নিত্যপণ্য
বাজেট ২০২৬-২৭: কোন পণ্যের দাম বাড়বে, কমছে কোনটির
জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় শিল্প সুরক্ষা ও স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে বেশ কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, নিত্যপণ্য, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাবে ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তিনি নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এটি বিএনপি সরকারের এই মেয়াদের প্রথম বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।
দাম বাড়তে পারে যেসব পণ্যের
কারণ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কয়েকটি পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক ও কর বৃদ্ধি করেছে সরকার। এর ফলে বাজারে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সিগারেট, আমদানি করা জ্বালানিচালিত গাড়ি, বিদেশি কাজুবাদাম, মধু, সুপারি, রড এবং বিভিন্ন আমদানিনির্ভর ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিগারেটে বাড়ছে করের চাপ
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার যুক্তিতে সিগারেটের সব স্তরের ন্যূনতম খুচরা মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের মূল্য ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরের ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরের ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তেলচালিত গাড়ি কেনা হবে আরও ব্যয়বহুল
পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহ দিতে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন (আইসিই) চালিত গাড়ির ওপর করভার বাড়িয়েছে সরকার। বিশেষ করে ১,২০০ থেকে ১,৬০০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন আমদানি করা পেট্রল, অকটেন বা ডিজেলচালিত গাড়ির করভার ১৩২ শতাংশের বেশি থেকে প্রায় ১৫৬ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
এতে মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের মধ্যে জনপ্রিয় গাড়িগুলোর দাম আরও বেড়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাইসাইকেল
দেশীয় সাইকেল শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার পাশাপাশি নতুন করে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।
কাগজের কাঁচামাল
কাগজ শিল্পের সুরক্ষায় গ্রিজ প্রুফ ও গ্লাসিন পেপারের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে আমদানিকৃত কাগজ ও কাগজজাত কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
বৈদ্যুতিক মোটর
১২০০ ওয়াটের নিম্ন ক্ষমতাসম্পন্ন ডিসি মোটর আমদানির ওপর ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব থাকায় বৈদ্যুতিক মোটরের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কাজুবাদাম
দেশীয় কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পকে উৎসাহ দিতে কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আমদানিকৃত কাজুবাদামের বাজারদর বৃদ্ধি পেতে পারে।
জিপসাম বোর্ড ও শিট
নির্মাণসামগ্রী খাতেও প্রভাব পড়তে পারে। স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে জিপসাম বোর্ড ও শিট আমদানির ওপর ২০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়ও ডিটারজেন্ট, রড, কপার তার, কপার টিউব, হিমায়িত মাছ, সুগন্ধি নির্যাসসহ কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব পড়তে পারে।
কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম
নিত্যপণ্য, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাবে ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে একদিকে কিছু পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক ও কর বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও বড় একটি অংশের পণ্যে কর হ্রাস ও অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে অনেক পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
৬০টি নিত্যপণ্য
ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল ও বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দৈনন্দিন বাজারে চাপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিশুখাদ্য
শিশুখাদ্য উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমে দাম কমতে পারে।
মসলা
জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ ও ধনিয়ার মতো মসলায় ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
খেজুর
খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে দাম কমতে পারে।
সোনার গয়না
সোনার সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হয়েছে। ভ্যাট কাঠামো পরিবর্তনের ফলে প্রতি ভরিতে করের চাপ কমেছে, এতে দাম কিছুটা কমতে পারে।
বৈদ্যুতিক গাড়ি
ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িতে বড় ধরনের করছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে এসব গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ল্যাপটপ ও কম্পিউটার
ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, সার্ভার, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রযুক্তিপণ্যের দাম কমতে পারে।
কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা
ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রতিবার ডায়ালাইসিস খরচ প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।
ওষুধ
ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালে করছাড় দেওয়া হয়েছে। ক্যানসারের ওষুধ তৈরির ৯টি নতুন কাঁচামালে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে, এতে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাদ্যযন্ত্র
গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বাদ্যযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে দাম কমতে পারে।
অন্যান্য
বিদেশি মাংস, প্রাণিখাদ্য, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম, পিওএস যন্ত্র, লিপস্টিক, ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্যের শুল্ক কমানো হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নিত্যপণ্যে কর কমানোয় সাধারণ মানুষের ব্যয়চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে বাস্তবে বাজারে দাম কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতির ওপর।
১৫ দিন আগে
মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ৬০ নিত্যপণ্যে কমছে কর
দেশের প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর হ্রাসের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁপে, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, ডালসহ মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ উৎসে কর কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশকালে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছিল। গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নেওয়া এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাধারণ জনগণকে স্বস্তি দিতে স্বাস্থ্য খাতেও কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য আমদানিকৃত ১৫টি পণ্যের অগ্রিম আয়করের হার ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারের সরবরাহে বিদ্যমান উচ্চ উৎসে করের কারণে এ খাত এখনও অনেকাংশে অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে রয়ে গেছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসাটিকে আনুষ্ঠানিক খাতে এনে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যে স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইলেকট্রিক বাস, ট্রাক ও ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন আমদানির ক্ষেত্রে উৎসে করের ৫ শতাংশ হার সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে কম্পিউটার প্রিন্টার, পোর্টেবল অটোমেটিক ডাটা প্রসেসিং মেশিন, ফ্ল্যাশ মেমোরি ও কম্পিউটার মনিটর আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম করের হার ৫ শতাংশ ও ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ এবং রিফাইনারি কর্তৃক জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের হার ১.৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
রিসাইকেলড পণ্য ও রিসাইক্লিং কাঁচামালের ওপর করহার ৩ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে কমানোর পাশাপাশি বিটিআরসি কর্তৃক প্রাপ্ত রেভিনিউ শেয়ার, লাইসেন্স ফি বা চার্জের ওপর প্রযোজ্য ২০ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা খাতে উৎসে কর কর্তনের হারও ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
