তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রীকে অশোভন ভাষায় আক্রমণ করছে বিরোধীরা: রিজভী
বিরোধী দলের কিছু নেতা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অশোভন ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলগুলোর রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল প্রধানমন্ত্রীকে অশোভন ভাষায় আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এ সভার আয়োজন করে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১১ দলীয় জোট বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরোধিতা করছে। তবে সরকার বারবার স্পষ্ট করেছে, বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচি পালন, কথা বলা ও সরকারের কঠোর সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে।
বিরোধী দল আয়োজিত দুটি লংমার্চ কোনো বাধা ছাড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে বিরোধী দলগুলোকে তাদের কর্মসূচি পালন ও কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘তারা কথা বলুক। এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমাদের আপত্তি অন্য জায়গায়।’
রিজভীর মতে, গণতন্ত্রের অর্থ এই নয় যে কেউ যা ইচ্ছা তাই বলতে পারবে। তিনি বলেন, ‘যা বলবেন, সত্য বলবেন।’
তিনি আরও বলেন, বিরোধীরা সংকট নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে পদত্যাগ করবেন, সে বিষয়ে এক-দুই দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।
রিজভী বলেন, কিন্তু যখন সেটা ‘তুই-তুকারি’তে চলে আসে, তখন সেটা ফ্যাসিবাদের সংস্কৃতি।
প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে সম্বোধন করা নিয়ে এক বিরোধী নেতার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করা তার মতে ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ের সংস্কৃতির’ মতো।
তিনি আরও বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ও খালেদা জিয়াকে একই ধরনের ভাষায় সম্বোধন করতেন।
রিজভী জানান, এ ধরনের ভাষা নিয়ে তার সঙ্গে সাধারণ মানুষও গভীরভাবে বিরক্ত ও কঠোরভাবে সমালোচনামুখর ছিলেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোতে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি দেখতে পাওয়ায় বিএনপিকে এর জবাব দিতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের উত্তর দিতেই হবে। তবে সেই উত্তর অবশ্যই আমাদের বিরুদ্ধে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, সেই ভাষায় নয়। বরং মার্জিতভাবে কঠোর ও দৃঢ় ভাষায় কথা বলেছি।’
তিনি আরও বলেন, কঠোর সমালোচনা করলে, সেখানেও মার্জিত শব্দ ব্যবহার করা যায় এবং বিএনপি সেটিই করার চেষ্টা করছে।
এছাড়া শুধু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষা নয়, ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেও কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐক্য বা বোঝাপড়া থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ ফিরে এলে ‘গণতন্ত্রের কথা বাদই দিলাম, রাষ্ট্রই তো থাকবে না।’
৪ ঘণ্টা আগে
জাতিসংঘে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নিউইয়র্কে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মাহ্দী জানান, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৩টায়) প্রধানমন্ত্রী ইউএনজিএ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এটি তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।
মাহ্দী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণের মধ্য দিয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। কারণ তিনি তার বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন, যারা এর আগে ইউএনজিএতে ভাষণ দিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন, যা বাংলাদেশের জনগণের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম সফরে গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান তারেক রহমান। এর আগে প্রথম দুটি রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন।
৯ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বাংলাদেশ ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
দুই দেশের সরকারপ্রধান অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় ফোরামে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
১১ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী ইউএনজিএর প্রথম দিন ১০ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন: মাহ্দী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্ধারিত ১০টি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক, আঞ্চলিক, মানবিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ গুরুত্ব পেয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, দিনের কর্মসূচিতে বহুপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়, রোহিঙ্গা সংকট ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী দিনের কর্মসূচি শুরু করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রাতঃরাশে অংশ নিয়ে। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে আয়োজিত ওই প্রাতঃরাশের পর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক পর্বের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন।
আঞ্চলিক পর্যায়ে তারেক রহমান ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া তিনি হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও অংশীদারত্ব জোরদারসহ অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে এসব বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতাসহ দুই দেশের সামগ্রিক অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
হুমায়ুন কবির বলেন, ভুটানের প্রধানমন্ত্রীও দুই দেশের বিশেষ সম্পর্ক এবং এ অংশীদারত্ব আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মাহ্দী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধিদের ও মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
এছাড়া তিনি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং বৈশ্বিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তেল, গ্যাস ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে সৃষ্ট বৈদেশিক অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে সহায়তা বাড়াতে বিশ্বব্যাংক সম্মত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির মধ্যে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা ছিল বলেও জানান মাহ্দী।
অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকতে না পারায় তার মনোনীত একটি উচ্চপর্যায়ের দল মেটার সঙ্গে বৈঠক করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মেটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক হওয়ায় আলোচনায় কোম্পানিটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং দেশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উঠে আসে।
