স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশে নিয়োগে রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব বিবেচনা করেনি সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশে নিয়োগে কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব বিবেচনা করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, পুলিশে নিয়োগ নিরপেক্ষভাবে এবং শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয় ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
এ প্রসঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশে নিয়োগে কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব বিবেচনা করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে বিরোধী দলের দুজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা পুলিশে নিয়োগের বিষয়টি উত্থাপন করেননি।
বৈঠকে মাদক ও জুয়াকে দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এগুলো নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংসদ সদস্যরা মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে রয়েছেন উল্লেখ করে মাদক নির্মূলে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, মাদক নির্মূলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা, ট্রাইব্যুনাল ও এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গঠনসহ বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সংস্থাগুলোর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট খাতওয়ারি বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের ৩০ জুন শেষ হতে চলা অর্থবছরের জন্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সব সংস্থার খাতওয়ারি বাজেট ও ব্যয় বিভাজনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মোট প্রস্তাবিত বাজেট ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন বাজেট ২৮ হাজার ৬৩৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন বাজেট ২ হাজার ৪৬০ কোটি ২১ লাখ টাকা।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মীর শাহে আলম, মো. কামরুজ্জামান, মো. মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নুরুল ইসলাম এবং মো. আব্দুল বাতেন অংশ নেন।
এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরগুলোর মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
সমতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভৌগোলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ নানাদিক থেকে বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। তাই সমতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে।
সোমবার (১০ আগস্ট) মন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক আলোচনা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভৌগোলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ নানা দিক থেকে বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। অতীতকে পেছনে ফেলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে একটি নতুন সূচনা বা ফ্রেশ স্টার্ট জরুরি। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য বা ইস্যু রয়েছে যেগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। সমতার ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে। তবে এ বিষয়ে ভারতকে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।
ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা কেবল ভৌগোলিক সীমানা ভাগাভাগি করি না, আমরা সমৃদ্ধির স্বপ্নও ভাগাভাগি করি।’
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে বিভিন্ন ইস্যুতে চ্যালেঞ্জ থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইস্যু থাকাটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, ইস্যু না থাকলে সেটা প্রকৃত গণতন্ত্র হতে পারে না। তবে সকল চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে দুই দেশের জনগণের একটাই মূল প্রত্যাশা—তা হলো একটি সুদৃঢ় ও চমৎকার সম্পর্ক, যা উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণকর (উইন-উইন সিচুয়েশ) পরিবেশ তৈরি করবে।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আলোচনা ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করা যাবে না—দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো জটিল ইস্যু নেই। এ সময় তিনি আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় ও উজ্জ্বল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদ্যমান বন্দি বিনিময় ও এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত সকল চিহ্নিত পলাতক অপরাধীকে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি করার লক্ষ্যে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতীয় হাইকমিশনারকে অনুরোধ জানান। তাছাড়া শহিদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ভারত থেকে এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী যথাশীঘ্র সম্ভব বাংলাদেশে ফেরত প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়। এ সময় ভারতের পক্ষ থেকে আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান ভারতীয় হাইকমিশনার।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও ভারতীয় হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
চেতনা বিক্রির রাজনীতি দিয়ে আর বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৭ বছরের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং শত-সহস্র শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয় কোনো একক গোষ্ঠীর চেতনা বিক্রির হাতিয়ার হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে উসকানিমূলক ফাঁদে পা না দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা ও সহনশীলতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক ও ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৭ বছরের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং শত-সহস্র শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয় কোনো একক গোষ্ঠীর চেতনা বিক্রির হাতিয়ার হতে পারে না। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে উসকানিমূলক ফাঁদে পা না দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা ও সহনশীলতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীনে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল, তা ছিল দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের আরাধনার ফল।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতন, গুম-খুন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটেছে। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে। ফলে চেতনা বিক্রির রাজনীতি দিয়ে আর বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।
৮ দিন আগে
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জ্বালানির জন্য মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শুধু গ্যাস কিংবা তেলের ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বহুমুখী সোর্সিং নিয়ে কাজ করছে সরকার।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে চিটাগং জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকা (সিজেএফডি)-এর ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জ্বালানির জন্য মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা তৈরি হয়েছিল। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শুধু গ্যাস কিংবা তেলের ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বহুমুখী সোর্সিং নিয়ে কাজ করছে সরকার।’
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মাতারবাড়ীতে এক লাখ টন জ্বালানি মজুতের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে আরও দুটি এফএসআরইউ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে রেলপথের কর্ড লাইনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা করা হলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে রেলপথ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এটি বাস্তবায়ন হলে মাত্র দুই ঘণ্টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাতায়াত করা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রযুক্তিতে গুরুত্ব দিতে পারলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে। আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে।’
নিজ অঞ্চলের প্রতি আন্তরিকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আঞ্চলিকতার টান সবার মধ্যেই থাকে। তবে সবাই একসঙ্গে থাকলে খুব সহজেই সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। নিজেদের এবং দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এদিন উৎসবমুখর পরিবেশে সিজেএফডির ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে সংগঠনের সদস্যদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কেক কাটা ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিজেএফডির সভাপতি শামীম জাহাঙ্গীর।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘সিজেএফডি শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের আত্মার বন্ধন হিসেবে কাজ করবে। দল-মত নির্বিশেষে সংগঠনের সদস্যরা সুখে-দুঃখে মিলেমিশে একসঙ্গে থাকেন—এটাই সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়।’
প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের দেশ ও মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের স্বার্থের পাশাপাশি দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দীন আহমদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন। সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নানা চড়াই-উৎরাই ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে ঢাকায় বসবাসরত চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা কাজ করে যাচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চট্টগ্রামবাসীকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো প্রয়োজনে সিজেএফডির পাশে থাকার প্রত্যাশা রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিজেএফডির জ্যেষ্ঠ সদস্য ফাহিম আহমদ, সন্তোষ শর্মা, তৌহিদ আলম, আনিস আলমগীর, মামুন আব্দুল্লাহ, নাসের, শাহেদ সিদ্দিকী, মেজবাহ উদ্দিন জঙ্গি, শাহীনুর আলম চৌধুরী, মোস্তফা কামাল ও সাইদ ইসলাম দিলাল।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন তরুণ উদ্যোক্তা সাহওয়াজ জামাল নিজাম সনি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সেলিম রহমান, অল কমিউনিটি ক্লাবের পরিচালক আবু তাহের আশরাফ এইচ চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাকিব।