শিল্পখাতের উৎপাদন ব্যয় কমাতে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে অগ্রিম করের সাধারণ হার ৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে যন্ত্রপাতি ভাড়া বাবদ অনিবাসী করদাতাকে প্রদেয় অর্থের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ১৫ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশে কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে বিমা খাতে রি-ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম বাবদ ব্যয় কমাতে অনিবাসী করদাতাকে পরিশোধিত বিমা প্রিমিয়ামের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে হ্রাস এবং শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগ ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিদেশি ঋণের সুদের ওপর উৎসে করের হার ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নগদ প্রবাহ বাড়াবে, ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাবে এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করবে। এর ফলে শিল্প ও ব্যবসায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
১৫ দিন আগে
জ্বালানির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ বিষয়ে সরকার নজরদারি রাখবে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে সিলেট জেলা পরিষদের ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য যে পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে পণ্যমূল্য খুব বেশি বাড়ার কথা না। কেউ যদি বাড়তি মূল্য রাখে, তার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে। তবে দাম বাড়বে বলে অনুমান করেও দাম বাড়িয়ে দেওয়া ঠিক না।
এ বিষয়ে সরকারের তদারকির সুযোগ রয়েছে এবং বাজার পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হবে। কেউ বাজার প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার ঘাটতির কারণে পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। সেটি কমাতে বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য একটি ডেনিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্দরের কাজ দ্রুত হলে ইউনিটপ্রতি খরচ কমে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধারা যদি দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তা পরিবর্তনের সুযোগ চুক্তির মধ্যেই রয়েছে।’
সরকারি কল কারখানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকারের কাজ ব্যবসা করা না। সরকার যেখানেই ব্যবসা করতে যায়, সেখানেই অদক্ষতার কারণে লোকসান হয়। এতে জনগণের টাকা অপচয় হয়।
তিনি আরও বলেন, সবগুলো লোকসানি প্রতিষ্ঠান সরকার ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দিতে চাচ্ছে। এসব কল-কারখানা চালু করে যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজস্ব আহরণের ব্যবস্থা করা হয় সরকার সেই চেষ্টা করছে।
বাইশটিলায় ন্যাচারাল পার্ক নির্মাণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাইশটিলা এলাকায় সিলেট জেলা পরিষদের ৪৩ একর জায়গা রয়েছে। এটিকে পর্যটক আকর্ষনীয় স্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে ন্যাচারাল পার্কে ক্যাবল কার থাকবে, রোপ ব্রিজ থাকবে— এরকম অনেক কিছু থাকবে। শিশু থেকে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য অনেক উপকরণ থাকবে। এটি নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান করেছে জেলা পরিষদ। এটি সিলেটের অন্য পর্যটক আকর্ষণীয় স্থান হবে। সরকার এতে অর্থায়ন করবে।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪৯ দিন আগে
রমজানে সুলভমূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি করবে সরকার
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ জনগণ যেন সহজেই প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে মাসব্যাপী সুলভমূল্যে দুধ, ডিম, গরুর মাংস ও ড্রেসড ব্রয়লার বিক্রি করবে সরকার।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে মাংস, ডিম ও দুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, রমজানের আগের দিন থেকে ২৫ রমজান পর্যন্ত মোট ২৬ দিন ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ড্রেসড ব্রয়লার, দুধ, ডিম ও গরুর মাংস সুলভমূল্যে বিক্রি করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় ড্রেসড ব্রয়লারের মাংস প্রতি কেজি ২৪৫ টাকা, পাস্তুরিত দুধ প্রতি লিটার ৮০ টাকা, ডিম প্রতি পিস ৮ টাকা এবং গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ টাকায় ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হবে।
