ধান
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে, শত একর বোরো ধান হুমকিতে
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে আকস্মিকভাবে বাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতে পানি ঢুকছে। এতে শত শত একর জমির আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, হাওরের গুজাউনি বাঁধের একটি অংশ ভেঙে দ্রুতগতিতে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। ফলে ইতোমধ্যে বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে চলে যেতে শুরু করেছে। অসহায় কৃষকরা বাঁধের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করে দেশবাসীর কাছে সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধসংলগ্ন একটি বিলের ইজারাদার মাছ আহরণ শেষে বাঁধটি যথাযথভাবে মেরামত না করে দুর্বল অবস্থায় রেখে দেন। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধটি ভেঙে যায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং এলাকাবাসী বাঁশ, বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালান।
ওই এলাকার কৃষক সোলেমান মিয়া বলেন, এই হাওরে আমাদের কয়েক হাজার একর জমি রয়েছে। দ্রুত বাঁধ মেরামত করা না গেলে পুরো ফসল পানির নিচে চলে যাবে।
তিনি আরও জানান, উথারিয়া বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে ক্ষতি অনেকটা কমানো সম্ভব হতো।
আরেক কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, বিলের মালিক সঠিকভাবে বাঁধ সংস্কার না করায় পানির চাপে এটি ভেঙে গেছে। এখন পাউবো ও এলাকাবাসী মিলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছে।
পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ১০০টি জিও ব্যাগ ও বাঁশ ব্যবহার করে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার কাজ করা হচ্ছে। এখন পানি প্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে, আশা করি ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হবে না।
এদিকে, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, দেখার হাওরের এই বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন নয়। তবুও ফসল রক্ষায় বাঁধটি মেরামতের জন্য আমাদের একটি টিম এলাকায় কাজ করছেন।
৩ দিন আগে
গাকৃবিতে উচ্চ ফলনশীল চিকন ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন
নতুন আউশ ধানের জাত ‘জিএইউ ধান-৪’ উদ্ভাবন করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) গবেষকরা। স্বল্প সময়ে বেশি ফলন দেওয়ার পাশাপাশি চিকন চালের বাজার চাহিদা পূরণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে এই ধান।
গবেষকদের মতে, এ জাতটি কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. ময়নুল হক ও অধ্যাপক ড. মো. মসিউল ইসলামের নেতৃত্বে প্রায় এক দশকের গবেষণায় স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও চিকন আউশ ধানের এই নতুন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।
নতুন এ উদ্ভাবনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত ধানের জাতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪টি এবং মোট ফসলের জাতের সংখ্যা হয়েছে ৯৫টি। সংশ্লিষ্টরা এটিকে দেশের কৃষি গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।
পুষ্টিগুণের দিক থেকেও ধানটি সমৃদ্ধ। এতে প্রায় ২৪.৫৮ শতাংশ অ্যামাইলেজ এবং ৮.৩৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে, যা হজম ও শরীরের গঠন প্রক্রিয়ায় সহায়ক।
অধ্যাপক ড. মো. মসিউল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি আউশ ধান উদ্ভাবন করা, যা স্বল্প সময়ে বেশি ফলন দেবে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে। আমরা আশা করছি এটি কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই উদ্ভাবন আমাদের গবেষকদের মেধা ও পরিশ্রমের ফল। এটি দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, দেশে সাধারণত আউশ ধানের ফলন আমন ও বোরোর তুলনায় কম হলেও ‘জিএইউ ধান-৪’ এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এটি দ্রুত পরিপক্ব হওয়ায় কৃষকরা অল্প সময়ে জমি খালি করে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল আবাদ করতে পারবেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপ্রবণ এলাকায় এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বীজ বপনের ৩ মাস থেকে ৩ মাস ১০ দিনের মধ্যেই এ ধান কাটা যায়। অনুকূল পরিবেশে প্রতি হেক্টরে ৫ থেকে ৫.৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। এছাড়া রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকায় প্রচলিত জাতের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি ফলন দিতে পারে।