বক্তারা বলেন, ঢাকায় কর্মরত চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠিত চিটাগং জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের কল্যাণ ও পেশাগত উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনটি আরও বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান।
সিজেএফডির ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনে সংগঠনের সদস্য, সাবেক ও বর্তমান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে খাদ্যশস্যের মজুত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সরকারের
দেশে খাদ্যশস্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারি খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
আজ (বৃহস্পতিবার) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বর্তমানে সরকারি খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুত ১৩ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে স্বাভাবিক সময়ে ১৪ লাখ টন এবং দুর্যোগকালীন সময়ে ১৫ লাখ টন নির্ধারণ করা হবে।
খাদ্যশস্যের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিসর সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও বলা হয়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫৫ লাখ গ্রামীণ দরিদ্র ও অতি দরিদ্র পরিবারকে প্রতি কেজি ১৫ টাকা মূল্যে মাসে ৩০ কেজি করে ৬ মাসে মোট ৯ লাখ ৯০ হাজার টন চাল বিতরণ করা হবে।
একই কর্মসূচির আওতায় অপুষ্টি নিরসন ও জনগণের পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদারে দেশের ৩০০টি উপজেলায় ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ পুষ্টিচাল (ফর্টিফায়েড রাইস) বিতরণ করা হবে।
সভায় জানানো হয়, গত পাঁচ অর্থবছরে সরকারি খাতে গড়ে ৩২ লাখ ৩২ হাজার টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৫ লাখ ৮ হাজার টন খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি খাদ্যশস্যের চাহিদা বাড়তে থাকায় নিরাপত্তা মজুতও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জরুরি পরিস্থিতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্নের সময় দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিন পার্বত্য জেলায় নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হবে বলে সভায় আশ্বাস দেওয়া হয়।
এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বর্তমান খাদ্যশস্য মজুত সক্ষমতা ৩০ লাখ টন বাড়ানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে।
সভায় খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে অষ্টাদশ সংশোধনী হবে ঐতিহাসিক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী হবে এ শতাব্দীর একটি ঐতিহাসিক সাংবিধানিক পরিবর্তন। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সে লক্ষ্যেই সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে চলছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আমরা এই জুলাইকে নিয়ে রাজনীতি কেন করব?... একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে আমরা যদি বলি, ‘জুলাই কার, জুলাই কার?’ তাহলে জুলাই আমাদের কারোরই থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে।”
তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক জাতি শতবর্ষ সংগ্রাম করেও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশ এমন একটি ঐতিহাসিক সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে কয়েক সপ্তাহেই যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে।
ভ্লাদিমির লেনিনের একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কোনো কোনো দশক আছে যেখানে কিছুই ঘটে না, আবার কোনো কোনো সপ্তাহ আছে যেখানে কয়েক দশকের ইতিহাস রচিত হয়। আমরা সেই ইতিহাসের সাক্ষী।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই আমাদের সবার। বাংলাদেশের ১৮ কোটি, ২০ কোটি মানুষের সবার। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা কেউ কেউ হয়তো নেতৃত্ব দিয়েছি, কিন্তু সামনের সারিতে যারা শহিদ হয়েছেন, তারাই আসল জুলাই যোদ্ধা, আসল নেতা। তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করাই হবে আমাদের জন্য ফরজ।’
