ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে বিতর্কিত অগ্নিসংযোগকারী রাসায়নিক ‘সাদা ফসফরাস’ ব্যবহার করে অবৈধভাবে গোলাবর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইট ওয়াচ।
সোমবার (৯ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ অভিযোগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
লেবাননের সাতটি ছবির ভৌগলিক অবস্থান যাচাইয়ের মাধ্যমে হিউম্যান রাইট ওয়াচ জানিয়েছে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর গ্রামে কামানের মাধ্যমে সাদা ফসফরাস নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরপরই ঘটনাটি ঘটায়।
মানবাধিকার সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ঘটনার সময় এলাকায় কোনো বাসিন্দা ছিলেন কি না বা কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা তারা ভালোভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে এর আগে তারা বলেছিল, সাদা ফসফরাস তারা ধোঁয়ার আড়াল তৈরির জন্য ব্যবহার করেছে; সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যে নয়।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাস ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। এই রাসায়নিক পদার্থটি অত্যন্ত উত্তপ্ত অবস্থায় নিক্ষেপ করা হলে ভবনে আগুন লাগাতে পারে এবং মানুষের শরীর দগ্ধ হয়ে হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। এমনকি পোড়া ক্ষত সামান্য থাকলেও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা সংক্রমণ, বিকলাঙ্গ হওয়া বা শ্বাসযন্ত্রের জটিলতার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
হিউম্যান রাইট ওয়াচের লেবানন-বিষয়ক গবেষক রামজি কাইস বলেন, ‘আবাসিক এলাকার ওপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অবৈধভাবে সাদা ফসফরাস ব্যবহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।’
হিউম্যান রাইট ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর মতো সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এক বছরেরও বেশি আগে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে শেষ যুদ্ধে দক্ষিণ লেবাননে অনেক সাধারণ মানুষ উপস্থিত থাকা অবস্থায়ও একাধিকবার এই ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছিল।