তারেক রহমান
সরকারের ১০০ দিনে মন্ত্রিসভার ৬২ শতাংশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের ১০০ দিন পূর্ণ করেছে বিএনপি। এ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, ‘সরকারের অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞে সাধারণ মানুষের জীবনমানে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।’
তিনি বলেছেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মোট ১০টি কেবিনেট সভা সম্পন্ন করেছে। এসব সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ এরইমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ২৩টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।’
তিনি দাবি করেছেন, সরকার গঠনের পর এত স্বল্প সময়ে মন্ত্রিসভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের উল্লেখযোগ্য অংশ কার্যকর করতে সক্ষম হওয়া সরকারের দ্রুততা, কার্যকারিতা ও আন্তরিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মঙ্গলবার (২৫ মে) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের একশ দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও সাফল্যের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
মাহদী আমিন বলেন, গুম-খুন, হামলা-মামলা এবং দমন-পীড়নের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যার প্রতিফলন গত ১০০ দিনের উদার ও সহিষ্ণুতার নতুন মানদণ্ডে বারবার প্রতীয়মান হয়েছে। অন্যদিকে, বাকস্বাধীনতার নামে অপপ্রচার, বিদ্বেষ বা বিষোদগারের যে রাজনীতি একটি গোষ্ঠীর অপকৌশলে পরিণত হয়েছে, সেই চর্চা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের মাত্র ১০০ দিনের পথচলাতেই দেশের নানা ক্ষেত্রে দৃশ্যমান, সুস্পষ্ট ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। একইসঙ্গে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষমতায়ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার এক নতুন, দৃঢ় ও ইতিবাচক মেলবন্ধন।
তিনি আরও বলেন, গৃহীত বহুমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে জনজীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও শৃঙ্খলা। সরকারের রূপকল্পে দেশের ২০ কোটি মানুষ যদি একসঙ্গে কাজ করে, তরুণ ও নারীরা যদি ক্ষমতায়িত হন, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা অবশ্যই একটি মর্যাদাশীল ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হব।
৫ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে: ৫০০ কোটি ডলার অর্থায়নের আশ্বাস দিয়ে এডিবি প্রেসিডেন্ট
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল।
সোমবার (২৫ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতের সময় দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। এ সময় ৫০০ কোটি ডলারের অর্থায়ন ঘোষণার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সাক্ষাৎকালে কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। স্থিতিশীলতা রক্ষা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস উন্মোচন এবং উন্নত কর্মসংস্থান ও বিস্তৃত সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।’
এ বিষয়ে আজ (সোমবার) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান ঢাকা সফরে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রায় ১৪০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই করেছে এডিবি।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবজনিত অর্থায়ন ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়তা আরও ২৫ কোটি ডলার বাড়িয়েছে এডিবি। এ সংঘাতের কারণে জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও জাহাজ পরিবহনের ব্যয় বেড়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকিং খাতের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এডিবি সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, অতিরিক্ত অর্থায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগ আনা এবং জ্বালানি ও রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণ ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে আরও সহনশীল অর্থনীতি গঠনে সহায়তা করবে।
আগামী পাঁচ বছরে ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’-এর জন্য ৫ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে ব্যাংকটি।
সফরকালে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন কান্দা। প্রস্তাবটির লক্ষ্য বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
পাঁচ বছরের এ প্যাকেজের আওতায় বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলার দেওয়া হতে পারে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক সার্বভৌম প্রতিশ্রুতি কাঠামোর সঙ্গে কৌশলগতভাবে সমন্বিত হবে বলে জানা গেছে।
আরও জানা গেছে, মধ্যমেয়াদে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম প্রতিশ্রুতি প্রায় ২০০ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ২৪০ কোটি ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বাড়তি সহায়তা বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, সুশাসন জোরদার এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য এডিবি ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেবে। পাশাপাশি সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এডিবির আসন্ন কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি প্রণয়ন করা হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এর আগে এডিবি প্রেসিডেন্ট অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচি, সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ, বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজন এবং প্রবৃদ্ধি ও সহনশীলতা জোরদারে এডিবির সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া তিনি বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। বিনিয়োগের সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। পুঁজিবাজার দৃঢ় করা, বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প প্রস্তুত, সহ-অর্থায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে অতিরিক্ত বেসরকারি মূলধন সংগ্রহে সরকারকে সহায়তা করছে এডিবি।
১০ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
রবিবার (২৪ মে) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
১ দিন আগে
পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি ও আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (২৪ মে) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’ প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে জাতীয় সংসদ ভবনে স্থাপিত এক মেগাওয়াট ক্ষমতার এই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা এমন একটি উদ্যোগের উদ্বোধন করছি, যা শুধু একটা বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগই নয়, বরং এটা বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যতের একটি প্রতীক। জাতীয় সংসদ ভবনে এক মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার উদ্বোধনের মাধ্যমে আমার মনে হয় একটা বার্তা আমরা স্পষ্টভাবে দিতে পারব। সেটি হচ্ছে, বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি এবং আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে ধীরে ধীরে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জাতীয় সংসদ ভবনের এই উদ্যোগ দেশের সকল সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনুপ্রাণিত করবে। প্রতিটি ছাদ, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি নাগরিক যদি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির এই অভিযাত্রায় অংশ নেয়, তবে বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ খুব দ্রুতই একটি সবুজ এবং টেক উন্নয়নের মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘লুই কানের নকশায় নির্মিত এই জাতীয় সংসদ ভবন আমাদের গণতন্ত্রের প্রতীক। আর সেই ভবনের ছাদে সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা প্রমাণ করার চেষ্টা করছি যে নেতৃত্ব কিংবা নীতিতে নয়, বরং বাস্তব কর্মকাণ্ডে প্রতিফলন হতে হবে।’
১ দিন আগে
এক মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
আগামী এক মাসের মধ্যেশিশু রামিসা আক্তারের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২৩ মে) ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন-চার দিন আগে এই অত্যন্ত দুঃখজনক হৃদয় বিদারক একটি ঘটনা ঘটছে—এই ছোট্ট বাচ্চাকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখন আমরা প্রথম থেকে বলে এসেছি যে, আইনের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তি যদি অপরাধ করে, তাকে শাস্তি পেতে হবে। আইনের শাসন আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।
তিনি বলেন, আপনি যখন কোনো কাজ করেন, সেটি আপনার নিজের কাজ হোক, কৃষি কাজ হোক, সংসারের কাজ হোক…একটা নিয়ম কানুন আছে না? যেকোনো কাজ নিয়ম-কানুন মেনেই নিয়ে তো করতে হয়, তাই নয় কি?
