তারেক রহমান
সংসদ ভবন কমপ্লেক্স পরিষ্কার ও সংস্কারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
জাতীয় সংসদ ভবনের সুরক্ষিত এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং এর সৌন্দর্য ও পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্টদের তিনি এসব নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের মাঠ, বাগান ও বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।
এ সময় তিনি সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকার সার্বিক পরিবেশ, অবকাঠামোগত অবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
৪ ঘণ্টা আগে
আবদুল হাইয়ের জানাজায় প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ
জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে সাবেক উপমন্ত্রী ও পাঁচবারের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইয়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এরপর তারেক রহমান আবদুল হাইয়ের কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
জানাজায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুসহ সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুল হাই বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
৬ ঘণ্টা আগে
ঢাকার বায়ুদূষণ দেশের জন্য লজ্জার বিষয়: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকার অব্যাহত বায়ুদূষণ দেশের জন্য লজ্জার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ ও বন রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়ন বিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরিবেশ ও বন রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার কথাও বলেন তিনি।
সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের মাদার ট্রি চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া গাছ লাগানোর পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা, রোপণ করা চারা বেঁচে আছে কি না, তা নিজস্ব লোক পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়ন বাড়ানোর উপায় বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মানুষের প্রকৃতির মাঝে যাওয়ার জায়গা কম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের জায়গা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ছাদবাগান, স্কুলবাগানসহ বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরিতে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, কাজ তত সহজ হবে।
পরিবেশ ও বন রক্ষায় গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পৃথক পরিকল্পনা রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন সরকারপ্রধান।
এ সময় ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক বছর ধরে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসছে। এটি দেশের জন্য লজ্জার বিষয়।
এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
৭ ঘণ্টা আগে
সংস্কৃতি চর্চা ও শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং শিশুদের বই পড়ায় উৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় এসব নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতি হাজার বছরের। কিন্তু আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে আমরা তা হয়তো যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছি, নতুন নতুন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে যাব।’
এ সময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কীভাবে আরও বেশি করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা যায়, তা নিয়ে ভাবার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে শিশুদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া যায় কি না, তা সংশ্লিষ্টদের ভেবে দেখতে বলেন তিনি।
পাঠচক্র, বই পড়ার প্রতিযোগিতা এবং এ ধরনের অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় লালন উৎসব ও নজরুলবর্ষকে কেন্দ্র করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়।
ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসব উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত ও প্রস্তাবিত কর্মসূচি সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়।
সভায় জানানো হয়, আগামী শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসবে সার্কাস, গ্রামীণ সংস্কৃতি, নৌকাবাইচ, ঘুড়ি উৎসব, ঘোড়দৌড়, পাপেট শো, বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক উৎসব এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া জুলাই জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা তাদের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী শিল্পকলা একাডেমিগুলোকে আরও সক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে উপস্থিত সবারই কোনো না কোনো যোগ্যতা রয়েছে। সবাইকে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে কাজ করতে আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিই, তাহলে আমরা সবাই মিলে যে ধরনের দেশ দেখতে চাই, অন্তত তার কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন করতে পারব। দেশের জন্য কিছু করার সুযোগ আমাদের রয়েছে। আমরা যেন সেই সুযোগ কাজে লাগাই।’
সভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
সমাজে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী তিনজনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ
নিজ কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। শিক্ষার প্রতি নিষ্ঠা, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে তারা সমাজে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
অনুপ্রেরণাদায়ী এই তিন ব্যক্তি হলেন বুয়েট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নাইলা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) তারা বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়ে তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তারেক রহমান তাদের জীবনসংগ্রাম ও সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পাশাপাশি তাদের অবদানের প্রশংসা করেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’
নাইলা শারাফ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি জনতা ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেন।
৩৪তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিক্ষকতা পেশা বেছে নেন।
সাত বছর ধরে তিনি নেত্রকোনার পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শেখার প্রক্রিয়া সহজ করতে তিনি শিক্ষাসামগ্রী ও ডিজিটাল কনটেন্টও তৈরি করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা আরেক ব্যক্তি নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন। জন্ম থেকেই তার দুই হাত নেই। একপর্যায়ে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন তিনি। এরপর ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।
নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির টাকা দিয়ে তিনি বিদ্যালয়টি গড়ে তোলেন। বর্তমানে সেখানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী ও ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আলতাফ পা দিয়ে লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তার জীবনসংগ্রামের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন একটি বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে সহায়তার আশ্বাস দেন।
ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুলও দীর্ঘদিন ধরে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রমে সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।
নার্সারি গড়ে তুলতে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করার পর সেখানে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন তিনি। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তিনজনের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং এ ধরনের কাজ অন্যদেরও ভালো কাজে উৎসাহিত করে।
তিনি তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন এবং সহায়তার আশ্বাস দেন।
১ দিন আগে
নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার জন্য স্থাপিত ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার (মোবাইল ল্যাবরেটরি ভ্যান) পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে প্রবেশের আগে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারটি পরিদর্শন করেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু)।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নিচে রাখা পরীক্ষাগারটির ভেতরে প্রবেশ করে খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া দেখেন তিনি।
এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরীক্ষাগারটির কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে জানান।
কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, দেশের ৬৪টি জেলায় ভেজালবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খাদ্য পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের আটটি মহানগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
১ দিন আগে
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতামূলক প্রচার জোরদার এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু)।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিশেষ করে যেসব এলাকায় মানুষ বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন, সেসব এলাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসাধারণের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
এ জন্য পাড়া ও মহল্লায় নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি জুমার নামাজের খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন তিনি।
সভায় সরকারি আবাসিক কোয়ার্টার ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়।
পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন অংশ নেন।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী
ধর্মের ভিত্তিতে নয়, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে যার যে অধিকার রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তার দায়িত্ব।
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন।
দুর্গাপূর্জা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওই আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা দেখা করে তাকে পূজার আমন্ত্রণ জানান।
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুদের কল্যাণে সরকারের নানা উদ্যোগের প্রশংসা করেন নেতৃবৃন্দ। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়িয়ে দেওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই বলেছেন, এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।’
দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন ও ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’
এ সময় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, তার মুসলমান কর্মীরা যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তেমনি হিন্দু কর্মীরাও একইভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। সেখানে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহ আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’
নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের একজন নাগরিক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আপনার যে অধিকার, আপনার যা প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে আমার যে কর্তব্য, আমি সেটাই পালন করার চেষ্টা করছি।’
প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। তাদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না।
সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে জানিয়ে তারা আরও বলেন, বিএনপিকে ভোট দিয়ে যে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ভুল করেনি, তা এই সরকার ক্ষমতার গ্রহণের পরপর বারবার প্রমাণ হচ্ছে।
এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূর্জা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস, রাজিব কুমার আচার্য উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি ও বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও ছিলেন।
৩ দিন আগে
জ্বালানি, কৃষি ও জলবায়ু অর্থায়নে কানাডার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী
জ্বালানি, কৃষি ও জলবায়ু অর্থায়নে কানাডার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই সঙ্গে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনকে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানান, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, খাদ্যনিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। এতে দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। সংকটটির উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও সেখানেই করতে হবে।
রণদীপ সরাই রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার গুরুত্বের বিষয়ে একমত হন।
কানাডার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে কানাডা সম্ভাব্য অংশীদার হতে পারে বলে জানানো হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা জানানো হয়।
কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন
বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে কানাডা।
নার্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং দক্ষ নার্স তৈরির ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এ খাতে কানাডার ইতোমধ্যে কার্যক্রম রয়েছে এবং তা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা
এছাড়া ডাল ও তৈলবীজের মতো কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহে সহযোগিতা জোরদার করার সুযোগ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করে কানাডা।
আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিমিট) মাধ্যমে বাস্তবায়িত চলমান কর্মসূচিগুলো সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশের কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। এ কর্মসূচির আওতায় সরকার কৃষকদের সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের পরিকল্পনা করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষি খাতে আরও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সরকারি সহায়তা আরও ভালোভাবে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
এ খাতে তথ্য ব্যবস্থাপনা ও উপাত্তভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে কানাডার অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ কীভাবে উপকৃত হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
৩ দিন আগে
জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা জাতীয় স্বার্থে ব্যয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ দেওয়া জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যাতে সঠিকভাবে দেশের ও মানুষের স্বার্থে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা-সংক্রান্ত সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা অনেকগুলো প্রকল্প গ্রহণ করেছেন, অনেকগুলো লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন। সেই লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনের জন্য অবশ্যই সরকার থেকে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু এটা জনগণের অর্থ। আমি আশা করব, জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা যাতে সঠিকভাবে দেশের স্বার্থে ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে আপনারা সবাই মনোযোগ দেবেন।’
সরকারি দায়িত্বকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থানে রয়েছেন। এই সুযোগকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যারা এখানে আছি, বাংলাদেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় আমরা সবাই সুবিধাপ্রাপ্ত। আল্লাহ আমাদের দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করার একটা সুযোগ দিয়েছেন। যার যতটুকু কাজ করার সুযোগ আছে, আমরা যেন সেই কাজটি আন্তরিকভাবে করতে পারি। আমাদের সবার সেই চেষ্টা থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনের সুযোগ সবসময় থাকে না। তাই যে যখন যে দায়িত্বে রয়েছেন, তাকে সেই সুযোগ দেশের ও মানুষের কল্যাণে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
সভায় মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই চেষ্টা করি, যার হাতে যত দিন সুযোগ আছে, সেই সুযোগটা যেন মানুষ ও দেশের জন্য ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি।’
এছাড়া সভায় কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আবারও আলোচনা করার কথা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী বৈঠকগুলোতে কর্মকর্তারা আরও খোলামেলাভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও মতামত তুলে ধরবেন।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে