রাজবাড়ী
রাজবাড়ীতে মাছের আড়তে হামলা, নগদ অর্থ ‘লুট’
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থিত চান্দু মোল্লা মৎস্য আড়তে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় পৌনে ৩ লাখ টাকাও লুট করার অভিযোগও উঠেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে চান্দু মোল্লা মৎস্য আড়তে হামলার এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় মৎস্য আড়তের সত্ত্বাধিকারী চান্দু মোল্লা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বাহির চর দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বার পাড়ার রমজান শেখ (৪০) ও তার ভাই জয়নাল শেখ (৩৭), একই এলাকার মো. আমিন ম-লকে (৩৭) এবং চিহ্নিত এবং অজ্ঞাত আরও তিন থেকে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত হামলকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এতে করে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
চান্দু মোল্লা বলেন, অভিযুক্ত রমজান শেখ পেশায় একজন জেলে। আমি যেহেতু আমার আড়তঘরে প্রতিনিয়ত মাছ বেচাকেনা করে থাকি, তাই গতকাল দুপুর ১টার দিকে রমজান শেখ আমার আড়তে মাছ বিক্রি করতে আসেন। এ সময় মাছের দরদাম নিয়ে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তিনি চলে গেলে আমিও বাড়ি চলে যাই।
তিনি আরও বলেন, আমার সঙ্গে আমার খালাতো ভাই মমিন (৩৬) ও ভাগিনা শাহাদৎ বেপারী (৩৬) ব্যবসা দেখাশোনা করেন। দুপুর দেড়টার দিকে রমজান তার ছোট ভাই জয়নাল শেখ ও স্থানীয় আমিন ও অজ্ঞাত কয়েকজনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার আড়তে হামলা চালিয়ে মমিনকে মারধর শুরু করেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ দিয়ে তাকে আহত করেন। ঠেকাতে গেলে ভাগ্নে শাহাদৎকেও মারধর করে আহত করেন তারা।
পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত সরে যায়। খবর পেয়ে আমরা গিয়ে মমিন ও শাহাদৎকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।
চান্দু মোল্লার দাবি, একটি পক্ষ তার ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করতে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আড়তঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর-লুটপাট করেছে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় আড়তের কর্কশিট বাক্সে রাখা ব্যবসার প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট করে নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।
অভিযোগের বিষয়ে রমজান শেখ বা অন্য অভিযক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম আজ (শনিবার) দুপুরে বলেন, সন্ধ্যায় অভিযোগ পাওয়ার পর রাতেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
৭ দিন আগে
পদ্মার এক পাঙ্গাশ বিক্রি হলো ৩৩ হাজার টাকায়
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীর ২০ কেজি ওজনের এক পাঙ্গাশ মাছ ৩৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে জেলেরা এই মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসলে নিলামে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা কিনে নেন। পরে তিনি ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে মাত্র ১ হাজার টাকায় লাভে মাছটি বিক্রি করেন।
স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পদ্মা ও যমুনা নদীতে জেলেদের জালে বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরা পড়ছে। স্থানীয় জেলেদের পাশাপাশি মানিকগঞ্জ, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের জেলেরা বর্তমানে মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিনের মতো আজ (মঙ্গলবার) ভোরের দিকে পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনায় জাল ফেলেন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ এলাকার জেলেরা। এ সময় অন্যদের সঙ্গে জাফরগঞ্জ এলাকার জেলে নিরঞ্জন কুমার হালদারও জাল ফেলেন। ভাসতে ভাসতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অদূরে বাহির চর দৌলতদিয়া কলারবাগান এলাকায় পৌঁছালে তার জালে ঝাঁকি লাগে। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে বড় কোনো মাছ ধরা পড়েছে। পরে জাল গুটিয়ে নৌকায় তুলতেই দেখতে পান বড় একটি পাঙ্গাশ মাছ। আনন্দে আত্মহারা নিরঞ্জন হালদারসহ নৌকায় থাকা জেলেরা দ্রুত জাল গুটিয়ে ফেরি ঘাটে নৌকা ভেড়ান।
পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট মাছ বাজারের কেছমত হালদারের আড়তে পাঙ্গাশটি বিক্রির জন্য তোলা হয়। এ সময় ওজন দিয়ে দেখা যায়, মাছটি প্রায় ২০ কেজি ওজনের। নিলামে তোলা হলে ফেরিঘাট এলাকার মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মাছটি কিনে নেন।
চান্দু মোল্লা বলেন, বর্ষা মৌসুমের শুরুতে পদ্মা নদীতে বিভিন্ন মাছ ধরা পড়ছে। এই পাঙ্গাশটি ছিল মৌসুমের সবচেয়ে বড়। প্রায় ২০ কেজি ওজনের পাঙ্গাশটি নিলামে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে ৩২ হাজার টাকায় কিনে নিই। পরে মাছটি ফেরিঘাটে আমার আড়তে নিয়ে আসি। তারপর বিক্রির জন্য বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করলে বেলা ১১টার দিকে ঢাকার এক পরিচিত ব্যবসায়ী কেজি প্রতি ৫০ টাকা করে লাভ দিয়ে ৩৩ হাজার টাকায় সেটি কিনে নেন। পরে তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় পাঙ্গাশটি পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পদ্মা ও যমুনা নদীতে কিছু ইলিশের পাশাপাশি কাতলা, রুই, পাঙ্গাশ ও রিঠা মাছ ধরা পড়ছে। পদ্মা নদীর এসব সুস্বাদু মাছের দাম অনেক হওয়ায় স্থানীয়দের ক্রয়ক্ষমতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ কারণে এই অঞ্চলের মানুষজন সাধারণত এ ধরনের মাছ কিনতে পারেন না। ঢাকাসহ দূরাঞ্চলের ব্যবসায়ী, রাজনীতিবীদ ও প্রবাসীরা এ ধরনের মাছের বেশিরভাগ কিনে থাকেন বলে জানান এই ব্যবসায়ী।
১১ দিন আগে
রাজবাড়ীতে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল, এসআই প্রত্যাহার
রাজবাড়ী আদালত কার্যালয়ে পুলিশের একজন উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে গত সোমবার ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন তদন্ত কমিটির প্রধান রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. শামসুল হক।
অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম ইসরাফিল হাওলদার। তিনি রাজবাড়ীর আদালত কার্যালয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ীর আদালত কার্যালয়ে নিজ চেয়ারে বসে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইসরাফিল হাওলাদার এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করছেন—এ সংক্রান্ত ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও গত সোমবার (৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটি শীতকালের কোনো এক সময়ের হবে। ভিডিওতে দেখা যায়, এসআই ইসরাফিল হাওলাদার কার্যালয়ে তার নিজের চেয়ারে বসে কাজ করছিলেন। এ সময় তার টেবিলের সামনে চশমা চোখে প্যান্ট-শার্ট পরা ও শার্টের ওপর জ্যাকেট পরিহিত এক ব্যক্তি জ্যাকেটের পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে তাকে (ইসরাফিল) দিচ্ছেন। এ সময় ওই ব্যক্তির পাশে আরেক ব্যক্তি দৃশ্যটি দেখছেন এবং মুখে মুচকি হাসি দিচ্ছেন। টাকা গ্রহণের পর ইসরাফিল হাওলাদার হাত দিয়ে ওই ব্যক্তিকে (ঘুষ প্রদানকারী) কিছু একটা দেখিয়ে দিচ্ছেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই দিনই (সোমবার) সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদের নির্দেশে এসআই ইসরাফিল হাওলাদারকে আদালত কার্যালয় থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
একই সঙ্গে, ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা বের করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. শামসুল হককে প্রধান করে জেলা পুলিশের ডিআইও ওয়ান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং আদালত কার্যালয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. মমিনুল হককে সদস্য করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে এসআই ইসরাফিল হাওলাদার আজ (বুধবার) দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। দীর্ঘদিন ধরে আইনজীবীদের একটি গ্রুপ তার বিরুদ্ধে লেগে আছে। এছাড়া নিজেদের কর্মচারীদের মধ্যে কেউ ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছে। তবে ভিডিওতে টাকা গ্রহণের কোনো বিষয় ছিল না। একটি মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে তাকে স্লিপ দেওয়া হচ্ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. শামসুল হক বলেন, ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়াসহ পুলিশ সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। ভিডিওটি নজরে আসায় ওই দিন পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) ইসরাফিল হাওলাদারকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে যাচাই বাছাই শেষে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিচ্ছি। যথাসময়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৭ দিন আগে