১৪৩ দিন আগে
রমজানে বাজার নিয়ে স্বস্তিতে চাঁদপুরবাসী
এমনিতেই পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মাঝে রমজান এলেই তা বেড়ে যায় আরও। এ নিয়ে দেশের ক্রেতা সাধারণের অভিযোগের শেষ নেই। তবে এবারের রমজানে চাঁদপুরে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। নিত্যপণ্যসহ ইফতারের প্রায় সব খাদ্যসামগ্রীর দাম সহনীয় র্পযায়ে। ফলে স্বস্তিতে রয়েছেন জেলার নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা।
জেলা শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন কাঁচা বাজার ঘুরে এমনটাই দেখা গেছে। রমজানে পণ্যের দামে কোনো প্রভাব এখনও পড়েনি।
চাঁদপুরের বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, কালো বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি, লেবু ৪০-৬০ টাকা হালি, কাঁচামরিচ ৫০-৬০ টাকা কেজি, আলু ২৫-৩০ কেজি, টমেটো ও গাজর ৩০-৪০ টাকা কেজি এবং খিরা ও শসা বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা কেজি দরে। এছাড়া লাউ আকার ভেদে ৩০ থেকে ৬০ টাকা পিস এবং মিষ্টি কুমড়ার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা দরে, যা আগে থেকেই এমন দামে বিক্রি হয়ে আসছিল।
জেলা শহর ও শহরতলীর প্রত্যেকটি কাঁচাবাজারে, যেমন: পাল বাজার, পুরানবাজার, বিপনীবাগ বাজার, নতুনবাজার ও ওয়ারলেস বাজারে এসব পণ্যের প্রচুর সরবরাহ লক্ষ করা গেছে।
এছাড়া বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও রয়েছে আগের মতোই।
জেলা শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ও রাস্তার পাশে সকালে ভ্যানে করে সবুজ শাকসবজি ও ছোট ও মাঝারি সাইজের মাছ আরও একটু সস্তায় বিক্রি করতে দেখা যায়।
বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, কক মুরগি ২৮০ টাকা, গরুর মাংস ৭০০ টাকা ও খাসির মাংস ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘মেইড ইন জিনজিরা’ ট্যাং-জুস-গ্লুকোজে সয়লাব রমজানের বাজার
তবে ইলিশ মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় তা বাজারে বিক্রি করতে দেখা না গেলেও গোপনে কেউ কেউ বিক্রি করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অবশ্য নিষেধাজ্ঞার সময়ে তার দাম নাকি আকাশচুম্বী; কেজি বিক্রি হয়ে থাকে ৩ হাজার টাকা দরে। আর ৮০০/৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি আড়াই হাজার টাকার আশপাশে।
৪৭৫ দিন আগে
রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের সরবরাহ বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে: বাণিজ্য উপদেষ্টা
রমজানকে সামনে রেখে পেঁয়াজ, চিনি ও খেজুরসহ নিত্যপণ্যের সরবরাহ বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক এনগেজমেন্ট বাড়াতে চায় সরকার।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমদ মারুফের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসলে বাণিজ্য উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
এসময় তারা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, করাচি-চট্রগ্রাম সরাসরি বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনা, দুদেশের ব্যবসায়ীদের এনগেজমেন্ট বৃদ্ধি ও জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করেন।
সরকার দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষকে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিতরণ করে থাকে জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, এর মধ্যে চাল, পেঁয়াজ, চিনি, ভোজ্যতেল ও ডাল অন্যতম।
তিনি আরও বলেন, সরকারের ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিতরণ মানুষের জীবনকে একটু সহজ করতে ভূমিকা রাখে।
এছাড়া সার্ক পুনরুজ্জীবিত হলে সদস্য দেশগুলো উপকৃত হবে এবং দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরালো হবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি বাণিজ্য সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করবে: বাণিজ্য উপদেষ্টা
পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ইন্দো-মুসলিম সভ্যতার অংশ হিসেবে উপমহাদেশে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্কের ভিত মজবুত করতে দ্বিপাক্ষীয় বাণিজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত।
