উদ্ভাবন
বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী
গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন ও গবেষণালব্ধ অর্জনের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা তাদের মেধা, শ্রম, সময় ও নিষ্ঠা ব্যয় করে নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞান সৃষ্টি করেন। এসব কাজের স্বীকৃতি না পেলে ভবিষ্যতে গবেষণার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) পরিচালনা বোর্ডের ৪৯তম সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে সভায় সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
মন্ত্রী বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ, উন্নত জাত উদ্ভাবন, নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণা কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী করতে হবে, যাতে এর সুফল সরাসরি খামারি ও উদ্যোক্তারা পান।
গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দ্রুত মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আজ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার পেছনে গবেষকদের দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে উদ্ভাবনী গবেষণাকে উৎসাহিত করতে বিজ্ঞানীদের জন্য প্রণোদনা ও স্বীকৃতির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছাদেক আহমেদ, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ, বোর্ডের সদস্য ডা. মো. সফিউল আহাদ সরদার এবং বোর্ডের সদস্যসচিব ও বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকসহ পরিচালনা বোর্ডের সদস্যরা।
সভায় বিএলআরআইয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক, আর্থিক ও গবেষণাসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়।
৩ দিন আগে
বাংলাদেশকে শ্রমনির্ভর থেকে উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে চায় সরকার: প্রযুক্তিমন্ত্রী
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বাংলাদেশকে শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞান ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত চিপ ডিজাইন, বায়ো-ইলেকট্রনিক্সসহ উচ্চপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ চলছে।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারকারী নয়, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও নির্মাতা দেশ হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।
রবিবার (২৬ জুলাই) ঢাকায় নভোথিয়েটারে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইআর সামিট-২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনে ‘বাংলাদেশ ডিপ-টেক ফিউচার’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনায় ভবিষ্যতে প্রযুক্তিপণ্য ও প্রযুক্তিসেবার উদ্ভাবন এবং রপ্তানিতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।
এ সময় সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক খাতের বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, দেশের তরুণরাই এই খাতের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। উদ্ভাবনী, গবেষণা ও নীতিগত সহায়তায় তরুণদের পাশে থাকবে সরকার।
এরপর বৈশ্বিক একাডেমিক প্লেনারি অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পারড্যু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক দিমিত্রি পেরুলিস।
অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর মোহাম্মদ মোস্তফা হোসাইন, পারড্যু বিশ্ববিদ্যালয় এবং চিফ আর্কিটেক্ট, সিলিকন রিভার বাংলাদেশ, নভোথিয়েটারের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৬১ দিন আগে
উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার দিকে মনোযোগ দিতে শিক্ষিত যুবকদের প্রতি আহ্বান মির্জা ফখরুলের
ঠাকুরগাঁওয়ের সলেমান আলীর উদ্ভাবিত প্রযুক্তির উদাহরণ টেনে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শিক্ষিত যুবকদের উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার দিকে মনোযোগ দিতে আহ্বান জানান।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মোলানীবাজার চুনিহাড়ী পশ্চিমপাড়ায় সলেমান আলী উদ্ভাবিত সলেমান সোলার সেচ পাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নিজের চেষ্টায় সলেমান ভাই এক অভূতপূর্ব আবিষ্কার করেছেন। যে আবিষ্কার তিনি নিজের চেষ্টায় নিজের প্রযুক্তি দিয়ে আজকে কৃষিতে, কৃষকের মুরগির খামার, বাসা-বাড়িতে সরবরাহ করে সাহায্য করতে পারছেন। আগে আমার জানা ছিল না। কিছুদিন আগে তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন, সেখানে আমি এসব জানতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, প্রকৃতপক্ষে সলেমান আলী একজন সাইকেল মেকানিক ছিলেন। তার বাবাও একই কাজ করতেন। ওই সাইকেলের মেকানিকের কাজ করতে করতেই তিনি প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেন। তিনি ভাবেন, এই সোলার দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে অনেকটা সাশ্রয়ী হবে।
