তুরস্ক
জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরবে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ’ নিউইয়র্ক সফরের পর আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে তার তুরস্ক, জাপান ও সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জাপান ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া পৃথক দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ বিবেচনায় নিয়ে ঢাকায় এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে গৃহীত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা হলো কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ)।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কপ-৩১ নিয়ে মতবিনিময় হয়, যার মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়টিও ছিল।
এদিকে ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জাপান পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে প্রধানমন্ত্রীকে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
প্রাথমিক আলোচনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জাপানে সরকারি সফরে যেতে পারেন বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন একটি কূটনৈতিক সূত্র। তবে এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে এপ্রিলে এশিয়া অঞ্চলে জ্বালানি বিষয়গুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছিল। সে সময় বাংলাদেশ বলেছিল, কোনো দেশ এককভাবে এ সমস্যা সমাধান করতে না পারায় সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই অনলাইন বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
গত মাসে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের সময় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ তার কাছে আমন্ত্রণপত্রটি হস্তান্তর করেন।
চিঠিতে সৌদি যুবরাজ দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান, যার লক্ষ্য দুই দেশ ও তাদের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা। উভয় পক্ষ পারস্পরিক সুবিধাজনক তারিখ চূড়ান্ত করতে পারলে নভেম্বরে তারেক রহমান সৌদি আরব সফর করতে পারেন।
ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি বছরের নভেম্বরে অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে ভারত সফর করতে পারেন। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির দিকেও নজর রাখছে ঢাকা।
শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ও যোগাযোগের মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত মাসে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ‘খুব শিগগিরই হওয়া উচিত’ এবং এ বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি স্বর্ণালি অধ্যায় দেখতে চান উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বৈঠকের মাধ্যমেই সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব, আর আমি খুবই আশাবাদী।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তানসহ সাতটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এর মধ্যে রয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-এমে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল।
১ দিন আগে
নিউইয়র্কের পথে তুরস্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রাপথে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ইউএনবিকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং অন্য সফরসঙ্গীদের বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আজ (সোমবার) স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতির পর স্থানীয় সময় বেলা ২টা ১০ মিনিটে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সোমবার ভোরে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো ইউএনজিএ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্য সফরসঙ্গীদের নিয়ে টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সকাল ৬টা ৭ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন তারেক রহমান।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম এবং সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে তার জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
এরপর তাকে মোটর শোভাযাত্রায় করে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। সফরকালে সেখানেই থাকবেন তিনি।
ইউএনজিএতে তুলনামূলক ছোট ৩৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও ড. মো. সাইমুম পারভেজও প্রতিনিধিদলে রয়েছেন।
রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।
সেখানে মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে প্রত্যাবাসনে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমর্থন চাইবে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্রসচিব রোহিঙ্গা সংকটকে ‘চলমান সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বনেতাদের এ সমাবেশকে কাজে লাগিয়ে সংকটের ব্যাপকতা, এর কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
বাংলাদেশ মনে করে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এ সংকটের স্থায়ী সমাধান।
জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
জলবায়ু পরিবর্তনও প্রধানমন্ত্রীর এবারের জাতিসংঘ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এসব বৈঠকে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন সহায়তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করবেন তিনি।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবিলায় আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আয়োজনে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ে একটি পার্শ্ব অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক
আগামীকাল ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে দেওয়া প্রাতঃরাশে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী কার্যক্রমে যোগ দেবেন।
সফরকালে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে তার।
এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকগুলোতে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে আয়োজিত অভ্যর্থনাতেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
২৩ সেপ্টেম্বর সকালে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দাতব্য ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠক করবেন তিনি। পরে জলবায়ু ও বৈশ্বিক বৈষম্যবিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ওই দিন বোয়িংয়ের গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ ও বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির আয়োজনে তার সম্মানে দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।
অর্থনৈতিক কূটনীতিতে গুরুত্ব
সফরে অর্থনৈতিক কূটনীতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে ম্যানহাটনে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির আয়োজনে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, উৎপাদন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া মেটা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে বৈঠক এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জায়েদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ড. কালী প্রদীপ চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেছেন, সফরে জাতিসংঘের কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ অন্যান্য কর্মসূচির সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে।
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে এমিরেটসের ইকে-২০২ ফ্লাইটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
৭ দিন আগে
মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের সানকো
বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাট খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান সানকো। প্রতিষ্ঠানটি দেশের মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার (৩০ কোটি ডলার) বিনিয়োগ করে একটি সমন্বিত টেক্সটাইল উৎপাদন সুবিধা গড়ে তুলতে চায়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সানকোর প্রতিনিধি দলের এক বৈঠকে এ বিনিয়োগ পরিকল্পনার বিষয়টি জানানো হয়। বৈঠকে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সানকোর প্রতিনিধিরা জানান, বাংলাদেশে তাদের বিদ্যমান ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদার ভিত্তিতে তারা স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে আগ্রহী। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তুরস্ক থেকে টেক্সটাইল পণ্য সরবরাহ করলেও বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বাজার, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং রপ্তানি সক্ষমতার কারণে দেশে উৎপাদন স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।
সানকো প্রতিনিধিদল জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় কাপড় উৎপাদন, ফ্যাব্রিক প্রসেসিং এবং উচ্চমূল্যের (ভ্যালু অ্যাডেড) টেক্সটাইল পণ্য তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা আরও বাড়বে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশে তাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ক্রেতা রয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন সুবিধা চালু হলে নতুন আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের বাংলাদেশে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দেশের বিদ্যমান টেক্সটাইল কারখানাগুলোও প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে উপকৃত হবে।
তারা আরও জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন ও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে। নির্মাণকাজ শুরুর পর আনুমানিক ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
বৈঠকে সানকোর পক্ষ থেকে জ্বালানি সুবিধা, গ্যাস সংযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন দ্রুত নিশ্চিত করার বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করা হয়। তারা জানায়, আধুনিক টেক্সটাইল উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কয়লাবিহীন ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে।
সানকোর প্রতিনিধিরা বলেন, একটি আধুনিক টেক্সটাইল উৎপাদন কেন্দ্র শুধু বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে না, বরং বাংলাদেশের বস্ত্র খাতকে সাধারণ উৎপাদন থেকে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
তারা আরও বলেন, গ্রামীণ ও শিল্পাঞ্চলে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদনের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। একটি সফল প্রকল্প অন্য উদ্যোক্তাদেরও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।
বৈঠকে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে সানকোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সরকার দেশের শিল্পখাতে বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
সানকোর এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পাট খাতে নতুন প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি নতুন অধ্যায় সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
৬২ দিন আগে
প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান-প্রযুক্তির দক্ষতার ভিত্তি শক্তিশালী করা প্রয়োজন: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, তুরস্ক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, বাংলাদেশও ভবিষ্যতে সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে চায়। এজন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, গণিত, প্রযুক্তি ও সমস্যা সমাধানমূলক দক্ষতার ভিত্তি শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
