যানজট
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যানজটমুক্ত, স্বস্তিতে চালক ও যাত্রীরা
ঈদের বাকি আর মাত্র একদিন। আজও নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন দূরপাল্লার মানুষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রী, বাস ও ব্যাক্তিগত যানবাহনে চাপ রয়েছে। তবে তা গেল কয়েকদিনের থেকেও কিছুটা কম। মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা থেকে চৌদ্দগ্রামের পদুয়া পর্যন্ত ১০৫ কিলোমিটার অংশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মহাসড়কের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের সদস্য এবং রোভার স্কাউটস সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।
বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি যানবাহন চলাচল করছে। আজও (বুধবার) রাজধানী থেকে পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেকে।
আজ বেলা ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখার আগে সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা থেকে চৌদ্দগ্রামের পদুয়া পর্যন্ত ১০৫ কিলোমিটার অংশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে মহাসড়কের গৌরীপুর, মাধাইয়া, চান্দিনা, ক্যান্টনমেন্ট, আলেখারচর, পদুয়ারবাজার, মিয়ানমার, চৌদ্দগ্রাম, পদুয়াসহ বিভিন্ন বাজার ও স্টেশনগুলোতেও যানবাহনগুলো চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট পলাশ আহমেদ জানান, আজ সকাল থেকে মহাসড়কের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
৪০ মিনিট আগে
সিরাজগঞ্জে উত্তরবঙ্গমুখী মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও যানজট নেই
ঈদুল আজহা উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। এতে মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোর থেকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে যানজট না থাকায় স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা।
মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশের প্রায় ৭০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। দিন-রাত পুলিশের তৎপরতায় চালক ও যাত্রীদের মধ্যেও সন্তোষ দেখা গেছে।
আজ সকাল থেকে যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় থেকে উত্তরবঙ্গমুখী মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে ঘরমুখো মানুষ বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন। মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে তেমন কোনো যানজট দেখা যায়নি।
চালক ও যাত্রীরা জানান, যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, বিভিন্ন উড়াল সেতু এবং হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণের ফলে এবার ঈদযাত্রায় স্বস্তি ফিরেছে। যানজট না থাকায় নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে বাড়ি ফেরা যাচ্ছে।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম এবং হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে জেলা ও হাইওয়ে পুলিশ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
তারা জানান, যমুনা সেতু গোলচত্বরসহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের বিভিন্ন রুটে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, মহাসড়কে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছে। হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় একটি নির্দেশনা মঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে মাইকযোগে চালকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (সাইট অফিসার) সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন।
১ দিন আগে
গাজীপুরের দুইটি মহাসড়কে নেই দীর্ঘ যানজট, তবে রয়েছে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ
ঈদযাত্রায় আজ বুধবার ভোর থেকেই গাজীপুরের ঢাকা- টাঙ্গাইল ও ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়ক হয়ে উত্তরবঙ্গ ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের যানবাহনের চাপ রয়েছে। যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
দুইটি মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে বিপুল সংখ্যক ঘরমুখো মানুষ থাকায় সেখানে কিছুটা ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করলেও এবার দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তি ছাড়াই সবাই যাচ্ছেন তাদের গন্তব্যে। তবে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের।
