রাজবাড়ী
ঘন কুয়াশায় দেড় ঘণ্টা বন্ধের পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু
চৈত্রের শেষ দিকে এসেও কুয়াশার কবলে ঢাকা পড়ছে নৌপথ। আকস্মিক কুয়াশায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে আজ শনিবার সকালে প্রায় দেড় ঘণ্টার মতো ফেরিসহ নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। এ সময় নদী পাড়ি দিতে না পারায় উভয় ঘাটে আটকা পড়ে বেশকিছু যানবাহন। বাড়তি ভোগান্তিতে পড়েন ঢাকামুখি যানবাহনের যাত্রীরা।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় জানায়, চৈত্র মাসের শেষ দিকে এসেও ভোরের দিকে আকস্মিক কুয়াশায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিমাত্রায় কুয়াশা পড়তে থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে শনিবার ভোর পৌনে ৬টা থেকে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌপথে ফেরিসহ নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় নদী পাড়ি দিতে না পারায় দৌলতদিয়া এবং পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় আটকা পড়ে বেশকিছু যানবাহন। এর মধ্যে যাত্রীবাহী পরিবহনসহ পণ্যবাহী গাড়িও আটকা পড়ে।
সংস্থাটি আরও জানায়, ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি বন্ধ হলে পাটুরিয়া প্রান্তে ৩ নম্বর ঘাটে রো রো (বড়) ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, ৪ নম্বর ঘাটে ভাষা সৈনিক গোলাম মাওলা কে-টাইপ (মাঝারি) ফেরি, বাইগার ও রো রো ফেরি শাহ মখদুম এবং ৫ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর এবং ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি বনলতা নোঙর করে থাকে। একইভাবে দৌলতদিয়া প্রান্তে ৭ নম্বর ঘাট এলাকায় রো রো ফেরি কেরামত আলী, শাহ পরান ও ইউটিলিটি ফেরি হাসনাহেনা নোঙর করে থাকে। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সকাল সোয়া ৭টার দিকে কুয়াশা কেটে গেলে পুনরায় ফেরি চালু হয়। এক এক করে ঘাট ছাড়তে শুরু করে ফেরিগুলো।
ঢাকাগামী জামান ও সৌহার্দ্য পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট তত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন জানান, চৈত্র মাস প্রায় শেষ। এখনও নৌপথে কুয়াশা পড়ছে। ভোরের দিকে আকস্মিকভাবে চারদিকে কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে সামান্য দূরের কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। এ সময় কর্তৃপক্ষ ফেরি বন্ধ করে দিলে ঘাটে আমাদের কোম্পানির পরিবহনসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নানা ধরনের গাড়ি আটকা পড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ফেরি বন্ধ থাকায় আমাদের গাড়িগুলো ঘাটে আটকে থাকে এবং যাত্রীরা বাড়তি ভোগান্তিতে পড়েন।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম জানান, আজ ভোর থেকে নদীপথে আকস্মিকভাবে কুয়াশা পড়তে থাকে। এ সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক সময়ের জন্য ফেরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সকাল সোয়া ৭টার পর ফেরি চালু করা হয়। এ সময় নদী পাড়ি দিতে না পারায় উভয় ঘাটে কিছু গাড়ি আটকা পড়ে। তবে ফেরি সংখ্যা যথেষ্ট থাকায় যানবাহন পারাপারে তেমন বেগ পোহাতে হচ্ছে না।
৪ দিন আগে
রাজবাড়ীতে রিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী নিহত
রাজবাড়ীতে রিকশার চাকার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে সেলিনা আক্তার ঝরনা (৬৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের পান্না চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সেলিনা আক্তার ঝরনা রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা সদরের প্রয়াত মোজাম্মেল হোসেন মিয়ার স্ত্রী। তিনি অনলাইন সাংবাদ পোর্টাল বার্তা২৪-এর রাজবাড়ী স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সমকাল বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রতিনিধি এবং বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল মিয়ার মা।
স্থানীয়রা জানান, সেলিনা আক্তার ঝরনা সকালে বালিয়াকান্দির নিজ বাড়ি থেকে পালিত এক নাতনি ও জামাইয়ের সঙ্গে জরুরি কাজে রাজবাড়ী শহরে আসেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাদের আদালতপাড়া এলাকায় রেখে তিনি রিকশায় শহরের রেলগেট এলাকায় একটি হোটেলে নাশতা করার উদ্দেশ্যে রিকশায় চড়ে রওনা হন। পথে শহরের পান্না চত্বর পার হওয়ার সময় অসাবধানতাবশত তার গলায় পেঁচানো ওড়না রিকশার চাকার সঙ্গে পেঁচিয়ে যায়। এতে তার গলায় ফাঁস লেগে তিনি সড়কে পড়ে যান। এ সময় মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। তার মাথা ফেটে রক্ত ঝরছিল।
