তারেক রহমান
বন্ধ কলকারখানা চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কলকারখানা চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (৪ মে) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক এবং শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাড, রুহুল কবির রিজভী, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
২২ ঘণ্টা আগে
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং নতুন ক্রীড়াবিদ তৈরির লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে দেশের ক্রীড়া খাতকে শক্তিশালী করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২ মে) বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র উদ্বোধনের মাধ্যমে সারা দেশে শিশু-কিশোরদের মধ্য থেকে প্রতিভা অন্বেষণে এই প্রতিযোগিতা শুরু হলো। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে চায় সরকার।
অনুষ্ঠানে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে দেশজুড়ে তরুণ ক্রীড়া প্রতিভা গড়ে তোলার লক্ষ্য ও ভিশন তুলে ধরা হয়।
প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পর ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’ শিরোনামের থিম সং পরিবেশন করা হয়, যা অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর আবহ তৈরি করে। পরে বিকেএসপির শিক্ষার্থীরা উন্মুক্ত মাঠে ক্রিকেট, কাবাডি, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ আটটি খেলায় প্রদর্শনী পরিবেশন করে।
প্রধানমন্ত্রী উৎসাহের সঙ্গে খেলাগুলো উপভোগ করেন এবং শিক্ষার্থীদের করতালির মাধ্যমে উৎসাহ দেন।
তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকায় এবার ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।
১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, বাছাই এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ক্রীড়া পরিদপ্তর; তত্ত্বাবধায়নে রয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘এটা একটি যুগান্তরকারী কর্মসূচি। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ভবিষ্যত প্রজন্মের দক্ষ খেলোয়াড় তৈরিতে একটি শক্তিশালী প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, বাছাই এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ আয়োজনের আওতায় ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট ৮টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।’
২ দিন আগে
বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিতে জনগণকে পাশে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
জনগণের স্বার্থ রক্ষা ও তাদের সমস্যার সমাধান করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গড়ার কর্মসূচিতে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আসুন, কাজ করে নিজের দেশকে নিজেরাই গড়ে তুলি। বিদেশ নিয়ে নয়, আমরা বাংলাদেশ নিয়ে গর্ব করব।
শনিবার (২ মে) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কাশিপুরের ঐতিহ্যবাহী বাঁশিয়া খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের (বিএনপি) এক নম্বর দায়িত্ব হচ্ছে, এই দেশের মানুষের স্বার্থ দেখা; এই দেশের মানুষের সমস্যার সামাধান করা। আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, বাংলাদেশকে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। অন্যান্য উন্নত দেশের পাশাপাশি আমরা বাংলাদেশকে দাঁড় করাতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।
নিজের ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে তিনি বলেন, আসুন, কাজ করে নিজের দেশকে নিজেরাই গড়ে তুলি। বিদেশ নিয়ে নয়, আমরা বাংলাদেশ নিয়ে গর্ব করব।
এর আগে, দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
উদ্বোধন শেষে উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খালটি ১৯৭৭ সালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। এরপর চলতে চলতে খালটি আবার বন্ধ হয়ে গেছে। এই খালটি আমরা কাটতে চাই।
তিনি বলেন, খালটি কাটলে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। এর বাইরে আরও প্রায় দেড় লাখ কৃষক উপকার পাবেন। এতে করে বর্তমানে খালের দুপাশে যে পরিমাণ ফসল উৎপাদন হয়, তার চেয়ে প্রায় ৭ হাজার টন ফসল বেশি উৎপাদিত হবে।
২ দিন আগে
ঢাকা-সিলেট ডবল রেললাইন হবে: প্রধানমন্ত্রী
সিলেট-ঢাকা যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এই রুটে ডবল লাইন চালু করা হবে।
শনিবার (২ মে) দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
সমাবেশে সিলেটের সার্বিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ এই অঞ্চলের সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ট্রেন যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়নে ঢাকা-সিলেট রেলপথে ডবল লাইন চালু করা হবে।
এ ছাড়াও সিলেটের কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় খাল খনন কর্মসূচি এবং সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৩ দিন আগে
সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি সফরে প্রথমবারের মতো বিভাগীয় শহর সিলেটে পৌঁছেছেন তারেক রহমান।
শনিবার (২ মে) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তিনি একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুত্তাদীর, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
হজরত শাহ জালাল (র.) ও হজরত শাহ পরাণের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মসূচি শুরু করবেন।
পরে বেলা ১১টার দিকে সিলেট সার্কিট হাউস-সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের চাঁদনিঘাট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টার সিলেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