তিনি আরও বলেন, সলেমান বর্তমানে ২৮টি সোলার পাম্প চালান এবং ৩০০ একর জমিতে সেচ দেন। এখানকার পুরো এলাকার চাহিদা সোলার প্যানেল দিয়ে মিটিয়ে আসছেন। আমরা যারা সরকারে আছি, চেষ্টা করব তার এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ব্যক্তি, যারা নীরবে নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছে, কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না, তিনি সম্পূর্ণভাবে নিজের চেষ্টায়, নিজের উন্নতি করছেন এবং দেশের উন্নতি করা যায় সেই চেষ্টা করেছেন। এজন্য আমি শিক্ষিত যুবকদের বারবার বলি, নিজেরাই কিছু করার চেষ্টা করুন। সোলেমান আলী একজন সাধারণ সাইকেল মেকানিক হয়েও এই এলাকার মানুষকে তার প্রযুক্তি দিয়ে সহযোগিতা করছেন। এই কাজকে এগিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে আরও বেশি সহযোগিতা করা হবে।
অনুষ্ঠান শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই এলাকার একতা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন স্কুল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলীসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিএনপির নেতা-কর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
৮৪ দিন আগে
কৃষিপণ্যের অপচয় রোধে দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্ভাবনের বিকল্প নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, কৃষিপণ্যের অপচয় রোধে দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ‘হোম সলিউশন’ উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। সরকার লিচু সংরক্ষণে আধুনিক ও স্বল্প খরচের কার্যকর সমাধান বের করতে গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৫ জুন) পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মিরকামারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্য মেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষকরা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা রাখেন। কৃষির সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। ছোট শিশুদের মধ্যেও কৃষির প্রতি যে ভালোবাসা দেখেছি, তা সত্যিই অনন্য।’
তিনি বলেন, আগে পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব হতো না। কিন্তু স্বল্প খরচে ব্লোয়ার ও এক্সজস্ট ফ্যান ব্যবহার করে এখন কয়েক মাস সংরক্ষণ করা যাচ্ছে। একইভাবে লিচু ও আলুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের জন্যও দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর কম খরচের সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
লিচুর পচন ও ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে কৃষি মন্ত্রণালয়কে গবেষণার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গরম আবহাওয়া কিংবা কীটনাশকের কোনো ত্রুটির কারণে সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। একটি লিচুও যেন নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে কার্যকর সমাধান বের করতে হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বছরে প্রায় চার কোটি টন চাল উৎপাদন করছে এবং পেঁয়াজ উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা আরও ১০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হলে অনেক কৃষিপণ্য বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ।
এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী মেলার উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। মেলায় স্থানীয় কৃষিপণ্য, লিচু, কৃষি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রদর্শিত হয়।
১১২ দিন আগে
বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধাপাচার রোধ করে মেধা লালন করে দেশ গড়তে চায় সরকার। আমরা এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে চাই যেন প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেন। আমরা মনে করি, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরে কারিকুলাম নতুন করে সাজানো সময়ের দাবি।
এ সময় আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনও প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছেনি।
তারেক রহমান বলেন, র্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবনকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু পুথিগত শিক্ষা নয়, গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নজর না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা কষ্টকর হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন ও গবেষণা এগিয়ে নিতে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি অ্যালামনাইদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর অ্যালামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব অ্যালামনাই বর্তমানে দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত, তাদের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে তিনি শিক্ষাবিদদের প্রতি আহ্বান জানান।
