রাজবাড়ী
রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার প্রধান আসামির যাবজ্জীবন
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার খামারডাঙ্গী গ্রামের কাতারপ্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী রুনা খাতুনকে (৩০) শ্বাসরোধে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মিলন শেখকে (২৮) যাবজ্জীবন সশ্রম কারদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ীর বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইউসুফ হোসেন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি মিলন নিহত গৃহবধু রুনা খাতুনের প্রতিবেশী।
আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. আইয়ুব আলী খান বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাদের নারী ও শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রায়ের পর আসামিকে আদালত থেকে বের করে রাজবাড়ী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় মিলন শেখকে বিমর্ষ অবস্থায় দেখা যায়। তার স্ত্রী চম্পা খাতুন ও তার দুই শিশুসন্তান এ সময় উপস্থিত ছিল।
মিলনের স্ত্রী চম্পা খাতুন রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ছোট্ট দুই শিশুসন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব। আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। আমাদের আল্লাহ ছাড়া এখন কেউ নেই।’
নিহত রুনার ভাই ও মামলার বাদী রায়হান বিশ্বাস বলেন, আসামি আমার ছোট বোনের বাড়ি দেখাশোনা করতেন। বিকাশের টাকা এবং স্বর্ণালংকার নিতে আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলাম।
জানা যায়, পাংশা উপজেলার মুচিদাহ খামারডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী আনিছুর রহমানের নতুন বাড়িতে ২০২৩ সালের ১৯ আগষ্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে মেয়ে সিনহা আক্তার (৯) ও দেড় বছর বয়সী ছেলে হুসাইনকে নিয়ে স্ত্রী রুনা খাতুন ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত দেড়টার দিকে ছেলে হুসাইন কান্না করলে পাশে থাকা সিনহার ঘুম ভেঙে যায়। বিছানায় মাকে না পেয়ে বারান্দায় মিলনকে এবং উঠানে দুই পা বাধা মায়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে সিনহা চিৎকার দিলে মিলনসহ অজ্ঞাত দুজন পালিয়ে যান। পরে আশপাশের লোকজন এসে রুনার মরদেহ দেখতে পায়।
পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহতের ভাই রায়হান বিশ্বাস বাদী হয়ে সেদিন মিলনকে প্রধান অভিযুক্ত ও অজ্ঞাত দুজনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ অভিযুক্ত মিলনসহ একই গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে তেছেম সরদার (১৬) ও কাজেম জোয়াদ্দারের ছেলে রিয়াজ জোয়াদ্দারকে (১৫) গ্রেপ্তার করে।
১ দিন আগে
ডুবোচরে ৭ নম্বর ঘাট বন্ধ, দৌলতদিয়ায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি
প্রবল স্রোতে পলিমাটি পড়ে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরি ভিড়তে পারছে না। এ কারণে শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে ঘাটটি বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। মাত্র দুটি ঘাট চালু থাকায় যানবাহন পারাপারে ভোগান্তি বেড়েছে। ঘাটস্বল্পতার কারণে ফেরিঘাট সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে আসা ‘ভাষা সৈনিক গোলাম মওলা’ নামের রো-রো ফেরি ৭ নম্বর ঘাটের কাছে ডুবোচরে আটকা পড়ে। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর শুক্রবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে আইটি-৯৬ জাহাজের সহায়তায় ফেরিটি উদ্ধার করা হয়।
‘ভাষা সৈনিক গোলাম মওলা’ ফেরির প্রধান মাস্টার বাবলু শিকদার বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে পাটুরিয়া থেকে দুটি যাত্রীবাহী বাস, ১১টি পণ্যবাহী ট্রাকসহ কয়েকটি ছোট গাড়ি নিয়ে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে রওনা হন তারা। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ৭ নম্বর ঘাট থেকে প্রায় ৫০ ফুট দূরে বেসিনের সামনে পলি পড়ে সৃষ্ট ডুবোচরে ফেরিটি আটকে যায়। পরে আইটি-৯৬-এর সহায়তায় ভোর সোয়া ৪টার দিকে ফেরিটি ঘাটে ভেড়ানো হয়।
একই সময়ে পাটুরিয়া থেকে আসা ‘ধলেশ্বরী’ নামের কে-টাইপ ফেরিও ডুবোচরে আটকা পড়ে। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর সেটি চরমুক্ত হয় বলে জানান তিনি।
৪ দিন আগে
নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া রুটে ১১ দিন ফেরি বন্ধ, ট্রলার ও স্পিডবোটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