রবিবার (৭ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তার দপ্তরে তুর্কি কোঅপারেশন অ্যান্ড কোঅরডিনেশন এজেন্সির (টিকা) ভাইস-প্রেসিডেন্ট ড. আলি এরজানের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্যে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিকুলাম আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তুরস্ক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, বাংলাদেশও ভবিষ্যতে সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে চায়। এজন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, গণিত, প্রযুক্তি ও সমস্যা সমাধানমূলক দক্ষতার ভিত্তি শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে একজন ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রবেশের সময় আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, সরকার বর্তমানে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
ববি হাজ্জাজ আরও জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসন, কারিকুলাম উন্নয়ন, অবকাঠামো পরিকল্পনা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বিষয়ে জ্ঞান বিনিময় কর্মসূচি শুরু করেছে। একই ধরনের সহযোগিতা তুরস্কের সঙ্গেও গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
ভাইস-প্রেসিডেন্ট ড. আলি এরজান বলেন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের নেতৃত্ব, কর্মস্পৃহা এবং প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে তার উদ্যোগ ও সংস্কার ভাবনা বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় উভয় পক্ষ প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সম্ভাব্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা, মডেল স্কুল উন্নয়ন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষাবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ এবং জাতীয় শিক্ষা দর্শন ও শিক্ষাদান পদ্ধতি বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে শিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করে উভয়পক্ষ।
১১৩ দিন আগে
তুরস্কে বাস দুর্ঘটনায় শিশুসহ ৮ জন নিহত
পশ্চিম তুরস্কে একটি বাসে মহাসড়কের ব্যারিয়ারে ধাক্কা লেগে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় ৯ মাস বয়সী একটি শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৩ জন।
স্থানীয় সময় রবিবার (৩১ মে) দিবাগত রাতে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানায় স্থানীয় গণমাধ্যম ডেমিরোরেন নিউজ এজেন্সি।
খবরে বলা হয়, পামুক্কালে ট্যুরিজমের মালিকানাধীন বাসটি ৩৮ জন যাত্রী ও ৩ জন কর্মী নিয়ে ইজমির থেকে ভূমধ্যসাগরীয় শহর আন্তালিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪০ মিনিটে দেনিজলি প্রদেশে মহাসড়কের ব্যারিয়ারে বাসটি ধাক্কা খেলে দুর্ঘটনা ঘটে।
শনিবার (২৯ মে) ছিল ঈদুল আযহার শেষ দিন। এই ধর্মীয় উৎসবে সাধারণত তুরস্কজুড়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে ও ছুটি কাটাতে মানুষের ভ্রমণ বাড়ার কারণে সড়ক দুর্ঘটনাও বেড়ে যায়।
১২০ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান রাখাইন রাজ্যেই নিহিত রয়েছে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা নিতে হবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তুরস্কে চলমান আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরাম–২০২৬-এর ‘গ্লোবাল রিফিউজি প্রোটেকশন সিস্টেম ইন দ্য ফেস অব ডিসপ্লেসমেন্ট ক্রাইসিস’ শীর্ষক সেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই প্রেক্ষাপটে অর্থায়ন বৃদ্ধি, রাখাইনে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি— উভয় পক্ষই তাকে স্বাগত জানিয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা। তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
১৬৩ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক সফরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক সফরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থনের লক্ষ্যে তার এ সফর।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে ঢাকা ছাড়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিতে তুরস্কে অবস্থান করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই সময় আঙ্কারায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করবেন ড. খলিলুর।
তিনি আরও জানান, তুরস্কে অবস্থানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কয়েকটি বৈঠক ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন বাড়ানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সফরকালে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার। এসব আলোচনার মাধ্যমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আরও জোরদার করার চেষ্টা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৬–২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে ফিলিস্তিন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে। এরপর ওই পদে প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২ জুন। প্রার্থী দেওয়ায় এ পদে এবার বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু তিনি বর্তমানে দায়িত্বে না থাকায় তার পরিবর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ।
আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হবে। এর আগে ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে সভাপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক আবর্তন নীতিমালা অনুযায়ী, এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অব স্টেটস থেকে এবার সভাপতি নির্বাচন করা হবে।