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সব রাজনৈতিক পক্ষকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তার ভাষায়, ‘জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই হচ্ছে অ্যামেন্ডমেন্ট। প্রত্যেকটা অ্যামেন্ডমেন্ট হচ্ছে এক একটি সংস্কার।... সেটা গ্রহণ করতে হবে পার্লামেন্টে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংস্কার কমিশন বা রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বাস্তব পরিবর্তনের জন্য সংসদে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী গ্রহণ করা প্রয়োজন। এটি হবে শতাব্দীর সবচেয়ে ঐতিহাসিক সংশোধনী। যেটার প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের শহিদরা শহিদ হয়েছেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, যার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছি... তাকে আমি বৃথা যেতে দেব না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন আগামী সংসদে উত্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, ‘গুম কমিশন আমরা অধ্যাদেশ পাস করি নাই, কিন্তু গুমের ওপর প্রতিকার এবং গুম প্রতিরোধ আইন নিয়ে এসেছি। আগামী পার্লামেন্টে আসবে ইনশাআল্লাহ।... সিস্টেমেটিক এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের জন্য মৃত্যুদণ্ডসহ কড়া শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।’
জুলাই আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরে তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান ৩৬ দিনের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফল।
তিনি বলেন, ‘এই মুক্তির মন্দিরের সোপান একদিনে নির্মিত হয়নি। এই সোপান নির্মিত হয়েছে ২০০৯ থেকে শুরু করে ২০২৪ পর্যন্ত।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্রকামী মানুষ গুম, খুন, নির্যাতন এবং মামলার শিকার হয়েছেন। সেই ইতিহাস বাদ দিয়ে জুলাইকে ব্যাখ্যা করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো আন্দোলন রক্তাক্ত হবে কি হবে না, সেটা সাধারণ মানুষ নির্ধারণ করে না। সেটা নির্ধারণ করে দিয়েছে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা। আমাদের ছেলেরা-মেয়েরা শূন্য হাতে প্রতিবাদ করেছে, শহিদ হয়েছে, তারপর গণঅভ্যুত্থান হয়েছে।’
জুলাইয়ের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৭১-এর চেতনাকে বিক্রি করতে করতে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে। ... আমরা যেন জুলাইয়ের এই চেতনাকে কোনোদিন অসম্মান না করতে হয়, সেই রকম রাজনীতি করি।’
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক বন্ধুদের প্রত্যাশা কী, আইনজীবীদের প্রত্যাশা কী, বিশেষজ্ঞদের মতামত কী—সবাইকে নিয়ে আমরা এমন একটি সংবিধান সংশোধনী আনতে চাই, যেটা নিয়ে আমরা অনেক বছর চলতে পারব। কারণ বারবার জুলাই আসে না, বারবার ’৭১ আসে না, বারবার বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হবে না।’
জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আহতদের ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী পৃথক শ্রেণিবিন্যাস করে সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা এখনও তালিকাভুক্ত হতে পারেননি, তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচার সুগম করার জন্য কনস্টিটিউশন আর্টিকেল ৪৭-এর অনুসরণে আমরা আইন সংশোধন করেছি। ... ব্যক্তির মতো সংগঠনেরও বিচার করা যায়। আদালত নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের পরিণতি কী হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়ায় অবশ্যই আদালত নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের কী হবে। ... ইনশাআল্লাহ, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণহত্যাকারী কোনো মাফিয়া শক্তিকে এই দেশে রাজনীতি করার জন্য আর অনুমতি দেবে না।’
শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা পরস্পর তর্ক করব, বিতর্ক করব। জাতীয় সংসদে সরকারি দল-বিরোধী দল বাহাস করব। কিন্তু যখন আওয়ামী লীগের প্রশ্ন আসবে, তখন সমগ্র জাতি এক থাকবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জীবন্ত সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। ‘কোনো সরকার যাতে ফ্যাসিবাদী আচরণ না করে, সেই জন্য জুলাই জাদুঘর রেখে এসেছি। ওখানে গিয়ে সবাই শিক্ষা নিয়ে আসবে। সেটাকে আমরা জীবন্ত জাদুঘর হিসেবে রেখে দেব।’
১১ দিন আগে
জনপ্রত্যাশা পূরণে সবার মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, পেশাজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকের মাঝে বাইরে বের হয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নবযাত্রা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর বিবর্তনমূলক প্রক্রিয়ায় যেসব গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সেগুলো ধারণ করা হবে। এজন্য সব রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা উদার এবং ওপেন, আমরা সবার কথা শুনব। সর্বত্র যা যা সংশোধনের প্রয়োজন, সে সমস্ত সংশোধনীগুলো আমরা ধারণ করে সেভাবে আমরা রিপোর্ট প্রণয়ন করব।’
কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আসবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিল যখন আসবে, সংবিধান সংশোধনী বিল পার্লামেন্টে আলোচনা করে আমরা সমঝোতার ভিত্তিতে সেই সংশোধনীটা গ্রহণ করতে চাই। যে সংশোধনী জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো সংশোধনী প্রস্তাবে রাখার চেষ্টা করবে কমিটি।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের এই নবযাত্রা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর যে আমরা বিবর্তনমূলক কার্যে যাচ্ছি এবং রাষ্ট্র কাঠামোর যে গণতান্ত্রিক সংস্কার আমরা করতে চাই, তার সবগুলো আমরা এখানে অ্যাড্রেস করব, ধারণ করব। যেটা আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল, সেটা এখনও আছে।’