গবেষকরা জানান, প্রচলিত আউশ জাত ‘পারিজাত’ এবং উচ্চ ফলনশীল চিকন জাত ‘বিইউ ধান-২’-এর সংকরায়নের মাধ্যমে এই নতুন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। দীর্ঘ গবেষণা ও মাঠ পরীক্ষার পর সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় ‘জিএইউ ধান-৪’ জাতটি অনুমোদন পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু সহনশীলতা এবং কম পানি প্রয়োজন হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ জাতের চাষ সম্প্রসারণ হলে কৃষি খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
১২ দিন আগে
সুনামগঞ্জের হাওরে জলাবদ্ধতা, নষ্ট হওয়ার পথে হাজার হেক্টর জমির ধান
মার্চের শেষ সপ্তাহে উজান-ভাটিতে ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের বোরো ফসল। এতে পানি নিষ্কাশন নিয়ে হাওরের কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে এসেছেন। উজানের হাওরের কৃষকরা বাঁধ কেটে দিতে চাইলে ভাটির কৃষকরা বাধা দিচ্ছেন। কারণ তখন ভাটির কৃষকের জমি তলিয়ে যাচ্ছে। সরকারি হিসাবে এ সময় জলাবদ্ধতায় ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি তলিয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মওসুমে জেলার ৫৩টি ছোট-বড় হাওরে ৭১০টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন করে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে দুর্বাঘাস লাগানোর কাজ।
গেল বছর মার্চ মাসে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলেও চলতি বছর মার্চ মাসে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সুনামগঞ্জে। চেরাপুঞ্জিতেও এর চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে উজান-ভাটির বৃষ্টিপাতের পানি নদ-নদী ছাপিয়ে নানা দিক দিয়ে হাওরে ঢুকছে।
গত ৩১ মার্চ জরুরি সভা করে পানি নিষ্কাশনকল্পে সরেজমিন ঘুরে ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বাঁধ আংশিক কেটে দেওয়া হয়েছে। বাঁধ কেটে দেওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। এক পক্ষ কেটে দিতে চাইলে ভাটির পক্ষ তাদের জমি জলাবদ্ধতার কারণে কাটতে দিচ্ছেন না। তবে প্রশাসনকে না জানিয়ে বাঁধ কাটার সুযোগ নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক হাওরে এই ফসল লাগানো হয়েছে। চলতি মওসুমে সব ধান গোলায় তুলতে পারলে প্রায় ১৪ লাখ টন চাল উৎপাদিত হবে। এর বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার ৫০ কোটি টাকা।
তবে জলাবদ্ধতা ও আগামী সপ্তাহে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। মিনি পাগনার হাওর, হালির হাওর, কাইল্যানি হাওর, ছায়ার হাওর, পুটিয়ার হাওর, ডাকুয়ার হাওর, জোয়ালভাঙ্গা হাওর, কানলার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাওরগুলোর পানি নিষ্কাশনের খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং হাওরের তুলনায় নদীতে বৃষ্টির পানি বেশি থাকায় পানি নিষ্কাশিত হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম বলেন, আমাদের ডাকুয়ার হাওরের উপরের অংশের কৃষকরা জোর করে বাঁধ কেটে দিতে চাইছেন। এতে নিচের অংশের কৃষকরা প্রতিবাদ করছেন। কারণ নিচে জলাবদ্ধ হাওরে নতুন করে আরও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে তাদের ধান। উপরের কৃষকদের পানি নিষ্কাশনের পথ নেই। তবে উপরের অংশের কৃষকরা পানি নিষ্কাশনের খালটি নোওয়াগাঁও এলাকায় বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের এই সমস্যা হয়েছে বলে জানান তিনি।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, গতবারের চেয়ে এবার আগাম বৃষ্টি বেশি হচ্ছে। এর ফলে পানি বেড়েছে। কিন্তু এই পানি ধারণের আধার নদ-নদী ও খাল-বিল বরাট হয়ে গেছে। যার ফলে তুলনামূলক নিচু এলাকা হওয়ায় প্রতিটি হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এখন জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে কৃষকরা মারামারি করছেন। একমাত্র নদ-নদী-বিল খনন করে দিলেই এই সমস্যা কমে যাবে বলে তিনি মতামত দেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, এবার চেরাপুঞ্জি ও সুনামগঞ্জেও বৃষ্টিপাত গতবারের চেয়ে বেশি হয়েছে। প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে। এই পানি এখন হাওরে চাপ তৈরি করেছে। অথচ গত বছর মার্চ মাসে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে এ নিয়ে জরুরি সভায় কমিটি করে প্রশাসনকে নিয়ে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি হাওরের পানি নিষ্কাশনও হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, এ পর্যন্ত জেলার ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য আমরা প্রশাসনকে বলেছি। তবে নিষ্কাশন করতে গিয়েও হাওরের উঁচু ও নিচু এলাকার কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থানে পৌঁছেছেন। কারণ এক পক্ষের পানি নিষ্কাশিত হলে অপরপক্ষের ফসল জলাবদ্ধ হয়। এছাড়াও আগামী ৬-৭ এপ্রিল ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
১৩ দিন আগে
বোরো মৌসুমে সাড়ে ১৭ লাখ টন ধান-চাল কিনবে সরকার
আসন্ন বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সাড়ে ১৭ লাখ টন ধান ও চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার(৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ( এফপিএমসি) কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাড়ে তিন লাখ টন ধান ও ১৪ লাখ টন চাল কেনা হবে। প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা এবং প্রতি কেজি চালের সংগ্রহ মূল্য ৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভাপতি ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, উপদেষ্টা, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাপতিত্বে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ধান চালের পাশাপাশি ৩৬ টাকা দরে গম কেনারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন
আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান চলবে। বোরো ধান ও চালের উৎপাদন খরচ বাড়ায় গত বছরের থেকে এবার সংগ্রহ মূল্য বাড়ানো হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় যে উৎপাদন খরচ দিয়েছে, তার সঙ্গে লাভ যুক্ত করে ধান ও চালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩৭২ দিন আগে
ডক্টর আবেদ চৌধুরীর পঞ্চব্রীহি ধান: উদ্ভাবন, চাষ পদ্ধতি ও সম্ভাবনা
বৃষ্টির মৌসুমে বন্যা সমস্যার অন্যতম প্রধান শিকার হয় দেশের শস্যখেতগুলো। বিশেষ করে ধানখেতের বিনষ্ট মোটা দাগে দেশকে খাদ্য ঘাটতি ও কৃষিভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়। প্রতি বছর প্রধান খাদ্যশস্যের ওপর এই চাপ প্রশমনে এক যুগান্তকারী উপায় হতে পারে পঞ্চব্রীহি ধান। অভিনব এই ধানের উৎপাদন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন অস্ট্রেলিয়া নিবাসী বাংলাদেশি জিনতত্ত্ববিদ ডক্টর আবেদ চৌধুরী। ব্যাপক গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত ধানের এই জাতটি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বেড়ে উঠতে সক্ষম। জাতটির এক রোপণেই ৫ বার ফলন পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমজুড়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
চলুন, পঞ্চব্রীহি ধানের উদ্ভাবন, চাষ পদ্ধতি ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
পঞ্চব্রীহি ধান: এক রোপণে ৫ ফলন
‘পঞ্চ’ মানে ৫, আর ‘ব্রীহি’ অর্থ ধান। একবার রোপণে একই শস্য থেকে বছরের ভিন্ন মৌসুমে মোট ৫ বার ফলনের কারণে ধানের নাম হয়েছে পঞ্চব্রীহি। ধান উৎপাদনের এই নতুন পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করেছেন অস্ট্রেলিয়া নিবাসী বাংলাদেশি জিনতত্ত্ববিদ ডক্টর আবেদ চৌধুরী। ২০২৩ সালের ১২ অক্টোবর লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের এক সেমিনারের মাধ্যমে তিনি এই উদ্ভাবনের বিষয়টি প্রকাশ করেন। তার এই পদ্ধতিতে প্রথমবার ফসল তোলার পরে ধান গাছ সম্পূর্ণ না কেটে আরও চারবার ফলন পাওয়া যায়।
পঞ্চব্রীহি ধানের সুবিধা
