সেনাবাহিনী
সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে মেধা, যোগ্যতা, সততা ও নেতৃত্বের গুণাবলিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সময়োপযোগী, প্রযুক্তিনির্ভর ও সক্ষমতাভিত্তিক সশস্ত্র বাহিনী গঠার লক্ষ্যে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখাও তুলে ধরেছেন তিনি।
রবিবার (২৬ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে ‘সেনা সদর নির্বাচনি পর্ষদের’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মূল্যায়নে যথানিয়মে যোগ্যতমদের বাছাই করে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত এই সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমেই পদায়ন কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীতে আগামী দিনের দূরদর্শী এবং পেশাদার নেতৃত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হবে বলেও আমি বিশ্বাস করি।’
পদোন্নতিতে মেধা ও যোগ্যতাই হোক প্রধান মাপকাঠি
সেনাসদর সিলেকশন বোর্ডের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, পদোন্নতি কিংবা পদায়নের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করলে পেশাদারত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘সেনাসদর সিলেকশন বোর্ড’ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে।
‘এক্ষেত্রে প্রথমেই আমার আহ্বান, রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সততা, ন্যায়পরায়ণতা, পেশাগত যোগ্যতা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, দূরদর্শিতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি—সেনাবাহিনীর জন্য উপযুক্ত নেতৃত্ব নির্বাচনে এসব বিষয়কেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এর পাশাপাশি মেধা এবং যোগ্যতাই হয়ে উঠুক একজন সেনা অফিসারের পদোন্নতি অর্জনের প্রধান মাপকাঠি।’
শারীরিক সক্ষমতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পদোন্নতির জন্য একজন অফিসারের শারীরিক যোগ্যতা অর্থাৎ ফিজিক্যাল ফিটনেস এবং ফিজিক্যাল অ্যাপিয়ারেন্স অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’
এ প্রসঙ্গে তিনি প্রয়াত মার্কিন জেনারেল নরম্যান সোয়ার্জকফের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, ‘দি মোর ইউ সোয়েট ইন পিস, দি লেস ইউ ব্লিড ইন ওয়ার’, অর্থ্যাৎ, ‘শান্তিকালীন সময়ে তুমি যত বেশি ঘাম ঝরাবে, যুদ্ধকালীন সময়ে তত কম রক্তপাত হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সুতরাং, সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা আর ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো পর্যায়েই কোনো আপসের সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।’
৩ দিন আগে
‘সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ নির্বাচনি পর্ষদের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠনে স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
এছাড়া, পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ও আহত সেনাসদস্যদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
৩ দিন আগে
সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন ও সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন শেষে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পূর্ব রহমতপুর এলাকায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে পরিচালিত মহড়ার বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
১৬ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় বাজারে বিমান হামলায় শতাধিক নিহত, দায় অস্বীকার সেনাবাহিনীর
নাইজেরিয়ার জামফারা অঙ্গরাজ্যের একটি বাজারে সামরিক বিমান হামলায় অন্তত ১০০ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তবে দেশটির সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় বেসামরিক কেউ নিহত হয়েছেন, এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল স্থানীয় সময় সোমবার (১১ মে) এক বিবৃতিতে জানায়, রবিবার (১০ মে) জামফারা অঙ্গরাজ্যের তুমফা এলাকার একটি বাজারে সামরিক বিমান হামলা চালানো হয়।
ওই রাজ্যের রেড ক্রস কর্মকর্তা ইব্রাহিম বেলো গারবা এ ঘটনাটি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই হামলায় একাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নাইজেরিয়ার পরিচালক ইসা সানুসি এপিকে বলেন, হামলায় নিহতদের মধ্যে শুধু একটি গ্রামেই ৮০ জনকে দাফন করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কেউ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন কি না, এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। তারা সবাই সাধারণ মানুষ। নিহতদের বেশিরভাগই ছিল তরুণী ও শিশু।
এদিকে, নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী এপিকে বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তারা দাবি করছে, গণমাধ্যমে যেভাবে বেসামরিক হতাহতের দাবি করা হচ্ছে, তার সঠিক প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল মাইকেল ওনোজা বলেন, ‘বেসামরিক মানুষ কখনোই আমাদের লক্ষ্য নয়। সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ ওই এলাকায় সামরিক অভিযান এখনও চলছে বলে জানান তিনি।
গত মাসেও নাইজেরিয়ার বিমান বাহিনীর ভুলবশত চালানো এক হামলায় ১০০ জন নিহত হয়েছিল। অ্যামনেস্টির এই অভিযোগটি নাইজেরিয়ায় বেসামরিক মানুষের ওপর ভুলবশত সামরিক বিমান হামলার আরেকটি ঘটনা সামনে এনেছে। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বোকো হারামসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলায় সাধারণ মানুষ নিহতের পেছনে বিমান বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এর আগেও সেনাবাহিনীর হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
