তারেক রহমান
ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিজয়ী তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ (সদর) উভয় আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে জয়লাভ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলটির জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন এ তথ্য জানান।
মাহদী আমিন বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার দুটি নির্বাচনি আসন বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ এ এরই মধ্যে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
তবে, বগুড়া-৬ (সদর) আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে।
ফলাফল অনুযায়ী, তারেক রহমান পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আবিদুর রহমান পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। তবে এ ফলাফলে পোস্টাল ব্যালটের ভোট অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে হাতপাখা প্রতীকের আবু নুমান মো. মামুনুর রশিদ পেয়েছেন ২ হাজার ৫০৮ ভোট। বাসদের প্রার্থী দিলরুবা নুরী (মই প্রতীক) পেয়েছেন ২৭৬ ভোট এবং জেএসডির আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি (তারা প্রতীক) পেয়েছেন ২৭৬ ভোট।
বগুড়া-৬ আসনে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্রে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৮৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা মোট ভোটারের ৭১ দশমিক ০৩ শতাংশ।
৭ ঘণ্টা আগে
নির্বাচিত হলে আন্দোলনের সঙ্গীদের নিয়েই দেশ চালাতে চাই: তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আন্দোলনে যেসব দল আমাদের সঙ্গে ছিল নির্বাচিত হলে তাদের সঙ্গে নিয়েই দেশ পরিচালনা করতে চাই।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কয়েকটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে গুলশানে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘যে সকল রাজনৈতিক দলকে একসাথে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, আমরা চাই কম-বেশি সকলকে নিয়ে একসাথে দেশ পরিচালনা করতে।’
ঐতিহাসিক এই নির্বাচনে তার দল জয়ী হবে বলে বিএনপি চেয়ারম্যান আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কতটি আসনে জয়ের প্রত্যাশা করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘অন্তত এতটুকু অবশ্যই প্রত্যাশা করছি, যেখানে খুব সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম হব।’
ভোটের ফলাফলে হেরে গেলে ফল মেনে নেবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নির্বাচন যদি সুষ্ঠ হয়, যদি নিরপেক্ষ হয়, নির্বাচন যদি বিতর্কিতহীন হয় তাহলে অবশ্যই, কেন মেনে নেব না?
‘কিন্তু অবশ্যই একটি শর্ত আছে যে, নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে হবে, শান্তিপূর্ণ হতে হবে। যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখছি- যেভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে সে এরকম বিষয় তো অবশ্যই মেনে নেওয়া যাবে না। কেউই মেনে নেবে না।’
ফল গণনায় দেরি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারেক রহমান বলেন, কেন দেরি হবে? দেরি হবার কোনো কারণ নেই। সমগ্র দেশের মানুষ যেখানে দ্রুত তাদের যে ভোট দিয়ে এসেছে তার ফল দ্রুতই চাইবে। আশা করব, নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করবে যাতে দেশের মানুষ দ্রুত তার ভোট প্রদানের যে ফল সেটা পায়।’
১৪ ঘণ্টা আগে
নির্বিঘ্নে ভোট হলে ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব: তারেক রহমান
দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী তারেক রহমান। এ সময় দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ৯টা ৪৫ মিনিটে গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে তিনি ভোট দেন। এর আগে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন তিনি।
ভোট দিয়ে বের হয়ে সাংবাদিকদের তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের মানুষ এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।’ দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
২১ ঘণ্টা আগে
এক যুগ পর তারিক চয়নের বই ‘অবিসংবাদিত তারেক রহমান’ প্রকাশিত
