বিমানবন্দর
বিমানবন্দরে কাপড়ের চালান থেকে ১,৬৫৫ মোবাইল ফোন জব্দ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় কাপড়ের রোল হিসেবে আনা একটি চালান থেকে এক হাজার ৬৫৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
এনবিআর জানায়, থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে আমদানি করা চালানটি হংকং থেকে আসে। কাপড়ের রোলের ভেতরে ও সেগুলোর সঙ্গে লুকানো অবস্থায় মোবাইল ফোনগুলো পাওয়া যায়। জব্দ করা মোবাইল ফোনের মধ্যে রয়েছে ৪৫০টি রেডমি ১৪সি, ১৫০টি রেডমি ১৫সি এবং এক হাজার ৫৫টি পুরোনো আইফোন ও বিভিন্ন চীনা ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন।
ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে চালানে থাকা প্রকৃত পণ্যের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখতে পান কাস্টমস কর্মকর্তারা। কার্গো রেকর্ডে পণ্যের ধরন ‘নিট ফেব্রিকস’ উল্লেখ থাকলেও অন্য একটি নোটে ‘পি কভার জি রোল সিআরটি’ লেখা ছিল। পরে পরিদর্শনের সময় ঘোষিত কাপড়ের চালানের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
এয়ার কার্গো সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, চালানটির মাস্টার এয়ারওয়ে বিল নম্বর ৮২৮-৫৬৭৮-২৪১২ ও হাউস এয়ারওয়ে বিল নম্বর জেজিএল৫৭২০৩। পণ্যগ্রহীতা হিসেবে থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেডের নাম ও পণ্যের ধরন হিসেবে ‘নিট ফেব্রিকস’ উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া চালানটির ওজন ছিল ৮৯৫ কেজি এবং এতে ছিল ২০টি প্যাকেজ। গত ৩১ আগস্ট আরএইচ-৬৬৫১ ফ্লাইটে করে চালানটি ঢাকায় আসে।
হাউস এয়ারওয়ে বিলে ঝেজিয়াং শাওজিং সিনহুয়া নিটিং কোম্পানিকে পণ্য প্রেরক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর মাস্টার এয়ারওয়ে বিলে জ্যাংকো গ্লোবাল লজিস্টিক লিমিটেডের নাম উল্লেখ রয়েছে। পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল এফ এফ কার্গো সার্ভিস।
কাস্টমস কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, প্রযোজ্য শুল্ক ও কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে পণ্যের ভুল ঘোষণা ও গোপন করার ঘটনা ঘটতে পারে।
জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলোর সঠিক মডেল ও আইএমইআই নম্বর নির্ধারণের পাশাপাশি সেগুলো নতুন নাকি ব্যবহৃত, তা যাচাই করবে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এগুলোর প্রকৃত বাজারমূল্য এবং প্রযোজ্য শুল্ক ও করের পরিমাণও নির্ধারণ করা হবে। বিস্তারিত তালিকা ও মূল্যায়ন শেষ হওয়ার পর এ জব্দের চূড়ান্ত আর্থিক প্রভাব স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
৭ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ৭ বিমানবন্দর বন্ধ, ২ হাজারের বেশি ফ্লাইট বিঘ্নিত
ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ছাইয়ে বিভিন্ন এলাকা ঢেকে গেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ২ হাজার ৩০০টি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে। স্কুলগুলোতে অনলাইন ক্লাসও শুরু করা হয়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতা কমে এলেও এই পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত রয়েছে।
দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, আনাক ক্রাকাতাউয়ের টানা ২৫ ঘণ্টার অগ্ন্যুৎপাত গতকাল (রবিবার) শেষ হয়েছে। এতে লাভার ফোয়ারা সৃষ্টি হয় এবং ৭০০ কিলোমিটার (৪৩৫ মাইল) দূর থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে সোমবারও আগ্নেয়গিরিটি সক্রিয় ছিল। এদিন মাঝারি মাত্রায় থেমে থেমে অগ্ন্যুৎপাত, কালো ছাই নির্গমন ও স্থানীয়ভাবে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানায় সংস্থাটি।
এয়ারনাভ ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, পরীক্ষায় জাকার্তাসহ আরও কয়েকটি শহরের আকাশসীমায় আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ কারণে কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাতটি বিমানবন্দর বন্ধ রেখেছে। তবে দক্ষিণ সুমাত্রা প্রদেশের পাগার আলাম শহরের আতুং বুংসু বিমানবন্দর সোমবার সকালে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করে।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সংস্থা ইনজার্নি এয়ারপোর্টসের ব্যবস্থাপনায় থাকা চারটি বাণিজ্যিক বিমানবন্দর—জাকার্তার সোয়েকার্নো-হাত্তা ও হালিম পেরদানাকুসুমা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পশ্চিম জাভার বান্দুং শহরের হুসেইন সাস্ত্রানেগারা ও সুমাত্রার দক্ষিণ প্রান্তের লাম্পুংয়ের রাদিন ইন্তেন বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে এবং ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৭ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৮ দিন আগে
