পাকিস্তান
মৌসুমি বৃষ্টি ও বন্যায় পাকিস্তানে এক মাসে ১০৯ প্রাণহানি
পাকিস্তানে গত এক মাসে মৌসুমি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ চলতি সপ্তাহের শেষদিকে বিভিন্ন এলাকায় আরও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, গত ২৬ জুন থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ঘরবাড়ি ও ছাদ ধসে প্রাণ হারিয়েছেন। মোট নিহতের প্রায় অর্ধেকই আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাসিন্দা।
এদিকে, এনডিএমএ সারা দেশে বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করছে। সংস্থাটির বৈঠকে নদীতরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্যোগের সময় তারা নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারেন অথবা বন্যার পানি সেসব এলাকায় পৌঁছানোর আগেই প্রয়োজন হলে তাদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
১ দিন আগে
পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে প্রাণ গেল ১৪ স্কুলশিক্ষার্থীর, গ্রেপ্তার ২
পাকিস্তানের লাহোরে নির্মাণাধীন ভবনে পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে অন্তত ১৪ জন স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৮ শিশু আহত হয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ জুন) লাহোরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি নির্মাণাধীন ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফয়সাল কামরান জানান, আহত শিশুদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় কোচিং সেন্টারের মালিক ও আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শিশু আটকে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, কোচিং সেন্টারটি একটি পুরোনো ভবনে পরিচালিত হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারণে নির্মাণাধীন দ্বিতীয় তলার ছাদ ধসে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানে ভবন ধসের ঘটনা নতুন নয়। দেশটিতে নির্মাণ মানদণ্ড যথাযথভাবে মানা হয় না। এ কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া অনেক ভবন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয় এবং খরচ কমাতে নিরাপত্তাবিধিও উপেক্ষা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাদ ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তারা কোদাল ও খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শিশুদের বের করে আনার চেষ্টা করেন।
২৮ দিন আগে
পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে ৩৬ বেসামরিক নিহত, আহত ১৬০
পাকিস্তানি বাহিনীর রাতভর বিমান হামলায় আফগানিস্তানে অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ১৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, রবিবার গভীর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে স্থল অভিযান চালায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী। পরে জঙ্গিদের আস্তানা ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়।
দেশজুড়ে সাম্প্রতিক একাধিক জঙ্গি হামলার জবাবে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, আফগানিস্তান এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত আগ্রাসন’ ও ‘চরম নিষ্ঠুরতা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, হামলায় নিহতদের সবাই বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সহকারী মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী পাকতিয়া প্রদেশের চামকানি জেলায় একটি বাড়িতে হামলা চালায়। এতে এক বৃদ্ধ ও এক শিশু নিহত হয় এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে এলে একই স্থানে আবারও হামলা চালানো হয়। এতে ২৮ জন গ্রামবাসী নিহত এবং ১৫৮ জন আহত হন।
তিনি আরও জানান, পাকতিকা প্রদেশের গিয়ান জেলার একটি গ্রামে আরেকটি বাড়িতে হামলায় ছয়জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া কুনার প্রদেশের একটি বেসামরিক বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও প্রায় ৩০টি গবাদিপশু মারা গেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলা বেড়েছে। এসব হামলার জন্য পাকিস্তান সরকার মূলত পাকিস্তানি তালেবান, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং তাদের মিত্র জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে আসছে।
পাকিস্তানি তালেবান ও আফগান তালেবান আলাদা সংগঠন হলেও তারা পরস্পরের মিত্র।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানায়, শনিবার (২৭ জুন) রাতে করাচিতে দেশটির আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে হামলার পর এ অভিযান চালানো হয়। ওই হামলায় তিন সেনা সদস্য নিহত হন। সে সময় পাল্টা হামলায় নিরাপত্তা বাহিনী তিন হামলাকারীকে হত্যা এবং আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে। আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আফগান নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
পাকিস্তানি তালেবানের বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার করাচির ওই হামলার দায় স্বীকার করে।
ওই হামলার জবাবে রবিবার রাতভর আফগানিস্তানে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী।
৩০ দিন আগে
পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অন্তত ১৭
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সোয়াত এক্সপ্রেসওয়েতে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসের পেছনে একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসের ধাক্কায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৫ মে) খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মারদানের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার পরিষেবা সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মহাপরিচালক শাহ ফাহাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, একটি মিনিবাস দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফাহাদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে চালকের অবহেলার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, পাস্তিানের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন দেশটির হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, করাচি থেকে বুনেরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস সোয়াত এক্সপ্রেসওয়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় রাওয়ালপিন্ডি থেকে দিরগামী যাত্রীবাহী মিনিবাসটি পেছন থেকে বাসটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের স্থানীয় মারদান মেডিকেল কমপ্লেক্সে পাঠান। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবরে শোক প্রকাশ করেছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার তথ্যমন্ত্রী শাফি জান। এক বিবৃতিতে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং এই দুর্ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে এবং এই কঠিন সময়ে প্রাদেশিক সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।