প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর ১২টি কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ইউরোপীয় কাউন্সিল ও মেটার সঙ্গে বৈঠক—এ দুটি কর্মসূচিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অংশ নিতে পারেননি বলে মাহ্দী জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ ও দেশের মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার সরকারের প্রচেষ্টা প্রতিফলিত হয়েছে।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, জাতিসংঘে বাংলাদেশের ডেপুটি পার্মানেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিউর রহমান রুমন, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি ও সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক খান উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্ব সংস্থাটিতে এটিই হবে তার প্রথম ভাষণ।
১ দিন আগে
ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে আসা বিশ্বনেতাদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কের বিলাসবহুল লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এ নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়।
জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীরা এ নৈশভোজে অংশ নেন।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রাতঃরাশেও অংশ নেন। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে ওই আয়োজন করা হয়।
ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
১ দিন আগে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক (জেনারেল ডিবেট) পর্বে যোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে এ অধিবেশনে যোগ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব মো. নাজমুল হক খান জানান, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রতিনিধিদলের প্রধান ও তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে আয়োজিত স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেওয়ার পর সকাল ৯টার দিকে তারেক রহমান সাধারণ বিতর্ক পর্বে যোগ দেন।
প্রাতঃরাশে তারেক রহমান তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অন্যান্য বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গী এবং গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। এ সময় তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব ও তার স্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সাধারণ পরিষদ হলে বর্ণানুক্রমিকভাবে আসন বিন্যাস অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল সামনের সারিতে বসে।
প্রধানমন্ত্রী হলে প্রবেশের পর ৮১তম ইউএনজিএ অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানকে শুভেচ্ছা জানান এবং এরপর নিজের আসনে বসেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গত ২ জুন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ৯৯ ভোট পেয়ে ৮১তম ইউএনজিএ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন।
প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদ হলে প্রবেশ করে আসনে বসার পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বোধনী বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান বসেন। তার পেছনে বসেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন ও পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সফরে ৩৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
আজ (মঙ্গলবার) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রথম দিন সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্ব সংস্থাটিতে এটিই হবে তার প্রথম বক্তব্য। তিনি বাংলায় বক্তব্য দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউএনজিএর অধিবেশনের পাশাপাশি নিউইয়র্কে সংক্ষিপ্ত সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
২ দিন আগে
জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রাতঃরাশে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজনে প্রাতঃরাশে অংশ নিয়েছেন।
বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে আয়োজিত এ প্রাতঃরাশে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিনের কর্মসূচি শুরু হলো।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, এদিন স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় নর্থ ডায়ালগ লাউঞ্জে এ প্রাতঃরাশের আয়োজন করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান প্রাতঃরাশে অংশ নেন। এ সময় জাতিসংঘ মহাসচিব তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এর আগে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে (ইউএনজিএ) যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে পৌঁছান।
প্রাতঃরাশের পর তারেক রহমান সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন এবং অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
২ দিন আগে
নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
তাকে বহনকারী তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট নিউইয়র্ক সময় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্যান্য সফরসঙ্গী।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
রুমন জানান, জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। হোটেলে তাকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।
নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে অবস্থান করবেন।
নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব।
২ দিন আগে
নিউইয়র্কের পথে তুরস্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রাপথে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ইউএনবিকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং অন্য সফরসঙ্গীদের বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আজ (সোমবার) স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতির পর স্থানীয় সময় বেলা ২টা ১০ মিনিটে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সোমবার ভোরে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো ইউএনজিএ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্য সফরসঙ্গীদের নিয়ে টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সকাল ৬টা ৭ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন তারেক রহমান।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম এবং সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে তার জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
