বজ্রপাত
নওগাঁয় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত
নওগাঁয় পৃথক উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে রাণীনগর ও মান্দা উপজেলায় মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন— রাণীনগর উপজেলার মালশন গ্রামের মোহাম্মদ খয়বর আলীর ছেলে সাখাওয়াত হোসেন (৫৫) ও মান্দা উপজেলার এলেঙ্গা মৃধাপাড়া এলাকায় তহির সরদারের ছেলে ইসমাইল সরদার (৫০)।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, গতকাল (বুধবার) মধ্যরাত থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। সকালে সাখাওয়াত হোসেন বাড়ির পাশে তার নিজ জমিতে কৃষি কাজ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মতিন মণ্ডল বলেন, সকালে ইসমাইল সরদার নিজ জমিতে কাজ করতে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হলে বিকটশব্দে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
নওগাঁর রাণীনগর ও মান্দা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত প্রতিটি পরিবারকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ফান্ড থেকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থ সহযোগিতা করা হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পাদন করা হচ্ছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে আধুনিক প্রযুক্তির দিকে যাচ্ছে সরকার: সংসদে ত্রাণমন্ত্রী
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিদ্যমান জাতীয় নীতিমালা আধুনিকায়ন এবং বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে সরকার মাঠপর্যায়ে নানা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
বজ্রপাতে প্রাণহানি প্রসঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসন-২-এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানার প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দেশের বজ্রপাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে প্রাণহানি কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাস ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বজ্রপাতের পূর্বাভাস তৈরি করে তা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি ‘ইন্টিগ্রেটেড ভয়েস রেসপন্স (আইভিআর)’ প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া মাঠপর্যায়ে লিফলেট বিতরণ, পোস্টার প্রচার এবং বিশেষ মহড়ার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় কৃষক ছাউনি-কাম-বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন এবং ব্যাপক হারে তালগাছ রোপণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, সংরক্ষিত নারী আসন-১০-এর সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী, টর্নেডো, বন্যা, খরা ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার ইতোমধ্যে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২’, ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০১৫’, ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (২০২১-২০২৫)’ এবং ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডারস অন ডিজাস্টার (এসওডি)’ প্রণয়ন করেছে।
তিনি বলেন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিদ্যমান পরিকল্পনাগুলোকে আরও সময়োপযোগী ও হালনাগাদ করতে কাজ করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে এসওডি সংশোধন এবং ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের নতুন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষিত জনবল গঠন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও গবেষণা কার্যক্রম গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করেছেন। এর ফলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৩১ দিন আগে
ভোলার চরফ্যাশনে বজ্রপাতে জেলে নিহত, মনপুরায় ঝড়ে দোকানপাট লন্ডভন্ড
ভোলার চরফ্যাশনে ঈদের আগে আকস্মিক ঝড়ো বাতাসসহ বজ্রপাতে এক জেলে নিহত হয়েছে। ঝড়ে আরেক উপজেলায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে চরফ্যাশনে বজ্রপাতে এক জেলের মৃত্যু হয়। একই সময়ে ে। এতে প্রায় ১৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়রা জানান, চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের আলম মৎস্যঘাট-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন সজীব (২৯) নামে এক জেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সামছুল হক মাঝির ছেলে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও এক জেলে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে মাছ ধরতে নদীতে গেলে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বজ্রাঘাতে নৌকাতেই সজীবের মৃত্যু হয়। পরে অন্য জেলেরা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ আহমেদ জানান, এটি বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরদিকে, মনপুরা উপজেলার ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট এলাকায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে পাঁচটি দোকানঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দোকানে খাদ্যসামগ্রী ও বিভিন্ন মালামাল মজুত করেছিলেন তারা। কিন্তু ঝড়ের তীব্রতায় দোকানঘর ভেঙে পড়ে এবং অনেক মালামাল নদীতে ভেসে যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু মুসা বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৪৪ দিন আগে
বরিশালে বজ্রপাতে নিহত ২
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় আকস্মিক বজ্রপাতে পানবরজের দুইজন শ্রমিক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়ার ভিমেরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল। এ সময় আরও এক শ্রমিক গুরুতর আহত হলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিহতরা হলেন— গৌরনদীর মাহিলাড়ার ভিমেরপাড় গ্রামের আবু তালেব হাওলাদারের ছেলে আলিম হাওলাদার (৬০) ও উজিরপুরের খাটিয়ালপাড়া গ্রামের মুকুন্দ বালার ছেলে সুকান্ত বালা (৩৮)। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তি গৌরনদী উপজেলার দেওপাড়া গ্রামের জীতেন সরকারের ছেলে গোপাল সরকার (৪০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উল্লিখিত তিনজনে ভীমেরপাড় এলাকার একটি পানবরজে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে তারা পানবরজের পাশের একটি ছাউনীতে আশ্রয় নেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান এবং গোপাল গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান।
গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তৌকির হোসেন জানান, দুজনকে মৃত অবস্থায় এবং একজনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে গোপালকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, বজ্রপাতে দুই শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪৯ দিন আগে
ভারতের উত্তরপ্রদেশে ধূলিঝড় ও বজ্রপাতে ৯৬ জন নিহত
ভারতের উত্তরপ্রদেশে ধূলিঝড়, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতে কমপক্ষে ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে আরও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হওয়াসহ ঘরবাড়ি এবং অন্যান্য স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় আঘাত হানে বলে আজ বৃহস্পতিবার দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, গাছ উপড়ে পড়া, ঝড়ে মৃত্যুসহ বজ্রপাত ও স্থাপনা ধসে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবেলা দল বেশ কয়েকটি জেলায় সড়ক ও রেলপথ থেকে উপড়ে পড়া গাছ সরাতে চেইন স এবং ক্রেন ব্যবহার করেছে।
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মে উত্তর ভারতে ঝড়-বজ্রপাত একটি নিয়মিত ঘটনা।
স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা নরেন্দ্র এন শ্রীবাস্তব জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি পরিষেবা দল মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঝড়ে বিশেষত গ্রাম এলাকার ঘরবাড়ি, ফসল ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তীব্র বাতাসে আতঙ্কের বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রয়াগরাজ জেলায় বাসিন্দা রাম কিশোর বলেন, ‘হঠাৎ করে ঝড় উঠে কয়েক মিনিটের মধ্যে আকাশ সম্পূর্ণ অন্ধকার হয়ে যায়। ঝড়ে তোড়ে বাড়িঘরের টিন উড়ে যাচ্ছিল। সজোরে গাছ পড়ার শব্দও শুনতে পাচ্ছিলাম। আতঙ্কে সবাই দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছিল।’
পার্শ্ববর্তী ভদোহি জেলার সাবিত্রী দেবী জানান, ঝড়ের তীব্রতায় তাদের মাটির ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনোমতে তার পরিবার রক্ষা পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তীব্র বাতাসের কারণে ঘরের দেওয়াল কাঁপতে শুরু করলে আমরা ছুটে বাইরে বের হয়ে যাই। কিছুক্ষণ পরেই আমাদের ছাদটা ধসে পড়ে। রাতটা কোনোমতে আমরা এক আত্মীয়ের বাড়িতে কাটিয়েছি।’
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম সম্পন্ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ ও জরুরি সহায়তা প্রদানের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
৫৬ দিন আগে
বজ্রপাতে তিন জেলায় ৫ প্রাণহানির খবর
সারা দেশে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে আকস্মিক বজ্রপাতে পৃথক স্থানে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই মাঠে ধান কাটা ও কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিলেন।
বুধবার (৬ মে) দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে নওগাঁ, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলায় এ ঘটনাগুলো ঘটে বলে ইউএনবির জেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
নওগাঁয় তিন কৃষক নিহত
নওগাঁর মহাদেবপুর ও নিয়ামতপুর উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে তিন কৃষক নিহত হয়েছেন।
আজ (বুধবার) বিকেলে ধান কাটার সময় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, উপজেলার কুড়াপাড়া গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে দিলীপ চন্দ্র বর্মন নামে এক কৃষক নিহত হন।
অন্যদিকে, নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান জানান, এ উপজেলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে হাজিনগর ইউনিয়নে ধান কাটার সময় রফিকুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে শ্রমিকের কাজ করতে এসেছিলেন।
এছাড়া চন্দননগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে ধান ঘরে তোলার সময় বজ্রপাতে অনুকূল চন্দ্র মোহন্ত নামে এক ব্যক্তি মারা যান।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত এই তিন ব্যক্তির পরিবারকে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
কুড়িগ্রামে ধান কাটতে গিয়ে প্রাণহানি
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় ধান কাটতে গিয়ে মো. ওবাইদুল হক (৪৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
আজ দুপুরে উপজেলার বদিজামালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে নিজের জমিতে ধান কাটার সময় বৃষ্টির সঙ্গে আকস্মিক বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লাহ হীল জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, এ বিষয়ে এখনও থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।
লালমনিরহাটে ভুট্টাখেত থেকে ফেরার পথে কৃষকের মৃত্যু
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভুট্টাখেত থেকে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে ইউসুফ আলী (৩৫) নামে এক কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন।
বুধবার দুপুরে উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের ভুল্লারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ইউসুফ আলী ওই এলাকার আকবর আলীর ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, কাজ শেষে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে দ্রুত বাড়ি ফেরার সময় পথে বজ্রপাতের শিকার হন তিনি। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চলতি মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কৃষি-সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় প্রশাসন মাঠে কর্মরত কৃষকদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
৬৪ দিন আগে
শরিয়তপুরে নদীতে মাছ ধরতে নেমে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় কীর্তিনাশা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে রাজিব শেখ (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের মাইজপাড়া-সংলগ্ন নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাজিব ওই এলাকার হারুন শেখের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষিকাজ করতেন এবং অবসরে নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (বুধবার) দুপুরের দিকে হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে বৃষ্টি শুরু হয় এবং বজ্রপাত হয়। এ সময় রাজিব নদীতে মাছ ধরছিলেন। বজ্রপাতের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে এলেও তার প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