স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা রাজীব দে সরকার জানান, সকাল পৌনে ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা গেছেন। মরদেহ এখনও হাসপাতালে রয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সাংবাদিক সোহেল মিয়া সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
৮ দিন আগে
তিন ঘণ্টা পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু
আকস্মিক কুয়াশায় প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চালু হয়েছে। এর আগে, ভোর ৪টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া দুটি ফেরি মাঝ পদ্মায় ঘন কুয়াশার কবলে আটকা পড়ে।
সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে পদ্মা নদী অববাহিকা আকস্মিক কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় নৌযান চলাচলে ঝুঁকি দেখা দেয়। এরপর মাঝ নদীতে দুটি ফেরি আটকে পড়ার খবরে সাড়ে ৪টা থেকে ফেরিসহ সকল নৌযান বন্ধ রাখা হয়।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয় জানায়, গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাতের পর থেকে পদ্মা অববাহিকায় কুয়াশা পড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্ব বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে, ভোর ৪টার দিকে চারদিকে কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এতে করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দেখা যায়।
এ সময় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া এনায়েতপুরী নামক একটি রো রো এবং বাইগার নামক একটি কে-টাইপ ফেরি মাঝ নদীতে কুয়াশার কবলে পড়ে। চারদিকে কিছুই দেখতে না পেয়ে ফেরি দুটি মাঝ নদীতেই নোঙর করে থাকে বলে জানায় বিআইডব্লিউটিসি।
ফেরি নোঙর করে থাকার খবর পেয়ে উপায় না পেয়ে কর্তৃপক্ষ ভোর সাড়ে ৪টা থেকে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌপথে ফেরিসহ নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, এ সময় পাটুরিয়া প্রান্তে ৩ নম্বর ঘাটে রো রো (বড়) ফেরি খানজাহান আলী, কেরামত আলী ও ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি বনলতা নোঙর করে থাকে। একইভাবে, ৪ নম্বর ঘাটে ভাষা সৈনিক ডা. গোলাম মাওলা ও শাহ পরান নামক দুটি রো রো ফেরি এবং ৫ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরি শাহ মখদুম ও ইউটিলিটি পেরি হাসনাহেনা নোঙর করে থাকে।
অন্যদিকে, দৌলতদিয়া প্রান্তে ৪ নম্বর ঘাটে কেটাইপ (মাঝারি) ফেরি ঢাকা এবং ৭ নম্বর ঘাটে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান নামক একটি রো রো ফেরি নোঙর করে থাকে।
এদিকে, নদী অববাহিকার পাশাপাশি সড়ক ও মহাসড়কেও কুয়াশার কবলে পড়ে যানবাহন। যানবাহনগুলো লাইট জ্বালিয়ে ধীরে ধীরে চলতে থাকে। মাঝে মধ্যে অতিমাত্রায় ঘন কুয়াশায় কিছুই দেখতে না পেয়ে যানবাহনগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
সরেজমিন ভোর পাঁচটার দিকে দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় দূরপাল্লার যানবাহনগুলো সতর্কতার সঙ্গে ধীরে গতিতে চলছে।
মোটরসাইকেল নিয়ে তেল আনতে পাম্পের দিকে যাওয়া রাকিবুল হক নামের এক ব্যক্তি বলেন, দিনের বেলায় অনেক লম্বা লাইন হয় বলে ভোরে রওনা করেছি। কিন্তু কুয়াশার কারণে গাড়ি চালাতে খুব ভয় করছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, কুয়াশায় নদীপথ অন্ধকার হয়ে আসায় নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ভোর চারটার দিকে ঘাট ছেড়ে যাওয়া দুটি ফেরি মাঝ নদীতে কুয়াশার কবলে আটকা পড়লে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সাড়ে ৪টার দিকে ফেরি বন্ধ করা হয়।
প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধের পর সকাল পৌনে ৭টার দিকে কুয়াশা কম দেখে মাঝ নদীতে থাকা ফেরিগুলো ঘাটের দিকে আসে। ঘাটে নোঙরে থাকা ফেরিগুলো একে একে ঘাট ছেড়ে যায় বলে জানান মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন।
১৬ দিন আগে
রাজবাড়ীর পদ্মায় বাসডুবির পঞ্চম দিনেও চলছে উদ্ধার অভিযান