ধান গাছের সাধারণত একবার ফলন পর্যন্ত আয়ু থাকে। কিন্তু এই ধান প্রথমবার ফসল তোলার পর ৪ বার পর্যন্ত বাড়তে পারে। যে কোনো ঋতুতে বৃদ্ধি পাওয়া এই শস্য প্রায় সারা বছর ধান দিতে পারায় এটি বর্ষজীবীর কাতারেও পড়ে।
আরও পড়ুন: প্রধান খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখতে পেরেছে বাংলাদেশ: কৃষিমন্ত্রী
সাধারণ ধানের ক্ষেত্রে বোরো কাঁটার পরে আউশ রোপণ করা হয়। তারপর আউশের মৌসুমে ফসল তুলে ধরা হয় আমন। এভাবে প্রতিবার চাষের সময় জমি থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন, ও নাইট্রাস অক্সাইডের মতো দূষিত গ্যাস নিঃসরণ হয়। কিন্তু পঞ্চব্রীহির ক্ষেত্রে এক চাষেই ৫ বার ফলন পাওয়ার কারণে পরিবেশ দূষণের মাত্রা ৮০ ভাগ হ্রাস পায়।
চাষাবাদ অন্যান্য ধানগুলোর মতো সহজ হওয়ায় সামগ্রিক খরচও অনেকটা কম হয়।
উদ্ভাবনের নেপথ্যের গবেষণা
পূর্বে ডক্টর আবেদ চৌধুরী তার পিএইচডি গবেষণাকালে ‘রেকডি’ নামক একটি নতুন জিন আবিষ্কার করেন। এই উদ্ভাবন ৮০’র দশকে ইউরোপ ও আমেরিকাজুড়ে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছিল। তার উদ্ভাবিত ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধক রঙিন ভুট্টা বিশ্বজুড়ে বহুল সমাদৃত। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থার অধীনে একদল বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে গঠিত গবেষকদলের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন।
ধান গবেষণার জন্য ডক্টর আবেদ চৌধুরী বেঁছে নিয়েছিলেন নিজের জন্মস্থান সিলেটের মৌলভীবাজার জেলা। সেখানকার কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কানিহাটি গ্রামে প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি ধান নিয়ে গবেষণা করেন। শুরুটা হয়েছিল ২০১০ সালে ২৫ বর্গমিটার জমিতে ২০টি ধানের জাত নিয়ে। এগুলোর মধ্যে স্থানীয় জাতের পাশাপাশি ছিল ফিলিপাইন ও চীন সহ বিভিন্ন দেশের কয়েকটি ধান।
তার গবেষণার সহযোগী ছিল গ্রামের স্বল্পশিক্ষিত ও নিরক্ষর কৃষকগণ, যারা মাঠপর্যায়ের গবেষণায় পুরোটা সময় পরিশ্রম করেছে।
আরও পড়ুন: পরিবর্তনশীল জলবায়ুর জন্য কাসাভা উপযুক্ত, হেক্টরপ্রতি ফলন ৩৫-৫০ টন: বাকৃবি অধ্যাপক
কোনো রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার ছাড়াই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ধানের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে হাইব্রিড ঘটানো হয়। অতঃপর যে জাতগুলোর ধান পেঁকে যাওয়ার পর কাটা হলে আবার ধানের শীষ বের হয়, সেগুলোকে আলাদা করা হয়। এভাবে বেশ সুক্ষ্ম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত হয় মোট ১২টি জাত।
এরপর টানা ৩ বছর চলে চাষাবাদ। এখানে দেখা যায় জাতগুলোর প্রত্যেকটিই দ্বিতীয়বার ফলন দিচ্ছে। একই গাছে তৃতীয়বার ফলনের চেষ্টা করা হলে সেটিও সফলতা পায়। পরিশেষে ৪টি জাত বাদে বাকি সবগুলো চতুর্থবার ফলন দেওয়া পর্যন্ত টিকে থাকে।
অতঃপর গবেষণালব্ধ এই ৪টি জাতের ওপর আলাদাভাবে মনোন্নিবেশ করে আরও সুক্ষ্মভাবে গবেষণা শুরু হয়। ২০২১ সালে জানুয়ারিতে ২ বিঘা পরিমাণ জমিতে রোপণ করা হয় বোরো ধানের এই ৪টি জাত। উপযুক্ত ইউরিয়া সার প্রয়োগের পাশাপাশি নেওয়া হয় সঠিক সেচ ও পরিচর্যা। এর ফলে ১১০ দিনের মধ্যে ফসল চলে আসে ৮৫ সেন্টিমিটার থেকে ১ মিটার উচ্চতার গাছে। পরে পরিকল্পনামাফিক মাটি থেকে ঠিক ৩৫ সেন্টিমিটার উচ্চতায় ধান কেটে সংগ্রহ করা হয়।
সে বছর মে মাসের প্রথম দিকে প্রথম পর্যায়ে কাটা ধানে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয় ৪ টন। তারপর থেকে ৪৫ দিন পর পর প্রতি মৌসুমে হেক্টরপ্রতি ফলন আসে ২ থেকে ৩ টন। সব মিলিয়ে জাতগুলো থেকে হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৬ টন ফসল পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: মিয়াজাকি বা সূর্যডিম আম কেন এত দামি
পঞ্চব্রীহি ধান চাষের পদ্ধতি
বছরের যে কোনো সময়ে রোপণ করা যায় এ ধান। চারাগুলো রোপণ করতে হয় পরস্পরের থেকে ৪ থেকে ৫ সেন্টিমিটার দূরত্বে। এতে করে প্রত্যেকটি গাছ মাটি থেকে সমান শক্তি নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে।