সরকারপ্রধান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চ শিক্ষা নিয়েও অনেককে বেকার থাকতে হয়। এর কারণ সম্পর্কে নানা মত রয়েছে। তবে, এ ব্যাপারে অনেকেই একমত যে অ্যাকাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই বেকারত্বের হার বেশির অন্যতম কারণ।
উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সেতুবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী আইডিয়া বাস্তবায়নে সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে তারা ক্যাম্পাস থেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।
শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বা বিগ ডাটার মতো প্রযুক্তি একদিকে প্রথাগত চাকরির বাজার সংকুচিত করছে, অন্যদিকে নিত্যনতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে।
এ সময় তিনি উবার, ফেসবুক, আলিবাবা ও এয়ারবিএনবির মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ টেনে বলেন, এদের নিজস্ব কোনো ট্যাক্সি, কন্টেন্ট, পণ্য বা রিয়েল এস্টেট নেই। শুধুমাত্র একটি স্মার্ট ইন্টারফেস ও উদ্ভাবনী আইডিয়া দিয়ে তারা বিশ্ব শাসন করছে। আমাদের প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন, সুযোগ পেলে তাদের পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়।
ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ শুরু করতে চায়। যেখানে মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাকে আলিঙ্গন করার পাশাপাশি দেশজ মূল্যবোধ রক্ষার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে হাঁটব, তবে আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ যেন হারিয়ে না ফেলি সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
১৩৬ দিন আগে
গাকৃবিতে উচ্চ ফলনশীল চিকন ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন
নতুন আউশ ধানের জাত ‘জিএইউ ধান-৪’ উদ্ভাবন করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) গবেষকরা। স্বল্প সময়ে বেশি ফলন দেওয়ার পাশাপাশি চিকন চালের বাজার চাহিদা পূরণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে এই ধান।
গবেষকদের মতে, এ জাতটি কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. ময়নুল হক ও অধ্যাপক ড. মো. মসিউল ইসলামের নেতৃত্বে প্রায় এক দশকের গবেষণায় স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও চিকন আউশ ধানের এই নতুন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।
নতুন এ উদ্ভাবনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত ধানের জাতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪টি এবং মোট ফসলের জাতের সংখ্যা হয়েছে ৯৫টি। সংশ্লিষ্টরা এটিকে দেশের কৃষি গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।
পুষ্টিগুণের দিক থেকেও ধানটি সমৃদ্ধ। এতে প্রায় ২৪.৫৮ শতাংশ অ্যামাইলেজ এবং ৮.৩৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে, যা হজম ও শরীরের গঠন প্রক্রিয়ায় সহায়ক।
অধ্যাপক ড. মো. মসিউল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি আউশ ধান উদ্ভাবন করা, যা স্বল্প সময়ে বেশি ফলন দেবে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে। আমরা আশা করছি এটি কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই উদ্ভাবন আমাদের গবেষকদের মেধা ও পরিশ্রমের ফল। এটি দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, দেশে সাধারণত আউশ ধানের ফলন আমন ও বোরোর তুলনায় কম হলেও ‘জিএইউ ধান-৪’ এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এটি দ্রুত পরিপক্ব হওয়ায় কৃষকরা অল্প সময়ে জমি খালি করে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল আবাদ করতে পারবেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপ্রবণ এলাকায় এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বীজ বপনের ৩ মাস থেকে ৩ মাস ১০ দিনের মধ্যেই এ ধান কাটা যায়। অনুকূল পরিবেশে প্রতি হেক্টরে ৫ থেকে ৫.৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। এছাড়া রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকায় প্রচলিত জাতের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি ফলন দিতে পারে।
গবেষকরা জানান, প্রচলিত আউশ জাত ‘পারিজাত’ এবং উচ্চ ফলনশীল চিকন জাত ‘বিইউ ধান-২’-এর সংকরায়নের মাধ্যমে এই নতুন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। দীর্ঘ গবেষণা ও মাঠ পরীক্ষার পর সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় ‘জিএইউ ধান-৪’ জাতটি অনুমোদন পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু সহনশীলতা এবং কম পানি প্রয়োজন হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ জাতের চাষ সম্প্রসারণ হলে কৃষি খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
১৭৪ দিন আগে
জলবায়ু সহনশীল ফসল উদ্ভাবনে গবেষণায় গুরুত্বারোপ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের অধ্যাপকদের