রাজবাড়ীতে এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার ও অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে এইচএসসির পাঁচ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা চলাকালে কালুখালী মহিলা কলেজ কেন্দ্রের সচিব ও কলেজের অধ্যক্ষ শিকদার মমতাজ আহম্মেদ তাদের বহিষ্কার করেন।
অধ্যক্ষ শিকদার মমতাজ আহম্মেদ জানান, আজ (বুধবার) কালুখালী মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলছিল। এই কেন্দ্রে কালুখালী সরকারি কলেজ ও নুরনেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৬৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। বহিষ্কৃত পাঁচজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন ছাত্রী এবং বাকি চারজন ছাত্র। তারা সকলেই কালুখালী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। পরীক্ষা চলাকালে তারা প্রত্যেকে মোবাইল ফোন ব্যবহার ও অসদুপায় অবলম্বন করছিল। ইতোমধ্যে তাদের প্রবেশপত্র ক্লোজ করে বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।
এদিন পরীক্ষা চলাকালীন আকস্মিকভাবে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শংকর চন্দ্র বৈদ্য, কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেজবাহ উদ্দিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামস সাদাত মাহমুদ উল্লাহ।
ইউএনও মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ আমরা পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে পাঁচ পরীক্ষার্থীকে অসাধু উপায় অবলম্বন করতে দেখতে পাই। পরে কেন্দ্র সচিব কলেজের অধ্যক্ষ শিকদার মমতাজ আহম্মেদ ওই পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার হলে কোনো ধরনের অসাধু উপায় অবলম্বনের সুযোগ নেই। পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা হবে।
১৭ দিন আগে
রাজবাড়ীতে ৭ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১
রাজবাড়ীতে ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে লুৎফর বিশ্বাস (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশুটি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে আসামিকে আদালতে পাঠানোর হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম।
গতকাল (মঙ্গলবার) পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার লুৎফর বিশ্বাস উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের জোনা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় ঝালমুড়ি বিক্রেতা। শিশুটির বাড়িও একই গ্রামে। সে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটি ঝালমুড়ি কিনতে অভিযুক্ত লুৎফরের বাড়িতে যায়। এ সময় লুৎফর শিশুটিকে তার ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে শিশুটি বাড়ি ফিরে গেলে তার শারীরিক অবস্থা দেখে তার সঙ্গে কী হয়েছে, সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে তার মা। প্রথমে ভয়ে সে কিছু না বললেও পরে সব কিছু খুলে বলে। পরে পরিবারের লোকজন শিশুটিকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পরে তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিশুটির ফুফু জানান, মঙ্গলবার দুপুরে শিশুটি মা তার বুকের ওপর ক্ষত দেখতে পায়। এরপর ক্ষতের কারণ জানতে চাইলে সে সব কিছু খুলে বলে। শিশুটির শরীরে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছিল। তখন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত লুতফুর বিশ্বাসকে স্থানীয়রা মারধর করে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। তারপর আমরা তাকে আজ (বুধবার) সকালে থানায় নিয়ে আসি। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলা করেছেন। আসামিকে আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
২৪ দিন আগে
রাজবাড়ীতে বিটুমিন কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ: অগ্নিদগ্ধ ২ শ্রমিকের মৃত্যু
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পশ্চিম উজানচর এলাকায় ঢাকা পাইরোলাইসিস কোম্পানির বিটুমিন তৈরির কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ ঘটনার ৫ দিন পর অগ্নিদগ্ধ দুই শ্রমিক মারা গেছেন।