পদ্মায় প্রবল স্রোতে রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ও পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌপথে বন্ধের ১১ দিন পরও চালু হয়নি ফেরি। ফলে এ রুটের যানবাহনগুলো দীর্ঘ পথ ঘুরে কুষ্টিয়ার লালনশাহ সেতু হয়ে চলাচল করছে। অন্যদিকে, উপায় না পেয়ে যাত্রীরা ইঞ্জিনচালিত ট্রলার এবং স্পিডবোটে ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। এ সুযোগে যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় জানায়, পদ্মার প্রবল স্রোতের কারণে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে ধাওয়াপাড়া ঘাট থেকে নাজিরগঞ্জের উদ্দেশে আর ফেরি যায়নি। ধাওয়াপাড়ায় অপেক্ষমাণ যানবাহন নিয়ে নাজিরগঞ্জের উদ্দেশে কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা করেও স্রোতের বিপরীতে চলতে না পারায় ফেরি বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এরপর ফেরিটি ধাওয়াপাড়া ঘাটে নোঙর করে থাকে। ফলে যানবাহনগুলো কুষ্টিয়ার লালনশাহ সেতু ঘুরে দীর্ঘপথ পাড়ি দিচ্ছে।
এই নৌপথে ‘ক্যামেলিয়া’ ও ‘কপোতি’ নামক দুটি কেটাইপ (মাঝারি) ফেরি চলাচল করত। কিন্তু দুর্বল ইঞ্জিন স্রোতের বিপরীত চলতে না পারায় গত ২৩ জুলাই থেকে কপোতি বন্ধ রয়েছে। একমাত্র ভরসা ক্যামেলিয়াও গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে বন্ধ হয়ে যায়।
৭ দিন আগে
রাজবাড়ীতে ঋণ-জর্জরিত কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ভোরের আলো ফুটতেই ঘুম ভাঙে স্ত্রীর। ঘুম ভেঙে বিছানায় স্বামী আব্দুল জলিল শেখকে দেখতে পাননি তিনি। প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো কোনো কাজে বাইরে গেছেন। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই অপেক্ষা পরিণত হয় এক মর্মান্তিক খবরে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাঠে যাওয়ার পথে কয়েকজন কৃষক তার বাড়ির অদূরে একটি সজনে গাছের ডালে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় জলিল শেখকে ঝুলতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ছুটে যান। স্থানীয়দের সহায়তায় গাছের ডাল থেকে তাকে নামানো হয়। তবে ততক্ষণে তিনি আর বেঁচে নেই।
নিহত আব্দুল জলিল শেখ (৫৮) রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের খলিশা সোনাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুস শেখের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছিলেন না জলিল। ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়তে থাকায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে মানসিক কষ্ট থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার দিবাগত রাতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিজ ঘরেই ঘুমিয়েছিলেন জলিল। আজ ভোরে স্ত্রীর ঘুম ভাঙলে দেখেন, তিনি বিছানায় নেই। বাড়ির আশপাশে খোঁজ করেও প্রথমে তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে সকালে মাঠে যাওয়ার সময় কৃষকরা গাছের ডালে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
জলিলের একটি মাত্র মেয়ে ছিল। কয়েক বছর আগে সেও আত্মহত্যা করে। এরপর স্ত্রীকে নিয়েই তার সংসার চলছিল।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য দুপুরে মরদেহটি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘পরিবার ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, জলিল অনেক টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এ কারণে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’
তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান ওসি।
২৫ দিন আগে
রাজবাড়ীতে চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
রাজবাড়ীর পাংশায় মোটর চুরির অভিযোগে জজ আলী বিশ্বাস (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে পাংশা উপজেলার কসবামাঝাইল ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জজ আলী বিশ্বাস পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মাঝাইল গ্রামের শুকুর আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করতেন এবং তিন সন্তানের জনক ছিলেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ (বুধবার) ভোরে উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামের করিম মণ্ডলের মিলে মোটর চুরি করতে গেলে স্থানীয়রা জজ আলীকে আটক করে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জজ আলী চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না দাবি করে তার ভাতিজা মিজান বিশ্বাস বলেন, পাট্টা ও কসবা-মাঝাইল গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মারামারি চলে আসছে। প্রায় দেড় মাস আগে তাদের পক্ষের জামিন বিশ্বাস নামে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলায় অভিযুক্তরা গেল মঙ্গলবার আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফেরেন।
মিজান বিশ্বাস বলেন, ‘আরিফ নামে একজন আমার চাচার পরিচিত ছিলেন। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে কৌশলে তাকে ডেকে নিয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর করা হয়েছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রাখা হয়। আমার চাচা কৃষিকাজ করতেন। তার তিনটি সন্তান রয়েছে। এখন তাদের কী হবে?’