জলবায়ু পরিবৃর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জলবায়ু সহনশীল ফসল উৎপাদনে অধিকতর গবেষণা এবং প্রচলিত ফসলের বিকল্প শস্য চাষের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সালফোর্ড এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্বব্যিালয়ের (বাকৃবি) মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের যৌথ উদ্যোগে কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাববিষয়ক একটি সেমিনারে তারা এসব সুপারিশ করেন।
শনিবার (৯ মার্চ) বাকৃবির কৃষি অনুষদের সম্মেলনকক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় ‘খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জনসাধারণের জীবিকার উপর জলবায়ুর প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রাকৃতিক ক্ষয়ক্ষতি কমানো ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট প্রভাবের প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠার উপায় অন্বেষণে গুরুত্বারোপ করেন দুই দেশের অধ্যাপকেরা।
সেমিনারে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সালফোর্ডের অধ্যাপক বিঙ্গুনাথ ইনগিরিগে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন কেবল একটি নির্দিষ্ট দেশের সমস্যা নয়। এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা।
তিনি আরও বলেন, যদি একটি দেশও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী হয় এর প্রভাবে বিশ্বের প্রতিটি দেশকেই ভুগতে হবে।
আরও পড়ুন: বাকৃবিতে এনএসটির অর্থায়নে বিটরুট গবেষণায় দ্বিগুণ ফলন
এসময় তিনি জলবায়ুর পরিবর্তনে কৃষিতে বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিধসের প্রভাব আলোচনা করেন।
কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জীবিকার প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি উৎপাদন যেমন কমেছে, দারিদ্র্যের হারও বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতুর পরিবর্তন ঘটেছে।
এ কারণে উচ্চ ফলনশীল কিছু কিছু ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর কৃষকদের জীবিকা ও অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
দেশের কৃষিতে জলবায়ুর প্রভাব কমানো ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায় সম্পর্কে এ অধ্যাপক বলেন, প্রচলিত সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ফসল রোপণ এবং কাটার সময়কাল জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। জলবায়ু সহনশীল ফসল উদ্ভাবনে অধিক গবেষণা করতে হবে এবং প্রচলিত ফসলের বিকল্প ফসল চাষ করতে হবে।
সেমিনারের এক পর্যায়ে পর্যায়ে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়।
এ পর্বে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিতে নদীর ভূমিকা, উচ্চ ফলনশীল ও রপ্তানিযোগ্য কৃষি পণ্য উৎপাদনে গুরুত্বারোপ, চাষাবাদে অল্প পানি ব্যবহারে উচ্চ ফলন ও ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমানোর উপায়, স্বল্প সময়ে ফলন পাওয়া যায় এমন ফসল উৎপাদনে জোর দেওয়া, কৃষি উৎপাদনে জ্বালানির প্রভাব কমিয়ে সৌরশক্তির ব্যবহার, কৃষকদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনে কৃষকদের শহরমুখী হওয়ার কারণ এবং কৃষি উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও এনজিওর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এছাড়া সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন- কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রাব্বানী, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আবেদীন, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন: বাকৃবিতে তিন দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময় অনুষ্ঠিত
দেশে কম খরচে ও স্বল্প সময়ে গবাদিপশুর নির্ভুল রোগ নির্ণয় পদ্ধতি উদ্ভাবনের দাবি বাকৃবি অধ্যাপকের
৯৩০ দিন আগে
উচ্চ ফলনশীল গাজরের জাত উদ্ভাবন, হেক্টরপ্রতি ফলন ৩০ টন
দেশি ও বিদেশি ৮০টি জাতের গাজর নিয়ে গবেষণা করে উচ্চ ফলনশীল গাজরের জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশিদ ও তার গবেষকদল।
ইউএসএআইডি, ইউএসডিএ/এআরএস ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের যৌথ অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬টি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ২৪টি জাতের গাজর নিয়ে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে।
দেশে প্রচলিত পদ্ধতিতে গাজরের হেক্টরপ্রতি ফলন গড়ে ১০ টন হলেও গবেষণায় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল গাজরগুলোর জাত থেকে হেক্টরপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টন ফলন পাওয়া যাবে। এছাড়া গাজরগুলো দেশের উষ্ণ ও খরাপ্রবণ অঞ্চলেও চাষের উপযোগী ।
উচ্চ ফলনশীল এসব জাতের গাজর চাষ সম্পর্কে অধ্যাপক বলেন, ৭০ থেকে ৮০ দিনেই গাজরগুলোর ফলন পাওয়া যায় এবং এক একটি গাজরের ওজন প্রায় দুইশ’ থেকে আড়াইশ’ গ্রাম পর্যন্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘গাজরগুলো দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন খরাপ্রবণ এলাকায় যেমন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা, লালমনিরহাট ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে চাষ করে সফলতা পেয়েছি। তাছাড়া যেসব অঞ্চলে আলুর ফলন বেশি হয় সেখানে এসব গাজরের চাষ কৃষকদের ভাগ্য বদলাতে সাহায্য করবে।’