বছরের প্রথমে বোরোর মৌসুমে এ ধান পাঁকতে ১১০ দিন সময় নেয়। অন্যান্য ধানের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রথমবার ধান কাটার পরে জমিকে আবার প্রথম থেকে প্রস্তুত করতে হয়। কয়েক সপ্তাহ এমনকি গোটা মাস খালি রাখার পর জমিতে আউশ বা আমন লাগানো যায়। কিন্তু এখানে ঐ বোরোর গাছ থেকেই ৪৫ দিন অন্তর অন্তর ২ বার আউশ এবং সবশেষে ২ বার আমন ধান পাওয়া যায়। প্রথমবারের তুলনায় পরের ফলনগুলোতে উৎপাদন কিছুটা কম হলেও ৫ বারের ফলন মিলিয়ে মোট উৎপাদন প্রায় ৫ গুণ বেশি হয়।
ধানের বীজ সংগ্রহের সময় পৃথক কোনো প্রক্রিয়া নেই। অন্যান্য ধানের মতো কৃষকরা নিজেরাই বীজ সংগ্রহ করতে পারেন। অন্য ধানের মতো একই ভাবে চারা তোলার আগে বীজতলায় রোপণ করতে হয়।
নির্দিষ্ট পরিমাপে ধান কেটে নেওয়ার পর মোড়া অংশগুলোতে থাকা লতাপাতা ও ঘাস ছেটে সার দিতে হয়। পোকামাকড় ধরলে অন্য ধানের মতোই সামান্য কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। খুব শক্ত ধান পঞ্চব্রীহির বেড়ে ওঠার জন্য পরিচর্যার এটুকুই যথেষ্ট। কেননা ঝড়-বৃষ্টি ও বন্যা এই গাছ নষ্ট করতে পারে না।
আরও পড়ুন: জিনোম সেন্টারকে কাজে লাগিয়ে পাটের উৎপাদন বাড়াতে হবে: কৃষিমন্ত্রী
নতুন উদ্ভাবিত এই ধানের সম্ভাবনা
হেক্টর প্রতি ২০ টন উৎপাদন করা সম্ভব এই নতুন ধান। কিন্তু তার জন্য দেশের প্রতিটি কৃষকের জন্য এই ধান সহজলভ্য হতে হবে।
ডক্টর আবেদ চৌধুরীর মতে, এ নতুন ধান চাষ পদ্ধতি সারা দেশের কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে গেলে আগামী ৫০ বছর দেশবাসীর খাদ্যের যোগান নিয়ে আর চিন্তার অবকাশ থাকবে না। এই চাষ একদিকে যেমন সময় বাঁচায়, অন্যদিকে অর্থের দিক থেকেও সাশ্রয়ী।
পঞ্চব্রীহি নিয়ে এখনও গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। এই জাত থেকে শুধু ৫ বার নয়, ভবিষ্যতে ১৫ বা ২০ বারও ধান পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ডক্টর আবেদ।
ধানের চাষাবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের অনুমোদনক্রমে বীজগুলো বিনামূল্যে দেশের ৮৭ হাজার গ্রামে সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ড. আবেদ। এর ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকগণ নতুন এই চাষাবাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ হবেন।
শেষাংশ
প্রতি বছর বন্যা প্রবণ দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্যসংকটের একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে পঞ্চব্রীহি ধান। একবার রোপণ করে ৫ বার ফলনে কমে যাবে কৃষকদের সময়, শ্রম ও খরচ। মাঠ পর্যায়ে ঘন ঘন চাষাবাদের পাশাপাশি উত্তরোত্তর গবেষণা নতুন ধান উৎপাদন পদ্ধতিটিকে আরও বিকশিত করে তুলতে পারে। এর নিরিখে কৃষি ক্ষেত্রে অপার সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করতে পারে ডক্টর আবেদের সৃষ্টি করা মাইলফলক।
আরও পড়ুন: বছরে চার ফসলের সম্ভাবনা জাগাচ্ছে ব্রি৯৮ আউশ ধান: কৃষিমন্ত্রী
৬৪২ দিন আগে
ময়মনসিংহে ধান উড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ধান উড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাজেদা খাতুন নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার দুপুরে উপজেলার চর পুবাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: মণিরামপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইউপি সদস্যের মৃত্যু
নিহত সাজেদা সদর ইউনিয়নের চর পূবাইল গ্রামের হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানায়, বাড়িতে বৈদ্যুতিক পাখার সাহায্যে ধান উড়ানোর কাজ করছিলেন সাজেদা খাতুন। সে সময় হঠাৎ বিদ্যুতের ছেড়া তারে পা লেগে বিদ্যুতায়িত হন সাজেদা খাতুন। পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাক উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজেদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারকে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু
বরিশালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ছেলে-মেয়েসহ মায়ের মৃত্যু
৭১২ দিন আগে
ধান-গমের বিকল্প খাবার হতে পারে কাসাভা
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের এই সময়ে মানব জাতিসহ গৃহপালিত প্রাণির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে বৈরি আবহাওয়ায় ধান ও গমের উৎপাদন কমছে। অপরদিকে জনসংখ্যা বাড়ছে দিন দিন। এমন অবস্থায় ধান, গম, চালের উপর নির্ভরতা কমাতে পারে কাসাভা। বাংলাদেশে কাসাভা সাধারণত শিমুল আলু নামে পরিচিত।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে খাবারের খোঁজে লোকালয়ে ২ বানর
