যাবজ্জীবন
চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো. সালাম (২১) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা শিশু ধর্ষণ আপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোস্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এম এম শাহজাহান মুকুল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, আসামি মো. সালামকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক দুটি ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে। মামলায় আইনের ৯(১) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া আইনের ৭ ধারায় তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভাগ করতে হবে।
আদালত উল্লেখ করেছেন, উভয় সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে। তবে আসামি ইতোপূর্বে হাজতে থাকার সময়কাল মূল দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে।
মামলার নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দামুড়হুদা থানার কার্পাসডাঙ্গা এলাকার দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় অপহরণ করেন আসামি মো. সালাম। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ভুয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং কাল্পনিক কাবিননামা তৈরি করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হারুন অর রশীদ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামি সালাম এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
মেডিকেল প্রতিবেদনে ধস্তাধস্তির চিহ্ন না থাকলেও ভুক্তভোগীর বয়স ১৬ বছরের কম হওয়ায় এবং সম্মতিবিহীন যৌন সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আদালত সূত্র।
তদন্ত প্রতিবেদনে অপহরণে সহায়তার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেও প্রমাণের অভাবে মামলার অন্যান্য আসামি—বজলুর রশীদ মজু, মোছা. মনোয়ারা বেগম এবং জালাল ওরফে শাহজালালকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া মামলার ২ নম্বর আসামি মো. আল-আমিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বা প্রমাণের অভাবে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বিবেচনা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর আসামিকে কড়া পুলিশ পাহারায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এম এম শাহজাহান মুকুল। এই রায়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্ষণের যে প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এই রায় তা রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং আশা করি এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারও এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
১৪ দিন আগে
অপহরণের পর শিশুহত্যা: দুজনের যাবজ্জীবন, একজনের ১৪ বছর কারাদণ্ড
১৮ বছর আগে রাজধানীর কাফরুল থানাধীন এলাকায় শফিকুল ইসলাম মিলন (১১) নামে এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর আরেকজনকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিউর রহমানের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আল আমিন ঘরামী ও মাসুদ রানা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন। সাইফুল ইসলাম ওরফে ছোট সাইফুলকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মো. আব্দুল মোতালেব ওরফে মোতা এবং আমিরুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি মাসুদ রানা উপস্থিত ছিলেন। এরপর তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে ফের কারাগারে পাঠানো হয়। অপর দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
রায়ে আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে নিহতের পরিবারকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৬ মার্চ খেলার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয় মিলন। এরপর সে আর বাসায় ফিরে আসেনি। এরপর ৭ মার্চ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অপহরণকারীরা মিলনের পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
এ ঘটনায় মিলনের বাবা শফিকুল ইসলাম ওরফে শহিদ ওই বছরের ১৩ মার্চ কাফরুল থানায় অপহরণ মামলা করেন। এরপর তদন্তে নেমে ফোন কলের তালিকা থেকে সূত্র বের করে আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, সাভারের রামচন্দ্রপুর কর্ণপাড়া নামের স্থান থেকে মিলনের হাড়, দাঁত এবং রক্তমাখা পাথর উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মামলায় হত্যার অভিযোগ সংযুক্ত করা হয়।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ২৩ মে কাফরুল থানার উপপরিদর্শক মীর আবুল কালাম আজাদ মোট ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। মামলার বিচার চলাকালে ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। দীর্ঘ ১৮ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়ায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও ডিএনএ প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন।
১৫ দিন আগে
ময়মনসিংহে আলামিন হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন
ময়মনসিংহের ত্রিশালে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আলামিন হত্যা মামলায় একই পরিবারের ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ত্রিশাল উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নের সেনের চকপাড়া গ্রামের রশিদ (৪১), জসিম উদ্দিন (৫০) ও তার স্ত্রী হুরেনা খাতুন, তাদের ছেলে রিয়াদ (২৫) এবং জোনাকি আক্তার (৩৮)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, একই গ্রামের হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে জসিম উদ্দিনদের পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ২০২৩ সালের ১৯ জুন দুপুরে জসিম উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাফিজুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় তারা হাফিজুলের স্ত্রী নুরজাহান বেগমকে মারধর করেন।
ঘটনার সময় হাফিজুল ইসলামের ভাই আলামিন হামলা ঠেকাতে গেলে আসামিরা তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেন।
ঘটনার পর নিহতের চাচা হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত ৫ জন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলার অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দেন।
২৬ দিন আগে
পিরোজপুরে কিশোরীকে আটকে রেখে ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
পিরোজপুর সদর উপজেলায় ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু ধর্ষণ অপরাধ ট্রাইবুনালের বিচারক এস এম মনিরুজ্জামান এ রায় দেন।
আসামিরা হলেন: নাজিরপুর উপজেলা চৌঠাই মহল এলাকার মিলন শেখ (২৮), পিরোজপুর সদর উপজেলার অলি গাজী (২৪) এবং নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া এলাকার সাহেব গাজীর পুত্র মারুফ গাজী (২৫) ।
মামলার প্রধান আসামি মিলন শেখকে ধর্ষণের অপরাধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য দুই আসামি অলি গাজী ও মারুফ গাজীকে কিশোরীকে অপহরণের দায়ে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
১৩ বছরের কিশোরী ওই ভুক্তভোগী পিরোজপুর সদর উপজেলার পশ্চিম কদমতলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সে কদমতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নাজিরপুরের চৌঠাই মহল এলাকায় মামাবাড়ি থেকে পিরোজপুর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে সুযোগ বুঝে অলি গাজী ও মারুফ গাজী তাকে অপহরণ করে কৃষ্ণনগর এলাকায় নিয়ে যান। সেখান থেকে তারা ভুক্তভোগীকে খুলনায় মিলন শেখের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর মিলন বিয়ের নাটক সাজিয়ে কিশোরীটিকে মুসলিম পরিচয়ে গোপালগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি কিশোরীটিকে ২০ থেকে ২২ দিন আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরবর্তী সময়ে একপর্যায়ে কিশোরী সুযোগ পেয়ে পাশের বাসা থেকে তার বাবাকে ফোন করলে পুলিশ নিয়ে তার বাবা সেখানে উপস্থিত হয়। পরে তার বাবা বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় একটি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবার দাবি, তার মেয়েকে অপহরণ করে অলি গাজী ও মারুফ গাজী খুলনায় নিয়ে মিলন শেখের হাতে তুলে দেন। মিলন শেখ বিয়ের নাটক সাজিয়ে তার মেয়েকে আটকে রেখেছিলেন। মিলন শেখসহ বাকি ২ আসামির উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল রাখার অনুরোধ করেন তিনি।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট শাজাহান সরদার বলেন, ‘কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার রায় পেয়ে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি।’
৩৩ দিন আগে
কামরাঙ্গীরচরে দেড় যুগ আগের ধর্ষণ মামলায় আসামিদের যাবজ্জীবন
প্রায় ১৭ বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় চার যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— শহিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নিজাম এবং মনির হোসেন ওরফে সেন্টু।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এরশাদ আলম (জর্জ) সাজার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। অপর তিন আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ বছর বয়সে ওই তরুণী তার বান্ধবীর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন আশ্রাফাবাদে ময়দার মিলের পাশের নৌকা ঘাটে বেড়িবাঁধে বেড়াতে বের হয়েছিলেন।
একপর্যায়ে তার বান্ধবী তাকে রেখে বাসায় চলে যায়। তার বান্ধবী চলে যাওয়ার পর ঐদিন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মো. শহিদুল, মো. সাইফুল, মো. নিজাম, সুজন, মো. পলাশ এবং মো. সেন্টু জোরপূর্বক তার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একটি নৌকায় ওঠায়। এরপর বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে মাঝিকে নদীর মধ্যে ফেলে দেন।
পরে নৌকার মধ্যে আসামিরা পালাক্রমে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। তারপর তারা ওই নারীকে ছালাম কন্ট্রাকটারের বাড়ির একটি রুমের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে তার বাবা-মা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করান।
ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম শিকদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
৭১ দিন আগে
গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে কিউবার সাবেক অর্থমন্ত্রীর যাবজ্জীবন
কিউবার সাবেক অর্থমন্ত্রী আলেহান্দ্রো হিল ফের্নান্দেসকে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে কোনো শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনার সর্বোচ্চ ঘটনা এটি।
স্থানীয় সময় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) কিউবার সুপ্রিম কোর্টের পপুলার ট্রাইব্যুনাল এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আলাদা মামলায় ঘুষ, নথি জালিয়াতি ও কর ফাঁকিসহ অন্যান্য অপরাধে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় হিলকে আরও ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হিল। প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে তাকে উপ-প্রধানমন্ত্রীও করা হয়।