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘ভোর ৫টার দিকে আমি ঘটনাটি ফোনে জানার পর বলেছিলাম, আপনারা তাকে মারধর করবেন না, আমরা আসছি। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে আমরা তাকে দ্রুত পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
ওসি আরও বলেন, ‘নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। এজন্য আমরা সুরতহাল তৈরি করে লাশ মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’
৩৬ দিন আগে
রাজবাড়ীতে গ্রাম পুলিশ ও নারীকে গলায় জুতার মালা ও কোমরে রশি বেঁধে নির্যাতন
রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগ তুলে এক গ্রাম পুলিশ সদস্য ও এক নারীকে রশি দিয়ে বেঁধে ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে ঘুরিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
নির্যাতনের শিকার গ্রাম পুলিশ সদস্য বর্তমানে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রয়েছেন। তিনি পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে কাজ করেন। এ ঘটনার পর নির্যাতনের শিকার নারীও বর্তমানে ওই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরের মধ্যে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির সঙ্গে ওই নারী ও গ্রাম পুলিশ সদস্য কথা বলছেন। সেখানে ওই নারী কোনো অনৈতিক কাজ হয়নি দাবি করে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির সঙ্গে তর্ক করছেন। গ্রাম পুলিশ সদস্যও কলা বিক্রির টাকা নিতে গিয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করছেন।
অন্য একটি ভিডিওতে ওই দুজনের গলায় জুতার মালা ও কোমরে রশি বেঁধে টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে উৎসুক নারী-পুরুষ ও শিশুদের দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী ওই গ্রাম পুলিশ সদস্য দাবি করেন, তিনি রাজবাড়ীর শ্রীপুর বাজারে কলা বিক্রি করেন, পাশাপাশি স্থানীয় দোকানগুলোতে পাইকারি কলা সরবরাহও করে থাকেন। গেল রবিবার সকাল ৭টার দিকে তিনি শ্রীপুর বাজারে কলা বিক্রি করছিলেন। সে সময় পাশের আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর এলাকার পূর্বপরিচিত এক নারী তার কাছ থেকে কলা কেনেন। সে সময় এক হাজার টাকার নোটের ভাঙতি না থাকায় ওই নারী পরে টাকা দেবেন বলে চলে যান।
তিনি বলেন, পরে সকাল ৮টার দিকে কল্যাণপুর বাজারের ইটভাটার কাছে গিয়ে ওই নারীকে ফোন করলে তিনি তাকে তার বাড়িতে যেতে বলেন। তার বাড়ির কাছে যাওয়ামাত্রই স্থানীয় অটোরিকশাচালক লাভলু বেপারী (২৫) নামের এক যুবক তাকে জোর করে একটি ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। পরে তার পরণের প্যান্ট খুলতে বলে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে ওই নারীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে চিৎকার করতে থাকেন।
গ্রাম পুলিশ সদস্যের অভিযোগ, এ সময় তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উপস্থিতরা তাকে মারধর শুরু করেন। পরে আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে তাকে ও ওই নারীকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাদের দুজনের গলায় জুতার মালা ও কোমরে রশি বেঁধে এবং ওই নারীর চুল কেটে এলাকায় ঘোরানো হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি মুক্ত হন।
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান দেখছেন। আমাদের সঙ্গে চরম অন্যায় করা হয়েছে। ঘরে বয়স্ক ছেলে থাকা অবস্থায় কোনো নারী অনৈতিক কাজ করতে পারেন না। এছাড়া ঘরের দরজা খোলা ছিল। লাভলুর সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক ভালো না থাকায় তারা নির্যাতন করে আমার দুটি দাঁত ভেঙে ফেলেছে। এ ঘটনার পর লজ্জায় আমার স্ত্রী ও সন্তান এখন পর্যন্ত আমাকে দেখতে আসেনি।’
পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেন, ভিডিওটি ফেসবুকে দেখেছি। মারধরের পর কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে ওই গ্রাম পুলিশ সদস্যকে ইউনিয়ন পরিষদে দিয়ে যান। এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে তাকে মারধরা করা হয়েছে বলে জানান তারা।
