পাকিস্তান
পাকিস্তানে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত ৫
পাকিস্তানের মধ্যাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পাঁচজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোরে পাঞ্জাব প্রদেশের শের শাহ শহরে ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বলে দেশটির পুলিশ ও রেলওয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন।
মুখপাত্র কলিম আখতার বলেন, ট্রেনটি দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী করাচি থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে যাওয়ার পথে পাঞ্জাব প্রদেশের শের শাহ শহরে লাইনচ্যুত হয়।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মী ও প্যারামেডিকদের পাঠানো হয়। উদ্ধারকর্মীরা ট্রেনের ১৪টি বগি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহতদের সরিয়ে নেন।
আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার আগেই আরও একজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
এ ঘটনায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পৃথক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছেন। আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পাকিস্তানে প্রায়ই ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। কয়েক দশক ধরে রেল খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব, পুরোনো রেললাইন ও সংকেতব্যবস্থার কারণে দেশটির রেলব্যবস্থা নানা সমস্যায় ভুগছে।
এর আগে ২০২৩ সালে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ১০টি বগি লাইনচ্যুত হয়। ওই দুর্ঘটনায় ৩০ জন নিহত ও ৯০ জনের বেশি আহত হয়।
৫ দিন আগে
খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের কার্যক্রম স্থগিত, জরুরি অবস্থা জারি
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। সেই সঙ্গে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলের নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তার সমর্থকদের আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী প্রদেশটি থেকে ইসলামাবাদ অভিমুখে পরিকল্পিত লংমার্চের আগে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
রবিবার (১১ অক্টোবর) প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মন্ত্রিসভার সুপারিশে জারদারি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে প্রদেশটির নিয়ন্ত্রণ এখন গভর্নরের হাতে, যিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে শেহবাজ শরিফের কার্যালয় জানায়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা প্রদেশটিতে জরুরি শাসন জারির সুপারিশ করেছে। তাদের অভিযোগ, প্রাদেশিক সরকার ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের সরিয়ে রেখেছে’।
খাইবার পাখতুনখোয়ার সরকারের কার্যক্রম স্থগিতের ঘটনায় কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। তবে গতরাতে ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের কয়েকজন সমর্থককে আটক করেছে পুলিশ। অস্থিরতা ঠেকাতে খাইবার পাখতুনখোয়া ও ইসলামাবাদে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে সম্ভাব্য সমাবেশ ঠেকাতে গত মাস থেকেই ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশ শিপিং কনটেইনার বসিয়ে রেখেছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং রাজধানী ও পাশের রাওয়ালপিন্ডির বাসিন্দাদের দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।
ইমরান খানের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি প্রাদেশিক সরকার স্থগিতের নিন্দা জানিয়ে একে ছদ্মবেশী অভ্যুত্থান বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর খাইবার পাখতুনখোয়ার সরকারই ছিল একমাত্র সরকার, যার প্রকৃত জনসমর্থন রয়েছে। ওই নির্বাচন কারচুপির মাধ্যমে হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে ইমরান খানের দল।
বুখারি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এখন গণতন্ত্রের যে সামান্য অংশটুকু অবশিষ্ট ছিল, সেটিও চলে গেল।’
প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি শনিবার সমর্থকদের ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। গত সপ্তাহে কয়েকটি জেলায় পদযাত্রা করে তিনি এ প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেন। আফ্রিদি ও তার সাবেক মন্ত্রিসভার সদস্যদের আটক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পিটিআই।
ইমরানের দল পিটিআই ও কেন্দ্রীয় সরকার গত সপ্তাহে লংমার্চ স্থগিত করা নিয়ে আলোচনা করলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। দলটির চেয়ারম্যান গওহর খান কয়েক দিন আগে জানান, দুই দফা আলোচনার পরও আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পাকিস্তানি তালেবানের হামলা বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে শেহবাজ শরিফের সরকার গত মাস থেকেই আফ্রিদিকে পদযাত্রা স্থগিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামেও পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীটির প্রতি সহানুভূতিশীল বলেও অভিযোগ করেছে সরকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আজিম চৌধুরী বলেন, জরুরি অবস্থা জারির ফলে গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি প্রাদেশিক সরকারের প্রধান নির্বাহীর ক্ষমতা পেয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ইমরানের দল একমাত্র যে প্রদেশে ক্ষমতায় ছিল, সেখান থেকেও তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাদেশিক পরিষদ ও আফ্রিদির মন্ত্রিসভা স্থগিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি সহিংসতা বেড়েছে। এসব হামলার বেশির ভাগের জন্য টিটিপিকে দায়ী করা হয়। গোষ্ঠীটি আফগান তালেবান থেকে আলাদা হলেও তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