সোমবার (২৯ জুন) পুলিশ ও ঢাকা পাইরোলাইসিস কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আহত দুই শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া দুই শ্রমিক হলেন— সোহেল রানা (২৪) ও শাওন মন্ডা (১৬)। সোহেল রানা গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মোল্লা পাড়া গ্রামের সামসুদ্দিনের ছেলে এবং শাওন মন্ডা মৌলভীবাজার জেলার জুরি উপজেলার বিনন্দাপুর গ্রামের ছুনু মন্ডার ছেলে ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে সোহেল গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এবং শাওন মুন্ডা আজ (সোমবার) বেলা ১১টার দিকে মারা যান। আগুনে সোহেলের দেহের অন্তত ৬০ শতাংশ এবং শাওনের দেহের ৭০ শতাংশ ঝলসে গিয়েছিল।
জানা গেছে, গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো তারা কারখানার বয়লারের মধ্যে টায়ার পুড়িয়ে বিটুমিন তৈরির কাজ করছিলেন। হঠাৎ কারখানার বয়লার বিস্ফোরিত হয়ে দুজন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হলে অন্য কর্মচারী ও স্থানীয়রা দ্রুত তাদের দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৫ বছর আগে গোয়ালন্দের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যাক্তি আওয়ামী লীগ নেতার সহায়তায় পরিবেশ অধিদপ্তরকে ‘ম্যানেজ’ করে জনবহুল এই এলাকায় পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এ কারখানাটি স্থাপন করেন। ইতোমধ্যে কারখানাটির অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও চলতি বছর পুনারায় অনুমোদন না নিয়েই বহাল তবিয়তে কাজ করে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটি হতে বের হওয়া টায়ার পুড়ানোর কালো ধোয়ার দুর্গন্ধে তাদের বাড়িঘরে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাতাসে কালো ধোয়া এসে ঘর বাড়ি, গাছপালা ও মাঠের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কালো ধোয়া ও দূর্গন্ধে তারা ঠিকমতো খাবার দাবারও গ্রহণ করতে পারছে না।
দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী বাহাউদ্দীন বাহার বলেন, ‘আমরা মারা যাওয়া দুই শ্রমিককে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করি। কিন্তু তাদের বাঁচানো গেল না।’
তিনি দাবি করেন, কারাখানায় বয়লার বিস্ফোরণ ঘটেনি। বয়লারের ভেতরের অতিরিক্ত গরম গ্যাস বের হয়ে দুই শ্রমিক দ্বগ্ধ হন। শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু নিজেদের অসাবধানতার জন্য দুই শ্রমিক আহত হন। কোম্পানির পক্ষ হতে মৃত দুই শ্রমিকের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, মারা যাওয়া দুই শ্রমিকের মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কারখানাটি এখনও তালাবন্ধ আছে এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সবাই আত্নগোপনে রয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, দুই শ্রমিকের মৃত্যুর খবরটি আমি শুনেছি। বিষয় অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে পরবর্তীতে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২৬ দিন আগে
রাজবাড়ীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, নিহত ১
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও জমির মাপজোককে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে জামিন বিশ্বাস (৫৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের ঢেঁপা মাজাইল গ্রামে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এর আগে গতকাল (রবিবার) রাত ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামিন বিশ্বাসের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত দুইজন পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের দড়িবাংলাট গ্রামের একটি জমির মাপজোককে কেন্দ্র করে পাট্টা ইউনিয়নের ঢেঁপা মাজাইল গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ সময় ঢেঁপা মাজাইল গ্রামের বাসিন্দা মতিউর বিশ্বাসকে কসবামাজাইল ইউনিয়নের দড়িবাংলাট গ্রামের হাকিম মণ্ডল ও তার লোকজন লাঞ্ছিত করেন।
এর জের ধরে গত শনিবার সকালে মতিউর বিশ্বাসের লোকজন হাকিম মণ্ডলের কাছে কৈফিয়ত চাইতে যান। একপর্যায়ে তারা হাকিম মণ্ডলকে লাঞ্ছিত করেন।
স্থানীয়রা জানান, রবিবার সকালে হাকিম মণ্ডলের লোকজন খাল পার হয়ে ঢেঁপা গ্রামের মজিদ বিশ্বাসের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় মজিদ বিশ্বাসের লোকজন বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে জামিন বিশ্বাসকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ঘটনায় আরও দুই থেকে তিনজন আহত হয়েছেন।
গুরুতর আহত জামিন বিশ্বাসকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান।
