যানজট
রাজধানীর যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত
রাজধানীর যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু, ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর, গাবতলী বাস টার্মিনাল সম্প্রসারণ এবং কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট গাবতলীতে সরানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে ঢাকার চলমান যানজট পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভারে যানবাহনের চাপ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাস, পার্কিং ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাগুলোতে ইটিসি ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এর মাধ্যমে টোল আদায় ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি অ্যাপও তৈরি করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী চার মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের আশপাশের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আগে তৈরি করা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বুয়েটকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
স্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণ দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হওয়ায় এর আগে ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে আগামী চার মাসের মধ্যে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফুলবাড়িয়া থেকে টার্মিনালটি সরানো হলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় অংশে বাস ও আন্তঃজেলা যানবাহনের চাপ কমবে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।
গাবতলী বাস টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়াতে এর পেছনের অংশ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তও হয়েছে। কাজটি দ্রুত বাস্তবায়নে সড়ক বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর যানজট কমাতে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটও গাবতলীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সচিবালয়ের আশপাশের যানজট নিরসনে পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প পার্কিংয়ের স্থানও খুঁজে দেখতে বলা হয়েছে।
ঢাকা শহরে অটোরিকশা চলাচল আরও সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত করতে পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের চলাচলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর যানজট নিরসনে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানজট
নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ারচর সেতুতে সংস্কারকাজের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা অভিমুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে আজ শনিবার সকালে কুমিল্লার মাধাইয়া থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা।
সড়ক বিভাগ জানায়, আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজের ঢাকা অভিমুখী লেনে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। এ সময় একটি লেন বন্ধ রেখে অপর লেন দিয়ে উভয় দিকের যানবাহন চলাচল করানো হচ্ছে। এতে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে গতরাত থেকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরে এর প্রভাব দাউদকান্দি ও মেঘনা হয়ে কুমিল্লার মাধাইয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে মাধাইয়া থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে একই স্থানে আটকে থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার বাসের যাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাকচালকসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা।
বাসযাত্রী সুরাইয়া বেগম বলেন, ‘তিন ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় আটকে আছি। কখন যানজট শেষ হবে, কেউ সঠিকভাবে বলতে পারছে না। এতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।’
ট্রাকচালক আতিক বলেন, টানা ১৫ দিন কুমিল্লার আলেখারচর অংশে অসহ্য যানজটে ভুগেছেন তারা। এখন আবার এই এলাকায় এসে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মহাসড়কে চলাচল এখন চরম ভোগান্তির হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস রায় বলেন, ‘আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজের সংস্কারকাজের কারণেই মূলত এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’
৭ দিন আগে
খানাখন্দে বিপর্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, বাড়ছে যানজট-দুর্ঘটনার ঝুঁকি
একটি গর্ত এড়িয়ে সামনে এগোতেই আরেকটি গর্ত। কোথাও উঠে গেছে পিচের আস্তরণ, কোথাও ক্ষয়ে গেছে সড়কের বুক। আবার কোথাও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকায় বোঝার উপায় নেই কোথায় সড়ক, কোথায় গভীর গর্ত। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই গতি কমিয়ে চলাচল করছে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ হাজারো যানবাহন। গর্তে পড়ে দুলছে ভারী যান, আতঙ্কে থাকছেন যাত্রী ও চালকরা। সামান্য অসতর্কতায় ঘটছে দুর্ঘটনা, আর গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।
দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও অর্থনীতির প্রাণরেখা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে আমতলী পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় সরেজমিন এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে শুধু এই অংশেই নয়, চট্টগ্রামের সিটি গেট থেকে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড পর্যন্ত প্রায় ২৩০ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। চালক ও নিয়মিত যাত্রীরা জানান, কুমিল্লা অংশের প্রায় ১০৫ কিলোমিটারজুড়েই দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