২০২১ সালে প্রতিবেশী আফগানিস্তানে তালেবান আবারও ক্ষমতায় ফেরে। তার পর থেকে ইসলামাবাদ বারবার অভিযোগ করেছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার টিটিপি যোদ্ধাদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
৭ দিন আগে
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আলোচনা
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সাক্ষাৎ করতে গেলে এ আলোচনা হয়।
এ সময় মন্ত্রীর কার্যালয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন তারা।
এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান হাইকমিশনার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা থাকাকালীন তাদের আগের বৈঠকগুলোর কথা স্মরণ করেন হাইকমিশনার।
২০ দিন আগে
পাকিস্তানে তুষারধসে নিখোঁজ ১০ পর্বতারোহীর সবাই নিহত
পাকিস্তানের ব্রড পিকে তুষারধসে খ্যাতিমান ব্রিটিশ-নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজাসহ (নিমস দাই) ও আরও ৯ পর্বতারোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধারকারীরা মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (১ আগস্ট) নির্মল পুরজার অভিযাত্রী প্রতিষ্ঠান এলিট এক্সপেড এ তথ্য নিশ্চিত করে।
এক বিবৃতিতে এলিট এক্সপেড জানায়, পর্বতারোহণের জগৎ তাদের অন্যতম সেরা একজন পর্বতারোহীকে হারিয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় নিহত অন্য পর্বতারোহীদের প্রতিও গভীর শোক প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই অকল্পনীয় ক্ষতির বেদনা লাঘব করার মতো কোনো শব্দ তাদের কাছে নেই।
গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের ব্রড পিকে পর্বত আরোহণের সময় ১০ সদস্যের ওই পর্বতারোহী দলটি তুষারধসে নিঁখোজ হন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাদের খোঁজে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন ব্যাহত হয়। এরপর শুক্রবার উদ্ধারকারীরা দলটির চারজনের মরদেহ শনাক্ত করেন এবং তার মধ্যে তিনটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন। শনিবার থেকে সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টারের সহায়তায় বাকি সদস্যদের অনুসন্ধানে আবারও অভিযান শুরু হয়।
এ বিষয়ে পাকিস্তানের আলপাইন ক্লাবের সভাপতি ইরফান আরশাদ খান বলেন, ‘পর্বতের টানে বিভিন্ন দেশ থেকে একত্রিত হওয়া এই সাহসী পর্বতারোহীদের মৃত্যু বিশ্ব পর্বতারোহণ অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’
এ সময় তিনি উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক উদ্ধারকারী এবং শেরপাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ‘পর্বতের সৌন্দর্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তবে একই সঙ্গে এ ধরনের দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, হিমালয় ও কারাকোরামের দুর্গম পর্বতে অভিযান চালানো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।’
এর আগে, শনিবার স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা তাহির খান জানান, ওমানের পর্বতারোহী নাথিরা আহমেদের মরদেহ পাকিস্থানের ইসলামাবাদে পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন পর্বতারোহী ম্যালোরি গেইস ও নেপালের বাহাদুর গুরুঙের মরদেহ পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের প্রধান শহর স্কার্দুর একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
গেইসের পরিবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ম্যালোরি একজন প্রাণবন্ত মানুষ ছিলেন। তাকে তার পরিবার ও বন্ধুরা গভীরভাবে ভালোবাসতেন। তাকে আমাদের ভীষণ মনে পড়বে।’
এই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন নেপালে জন্ম নেওয়া সাবেক ব্রিটিশ সেনাসদস্য নির্মল পুরজা, যিনি ‘নিমস দাই’ নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি মাত্র ১৮৯ দিনে বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। তার এই অসাধারণ কীর্তি নিয়ে ‘ফোরটিন পিকস: নাথিং ইজ ইম্পসিবল’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মিত করেছিল নেটফ্লিক্স।
পুরজার প্রতিষ্ঠান তাকে স্মরণ করে জানায়, তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি নিজের সাহস, বিনয়ের মাধ্যমে লাখো মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি এই বিশ্বাসে অটল ছিলেন যে মানুষের সামর্থ্য আমাদের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি।
অপরদিকে, ম্যালোরি গেইস প্রথমবারের মতো পাকিস্তানে ৮ হাজার মিটার উচ্চতার পর্বতশৃঙ্গে আরোহণের চেষ্টা করছিলেন। এছাড়া মুভিং মাউন্টেইনস ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির গাইড, ভূগোলবিদ ও পাহাড়ি বা উঁচু অঞ্চলের আলোকচিত্রী সাখির জন্য এটিই তার জীবনের শেষ পর্বত অভিযান হওয়ার কথা ছিল। তিনি বিশ্বের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করেছেন।