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফসল উদ্ভিদ ও বিজ্ঞান বিভাগের সম্মেলনকক্ষে শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় কৃষি অনুষদের ফসল উদ্ভিদ ও বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির কাসাভার বিভিন্ন গুনাগুণ, ব্যবহার ও কাসাভা চাষের সম্ভাবনা ও প্রতিকূলতা সম্পর্কে তার গবেষণালব্ধ তথ্য উপস্থাপন করেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তায় এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।
সম্মেলনে গবেষক ছোলায়মান আলী ফকির জানান, কাসাভা পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম শর্করা জাতীয় খাদ্য এবং প্রায় ৮০ কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য।
তিনি আরও জানান, এটি শর্করা, আমিষ, চর্বি, আঁশ, খনিজ দ্রব্য, বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন-সি, লৌহ ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। এটি উচ্চ তাপমাত্রা ও কম উর্বর মাটিতেও জন্মাতে সক্ষম। সিদ্ধ করে, পুড়িয়ে এমনকি গোল আলুর মতো অন্যান্য তরকারির সঙ্গেও রান্না করে কাসাভা আলু খাওয়া যায়।
তিনি জানান, কাসাভা আটার সঙ্গে মিশিয়ে রুটি, পরোটা, কেক, পিঠা তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। আমেরিকার দেশ হাইতি, মেক্সিকান রিপাবলিক, পেরাগুয়ে, পেরু, আফ্রিকা তানজানিয়া, কেনিয়া, জাম্ববিয়া, ঘানা, নাইজেরিয়া ও এশিয়ার ভিয়েতনাম, ভারতের কেরালা ও তামিলনাড়ু রাজ্যে, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে এই আলু স্যুপ, চিপস, ট্যাপিওকা (সাগুসদৃশ খাবার), পুডিং ইত্যাদি হিসেবে খাওয়া হয়।
এছাড়া কাসাভার পাতায় ডিমের মতো পুষ্টিগুণ রয়েছে।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় পানিবন্দি ২ হাজার পরিবার, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট
ছোলায়মান আলী ফকির জানান, দেশের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে এই পাতা সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। তাছাড়া এ পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণের পর উদ্ভাবিত পিলেট ও আটা গরু, ছাগল, মহিষ, মাছ ও পোল্ট্রিকে খাবার হিসেবে দেওয়া যায়। তবে কাসাভা গাছের সর্বত্র বিষাক্ত সায়ানোজেনিক গ্লুকোসাইড থাকে। তাই বিষাক্ত কিছু জাতের কাসাভার ডগা ও পাতা খেয়ে গরু-ছাগল মারা যেতে পারে। তবে সিদ্ধ বা প্রক্রিয়াজাত করলে এই বিষক্রিয়া আর থাকে না।
৮৬৭ দিন আগে
সাতক্ষীরায় চিনিগুঁড়া ধানে তৈরি ১৮ প্রতিমা
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আগামী ২০ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে দেবী দুর্গা ঘোড়ায় (ঘোটকে) চড়ে স্বর্গ থেকে মর্ত্তলোকে আসবেন। এরপর মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী, মহানবমীর পূজা শেষে দশমীতে (২৪ অক্টোবর) বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে আবারও ঘোড়ায় চড়ে তিনি ফিরে যাবেন স্বর্গলোকে।
এ পূজা উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মুরারিকাটি উত্তর পালপাড়া মন্দিরে এবার ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধানের শৈল্পিক কারুকাজে নির্মাণ হয়েছে ১৮টি প্রতিমা।
পূজা শুরুর এখনও ১০ দিন বাকি থাকলেও ধান দিয়ে নির্মাণ করা প্রতিমা দেখতে মানুষের ভিড় বেড়েই চলেছে। যেন উৎসবের আগেই উৎসবের আমেজ।
মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিমাগুলো মনে হচ্ছে সোনা দিয়ে মোড়ানো হয়েছে। পুঁথির মতো একটা একটা করে ধান দিয়ে গেঁথে তৈরি করা হয়েছে এ প্রতিমা, যা অপরূপ সৌন্দর্য বর্ধন করেছে।
আরও পড়ুন: শনিবার মহা ষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা
প্রতিমা তৈরির কারিগর শিল্পী পল্লত বিশ্বাস বলেন, ১৮টি প্রতিমা পূর্ণাঙ্গভাবে তৈরি করতে সম্পূর্ণ একমাস সময় লেগেছে। এই মণ্ডপে দুর্গা, কার্তিক গণেশ, সরস্বতী, লক্ষ্মী, অসুরসহ আনুষঙ্গিক ১৮টি প্রতিমা তৈরির জন্য প্রথমে কাঠ, বাঁশ, পাট, নকশী কাপড় পা ও বিচুলির ফ্রেম বা কাঠামো, মাটি ও বিশেষ শৈল্পিক কারুকাজ হিসেবে ব্যয়বহুল চিনিগুঁড়া ধান ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু কিছু অংশে ব্যয়বহুল রং স্প্রে করা হয়েছে। যার কারণে প্রতিমাগুলোর সৌন্দর্য আরও বর্ধিত হয়েছে।