৬৫ দিন আগে
পাকিস্তানে যাত্রীবাহী ট্রেনে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত অন্তত ২৩
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোয়েটায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭০ জনের বেশি মানুষ।
রবিবার (২৪ মে) এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
অনলাইনে শেয়ার করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ট্রেনের দুটি বগি উল্টে গিয়ে আগুন ধরে যায় এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকা একটি এলাকায় এ হামলা হয়েছে। হামলায় বেশ কয়েকটি ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাস্তায় পার্ক করা বেশকিছু যানবাহন গুঁড়িয়ে গেছে।
স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বহু মানুষ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলার পর মরদেহগুলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
৬৬ দিন আগে
পাকিস্তানের বাজারে বোমা বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত, আহত অর্ধশতাধিক
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বাজারে রিকশায় বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক মানুষ। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার সর্বশেষ নিদর্শন এটি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ মে) এ হামলা ঘটে বলে জানায় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় পুলিশ প্রধান আজমত উল্লাহ জানান, হামলাটি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের লাক্কি মারওয়াত জেলায় সংঘটিত হয়েছে। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে দুইজন ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন নারী রয়েছেন।
তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না জানালেও বলেন, ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তারা আপাতদৃষ্টিতে এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। বিস্ফোরণে আশপাশের দোকানপাটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই পথচারী ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কেউ এ বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি।
এ ধরনের হামলায় সাধারণত পাকিস্তানি তালেবান, ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)’ নামে যারা পরিচিত, তাদের দিকে সন্দেহের আঙুল ওঠে। সংগঠনটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান জোরদার করেছে। গোষ্ঠীটি আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের থেকে আলাদা হলেও তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে।
তবে টিটিপি মঙ্গলবারের এই হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, বিস্ফোরণের বিষয়টি তারা শুনেছে, কিন্তু এই হামলার পেছনে তাদের কোনো হাত নেই।
সর্বশেষ এই হামলার কয়েকদিন আগে পার্শ্ববর্তী বান্নু জেলায় একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও সশস্ত্র আক্রমণে ১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। এ ঘটনার পর আফগান কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় ইসলামাবাদ। পাকিস্তান সোমবার (১১ মে) বান্নু জেলার ওই হামলার জন্য আফগানিস্তানভিত্তিক টিটিপিকেই দায়ী করেছে।
অবশ্য, গতকাল (মঙ্গলবার) আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে এক পোস্টে বান্নু জেলার সাম্প্রতিক হামলায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আনা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাত বিশ্বাস করে যে অভিযোগ, হুমকি ও আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্মান ও প্রকৃত সহযোগিতার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
মুজাহিদ পুনরায় কাবুলের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, আফগান ভূখণ্ডকে কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।
পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মঙ্গলবারে খাইবার পাখতুনখোয়ার হামলাটির নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং জঙ্গিদের দেশের শান্তি ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া হবে না। তিনি কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে আফগান মাটি ব্যবহারের সুযোগ কাউকে দেওয়া হয় না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আফগানিস্তানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
২০২১ সালে তালেবান কাবুলের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে টিটিপি ও অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে সংঘর্ষে কয়েকশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এপ্রিলের শুরুতে চীনের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা হয়। তবে বিক্ষিপ্তভাবে সীমান্ত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, যদিও আগের তুলনায় তার তীব্রতা কমেছে।
৭৭ দিন আগে
পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪
উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানি তালেবানের (টিটিপি) একটি স্বঘোষিত বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১০ মে) সকালে কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানান।
জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান জানান, শনিবার (৯ মে) গভীর রাতে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় অবস্থিত একটি চৌকির কাছে একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী এবং কয়েকজন বন্দুকধারী বিস্ফোরক বোঝাই একটি যানবাহনে বিস্ফোরণ ঘটায়। এই হামলার ফলে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কিছু কর্মকর্তা নিহত হন এবং বাকিরা ভবন ধসে পড়ার পর প্রাণ হারান।
তিনি আরও জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কয়েক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন। এই হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে নিরাপত্তা বাহিনীও একটি অভিযান শুরু করেছে।
এদিকে, সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে ‘ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ নামক একটি নবগঠিত জঙ্গি গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামে পরিচিত পাকিস্তানি তালেবানের বিচ্ছিন্ন উপদলগুলো মিলে এটি গঠিত হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ এটিকে টিটিপির একটি ছায়া সংগঠন হিসেবে অভিযুক্ত করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি সহিংসতার ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, যার বেশিরভাগেরই দায় টিটিপির ওপর চাপানো হয়। এই গোষ্ঠীটি আফগান তালেবানের একটি মিত্র এবং পৃথক সংগঠন বলে পরিচিত।
ইসলামাবাদ প্রায়ই আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে টিটিপিকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলে, তবে কাবুল এই দাবি অস্বীকার করে আসছে।
এটির মতো আরও কিছু বিষয় নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া লড়াইয়ে উভয় পক্ষের শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।
এপ্রিলের শুরুতে চীন মধ্যস্থতা করার পর আফগান ও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা শান্তি আলোচনায় বসেন। তবে আলোচনা সত্ত্বেও বিক্ষিপ্তভাবে আন্তঃসীমান্ত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, যদিও এর তীব্রতা আগের তুলনায় কিছুটা কম।
৮০ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল না আসলেও মধ্যস্থতা এগিয়ে যাচ্ছে: ইসলামাবাদ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেছেন। তবে পাকিস্তানের নেতারা রবিবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করছেন তারা।
মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা বলেছেন, পাকিস্তান নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উল্লেখযোগ্য ব্যবধান ঘোচাতে কাজ করছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনা শুরুর আগে নিজেদের বন্দরের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবিতে তেহরান এখনও অটল রয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি তার শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে এই সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেছেন, ‘ওরা যদি কথা বলতে চায়, তাহলে শুধু ফোন করলেই হবে!’
ইরানের আইএসএনএ এবং তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, দেশটির রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান শনিবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ফোনে বলেছেন যে, নতুন দফা আলোচনার সুযোগ করে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রথমে অবরোধসহ কার্যনির্বাহী বাধাগুলো দূর করা।
যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতেও অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয় এবং ইরান এই জরুরি জলপথে চলাচল সীমিত করে রেখেছে।
সোমবার ভোরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অবরোধ চলাকালে তারা এ পর্যন্ত ৩৮টি জাহাজ ফিরিয়ে দিয়েছে।
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় বেড়েছে তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা আবারও থমকে যাওয়ায় রবিবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম বেড়ে যায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হালকা অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট রবিবার ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল, যা শুক্রবার বাজার বন্ধ হওয়ার পর থেকে ২ শতাংশ বেশি। এই দাম ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের দামের চেয়ে ৪৪ শতাংশ বেশি ছিল।
ব্রেন্ট ক্রুড (অপরিশোধিত তেল) রবিবার ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৭৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল, যা শুক্রবারের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪৮ শতাংশ বেশি। যুদ্ধ শুরুর সময় তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার।
রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে একটি সংক্ষিপ্ত সফর করেছেন। এর মাত্র একদিন আগেই তিনি শহরটি ছেড়ে গিয়েছিলেন, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।
ইসলামাবাদে সর্বশেষ এই তিন ঘণ্টার সফরের আগে তিনি হরমুজ প্রণালির অপর প্রান্তে অবস্থিত ওমানে গিয়েছিলেন। এরপর রবিবার গভীর রাতে তিনি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য পাকিস্তানে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি, তবে পাকিস্তান মধ্যস্থতা অব্যাহত রেখেছে। দেশটির দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, পরোক্ষ আলোচনা এখনও চলছে।
আরাঘচির এবারের অনাড়ম্বর সফরটি তার আগের সফরের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন ছিল। আগের সফরে তিনি পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং ওই অঞ্চলে সংঘাত নিরসনে তেহরানের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা ফোনে কথা বলতে পারেন: ট্রাম্প
ফক্স নিউজ চ্যানেলে রবিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, প্রতিনিধিদলকে ১৭ ঘণ্টার দীর্ঘ ফ্লাইটে পাঠানোর চেয়ে তিনি এই সিদ্ধান্তই (ফোনে কথা বলা) নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সব তুরুপের তাস আমাদের হাতে। তারা যদি কথা বলতে চায়, তবে তারা আমাদের কাছে আসতে পারে অথবা আমাদের কল করতে পারে।’
