স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে ৮ সদস্যের কমিটি
দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে সুপারিশ দিতে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার।
এ বিষয়ে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।
আগামী দুই মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দিতে কমিটিকে বলা হয়েছে।
কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, বিমানবাহিনীর প্রধান, স্বরাষ্ট্র সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শককে।
এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
১৩ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।
৬ ঘণ্টা আগে
চিকিৎসকদের বদলি-পদায়নে অটোমেশন চালু
স্বাস্থ্য খাতে বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অটোমেশন পদ্ধতি চালু করেছে সরকার। প্রথম ধাপে ৯৫ জন জুনিয়র কনসালট্যান্টকে বদলি ও পদায়ন করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সব পদের বদলি ও পদায়ন পর্যায়ক্রমে অটোমেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে অটোমেশন ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন।
এ উদ্যোগকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা উপজেলা লেভেলে ৯৫ জন চিকিৎসককে অটোমেশন পদ্ধতিতে বদলি করতে চাচ্ছি, যেখানে কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকবে।
চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমরা পরবর্তীতে করব। ডাক্তারদের সেন্টিমেন্ট অনুযায়ী যার যার উপজেলায় দেওয়ার একটা নির্দেশনা আছে। অটোমেশনের যদি অন্যখানে পড়ে, আমরা খুঁজে দেখব কার উপজেলা কোনটা, নিজ নিজ উপজেলায় আমরা দেব।’
এ প্রক্রিয়ায় ৯৫ জন চিকিৎসককে বদলির ফলাফল দেখে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুরো মন্ত্রণালয়কে আমরা অটোমেশন পদ্ধতিতে আনতে পারি।
এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই স্বাস্থ্য খাতে বিরাট পরিবর্তন, সংস্কার এবং অনিয়ম থেকে নিয়মে ফেরত আনার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা বদলি-পদায়ন অটোমেশন চালু করছি।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ডা. উম্মেহানী বলেন, সরকারি কার্যক্রমে অটোমেশন নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও গতিশীল করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী বদলি ও পদায়ন পরিচালিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
৭ ঘণ্টা আগে
অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই মুহূর্তে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযান চালানোর পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর দামপাড়ায় মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনসে ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সংঘঠিত এসব নতুন অপরাধ দমনে দেশের আটটি বিভাগে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও বিচারপ্রার্থীদের চাওয়া পূরণে এসব ল্যাব সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে অপরাধের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গুজব, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, সহিংসতায় উসকানি, ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলসহ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে।
সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সংঘঠিত অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে সাইবার পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমন করতে গেলে পুলিশ মাঝেমধ্যে হামলার শিকার হয়, এটি নতুন কিছু নয়। অপরাধ দমনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। তবে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ চালানোর মতো কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে সরকারের নেই।
চট্টগ্রামের দামপাড়ায় ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার’ নির্মাণে সহযোগিতা করেছে ‘কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি’। প্রায় ৫৯ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, অ্যাডিশনাল আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, অ্যাডিশনাল আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন, সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
১ দিন আগে
সংবিধান সংশোধন কমিটিতে প্রতিনিধি দিতে বিরোধী দলকে আহ্বান
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি মনোনয়ন দিতে বিরোধী দলকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কমিটির সপ্তম বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার রক্ষায় সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন এগিয়ে নেওয়ার ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অবদান রাখা শিক্ষকদের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে অংশ নিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তাদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
সংবিধান সংশোধনের কার্যকর পদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার, জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে তারা মতবিনিময় করেন।
রাষ্ট্রকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন এবং প্রস্তাবিত এই কক্ষে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন কমিটির সদস্যরা।
বৈঠকে কয়েকজন অংশগ্রহণকারী ইতোমধ্যে তাদের লিখিত মতামত জমা দিয়েছেন। অন্যদের কোনো প্রস্তাব থাকলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তা কমিটির কাছে জমা দিতে অনুরোধ জানানো হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা এবং সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা ও মো. মাহমুদুল হক রুবেল।
২ দিন আগে
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রোহিঙ্গা ক্যাম্প-সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
কক্সবাজারের নোয়াখালীপাড়া ও রঙ্গিখালী পাহাড়ি এলাকায় রামুর ১০ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে এসব ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা সভা শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রঙ্গিখালী ও নোয়াখালীপাড়া পাহাড়ি এলাকায় প্রতিনিয়ত লোকজনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এ ধরনের অপরাধ বন্ধে সবার পরামর্শ অনুযায়ী ওই দুই এলাকায় সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ১০ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ক্যাম্প দুটি স্থাপন করা হলে ওই এলাকায় এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হবে বলে সরকার আশা করছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে নষ্ট হয়ে যাওয়া কাঁটাতারের বেড়া পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সঙ্গে সেখানে সোলার লাইট স্থাপন, কিছুদূর পরপর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং কন্ট্রোল ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে মাদক, অস্ত্র, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) একজন ডিআইজির নেতৃত্বে এসব অভিযানে অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও যুক্ত থাকেন।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট অপরাধের মধ্যে প্রধানত মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আনাগোনা রয়েছে। এর বাইরে দণ্ডবিধির আওতায় বিভিন্ন সাধারণ অপরাধও হয়।
এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাহিনীর নিয়মিত কাজের পাশাপাশি এপিবিএনের নেতৃত্বে ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সম্প্রতি এপিবিএনের আইনে তাদের তদন্তের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এপিবিএনে প্রায় ৪০০ উপ-পরিদর্শক (এসআই) পর্যায়ের কর্মকর্তা থাকায় তাদের এ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি জমি সুশাসনের আওতায় আনতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে সারদার মতো একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং এ জন্য জমি দেখা হচ্ছে।
৭ দিন আগে
৪৯ বিসিএসের বাকি ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন সোমবার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৪৯তম বিসিএসের বিশেষ শিক্ষা ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত বাকি ৪৬ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন আগামী সোমবার জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না। তবে নিয়োগের আগে নিয়ম অনুযায়ী ভেরিফিকেশনসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিভিন্ন সংবাদে ৪৯তম বিসিএসের বিশেষ শিক্ষা ক্যাডারে ৬৬৮ জনকে সুপারিশের কথা বলা হলেও পিএসসি প্রকৃতপক্ষে ৬৬৫ জনকে সুপারিশ করেছে। তাদের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সনদ জমা দিতে পারেননি। এছাড়া আটজন মেডিকেল পরীক্ষায় উপস্থিত হননি। ফলে মোট ৬৫৭ জনের নিয়োগের প্রক্রিয়া এগোয়। তাদের মধ্যে ৬১১ জনের প্রজ্ঞাপন হয়েছে। ফলে ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন বাকি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সবার প্রজ্ঞাপন একবারেই হতে হবে, এমন কোনো বিষয় নেই। বাকি ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন জারির জন্য আগামী সোমবার দিন নির্ধারিত রয়েছে। তাদের সার্ভিসে যোগদানের তারিখ ১২ অক্টোবর হওয়ায় এখনও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করার সময় রয়েছে।
এই ৪৬ জনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাদের যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া একরকম শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি জনপ্রশাসনমন্ত্রী, জনপ্রশাসন সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রক্রিয়া শেষ করতে শনিবার ছুটির দিনেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করবেন।
তিনি আরও বলেন, ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন জারির আগে আরও কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। প্রজ্ঞাপনের ফাইল রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের জন্য পাঠাতে হয়। এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেই আগামী সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা ভুল তথ্য বা অপতথ্য প্রচার করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাদের এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা উচিত।
‘বৈষম্য করা হবে না’
নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার থেকেই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। তাই কারও রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, কোনো পরীক্ষা বা সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে সে কারণে বৈষম্য করা হবে না।
সম্প্রতি ৪৯তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপনে নাম না আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রার্থীর আত্মহত্যা কিংবা নিজের গায়ে আগুন দেওয়ার হুমকির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল শাখার পদধারী নেতা ছিলেন।
তিনি ওই হল শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ওই প্রার্থী তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে না বলে সন্দেহ করেছেন। কিন্তু প্রজ্ঞাপন এখনও কয়েক ধাপে হতে পারে। তাই এ ধরনের ঘটনায় উত্তেজিত না হয়ে অপেক্ষা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন একটি নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। সব সরকারের সময়ই বিধি অনুযায়ী এ প্রক্রিয়া হয়ে থাকে। একইভাবে মেডিকেল পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার বিষয়ও বাধ্যতামূলক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভেরিফিকেশনে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেলে কী হবে, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে তা যাচাই করা হয়। কারও বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের দণ্ডাদেশ থাকলে সেটি প্রত্যাহার না হওয়া বা আপিলে খালাস না হওয়া পর্যন্ত বিধি অনুযায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।
এ ধরনের বিষয় বিবেচনায় না নিলে পরবর্তী সময়ে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতেও এ ধরনের নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেরিফিকেশনের নামে নিপীড়ন বন্ধের দাবিতে দেওয়া আরেক রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভেরিফিকেশনকে কোনো অপসংস্কৃতি বা নিপীড়ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের কারণে ভেরিফিকেশনে সমস্যা হলে পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ বা আবেদন করে বিষয়টি তদন্তের জন্য অনুরোধ করা যায়। এখনও সেই পর্যায়ে যাওয়ার সময় আসেনি।
বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করার কোনো কারণ নেই। রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির জন্য কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের উত্তেজিত না করতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান তিনি।
১৪ দিন আগে
ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি অস্থিরতার সুযোগ পাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে দেশে কোনো ‘অপশক্তি’কে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস; এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না।’
এছাড়া দেশে যৌথ অভিযান পরিচালনার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক মোকাবিলায় পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আনসারের সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
নতুন আনসার সদর দপ্তর সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সুপরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর পাওয়ার বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা এবার পূরণ হতে যাচ্ছে।
আনসার সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৩ দশমিক ৪২৮ একর বা প্রায় ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। খিলগাঁওয়ে বিদ্যমান আনসার সদর দপ্তরে জায়গার সংকট এবং যাতায়াত-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা দূর করতে বরাদ্দ পাওয়া জায়গায় আধুনিক ও বৃহৎ পরিসরের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার ও ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছে। এছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনবল কাজ করছে।
তিনি বলেন, নিয়মিত ও অনিয়মিত সদস্য মিলিয়ে এটিই দেশের সবচেয়ে বড় বাহিনী।
কেন্দ্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ঢাকার আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরে ডরমিটরি, ব্যারাকসহ অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও বিভিন্ন জাতীয় সংকটের সময় আনসার বাহিনীর অবদান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি তাদের আর্থিক ও অন্যান্য দাবিগুলো ধীরে ধীরে পূরণের বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কারও দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে শুধু দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয় না; যথাযথ বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ফৌজদারি মামলাও করা হবে।