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরি ঘাটের সামনে পদ্মায় যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম চলছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অন্যান্য দিনের মতো সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা তাদের উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম চালান তারা। এ সময় দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটের পন্টুনটি সরিয়ে ফেলা হয়। সেসব স্থানেও শেষ চেষ্টার অংশ হিসেবে অনুসন্ধান চালানো হয়। সন্ধ্যার পর সাময়িক সময়ের জন্য উদ্ধার অভিযান কার্যক্রমে বিরতি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি বিকেল সোয়া ৫টার দিকে নদী পাড়ি দিতে দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে পৌছে। ঘাটে থাকা অপর একটি বড় ফেরি যানবাহন বোঝাই করে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ায় অপর ফেরির অপেক্ষা করতে থাকে বাসটি। কয়েক মিনিট পর ঘাটে ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি হাসনাহেনা ভেড়ে। ফেরি থেকে দুই-তিনটি যানবাহন আনলোড চলাকালীন অপেক্ষায় সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পন্টুনের দিকে এসে পদ্মায় পড়ে যায়। সেদিন মধ্যরাতে প্রায় ৭ ঘণ্টার চেষ্টার পর নদী থেকে বাসটি টেনে তোলা হয়।
এ সময় বাস থেকে ১৮টি মরদেহ এবং পরদিন আরও ৬ জন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরি দল। তার আগে, দুর্ঘটনার পরপর চার যাত্রীকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৬ জনের মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান মো. সোহেল রানা জানান, ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত কর্মীরা সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অভিযান কখন বা কবে নাগাদ শেষ হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।
জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসনের কাছে নিশ্চিতভাবে এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো নিখোঁজের সন্ধান পাননি। তারপরও কারো মনে যাতে কোনো ধরনের প্রশ্ন দেখা না দেয়, তার আলোকে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে অভিযান চলবে। অভিযান কার্যক্রম শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।
১৬ দিন আগে
দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৯টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান।
বাসডুবির ঘটনায় ডুবুরি দল ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। তার আগে, দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
এখন পর্যন্ত যে ২৩ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে, তারা হলেন— রাজবাড়ী পৌরসভার লালমিয়া সড়ক ভবানীপুর এলাকার মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১) ও ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ড মজমপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা গ্রামের মৃত আব্দুল আলীমের মেয়ে জহুরা অন্তি (২৭) এবং একই মহল্লার কাজী মুকুলের ছেলে কাজী সাইফ (৩০), গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২) ও তার মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩), রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের সন্তান ফাইজ শাহানূর (১১) এবং একই উপজেলার মহেন্দপুর ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুর রহমান (৬), রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা মহল্লার কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলে তাজবিদ (৭), বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালখোলা গ্রামের আরব খানের ছেলে বাসচালক আরমান খান (৩১), সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের সোবাহান মন্ডলের মেয়ে লিমা আক্তার (২৬), একই ইউনিয়নের চর বেনিনগর গ্রামের মান্নান মন্ডলের স্ত্রী জোস্না (৩৫) এবং সদর উপজেলার দাদশি ইউনিয়নের আগমারাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের শিশু সন্তান সাবিত হাসান (৮); গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের নোয়াধা গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মথুয়ারাই গ্রামের মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী নাছিমা (৪০), ঢাকার আশুলিয়া উপজেলার বাগধুনিয়া পালপাড়া গ্রামের মো. নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার মেয়ে সোহা আক্তার (১১), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সমসপুর ইউনিয়নের গিয়াস উদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩) এবং ঝিনাইদহর শৈলকুপা উপজেলার কাচেরকোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের শিশুসন্তান আরমান (৭ মাস)।
এদের মধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাসচালক আরমান খান এবং দিনাজপুরের নাছিমা (৪০) নামের নারীর মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান।
২০ দিন আগে
রাজবাড়ীতে ফিলিং স্টেশনে তেলের সিরিয়াল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২