প্রথম বৈঠকে যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে তাদের তালিকা প্রণয়ন এবং মতবিনিময়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাদের মতামত নেওয়া হবে। কত দিনের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন তৈরি হবে, তা এখনই বলতে পারেননি সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, সময়টা এখন নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না।
সংবিধান সংশোধন কমিটিতে প্রতিনিধিত্বের জন্য সরকার বিরোধী দলকে পাঁচজনের নাম দিতে অনুরোধ করলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো নাম দেয়নি।
এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যে পাঁচটি নাম দেওয়ার কথা ছিল সে নামগুলো আমরা এখনও পাইনি। আমি আশা করি, তারা অনুধাবন করবেন এবং একপর্যায়ে তারা তাদের নাম দিবেন। তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করব।’
বিরোধী দল নাম না দিলেও তাদের সংসদ সদস্যদের মতামত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। কমিটির বৈঠকে উপস্থিত হয়ে অথবা বৈঠকের বাইরে লিখিতভাবে প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘এ ছাড়াও নাম যদি না-ও দেয়, আমরা সকল বিরোধীদলীয় দলের সদস্য যারা আছেন, তাদের পরামর্শ আমরা গ্রহণ করব। তারা যদি মিটিংয়ে এসে দেয় ভালো, মিটিংয়ের বাইরে দিলেও আমরা সেটা গ্রহণ করব। লিখিতভাবে যদি দেয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এইভাবে আমরা একটা গ্রহণযোগ্য সংশোধনী আনতে চাই। জনপ্রত্যাশার সবকিছু আমরা ধারণ করতে চাই। সবার সাথে আলাপ আলোচনা করেআমরা সেই রিপোর্টটা প্রণয়ন করতে চাই।’
তিনি জানান, জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে। যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো সংশোধনী প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর যেসব বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত দিয়েছে, সেগুলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হিসেবে বিবেচনায় রাখা হবে।
এছাড়া জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে থাকা সংবিধান সংশোধনের অঙ্গীকারগুলোও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
কমিটির কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কমিটির সামনে চ্যালেঞ্জ নেই। আমাদের প্রত্যাশা আছে। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। এটাকে আমি চ্যালেঞ্জ বলতে চাই না।’
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। শহিদদের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আর সে জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সংবিধানেই নিশ্চিত করতে হবে।
১২ দিন আগে
৫ আগস্ট ঘিরে আওয়ামী লীগের নাশকতার মুরোদ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আগামী ৫ আগস্ট (জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস) ঘিরে আওয়ামী লীগের নাশকতার সক্ষমতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটি মাঝে মধ্যে বিদেশ থেকে উঁকিঝুঁকি দিলেও উল্লেখযোগ্য কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কোনো নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মুরোদ আছে বলে তো আমার মনে হয় না। একে তো নিষিদ্ধঘোষিত দল, মাফিয়া শক্তি। তারা মাঝে মধ্যে বিদেশ থেকে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে, এর বেশি তৎপরতা তো দেখি না।’
৫ আগস্টকে সামনে রেখে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদন আছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আমাদের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে এটা সবসময় চালু থাকে, যাতে অরক্ষিত কোনো যানবাহন না রাখে। টিমের পুরুষ সদস্য যেন একসঙ্গে চা না খেতে যায়, তারা যেন গাড়ি রেখে সবাই একসঙ্গে বিশ্রাম না করে। গাড়ি সবসময় অন্তত একজন সদস্যের তত্ত্বাবধানে রাখা এবং সর্বত্র সতর্ক অবস্থান নিশ্চিত করা পুলিশের স্বাভাবিক অনুশীলনের অংশ। এটাকে অন্যভাবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
আগামী ৫ আগস্ট উপলক্ষে সরকারের কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, এ বিষয়ে মঙ্গলবার সরকারের পক্ষ থেকে একটি সভা ডাকা হয়েছে। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিতব্য ওই সভায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সভায় প্রধানমন্ত্রীও উপস্থিত থাকবেন।
১৩ দিন আগে
মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় যোগসূত্রের তদন্ত চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মতিঝিলের কমলাপুর ও আশুলিয়ায় বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা নিরাপদ করতে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
তবে উল্টো রথযাত্রার দিন মতিঝিলের কমলাপুর এলাকায় মেট্রোরেলের একটি পিলারের নিচে ছাতার মধ্যে বোমাসদৃশ একটি বস্তু পাওয়া যায়। আনসারের দুই সদস্য সেটি দেখে পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে। পরে বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি সরিয়ে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।
মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কোনো পক্ষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করে থাকতে পারে। বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
তিনি বলেন, এরপর আশুলিয়ায়ও একটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। একজন দুষ্কৃতকারী একটি ব্যাগ রেখে গেলে সেটি একই পদ্ধতিতে উদ্ধার করে বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়। মতিঝিল ও আশুলিয়ার ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, সেটিও তদন্ত করে দেখতে বলা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগের সময়ের তুলনায় একই সময়ে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা কম। তারপরও সরকার সবসময় সতর্ক রয়েছে। উগ্রবাদী তৎপরতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো প্রচেষ্টা পর্যবেক্ষণে বিশেষ টিম কাজ করছে এবং তারা এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
১৩ দিন আগে
বেনজীরের জামিন বাতিলের আবেদন করতে ল’ ফার্মকে বলা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) শর্তসাপেক্ষে জামিন পাওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের কাছে অন্যান্য দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে বলে নিজের ধারণার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
বেনজীর আহমেদের গ্রেফতার হওয়ার পর জামিনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বেনজীরের ইস্যুতে আমি গতকালই কথা বলেছি, বিকেলের দিকে। আমি রাজশাহীতে ছিলাম, ওখানে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন। গতকাল আমি তার জামিনের বিষয়ে জানতে পেরেছি। ইউএই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) আদালতে তাকে শর্তসাপেক্ষে বেইল (জামিন) দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি ইউএই ছাড়তে না পারেন, দেশ ত্যাগ করতে না পারেন এই শর্তে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানার পর আমাদের নিয়োজিত যে ল’ ফার্ম আছে, তাদের বিষয়টি জানিয়েছি। আর ইউএই রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের সচিব মহোদয় কথা বলেছেন। কী কী শর্তে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে, ইউএই না ছাড়ার শর্ত তো একটি শুনেছি, অন্যান্য শর্ত কী আছে, সেটার সার্টিফায়েড (সত্যায়িত) কপি তোলার জন্য আমরা নির্দেশ দিয়েছি। আর আমাদের যে ল’ ফার্ম নিয়োজিত আছে, বেনজীরের প্রত্যাবাসনের জন্য যে কাগজপত্র আমরা পাঠাই, সেগুলো সেখানে আদালতে সাবমিট (জমা) করার জন্য সেই ল’ ফার্মকে আমরা অনুরোধ করেছি, যেন তাৎক্ষণিকভাবে তার জামিন বাতিলের ব্যবস্থা করে, এ বিষয়ে তারা যেন আদালতের নির্দেশনা নেয়।’
সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তারপরও কেন জামিন দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আদালতের বিষয়ে, বিষয়টি পুরোপুরি না জেনে আমি মন্তব্য দিতে চাই না। আমাদের ল’ ফার্মকে আমরা অনুরোধ করেছি সার্টিফায়েড কপি তুলে কথা বলতে এবং আমরা এই দিকনির্দেশনা দিয়েছি যেন তার জামিন বাতিলের জন্য তারা আইনি আবেদন (পিটিশন) দেয়। কারণ তার কাছে অন্যান্য দেশেরও পাসপোর্ট থাকতে পারে, সেটা আমাদের সন্দেহ।’
এদিকে, রাজধানীর কমলাপুর ও আশুলিয়ায় বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, রথযাত্রা এবং উল্টো রথযাত্রা—এই দুটি আয়োজনকে নিরাপদ করার জন্য আমরা সমন্বিত প্রয়াস নিয়েছিলাম। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খুব সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়েছে। কোনো অসুবিধা হয়নি এবং শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে উল্টো রথযাত্রার দিন কমলাপুর, মতিঝিলের দিকে মেট্রোরেলের একটি পিলারের নিচে ছাতার মধ্যে বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়া যায়। আমাদের আনসারের দুই সদস্য সেটি দেখে পুলিশকে জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থল কর্ডন করে (ঘিরে) রাখে, বোম ডিসপোজাল ইউনিট গিয়ে সেটি সরায় এবং পরে তা বিস্ফোরণ করে।'
মন্ত্রী বলেন, ‘এতে খুব শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কোনো পক্ষ হয়তো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করেছিল। আমরা বিষয়টি সতর্কভাবে দেখছি এবং এর পেছনে কারা আছে, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত পরিচালনা করছি।’
আশুলিয়ার ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এরপর আশুলিয়াতে আরেকটি বোমাসদৃশ জিনিস পাওয়া গিয়েছে, যা একজন দুষ্কৃতকারী একটি ব্যাগ রেখে গিয়েছে। পরে সেটি একই কায়দায় উদ্ধার করে আমরা বিস্ফোরণ করেছি। এই ঘটনাগুলোর যোগসূত্র আছে কিনা, সেটিও আমরা তদন্ত করতে বলেছি। তদন্ত চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে আগের সময়ের তুলনায় যদি আমরা তুলনামূলক বিবরণী দেই, একই সময়ে এই বিষয়গুলো কী রকম হয়েছে, তার তুলনায় এটা অনেকটা কম। তবে আমরা সবসময় সতর্ক আছি এবং আমাদের জাতীয় বিষয়গুলো যারা চিহ্নিত করে—উগ্রবাদী তৎপরতা বা এই জাতীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার যে সমস্ত তৎপরতা—এগুলো যারা পর্যবেক্ষণ করে, আমাদের স্পেশাল টিম আছে, তারা এ ব্যাপারে সতর্ক আছে।’
১৩ দিন আগে