ঢাকার যানজট ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ব্যবস্থার উন্নয়নে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা সম্পন্ন হচ্ছে এবং সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে।
এছাড়া বিভিন্ন কাজের জন্য একসঙ্গে পুরো সড়ক খনন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর পরিবর্তে ধাপে ধাপে কাজ শেষ করে দ্রুত সড়ক পুনর্নির্মাণ করতে বলা হয়েছে, যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে
চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজদের তালিকা করা পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক। সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের তালিকা পুলিশের কাছে সবসময় থাকে এবং তা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।
এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে এবং আরও জোরদার করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কতজন সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার হচ্ছে, তা পুলিশ বিভাগ নিয়মিত সংগ্রহ করছে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে।
এ সময় বিচ্ছিন্ন ঘটনায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন না করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকার অব্যাহতভাবে কাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে অব্যাহতভাবে চেষ্টা চালাচ্ছি। এখানে কোনো একটা বা দুইটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে নিয়ে এসে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করাটা ঠিক হবে না।
এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখছে। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে, গ্রেপ্তার করছে এবং মামলা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, হচ্ছে।’
মিরপুরের একটি ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।
ওই ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে অপরাধীদের কারও রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তা বিবেচনায় না নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১৫ দিন আগে
মিরপুরে সংঘর্ষের পেছনে সমন্বয়ের অভাব থাকতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হওয়া সংঘর্ষে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল বলে মনে করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত একটি সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
পুলিশের সহায়তা নিয়ে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়ার বিষয়ে আগে থেকে কোনো গোয়েন্দা তথ্য ছিল কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি এ ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তিনি যতটুকু জানতে পেরেছেন, তা থেকে তিনি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানতে পেরেছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিটি করপোরেশন বা রাজউকের কর্মকর্তারা পুলিশের সঙ্গে যথাযথভাবে যোগাযোগ করেননি। সেখানে সমন্বয়ের অভাব ছিল বলে তার কাছে মনে হয়েছে।
এর আগে ফুটপাত ও সড়ক অবৈধ দখলমুক্ত করার উদ্দেশ্যে সকাল ১০টার দিকে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। একপর্যায়ে হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ হয়।
এ সময় সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের সময় হকারদের হাতে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
১৫ দিন আগে
সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকরা যেন হয়রানির শিকার না হন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ যাতে নিপীড়নমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয়, সে জন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি আরও বলেন, এই আইনের আওতায় কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে এবং গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা প্রস্তাব করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনটির খসড়া নিয়ে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খসড়া সংশোধনী বিলটি এর আগে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভার নির্দেশনা অনুযায়ী সাইবার পরিসরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আইনটি যাতে নিপীড়নমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয়, সেজন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত নেওয়া হচ্ছে। খসড়া বিলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষকসহ অনেকে মতামত দিয়েছেন। এসব মতামত ইতোমধ্যে সংকলন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আজকের (সোমবার) বৈঠকটি ছিল সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন ও পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের দ্বিতীয় দফার পরামর্শ সভা। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় সম্পাদকদের লিখিতভাবে অথবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মতামত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইন করতে চাইনি, চাই না এবং কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক, এই আইন অপপ্রয়োগ হোক, সেটা আমরা চাই না।’
সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে, গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।’
প্রস্তাবটি উপযুক্ত মনে হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যেসব সুপারিশ আসবে, সেগুলোর সঙ্গে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে নিশ্চয়তা দেন মন্ত্রী।
এছাড়া আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে কোনো ব্যক্তি অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ঝুলে থাকবেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আরও সুপারিশ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ১৫ দিন আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সিদ্ধান্তের পর খসড়াটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তখনও সবাই মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন। মতামত গ্রহণযোগ্য হলে সেগুলো খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বিধি অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হবে এবং পরে মন্ত্রিসভায় বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে বিল আকারে তা সংসদে উত্থাপন করা হবে।
সংসদে গেলেও বিলটি তাড়াহুড়ো করে পাস করা হবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করবেন। সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম থেকে মতামত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আমরা এমন একটা আইন করতে চাই, যে আইনের মাধ্যমে আমরা সমাজের সর্বস্তরের লোকজনকে রক্ষা করতে পারব, বিশেষ করে আমাদের যুবসমাজকে রক্ষা করতে পারব।’
সাইবার স্পেসে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ করছে এবং যেসব কর্মকাণ্ড সমাজে মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, সেখান থেকে উত্তরণ প্রয়োজন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
১৭ দিন আগে