যদিও নাইজেরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা বরাবরই দাবি করে আসছেন, অভিযানের সময় তাদের হামলার লক্ষ্য থাকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা, কিন্তু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মিশে থাকে। এ কারণে আলাদা করে তাদের চিহ্নিত করা সেনাবাহিনীর জন্য জটিল হয়ে পড়ে। ফলে নিহত হয় সাধারণ মানুষ।
৭৭ দিন আগে
মাঠ পর্যায় থেকে সেনাবাহিনীকে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ বাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে সরকার। এ অবস্থায় প্রায় দুই বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে মাঠে থাকা সেনাবাহিনীকে পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে সিলেট বিভাগের পাথর কোয়ারির সর্বশেষ অবস্থা ও করণীয় বিষয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পুলিশ বাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাঠে রাখা হবে না। পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চাঁদাবাজ ও গডফাদারদের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযান প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রণয়ন করে যৌথ ও একক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মাদক, সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করে সংক্ষিপ্ত আদালতের মাধ্যমে সাজা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এই অভিযানের দৃশ্যমান অগ্রগতি রয়েছে এবং অচিরেই এর পূর্ণ প্রভাব দেশবাসী অনুভব করবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
পাথর কোয়ারিগুলোর ইজারার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরিবেশ রক্ষা এবং প্রচলিত সকল আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার পাথর কোয়ারিগুলো সীমিত আকারে পুনরায় ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশের (জিএসবি) প্রতিনিধি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন পরিচালক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উভয় জেলার পুলিশ সুপারদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিটির কার্যপরিধি বর্ণনা করে তিনি বলেন, সরেজমিনে স্পটগুলো পরিদর্শন করে সীমান্ত নদীগুলোর পলি জমার কারণে সৃষ্ট ওয়াটার ব্যারিকেড পরীক্ষা করা, নদী ভাঙনের ফলে সীমান্ত পরিবর্তনের ঝুঁকি পর্যালোচনা করা, পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে কত গভীরতায় এবং কোন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করা সম্ভব, সে বিষয়ে কারিগরি পরামর্শ প্রদান, বিছানাকান্দি, সাদা পাথর বা ভোলাগঞ্জের মতো পর্যটন স্পটগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাফলংয়ের মতো ‘ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া’ (ইসিএ) ঘোষিত স্থানগুলো ইজারার আওতামুক্ত থাকবে। কমিটির প্রতিবেদর চলতি মাসের শেষে পাওয়ার পর জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকা মামলাগুলো আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৮৩ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে জসিম হত্যাকাণ্ড পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে: সেনাবাহিনী
মুন্সীগঞ্জে নিহত জসিম উদ্দিনের ঘটনা মূলত পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোথাও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। কয়েকটি স্থানে উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব জাভেদ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জসিম উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুপক্ষের মধ্যে আগে থেকেই পারিবারিক বিরোধ ছিল। নির্বাচনের পর কথাকাটাকাটির মাধ্যমে সেই বিরোধ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দুই পক্ষ ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে থাকলেও ঘটনার মূল কারণ ছিল পারিবারিক কলহ।
তিনি উল্লেখ করেন, চর আব্দুল্লাপুর এলাকায় নাসিরের পক্ষ ও জসিমের পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই সম্পর্কের অবনতি ছিল। পারিবারিক সূত্রে তাদের মধ্যে পূর্বশত্রুতা ছিল। নির্বাচনের পর সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। প্রথমে হাতাহাতি হয়, পরে বিকেল আড়াইটার দিকে নাসির পক্ষের অতর্কিত হামলায় জসিম গুরুতর আহত হন। তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী ও পুলিশ এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব জাভেদ।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোল্লাকান্দির একটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছিল। এ ঘটনায় ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকিব জাভেদ বলেন, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জেলার কয়েকটি এলাকায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। শ্রীনগরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আনন্দপুর ও মোল্লাকান্দি এলাকায় উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিলে সেখানে টহল জোরদার করা হয়। আগলা এলাকায় ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ২ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোল্লাকান্দিসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সেনা মোতায়েন অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
১৬৫ দিন আগে
নাটোরে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার, আটক ১
নাটোরের সিংড়ায় একটি অস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে তৈরিকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ আব্দুল্লাহ নামে একজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার বামিহাল বাজারের একটি মোটর গ্যারেজে অভিযান চালায় সেনাবাহিনীর একটি দল।