ভোর থেকে উত্তরবঙ্গ ও উত্তরাঞ্চলগামী ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে ওই দুইটি মহাসড়কে। চন্দ্রা ত্রিমোর ঘিরে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে সকালে। তবে নবীনগর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সড়কে অন্যান্য বছরের মতো যানজট দেখা যায়নি। চন্দ্রা ত্রিমোর এলাকায় গণপরিবহনে যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করেই মূলত এ দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গাজীপুর মহানগর পুলিশ ও জেলা পুলিশ মহাসড়কের অতিরিক্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়ন করেছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় মহানগর পুলিশের প্রায় ১ হাজার এবং জেলা পুলিশের ৮৫৯ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া হাইওয়ে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরাও কাজ করছেন।
গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করে হাইওয়ে ও শিল্প পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। শ্রমিকেরা যেন ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি ফিরতে পারেন, সে জন্যই ধাপে ধাপে কল-কারখানা বিশেষ করে পোশাক কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা ও অবৈধ পার্কিং বন্ধে এবং নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৭০ দিন আগে
ঈদযাত্রায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক পাড়ি দেওয়া নিয়ে যাত্রীদের শঙ্কা
সিলেটে শুরু হয়েছে উৎসবমুখর ঈদযাত্রা। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে টানা ছুটির আমেজে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে নগরজুড়ে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা পাচ্ছেন ৭ দিনের দীর্ঘ ছুটি। আর সোমবার ছিল তাদের শেষ কর্মদিবস। বিকেল গড়াতেই নগরীর সড়ক ও বাস টার্মিনালগুলোতে দেখা যায় যাত্রীদের ব্যাপক ভিড়। শুরু হয় প্রিয়জনের কাছে ফেরার আনন্দঘন যাত্রা।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শনিবার (২১ মার্চ) দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। এ সম্ভাব্য তারিখ ধরে আগে থেকেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ঈদের দিন সাধারণ ছুটি এবং আগে ও পরে নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত করা হয়েছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১৮ মার্চও নতুন করে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি মিলিয়ে সিলেটের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা ৭ দিনের অবকাশ পাচ্ছেন। এর আগে, ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণার দাবির পর তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে জরুরিসেবা সচল রাখতে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, টেলিযোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতের কর্মীরা ছুটির বাইরে থাকছেন। পাশাপাশি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সেবাও চালু থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, এ আনন্দের মধ্যেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভোগান্তির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জ অংশে চলমান উন্নয়নকাজ এবং কিছু স্থানে সরু সড়কের কারণে তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার পথ ঈদযাত্রায় ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তাছাড়া মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের কাটিহাতা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ছয় লেন প্রকল্পের ধীরগতি, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনা ও হাটবাজারের কারণে যানজট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। একইসঙ্গে মহাসড়কের অন্তত দুইটি লেন সচল রাখার চেষ্টা চলছে। ধীরগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যাত্রী ও যানবাহন চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদযাত্রায় প্রতিবারই ভোগান্তির কারণ হয় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অংশ। আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত নির্মাণাধীন ১২ কিলোমিটার সড়কটি ভোগান্তির মূল কারণ। ছয় লেন মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও বিশ্বরোড মোড়ে প্রায় প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। একইভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরেক অংশ চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের সদর উপজেলার সুলতানপুর ও আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তন্তর বাজার এলাকাজুড়ে যানজট লেগে থাকছে। ঈদে যানবাহন বাড়লে এই ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