তবে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাকে পদচ্যুত করা হয়। ওই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর কিউবার প্রেসিডেন্ট বলেন, হিল ‘গুরুতর ভুল’ করেছেন এবং কোনোভাবেই দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
কিউবার সর্বোচ্চ আদালতও সাবেক এই মন্ত্রী ঠিক কী করেছেন বা কার জন্য গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন—তা জানায়নি।
২০০৯ সালে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্লোস লাগে ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেলিপে পেরেস রোকেকে বহিষ্কারের পর কিউবায় এটি সবচেয়ে আলোচিত মামলা। তাদের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের অভিযোগ থাকলেও তাদের শাস্তি দেওয়া হয়নি।
২০২১ সালে কিউবার মুদ্রা ও আর্থিক খাতের সংস্কার কার্যক্রমের মুখপাত্র ছিলেন হিল। তৎকালীন সরকারের পক্ষে সে সময় দেশটির মুদ্রাব্যবস্থা একীভূত করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে আগে থেকেই চলতে থাকা অর্থনৈতিক সংকট ও নিত্যপণ্যের ঘাটতিতে ভুগতে থাকা কিউবায় তখন মুদ্রাস্ফীতি চরম আকার ধারণ করে।
সৃপ্রিম কোর্ট জানায়, হিল নিজ স্বার্থে প্রদত্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি অর্থ গ্রহণ করেছেন এবং অন্য কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছেন।
১৪৬ দিন আগে
গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অধ্যাদেশ জারি
গুমের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজার বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে সরকার।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশের গেজেট জারি করা হয়েছে।
এর আগে, গত ৬ নভেম্বর এই অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইবুনাল গঠনের করা হবে। এই অধ্যাদেশের অধীনে অপরাধ হবে জামিন ও আপসের অযোগ্য।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য যদি কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণ করার পর বিষয়টি অস্বীকার করে অথবা ওই ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি গোপন রাখে এবং এ কাজের ফলে ওই ব্যক্তি আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে কাজটি গুম বা শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য হবে। এই অপরাধে দায়ী ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
আর গুমের ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে বা গুমের পাঁচ বছর পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে দায়ী ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
যদি কোনো ব্যক্তি গুমের স্বাক্ষ্য-প্রমাণ নষ্ট করেন বা গুমের উদ্দেশ্যে গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহার করেন, তাহলে ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডারদের জন্যও সাজার বিধান রয়েছে অধ্যাদেশে। এ বিষয়ে বলা হয়েছে, যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কমান্ডার বা দলনেতা এ ধরনের অপরাধ সংঘটনে অধস্তনদের আদেশ, অনুমতি, সম্মতি, অনুমোদন বা প্ররোচনা দেন, কিংবা নিজেই অংশ নেন, তাহলেও তিনি মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডারের অবহেলা বা অদক্ষতার কারণে অধস্তনরা এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ালেও সাজা পাবেন সেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অধস্তনদের নিয়ন্ত্রণ বা তত্ত্বাবধান করার ব্যর্থতার ফলে অধস্তনরা যদি এ ধরনের অপরাধ করে, তাহলেও তিনি মূল অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হবেন বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার আগ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির অবস্থান ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে’ গোপন রাখা যাবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক হলেও তার অনুপস্থিতিতে বিচার সম্পন্ন করা যাবে।
১৫৩ দিন আগে
নড়াইলে ডাকাতির সময় হত্যা, পাঁচজনের যাবজ্জীবন
নড়াইল সদর উপজেলায় ডাকাতিকালে নির্মল পোদ্দারকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক এলিনা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন।
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) অ্যাডভোকেট তারিকুজ্জামান লিটু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—শাহিন মুন্সি, আক্তারুজ্জামান বাবুল, সেলিম, নজরুল ইসলাম মৃধা ও তেজারত মোল্যা। এর মধ্যে তেজারত মোল্যা কারাগারে উপস্থিত ছিলেন, অন্য চারজন পলাতক রয়েছেন।
পড়ুন: ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে গৃহশিক্ষকের যাবজ্জীবন
মামলার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ২৪ জুন রাতে সদর উপজেলার ভওয়াখালী গ্রামে ডাকাতরা বাড়িতে হামলা চালিয়ে নির্মল পোদ্দারকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে পলি পোদ্দার নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত পাঁচ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ দেন। তবে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
২৪৪ দিন আগে
ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে গৃহশিক্ষকের যাবজ্জীবন
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ওই ছাত্রীর গৃহশিক্ষক মাশরুর রহমান সজীবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আতোয়ার রহমান এই সাজা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বিশেষ পিপি আব্দুল লতিফ লতা।
