সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও তা পূরণ না হওয়ার কয়েকটি গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এক ব্যবসায়ীর উদ্যোগে নদী পারাপারের জন্য বাঁশের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এতে করে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ভাঙারখাল নদীর ওপর বাদাঘাট বাজার (সবজি ও মাছ মহল) ও পৈলনপুর মাদরাসা অংশে টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু দিয়ে চলাচলের জন্য তা উদ্বোধন করেন উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক ও সেতুটির জন্য বিনিয়োগদাতা ব্যবসায়ী মানিক মিয়া। এ সময় বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য বক্তি ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
সেতুটি নির্মাণ করায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী বলছে, ভাঙারখাল নদী বাদাঘাট ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নকে আলাদা করেছে। নদীটির ওপর বাদাঘাট বাজার (সবজি ও মাছ মহল) ও পৈলনপুর অংশে সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও কেউ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। অথচ পৈলানপুর গ্রামসহ ৫-৬ টি গ্রামের বাসিন্দা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবী ও ব্যবসায়ীদের শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটে আর বর্ষায় নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়েছে অনেককেই, শিক্ষার্থীদের বইখাতা পানিতে ডুবে যায়। পৈলানপুর গ্রামে মাদরাসা আছে; এখানেও শিক্ষার্থীরা আসা-যাওয়া করছে। তাই সহজে যাতায়াতের জন্য সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখানে সেতু নির্মাণের দাবি জানানোর পরও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ আমলেই নেয়নি।
তারা বলেন, বাঁশের সেতুটি তৈরি করায় বর্ষায় ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় করে নদী পারাপারের দীর্ঘদিনের বিড়ম্বনার অবসান ঘটেছে। গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা আর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক মিয়ার আন্তরিকতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মানিকের উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন এটি। সরকারিভাবে সেতু নির্মাণের দাবি জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকারিভাবে কোনো কিছু পাওয়ার আশা না করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসলে এবং সবাই সহযোগিতা করলে বড় কাজও সহজ হয়ে যায়। তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনস্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।
পৈলানপুর গ্রামেরে শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের কয়েকটি গ্রামে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে এই নদী দিয়ে বর্ষায় ছোট্ট নৌকা দিয়ে পার হতে হয়। অনেক সময় নৌকা ডুবে বইখাতা পানি ভিজে যায়, আর শুকনো মৌসুমে নদীর মধ্যে বাঁধ সাকো দিয়ে পার হতে গিয়ে অনেকেই দুর্ভোগে পড়ি। বাঁশের সেতুটি হওয়ায় আমরা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেলাম। এখানে যদি স্থায়ী একটি সেতু নির্মাণ করা হতো, তাহলে ভালো হতো।
সমাজসেবক আবুল হোসেন জানান, সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় পৈলনপুর মাদরাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজারো ছাত্র-ছাত্রী এবং দুপাড়ের প্রায় পাঁচ হাজার সাধারণ জনগণের কোনো টাকা ছাড়াই নির্বিঘ্নে যাতায়াত করার সুযোগ সৃষ্টি হলো।
ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, আমাদের যেহেতু টাকা নেই, তার জন্য জনগণের সুবিধার্থে বাঁশের সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী। সবাই সহযোগিতা করায় সেতুটি দৃশ্যমান হয়েছে। এখন সবাই সহজে চলাচল করতে পারবে।
সেখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া জানান, বর্ষায় নৌকায় পারাপার করতে করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এই বাঁশের সেতুটি তৈরি করে চালু করার জন্য যারা সহযোগিতা করছেন, তাদের জন্য শুভকামনা রইল। আমি জনগণের স্বার্থে সবসময় পাশে আছি; আগামী দিনগুলোতেও থাকব।