জপসা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দুলাল মকদম বলেন, ‘হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক উদ্ধার চেষ্টা করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ূম জানান, বজ্রপাতে এই মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি বলেন, ‘তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন শোকাহত পরিবারের পাশে রয়েছে।’
৭০ দিন আগে
বরিশালে দুই বিদ্যালয়ে বজ্রপাতে শিক্ষকসহ ১৬ জন আহত
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পৃথক দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বজ্রপাতের ঘটনায় এক শিক্ষকসহ ১৬ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ক্লাস চলাকালে উপজেলার চর এককরিয়া ইউনিয়নের দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং আলীমাবাদ ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুর সোয়া ২টার দিকে বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা ছোটাছুটি শুরু করে। এ সময় ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা ফারুকুল ইসলামসহ ৮ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাদের কয়েকজন জ্ঞানও হারান।
আহতরা হলেন— ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা ফারুকুল ইসলাম, সপ্তম শ্রেণির জান্নাত বেগম, অষ্টম শ্রেণির ফাতেমা বেগম দোলা, আমেনা বেগম, সুমাইয়া বেগম, মীম আক্তার এবং নবম শ্রেণির আফরোজ আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার মৌ বলেন, ‘দুপুরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের ওপর বজ্রপাত হয়। স্যারসহ আমরা কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।’
পরে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক ও স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুর সোয়া ২টায় ক্লাস চলাকালে হঠাৎ বজ্রপাতে এ ঘটনা ঘটে। আমরা দ্রুত আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
একই সময়ে আলীমাবাদ ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বজ্রপাতের ঘটনায় আরও ৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানান বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বাহাদুর মৃধা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দিন ফকির বলেন, ‘বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে শিক্ষার্থীরা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ও অজ্ঞান হয়ে যায়। তাদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুল কাদের বলেন, বজ্রপাতে আহত হয়ে দাদপুর স্কুলের ৮ জন হাসপাতালে এসেছে। তবে তাদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তারা অনেকটা সুস্থ। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহি উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আমি আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’
৭১ দিন আগে
রাজবাড়ীতে বজ্রপাতে বাবার মৃত্যু, কোল থেকে ছিটকে বাঁচল মেয়ে
রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুরে বাড়ির পাশে দোকানে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে সুমন মন্ডল (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সুমনের কোলে থাকা সাড়ে ৩ বছরের মেয়ে কোল থেকে ছিটকে পড়ে প্রাণে বেঁচে যায়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মজ্জৎকোল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন ওই গ্রামের সিদ্দিক মন্ডলের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, আজ (বুধবার) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মেয়ে সাফিয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি দোকানে যাচ্ছিলেন সুমন। বৈরী আবহাওয়াতে হঠাৎ বজ্রপাত হলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এ সময় শিশুটি তার কোল থেকে ছিটকে দূরে পড়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন সুমনকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে কোল থেকে ছিটকে পড়লেও শিশুটি আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছে।
মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি)দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, সুমন মন্ডলের এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।
৭১ দিন আগে
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত, হাওরে ধান কাটার সময় সতর্কতা জারি
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বজ্রপাতে পৃথক ঘটনায় দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জ উপজেলায় আরও তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে জেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটার সময় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েন তারা।
নিহতরা হলেন— সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আব্দুর কাদিরের ছেলে জমির উদ্দিন (৪০) এবং একই উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের কায়িদ হোসেনের ছেলে জমির হোসেন (৪২)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ (সোমবার) দুপুরে আকাশ যখন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আসে, জমির উদ্দিন তখন অন্যান্য কৃষকদের সঙ্গে আব্দুল্লাহপুর গ্রামের দেখার হাওরে ধান কাটছিলেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, প্রায় একই সময়ে গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের বাসিন্দা জমির হোসেন বাড়ি থেকে বের হয়ে গ্রামের নদীঘাটে দোকান খুলতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতের কবলে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকেও উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শফিকুর রহমান দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ছাড়াও, সুনামগঞ্জের পার্শ্ববর্তী শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আরও তিনজন কৃষক আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন।
হাওরাঞ্চলে ধান কাটার ভরা মৌসুমে বজ্রপাতে প্রাণহানির এমন ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও প্রশাসন হাওরে কর্মরত কৃষকদের দুর্যোগের পূর্বাভাস মেনে সতর্ক থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। দুর্যোগের সময় খোলা জায়গা বা হাওর থেকে দ্রুত নিরাপদ পাকা স্থাপনায় আশ্রয় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
৭৩ দিন আগে