তিনি বলেন, আমরা ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছি। গ্রাম পুলিশ সদস্য অপরাধ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ প্রমাণিত না হলেও বিষয়টি দেখা হবে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা ও তাদের পরিবার আইনগত পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেবেন।
এ ধরনের ভিডিও নজরে এসেছে জানিয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার কেউ অভিযোগ দেয়নি। ভিডিওতে যা দেখেছি, তা খুবই দুঃখজনক। এভাবে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৪২ দিন আগে
রাজবাড়ীতে ট্রেনের বিচ্ছিন্ন ওয়াগনের ধাক্কায় বাস-মাহিন্দ্রা-ইজিবাইকের সংঘর্ষ, নিহত ২
রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেটে তেলবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পাঁচটি ওয়াগনের (বগির) ধাক্কায় যাত্রীবাহী বাস, মাহিন্দ্রা ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
রবিবার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের খানখানাপুর রেলগেটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের মঈনুদ্দিন শেখের ছেলে মালেক শেখ (৪৫) এবং রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী (৫০)। তারা মাহিন্দ্রা ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের যাত্রী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী হিমু খান জানান, তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে রেলগেটে পৌঁছানোর পর গেটম্যান ব্যারিয়ার নামিয়ে দেন। তার পেছনে আনন্দ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসসহ কয়েকটি যানবাহন অপেক্ষা করছিল। ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দিলে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে রেললাইন পার হয়ে কিছুটা সামনে যান। কয়েক সেকেন্ড পর বিকট শব্দ শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখেন, বাসটি রেললাইন অতিক্রম করার সময় ট্রেনের বিচ্ছিন্ন ওয়াগনগুলোর সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। একই সঙ্গে একটি মাহিন্দ্রা ও একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকও ওই বিচ্ছিন্ন ওয়াগনের আঘাতে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে ওয়াগনগুলো কিছু দূরে গিয়ে থেমে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন শেখ ও সাত্তার বিশ্বাস জানান, ফরিদপুর থেকে প্রায় ৩০টি ওয়াগন নিয়ে রাজবাড়ীগামী একটি তেলবাহী ট্রেন খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রম করার সময় হঠাৎ পেছনের চারটি ওয়াগনের সংযোগকারী কাপলিং (চেইন) ছিঁড়ে যায়। ইঞ্জিন ও সামনের অংশ রেলগেট পার হয়ে যাওয়ার পর গেটম্যান রেললাইন ফাঁকা মনে করে ব্যারিয়ার তুলে দেন। ঠিক সেই সময় একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি মাহিন্দ্রা ও একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা ওয়াগনগুলো সজোরে সেগুলোকে ধাক্কা দেয়।
তারা আরও জানান, সংঘর্ষে মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইক সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বাসটি ধাক্কা খেয়ে রেললাইনের পাশের খাদের কিনারে চলে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর কাজে অংশ নেন।
পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। গুরুতর আহতদের রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মালেক শেখ ও মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর মৃত্যু হয়।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
৫৯ দিন আগে
রাজবাড়ীতে মাছের আড়তে হামলা, নগদ অর্থ ‘লুট’
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থিত চান্দু মোল্লা মৎস্য আড়তে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় পৌনে ৩ লাখ টাকাও লুট করার অভিযোগও উঠেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে চান্দু মোল্লা মৎস্য আড়তে হামলার এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় মৎস্য আড়তের সত্ত্বাধিকারী চান্দু মোল্লা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বাহির চর দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বার পাড়ার রমজান শেখ (৪০) ও তার ভাই জয়নাল শেখ (৩৭), একই এলাকার মো. আমিন ম-লকে (৩৭) এবং চিহ্নিত এবং অজ্ঞাত আরও তিন থেকে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত হামলকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এতে করে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