ইতোমধ্যে পাকিস্তান থেকে পণ্যবাহী জাহাজ বাংলাদেশে এসেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, এতে সময় ও খরচ কম হওয়ায় দুদেশই উপকৃত হয়েছে।
এসময় তিনি বাংলাদেশে চিনি, পেঁয়াজ ও খেজুর রপ্তানিতে পাকিস্তান সরকারের আগ্রহের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানে গম উৎপাদিত হলেও রপ্তানি করা হয় না। তবে উদ্বৃত্ত উৎপাদন হলে গম রপ্তানিতে বাংলাদেশকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম উদ্দিন ও এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন।
আরও পড়ুন: জীবনযাত্রা সহজ করতে কাজ করার অঙ্গীকার নতুন বাণিজ্য উপদেষ্টার
৫৮৪ দিন আগে
নিত্যপণ্য আমদানি করতে ভারতের পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গেও চুক্তি হচ্ছে: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী
নিত্যপণ্য আমদানির জন্য ভারতের পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গেও বাংলাদেশের চুক্তি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।
বুধবার (২৬ জুন) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের সঞ্চালনায় সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সভাপতি ফসিহ উদ্দীন মাহতাব।
আরও পড়ুন: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির বিকল্প ব্যবস্থা হচ্ছে: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী
সংলাপে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে আমরা কৃষি উৎপাদিত পণ্যগুলো আনতে পারি, যেগুলো তাদের উদ্বৃত্ত আছে।’
এ বিষয়ে একটি চুক্তি প্রায় সম্পন্নের পথে বলেও জানান তিনি।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছি। আগামী জুলাই মাসে আমরা সেই চুক্তিটা সই করতে চেষ্টা করব।’
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এই চুক্তি সই করবে বলেও জানিয়েছেন আহসানুল ইসলাম টিটু।
তিনি আরও জানান, নিত্যপণ্য জিনিসের সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে ভারতের সঙ্গেও একটি চুক্তি করা হবে।
এছাড়াও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো আনা যাবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে একটু স্বস্তি দিতে, বাজার সচল রাখতে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্ত হাটগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেক দুর্গম এলাকায় আমাদের সীমান্ত আছে। সেসব এলাকার মানুষগুলোর সুবিধার্থে কয়েকটা সীমান্ত হাট করা হয়েছে।
আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘কোভিডের জন্য কিছুটা স্থগিত ছিল, আবার আমরা বর্ডার হাটের দিকে নজর দেব। দুই সরকারেরই বর্ডার হাটের ব্যাপারে আগ্রহ আছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা শিগগিরই দুর্গম বর্ডার এলাকায় বর্ডার হাট প্রতিষ্ঠা করব।’
এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য অনেক সহজ হবে বলে জানান তিনি।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২৩টি দেশে আমাদের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর আছেন, যাদের সরাসরি মনিটরিং করা হয়। তাদের জবাবদিহির আওতায় এনেছি। প্রতি মাসে মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি বাণিজ্যের অতিরিক্ত সচিবের কাছে রিপোর্ট করেন তারা।’
নতুন মার্কেট খুঁজে পেতে ও পণ্য বাজারজাতকরণ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: আগামী ঈদ পর্যন্ত কোনো পণ্য ঘাটতি থাকবে না: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির বিকল্প ব্যবস্থা হচ্ছে: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী
৭৩০ দিন আগে
রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না: সালমান এফ রহমান
আসন্ন রমজান মাসে দেশে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না বলে জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
তিনি বলেন, ‘আসন্ন রমজানে ভোগ্যপণ্যের কোনো সংকট হবে না৷ রমজান মাসে পণ্যের দামও বাড়বে না। বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রপ্তানি করবে ভারত।’
রবিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন৷
আরও পড়ুন: জাতীয় পার্টি দীর্ঘদিন ষড়যন্ত্রের শিকার: জিএম কাদের
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভালো ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশকে সব রাষ্ট্র অভিনন্দন জানিয়েছে। কিছুদিন আগে বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