মুরারিকাটি পালপাড়া পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য ও শিক্ষক প্রদীপ পাল বলেন, প্রতি বছর ভিন্ন আঙ্গিকে তৈরি করা হয় এ পূজা মণ্ডপের প্রতিমাগুলো। এ বছর প্রায় ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান ব্যবহার করা হয়েছে এ প্রতিমা তৈরিতে। প্রতিমা তৈরির পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হয়েছে আরও কয়েকদিন আগে এরই মধ্যে ধানের প্রতিমা দেখতে ভিড় করছেন অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামাপদ পাল বলেন, ‘এবার যুব কমিটির আয়জনে ১ লাখ টাকার মতো খরচ করে ধানের প্রতিমা নির্মাণ হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে অচেনা মানুষের ভিড়ে মুখর হচ্ছে পূজা মণ্ডপ। পূজা শুরু হলে আমাদের যেসব স্বেচ্ছাসেবক আছে, তা দিয়ে শৃঙ্খলা কতটুকু রক্ষা করা যাবে জানি না। তাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা চাই।’
মণ্ডপে আসা অঞ্জলি পাল বলেন, ‘পালপাড়ায় ৪০টি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার বসবাস করে। এবার এ দুর্গাপূজা উদযাপনে এই প্রথম এত সুন্দর প্রতিমা তৈরি করেছে যুব কমিটি, যা সত্যি প্রশংসিত।’
৯১৬ দিন আগে
যা মজুদ আছে তাতে খাদ্যসংকটের কোনো সম্ভাবনা নেই: খাদ্যমন্ত্রী
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে তিনি খাদ্য সংকটের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না।
সম্প্রতি ইউএনবিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নওগাঁ-১ আসনে তিনবারের সংসদ সদস্য এই মন্ত্রী বলেন, দেশের কোনো জমি যাতে অনাবাদি না থাকে তার জন্য তার মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘চলতি আমন মৌসুমের পরই আসছে বোরো মৌসুম। আমরা পদক্ষেপ নেব যাতে সব চাষযোগ্য জমিতে বোরো চাষ হয়। আমরা ইতোমধ্যেই কৃষি মন্ত্রণালয়কে বলেছি আসন্ন বোরো মৌসুমে যথাযথ সেচের ব্যবস্থা করতে।’
মন্ত্রী বলেন, আগামী ফসলের মৌসুমে কৃষকরা যাতে সর্বোচ্চ উৎপাদনের জন্য তাদের জমি চাষ করতে পারে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সংসদ সদস্যকে তাদের নির্বাচনী এলাকায় সতর্ক থাকতে বলেছেন।
তিনি বলেন, যেকোনো সংকট এড়াতে সরকার কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উর্বর জমিতে অসংখ্য ফসলের চাষ হয়। আমরা পাই আমন, আউশ ও বোরো। যদিও এ বছর বৃষ্টিপাত কম বা না হওয়ায় খরার মতো পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, পরে জুলাই-আগস্টের বৃষ্টিপাত আমাদের ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। কিছু ফসল আছে, যেগুলো রোপণ করতে দেরি হয়েছে। তাই সেগুলোর ঘাটতি হতে পারে। সব মিলিয়ে যে কোনো ধরনের খাদ্য সংকট মোকাবিলায় আমরা অত্যন্ত সতর্ক রয়েছি।’
দেশে বর্তমানে কী পরিমাণ খাদ্য মজুদ রয়েছে সে সম্পর্কে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন যে প্রত্যেককে খাওয়ানোর জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের কাছে ১৭ লাখ টন চাল মজুদ রয়েছে। আরও পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টন চাল পাইপলাইনে রয়েছে। এছাড়া শিগগিরই মিয়ানমার থেকে ৩০ হাজার টন চাল নিয়ে একটি জাহাজ বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ আমাদের কাছে মোট ২০ লাখ টন চাল মজুদ থাকবে।’
তিনি বলেন, দেশের খাদ্য চাহিদা মেটানোর ক্ষমতা সরকারের রয়েছে।
সাধারণত সবসময় ১০ থেকে ১২ লাখ টন চালের মজুদ থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে যে খাদ্য মজুদ রয়েছে তা খোলা বাজারে বিক্রি (ওএমএস), পরীক্ষামূলক ত্রাণ (টিআর) এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্যসহ (কাবিখা) বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়। এই মজুদ ফুরিয়ে গেলে আমরা খাদ্য আমদানি করব।’