উত্তর পাকিস্তানে তুষারধস, বরফ ও পাথর ধসে পড়া এবং অতিরিক্ত উচ্চতা ও দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে পর্বতারোহণ অভিযানে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে।
৭৭ দিন আগে
পাকিস্তানে পুলিশ চৌকিতে জঙ্গি হামলা, নিহত ১১ পুলিশ ও ১৫ হামলাকারী
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে একটি পুলিশ চৌকিতে জঙ্গি হামলায় ১১ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় পাল্টা হামলায় ১৫ জন হামলাকারীকে হত্যা করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী হাঙ্গু জেলার খাজিনা পুলিশ চৌকিতে রাতভর এ পাল্টাপাল্টি হামলা চলে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির পর নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারীদের প্রতিহত করতে সক্ষম হয় বলে পাকিস্তানের পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ইরফান খান জানান, ভারী অস্ত্র নিয়ে জঙ্গিরা পুলিশ চৌকিতে হামলা চালায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে ওঁৎ পেতে থাকা হামলাকারীদের আক্রমণের মুখে পড়েন। এতে একটি সাঁজোয়া যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা হামলা চালিয়ে হামলাকারীদের প্রতিহত করে।
এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে সহায়তা নিয়ে যাওয়া জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা দিয়ার খান নিহত হয়েছেন বলে প্রাদেশিক পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। হামলায় আরও বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার দায় কোনো সংগঠন স্বীকার করেনি। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওই অঞ্চলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা বাড়ানো নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি)-এর দিকে সন্দেহের আঙুল উঠেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর বেশিরভাগ হামলার জন্য টিটিপিকে দায়ী করা হয়। ‘পাকিস্তানি তালেবান’ নামে পরিচিত এ সংগঠনটি আফগানিস্তানের তালেবানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও এটি আলাদা সংগঠন। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে টিটিপির তৎপরতা আরও বেড়েছে।
ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার টিটিপি সদস্যদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
৮০ দিন আগে
মৌসুমি বৃষ্টি ও বন্যায় পাকিস্তানে এক মাসে ১০৯ প্রাণহানি
পাকিস্তানে গত এক মাসে মৌসুমি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ চলতি সপ্তাহের শেষদিকে বিভিন্ন এলাকায় আরও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, গত ২৬ জুন থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ঘরবাড়ি ও ছাদ ধসে প্রাণ হারিয়েছেন। মোট নিহতের প্রায় অর্ধেকই আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাসিন্দা।
এদিকে, এনডিএমএ সারা দেশে বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করছে। সংস্থাটির বৈঠকে নদীতরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্যোগের সময় তারা নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারেন অথবা বন্যার পানি সেসব এলাকায় পৌঁছানোর আগেই প্রয়োজন হলে তাদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
৮২ দিন আগে
পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে প্রাণ গেল ১৪ স্কুলশিক্ষার্থীর, গ্রেপ্তার ২
পাকিস্তানের লাহোরে নির্মাণাধীন ভবনে পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে অন্তত ১৪ জন স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৮ শিশু আহত হয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ জুন) লাহোরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি নির্মাণাধীন ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফয়সাল কামরান জানান, আহত শিশুদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় কোচিং সেন্টারের মালিক ও আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শিশু আটকে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, কোচিং সেন্টারটি একটি পুরোনো ভবনে পরিচালিত হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারণে নির্মাণাধীন দ্বিতীয় তলার ছাদ ধসে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানে ভবন ধসের ঘটনা নতুন নয়। দেশটিতে নির্মাণ মানদণ্ড যথাযথভাবে মানা হয় না। এ কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া অনেক ভবন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয় এবং খরচ কমাতে নিরাপত্তাবিধিও উপেক্ষা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাদ ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তারা কোদাল ও খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শিশুদের বের করে আনার চেষ্টা করেন।
১০৯ দিন আগে
পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে ৩৬ বেসামরিক নিহত, আহত ১৬০