শনিবার তেহরানের শীর্ষ কূটনীতিক পাকিস্তান ত্যাগ করার পর আলোচনা ভেস্তে গেছে বলে মনে হচ্ছিল। এর পরপরই ট্রাম্প জানান যে, তিনি প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদ সফর না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ন্যাটো সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন যে, তিনি এই সামরিক জোটের ওপর খুবই হতাশ। ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর সদস্য দেশগুলো তার সহায়তার আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই জোট ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বহু বছর ধরে তাদের সেবা দিয়ে আসছি, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করছি; অথচ যখন আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন হলো তখন তাদের পাওয়া যায়নি। তাই আমাদের বিষয়টি মনে রাখতে হবে।’
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সোমবার ভোরে জানিয়েছে যে, ইরানের ওপর চলমান অবরোধের সময় তারা এ পর্যন্ত ৩৮টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের হামলা
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে কামান ও বিমান হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লড়াই তীব্র হওয়ায়, তারা তথাকথিত ‘ফরওয়ার্ড ডিফেন্স লাইন’-এর উত্তরে হিজবুল্লাহ এবং রকেট লঞ্চার ও অস্ত্রাগারসহ বিভিন্ন অস্ত্রাগারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫০৯
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রবিবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানিয়েছে যে, গত ২ মার্চ শুরু হওয়া সর্বশেষ ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধে ৭ হাজার ৭৫৫ জন আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হিজবুল্লাহর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানকে আক্রমণ করার দুই দিন পর হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালে যুদ্ধ শুরু হয়।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ১৭ এপ্রিল কার্যকর হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এই যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়েছে।
রবিবার ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ড ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যেকার যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।
হিজবুল্লাহ বলেছে, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তাদের এই হামলা ‘একটি বৈধ জবাব।’
বাহিনীটি লেবাননের কর্তৃপক্ষেরও সমালোচনা করে বলেছে, ‘তারা নিজেদের এক বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফেলেছে যখন তারা এমন একটি জবরদখলকারী ও অবৈধ সত্তার প্রতিনিধিদের পাশে লজ্জাজনকভাবে ছবি তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে সত্তা লেবাননের ভূমি ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে এবং তার জনগণকে হত্যা অব্যাহত রেখেছে।’
শান্তি প্রচেষ্টা নিয়ে ফোনে কথা বলেছেন ইরান ও কাতারের শীর্ষ কূটনীতিকরা
ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করার জন্য তার দেশের সর্বশেষ উদ্যোগ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পর্কে কাতারের শীর্ষ কূটনীতিককে অবহিত করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রবিবার কাতারের শীর্ষ কূটনীতিক শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
শান্তি প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য কূটনৈতিক সমন্বয়ের গুরুত্ব দুই মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে আরাঘচি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন।
কাতার ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টা নিয়ে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি কাতার ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
মন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক পৃথক আলোচনায় যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখা এবং এর মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত করার জন্য কূটনৈতিক পথের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন আবদেলাত্তি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা এগোচ্ছে, বলছেন বিশ্লেষকরা
পাকিস্তানের স্বাধীন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ মোহাম্মদ আলী বলেছেন, এই সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় ট্রাম্পের দূত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ইসলামাবাদ আলোচনার দ্বিতীয় দফার বিলম্বকে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ও শান্তি প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা উচিত নয়, তা সঠিক পথেই রয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা রাতারাতি প্রশমিত করা সম্ভব নয় এবং আলোচনা প্রক্রিয়ার জন্য উভয় পক্ষের প্রজ্ঞা ও ধৈর্য প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এটি একটি সংবেদনশীল ও জটিল প্রক্রিয়া এবং এতে উত্থান-পতন থাকবে, যা এ ধরনের বিষয়ে স্বাভাবিক। তবে ভালো দিকটি হলো, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং উভয় পক্ষই এমনভাবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে আগ্রহী, যাতে নিজ দেশে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এগিয়ে যাচ্ছে
রবিবার দুজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা অব্যাহত রেখেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সত্ত্বেও পরোক্ষ যুদ্ধবিরতি আলোচনা এখনও চলছে।
ওমানে একটি সংক্ষিপ্ত সফর শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পরপর দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো রবিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শনিবার আরাঘচি ইসলামাবাদে ছিলেন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আঞ্চলিক সংঘাতের অবসানের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবরোধ তুলে নিতে বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বরাতে দেশটির গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে রাখলে তার দেশ কোনো আলোচনায় বসবে না।