সরেজমিন দেখা যায়, পদুয়ার বাজার থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলা গেট পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত রয়েছে। সদর দক্ষিণ উপজেলা গেট থেকে সুয়াগাজী বাজার পর্যন্ত দুই পাশের লেনেই অসংখ্য গর্ত চোখে পড়ে। কোথাও পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় খানাখন্দ, কোথাও আবার আগের মেরামতের অংশ ভেঙে নতুন গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সুয়াগাজী বাজার থেকে লালবাগ পর্যন্তও একই অবস্থা। ভারী যানবাহন গর্তের ওপর দিয়ে চলার সময় হেলেদুলে যাচ্ছে। এতে পেছনে থাকা ছোট যানবাহনগুলোকে গতি কমিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হচ্ছে। চৌদ্দগ্রামের মিয়ার বাজার, হাড়িসর্দার, মিরশ্বানী, কালীরবাজার ও নানকরা এলাকাতেও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও খানাখন্দ রয়েছে। কয়েকটি স্থানে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মীরা পিচ ও বিটুমিন দিয়ে গর্ত ভরাট করলেও টানা বৃষ্টিতে অনেক জায়গার মেরামত আবার নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও জোড়াতালি দেওয়া অংশ উঁচু-নিচু হয়ে নতুন করে ভোগান্তির কারণ হয়েছে।
এ ছাড়া আমজাদের বাজার, বসন্তপুর, কেওছিমুড়া থেকে ফেনী সীমান্ত পর্যন্ত এবং কুমিল্লা আদর্শ সদর ও বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারসহ আরও কয়েকটি স্থানে বৃষ্টির কারণে গর্ত তৈরি হয়েছে।
আমতলী এলাকায় যানজটে আটকে থাকা কাভার্ডভ্যানচালক জামাল উদ্দিন বলেন, দিনের বেলায় গর্ত দেখা যায় বলে কোনোভাবে এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়। কিন্তু রাতে কিংবা বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পানিতে ডুবে থাকায় গর্তের গভীরতা বোঝা যায় না। ভারী যানবাহন নিয়ে সামান্য ভুল হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ঢাকা থেকে নিয়মিত কুমিল্লা হয়ে চট্টগ্রামে যাতায়াতকারী বিল্লাল হোসেন বলেন, মহাসড়কের গর্তের কারণে বাসে চলাচলের সময় প্রায়ই তীব্র ঝাঁকুনি লাগে। স্বাভাবিক গতিতে চলার সময় হঠাৎ গর্তে পড়লে পুরো বাস কেঁপে ওঠে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের নিয়ে চলাচল করতে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। বৃষ্টির সময় পানির নিচে গর্ত থাকায় ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
বাসচালক আবুল খায়ের বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর একটি। কিন্তু বিভিন্ন স্থানের গর্তের কারণে বারবার গতি কমাতে হচ্ছে। এতে যাতায়াতে সময় বাড়ছে, জ্বালানি খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
আমীর হোসেন নামে আমতলী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, গর্ত মেরামত করা হয়, কিন্তু কিছুদিন পর আবার একই জায়গায় সমস্যা দেখা দেয়। বৃষ্টির সময় পানি জমে থাকায় রাস্তার নিচের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মিতভাবে সড়কটি পর্যবেক্ষণ করে স্থায়ীভাবে মেরামত করা দরকার।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে। ভারী যানবাহনের চাপ থাকায় বর্ষাকালে এসব গর্ত দ্রুত বড় হচ্ছে। নিয়মিত পরিদর্শনের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে গর্ত ভরাটের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির মধ্যে পিচ বা বিটুমিন দিয়ে স্থায়ী সংস্কার সম্ভব নয়, কারণ তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
আবহাওয়া অনুকূলে এলে পর্যায়ক্রমে কুমিল্লা অংশের প্রায় ১০৫ কিলোমিটার মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হবে।
৩২ দিন আগে
রাজধানীর যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি জানতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
রাজধানীর যানজট নিরসনে ইনার সার্কুলার রিং রোড (বৃত্তাকার সড়ক) নির্মাণ এবং ঢাকাকে ঘিরে থাকা নদীপথ কার্যকরভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সড়ক ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানীর যানজট নিরসন কীভাবে হবে, তা বৈঠকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে রাজধানীর ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা অবহিত করা হয়েছে।’
বৈঠকে জানানো হয়, রাজধানীর ইনার সার্কুলার রিং রোড প্রকল্পটি গাবতলী থেকে বাবুবাজার এবং পোস্তগোলা থেকে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত। ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পের রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশের নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পটির ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
বৃত্তাকার এ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হলে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-মাওয়া ও ঢাকা-চট্টগ্রামগামী যানবাহনকে রাজধানীর অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবহার করতে হবে না। ফলে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে এবং যানজটও হ্রাস পাবে।
এ ছাড়া বৈঠকে ঢাকাকে ঘিরে থাকা প্রায় ১১০ কিলোমিটার নদীপথকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, এ নৌপথ চালু করা গেলে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বৃত্তাকার নদীপথে সহজেই যাতায়াত করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে এ পরিকল্পনার কারিগরি দিক উপস্থাপন করেন। তারা বলেন, নদীপথ ব্যবহারের ফলে পরিবেশদূষণ কমবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং যাতায়াতের সময়ও কম লাগবে। কারণ এ নৌপথে চলাচলকারী যানবাহন হবে বিদ্যুৎচালিত।
বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, সড়ক পরিবহন সচিব জিয়াউল হক, নৌপরিবহন সচিব মো. জাকারিয়া, রেলপথ সচিব ফাহমিদুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. বোরহান উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীল এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খান মাহমুদ আমানত ও অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
৬৬ দিন আগে
রাজধানীর যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
রাজধানীর যানজট নিরসন এবং নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জনপ্রশাসন কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিনি যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে খোঁজখবর নেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক করেছেন। সভায় কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, এআই ক্যামেরা কতগুলো বসানো হয়েছে, বাকিগুলো কবে নাগাদ বসানো হয়েছে সেই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছেন।
সভায় ঢাকার সড়ক থেকে পুরোনো ও চলাচলের অনুপযোগী যানবাহন অপসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের কয়েকটি নির্দেশনা দেন বলে জানান রুমন।
তিনি আরও জানান, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাজধানীর যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এটি প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় বৈঠক।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিনের প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তরের প্রশাসন শফিকুল ইসলাম খান, মন্ত্রি পরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮২ দিন আগে
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যানজটমুক্ত, স্বস্তিতে চালক ও যাত্রীরা
ঈদের বাকি আর মাত্র একদিন। আজও নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন দূরপাল্লার মানুষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রী, বাস ও ব্যাক্তিগত যানবাহনে চাপ রয়েছে। তবে তা গেল কয়েকদিনের থেকেও কিছুটা কম। মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা থেকে চৌদ্দগ্রামের পদুয়া পর্যন্ত ১০৫ কিলোমিটার অংশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মহাসড়কের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের সদস্য এবং রোভার স্কাউটস সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।
বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি যানবাহন চলাচল করছে। আজও (বুধবার) রাজধানী থেকে পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেকে।
আজ বেলা ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখার আগে সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা থেকে চৌদ্দগ্রামের পদুয়া পর্যন্ত ১০৫ কিলোমিটার অংশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে মহাসড়কের গৌরীপুর, মাধাইয়া, চান্দিনা, ক্যান্টনমেন্ট, আলেখারচর, পদুয়ারবাজার, মিয়ানমার, চৌদ্দগ্রাম, পদুয়াসহ বিভিন্ন বাজার ও স্টেশনগুলোতেও যানবাহনগুলো চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট পলাশ আহমেদ জানান, আজ সকাল থেকে মহাসড়কের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
১০১ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে উত্তরবঙ্গমুখী মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও যানজট নেই
ঈদুল আজহা উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। এতে মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোর থেকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে যানজট না থাকায় স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা।
মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশের প্রায় ৭০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। দিন-রাত পুলিশের তৎপরতায় চালক ও যাত্রীদের মধ্যেও সন্তোষ দেখা গেছে।
আজ সকাল থেকে যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় থেকে উত্তরবঙ্গমুখী মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে ঘরমুখো মানুষ বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন। মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে তেমন কোনো যানজট দেখা যায়নি।
চালক ও যাত্রীরা জানান, যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, বিভিন্ন উড়াল সেতু এবং হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণের ফলে এবার ঈদযাত্রায় স্বস্তি ফিরেছে। যানজট না থাকায় নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে বাড়ি ফেরা যাচ্ছে।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম এবং হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে জেলা ও হাইওয়ে পুলিশ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
তারা জানান, যমুনা সেতু গোলচত্বরসহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের বিভিন্ন রুটে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, মহাসড়কে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছে। হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় একটি নির্দেশনা মঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে মাইকযোগে চালকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (সাইট অফিসার) সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন।