রাজবাড়ীর কালুখালীতে জ্বালানি তেল নেওয়ার সিরিয়াল দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি তেলের পাম্পে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ১১টার দিকে কালুখালী উপজেলার মোহনপুর এলাকার শেখ ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্থানীয়দের করা একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে সোমবার দিবাগত রাতে ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এ সময় কয়েকজন সিরিয়াল ভেঙে আগে তেল নেওয়ার চেষ্টা করলে অপেক্ষমাণ অন্যদের সঙ্গে প্রথমে কথা কাটাকাটি, পরে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তা মারামারিতে রূপ নেয়। এতে উপস্থিতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাময়িকভাবে তেল সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চরম হট্টগোল চলছে। একে অপরকে কিলঘুষি মারছে। একজনকে শার্টের কলার ধরে রাখছে, অপর কয়েকজন কিলঘুষি মারছে। আবার অপর একজনকে হ্যান্ড মাইক নিয়ে হট্টগোল থামানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। আরেকজনকে তেল নিতে আসা হাতে প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে তেলের ড্রামের ওপর বারবার আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় তেল নিতে আসা অন্যান্য মোটরসাইকেল আরোহীদের চোখেমুখে ছিল স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ।
ঈদের পর গত দুই দিন জেলার বিভিন্ন তেল পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ বন্ধ থাকায় নানা স্থানে উত্তেজনা দেখা যায়।
এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (নেজারত শাখা) মো. হাফিজুর রহমান জানান, আজকে (সোমবার) থেকে সবগুলা পাম্প তেল পাবে। গত ২দিন ডিপো থেকে তেল সরবরাহ না করায় অধিকাংশ পাম্পেই তেল শেষ। সপ্তবর্ণা ও করিম ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিসরে তেল দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার রাতের মারামারি প্রসঙ্গে কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন জানান, তেলের লাইনে দাঁড়ানো এবং আগে তেল নেয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী আফরা এলাকা থেকে আসা এক যুবক তার হাতে থাকা চাবির রিং দিয়ে স্থানীয় মোহনপুর এলাকার এক যুবকের শরীরে আঘাত করলে তার মাথায় সামান্য রক্তপাত হয়। পরে আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে স্থানীয় পর্যায়ে মীমাংসা হওয়ায় কোনো পক্ষ অভিযোগ দেয়নি।
২২ দিন আগে
রাজবাড়ীতে ভিজিএফের চাল ও জাল কার্ডসহ আটক ২, কারাদণ্ড
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের জন্য খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির (ভিজিএফ) বরাদ্দকৃত ত্রাণের চাল অবৈধভাবে ক্রয়, মজুদ ও সংরক্ষণের অভিযোগে দুই দালালকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। তাদের হেফাজত থেকে দুই বস্তা ত্রাণের চাল এবং স্বাক্ষরবিহীন ৬৯টি ভিজিএফ কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে অভিযানের নেতৃত্ব দেন কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেজবাহ উদ্দিন।
এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আলীম, রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মেহেদী হাসিনা পারভিন, তদারকি কর্মকর্তা ইউএনওর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফরোজ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— কালুখালী উপজেলার তোফাদিয়া গ্রামের মো. সাজ্জাদ হোসেন (৪২) এবং উপজেলার গঙ্গানন্দপুর গ্রামের চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস (৬৭)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। চালে ওজনে কম দেওয়া এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে উপকারভোগীদের কাছ থেকে কিছু দালাল স্বল্পমূল্যে চাল ক্রয় ও সংক্ষরণের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে দুপুর ১২টার দিকে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেজবাহ উদ্দিন অভিযান চালান।
এ সময় সাজ্জাদ হোসেন ও চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস নামক দুই দালালকে আটক করে উপজেলা প্রশাসন। তাদের হেফাজতে থাকা পরিষদের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে ৫৬টি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে প্রায় ৫৬০ কেজি চাল জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে স্বাক্ষরিত ৭টি এবং স্বাক্ষরবিহীন আরও ৬৯টি জাল ভিজিএফ কার্ড এবং চাল ভর্তি ৫০ কেজির দুটি বস্তা জব্দ করে প্রশাসন।