চান্দু মোল্লা বলেন, অভিযুক্ত রমজান শেখ পেশায় একজন জেলে। আমি যেহেতু আমার আড়তঘরে প্রতিনিয়ত মাছ বেচাকেনা করে থাকি, তাই গতকাল দুপুর ১টার দিকে রমজান শেখ আমার আড়তে মাছ বিক্রি করতে আসেন। এ সময় মাছের দরদাম নিয়ে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তিনি চলে গেলে আমিও বাড়ি চলে যাই।
তিনি আরও বলেন, আমার সঙ্গে আমার খালাতো ভাই মমিন (৩৬) ও ভাগিনা শাহাদৎ বেপারী (৩৬) ব্যবসা দেখাশোনা করেন। দুপুর দেড়টার দিকে রমজান তার ছোট ভাই জয়নাল শেখ ও স্থানীয় আমিন ও অজ্ঞাত কয়েকজনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার আড়তে হামলা চালিয়ে মমিনকে মারধর শুরু করেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ দিয়ে তাকে আহত করেন। ঠেকাতে গেলে ভাগ্নে শাহাদৎকেও মারধর করে আহত করেন তারা।
পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত সরে যায়। খবর পেয়ে আমরা গিয়ে মমিন ও শাহাদৎকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।
চান্দু মোল্লার দাবি, একটি পক্ষ তার ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করতে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আড়তঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর-লুটপাট করেছে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় আড়তের কর্কশিট বাক্সে রাখা ব্যবসার প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট করে নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।
অভিযোগের বিষয়ে রমজান শেখ বা অন্য অভিযক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম আজ (শনিবার) দুপুরে বলেন, সন্ধ্যায় অভিযোগ পাওয়ার পর রাতেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
৬৮ দিন আগে
পদ্মার এক পাঙ্গাশ বিক্রি হলো ৩৩ হাজার টাকায়
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীর ২০ কেজি ওজনের এক পাঙ্গাশ মাছ ৩৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে জেলেরা এই মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসলে নিলামে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা কিনে নেন। পরে তিনি ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে মাত্র ১ হাজার টাকায় লাভে মাছটি বিক্রি করেন।
স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পদ্মা ও যমুনা নদীতে জেলেদের জালে বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরা পড়ছে। স্থানীয় জেলেদের পাশাপাশি মানিকগঞ্জ, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের জেলেরা বর্তমানে মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিনের মতো আজ (মঙ্গলবার) ভোরের দিকে পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনায় জাল ফেলেন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ এলাকার জেলেরা। এ সময় অন্যদের সঙ্গে জাফরগঞ্জ এলাকার জেলে নিরঞ্জন কুমার হালদারও জাল ফেলেন। ভাসতে ভাসতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অদূরে বাহির চর দৌলতদিয়া কলারবাগান এলাকায় পৌঁছালে তার জালে ঝাঁকি লাগে। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে বড় কোনো মাছ ধরা পড়েছে। পরে জাল গুটিয়ে নৌকায় তুলতেই দেখতে পান বড় একটি পাঙ্গাশ মাছ। আনন্দে আত্মহারা নিরঞ্জন হালদারসহ নৌকায় থাকা জেলেরা দ্রুত জাল গুটিয়ে ফেরি ঘাটে নৌকা ভেড়ান।
পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট মাছ বাজারের কেছমত হালদারের আড়তে পাঙ্গাশটি বিক্রির জন্য তোলা হয়। এ সময় ওজন দিয়ে দেখা যায়, মাছটি প্রায় ২০ কেজি ওজনের। নিলামে তোলা হলে ফেরিঘাট এলাকার মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মাছটি কিনে নেন।