বিমানের কর্মীর বেল্টে লুকানো ১৩.৯২ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক কর্মীর কাছ থেকে ১২০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে ঢাকার কাস্টমস হাউস ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ দল। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ১৩ দশমিক ৯২ কেজি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫ কোটি টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, এদিন বেলা ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৮-এ স্বর্ণ চোরাচালানের তথ্য পায় কাস্টমস হাউস, ঢাকা। পরে কাস্টমস কর্মকর্তা ও প্রিভেন্টিভ টিম বিমানে বিশেষ তল্লাশি চালায়।
বিমানটির মেকানিক্যাল ও ক্লিনিং দলের সদস্যরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষে বিমান থেকে নামার সময় তাদের তল্লাশি করা হচ্ছিল। এ সময় বিমানের অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনিক্যাল হেলপার মো. সোয়েব গাজীর পরিহিত বেল্টের মধ্যে কালো স্কচটেপে মোড়ানো কয়েকটি বস্তু পাওয়া যায়।
পরে বস্তুগুলো কাস্টমস হলে নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে ইনভেন্টরি করা হলে সেখানে ১২০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। প্রতিটি বারের ওজন ১১৬ গ্রাম হিসেবে মোট ওজন দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৯২ কেজি। এসব স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে এনবিয়ার।
কাস্টমসের প্রাথমিক ধারণা, মো. সোয়েব গাজী কালো স্কচটেপে মোড়ানো স্বর্ণের বারগুলো শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে দেশে নিয়ে আসেন। পরে এগুলো বিমানবন্দর সীমানার বাইরে পাচারের আশঙ্কা ছিল।
ঢাকার কাস্টমস হাউস ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে স্বর্ণ চোরাচালানের চেষ্টা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে এনবিআর জানিয়েছে, অভিযানের সময় এভসেক, কাস্টমস গোয়েন্দা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এনবিয়ার জানিয়েছে, জব্দ করা স্বর্ণের বারগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর কাস্টমসের গুদামে জমা করা হয়েছে। এছাড়া অখালাসকৃত বা চোরাচালানের অভিযোগে আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্যের নিষ্পত্তি পদ্ধতি-সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী মূল্যবান ধাতু হিসেবে স্বর্ণের বারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
১০ দিন আগে
কার্গো হ্যান্ডলিং সমস্যা সমাধানে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর
দেশের বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত নির্মাণের তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটকে না থেকে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী ও স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিতে হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওয়্যারহাউজ নির্মাণের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের অবকাঠামো তৈরি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কাস্টমসের দায়িত্ব হলো আমদানি-রপ্তানি পণ্যের বৈধতা, প্রয়োজনীয় ঘোষণা, কাগজপত্র এবং শুল্ক-সংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত করা। ওয়্যারহাউজ নির্মাণ ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা কাস্টমসের মূল দায়িত্ব নয়।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে দেওয়া হলে কাস্টমস সেখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তাই কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত না হলেও দেশের বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে এটি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের আধুনিক কার্গো ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
তিনি দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে প্রয়োজনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধিকে যুক্ত করে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কাঠামোর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেন। এতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করেন তিনি।