পুলিশ জানায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩টি যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে কোনো ধরনের যানজট সহ্য করা হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্মাণাধীন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের ওপর দিয়ে চলাচল করে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েক লাখ যাত্রী ও পরিবহন। রাজধানী পার হওয়ার পর বেশিরভাগ সড়কে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করা গেলেও আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও বিশ্বরোড গোলচত্বর অংশ অতিক্রম করতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। দুইটি গোলচত্বরে মহাসড়কের কাজ চলমান থাকায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়।
গত কয়েক বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও চালকরা। এর মধ্যে ঈদের ছুটিতে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। ফলে মহাসড়কের এই অংশজুড়ে তীব্র যানজটের পাশাপাশি ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা। একইসঙ্গে বিশ্বরোড, কুট্টাপাড়া, আশুগঞ্জ গোলচত্বর, সোহাগপুর এবং সোনারামপুরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ডগুলো যানজটের অন্যতম কারণ।
একইভাবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের দুইটি স্থানে তীব্র যানজট দেখা যায়। এর মধ্যে সদর উপজেলার সুলতানপুর ও আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তন্তর বাজারের অংশে ভাঙাচোরা সড়কের কারণে যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হয়। সড়কটির কাউতলী, রামরাইল, রাধিকা, সুলতানপুর, তন্তর, তিনলাখ পীর, সৈয়দাবাদ, মনকসাইর, খাড়েরা এবং কুটি চৌমুহনীতে মহাসড়কের দুই পাশে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডের কারণে তীব্র যানজটের শঙ্কা আছে। পাশাপাশি যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, তিন চাকার যান চলাচলও ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
এদিকে, সড়কপরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জে গোনা সেতুর উদ্বোধনকালে বলেন, ঈদ উদযাপনে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে দেড় কোটি লোক ঢাকা ছাড়বে। এই যাত্রা স্বাভাবিক করাটা চ্যালেঞ্জিং। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা যেভাবে কাজ করছি, তাতে আশা করি কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সবাই বাড়ি যেতে পারবে।
৭০ দিন আগে
সিলেটে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা, ভিড়ের সঙ্গে বাড়ছে যানজট
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সিলেট নগরীতে জমে উঠেছে কেনাকাটার উৎসব। নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাসী।
নগরীর আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, লামাবাজার, বন্দরবাজার, জেলরোড, নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে রঙিন আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে দোকানপাট ও শপিং মল। বেশিরভাগ ক্রেতাই পরিবারের ছোট সদস্যদের জন্য পোশাক কেনার মধ্য দিয়ে কেনাকাটা শুরু করছেন। এরপর বড়দের জন্য পোশাক, জুতা ও প্রসাধনী কেনা হচ্ছে।
তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পোশাক ট্রায়াল দিয়ে দেখার প্রবণতা বেশি লক্ষ করা গেছে। পছন্দ না হলে আবার নতুন করে খোঁজ শুরু করছেন তারা।
জিন্দাবাজার, কুমারপাড়া ও নয়াসড়কের আধুনিক শপিং মলগুলোতে উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের ভিড় বেশি দেখা গেলেও বন্দরবাজার এলাকায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি। বিশেষ করে হাসান মার্কেট ও হকার্স মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