এরপর তাকে মোটর শোভাযাত্রায় করে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। সফরকালে সেখানেই থাকবেন তিনি।
ইউএনজিএতে তুলনামূলক ছোট ৩৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও ড. মো. সাইমুম পারভেজও প্রতিনিধিদলে রয়েছেন।
রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।
সেখানে মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে প্রত্যাবাসনে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমর্থন চাইবে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্রসচিব রোহিঙ্গা সংকটকে ‘চলমান সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বনেতাদের এ সমাবেশকে কাজে লাগিয়ে সংকটের ব্যাপকতা, এর কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
বাংলাদেশ মনে করে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এ সংকটের স্থায়ী সমাধান।
জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
জলবায়ু পরিবর্তনও প্রধানমন্ত্রীর এবারের জাতিসংঘ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এসব বৈঠকে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন সহায়তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করবেন তিনি।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবিলায় আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আয়োজনে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ে একটি পার্শ্ব অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক
আগামীকাল ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে দেওয়া প্রাতঃরাশে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী কার্যক্রমে যোগ দেবেন।
সফরকালে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে তার।
এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকগুলোতে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে আয়োজিত অভ্যর্থনাতেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
২৩ সেপ্টেম্বর সকালে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দাতব্য ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠক করবেন তিনি। পরে জলবায়ু ও বৈশ্বিক বৈষম্যবিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ওই দিন বোয়িংয়ের গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ ও বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির আয়োজনে তার সম্মানে দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।
অর্থনৈতিক কূটনীতিতে গুরুত্ব
সফরে অর্থনৈতিক কূটনীতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে ম্যানহাটনে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির আয়োজনে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, উৎপাদন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া মেটা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে বৈঠক এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জায়েদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ড. কালী প্রদীপ চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেছেন, সফরে জাতিসংঘের কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ অন্যান্য কর্মসূচির সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে।
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে এমিরেটসের ইকে-২০২ ফ্লাইটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
৩ দিন আগে
ক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর: মাহ্দী আমিন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরকে ‘আড়ম্বর অনুষ্ঠান নয়, মানুষের জন্য কাজ’ এবং ‘ক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যেতে এক দিন, ফিরতে এক দিন। মাঝের মাত্র চার দিন। এক মুহূর্তও নষ্ট না করে, এই চার দিনেই একের পর এক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি এবং বাংলাদেশের স্বার্থে কূটনৈতিক ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে মাত্র ছয় দিনের সফর।
তিনি বলেন, সফরের আনুষ্ঠানিক সফরসঙ্গী ৩৫ জন। এর মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ১৫ জন। রয়েছেন নিরাপত্তা, মিডিয়া ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত অত্যাবশ্যকীয় ব্যক্তিরা।
‘আড়ম্বর অনুষ্ঠান নয়; মানুষের জন্য কাজ। ক্ষমতা প্রদর্শন নয়; বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা’ উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, এই সফর একই সঙ্গে পৃথিবীর ইতিহাসেও একটি বিশেষ মুহূর্ত।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর তাদের সন্তান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দাঁড়াবেন জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে। একই পরিবারের তৃতীয় প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বলবেন বাংলাদেশের মানুষের কথা, দেশের স্বার্থ, সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের আরও একটি অনন্য দিক রয়েছে উল্লেখ করে তার কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, ঠিক সেই জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির আসনে থাকবেন তারই সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘ দুই দশকের অনিঃশেষ ত্যাগ-সংগ্রাম ও আন্দোলন-গণঅভ্যূথান পেরিয়ে, গণতান্ত্রিক সরকার আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে। বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কণ্ঠ নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের দরবারে।
‘এটি শুধু একটি বিদেশ সফর নয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি শুধু জাতিসংঘে দেশকে তুলে ধরা নয়; এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার আন্তর্জাতিক বহিঃপ্রকাশ। এটি আবেগ, অনুভূতি ও আদর্শের ঐতিহ্য। এটি বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের সূচনা।
৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পাঁচ দিনের সফরে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বৈষম্য, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক কূটনীতি নিয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
তুরস্ক এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার পর প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন।
ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতির পর স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে তার জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা। সফরকালে তিনি হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন।
সফরের প্রধান আকর্ষণ হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন। তার বাংলায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
৩ দিন আগে