অস্থায়ী ওয়্যারহাউজের জন্য জায়গা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভাড়া বা অন্য কোনো উপায়ে জায়গা নিতে হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মূল লক্ষ্য হতে হবে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় সুবিধা চালু করা।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে সম্মিলিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান এখন অগ্রাধিকার। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সহজ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা কমাতে অস্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে বিমান বন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় একটি অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণ করার লক্ষ্যে সাতটি সম্ভাব্য স্থান এবং একটি স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণ করার লক্ষ্যে চারটি সম্ভাব্য স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৯ দিন আগে
অন্তর্বাসের মধ্যে ‘গোল্ড পেস্ট’: দুবাইফেরত যাত্রীর কাছ থেকে ৩ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ
দুবাই থেকে আসা এক যাত্রীর অন্তর্বাসে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে আনা প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইআইডি)। স্বর্ণ পাচারে ‘গোল্ড পেস্ট’ ব্যবহারের এ অভিনব কৌশল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে নস্যাৎ করা হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুবাই থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি যাত্রী মোহাম্মদ তুসারকে (৩৩) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারিতে রাখা হয়।
বিমানবন্দরে অবতরণের পর সিআইআইডির তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে যৌথ নজরদারি চালানো হয়। পরে কাস্টমস হলে দেহ তল্লাশির সময় তার অন্তর্বাসের ভেতরে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় স্বর্ণের পেস্ট ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ গ্রাম ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণের পেস্ট (মোড়কসহ) এবং পাঁচটি স্বর্ণের চুড়িসহ প্রায় ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
এ ছাড়া অভিযুক্তের পাসপোর্ট, একটি রেডমি মোবাইল ফোন এবং বোর্ডিং পাস জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে সিআইআইডির ধারণা, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও নজরদারি এড়াতে স্বর্ণকে পেস্টে রূপান্তর করে অন্তর্বাসের ভেতরে বিশেষভাবে লুকিয়ে আনা হয়েছিল। তবে গোয়েন্দা তথ্য ও সমন্বিত অভিযানের কারণে চোরাচালানের এ কৌশলও ব্যর্থ হয়।
এ ঘটনায় কাস্টমস আইন, ২০২৩, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭, আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০, আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত সার্কুলার নম্বর-০৬ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সিআইআইডি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে স্বর্ণসহ অন্যান্য পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
৪৩ দিন আগে
বিমানবন্দরে কার্গো জট নিরসনে ছুটির দিনেও সেবা চালু রাখার পরিকল্পনা বাণিজ্যমন্ত্রীর
বিমানবন্দরে বিদ্যমান কার্গো জট নিরসনে স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ছুটির দিনেও কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সেবা কার্যক্রম চালু রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ‘শুক্র ও শনিবার কার্যক্রম সীমিত থাকায় বিমানবন্দরে জমে থাকা কার্গোর পরিমাণ কমছে না। স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে ওঠার আগ পর্যন্ত ছুটির দিনেও কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট সেবা চালু রাখা জরুরি।’
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ইইউ উত্থাপিত ‘নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার’-বিষয়ক সমস্যাগুলোর মধ্যে বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনায় সংকট ও এর সমাধান নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দর কোনো স্টোরেজ বা গুদামজাতকরণের স্থান নয়, এটি মূলত পণ্য আগমন ও বহির্গমনের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কার্গো বিমানবন্দরে অবস্থান করলে সংকট তৈরি হয়। এ কারণে বিমানবন্দরের বাইরে নিরাপদ ও আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধাসহ একটি পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।
তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরের চাহিদা বিবেচনায় আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে। কার্গোর ধরন অনুযায়ী হ্যাজার্ডাস (ঝুঁকিপূর্ণ), নন-হ্যাজার্ডাস (ঝুঁকিমুক্ত), ফাস্ট-মুভিং (দ্রুতগামী) ও স্লো-মুভিং (ধীরগামী) পণ্যের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এতে কার্গো পরিচালনা আরও দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে।