জিন্দাবাজারে পরিবারের সঙ্গে কেনাকাটা করতে আসা আবির নামের এক কিশোর জানায়, ঈদের জন্য নতুন পোশাক কেনা শেষ করে এখন জুতা ও প্রসাধনী কেনার পরিকল্পনা করছে সে। তবে দোকানে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কেনাকাটায় সময় বেশি লাগছে বলে জানায় সে।
হাসান মার্কেটের বিক্রয়কর্মী হাবিব জানান, সাধারণত ১৫ রমজানের পর থেকেই সিলেটে ঈদের বাজার জমে ওঠে। এ বছর মেয়েদের থ্রি-পিস, ছেলেদের পাঞ্জাবি এবং শিশুদের পোশাকের চাহিদা বেশি। শেষ সময়ে এসে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে দাঁড়ানোর মতো জায়গাও থাকছে না।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এ বছর পোশাক, জুতা ও প্রসাধনীর দাম বেড়েছে।
নগরীর বারখলা এলাকার বাসিন্দা সৌরভ বলেন, আগের বাজেটে এবার কেনাকাটা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও ঈদের কারণে বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন বালাগঞ্জ থেকে আসা কামরুল হোসেন। তিনি জানান, কয়েকটি দোকান ঘুরেও এখনও পছন্দসই দামে কাপড় পাননি, তাই দরদাম করছেন।
ব্যবসায়ীরাও স্বীকার করেছেন যে এ বছর পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তাদের মতে, জুতার দাম গড়ে ২০–৩০ শতাংশ এবং প্রসাধনীর দাম ১৫–২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত ক্রেতার চাপের কারণে নগরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
এছাড়া ব্যবসায়ীরা জানান, সিলেট অঞ্চলের অনেক মানুষ প্রবাসে থাকায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কিছুটা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে এবারের ঈদ বাজারেও।
সব মিলিয়ে, উৎসবের আমেজে সিলেট নগরী মুখর হলেও বাড়তি দাম ও যানজট সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৭১ দিন আগে
ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে নেই যানজট
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। এতে সড়কে ভয়াবহ যানজটের আশঙ্কা করা হলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ফেনী জেলার মোহাম্মদ আলী পর্যন্ত ১০৫ কিলোমিটার অংশে নেই কোনো যানজট। ফলে ঘরমুখো মানুষজন স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে মহাসড়কে দেখা যায় এই চিত্র।
এবারও ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীর চাপে মহাসড়কে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। গতকাল (বুধবার) সকাল থেকেই যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: মঙ্গলবার যানজট হতে পারে যেসব এলাকায়
তবে যানবাহনের চাপ বাড়লেও মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে কোথাও কোনো যানজট নেই। এ সময়ে যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও। এছাড়া রয়েছে পণ্যবাহী ও পশুবাহী ট্রাক।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি এবার কাজ করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। এছাড়াও, জেলা প্রশাসন ও রোভার স্কাউটস সদস্যরাও কাজ করে যাচ্ছেন।
এর ফলে মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি, ইলিয়টগঞ্জ, মাধাইয়া, চান্দিনা, নিমসার, ক্যান্টনমেন্ট, পদুয়ার বাজার, মিয়াবাজার, চৌদ্দগ্রামসহ অন্যান্য স্থানগুলোতে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করছে।
৩৫৬ দিন আগে
মঙ্গলবার যানজট হতে পারে যেসব এলাকায়
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৬ মে) ঢাকায় এলে তাকে পথে পথে অভ্যর্থনা জানাবেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত অবস্থান নিয়ে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাবেন। এতে বিপুল জনসমাগক হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এসব এলাকায় যানজট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে খালেদা জিয়াকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। রবিবার (৫ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানানোর ক্ষেত্রে বিএনপি ও এর বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে কারা কোথায় অবস্থান নেবেন, তারা কী করতে পারবেন, কী করতে পারবেন না, সে বিষয়ে কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন রিজভী।
বিএনপির এই নেতার নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি অবস্থান করবে বিমানবন্দর থেকে লো মেরিডিয়েন হোটেল পর্যন্ত। ছাত্রদল অবস্থান করবে লো মেরিডিয়েন হোটেল থেকে খিলক্ষেত পর্যন্ত। যুবদল অবস্থান করবে খিলক্ষেত থেকে হোটেল র্যাডিসন পর্যন্ত। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি অবস্থান করবে হোটেল র্যাডিসন থেকে আর্মি স্টেডিয়াম পর্যন্ত।