চান্দু মোল্লা বলেন, বর্ষা মৌসুমের শুরুতে পদ্মা নদীতে বিভিন্ন মাছ ধরা পড়ছে। এই পাঙ্গাশটি ছিল মৌসুমের সবচেয়ে বড়। প্রায় ২০ কেজি ওজনের পাঙ্গাশটি নিলামে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে ৩২ হাজার টাকায় কিনে নিই। পরে মাছটি ফেরিঘাটে আমার আড়তে নিয়ে আসি। তারপর বিক্রির জন্য বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করলে বেলা ১১টার দিকে ঢাকার এক পরিচিত ব্যবসায়ী কেজি প্রতি ৫০ টাকা করে লাভ দিয়ে ৩৩ হাজার টাকায় সেটি কিনে নেন। পরে তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় পাঙ্গাশটি পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পদ্মা ও যমুনা নদীতে কিছু ইলিশের পাশাপাশি কাতলা, রুই, পাঙ্গাশ ও রিঠা মাছ ধরা পড়ছে। পদ্মা নদীর এসব সুস্বাদু মাছের দাম অনেক হওয়ায় স্থানীয়দের ক্রয়ক্ষমতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ কারণে এই অঞ্চলের মানুষজন সাধারণত এ ধরনের মাছ কিনতে পারেন না। ঢাকাসহ দূরাঞ্চলের ব্যবসায়ী, রাজনীতিবীদ ও প্রবাসীরা এ ধরনের মাছের বেশিরভাগ কিনে থাকেন বলে জানান এই ব্যবসায়ী।
৭২ দিন আগে
রাজবাড়ীতে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল, এসআই প্রত্যাহার
রাজবাড়ী আদালত কার্যালয়ে পুলিশের একজন উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে গত সোমবার ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন তদন্ত কমিটির প্রধান রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. শামসুল হক।
অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম ইসরাফিল হাওলদার। তিনি রাজবাড়ীর আদালত কার্যালয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ীর আদালত কার্যালয়ে নিজ চেয়ারে বসে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইসরাফিল হাওলাদার এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করছেন—এ সংক্রান্ত ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও গত সোমবার (৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটি শীতকালের কোনো এক সময়ের হবে। ভিডিওতে দেখা যায়, এসআই ইসরাফিল হাওলাদার কার্যালয়ে তার নিজের চেয়ারে বসে কাজ করছিলেন। এ সময় তার টেবিলের সামনে চশমা চোখে প্যান্ট-শার্ট পরা ও শার্টের ওপর জ্যাকেট পরিহিত এক ব্যক্তি জ্যাকেটের পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে তাকে (ইসরাফিল) দিচ্ছেন। এ সময় ওই ব্যক্তির পাশে আরেক ব্যক্তি দৃশ্যটি দেখছেন এবং মুখে মুচকি হাসি দিচ্ছেন। টাকা গ্রহণের পর ইসরাফিল হাওলাদার হাত দিয়ে ওই ব্যক্তিকে (ঘুষ প্রদানকারী) কিছু একটা দেখিয়ে দিচ্ছেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই দিনই (সোমবার) সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদের নির্দেশে এসআই ইসরাফিল হাওলাদারকে আদালত কার্যালয় থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
একই সঙ্গে, ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা বের করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. শামসুল হককে প্রধান করে জেলা পুলিশের ডিআইও ওয়ান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং আদালত কার্যালয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. মমিনুল হককে সদস্য করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে এসআই ইসরাফিল হাওলাদার আজ (বুধবার) দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। দীর্ঘদিন ধরে আইনজীবীদের একটি গ্রুপ তার বিরুদ্ধে লেগে আছে। এছাড়া নিজেদের কর্মচারীদের মধ্যে কেউ ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছে। তবে ভিডিওতে টাকা গ্রহণের কোনো বিষয় ছিল না। একটি মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে তাকে স্লিপ দেওয়া হচ্ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. শামসুল হক বলেন, ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়াসহ পুলিশ সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। ভিডিওটি নজরে আসায় ওই দিন পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) ইসরাফিল হাওলাদারকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে যাচাই বাছাই শেষে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিচ্ছি। যথাসময়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৭৮ দিন আগে