নির্বাচনের আগে অনেক ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছিল উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘এখন গুজব আর নেই। সব গুজব প্রমাণিত হয়েছে। দেশের সংবিধান অনুযায়ী একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করা হয়েছে। আমরা একটি ভালো সরকার পেয়েছি৷’
এখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘কোভিড, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, এখন গাজা যুদ্ধের কারণে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা কিছুটা মন্দা চলছে। তবে এসবের প্রভাব মুক্ত করতে হবে। অর্থনৈতিক কয়েকটি বিষয় নতুন করে আমাদের সংস্কার করা হবে।’
আরও পড়ুন: জনগণের প্রত্যাশা পূরণে শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দেব: জিএম কাদের
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশ কোনো অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে না। আমাদের অর্থনৈতিক শক্তি হলো কৃষিখাত সেটা এখনো সঠিক অবস্থায় আছে। কৃষিতে আমাদের বাম্পার ফলন হয়েছে। এটা আমাদের জন্য একটি বিরাট সম্পদ। পেঁয়াজ-ডাল-ভোজ্যতেল বাংলাদেশে রপ্তানি করবে ভারত।
দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি করে। রমজান মাসে সরকার বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করেছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করেছে।’
আরও পড়ুন: সরকার যেখানে যাকে জেতাতে চেয়েছে সে জিতেছে: জিএম কাদের
৮৮০ দিন আগে
নিত্যপণ্য সরবরাহ প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
ভারত থেকে বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ভারতের জয়পুরে অনুষ্ঠিত জি-২০ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রীদের সভার আগে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে সাইডলাইনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি।
ভারত থেকে বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের প্রক্রিয়া প্রণয়নের অগ্রগতির জন্য টিপু মুনশি ভারতীয় বাণিজ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রস্তাবিত ব্যবস্থার দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তার ক্রমাগত সমর্থন কামনা করেন।
এ সময় টিপু মুনশি সম্প্রতি পেঁয়াজের ওপর ৪০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দামের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: বাণিজ্য সম্পর্কিত গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
এ প্রসঙ্গে পীযূষ গোয়েল জানান, বিশ্বব্যাপী উৎপাদনে ব্যাঘাত, সরবরাহের ঘাটতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অসুবিধাগুলো কাটিয়ে উঠতে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারণে ভারতও কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন ঘাটতিতে ভুগছে। এ কারণে ভারত সরকারকে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
তিনি বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করে বলেন, খুব শিগগিরই এ সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের উপর থেকে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ করলে পীযূষ গোয়েল এ বিষয়ে সর্বোচ্চ বিবেচনার আশ্বাস দেন।
এ ছাড়া, অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী দুই মাসের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে উপস্থাপন এবং এগুলো নিষ্পত্তি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী জি-২০ মন্ত্রী পর্যায়ের ঘোষণা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মূল্যবান অবদানের প্রশংসা করে বলেন, ভারত সবসময় বাংলাদেশের সঙ্গে বিশেষ বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বকে মূল্যায়ন করে থাকে।
পরে টিপু মুনশি সৌদি আরবের বাণিজ্যমন্ত্রী এমই মাজিদ আল কাসাবির সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেন।
এর আগে ২৪-২৫ আগস্ট জয়পুরে অনুষ্ঠিত জি-২০ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রীদের সভায় যোগদান দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশসহ গ্র্যাজুয়েশন ট্র্যাকে থাকা দেশগুলোকে ২০২৬ সালের পর এলডিসি দেশসমূহের জন্য প্রযোজ্য শুল্কমুক্ত কোটা মুক্ত বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সমর্থন প্রদানের জন্য জি-২০ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