আইএসএনএ এবং তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান শনিবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ফোনে বলেছেন যে, নতুন দফা আলোচনার সুযোগ করে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রথমে অবরোধসহ কার্যনির্বাহী বাধাগুলো দূর করা।
পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী এই ফোনকলটিকে একটি আন্তরিক ও গঠনমূলক আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার পাকিস্তানি সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে তার একদিনের সফর শেষ করেছেন।
ট্রাম্প তার দূতদের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করার পর, আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টায় এই সফর কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি।
৯৩ দিন আগে
ইরান সরাসরি আলোচনা নাকচ করলেও ইসলামাবাদে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প
তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিরা শনিবার পাকিস্তানে যাবেন। তবে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
চুক্তি সম্পাদনের এই সর্বশেষ প্রচেষ্টা এমন এক সময়ে শুরু হচ্ছে যখন একটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি অধিকাংশ লড়াই থামিয়ে রেখেছে। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এর অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি বেড়েই চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে পাকিস্তানের তৎপরতা
চলতি সপ্তাহে কূটনৈতিক তৎপরতার জন্য ইসলামাবাদের অতিরিক্ত সময়ের অনুরোধ রক্ষা করে ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউস শুক্রবার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকের জন্য স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে পাঠাবেন। কিন্তু আরাঘচি ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পরপরই তার মন্ত্রণালয় জানায় যে, যেকোনো আলোচনা হবে ‘পরোক্ষ’, যেখানে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করবেন।
এর আগে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জেনেভায় আরাঘচি এবং ট্রাম্পের এই দুই প্রতিনিধির মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু কোনো চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরদিনই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে বলেছেন, উইটকফ ও কুশনারকে পাকিস্তানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট যাতে তারা ইরানিদের কথা শুনতে পারেন।
লেভিট বলেন, আমরা গত কয়েক দিনে ইরানের কাছ থেকে কিছু অগ্রগতি লক্ষ করেছি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা ঠিক কী শুনছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
‘জোনস অ্যাক্ট’ মওকুফের মেয়াদ ৯০ দিন বাড়ালেন ট্রাম্প
এদিকে, হোয়াইট হাউস শুক্রবার জানিয়েছে, ট্রাম্প ‘জোনস অ্যাক্ট’ মওকুফের মেয়াদ আরও ৯০ দিন বাড়িয়েছেন। এর ফলে অ-মার্কিন জাহাজগুলোর জন্য তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা সহজ হবে।
হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জ্বালানির দাম স্থিতিশীল করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তেল-গ্যাস সরবরাহ সহজ করতে তিনি গত মার্চ মাসে প্রথম ৬০ দিনের জন্য এই আইন মওকুফ করেছিলেন। উল্লেখ্য, যুদ্ধোত্তর সময়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
এই প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে তেহরান। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে তারা। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। সামরিক বাহিনীকে মাইন স্থাপন করতে পারে এমন ছোট নৌকাগুলো দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।
এই খবরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। ব্যারেল প্রতি ১০৩ থেকে ১০৭ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে, যা এখনও ২৮ ফেব্রুয়ারির (যুদ্ধ শুরুর দিন) তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের এই সংকট এখন বিশ্বের অর্ধেক পথ দূরের পানামা খালসহ বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে।
৯৬ দিন আগে
রাতে আরাঘচির নেতৃত্বে পাকিস্তানে যেতে পারে ইরানের প্রতিনিধিদল
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে আজ শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরুর ক্ষেত্রে এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসলামাবাদের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা এই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, আরাঘচি ও পাকিস্তানি নেতৃত্বের মধ্যে শুক্রবার একাধিকবার টেলিফোনে আলোচনার পরই এই সফরের সিদ্ধান্ত আসে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, এই সফরটি মূলত দ্বিপাক্ষিক— অর্থাৎ আরাঘচি পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকে অংশ নেবেন না। সফর শেষে তিনি মস্কো ও মাস্কাটও সফর করবেন বলে জানানো হয়েছে।
তবে একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বড় অগ্রগতির সম্ভাবনা এখনও বিদ্যমান। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেই এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সপ্তাহের শুরুতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে তেহরান তাদের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধের কারণে আলোচনায় ফিরতে অস্বীকৃতি জানায়। গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম দফা আলোচনা অমীমাংসিতভাবে শেষ হওয়ার দুই দিন পর ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নৌ অবরোধের ঘোষণা দেন।
এরপর থেকে পরবর্তী আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করলে তারা আলোচনায় ফিরবে না। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন অবরোধ প্রত্যাহারে অনড় অবস্থান বজায় রাখে। এমনকি ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও ওয়াশিংটন তার অবস্থান পরিবর্তন করেনি।
এই অচলাবস্থার মধ্যেই গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ জব্দ করে। এর জবাবে ইরান দুটি জাহাজ আটক করে এবং তৃতীয় একটি জাহাজে গুলি চালায়।
ফলে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিতীয় দফা আলোচনা আদৌ হবে কি না—তা নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
৯৬ দিন আগে