১০২ দিন আগে
গাজীপুরের দুইটি মহাসড়কে নেই দীর্ঘ যানজট, তবে রয়েছে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ
ঈদযাত্রায় আজ বুধবার ভোর থেকেই গাজীপুরের ঢাকা- টাঙ্গাইল ও ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়ক হয়ে উত্তরবঙ্গ ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের যানবাহনের চাপ রয়েছে। যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
দুইটি মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে বিপুল সংখ্যক ঘরমুখো মানুষ থাকায় সেখানে কিছুটা ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করলেও এবার দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তি ছাড়াই সবাই যাচ্ছেন তাদের গন্তব্যে। তবে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের।
ভোর থেকে উত্তরবঙ্গ ও উত্তরাঞ্চলগামী ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে ওই দুইটি মহাসড়কে। চন্দ্রা ত্রিমোর ঘিরে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে সকালে। তবে নবীনগর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সড়কে অন্যান্য বছরের মতো যানজট দেখা যায়নি। চন্দ্রা ত্রিমোর এলাকায় গণপরিবহনে যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করেই মূলত এ দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গাজীপুর মহানগর পুলিশ ও জেলা পুলিশ মহাসড়কের অতিরিক্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়ন করেছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় মহানগর পুলিশের প্রায় ১ হাজার এবং জেলা পুলিশের ৮৫৯ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া হাইওয়ে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরাও কাজ করছেন।
গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করে হাইওয়ে ও শিল্প পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। শ্রমিকেরা যেন ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি ফিরতে পারেন, সে জন্যই ধাপে ধাপে কল-কারখানা বিশেষ করে পোশাক কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা ও অবৈধ পার্কিং বন্ধে এবং নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
১৭১ দিন আগে
ঈদযাত্রায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক পাড়ি দেওয়া নিয়ে যাত্রীদের শঙ্কা
সিলেটে শুরু হয়েছে উৎসবমুখর ঈদযাত্রা। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে টানা ছুটির আমেজে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে নগরজুড়ে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা পাচ্ছেন ৭ দিনের দীর্ঘ ছুটি। আর সোমবার ছিল তাদের শেষ কর্মদিবস। বিকেল গড়াতেই নগরীর সড়ক ও বাস টার্মিনালগুলোতে দেখা যায় যাত্রীদের ব্যাপক ভিড়। শুরু হয় প্রিয়জনের কাছে ফেরার আনন্দঘন যাত্রা।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শনিবার (২১ মার্চ) দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। এ সম্ভাব্য তারিখ ধরে আগে থেকেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ঈদের দিন সাধারণ ছুটি এবং আগে ও পরে নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত করা হয়েছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১৮ মার্চও নতুন করে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি মিলিয়ে সিলেটের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা ৭ দিনের অবকাশ পাচ্ছেন। এর আগে, ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণার দাবির পর তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে জরুরিসেবা সচল রাখতে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, টেলিযোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতের কর্মীরা ছুটির বাইরে থাকছেন। পাশাপাশি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সেবাও চালু থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, এ আনন্দের মধ্যেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভোগান্তির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জ অংশে চলমান উন্নয়নকাজ এবং কিছু স্থানে সরু সড়কের কারণে তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার পথ ঈদযাত্রায় ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তাছাড়া মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের কাটিহাতা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ছয় লেন প্রকল্পের ধীরগতি, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনা ও হাটবাজারের কারণে যানজট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। একইসঙ্গে মহাসড়কের অন্তত দুইটি লেন সচল রাখার চেষ্টা চলছে। ধীরগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যাত্রী ও যানবাহন চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদযাত্রায় প্রতিবারই ভোগান্তির কারণ হয় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অংশ। আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত নির্মাণাধীন ১২ কিলোমিটার সড়কটি ভোগান্তির মূল কারণ। ছয় লেন মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও বিশ্বরোড মোড়ে প্রায় প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। একইভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরেক অংশ চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের সদর উপজেলার সুলতানপুর ও আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তন্তর বাজার এলাকাজুড়ে যানজট লেগে থাকছে। ঈদে যানবাহন বাড়লে এই ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