তারেক রহমান বলেন, সবচেয়ে যেটি বড় ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদের সময়ে মানবতা, মানবিকতা ও দেশের আবহমানকালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে একেবারে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ঢাকার মিরপুরে একটি নিষ্পাপ মেয়ের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের মানবিক মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ মিলেছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে আজকের অনুষ্ঠানে আমি পরিষ্কারভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। এই ধরনের শিশু নির্যাতন বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। এবং বর্তমান সরকার রামিসার এই হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ইনশাল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যেই নিশ্চিত করবে। সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড, যেন ভবিষ্যতে কোনো মানুষ এভাবে শিশু বা নারী নির্যাতন করার সাহস না পায়।
রামিসা হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনাকে পুঁজি করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেকোনো অন্যায়কারীকে শাস্তি দিতে হলে, তাকে তার বিচার করতে হলে সরকারের কতগুলা নিয়ম-কানুন আছে। এখন আমরা খেয়াল করেছি, আপনারাও খেয়াল করেছেন, পত্র-পত্রিকায় দেখেছেন, রেডিও টিভিতে দেখেছেন, গত কয়েকদিন ধরে কিছুসংখ্যক মানুষ একটা পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে। রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিচ্ছে, যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে, এখানে আগুন ধরাচ্ছে, ওখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। এই কাজগুলো যারা করে, আপনারা কি মনে করেন, প্রথমে কি আইনের শাসনকে তারা বাধাগ্রস্ত করছে না, আইনকে আইনের মত কি চলতে দিচ্ছে? দিচ্ছে না।
সরকারপ্রধান বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল, সেই সময় আমরা দেখেছি দেশে কয়েকটি দুঃখজনক এরকম অন্যায় ঘটেছে। সেই অন্যায় যখন ঘটেছে আমি নিজে সেই সকল বাচ্চার মায়েদের সাথে কথা বলেছিলাম, আমাদের দলের আইনজীবী আমাদের দলের চিকিৎসকরা গিয়ে চিকিৎসা দিয়েছে, আইনজীবীরা গিয়ে সেই আইনি সহায়তা করেছিল।
২ দিন আগে
ত্রিশালের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করতে ময়মনসিংহের ত্রিশালের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টা ০৬ মিনিটে তিনি রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয় থেকে বের হন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
তিনি ইউএনবিকে জানান, আজ (শনিবার) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তার তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে আয়োজিত স্পোর্টস কার ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) একটি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন যানবাহন ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
তিনি বলেন, পরে আরেকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর বেলা ১১টা ৬ মিনিটে সেখান থেকে তার গাড়িবহর ত্রিশালের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
সফর সূচি অনুযায়ী, দুপুরে সেখানে গিয়ে প্রথমে ত্রিশালের বৈলর ইউনিয়নের ধরার খাল পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল ৩টায় তিনি ত্রিশালের নজরুল অ্যাকাডেমি মাঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন।
বিকেল ৫টায় স্থানীয় নজরুল অডিটরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি ঘিরে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন।
২ দিন আগে
শনিবার ময়মনসিংহ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল শনিবার ময়মনসিংহ সফরে যাচ্ছেন। সফরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন তিনি। এছাড়া, ত্রিশালে একটি খালের পুনর্খনন কাজেরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যার মধ্যে নজরুল বইমেলা এবং গ্রামীণ মেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, আগামীকাল (শনিবার) প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যসূচি অনুযায়ী, তিনি শনিবার সকাল ৯টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে ত্রিশাল রওনা হবেন।
দুপুর ১২টার দিকে তিনি বালর ইউনিয়নে ‘ধরার খাল’ পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করবেন।
ত্রিশাল ডাকবাংলোতে জোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর প্রধানমন্ত্রী দুপুর ৩টায় ত্রিশালের নজরুল মঞ্চে কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।
পরবর্তীতে বিকেল ৫টায় তিনি ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপি শাখার এক সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন।
তারেক রহমান সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে ত্রিশাল ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
৩ দিন আগে