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র শীতে বোরোর বীজতলা নষ্টের আশঙ্কা
৯৬৯ দিন আগে
উদ্ভাবনে উৎসাহিত করতে ডিপিএস এসটিএস ঢাকার স্টিম কার্নিভাল
শিক্ষার্থীদের মাঝে উদ্ভাবন শক্তির বিকাশ এবং তাদের কৌতুহলী করে তুলতে স্টিম (সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্টস অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স) কার্নিভালের আয়োজন করেছে ডিপিএস এসটিএস স্কুল ঢাকা।
এই আয়োজনে ৫ থেকে ১২ গ্রেডের শিক্ষার্থীরা স্টিম বিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ লাভ করে।
আরও পড়ুন: এক্সে অডিও-ভিডিও কল করা যাবে অ্যান্ড্রয়েড থেকেও
প্রায় দুই হাজার দর্শনার্থী নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এই কার্নিভালে ডিপিএস ছাড়াও সিঙ্গাপুর স্কুল কিন্ডারল্যান্ড, আগা খান স্কুল ঢাকা, চিটাগং গ্রামার স্কুল, স্কলাস্টিকা ও ইন্টারন্যাশনাল হোপ স্কুল বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
এই প্রকল্পগুলোয় সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, কলা ও গণিতের প্রতি উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা জোতির্বিদ্যা ও পদার্থ বিজ্ঞানের প্রকল্প, সেলফ-ড্রাইভিং গাড়ি ও ফায়ার-ফাইটিং ভেহিকলের মতো প্রযুক্তি সম্পর্কিত প্রকল্প; জীববিজ্ঞান ও রসায়ন বিজ্ঞানের প্রকল্প, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সম্পর্কিত প্রকল্প, ওয়াটার সাইকেল, ভলকানোর (আগ্নেয়গিরি) মতো ভূগোল সম্পর্কিত প্রকল্প সহ আরও নানান প্রকল্প তৈরি করে।
কার্নিভালকে আরও উৎসবমুখর করে তুলতে ফুড স্টল, গেমসের মতো নানা কিছু নিয়ে একটি ‘ফান ফেয়ারের’ও আয়োজন করা হয়। ডিপিএস এসটিএসের শিক্ষার্থীরাও অতিথিদের জন্য আকর্ষণীয় গেমস ও বিনোদনের ব্যবস্থা করে।
আরও পড়ুন: ৪০% চাকরিকে প্রভাবিত করবে এআই: আইএমএফ
এ বিষয়ে স্কুলটির প্রিন্সিপাল ড. শিবানন্দ সিএস বলেন, ‘আধুনিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ স্টিম। আমাদের শিক্ষার্থীনির্ভর স্টিম কার্নিভাল শিক্ষার্থীদের কেবল স্টিম শিক্ষার প্রতি আগ্রহীই করে তুলবে না, বরং একইসঙ্গে তাদের মাঝে সহমর্মিতা বোধ ও দায়িত্বশীলতার বিকাশ ঘটাবে। আমাদের তরুণ বিজ্ঞানীদের নিজেদের বানানো স্টিম প্রকল্পগুলো দেখে আমরা অত্যন্ত অনুপ্রাণিত।’
৯৭১ দিন আগে
ফসলের পুষ্টি পরিমাপক অ্যাপ উদ্ভাবন করল ইউএসডিএ-বিএএস
ফসলের পুষ্টি পরিমাপক অ্যাপ উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অধ্যাপক ড. মো. মফিজুর রহমান জাহাঙ্গীর ও তার দল।
রবিবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের সম্মেলনকক্ষে ‘ডেভেলপমেন্ট অব এ ফিল্ড-স্কেলড নিউট্রিয়েন্ট ব্যালান্স ক্যালকুলেটর ফর ক্রপস অব এন ইন্টেনসিভলি ম্যানেজড এগ্রিকালচারাল সিস্টেম’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা জানানো হয়।
ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ) ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির (বিএএস) অর্থায়নে এ গবেষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: দেশের প্রথম গয়াল-ইল্যান্ডের কঙ্কাল তৈরি করলেন বাকৃবি অধ্যাপক
প্রকল্পটির প্রধান গবেষক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর বলেন, ফসলের পুষ্টি পরিমাপের জন্য আমরা একটি নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছি। মাটির উর্বরতা বাড়ানো, ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের দূষণ কমানো এ তিনটি বিষয়ে ভারসাম্য এনে কৃষকদের পরিমিত সার ব্যবহারের পরামর্শ পেতে সাহায্য করবে এই অ্যাপ।
তিনি আরও বলেন, একটি এলাকার মাটি, জলবায়ু, বৃষ্টিপাত বিভিন্ন তথ্য অ্যাপটিতে দিলে নির্দিষ্ট একটি এলাকার নির্দিষ্ট একটি জমিতে নির্দিষ্ট একটি ফসলের জন্য কতটুকু সার লাগবে তা জানিয়ে দেবে।
এছাড়া কতটুকু সার গাছ নিজের পুষ্টির জন্য ব্যবহার করবে, কতটুকু সার পানিতে ব্যয় হবে, কতটুকু সার বায়ু দূষণে ব্যয় হবে, কতটুকু সার গ্রিন হাউজ গ্যাস হিসেবে নিঃসরণ হবে সব তথ্যই অ্যাপটি থেকে জানা যাবে বলে জানান তিনি।
এ গবেষক বলেন, অ্যাপটি এখনো গবেষণা পর্যায়ে আছে। আগামী বছর মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগের জন্য আরও ব্যবহারবান্ধব করে কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বাকৃবির মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রাব্বানী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহ্ফুজা বেগম, উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা কমিটির সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মো. আবু হাদী নূর আলী খান, কৃষি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. এম জাহিরউদ্দীন (অব.)।
আরও পড়ুন: বাকৃবি অধ্যাপক আব্দুল কাফির মৃত্যু, বগুড়ায় দাফন
উদ্যোক্তাবান্ধব গবেষণায় দেশসেরা বাকৃবি
৯৭৮ দিন আগে