আরও পড়ুন: তেজগাঁওয়ে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট
স্বেচ্ছাসেবক দল অবস্থান করবে আর্মি স্টেডিয়াম থেকে বনানী কবরস্থান পর্যন্ত। কৃষক দল অবস্থান করবে বনানী কবরস্থান থেকে কাকলী মোড় পর্যন্ত। শ্রমিক দল অবস্থান করবে কাকলী মোড় থেকে বনানীর শেরাটন হোটেল পর্যন্ত। ওলামা দল, তাঁতীদল, জাসাস, মৎস্যজীবী দল অবস্থান করবে শেরাটন হোটেল থেকে বনানী কাঁচাবাজার পর্যন্ত।
মুক্তিযোদ্ধা দলসহ সব পেশাজীবী সংগঠন অবস্থান করবে বনানী কাঁচাবাজার থেকে গুলশান-২ পর্যন্ত। মহিলা দল অবস্থান করবে গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বর থেকে গুলশান অ্যাভিনিউ রোড পর্যন্ত। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বর থেকে গুলশান অ্যাভিনিউ রোড পর্যন্ত অবস্থান করবেন। আর বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতা-কর্মীরা যার যার সুবিধামতো স্থানে অবস্থান নেবেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সব নেতা-কর্মী দলীয় পতাকা ও জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তার এক পাশে দাঁড়াবেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের গাড়ির সঙ্গে সঙ্গে মোটরসাইকেলে যাওয়া যাবে না। হেঁটে হেঁটেও যাওয়া যাবে না। এ ছাড়া বিমানবন্দর ও বিএনপির চেয়ারপারসনের বাসভবনে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না।
এসব অঞ্চলে যানজট হলে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা; জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক গুলশান) মিজানুর রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন থেকে আগমন উপলক্ষে এয়ারপোর্ট থেকে গুলশান পর্যন্ত ব্যাপক গেদারিং হতে পারে। যদি হয়, তাহলে বিকল্প কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এ-সংক্রান্ত বৈঠক করা হয়েছে। যাতে যান চলাচল ব্যাহত না হয়, এজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে যদি ব্যাহত হয়, তখন বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: বনানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় পোশাক শ্রমিক নিহত, অবরোধে তীব্র যানজট
বিকল্প ব্যবস্থা কি হতে পারে জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
৩৮৭ দিন আগে
তেজগাঁওয়ে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছেন পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে তারা ছয় দফা দাবি আদায়ে বিক্ষোভ অবরোধ করছেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তীব্র যানজটসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেন তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার রফিকুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনের সমর্থনে বরিশালে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ
তিনি বলেন, 'রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। চারদিকের সড়ক বন্ধ। আমাদের ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। শিক্ষার্থীরা উঠে গেলেই যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।’
৪০৬ দিন আগে
বনানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় পোশাক শ্রমিক নিহত, অবরোধে তীব্র যানজট
রাজধানীর বনানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। সোমবার (১০ মার্চ) সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সকাল ৬টার এ ঘটনার প্রতিবাদে সহকর্মীরা বিমানবন্দর সড়ক বন্ধ করে রাখেন। এক্সপ্রেসওয়েতেও যান চলাচল আটকে দিয়েছেন শ্রমিকরা। এতে আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
বনানী থানার ওসি রাসেল সারোয়ার জানান, মিনারা নামে ১৯ বছরের একজন গার্মেন্টস কর্মী বনানী চেয়ারম্যান বাড়ির কাছে রাস্তা পার হওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশেপাশের তিনটি গার্মেন্টস কর্মীরা রাস্তায় নেমে এসে মূল সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। আমরা চেষ্টা করছি রাস্তা ক্লিয়ার করতে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে ট্রাক্টরচাপায় দুই বন্ধু নিহত
ট্রাফিক গুলশান বিভাগের ডিসি মফিজুল ইসলাম সকাল ৯টার দিকে জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে রাস্তা বন্ধ আছে। পুলিশ বিভিন্ন বিকল্প সড়ক দিয়ে যানবাহন গুলোকে গন্তব্যে পাঠানোর চেষ্টা করছে।