বাসা থেকে হেঁটে গুলশান কার্যালয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ শুক্রবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তার বাসভবন থেকে হেঁটে সেখানে গিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ বাসভবনে আসরের নামাজ আদায় করার পর পায়ে হেঁটে কার্যালয়ে আসেন।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মেয়রদের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে ঈদের উপহারের চেক হস্তান্তরের জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এর আগে, চলতি বছর ঈদুল ফিতরের পূর্বেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার দিয়েছিলেন।
রুমন জানান, আগেরবারের মতোই তিনি এবারও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে বিতরণের জন্য সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের কাছে এই চেকগুলো হস্তান্তর করবেন।
৩ দিন আগে
পানি সংকট ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় পদ্মা, তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
পানি সংকট মোকাবিলা, কৃষি সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে পদ্মা ও তিস্তা—দুই নদীতেই ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার (২০ মে) গাজীপুর শহরের সাতাইশ চৌরাস্তায় জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক সুধী সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সকলের সামনে আজকে আমি পরিষ্কার একটি কথা বলে যাই, ইনশাআল্লাহ, এই বিএনপি সরকার পদ্মা ব্যারাজের কাজেও হাত দেবে। তিস্তা ব্যারাজের কাজেও হাত দেবে।’
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বেই তিস্তায় বিএনপি কর্মসূচি পালন করেছে যা বাংলাদেশে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল করে নাই। তারা হয়তো বড় বড় কথা বলেছে, গরম গরম কথা বলেছে, কিন্তু কাজ যদি কেউ করে থাকে, ডেলিভারি যদি কেউ করে থাকে, পরিস্থিতি যদি কেউ তৈরি করে থাকে, সেটা বিএনপিই করেছে। ইনশআল্লাহ, বিএনপি সেটা করবে।
পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, ভারত সীমান্ত এলাকায় উজানে ব্যারাজ নির্মাণ করে পানি প্রত্যাহার করায় শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে। এতে পরিবেশ ও কৃষিতে গুরুতর প্রভাব পড়ছে।
তিনি বলেন, শুকন মৌসুমে হয়ত আমরা কম পাচ্ছি। যার ফলে নদীতে পানির স্রোত কমে যাওয়ার ফলে অনেক সমস্যা হচ্ছে। আস্তে আস্তে আশপাশ শুকিয়ে যাচ্ছে। ছোটবেলায় আমরা দেখেছি, পদ্মা নদীর এপার থেকে ওপার দেখা যায় না। এখনও দেখা যায় না, তবে তখন পানি ছিল, আর এখন পানিশূন্য। এ কারণেই আমরা পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, পদ্মা ব্যারাজটি আমরা এই জন্য করতে চাচ্ছি যে বর্ষা বা শুকনো মৌসুম যখনই হোক, আমাদের দেশের কৃষকই হোক বা যেকোনো মানুষ, তারা যেন পানি পায়।
৫ দিন আগে
ভূমিসেবা নিতে মানুষকে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার এমন একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে ভূমিসেবা গ্রহণের জন্য মানুষকে আর অযথা অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না এবং দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হতে হবে না।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ উদ্বোধনকালে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমির মালিকানা, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, দাগ, পর্চা, নামজারি, জমা-খারিজ, মৌজা, সি-এস, আর-এস কিংবা ডি-এস—এসব বিষয়ের সঙ্গে জমির মালিকরা পরিচিত। আগে এসব বিষয়ে হালনাগাদ তথ্যের জন্য মানুষকে ভূমি অফিসে যেতে হতো। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে এখন ভূমি ব্যবস্থাপনাও আধুনিক হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে সেবাগ্রহীতারা ঘরে বসেই অনলাইনে জমিজমা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন। আর যারা নিজেরা অনলাইনে খাজনা পরিশোধ বা প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম নন, তাদের জন্য ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পরিচালনায় দেশের ৬১টি জেলায় বর্তমানে ৮৯৩টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু রয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত সেবামূল্যের বিনিময়ে নাগরিকরা সহজেই ভূমিসেবার আবেদন ও সরকারি ফি পরিশোধ করতে পারছেন। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, নাগরিকদের হাতের মুঠোয় ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে ‘ভূমি’ মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। ভূমি-জমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে যায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথও তত সহজ হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, অনলাইনভিত্তিক ভূমি ব্যবস্থাপনার ফলে জমিজমা সংক্রান্ত দুর্ভোগ কমবে এবং ভূমি অফিসে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও হ্রাস পাবে। একইসঙ্গে চলমান ভূমিমেলা জনগণকে আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আরও সচেতন করবে।
তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমে আসছে। ফলে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বাড়ছে, তেমনি জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা ও জটিলতাও বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ ব্যক্তি ও পারিবারিক শান্তি নষ্ট করার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
৬ দিন আগে