পরবর্তীতে আটকরা অপরাধ স্বীকার করায় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৫৬-এর (৬) ধারায় সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ত্রাণের চাল অবৈধভাবে ক্রয়, সংরক্ষণ, মজুদ ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করার অপরাধে (৩) ধারা অনুযায়ী তারা দোষী সাব্যস্ত হয়। এতে সাজ্জাদ হোসেনকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে চিত্ত রঞ্জন বিশ্বাসকে একই আইনে একই ধারায় ১৫ দিন কারাদণ্ড প্রদান ও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এদিকে, অভিযানকালে সাজাপ্রাপ্ত সাজ্জাদ হোসেন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রবিউল ইসলামের কাছ থেকে তিনি গতকাল (সোমবার) রাতে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে জব্দকৃত ভিজিএফ কার্ডগুলো ক্রয় করেন।
অভিযান শেষে বিকেল ৪টার দিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, তার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। কারণ স্বাক্ষরবিহীন কোনো কার্ড কারও কাছে দেওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া টাকা গ্রহণের কোনো প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানান এ নির্বাহী কর্মকর্তা। এছাড়া ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছেন তিনি।
২৮ দিন আগে
রাজবাড়ীতে তেল পাম্পে ট্রাকের চাপায় পৃথক দুই ট্রাকের চালক ও সহকারী নিহত
রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ের একটি পাম্পে তেল নিতে আসা এক ট্রাকের চাপায় অপর ড্রাম ট্রাকের চালক এবং আরেক ট্রাকের সহকারী নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় সপ্তবর্ণা ফিলিং স্টেশন নামক তেল পাম্পে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ব্রাকপাড়ার ইদ্রিস পাটোয়ারীর ছেলে ডাম ট্রাকচালক সোবাহান পাটোয়ারী (৪৫) ও অপর আরেক ট্রাকের সহকারী স্বপন মিয়া (২২) ঢাকার ধামরাই উপজেলার নান্নার গ্রামের সরল মিয়ার ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ড্রাম ট্রাকের চালক সোবাহান পাটোয়ারী তেল নেওয়ার জন্য সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই তেল পাম্পে আসেন। এ সময় ট্রাক থেকে নেমে ডিজেল সরবরাহকারী ফুয়েল ডিসপেনসার মেশিনের সামনে তিনি দাঁড়ান।
অন্যদিকে, ঢাকা থেকে বেনাপোলগামী অপর একটি ট্রাকের সহকারী স্বপন মিয়াও ট্রাক সিরিয়ালে রেখে ফুয়েল ডিসপেনসার মেশিনের সামনে দাঁড়ান। একই সময় মেশিন থেকে তেল নিচ্ছিল একটি মাহেন্দ্র গাড়ি। মাহেন্দ্র গাড়িটির তেল নেওয়া শেষ হওয়ায় ওই সময় পাম্পে তেল নিতে আগে থেকে অপেক্ষায় থাকা অপর আরেকটি ট্রাকের চালক গাড়ি চালু করা মাত্র নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মাহেন্দ্র গাড়িটিকে ধাক্কা দেন। এ সময় গাড়িটি ফুয়েল ডিসপেনসার মেশিনের সামনে থাকা সোবাহান পাটোয়ারী ও স্বপন মিয়াকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন সোবহান পাটোয়ারী ও স্বপন মিয়া। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ আজ (সোমবার) সকালে বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর ওই ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার মধ্যরাতে ফরিদপুর থেকে ট্রাকচালক সোবহানের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি খানখানাপুর নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপর ট্রাকের সহকারী স্বপনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি ধামরাই নিয়ে গেছে তার পরিবার। দাফনের কাজ শেষে নিহতের পরিবারকে আসতে বলা হয়েছে। তারা আসার পর পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
৩০ দিন আগে
রাজবাড়ীর দুই আসনেই বিএনপি প্রার্থীর বিজয়
রাজবাড়ী জেলার দুইটি সংসদীয় আসনেই বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও মো. হারুন-অর-রশিদ।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজবাড়ী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, রাজবাড়ী-১ আসনে (সদর ও গোয়ালন্দ) মোট ১৫৬টি কেন্দ্রের ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম ১ লাখ ১ হাজার ৯২ ভোট পেয়েছেন।
এই আসনের সর্বমোট ১৫৭টি কেন্দ্রে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২৫ এবং ‘না’ পড়েছে ৮৭ হাজার ২২৫ ভোট। আসনে প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৩ দশমিক ২০ ভাগ।
অন্যদিকে, রাজবাড়ী-২ আসনে (পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী) মোট ১৯৮টি কেন্দ্রে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. হারুন-অর-রশিদ ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের প্রার্থী জামিল হিজাযী পেয়েছেন ৬৭ হাজার ২৯৯ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) ‘কলস’ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সাংসদ নাসিরুল হক সাবু ৩৬ হাজার ৩৩৮ ভোট পেয়েছেন।