সভার আলোচনায় উঠে আসে, বর্তমানে প্রতিদিন যত পরিমাণ কার্গো বিমানবন্দরে আসছে, প্রায় একই পরিমাণ পণ্য খালাস হচ্ছে। তবে আগে থেকে জমে থাকা কার্গোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকাও এর অন্যতম কারণ।
মন্ত্রী বলেন, সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—উভয় ধরনের সমাধান নিয়েই কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠক করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা এবং করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, দেশে আসা একটি উড়োজাহাজ এবং বিমানবন্দরে পণ্য খালাসের অভিজ্ঞতাই বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের প্রথম পরিচয়। সেই অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই নেতিবাচক হতে পারে না। এ সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, বিমানবন্দরের কার্গো জট শুধু ব্যবসায়ীদের ক্ষতিই করছে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। তাই দ্রুত কার্গো জট কমিয়ে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।’
বিমান পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্গোর চাপ কমানো সম্ভব।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমস্যা থাকলে আলোচনার টেবিলে বসুন, হুমকি বা কর্মবিরতির পথে যাবেন না। সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করছে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ, দ্রুত পণ্য খালাস এবং আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন, কার্গো অপারেটর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৮২ দিন আগে
বিমানবন্দরে হাজিদের লাগেজ থেকে মালামাল চুরির অভিযোগ সত্য নয়: প্রতিমন্ত্রী
দেশে ফেরা হাজিদের বিমানবন্দরে ১৫০টি লাগেজ থেকে মালামাল চুরির অভিযোগ সত্য নয় বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয় তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনের কক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত পরশুদিন যেসব হাজি হজ থেকে ফিরেছেন, তাদের লাগেজ-সংক্রান্ত বিষয়ে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি বলেছেন, বিমানবন্দরে হাজিদের ১৫০টি লাগেজ কাটা হয়েছে এবং লাগেজগুলি থেকে মালামাল চুরি হয়েছে। ওই পোস্টটিতে প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করে করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা দেন এবং আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সঙ্গে সঙ্গে এটা তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেই।
তিনি বলেন, আজকে আমরা আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি যাতে করে বস্তুনিষ্ঠ বিষয়টা আপনাদের জানাতে পারি। আপনারা জানেন যে প্রায়ই এ রকম সোশ্যাল মিডিয়ার সংবাদে আমাদের বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়। যেটা আপনাদের সহযোগিতায় আমরা সত্যতা যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদটি পরিবেশন আপনাদের মাধ্যমেই করতে পারি। তাতে করে বিভ্রান্তিটা নিরসন হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এই বিষয়ে আমরা একটা বিবৃতি আপনাদের দিতে চাই।
তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয় জানিয়ে বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের সিসিটিভি ও বডি-ওর্ন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে তদন্ত প্রতিবেদন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমার কাছে কর্তৃপক্ষ পাঠায়। ওই ফ্লাইটে আসা ৮৩৬টি লাগেজের মধ্যে ২১টি ব্যাগ ছেঁড়া এবং কাটা অবস্থায় পেয়েছেন বলে কর্তব্যরত গ্রাউন্ড স্টাফদের কাছ থেকে মৌখিকভাবে জানা যায়।
১০৩ দিন আগে
বগুড়ায় বিমানবন্দরের পাশাপাশি পাইলট তৈরির ‘ফ্লাইং একাডেমি’ হবে: মন্ত্রী
বগুড়ায় বিমান বন্দরের পাশাপাশি পাইলট তৈরির ‘ফ্লাইং একাডেমি’ স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) ও প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে তারা সাংবাদিকদের এ কথা জানান। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই অধিবেশন হয়।
বেশকিছু বিমানবন্দর চালুর ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, সৈয়দপুর (বিমানবন্দর) নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে কাজও শুরু করেছি। বেশকিছু বিমানবন্দর চালুর ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; ঠাকুরগাঁও, তারপর বগুড়া। আমরা ৭ তারিখে বগুড়া যাচ্ছি দেখার জন্য। আমরাও চাচ্ছি বগুড়ায় এয়ারপোর্ট হবে। পাশাপাশি ওখানে আমরা ‘ফ্লাইং একাডেমি’ও করতে চাচ্ছি, যাতে আমরা পাইলট বানাতে পারি। আমাদের অনেক পাইলটের প্রয়োজন। গরিব, মেধাবী ছাত্রদেরও পাইলট হওয়ার ইচ্ছা থাকলে তারা সেখানে পড়াশোনা করতে পারবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা একাডেমির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ৭ তারিখে (মে) যাচ্ছি। সেখানে একাডেমিটা খুব তাড়াতাড়ি হবে। শুধু এখানেই নয়, নীলফামারীতেও একটা একাডেমি আছে, ছোট একাডেমি। সেখানেও আমরা চেষ্টা করব।