পাকিস্তানি বাহিনীর রাতভর বিমান হামলায় আফগানিস্তানে অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ১৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, রবিবার গভীর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে স্থল অভিযান চালায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী। পরে জঙ্গিদের আস্তানা ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়।
দেশজুড়ে সাম্প্রতিক একাধিক জঙ্গি হামলার জবাবে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, আফগানিস্তান এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত আগ্রাসন’ ও ‘চরম নিষ্ঠুরতা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, হামলায় নিহতদের সবাই বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সহকারী মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী পাকতিয়া প্রদেশের চামকানি জেলায় একটি বাড়িতে হামলা চালায়। এতে এক বৃদ্ধ ও এক শিশু নিহত হয় এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে এলে একই স্থানে আবারও হামলা চালানো হয়। এতে ২৮ জন গ্রামবাসী নিহত এবং ১৫৮ জন আহত হন।
তিনি আরও জানান, পাকতিকা প্রদেশের গিয়ান জেলার একটি গ্রামে আরেকটি বাড়িতে হামলায় ছয়জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া কুনার প্রদেশের একটি বেসামরিক বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও প্রায় ৩০টি গবাদিপশু মারা গেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলা বেড়েছে। এসব হামলার জন্য পাকিস্তান সরকার মূলত পাকিস্তানি তালেবান, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং তাদের মিত্র জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে আসছে।
পাকিস্তানি তালেবান ও আফগান তালেবান আলাদা সংগঠন হলেও তারা পরস্পরের মিত্র।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানায়, শনিবার (২৭ জুন) রাতে করাচিতে দেশটির আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে হামলার পর এ অভিযান চালানো হয়। ওই হামলায় তিন সেনা সদস্য নিহত হন। সে সময় পাল্টা হামলায় নিরাপত্তা বাহিনী তিন হামলাকারীকে হত্যা এবং আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে। আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আফগান নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
পাকিস্তানি তালেবানের বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার করাচির ওই হামলার দায় স্বীকার করে।
ওই হামলার জবাবে রবিবার রাতভর আফগানিস্তানে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী।
১১১ দিন আগে
পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অন্তত ১৭
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সোয়াত এক্সপ্রেসওয়েতে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসের পেছনে একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসের ধাক্কায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৫ মে) খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মারদানের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার পরিষেবা সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মহাপরিচালক শাহ ফাহাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, একটি মিনিবাস দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফাহাদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে চালকের অবহেলার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, পাস্তিানের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন দেশটির হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, করাচি থেকে বুনেরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস সোয়াত এক্সপ্রেসওয়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় রাওয়ালপিন্ডি থেকে দিরগামী যাত্রীবাহী মিনিবাসটি পেছন থেকে বাসটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের স্থানীয় মারদান মেডিকেল কমপ্লেক্সে পাঠান। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবরে শোক প্রকাশ করেছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার তথ্যমন্ত্রী শাফি জান। এক বিবৃতিতে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং এই দুর্ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে এবং এই কঠিন সময়ে প্রাদেশিক সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।
১৪৬ দিন আগে
পাকিস্তানে যাত্রীবাহী ট্রেনে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত অন্তত ২৩
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোয়েটায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭০ জনের বেশি মানুষ।
রবিবার (২৪ মে) এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
অনলাইনে শেয়ার করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ট্রেনের দুটি বগি উল্টে গিয়ে আগুন ধরে যায় এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকা একটি এলাকায় এ হামলা হয়েছে। হামলায় বেশ কয়েকটি ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাস্তায় পার্ক করা বেশকিছু যানবাহন গুঁড়িয়ে গেছে।
স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বহু মানুষ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলার পর মরদেহগুলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
১৪৭ দিন আগে