এই আসনে সর্বমোট ১৯৯টি কেন্দ্রে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৬২৫ এবং ‘না’ পড়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৬৭ ভোট। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৪ দশমিক ৮৯ ভাগ।
৬১ দিন আগে
রাজবাড়ীর পদ্মায় ৫ দিন পর ভেসে উঠল নিখোঁজ রেজাউলের মরদেহ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দিয়ে নিখোঁজের ৫ দিন পর ভেসে উঠেছে রেজাউল শিকদারের মরদেহ।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে পাশের ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের সেলিমপুর চর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছে স্থানীয় নৌপুলিশ। আজ (সোমবার) সকালে নৌপুলিশ ও নিহতের পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিহতের ভাই মোস্তফা শিকদার বলেন, গতকাল (রবিবার) রাত ৮টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি আমাদের বড় ভাই হারুন শিকদারের কাছে মোবাইলে ফোন করে রেজাউলের খবর জানতে চান। তার নিখোঁজের বিষয়টি বললে ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের নতুন হাট সেলিমপুর চরে একটি মরদেহ পাওয়ার খবর জানায় ওই ব্যক্তি। খবর পেয়ে রাতেই আমরা ফরিদপুরের সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়িতে যাই। প্রথম দেখেই মরদেহটি চিনে ফেলি। এরপর মরদেহের পরণে নীল রঙের জিন্সের প্যান্ট ও শার্ট এবং পকেটে থাকা মানিব্যাগের কাগজপত্র দেখে আমারা রেজাউলের মরদেহ শনাক্ত করি।
তিনি বলেন, মরদেহ আনতে ফরিদপুরের উদ্দেশে আমরা রওনা হয়েছি।
সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাসিম আহম্মেদ জানান, গতকাল সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা চৌকিদারের মাধ্যমে রাত ৮টার দিকে আমাদের জানান। খবর পেয়ে তাদের মরদেহটি আটকানোর কথা বলে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ৯টার দিকে ফাঁড়িতে চলে আসি। পরে নিহতের পরিবারের লোকজন কয়েকদিন আগে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে নিখোঁজ রেজাউল শিকদারের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন।
এই নৌপুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কয়েকদিন আগে মৃত্যু হওয়ায় পচে অর্ধগলিত হওয়ায় মরদেহটি গতকাল বিকেলের দিকে ভেসে ওঠে। ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই সেটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, রেজাউল শিকদার (৩৫) গোয়ালন্দ উপজেলার বাহির দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বার পাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে ছিলেন। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যানবাহন লোডের জন্য অপেক্ষমান রো রো (বড়) ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান’ নামক ফেরির পন্টুনে জুয়াড়ি চক্রের কয়েকজনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পদ্মা নদীতে লাফ দেন তিনি।
তবে স্বজনদের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে নদীতে ফেলে দিয়েছে। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস এবং মানিকগঞ্জের আরিচা থেকে আসা ডুবুরি দল সেদিন সন্ধ্যা থেকে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেরি ঘাট এলাকায় অনুসন্ধান চালায়। কোনো সন্ধান না পাওয়ায় ওই দিন রাতেই তারা অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে চলে যান।
নিহতের বড় ভাই হারুন শিকদার ও রবিউল শিকদার সেদিন দাবি করেছিলেন, জমি নিয়ে স্থানীয় একটি পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মামলা হয়েছে এবং তারা জেলও খেটেছেন। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে রেজাউলকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারণ, অন্য যাত্রীকে টেনে উদ্ধার করলেও রেজাউলকে ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্ধার করা হয়নি।
আজ দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ত্রিনাথ সাহা বলেন, নিখোঁজের ৫ দিন পর গতকাল (রবিবার) রাতে পদ্মায় মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে পরিবারকে জানানো হলে তারা গিয়ে সেটিকে রেজাউলের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন। নিহতের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৪টি মাদক মামলা, মানিকগঞ্জ ও গোয়ালন্দ ২টি ছিনতাই এবং গোয়ালন্দে ১টি জুয়া আইনে মামলা রয়েছে।
৬৫ দিন আগে