সেনা সূত্র জানায়, অভিযান চালিয়ে গ্যারেজের ভেতরে গোপনে গড়ে ওঠা অস্ত্র কারখানার সন্ধান পায় সেনা সদস্যরা। পরে সেখানে তল্লাশি করে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির বেশ কিছু সরঞ্জাম ও কাঁচামাল জব্দ করা হয়। এছাড়া আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তিকে সেখান থেকে আটক করে হেফাজতে নেয় সেনাবাহিনী।
আব্দুল্লাহ (২৮) পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রুপপুর এলাকার বাসিন্দা।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর জানান, অস্ত্রসহ আব্দুল্লাহকে সিংড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৭৬ দিন আগে
তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে সিইসির বৈঠক
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নির্বাচন ভবনে প্রবেশ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। পরে তারা বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের এটাই প্রথম সাক্ষাৎ। তারা নির্বাচন ভবনে পৌঁছালে ইসি সচিব আলাদাভাবে তাদের অভ্যর্থনা জানান। ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট সামনে রেখে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে বৈঠকে।
এরপর দুপুর আড়াইটায় নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।
প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, তিন বাহিনী প্রধান বা তাদের উপযুক্ত প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), এনএসআই, ডিজিএফআই, কোস্টগার্ড, বিজিবি, র্যাব, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার উপস্থিত থাকবেন ওই বৈঠকে।
২২০ দিন আগে
এভারকেয়ারের কাছে হেলিকপ্টার মহড়া কাল, বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যেখানে চিকিৎসাধীন, সেই এভারকেয়ার হাসপাতালের কাছে দুটি মাঠে সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার পরীক্ষামূলকভাবে ওঠানামা করবে জানিয়ে এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী আগামীকাল (৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে এভারকেয়ার হাসপাতালের নিকটস্থ দুটি উন্মুক্ত মাঠে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার পরীক্ষামূলক অবতরণ ও উড্ডয়ন পরিচালনা করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি) হিসেবে এভারকেয়ারে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তার নিরাপত্তা ও যাতায়াতের সুবিধা এবং উচ্চ মর্যাদা বিবেচনায় এ উদ্যোগ নেয় সরকার।
সে অনুযায়ী ওই দিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ভিভিআইপি বিশেষ নিরাপত্তায় নিয়োজিত এসএসএফ সদস্যরা এভারকেয়ার হাসপাতালে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
২৩৮ দিন আগে
ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে কারাগার ঘোষণা
ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে কারাগার ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (১২ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোডসংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত ‘এম ই এস বিল্ডিং নম্বর-৫৪'কে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই আদেশ জারি করা হলো। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে শনিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকা সেনানিবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গুমের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারিকৃত গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তা হেফাজতে
মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান জানান, তাদের মধ্যে ১৪ জন কর্মরত কর্মকর্তা এবং একজন এলপিআরে, অর্থাৎ অবসরোত্তর ছুটিতে ছিলেন। এছাড়া মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ নামের আরেকজন সেনা কর্মকর্তা অদ্যাবধি অনুপস্থিত রয়েছেন। তার কোনো সন্ধান এখনও কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।
সংবাদ সম্মেলনে সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) দায়ের করা মামলাগুলো নিয়েই মূলত আলোচনা হয়।
গত বুধবার আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত গুমের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এর মধ্যে ২৫ জন সেনাবাহিনীর বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা। দুই মামলায়ই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর নাম রয়েছে।
আরও পড়ুন: মানবতাবিরোধী অপরাধ: শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক শুরু
২৮ আসামির মধ্যে ১৭ জনের বিরুদ্ধে র্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে নির্যাতনের অভিযোগ এবং ১৩ জনের বিরুদ্ধে যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ সেল (জেআইসি)-এ নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
পরোয়ানা জারির দিনই তা সংশ্লিষ্ট ১৩টি দপ্তরে পাঠানোর কথা জানিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর কর্মকর্তারা। তবে মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান জানান, পরোয়ানার কপি এখনো সেনাসদরে পৌঁছায়নি। তারপরও তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, ‘২৫ জন অভিযুক্তের মধ্যে ৯ জন অবসরপ্রাপ্ত, ১ জন এলপিআরে এবং ১৫ জন বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত। ৮ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ১৬ জনকে সেনাসদরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ৯ অক্টোবরের মধ্যে সেনাসদরে হাজির হয়েছেন ১৫ জন। তারা পরিবার থেকে আলাদা অবস্থায় থাকছেন। মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মাদ এখনও উপস্থিত নন।’
২৮৯ দিন আগে