আগামী ১৩তম ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন (ডব্লিউটিও) মিনিস্টারিয়াল কনফারেন্সে (এমসি১৩) এলডিসি থেকে উত্তরণপ্রাপ্ত দেশগুলোর পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি জি-২০ দেশের মন্ত্রীদের অনুরোধ করেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য বিজনেস-২০ (বি-২০) সামিটে বক্তব্য রাখবেন।
আরও পড়ুন: বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপোষহীন: বাণিজ্যমন্ত্রী
ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে আইনের সঙ্গে সচেতনতা জরুরি: বাণিজ্যমন্ত্রী
১০৩৬ দিন আগে
খুলনায় রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের দাম অসহনীয়, দিশেহারা সাধারণ ক্রেতারা
সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান শুরু। চৈত্রের কাঠফাটা রোদ উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় পার করে সকল প্রকার পানাহার হতে বিরত থেকে আল্লাহর মহান হুকুম পালন করতে টানা একটি মাসের সিয়াম সাধনা করবে মুসলিম উম্মাহ।
পবিত্র মাহে রমজান আসলেই যেন হালচাল পাল্টাতে থাকে নিত্যপণ্যের। বিশেষ করে রোজার নৈমিত্তিক কিছু সামগ্রীর। এদিকে মাহে রমজানের শুরুতেই খুলনার নিত্যপণ্যের বাজারে কিছু পরিবর্তন আসতে দেখা গেছে।
যার তালিকায় রয়েছে- ছোলা, চিড়া, মুড়ি, বেসন, ভোজ্য তেল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন, আলু, খেজুর, কলা, রুহ আফজাসহ অন্যান্য ফল।
বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, রোজা আসলেই যেন ডাকাতের মতো হয়ে ওঠে ব্যবসায়ীরা। এছাড়া রোজার কয়েক সপ্তাহ আগে বাজারে তেল, পেঁয়াজ, রসুন, ছোলাসহ অন্যান্য রমজানের প্রয়োজনীয় সামগ্রীগুলোর দাম হু হু করে বাড়তে থাকে।
আরও পড়ুন: রমজানের আগে বাজারে হুমড়ি খেয়ে না পড়লে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না: টিপু মুনশি
এটা নতুন কিছু নয়, আমদের নিত্যনৈমিত্তিক কান্ড।
অপরদিকে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজার অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার স্বাভাবিক আছে। পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ, এখন কাটিকাটা পেঁয়াজ নেই, বীজের পেঁয়াজও। তাই দাম বেশি মনে হচ্ছে। রোজার নিত্যপণ্যের বাজার দাম বাড়তির কারণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ আয়ের মানুষ।
এছাড়া ইফতারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর।
সারা বছর তুলনায় যে পরিমাণ খেজুর বিক্রি হয়, তার বহুগুণে বিক্রি হয়ে থাকে রমজান মাসে। তবে বিগত বছরের তুলনায় বর্তমান ফলের বাজারে খেজুরের দাম বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে সাধারণ ক্রেতারা।
তারা বলছেন, খেজুর ইফতারের জন্য একটি অপরিহার্য ফল। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা গলাকাটার মতো দাম নিচ্ছে।
খুলনার মহানগরীর ময়লাপোতা, ডাকবাংলো, নিউমার্কেট, চিত্রালী ও দৌলতপুর খুচরা ফলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খেজুর আম্বার ১৫০০টাকা, আজোয়া ১০০০টাকা, মরিয়ম ৯০০টাকা, শুকারী ৭৫০, মিফজল (বড়) ১৩০০টাকা, মাঝারি ১২০০টাকা এবং ছোট ১০০টাকা, কাচা খেজুর ৫০০টাকা, দাওয়াজ ৪০০টাকা, দালাদা ৫৫০টাকা, ফিড খেজুর ৫০০টাকা, ইরানি মরিয়ম ১০০টাকা, বরই খেজুর ৪০০টাকা, বস্তা খেজুর ১৪০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, আপেল (সবুজ) ৩২০-৩৫০টাকা, ফুজি আপেল ২৬০-৩০০টাকা, বেদানা ৩৫০-৪০০টাকা, কমলা ২২০টাকা, মালটা ২২০টাকা দরে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ইফতারের নিত্যপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুলনা ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজারে রমজানের নিত্যপণ্যের মধ্যে সয়াবিন তেল পাঁচ লিটার ৬৯০টাকা, দুই লিটার ৩৭০টাকা, এক লিটার ১৮৫টাকা, মুশরি ডাল দেশি ১৪০টাকা, মোটা ১০০টাকা, ছোলা ৮৫টাকা, চিনি ১১৫টাকা, আলু ২৫ টাকা, ছোলার ডালের বেসন ১১০টাকা, বুট ডালের বেসন ৮৫টাকা, মুড়ি প্যাকেট এক থেকে দুই কেজি ৭০টাকা, চিড়া প্রতিকেজি ৬০ থেকে ৬৫ কেজি, পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, রসুন দেশি (বাছাইকৃত) ১০০টাকা, চায়না ১৫০টাকা, রুহ আফজা বড় ৩৫০টাকা, ছোট ২১০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিউ মার্কেট বাজারে রমজানের নিত্যপণ্যের মধ্যে সয়াবিন তেল পাঁচ লিটার ৬৯০টাকা, দুই লিটার ৩৭০টাকা, এক লিটার ১৮৫টাকা, মসুর ডাল দেশি ১৪০টাকা, মোটা ১০০টাকা, ছোলা ৮৫টাকা, চিনি ১১৫টাকা, আলু ২০ টাকা, ছোলার ডালের বেসন ১০০টাকা, বুট ডালের বেসন ৮০টাকা, মুড়ি প্যাকেট এক থেকে দুই কেজি ৭০টাকা, চিড়া প্রতিকেজি ৬০ কেজি, পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, রসুন দেশি ৮০টাকা, রুহ আফজা বড় ৩৫০টাকা, ছোট ২১০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