পুলিশ জানায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩টি যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে কোনো ধরনের যানজট সহ্য করা হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্মাণাধীন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের ওপর দিয়ে চলাচল করে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েক লাখ যাত্রী ও পরিবহন। রাজধানী পার হওয়ার পর বেশিরভাগ সড়কে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করা গেলেও আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও বিশ্বরোড গোলচত্বর অংশ অতিক্রম করতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। দুইটি গোলচত্বরে মহাসড়কের কাজ চলমান থাকায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়।
গত কয়েক বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও চালকরা। এর মধ্যে ঈদের ছুটিতে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। ফলে মহাসড়কের এই অংশজুড়ে তীব্র যানজটের পাশাপাশি ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা। একইসঙ্গে বিশ্বরোড, কুট্টাপাড়া, আশুগঞ্জ গোলচত্বর, সোহাগপুর এবং সোনারামপুরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ডগুলো যানজটের অন্যতম কারণ।
একইভাবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের দুইটি স্থানে তীব্র যানজট দেখা যায়। এর মধ্যে সদর উপজেলার সুলতানপুর ও আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তন্তর বাজারের অংশে ভাঙাচোরা সড়কের কারণে যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হয়। সড়কটির কাউতলী, রামরাইল, রাধিকা, সুলতানপুর, তন্তর, তিনলাখ পীর, সৈয়দাবাদ, মনকসাইর, খাড়েরা এবং কুটি চৌমুহনীতে মহাসড়কের দুই পাশে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডের কারণে তীব্র যানজটের শঙ্কা আছে। পাশাপাশি যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, তিন চাকার যান চলাচলও ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
এদিকে, সড়কপরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জে গোনা সেতুর উদ্বোধনকালে বলেন, ঈদ উদযাপনে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে দেড় কোটি লোক ঢাকা ছাড়বে। এই যাত্রা স্বাভাবিক করাটা চ্যালেঞ্জিং। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা যেভাবে কাজ করছি, তাতে আশা করি কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সবাই বাড়ি যেতে পারবে।
১৭১ দিন আগে
সিলেটে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা, ভিড়ের সঙ্গে বাড়ছে যানজট
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সিলেট নগরীতে জমে উঠেছে কেনাকাটার উৎসব। নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাসী।
নগরীর আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, লামাবাজার, বন্দরবাজার, জেলরোড, নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে রঙিন আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে দোকানপাট ও শপিং মল। বেশিরভাগ ক্রেতাই পরিবারের ছোট সদস্যদের জন্য পোশাক কেনার মধ্য দিয়ে কেনাকাটা শুরু করছেন। এরপর বড়দের জন্য পোশাক, জুতা ও প্রসাধনী কেনা হচ্ছে।
তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পোশাক ট্রায়াল দিয়ে দেখার প্রবণতা বেশি লক্ষ করা গেছে। পছন্দ না হলে আবার নতুন করে খোঁজ শুরু করছেন তারা।
জিন্দাবাজার, কুমারপাড়া ও নয়াসড়কের আধুনিক শপিং মলগুলোতে উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের ভিড় বেশি দেখা গেলেও বন্দরবাজার এলাকায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি। বিশেষ করে হাসান মার্কেট ও হকার্স মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
জিন্দাবাজারে পরিবারের সঙ্গে কেনাকাটা করতে আসা আবির নামের এক কিশোর জানায়, ঈদের জন্য নতুন পোশাক কেনা শেষ করে এখন জুতা ও প্রসাধনী কেনার পরিকল্পনা করছে সে। তবে দোকানে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কেনাকাটায় সময় বেশি লাগছে বলে জানায় সে।
হাসান মার্কেটের বিক্রয়কর্মী হাবিব জানান, সাধারণত ১৫ রমজানের পর থেকেই সিলেটে ঈদের বাজার জমে ওঠে। এ বছর মেয়েদের থ্রি-পিস, ছেলেদের পাঞ্জাবি এবং শিশুদের পোশাকের চাহিদা বেশি। শেষ সময়ে এসে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে দাঁড়ানোর মতো জায়গাও থাকছে না।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এ বছর পোশাক, জুতা ও প্রসাধনীর দাম বেড়েছে।
নগরীর বারখলা এলাকার বাসিন্দা সৌরভ বলেন, আগের বাজেটে এবার কেনাকাটা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও ঈদের কারণে বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন বালাগঞ্জ থেকে আসা কামরুল হোসেন। তিনি জানান, কয়েকটি দোকান ঘুরেও এখনও পছন্দসই দামে কাপড় পাননি, তাই দরদাম করছেন।
ব্যবসায়ীরাও স্বীকার করেছেন যে এ বছর পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তাদের মতে, জুতার দাম গড়ে ২০–৩০ শতাংশ এবং প্রসাধনীর দাম ১৫–২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত ক্রেতার চাপের কারণে নগরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
এছাড়া ব্যবসায়ীরা জানান, সিলেট অঞ্চলের অনেক মানুষ প্রবাসে থাকায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কিছুটা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে এবারের ঈদ বাজারেও।
সব মিলিয়ে, উৎসবের আমেজে সিলেট নগরী মুখর হলেও বাড়তি দাম ও যানজট সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১৭২ দিন আগে