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে গুণীজনদের লেখা প্রবন্ধ নিয়ে ১৩ বছর আগে একটি বই সম্পাদনা করেছিলেন তখনকার সাংবাদিক ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং বর্তমানে ভারতের কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রেস সচিব তারিক চয়ন। নানা প্রতিকূলতায় দীর্ঘদিন বইটি অপ্রকাশিত থাকলেও অবশেষে সেটি আলোর মুখ দেখেছে। ‘অবিসংবাদিত তারেক রহমান’ নামের বইটির মুখবন্ধ লিখেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে তারিক চয়ন নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিজের ফেরিফাইড আইডিতে তিনি লিখেছেন, ‘মোড়ক উন্মোচনের ইচ্ছে ছিল প্রিয় সুধীজনদের সম্মিলনে, অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। কিন্তু, ঘটনাপ্রবাহ সব সময় পরিকল্পনামতো যায় না।
‘এক যুগেরও আগে (২০১৩ সাল) তারেক রহমানের ওপর বেশ কয়জন লেখক-চিন্তক-রাজনীতিবিদদের লেখা প্রবন্ধ সংগ্রহ করেছিলাম। সেই সময়ের বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশের মাঝেই প্রকাশের তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল। উদ্দেশ্য ছিল অবদমন, নিগ্রহ, নিষ্পেষণ ও মিথ্যাচারের সংস্কৃতি ছাপিয়ে তারেক রহমান যে সার্বিক উন্নয়নমুখী রাজনীতি অব্যাহত রেখেছেন, তা জনপরিসরে তুলে ধরা। বছরের পর বছর ধরে চলা দুঃশাসনের মাঝে তার অহিংস ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও চর্চার বিশ্লেষণ বাংলাভাষী পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা।
‘বহু বাধার সম্মুখীন প্রবন্ধ সংকলনটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অপ্রকাশিত ছিল। ফ্যাসিস্ট রেজিমের বিদায়ের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এই বেলা নির্বাচনের আয়োজন করছেন। তারেক রহমানও ১৭ বছর পর দেশে ফিরলেন। লাখো-কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন।’
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বইটি পাঠকের হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও কেন সেটি তাৎক্ষণিকভাবে পারেননি তার কারণ ব্যাখ্যা করে তারিক চয়ন লিখেছেন, ‘তিনি এসেই মাকে হারালেন। শোকের সাগরে নিমজ্জিত জাতি। এমন সময়ে বিগত প্রায় ছয় মাস ধরে কাজ করে এগিয়ে নেওয়া বইটি আত্মপ্রকাশ করার মন-মানস রইল না।
‘দুইদিন বাদে নির্বাচন। ব্যস্ত সময়ের মাঝেই প্রকাশনাযজ্ঞ শেষ করে বইটি হাতে এসেছে এমন এক সময়ে যখন সমগ্র জাতি উন্মুখ হয়ে আছে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে। কিন্তু, তারেক রহমান আবেগের স্রোতে ভেসে যাননি। তিনি জানাচ্ছেন দেশ নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা। বইটির লেখা ১৩ বছর আগের হলেও তার পরিকল্পনা এবং সদিচ্ছাগুলো যে এতদিন ধরে লালিত, সেটির প্রামাণ্য দলিল এই বইটির বিভিন্ন প্রবন্ধ।
‘এই প্রাসঙ্গিক সময়ে তাই জনপরিসরে উন্মুক্ত করার চিন্তায় হাজির হলাম অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের কাছে। শত ব্যস্ততার মাঝেও রিজভী ভাই বইটির মুখবন্ধ লিখে দিয়েছেন, দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’
খুব শিগগিরই একটি প্রকাশনা অনুষ্ঠান ও সেমিনারে বইটির লেখক-চিন্তক-রাজনীতিকদের সঙ্গে সংযোগ ও মতবিনিময়ের আয়োজন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কলকাতায় বাংলাদেশের প্রেস সচিব।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে লেখা বই ‘লুণ্ঠিত ভবিষ্যৎ’-এর সাড়া জাগানো অনুসন্ধানী নিবন্ধ ‘অর্থ পাচার’-এর লেখকও তারিক চয়ন। সেখানে তিনি ওই আমলে দেশ থেকে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের চিত্র তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তিসহ তুলে ধরেছিলেন।
২ দিন আগে
বিএনপিই একমাত্র দল যারা দেশ পুনর্গঠন করতে পারবে: তারেক রহমান
দেশ পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা ও বাস্তব পরিকল্পনা আছে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপিই একমাত্র দল যারা দেশ পুনর্গঠন করতে পারবে।
সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচার হবে। জনগণই রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত উৎস এই বিশ্বাস থেকেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনার সমন্বয়ে দেশ পুনর্গঠন করবে। নির্বাচন ঘিরে মানুষের মধ্যে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়। বিএনপির প্রতি জনগণের প্রত্যাশা থাকে বেশি। সেভাবেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই।
এ সময় তিনি স্বাধীনতার পর দেশের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেখানে লাখো মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। যে দেশ একসময় দুর্ভিক্ষে জর্জরিত ছিল, সেই দেশ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে, এমনকি খাদ্য রপ্তানিও করে।
