অংশকে জানিয়েছি।
মন্ত্রী বলেন, গতবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের শেষ দিকে জাতীয় নির্বাচনের কারণে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই এ বছর আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করেছি, এটা দুই পর্বে হবে, অর্থাৎ আগামী ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি প্রথম পর্ব এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠেই এটা অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষের দাবি, বিশ্ব ইজতেমার মাঠ যেন তারা ব্যবহার করতে পারেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা একটি চিঠি এবং একই বছরের ২৭ জানুয়ারি জারি করা আরেকটি পত্রের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, এই দুইটা পত্রের সারমর্ম হচ্ছে—তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ মাওলানা সাদ অনুসারীরা আগামী বছর বিশ্ব ইজতেমা টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে করবেন না। জুবায়েরপন্থীরা দাবি করছেন, যেহেতু তারা সম্মত হয়েছিলেন যে শেষবারের মতো তারা টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা করবেন, সাদপন্থীরা আগামী থেকে এটা আর ব্যবহার করতে পারবেন না, অন্য কোনো জায়গায় করবেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তবে আজকের আলোচনায় দেখা গেল, এটাতে সাদপন্থীগণ একমত নন। তাদের দাবি হচ্ছে, এটা কীভাবে তারা সই করেছেন, তারা জানেন না। আমরা তো সরকারের দায়িত্বে তখন ছিলাম না। তখন যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সঙ্গে উভয় পক্ষের আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই শান্তিপূর্ণভাবে এটা অনুষ্ঠানের জন্য এই সিদ্ধান্তে তারা এসেছিলেন এবং সবাই তখন একমত হয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সাদপন্থীদের দাবি হচ্ছে, জুবায়েরপন্থীদের দুই পর্বের ইজতেমা শেষে যৌক্তিক সময়ের ব্যবধান রেখে তারা এক পর্বে ইজতেমা করতে চান। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টা নিয়ে অপর পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব বলে জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, যাতে কোনো ধরনের সংঘর্ষ না হয়। যেহেতু ইতোপূর্বে হতাহতের ঘটনার নজির রয়েছে, সেজন্য আমরা এটা লক্ষ্য রেখে সিদ্ধান্ত নেব।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু এখনও এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি, তাই এর বেশি এই মুহূর্তে বলতে পারবেন না।
এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুবায়েরপন্থীরা প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা করবেন। আর সাদপন্থীদের প্রস্তাব হচ্ছে, ওই দুই পর্বের পর রমজান শুরুর আগে মধ্যবর্তী সময়ে এক পর্বে ইজতেমা করা। অথবা জানুয়ারির দুই পর্বের আগে নভেম্বরের শেষ দিকে ইজতেমা করার প্রস্তাবও তারা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এটা হচ্ছে তাদের প্রস্তাব। আমরা বলেছি, অপর পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাব।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুবায়েরপন্থীদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল, সাদপন্থীরা যেন বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ছাড়া অন্য কোনো জায়গায় ইজতেমা আয়োজন করেন। সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করার কথাও তাদের জানানো হয়েছে। তবে সাদপন্থীরা এ প্রস্তাবে একমত হননি।
তিনি আরও বলেন, তাবলিগ জামাত বিভক্ত হওয়ার আগে থেকেই বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মূলত বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের কারণে সুবিধার্থে দুই পর্বে ইজতেমা আয়োজন করা হতো।
তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করার জন্য সরকার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মধ্যে একটি সমঝোতা তৈরির উদ্যোগ নিতে সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
মাওলানা সাদ এবার বিশ্ব ইজতেমায় আসতে পারবেন কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাওলানা সাদ সাহেবের বাংলাদেশে আসার বিষয়টি ভিসা নীতির আওতায় ধর্ম মন্ত্রণালয় দেখবে। এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।’
প্রতিবার মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে কোনো না কোনো বাধা থাকে, এবারও সে ধরনের কোনো বাধা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। ভিসা নীতি অনুযায়ী যেভাবে প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়, সেভাবেই নেওয়া হবে। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানা যাবে। বর্তমানে এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।’
২ দিন আগে
সীমান্তে অপরাধ মোকাবিলায় ডিজিটাল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচার এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিলেট সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে তিনি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি ড্রোনের ব্যবহারিক প্রদর্শনীও উপভোগ করেন।
মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বিজিবিকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এতে করে সীমান্তে চারাচালানসহ সব অপরাধ কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্তের দুর্গম ও যেসব এলাকায় জনবল দিয়ে নজরদারি করা কঠিন, সেই এলাকাগুলোতে থার্মাল ও নাইট ভিশন ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে সীমান্তের অপর প্রান্তের গতিবিধি শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচার মোকাবিলায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।
ড্রোন প্রযুক্তির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে দেশে ড্রোন তৈরি ও সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা একসময় প্রতিরক্ষা শিল্পে রূপ নিতে পারে।
এছাড়া মব সংস্কৃতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মবের অপসংস্কৃতি রোধে সরকার সজাগ রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকাংশে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
ড্রোন প্রযুক্তি শুধু সীমান্ত নিরাপত্তায় নয়, দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রদর্শিত আধুনিক ড্রোন সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি ধীরে ধীরে এখানে সংযোজন করা হবে এবং আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে আরও উন্নত সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে দিনব্যাপী সফরের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার প্রথম সিলেট সফর।