পাট্টা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অতুল চন্দ্র সরকার বলেন, পাট্টা ইউনিয়নের ঢেঁপা মাজাইল গ্রামের মতিউর বিশ্বাস ও কসবামাজাইল ইউনিয়নের দড়িবাংলাট গ্রামের হাকিম মণ্ডলের জমির মাপজোক নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। এর জের ধরে তিপক্ষের হামলায় মতিউর বিশ্বাসের ভাতিজা জামিন বিশ্বাস গুরুতর আহত হয়ে রবিবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, আগের পাল্টাপাল্টি হামলার জের ধরে রবিবার সকালে সংঘর্ষে গুরুতর আহত জামিন বিশ্বাস রাতে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রবিবার রাতেই ঢেঁপা মাজাইল গ্রামের লোকজন দড়িবাংলাট গ্রামে গিয়ে হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ওসি আরও বলেন, এ মুহূর্তে আমরা পাট্টা ইউনিয়নের নদীর পাড়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অবস্থান করছি। এখনো দড়িবাংলাট গ্রামে পৌঁছাতে পারিনি। যে কারণে কতগুলো বাড়িঘর ভাঙচুর বা আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে জানতে পারিনি। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলার অতিরিক্ত পুলিশসহ অন্তত ৭০-৭৫ জনের একটি দল এলাকায় অবস্থান করছে।
৩৩ দিন আগে
দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীর বিরুদ্ধে মামলা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে করবী ফেরির র্যাম ভেঙে এসবি পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ওই বাসের চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় বাসের চালক কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার বাসিন্দা মো. ঝন্টু আলী (৪৮), সুপারভাইজার কুষ্টিয়ার সুগ্রীবপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আজমল হোসেন (৩৮) এবং সহকারী আলামপুর এলাকার বাসিন্দা শাকিব হোসেনের (২২) নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া এস বি সুপার ডিলাক্স (নন-এসি) পরিবহনের বাস পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এজাহারে ফেরির অবকাঠামো ও যাত্রীদের মালামাল মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শুক্রবার) সকালে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুরের গাংনি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এস বি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছায়।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য চালককে নির্দেশ দেন নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
নির্দেশনা অনুসারে, বাসের প্রায় ৩৭ থেকে ৪০ জন যাত্রী নেমে পায়ে হেঁটে ফেরির দিকে যেতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পর বাসের চালক ঝন্টু আলী বাসটি স্টার্ট দিয়ে বেপরোয়া ও অবহেলামূলকভাবে চালাতে শুরু করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় পারাপারের জন্য নির্ধারিত ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’-এ না তুলে বাসটি দ্রুতগতিতে পন্টুন অতিক্রম করে সেখানে অবস্থানরত ‘করবী অক্সফ্যাম’ নামের অপর একটি ফেরির ওপর উঠে যায়। পরে ফেরিটির শেষ প্রান্তের র্যাম্পে সজোরে ধাক্কা দিলে র্যাম্পের শিকল ও সিটকিনি ছিঁড়ে যায় এবং বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
নৌ-পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার আগে সুপারভাইজার ও সহকারী কৌশলে লাফ দিয়ে ফেরিতে নেমে যান। আর চালক সাঁতরে পন্টুনের কাছে এলে নৌ-পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
দুর্ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে তুলে আনা সম্ভব হয়। পরে বাসটি জব্দ করে নৌ-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং অধিকাংশ কাঁচের জানালাসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এজাহারে দাবি করা হয়, দুর্ঘটনায় করবী অক্সফ্যাম ফেরির র্যাম্প, ক্যাবল ও শিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ ও মালামালের একটি অংশ পানিতে ভিজে, ডুবে বা হারিয়ে যায়। সব মিলিয়ে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মামলায় এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তারর দেখিয়ে আজ (শনিবার) রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নৌ-পুলিশ তদন্ত কাজ শুরু করেছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, দুর্ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া মালামাল যাচাই-বাছাই করে যাত্রীদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
৪৯ দিন আগে