বাংলাদেশ সর্বশেষ ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে এ মর্যাদাপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। চার দশক পর আবারও এ পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার আশা করা হচ্ছে।
১৯৮ দিন আগে
এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগে তুরস্কে ডয়চে ভেলের সাংবাদিক গ্রেপ্তার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগে জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম ডয়চে ভেলের অনুসন্ধানী সাংবাদিক আলিজান উলুদাগকে গ্রেপ্তার করেছে তুরস্ক সরকার। ওই অভিযোগ একটি মামলা দায়ের হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উলুদাগকে তার আঙ্কারার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আলিজান উলুদাগগ ডয়চে ভেলের তুর্কি সার্ভিসে কাজ করেন। তার বিরুদ্ধে এক্সে করা পোস্টের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিচারব্যবস্থা ও দুর্নীতির মামলার ওপর প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত এই সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের পর ইস্তাম্বুলে নেওয়া হয়। সেখানে প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগ আনেন। এই অপরাধে তার সর্বোচ্চ ৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে উলুদাগ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার পোস্টগুলো ছিল একজন বিচারবিষয়ক সাংবাদিক হিসেবে করা বৈধ সমালোচনা। আদালতের নথি উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে কুমহুরিয়েত পত্রিকা।
তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা জানায়। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের ওপর আঘাত বলে বর্ণনা করেছে তারা।
অন্যদিকে, ডয়চে ভেলের মহাপরিচালক বারবারা মাসিং উলুদাগের মুক্তি দাবি করে এ গ্রেপ্তারকে ‘ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেমূলক পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন।
ইস্তাম্বুলের চাগলায়ান আদালত ভবনের বাইরে সাংবাদিকরা উলুদাগের আটকাদেশের প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানান।
সংবাদমাধ্যম বিষয়ক অধিকার সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স তুরস্ককে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে দমনমূলক দেশগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির দাবি, দেশটির অধিকাংশ গণমাধ্যম সরকারি নিয়ন্ত্রণে এবং সাংবাদিকরা প্রায়ই আইনি চাপ বা ভয়ভীতির মুখে পড়েন।
তুর্কি সাংবাদিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ১৪ জন সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মী দেশটির কারাগারে আছেন।
২১৯ দিন আগে
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কমনওয়েলথ ও তুরস্কের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সাক্ষাৎ
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কমনওয়েলথের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়া তুরস্ক থেকে আসা আরেকটি নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কের ৭ সদস্যের একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তুরস্কের পার্লামেনটারি সদস্যদের নিয়ে গঠিত পর্যবেক্ষক দলটির নেতৃত্ব দেন টার্কিশ-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারপারসন মেহমেত আকিফ ইলমাজ।
এর আগে গতকাল (সোমবার) যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাত করতে যায় কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের চেয়ারপারসন ও ঘানার সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ ই নানা আকুফো-আডো নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে যমুনায় অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতের দুদিনই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৩০ দিন আগে
যুদ্ধবিরতি আলোচনার জন্য তুরস্কে জেলেনস্কি, যাননি পুতিন
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সঙ্গে বৈঠক করতে তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে গেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরাসরি শান্তি আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার পর—তা পুনরায় শুরুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেলেনস্কি এই সফর করছেন।
জেলেনস্কি বলেন, তিনি ইস্তাম্বুলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে প্রস্তুত।
বুধবার(১৪ মে) জেলেনস্কি বলেন, ‘শান্তি আলোচনার জন্য রাশিয়া থেকে কে আসবেন—তা দেখার জন্য আমি অপেক্ষা করছি। এরপর আমি সিদ্ধান্ত নেব—ইউক্রেনের কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। এখন পর্যন্ত গণমাধ্যমের বরাতে তাদের কাছ থেকে পাওয়া ইঙ্গিতগুলো বিশ্বসযোগ্য নয়।’
তবে ক্রেমলিন ঘোষণা করেছে, বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলের শান্তি আলোচনায় রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যোগ দেবেন না। তবে, রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির প্রেসিডেন্টের সহকারী ভ্লাদিমির মেডিনস্কি।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা রাশিয়ার
আনাতোলিয়ায় ন্যাটোর অনানুষ্ঠানিক একটি বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ‘ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আলোচনা আশা করি আমাদের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।’
এরআগে ২০২২ সালের মার্চে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হয়েছিল। ওই বৈঠকে উভয়পক্ষ যুদ্ধ বন্ধে একমত হতে পারেননি।
এবারের শান্তি আলোচনায় পুতিনের যোগ না দেওয়াতে পশ্চিমারা তার ব্যাপক সমালোচনা করছেন। ক্রেমলিন সত্যিই ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান প্রচেষ্টায় আগ্রহী নয় বলেও প্রশ্ন তুলছেন তারা।
৫০১ দিন আগে