তিনি বলেন, বিমানের যে পাইলট আছে, একটা পাইলট বানাতে অনেক টাকা লাগে। এই পাইলটগুলি বাংলাদেশের খুব বেশি কাজ করেন না; তারা বিদেশে চলে যান এবং বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোতে চাকরি করেন। আগে পাইলটের একটা অংশ ছিল শুধু পাইলটের ছেলে বা পাইলটের আত্মীয়-স্বজন। এখন আমরা চাচ্ছি যে সাধারণভাবে সবাই যাতে এই এভিয়েশন খাতে আসতে পারে, পাইলট হতে পারে। তারা শুধু বিমানে নয়, বিদেশের এয়ারলাইন্সগুলোতেও গিয়ে চাকরি করতে পারে। এতে করে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে অনেক বেশি। সেজন্য খুবই গুরুত্ব দিয়ে আমরা একাডেমি দুইটা করছি।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আমাদের পর্যটন সম্বন্ধে অনেক কথা হয়েছে; বিশেষ করে কক্সবাজার, কুয়াকাটা এবং বড় বড় স্থাপনা যেগুলো আছে পর্যটনের, কীভাবে আমরা কাজ করতে পারি সম্মিলিতভাবে। এটা সম্পূর্ণ আপনার বোঝার ব্যাপারে আর কি। আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, তারা (জেলা প্রশাসক) যেভাবে কাজ করবেন, সেই নির্দেশনাগুলি তাদের দিয়েছি। তারা যাতে নিজেরা উৎসাহিত হন, সে ব্যাপারে আমরা তাদের বলেছি, আপনারা আগের মতো কাজ না করে এই গণতান্ত্রিক সরকার যেভাবে দেশটা দেখতে চান, আপনাদের নিয়ে আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে এই দেশটাকে একটা কার্যকরী দেশে পরিণত করব।
১৩৪ দিন আগে
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সরকার ব্যাপক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংসদে নোয়াখালী-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে ইতোমধ্যে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে বাংলাদেশ পুলিশ বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, প্রবেশ ও বহির্গমন পথসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং বিমানবন্দর এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি বহু স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় এবং তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে নিরাপত্তা সেবা শক্তিশালী করা হচ্ছে।
নজরদারি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চুরি ও ছিনতাই রোধে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিমানবন্দরে যাতে কোনো নিষিদ্ধ বস্তু প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য স্ক্যানিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাগেজ সিস্টেম চালু, ইমিগ্রেশন কাউন্টার বৃদ্ধি, উন্নত স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন, জনবল বৃদ্ধি ও পুনর্গঠন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা (শরীরে পরিহিত ক্যামেরা) ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাত্রী হয়রানি বন্ধে কঠোর নজরদারি চালু করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের সহায়তার জন্য বিমানবন্দরে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে।
১৪০ দিন আগে
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আটক জামায়াত নেতা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে প্রায় ৫০ লাখ নগদ টাকাসহ আটক ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) টাকাসহ আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর ১০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎক নজমুল হুদা বলেন, পরীক্ষায় জামায়াত নেতার হার্ট অ্যাটাকের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। একটি ইসিজি করা হয়েছে, কিন্তু তাতে হার্ট অ্যাটাকের কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। তাকে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতাল ও এর আশপাশে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে, আজ (মঙ্গলবার) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বেলাল উদ্দিন নভো এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে অবতরণ করেন। পরবর্তীতে তার ব্যাগ তল্লাশি করে এই বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। অর্থের পরিমাণ আনুমানিক ৫০ লাখ টাকা।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সাত্তার জানান, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। এই অর্থ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নয়, তার ব্যবসার টাকা। এটা পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কাজটা করা হচ্ছে।’
২১৬ দিন আগে