৪ দিন আগে
লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নতুন পুরস্কার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করতে তথ্যদাতাদের জন্য নতুন করে আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সদরদপ্তর আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে (এপ্রিল-জুন) প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় পরিণত করে এর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে ইতোমধ্যে বিশেষ ইউনিট গঠন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের পুরস্কারের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভারী অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।
পিস্তল, রিভলবার বা শটগানের মতো অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ার গ্যাস শেল ও অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা করে পুরস্কৃত করা হবে।
তথ্যদাতাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাতিলকৃত অস্ত্রের লাইসেন্স জমা দেওয়া হয়নি—এমন অস্ত্রকে ইতোমধ্যে অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরাধ দমনে পুলিশের দায়বদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা ওই সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেনসহ বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশের কমিশনার ও অতিরিক্ত কমিশনার এবং জেলার পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশের কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও জেলার পুলিশ সুপারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
৭ দিন আগে
রাতারাতি পুলিশের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করতে পারি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশের রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন কোনো অপরাধ নেই যা সংঘটিত হওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারেনি।
তার ভাষ্য, ‘একটি ঘটনাও নাই! এটাই বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের কৃতিত্ব।’
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, যে আকাশসম উচ্চতার প্রত্যাশা—জনপ্রত্যাশা আমরা পেয়েছি, আমাদের যেটা প্রত্যাশা আছে, সবকিছু আমাদের একসাথে বিবেচনায় নিতে হবে।’
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন, তাদের মনোবল বৃদ্ধি এবং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করার কাজ একসঙ্গে করতে হচ্ছে এবং সরকার তা করে যাচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সরকারের ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। এই দায়িত্ব নেওয়ার পরে একটি ঘটনাও নাই, এমন কোনো অপরাধ নাই, যেটা সংগঠিত হওয়ার পরপরই পুলিশ বাহিনী গ্রেপ্তার করতে পারে নাই বা বিচারের আওতায় আনে নাই।’
তিনি বলেন, ভঙ্গুর মনোবল ও দুর্বল অবস্থায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পাওয়ার পর গত ছয় মাসে তাদের অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব হয়েছে। তাদের মনোবল ফিরে এসেছে এবং তারা পূর্ণ শক্তি দিয়ে অপরাধ দমনে সচেষ্ট হয়েছে।
রংপুরের ৪ খুনের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেই ঘটনা সংগঠিত হওয়ার যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
‘এরকম রামিসা হত্যা থেকে শুরু করে যত ঘটনা জাতীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে বা আলোচিত হয় নাই, প্রত্যেকটা অপরাধের আমরা অ্যাড্রেস করতে পেরেছি এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসতে পেরেছি, আদালতের কাছে সোপর্দ করতে পেরেছি।’
ক্ষেত্রবিশেষে সমাজের চাহিদা অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত সময়ে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করার ক্ষেত্রেও সরকার সহযোগিতা করেছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সবকিছুই আপনারা জানেন, এর চাইতে এই অল্প সময়ের মধ্যে আর বেশি কিছু আশা করা আমাদের মনে হয় ঠিক হবে না।’
তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশকে প্রত্যাশিত ও জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বলেন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং তাদের জবাবদিহিতা ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
‘দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভালো ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পুরস্কার, সনদ ও পদক দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আমরা কেউ আশা করতে পারি না। ইনশাআল্লাহ, আমরা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এ দেশের গণমানুষের নেতা জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে, নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে একটা এমন পর্যায়ে উন্নীত করতে পারব, তাতে জনপ্রত্যাশা পূরণ হবে।’
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শান্তি, ক্ষমা, ধৈর্য, সাম্য, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই আদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।
বর্তমান বিশ্বে ইসলামের শান্তির বাণী অনুসরণ করা হলে যুদ্ধ-বিগ্রহ, অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও সামাজিক অস্থিরতা থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্বার্থের সংঘাত, অর্থনৈতিক সংঘাত এবং পরস্পর স্বার্থের জন্য যুদ্ধবিগ্রহ—এগুলোর কোনোকিছুই থাকবে না যদি আমরা শান্তির পথে, সাম্যের পথে থাকি এবং অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করি।’
এ সময় দেশে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।
১০ দিন আগে
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু
মহাসড়কে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনা হ্রাস এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত, কার্যকর ও স্বচ্ছ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাটে অবস্থিত হাইওয়ে পুলিশের কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে আজকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে যার মাধ্যমে সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস্তবায়িত এই ব্যবস্থার সাফল্য ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল মহাসড়কে এই স্বয়ংক্রিয় এআই প্রযুক্তি চালু করার ঘোষণা দেন।
মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজির প্রবণতা—তা মালিক পক্ষ, শ্রমিক ফেডারেশন কিংবা পুলিশের যে কারো পক্ষ থেকেই হোক না কেন—সবকিছুই এই সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরায় রেকর্ড হিসেবে জমা থাকবে। ফলে এই অপরাধমূলক প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় মহাসড়ককে সম্পূর্ণরূপে চাঁদাবাজিমুক্ত করা সম্ভব হবে।
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও নন-মোটরাইজড যানবাহন চলাচল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহাসড়কে অননুমোদিত ও লাইসেন্সহীন কোনো থ্রি-হুইলার বা নন-মোটরাইজড যান চলতে দেওয়া হবে না এবং এগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। তবে পার্শ্ববর্তী স্থানীয় ফিডার রোড ব্যবহার এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়ার মতো অত্যাবশ্যকীয় বিষয়টি শৃঙ্খলার সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য তিনি হাইওয়ে পুলিশ প্রধানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
অনুষ্ঠানে এই আধুনিক ও যুগোপযোগী উদ্যোগকে সফল করতে হাইওয়ে পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ফেডারেশন এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
উল্লেখ্য, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর গৃহীত একটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম বা ওভারস্পিড, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, ট্রাফিক সাইন-সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টোপথে যানবাহন চালানো এবং অবৈধ পার্কিংসহ যেকোনো ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এআই ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড ও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তিভিত্তিক এই প্রক্রিয়ায় আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার তথ্য সরাসরি বিআরটিএ-র ডেটাবেজে চলে যাবে এবং স্বয়ংক্রিয় সংকেতের মাধ্যমে যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে মামলার বিবরণ নিশ্চিত করা হবে। প্রাপ্ত সংবাদের পর যানবাহনের মালিকগণ তাদের সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে ঘরে বসেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।
এভাবে বারবার আইন লঙ্ঘন করার অপরাধ ঘটলে বিআরটিএ-র বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের মতো কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
১৮ দিন আগে
বাংলাদেশে আল কায়েদার তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুমাননির্ভর, আমলে নিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশে আল কায়েদার তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রতিবেদনটি অনুমাননির্ভর হওয়ায় সরকার তা আমলে নিচ্ছে না।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল কায়েদার তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিজেদের স্থায়ী ঘাঁটি ও গোপন সেল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে আল কায়েদা।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি শুনেছি, সেটা পড়িনি। সেখানে হয়তো কিছু অবজারভেশন (পর্যবেক্ষণ) দিতে পারে। আমি না দেখে বলতে পারব না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এগুলো আমলে নিচ্ছি না, রিপোর্টও এখনও পড়িনি। তাছাড়া আমি যতটুকু শুনেছি পত্রিকার অন্তরে, সেখানে বলা হয়েছে যে, তারা একটা অ্যাজাম্পশন (অনুমান) করেছে; অনুমান করেছে যে এরকম হতে পারে। তো অনুমাননির্ভর রিপোর্টের ওপর আমরা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না।’
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অন্য কোনো দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে—এমন গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ কোনো গুঞ্জন শোনেননি বলে জানান।
১৯ দিন আগে
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, তবে জনপ্রত্যাশা পূরণে আরও সময় লাগবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতির আরও উন্নতি করতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সরকারের ১৮০ দিন পার হলো, এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টা জনগণ বলবে। আমরা তো সবসময় বলব যে আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে পেরেছি, তবে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নীতকরণের জন্য আরও সময় লাগবে। আমাদের এখন মাত্র ছয় মাস পার হলো।’
তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কার কাজ করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসনীয় বিভিন্ন উদ্যোগ আপনারা দেখতে পেয়েছেন।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১৮০ দিনে সরকার বাস্তবায়ন করেছে এবং শুরু করেছে—এমন অনেক কর্মসূচি প্রশংসিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার একাধিক সংকটময় মুহূর্ত সফলভাবে মোকাবিলা করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহে সংকট তৈরি হলেও বাংলাদেশে প্রায় এক মাস কোনো জ্বালানির মূল্য বাড়ানো হয়নি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই সময় সারা বিশ্বে—আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশসহ অনেক দেশেই—জ্বালানি তেলের মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বোরো মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করিনি। বোরো মৌসুমের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরে একটা পর্যায়ে আমরা সহনীয় মাত্রায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করেছি।
গ্যাস ও জ্বালানি সংকটকে ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ের রেখে যাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা রাতারাতি এখান থেকে উত্তরণ করতে পারিনি। এখন এই সমস্ত সমস্যাগুলো আমরা সফলতার সঙ্গে মোকাবিলার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঠিক রাখা এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মজুত নিশ্চিত করতে সরকার পরিকল্পনা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভবিষ্যতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট এড়াতে সরকার পরিকল্পনা করছে। বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ আহ্বান এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য জ্বালানি ও ‘প্রাইমারি এনার্জি’র সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহেশখালীতে আরও একটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্বাচন ও জরিপের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে এখানে জিটুজি (সরকার টু সরকার) ভিত্তিতে আরও একটি বা দুটি এফএসআরইউ নির্মাণ করা হবে।