তিনি আরও বলেন, আমাদের এর থেকেও বেশি মজুদ আছে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সাধারণত ভারত থেকে আমদানি করলেও এখন মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানির পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘আমরা থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার থেকে ছাড়পত্র পেয়েছি। আমাদের কাছে কম্বোডিয়া থেকে চাল আমদানির অফার রয়েছে। আমরা চাল আমদানির জন্য আরও উৎস খুঁজছি। খাদ্য সংকট দেখা দিলে আমরা এই দেশগুলো থেকে খাদ্য আমদানি করে যেকোনো সংকট মোকাবিলা করতে পারব।’
মন্ত্রী বলেন, আমদানিকারকদের সরকারি কোষাগারে মাত্র ৫ শতাংশ ট্যাক্স পরিশোধ করে বেসরকারিভাবে চাল আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। এই সুযোগ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
তিনি বলেন, যদি দেখি যে কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন তাহলে আমরা এই এসআরও (সংবিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ) বাড়াব।
বর্তমান বিদ্যুতের সংকট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকলে অবশ্যই কৃষি কাজ ব্যাহত হবে। বিশেষ করে সেচের সময় এটি বেশি প্রয়োজন। এতে ধান উৎপাদন কম হবে। তবে এ বিষয়টি আমার মন্ত্রণালয়ের কাজ না। এটি কৃষি মন্ত্রণালয় দেখবে। আশা করি এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় সেচ মৌসমে কার্যকরী ব্যবস্হা নিবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, উৎপাদন যাতে বৃদ্ধি পায় সে বিষয়ে কৃষি মন্ত্রনালয় ও সংশ্লিস্ট সংস্থা সমন্বয় করে মনিটরিং করা হবে।
১২৬৬ দিন আগে
ধান মজুতের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছে ব্যবসায়ীরা: খাদ্যমন্ত্রী
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ধান মজুতের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছে ব্যবসায়ীরা।
তিনি বলেন, ধান কিনে মজুত করার অসুস্থ প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের মাঝে। সবাই প্রতিযোগিতা করে ধান কিনছে, ভাবছে ধান কিনলেই লাভ। এ অসুস্থ প্রতিযোগিতা ভালো পরিণতি আনবে না।’
রবিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয় থেকে ‘বোরো ২০২২ মৌসুমে অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ ও বাজার মনিটরিং সংক্রান্ত অনলাইন মতবিনিময় সভায়’ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এই সব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, অধিকাংশ মিল মালিক বাজার থেকে ধান কিনলেও তারা উৎপাদনে যাচ্ছেন না।
আরও পড়ুন: সততা ও নিষ্ঠার সাথে দেশ গঠনে অবদান রাখার আহ্বান খাদ্যমন্ত্রীর
বাজারে নতুন চাল এখনও আসছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন বাজারে যে চাল পাওয়া যাচ্ছে তা গত বছরের পুরাতন চাল। তাহলে নতুন ধান যাচ্ছে কোথায়? মিল মালিকদের প্রতি এ প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রী।
এ অবস্থা চলতে দেয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কে কত পরিমাণ ধান কিনছেন এবং কে কত পরিমাণ চাল ক্রাসিং করে বাজারে ছাড়ছেন তা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন করপোরেট হাউস ধান চালের ব্যবসা শুরু করেছে। তারা বাজার থেকে ধান কিনে মজুত করছেন এবং প্যাকেটজাত করছেন। প্যাকেটজাত চাল বেশি দামে বাজারে বিক্রিও হচ্ছে। তাই চালের ব্যবসায় সম্পৃক্ত কর্পোরেট হাউসগুলোর সঙ্গে দ্রুততম সময়ে বৈঠক করতে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
ভারত থেকে গম দেয়া বন্ধ হচ্ছে গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে অথচ শুধু ভারত নয় বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশকে গম দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে চিঠি পাঠিয়েছে বলে উল্লেখ করেন সাধন চন্দ্র মজুমদার।
আরও পড়ুন: কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দেশে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়েছে: খাদ্যমন্ত্রী
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলে ঝড় ও বৃষ্টিতে ধানের ক্ষতি হয়েছে। কোন জেলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার সঠিক হিসাব জানা না গেলে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে না। তাই কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঠিক তথ্য দেয়ার নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
১৪১৮ দিন আগে