নব্বইয়ের দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তারেক বলেন, দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পর জনগণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব বিএনপির হাতে তুলে দেন। বিভিন্ন সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ তখন একটি উদীয়মান টাইগারে পরিণত হয় এবং হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটাররা যদি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেন, তাহলে বিএনপি অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশ পুনর্গঠন করবে এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে। এখন আমাদের প্রধান কাজ রাষ্ট্র পুনর্গঠন। আমরা স্বৈরতন্ত্রকে বিদায় করেছি। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য দেশ গড়া।
তিনি বলেন, ‘আর দুই দিন পরে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের বহু প্রত্যাশিত সেই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যে নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের বহু মানুষ গত ১৬ বছরে হত্যার শিকার হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখেছি, কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে…।’
ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই এলাকায় প্রার্থী ছিলেন খালেদা জিয়া। আমি এবার প্রার্থী। এই এলাকায় আমার বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে আমি এই এলাকাতেই বড় হয়েছি, আমার ভাই এই এলাকাতেই বড় হয়েছে, আমাদের পরিবার, আমাদের সন্তানেরা এই এলাকাটিতে জন্মগ্রহণ করেছে।’
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে করণীয় ও পরিকল্পনা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়। স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ করে বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দলের কাছে সারা বাংলাদেশের মানুষ শুধু ঢাকা শহরে নয়, সারা বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা।
‘আমাদের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। প্রায় ২০ কোটি মানুষের এই দেশ, এই দেশের যারা সন্তান আছে, আমাদের যুবক আছে, তরুণ আছে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এই দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানদের জন্য আমাদেরকে সুন্দরভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সমগ্র বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় যানজট আছে, রাস্তাঘাট সংস্কার করতে হবে। আমরা শুধু গত ১৫ বছরে দেখেছি মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। মেগা মেগা দুর্নীতি হয়েছে…এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। সেজন্য আমরা জনগণের সমর্থন চাই।’
৩ দিন আগে
এটা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নয়, দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন: তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১২ তারিখে নির্বাচন। এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার নির্বাচন নয়, এই নির্বাচন হবে দেশকে পুনর্গঠিত করার নির্বাচন। গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের যেমন রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে নাই, কথা বলার স্বাধীনতা পায় নাই, একইভাবে তারা অর্থনৈতিকভাবে অনেক পিছিয়ে পড়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে এক বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আজ বহু বছর পর আমি ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে আসতে পেরেছি। আগে প্রতি বছর শীতের সময় ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় এলাকায় আসতাম, গ্রামে যেতাম। শীতের সময় আসতাম গরম কাপড় ও কম্বল নিয়ে। আজ আপনাদের কাছে এসেছি ভিন্ন এক পরিস্থিতিতে। ১২ তারিখ নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ তাদের যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই অধিকার তারা প্রয়োগ করবে।
মঞ্চের পাশে বসা কিছু মানুষের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এই মানুষগুলোর স্বজনেরা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। গত এক যুগ থেকে তাদের স্বজনেরা অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। নিজেরাও বিভিন্নভাবে অত্যাচারিত, নির্যাতিত হয়েছেন। আজ মানুষের সেই হারিয়ে যাওয়া অধিকার প্রয়োগ করার সময় এসেছে।