প্রাইভেট কোম্পানির চাকুরিজীবী মঈনুল ইসলাম জানান, রমজান আসার আগেই প্রতিটি রোজার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ, তেল, চিনি, বেসন, খেজুরের দাম অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও জানান, সামনে আরও কতো বাড়বে। এছাড়া ফার্মের মুরগি বর্তমানে ২৫০ টাকা, গরুর মাংস ৭০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারে ঢুকতে তো ভয় লাগে, কারণ ৫০-৬০ টাকা নিচে কোনো সবজিই নেই বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: শুধু ভোজ্যতেল নয়, বেড়েছে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও
মঈনুল জানান, রোজার আগেই দুশ্চিন্তায় পড়েছি, কারণ হাতে গোনা টাকা। রোজার মাসে চলতে বেশ কষ্ট হয়ে উঠবে।
ফুটপাথ ব্যবসায়ী মামুন জানান, প্রতিবছরই গোটা রমজান মাসে পরিবারের ছেলে-মেয়ে সকলে মিলে রোজা রাখি। গরীবের মাংসের চাহিদা পূরণের শেষ সম্বল ব্রয়লার মুরগি। যার বিকল্প নেই।
বর্তমানে ২৫০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হঠাৎ এমন দাম বেড়েছে, কারও কোনো মাথা ব্যথা নেই। ব্যবসায়ীরা একটা অজুহাত দেখিয়ে দিলেই হয়। মুরগির খাবারের দাম বাড়তি। সোজা কথা শীতকালে মুরগি মরে যাওয়ার ভয়ে ব্যবসায়ীরা সস্তায় মুরগি বিক্রি করছে। এখন রমজানকে সামনে রেখে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইচ্ছা মতো দাম হাকাচ্ছে।
এছাড়া রমজানকে সামনে রেখে রোজার প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ মাছ, মাংস, সবজিসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম অসহনীয় হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে একাধিক সাধারণ ক্রেতারা।
এদিকে রমজান মাসে রোজাদার মুসল্লিদের একটি প্রধান খাবারের চাহিদা হলো কলা।
কলা না হলে যেন রোজাদারদের খাদ্যের তালিকার ঘাটতি থেকে যায়। তবে এবার খুলনায় কলার বাজারগুলো বা রেলস্টেশন থেকে পর্যাপ্ত কলার আমদানি হচ্ছে এমনটি দেখা গেলেও কলার দাম আগের তুলনায় দ্বিগুণ।
বর্তমান এক ডজন মাঝারি আকারের কলার দাম আট থেকে ১০ টাকা। আর বড় সাইজের কলা ডজন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। মোট কথা এখন ছোট কলার দাম ছয় টাকার নিচে নেই। কলার দাম এত বৃদ্ধি পাওয়া অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। আর বিশেষ করে বেশ বেকায়দায় পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন শ’ শ’ কলা কাইন নামছে খুলনা রেলস্টেশনে। তারপর ও ব্যবসায়ীদের দাবি কলার সরবরাহ কম।
কলার ব্যাপারী মুহসিন আলী বলেন, আমি সৈয়দপুর ও মেহেরপুরের চুয়াডাঙ্গা থেকে কলা আনি। আমার কাছ থেকে পাইকারি ব্যাবসায়ীরা কলা নিয়ে যায়। এ বছর রমজানে আগে কলা চাষিরা আগের তুলনায় একটু বেশি দাম দাবি করছে।
এছাড়া জ্বালানি তেলের দামের কারণে ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে এরও একটি প্রভাব আছে।
ক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রোজায় যেন ইফতারি বা সেহরিতে কলা ছাড়া খেতে ভালো লাগে না। বিশেষ করে সেহরির সময়ে কলা খেলে সারাদিন পেটে ঠান্ডা অনুভব হয়। যে কারণে রোজায় কলার চাহিদা ব্যাপক।
তবে এ বছর যেন আগের তুলনায় কলার দাম রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বাজারে এসছিলাম একটু কাচা দেখে কলা ক্রয় করতে। এসে দেখি মাঝারি আকৃতির কলার দাম ১২০ টাকা ডজন বলছে দোকানি, মানে একটি কলার দাম ১০ টাকা।
এক্ষেত্রে আমরা ছোট ক্রেতারা কি বলতে পারি। এখন চাহিদা ছিল দশটি কলা এখন অতিরিক্ত দামের কারণে ছয়টি কলা ক্রয় করছি। এর থেকে আর কি করতে পারবো।
তিনি আরও বলেন, নিজেদের খরচ কমিয়ে আনতে হবে। আর মনে মনে ধিক্কার দিতে হবে অসাধু মজুদদার ব্যবসায়ীদের। যারা রমজান মাসকে ঘিরে গরিব নিম্ন আয়ের রোজাদার মানুষদের কষ্ট দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: উৎসবে দেশেও নিত্যপণ্যের দাম কমানোর সংস্কৃতি চালু করুন: তথ্যমন্ত্রী
১১৯০ দিন আগে