আজ দুপুর ১২টায় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর বেলা ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু ও কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। বিকেল ৫টায় সিলেট শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এতে স্থানীয় রাজনীতি ও সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন সড়ক সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। সড়কদ্বীপে নতুন করে গাছ লাগানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফেস্টুন টানানো হয়েছে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন উন্নয়নসংক্রান্ত দাবিদাওয়াও সামনে আনছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুত সমাপ্তকরণ।
সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে ২৫ দফা দাবি জানিয়েছে সিলেট বিভাগ গণদাবি ফোরাম। সংগঠনের সভাপতি চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদের সই করা ওই দাবিগুলোর মধ্যে আছে— সিলেটকে ‘আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী’ ঘোষণা, বিভাগকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গেজেট প্রকাশ এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিনবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ।
এছাড়া সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথ আধুনিকায়ন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বিমানবাহিনীর ঘাঁটি স্থাপন, সিলেটে প্রকৌশল ও পর্যটন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ পুনঃস্থাপনসহ নানা দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নদ-নদী ও খাল খনন, তেল সংরক্ষণাগার স্থাপন এবং বিরতিহীন আধুনিক ট্রেন চালুর বিষয়টিও দাবির তালিকায় আছে।
প্রায় দুই দশক পর গত ২১ জানুয়ারি সিলেট সফর করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার প্রথম সিলেট সফর ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। তার এই সফর সফল করতে দল ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রস্তুতিমূলক সভা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরে স্বাগত মিছিল করে মহানগর বিএনপি। স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও পৃথক মিছিল হয়েছে।
মিছিল শেষে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎসাহ দেখা গেছে। তার উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সিলেটসহ পুরো দেশ এগিয়ে যাবে বলে সবার প্রত্যাশা।
৩ দিন আগে
মে দিবসের সমাবেশের জন্য প্রস্তুত নয়া পল্টন, ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
ঐতিহাসিক মে দিবস উপলক্ষে বিএনপির বিশাল জনসভার জন্য নয়াপল্টন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। আজ শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় অনুষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই জনসভা শুরু হবে। এটি আয়োজন করছে বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলটি আশা করছে, এই সমাবেশে লক্ষাধিক শ্রমিকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ঘটবে। জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং শ্রমিক নেতারা এতে বক্তব্য দেবেন।
জনসভার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করা হয়েছে।
বিরূপ আবহাওয়া এবং রাতভর বৃষ্টিতে ঢাকার অনেক রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়লেও সকাল থেকেই মানুষ সভাস্থলে আসতে শুরু করেছে। আয়োজকরা মনে করছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়বে। সমাবেশস্থলে একটি ভ্রাম্যমাণ মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে নিরাপত্তা কর্মীরা পুরো এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন।
শ্রমিক দল সূত্রে জানা গেছে, আজ ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ থাকবে এবং যানবাহন বিকল্প পথ দিয়ে যেতে হবে। জরুরি সেবা, বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জনসভায় আসা দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প এবং ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও সব আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়েছে। মঞ্চ প্রস্তুত এবং সভাস্থলে পর্যাপ্ত সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন জানান, ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর শিল্পাঞ্চল থেকে শ্রমিকরা এই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। তিনি বলেন, আমরা দুপুর আড়াইটায় আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভা শুরু করব। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ অন্যান্য শিল্প জেলা থেকে শ্রমিকরা এতে অংশগ্রহণ করবেন।
দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে লাল গালিচা বিছানো হয়েছে। উত্তরমুখী এই মঞ্চের দুই পাশে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহিদ জিয়াউর রহমান, প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, ফকিরাপুল, পল্টন এবং কাকরাইল এলাকাজুড়ে ১৫০টিরও বেশি লাউডস্পিকার লাগানো হয়েছে।
এই জনসভাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। অনেককে লাল টুপি ও টি-শার্ট পরে, ব্যানার হাতে এবং ঢোল বাজিয়ে সভাস্থলে আসতে দেখা গেছে।
সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে জড়ো হচ্ছেন, যার ফলে পুরো এলাকা স্লোগান ও করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে।
সকালে ভারী বৃষ্টির কারণে নয়াপল্টনের কিছু অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়লেও দুপুরের আগেই পানি নেমে যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর এটিই রাজধানীতে বিএনপির প্রথম কোনো বড় ধরনের দলীয় কর্মসূচি।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আশা প্রকাশ করেন যে, এই কর্মসূচি উপলক্ষে ঢাকায় শ্রমিকদের এক বিশাল ঢেউ নামবে।