যুবক ও তরুণদের উদ্দেশে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, যুবক ও তরুণদের যেভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথা ছিল, তা হয়নি। দেশের যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে গড়ে তোলা উচিত ছিল, সেই কাজটিও হয় নাই।
তারেক রহমান আরও বলেন, মা-বোনদের, নারীদের মূল্যায়ন করার জন্য স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার কথা ছিল সেটিও হয় নাই। দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা হচ্ছে নারী। এই নারীদের যদি আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারি, তাহলে কোনোভাবেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সেই জন্যই খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা বিনামূল্যে করে দিয়েছিলেন। আজ দেশের লাখ লাখ নারী শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছেন।
কৃষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে যে সহযোগিতা করা উচিত ছিল, সেই কাজটিও করে নাই বিগত স্বৈরাচারী সরকার। আজ সময় এসেছে, ১২ তারিখের নির্বাচনে আমরা জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন করব, একই সঙ্গে আমরা দেশ পুণর্গঠনেও হাত দেব।
এই রাজনীতিক বলেন, দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ দেশের মালিক জনগণ। তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষে ভোট চাই।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, চিনিকলসহ এই অঞ্চলের শিল্প কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। ঠাকুরগাঁও ক্যাডেট কলেজ করার চেষ্টা করবে বিএনপি। এছাড়া হিমাগার তৈরি করা হবে, যেন কৃষক তাদের পণ্য সংরক্ষণ করতে পারেন। পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আইটি সেক্টর হাব তৈরি করা হবে। পাশাপাশি সরকার গঠন করলে যত দ্রুত সম্ভব এই এলাকার বিমানবন্দর চালু করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।
তিনি আরও বলেন, দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে, প্রতিটি মানুষকে বিচার করা হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়।
নিরাপদ দেশ গড়ার শপথ নিয়ে তিনি বলেন, সবাই একসঙ্গে দেশকে গড়ে তুলবো। শেষে তিনি এই এলাকার উন্নয়নসহ দেশের উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।
সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে বাঁচাতে গোটা দেশ তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে। কঠিন সময়ে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাকে শতভাগ সমর্থন দিতে হবে।
সমাবেশে ঠাকুরগাঁও-১, ২, ৩, পঞ্চগড়-২ এবং দিনাজপুর- ১ আসনের বিএনপির প্রার্থীরাও বক্তব্য দেন।
৫ দিন আগে
যারা নারীদের অসম্মান করে, তারা কখনও দেশপ্রেমিক হতে পারে না: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি দল প্রকাশ্যে নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি ওই দলের এক নেতা কর্মসংস্থানে নিয়োজিত মা-বোনদের উদ্দেশে এমন কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন যা বলতেও লজ্জা লাগে। এটি শুধু নারীদের নয়, পুরো দেশের জন্যই কলঙ্ক।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) খুলনার খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের প্রভাতী স্কুল মাঠে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ে তারেক রহমান বলেন, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ওই রাজনৈতিক দল আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাত দিয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে মিথ্যাচার করে তারা নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করছে।
তিনি বলেন, যারা নারীদের অসম্মান করে, যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং যারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে, তারা কখনও দেশপ্রেমিক বা জনদরদি হতে পারে না।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। এর মধ্যে অন্তত ১০ কোটি নারী। এই বিশাল নারীসমাজকে পেছনে রেখে যত বড় পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, দেশকে সামনে নেওয়া সম্ভব নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্কুল থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন যাতে তারা শিক্ষিত হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের লক্ষাধিক নারী পোশাকশিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করছেন, অথচ তাদেরই আজ অপমান করা হচ্ছে।
১০ দিন আগে
আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়া থেকে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবুনপুরে আবু সাঈদের গ্রামে যান তিনি। কবর জিয়ারতের পর আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, মা মনোয়ারা বেগম, ভাই আবু হোসেন সহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এজেডএম জাহিদ হোসেন, রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেকসহ রংপুর জেলা ও পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন এবং তার বিদেহী আত্মর মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেছেন।’
‘আবু সাঈদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আজ দেশের সব মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যই শুধু নয়, আবু সাঈদ শিখিয়েছেন, কীভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বুক উঁচিয়ে দাঁড়াতে হয়। কীভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলির মুখে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়তে হয়, সেই শিক্ষাও আবু সাঈদ শিখিয়ে গেছেন।’
তিনি বলেন, ‘কেবল আবু সাঈদকে মৃত্যু দিবসে স্মরণ এবং তার কবর জিয়ারতের মধ্যে থাকলেই চলবে না, তার আত্মাত্যাগের শিক্ষাটাকে বাস্তবে রূপান্তর করার জন্য আমাদের সবাইকে উজ্জীবিত হতে হবে। তাহলেই আমার মনে হয়, আবু সাঈদের আত্মা শান্তি পাবে।’
আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যসহ গ্রামের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে।
কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান রংপুরের ঈদগা মাঠের উদ্দেশে রওনা দেন। দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপি চেয়ারম্যান রংপুরে গেলেন।
১৩ দিন আগে
২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমান, নেতা-কর্মীতে পূর্ণ নগরী
দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর পর রাজশাহী বিভাগ সফরে গেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উত্তরাঞ্চলে তিন দিনের সফরের অংশ হিসেবে আজ রাজশাহীতে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরইমধ্যে তিনি রাজশাহীতে পৌঁছেছেন।
তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিতে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেছেন নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। সকাল থেকেই দূর-দুরান্ত থেকে তারা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা ১১টার দিকেই কানায় কানায় পূর্ণ হতে শুরু করে মাদরাসা মাঠ। দুপুর ১২টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সভা শুরু হয়েছে।
তারেক রহমানের রাজশাহী সফর উপলক্ষে সকাল থেকেই মাদরাসা মাঠে ঢাক-ঢোল, পতাকা হাতে নিয়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ, ঢল নেমেছে সমর্থকদের। তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে দলীয় সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, তারেক রহমান তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে নিয়ে বেলা ১১টা ৫ মিনিটে ঢাকার বাসভবন ছাড়েন। পরে বিমানযোগে রাজশাহী পৌঁছান দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে। সেখানে তার শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজারে নামাজ জিয়ারত করার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপি যৌথভাবে একটি বড় জনসমাবেশের আয়োজন করেছে। মাঠের চারপাশে টাঙানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার। স্লোগান আর মিছিলের মাধ্যমে নেতা-কর্মীরা তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।
রাজশাহী বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত বলেন, রাজশাহী ছাড়াও আশপাশের জেলা ও উপজেলার নেতা-কর্মীরাও সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর কমিটি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘ধানের শীষের প্রার্থীর জন্য তিনি আসছেন, জনগণের জন্য তিনি আসছেন। তিনি আসছেন এই জন্য আমাদের যে ভোট ছিল তার চেয়ে আমাদের দ্বিগুণ ভোট বৃদ্ধি পাবে।’
সব মিলিয়ে সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসাহে মাদরাসা মাঠ ইতোমধ্যে পরিণত হচ্ছে এক বিশাল জনসমুদ্রে। দলের নেতারা আশা করছেন, এই সমাবেশ বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
সর্বশেষ, ২০০৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা স্টেডিয়ামে বিএনপির রাজশাহী বিভাগের তৃণমূলের প্রতিনিধি সভায় যোগ দিতে রাজশাহী গিয়েছিলেন তারেক রহমান।
১৪ দিন আগে
১২ ফেব্রুয়ারি ভোট ডাকাতি করতে দেবেন না: গাজীপুরে তারেক রহমান