রাজবাড়ীতে মাটিতে পুতে রাখা মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় একটি পুকুরপাড়ে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে উজ্জ্বল শেখ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে খবর পেয়ে উপজেলার সীমান্তবর্তী উজানচর ইউনিয়নের কালিতলা এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন— গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চর দৌলতদিয়া পরশউল্লাহ মাতুব্বরপাড়ার আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা আক্তার (৩২) ও তাদের ৪ বছর বয়সী মেয়ে সামিয়া আক্তার।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে উজ্জ্বল শেখকে গোয়ালন্দ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
নিহতের স্বামী আমজাদ শেখ জানান, গত ৪ মে চর দৌলতদিয়া হাট এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে কুলখানি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী ও মেয়ে নিখোঁজ ছিলেন। হত্যার ঘটনায় স্থানীয় উজ্জ্বল নামের এক ভাটা শ্রমিককে সন্দেহ করছেন তিনি। এর আগে তার স্ত্রীর সঙ্গে উজ্জ্বলের পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে সালিশও হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলার শেষ সীমানা উজানচর ইউনিয়নের জ্যোতিন বোদ্যিরপাড়ার কালিতলা গ্রামের স্থানীয় হাকিম উল্লাহর পুকুরপাড় থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। এ সময় মাঠে কাজ করা কয়েকজন কৃষক দুর্গন্ধ পেয়ে গ্রামের লোকজনকে খবর দেন। স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে দেখতে পান, পুকুরপাড়ের মাটিতে পুতে রাখা মানুষের পা বাইরে বের হয়ে আছে। সেখানে কয়েকটি কুকুর ঘোরাফেরা করছে।
স্থানীয় লোকজন বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের সহায়তায় মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানা পুলিশকেও খবর দিয়ে আনা হয়।
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. খবির হোসেন জানান, উজানচর ইউনিয়নের কালিতলা গ্রামের পায়ে চলার রাস্তার এক পাশে গোয়ালন্দ উপজেলার শেষ সীমানা। এর বিপরীত পাশে ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের আনছারডাঙ্গী গ্রাম। পুকুরটি আনছারডাঙ্গী গ্রামের হাকিম উল্লাহর।
তিনি বলেন, ‘পুকুরের পাশে মাঠে কাজ করার সময় কৃষকরা দুর্গন্ধ পেয়ে গ্রামের লোকজনকে খবর দেয়। গ্রামের লোকজন এর উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখেন, মানুষের পা দেখা যাচ্ছে। এরপর পুলিশকে খবর দিলে তাদের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।’
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সাড়ে ৪টার দিকে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সীমান্তবর্তী হওয়ায় দুই জেলার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং জমি মাপার আমিনদের এনে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। ঘটনাস্থলটি ফরিদপুর জেলার মধ্যে হওয়ায় সন্ধ্যায় মরদেহ দুটি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া তারাই সম্পন্ন করবে।
৭১ দিন আগে
রাজবাড়ীতে বজ্রপাতে বাবার মৃত্যু, কোল থেকে ছিটকে বাঁচল মেয়ে
রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুরে বাড়ির পাশে দোকানে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে সুমন মন্ডল (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সুমনের কোলে থাকা সাড়ে ৩ বছরের মেয়ে কোল থেকে ছিটকে পড়ে প্রাণে বেঁচে যায়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মজ্জৎকোল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন ওই গ্রামের সিদ্দিক মন্ডলের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, আজ (বুধবার) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মেয়ে সাফিয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি দোকানে যাচ্ছিলেন সুমন। বৈরী আবহাওয়াতে হঠাৎ বজ্রপাত হলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এ সময় শিশুটি তার কোল থেকে ছিটকে দূরে পড়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন সুমনকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে কোল থেকে ছিটকে পড়লেও শিশুটি আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছে।
মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি)দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, সুমন মন্ডলের এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।
৮৭ দিন আগে