ট্রাফিক গুলশান বিভাগের ফেইসবুক পেজে জানানো হয়েছে, আজ সকালে বনানীস্থ চেয়ারম্যান বাড়ি ইউ টার্ন ইনকামিংয়ে একজন নারী সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে কোন পরিবহন এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, তা জানা যায়নি।
‘দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে গার্মেন্টস কর্মীরা ইনকামিং/আউট গোয়িং উভয় দিকের রাস্তা বন্ধ করে রেখেছেন। এছাড়া গার্মেন্টস কর্মীরা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও যানবাহন চলাচল বন্ধ করে রেখেছেন।’
এক্ষেত্রে বনানী-কাকলী ক্রসিং এবং মহাখালীর আমতলীতে ডাইভারশন দিয়ে গুলশান-২ ও গুলশান-১ হয়ে আমতলী দিয়ে ইনকামিং এবং ভাইস ভার্সা হয়ে আউট গোয়িং এ চলাচল করা যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, জানায় ট্রাফিক গুলশান বিভাগ
৪৪৩ দিন আগে
যানজটে আটকে রাজধানীবাসীর ইফতার
রাজধানীতে আসরের আজানের আগে থেকে সড়কে বাড়তে শুরু করে গাড়ির চাপ। বিকাল চারটা থেকে একের পর এক অফিস ছুটি হওয়ায় ইফতারের আগমুহূর্ত পর্যন্ত রাস্তায় গাড়ির চাপ থাকে অবর্ণনীয়।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে দেখা যায়, দুপুর ২টার পর রাস্তায় গাড়ির চাপ তুলণামূলক কম হলেও বেলা পড়তে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে শুরু করে। এতে করে রাজধানীর মোড়ে মোড়ে প্রায় প্রতিটি রাস্তা থেকে শুরু করে অলিগলিতে সৃষ্টি হয় অসহনীয় যানজট।
ইফতারের আগমূহূর্তে এমন যানজট নিয়ে শান্তিনগর মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য আবদুস সালাম বলেন, ‘আসরের পর থেকে একেবারে মাগরিবের আজানের আগ-পর্যন্ত রাস্তায় গাড়ির প্রচণ্ড চাপ থাকে। সবাই চায় নিজের বাসায় পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে। একই সময়ে সবাই বের হওয়ায় এমন ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়।’
আরও পড়ুন: বিনা লাভে ইফতার সামগ্রী বিক্রি করছেন চাঁদপুরের শাহ আলম
অন্যদিকে, একাধিক মোড়ের সড়ক বা যেসব সড়কে ফ্লাইওভার এসে মিশেছে কিংবা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্প নেমেছে, সেসব সড়কে যানজট তুলনামূলক বেশি থাকে বলে জানান তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে মোটরসাইকেল-চালক আলাউদ্দিন বলেন, ‘অন্য সময়ের তুলনায় এবার সড়কে যানজট অনেক বেশি। বিশেষ করে অটোরিকশার চাপে (সড়কে) নড়াচড়াই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে বাইকের জন্য রাস্তার বাম দিকে কিছুটা জায়গা ছেড়ে দেওয়া হলেও, এখন রিকশার চাপে এই লেনটাও বন্ধ হয়ে গেছে। বাইক নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে বসে থাকতে হয়।’
তবে যত্রতত্র বাস থামানো এবং সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াকেই যানজটের জন্য দায়ী করছেন রিকশাচালকরা।
মতিঝিল কর্মস্থল থেকে বাড্ডার বাসায় প্রতিদিন যাতায়াত করেন একটি প্রাইভেট ব্যাংকের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। যানজটের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘চারটার সময় অফিস থেকে বের হয়ে বাসায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা ৬টা বেজে যায়। অনেক সময় বাসার গলিতে বা সিঁড়িতে পৌঁছাতেই আজান দিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে ইফতারের আগে বাসায় পৌঁছানো বিরাট ঝক্কির ব্যাপার।’
শান্তিনগরের বাসিন্দা হানিফ বলেন, ‘পায়ে হেঁটে শান্তিনগর থেকে রমনা যেতে ১৫ মিনিট লাগে, কিন্তু ইফতারের আগে কেউ রিকশা করে যেতে চাইলে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সবাই ইফতারের আগে বাসায় ফিরতে চায়, সবারই ইচ্ছা পরিবারের সঙ্গে ইফতার করা। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের এমন কোনো অভিনব ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত যাতে করে ইফতারের আগে এমন অসহনীয় যানজট এড়ানো যায়।’
আরও পড়ুন: প্রথম রোজা: রাজধানীর মোড়ে মোড়ে ইফতারের পসরা
তবে শুধুমাত্র ট্রাফিক পুলিশের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে না দিয়ে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হওয়া এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে শুধু রমজানে নয়, যেকোনো সময়ে কোনো কারণে সড়কে চাপ সৃষ্টি হলে তা সামলানোর ব্যবস্থাও সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন তারা।
৪৪৯ দিন আগে