সাজা পাওয়া মাশরুর রহমান সজীব যশোর পালবাড়ি তেঁতুলতলা এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকা বাড্ডার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী যশোর শহরের একটি কলেজে ভর্তি হন। এরপর পালবাড়ি এলকায় ফুফুর বাড়ি থেকে পড়াশোনা করতেন। গৃহশিক্ষক হিসেবে তাকে পড়াতেন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া সজীব। একপর্যায় তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
২০১৬ সালের ১৫ জুন বাড়ির সবার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সজীব ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে তাদের সম্পর্ক উভয় পরিবারে জানাজানি হয়ে যায়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সজীব ওই ছাত্রীকে তার আত্মীয়ের বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করেন। তিনি গোপনে তাদের বিশেষ মুহূর্তের ছবি এবং ভিডিও-ও ধারণ করে রাখেন। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সজীব ঘোরাতে থাকেন এবং যোগোযোগ বন্ধ করে দেন।
আরও পড়ুন: নড়াইলে শিশুহত্যা মামলায় সৎ মায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
এরপর গত বছরের ৩০ জুলাই সজীবের মাকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, সজীব ওই ছাত্রীকে বিয়ে করবেন না। শুধু তাই নয়, সজীব অন্যত্র বিয়ে করেছেন বলেও জানান তার মা।
এ ঘটনায় ওই বছরের ১৭ আগস্ট যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ ধর্ষণের অভিযোগে মামলায় করেন ওই ছাত্রী।
আদালতের তৎকালীন বিচারক অভিযোগের তদন্ত করে পিবিআইকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আসামি সজীবকে অভিযুক্ত করে ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার সময় সজীব আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
২৫৭ দিন আগে
নওগাঁয় হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন
নওগাঁয় স্কুলছাত্র অপহরণ ও হত্যার মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পৃথক একটি ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় নওগাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত চার আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মিশু (১৯) ও পিংকি (৩০)। এ মামলায় আরও দুই কিশোর আসামি হুজাইফা ও সাজু আহমেদের ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়ায় তাদের ১০ বছর আটকাদেশ দেওয়া হয়।
আরেক মামলার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মোরশেদ আলী (৩৫) রবিউল ইসলাম (৩৮)। এ মামলায় সুলতানা পারভিন নামে এক নারীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
হত্যা মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৭ নভেম্বর নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার খাদাইল গ্রামের নাজমুল নামের এক স্কুল ছাত্রকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে তার বাবার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন কয়েকজন যুবক। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে পরের দিন আসামিরা নাজমুলকে হত্যা করে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে আক্কেলপুর রেলগেটের উত্তর পাশে ডোবার মধ্যে ফেলে রাখেন। পরে নাজমুলের বাবা বদলগাছী থানায় অভিযোগ করলে তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
২০ জনের সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ (বৃহস্পতিবার) দুই আসামি মিশু ও পিংকিকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারক। একই সঙ্গে তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অপরদিকে, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মান্দা উপজেলার চকদেবীরাম গ্রামের এক মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে উপজেলার বালুবাজার গ্রামের মোরশেদের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে রবিউল ইসলাম। এ সময় তিনি মোবাইলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে রেখে দেন। পরবর্তীতে ওই মেয়েকে রবিউল বিয়ে না করলে মেয়ের পরিবার তাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিলে আসামি রবিউল মেয়ের স্বামীর কাছে ধর্ষণের ভিডিও পাঠান, ফলে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।
এর কিছুদিন পরে বিক্রমপুরে ওই মেয়ের দ্বিতীয় বিয়ে হলে রবিউল আবারও একই কাজ করলে দ্বিতীয় স্বামী আইনি পরামর্শের কথা বলে ওই মেয়েকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
আরও পড়ুন: সিলেটে স্কুলছাত্র হত্যা: সাইফুলসহ ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন
এরপর ধর্ষণের শিকার ওই মেয়ে নওগাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করলে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগে সংশ্লিষ্টতা থাকার রিপোর্ট দেয় মান্দা থানা পুলিশ।
পরে দীর্ঘদিন ধরে চলা এ মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ (বৃহস্পতিবার) মোরশেদ আলী এবং রবিউল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ মামলায় সুলতানা পারভিন নামে আরেক আসামির অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে খালাস প্রদান করেন।
উভয় মামলার রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নওগাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এর অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
২৭৭ দিন আগে