ন্যায্য মজুরি, শ্রমের মর্যাদা এবং আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে ১৮৮৬ সালে শিকাগোতে যেসব শ্রমিক জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, মে দিবস তাদের সেই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। শ্রমিকদের অধিকার ও সংহতির প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালিত হয়।
৪ দিন আগে
সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী
সকল ধর্মের মানুষ যাতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে এবং সমান অধিকার ভোগ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) গৌতম বুদ্ধের জন্ম তিথি ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’ উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিরা সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি তাদের এ প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সকল ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।
তিনি বলেন, তার সরকার ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না, বরং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সকল ক্ষেত্রে সমান অধিকার ভোগ করবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গ হচ্ছে, যা একটু আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমিও জোর দিয়ে আবারও একই কথা বলতে চাই, ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।’
প্রধানমন্ত্রী বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট এবং গৌতম বুদ্ধের মূর্তি তুলে দেন প্রতিনিধি দলের নেতারা।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন হল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। বাংলাদেশে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সকল বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে।
‘সুতরাং, আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমার, আপনার, আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সকলে আমরা বাংলাদেশি।’
বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বুদ্ধ পূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্ম আছে। প্রতি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যার যার ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে আমরা সকলে মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ নির্মাণ করতে পারব। সুতরাং, প্রতিটি নাগরিক যাতে তার ধর্মীয় রীতি নীতি ও অধিকার বিনা বাধায় স্বাধীনভাবে অনুসরণ-অনুকরণ ও ভোগ করতে পারে, এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব ও অঙ্গীকার।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রত্যেকের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন।
‘মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী এটি কারো জিজ্ঞাসা ছিল না। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার, আমার—আমাদের সকলের।’
বুদ্ধ পূর্ণিমার এই বিশেষ দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ‘আনন্দময় ও তাৎপর্যপূর্ণ’ হয়ে উঠুক–সেই কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
৫ দিন আগে
পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়তে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
রাজধানী ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকারের ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আবুল কালামের (কুমিল্লা-৯) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর রূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নাগরিক সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোর (বর্জ্য ফেলার স্থান) আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন সচেতনতামূলক গ্রাফিতি কাজ অন্তর্ভুক্ত করে পরিবেশসম্মতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃক কোরিয়াভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার মাধ্যমে সকল বর্জ্যকে জিরো বর্জ্যতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি, এ সকল কার্যক্রম ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা শহর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এদিন বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর জন্য মোট আটটি প্রশ্ন ছিল, যার মধ্যে তিনি নির্ধারিত সময়ে সম্পূরক প্রশ্নসহ দুটির উত্তর দেন।
ঢাকাকে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন করার অন্যান্য উদ্যোগ ও পরিকল্পনা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন রাস্তার মিডিয়ান (বিভাজক), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার রোড মিডিয়ান, সড়ক দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানে সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশনের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় নগর বনায়ন (মিয়াওয়াকি ফরেস্ট) এবং উন্মুক্ত মাটি সবুজে আবৃত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় আগামী পাঁচ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মেট্রোরেলের নিচের খালি অংশে (মিরপুর-১২ থেকে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (আব্দুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশের) নিচে খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হবে।
লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সমন্বিতভাবে আধুনিক বাস সার্ভিস ও ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে।
তিনি জানান, ঢাকার বায়ুদূষণের উল্লেখযোগ্য উৎসগুলো বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। যানবাহনের কালো ধোঁয়া নির্গমন, কনস্ট্রাকশন কার্যক্রম ও নির্মাণ সামগ্রীর কারণে বায়ুদূষণ বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