বর্তমানে থাকা দুটি এফএসআরইউর একটি সামিটের এবং অন্যটি এক্সিলারেট এনার্জির উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলোতে বিভিন্ন সময় যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হয়।
এ সময় গ্যাসের আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে দেশের অভ্যন্তরে এবং অফশোর ও অনশোর এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এতে করে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আশা করা যায় আমরা আমাদের নিজস্ব সম্পদেই এই গ্যাসের সমস্যাটা সমাধান করতে পারব।’
সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ের কর্মকর্তাদের অনুদান ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিজীবীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সরকারের পরিকল্পনা প্রায় বাস্তবায়িত হয়েছে বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় খাদ্য প্রকিউরমেন্ট কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি এ বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের অগ্রগতি সংকলন করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেকশন থেকে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
১৯ দিন আগে
পুলিশে নিয়োগে রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব বিবেচনা করেনি সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশে নিয়োগে কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব বিবেচনা করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, পুলিশে নিয়োগ নিরপেক্ষভাবে এবং শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয় ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
এ প্রসঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশে নিয়োগে কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব বিবেচনা করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে বিরোধী দলের দুজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা পুলিশে নিয়োগের বিষয়টি উত্থাপন করেননি।
বৈঠকে মাদক ও জুয়াকে দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এগুলো নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংসদ সদস্যরা মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে রয়েছেন উল্লেখ করে মাদক নির্মূলে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, মাদক নির্মূলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা, ট্রাইব্যুনাল ও এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গঠনসহ বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সংস্থাগুলোর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট খাতওয়ারি বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের ৩০ জুন শেষ হতে চলা অর্থবছরের জন্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সব সংস্থার খাতওয়ারি বাজেট ও ব্যয় বিভাজনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মোট প্রস্তাবিত বাজেট ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন বাজেট ২৮ হাজার ৬৩৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন বাজেট ২ হাজার ৪৬০ কোটি ২১ লাখ টাকা।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মীর শাহে আলম, মো. কামরুজ্জামান, মো. মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নুরুল ইসলাম এবং মো. আব্দুল বাতেন অংশ নেন।
এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরগুলোর মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
২৩ দিন আগে
সমতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভৌগোলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ নানাদিক থেকে বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। তাই সমতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে।
সোমবার (১০ আগস্ট) মন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক আলোচনা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভৌগোলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ নানা দিক থেকে বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। অতীতকে পেছনে ফেলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে একটি নতুন সূচনা বা ফ্রেশ স্টার্ট জরুরি। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য বা ইস্যু রয়েছে যেগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। সমতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে। তবে এ বিষয়ে ভারতকে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।
ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা কেবল ভৌগোলিক সীমানা ভাগাভাগি করি না, আমরা সমৃদ্ধির স্বপ্নও ভাগাভাগি করি।’
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে বিভিন্ন ইস্যুতে চ্যালেঞ্জ থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইস্যু থাকাটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, ইস্যু না থাকলে সেটা প্রকৃত গণতন্ত্র হতে পারে না। তবে সকল চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে দুই দেশের জনগণের একটাই মূল প্রত্যাশা—তা হলো একটি সুদৃঢ় ও চমৎকার সম্পর্ক, যা উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণকর (উইন-উইন সিচুয়েশ) পরিবেশ তৈরি করবে।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আলোচনা ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করা যাবে না—দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো জটিল ইস্যু নেই। এ সময় তিনি আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় ও উজ্জ্বল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদ্যমান বন্দি বিনিময় ও এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত সকল চিহ্নিত পলাতক অপরাধীকে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি করার লক্ষ্যে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতীয় হাইকমিশনারকে অনুরোধ জানান। তাছাড়া শহিদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ভারত থেকে এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী যথাশীঘ্র সম্ভব বাংলাদেশে ফেরত প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়। এ সময় ভারতের পক্ষ থেকে আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান ভারতীয় হাইকমিশনার।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও ভারতীয় হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
২৬ দিন আগে