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনকে স্মরণ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে গাজীপুরের মানুষের বিরাট একটা ভূমিকা রয়েছে। লাখ লাখ মানুষ রাজপথে অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছেন। এই যে গণতন্ত্রের লড়াই হয়েছে সেটি রক্ষা করতে আগামী ১২ তারিখ সবাই ভোরে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। ফজরের নামাজ ভোটকেন্দ্রের সামনে জামাত করে পড়বেন। যাতে আগে থেকেই কেউ সেখানে অবস্থান না করতে পারে। বিগত বছরে যেভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে এবার সেই ডাকাতি করতে দেবেন না। নিজ অধিকার নিশ্চিত করেই ফিরবেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১২টার দিকে গাজীপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে মহানগর বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেছেন।
তারেক রহমান গাজীপুরকে বাংলাদেশের গার্মেন্টসের রাজধানী উল্লেখ করে বলেন, এদেশে এই গার্মেন্টস শিল্প এনেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার হাত ধরেই শিল্পের প্রসার ঘটেছিল বাংলাদেশে। এর ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোন ও ভাইদের কর্মসংস্থান হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এদেশ থেকে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর কাজটিও বিএনপি সরকার করেছিল। এদেশের খেটে খাওয়া মানুষের উন্নয়নের জন্য জন্য যদি কেউ চিন্তা করে থাকে সেটিও বিএনপি সরকার। এই শিল্পকে নিয়ে আমাদের একটা বড় পরিকল্পনা রয়েছে। গাজীপুরে যাতে আরও লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয় সেই জন্য আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক ভাইদের কৃষিকার্ড প্রদান বাস্তবায়ন করব। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করব।’
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গাজীপুরের জয়দেবপুর রেল গেইট এলাকায় তীব্র যানজটে দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ। এই দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এখানে ফ্লাইওভার করতে হবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, গাজীপুরের মধ্যে বড় বড় কয়েকটি খাল রয়েছে সেগুলো হলো তুরাগ, লবনদহ ও চিলাই। আগামী ১২ তারিখ নির্বাচন শেষে এই তিন খাল খনন শুরু করব। সাথে আপনারা থাকবেন। দূষিত পানি যাতে আর গাজীপুরে না থাকতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও শিল্প কারখানায় মা-বোনদের নিরাপত্তার পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসনের জন্য কাজ করতে হবে।
বক্তব্যের মাঝে তারেক রহমান গাজীপুরের ৫টি আসনে মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদের সম্মুখে এনে পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় তিনি প্রার্থীদের জন্য ভোট প্রার্থনা করে বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে আমি এই মাঠে অনেক খেলেছি। শিশু কাল আমার এখানে কেটেছে। সে হিসেবে আমার ভোটের হক আছে। গাজীপুর নিয়ে আমাদের যেসব পরিকল্পনাগুলো রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে এই প্রার্থীদের পাশে থাকবেন। তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।’
এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তারেক রহমান। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর সড়ক ধরে নেতা-কর্মীদের ভিড় ঠেলে দীর্ঘসময় পর রাত পৌনে ১২টার দিকে স্ত্রী ডা.জোবায়দা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সভামঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান।
এই সমাবেশে গাজীপুর মহানগর বিএনপি সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুল, সাবেক সংসদ সদস্য হাসান উদ্দিন সরকারসহ মঞ্চে উপস্থিত বিএনপির অন্যান্য নেতারা।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই বিএনপির সমর্থকদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। দীর্ঘ ২০ বছর পর তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে যায় পুরো রাজবাড়ী ময়দান। দুপুরের পর থেকে দলে দলে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে মাঠে আসতে শুরু করেন। সন্ধ্যার আগে পুরো রাজবাড়ী মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এছাড়া সংসদীয় আসনে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষের কর্মী সমর্থকরা আলাদা ক্যাপ, হ্যান্ডবিল ও দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে আলাদা আলাদা ভাবে জড়ো হয়েছেন।
১৫ দিন আগে