সরকারপ্রধান বলেন, রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধে ঢাকার চারদিকের অবৈধ দূষণকারী ইটভাটাগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীর বায়ুদূষণ কমাতে ঢাকার সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছে এবং ওই এলাকায় ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা ও আশপাশের নদী, খাল ও জলাশয়ে দূষণ রোধে তরল বর্জ্য নির্গমনকারী কারখানায় ইটিপি (বর্জ্য পানি পরিশোধনাগার) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৪৮টি কারখানায় ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে এবং ইটিপি ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ নদীর দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করেছে। সেই সঙ্গে ঢাকা মহানগরে প্রবাহিত ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস এবং প্রকৃতিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা শহরকে সবুজে আচ্ছাদিত করা, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন অধিদপ্তর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে রাস্তার মিডিয়ান, ইউলুপ, পন্ডিং এরিয়া এবং খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ এবং জিরো সয়েল (মাটিবিহীন চাষাবাদ) কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির ৪১ হাজার ৫৬৫টি ফলদ, বনজ, ওষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছে চারা রোপণ করা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ঢাকা শহরের দূষণ কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রজাতির লতা, গুল্ম ও ঘাস দিয়ে মাটি আবৃত করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বনায়নযোগ্য খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
৬ দিন আগে
বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চলের কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
তিন হাওর জেলা এবং ময়মনসিংহের একাংশে চলমান ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাস সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ পদক্ষেপের কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ সকালে অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে আলোচনা করেছেন।
তিনি জানান, তিন দিন আগের আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পরপরই তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বৃষ্টির কারণে যেসব কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে, তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে আগামী তিন মাস প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষক যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে সরকার কঠোর নজরদারি রাখছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহসহ তিনটি নির্দিষ্ট জেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে আগামী তিন মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে এই সরকারি সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
৬ দিন আগে
গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সুসংহত করতে আইন ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী
গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সুসংহত করতে আইন ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনও বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে শহিদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সুসংহত করতে আইন ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনও বিকল্প নেই। ন্যায়বিচার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। যে দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নেই, সে দেশ কখনোই মানবিক হতে পারে না।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদি শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশের জনগণ আবারও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই গণতান্ত্রিক যাত্রাকে শক্তিশালী করতে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।
তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে কোনো নাগরিক আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে আইনি প্রতিকার বা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে—এটি কাম্যও নয়, গ্রহণযোগ্যও নয়।
সংবিধানের বিধান উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী, যা মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার ৭ অনুচ্ছেদের মূল চেতনারই প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থের অভাবে যাতে কেউ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্য নিয়ে সরকার লিগ্যাল এইড কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। কোনও ভুক্তভোগী যেন কেবল আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আইনগত সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
তিনি আরও বলেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য ‘অ্যাক্সেস টু জাস্টিস’ নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ন্যায়বিচার শুধু আইনের বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিটি মানুষের জীবনে বাস্তব রূপ পাক, এটাই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তিনি দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি দেখেছেন অনেক সুবিধাবঞ্চিত মানুষ বছরের পর বছর বিচারহীন অবস্থায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন, শুধু আইনি সহায়তা পাওয়ার সামর্থ্য নেই বলে।
তিনি বলেন, যেকোনো রাষ্ট্র ও সমাজে অগ্রগতি ও শান্তির ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার। প্রতিটি যুগে মানুষ একটি বৈষম্যহীন ব্যবস্থার আকাঙ্ক্ষা করেছে, যেখানে তারা মর্যাদা এবং প্রতিকারের সুযোগ নিয়ে বসবাস করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সাম্য, সহানুভূতি এবং পারস্পরিক বিশ্বাস অপরিহার্য। ন্যায়বিচার কেবল আদালত বা আইনের বিষয় নয়; এটি একটি মানবিক, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি।
৭ দিন আগে