ধান
সুনামগঞ্জে পানির নিচে ২০০ কোটি টাকার ধান, দিশেহারা হাওরের কৃষক
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আকস্মিক জলাবদ্ধতা ও ভাঙা বাঁধের কারণে হাজার হাজার একর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০০ কোটি টাকার ধানের ক্ষতি হয়েছে। চরম দুর্দশায় পড়েছেন কৃষকরা, যাদের অনেকেই ঋণ নিয়ে আবাদ করেছিলেন। এখন ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
দেখার হাওরের গুয়াছুড়া অংশে বুধবার দুপুরে কনকনে ঠান্ডা বাতাসের মধ্যেই কোমর সমান পানিতে ধান কাটছিলেন ১৫ জন কৃষি শ্রমিক। তাদের সকলেরই মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত পলিথিনে মোড়ানো। একটু দূরে দাঁড়ানো এক কৃষক (রইছ মিয়া, বাড়ি গুয়াছুড়া) কাটা ধানের মুঠি বাঁধার কাজ করছিলেন। তার চোখের কোনে টলটল করছিল পানি। সকল ধান কাটতে পেরেছেন কি না, জানতে চাইলেই চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছিল গলায় থাকা গামছা পর্যন্ত।
রইছ মিয়া বললেন, ‘দেখইন না হাওরের অবস্থা, সবইতো সাদা। ছয় কেয়ার (২৮ শতাংশে এক কেয়ার) পানিত ডুবছে, ধানের উপরে তিন চাইর হাত পানি। কীলাখান (কীভাবে) কাটমু! ছয় কেয়ার কাটছিলাম, শুকাইতাম পারছি না। ইখানো আরও ছয় কেয়ার আধাআধি (অর্ধেক দেবার) চুক্তিতে কাটরাম। ইগুন শুকানি যাইবো কিনা, জানি না। ১৯ কেয়ার জমিন করছি, সবই কিরাজ (এক ধরনের বর্গা)। প্রতি কেয়ার চাইর মণ দরে। মালিকরে সম্পূর্ণ ধান দেওন লাগব। মালিকে কম মানতো নায়। কম দিলে সামনের বছর আর জমিন দিতো নায়।’
তিনি জানালেন, দেড় লাখ টাকা ঋণ করে এনে এবার জমি করেছিলেন। দুশ্চিন্তা এখন তিন ধরনের— মালিকের ধান দেওয়া, জমি করা খরচের ঋণ মেটানো এবং সারা বছর খেয়ে বেঁচে থাকা।
দেখার হাওরের গুয়াছুড়া এলাকা থেকে ফেরার সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বৃষ্টি ছিল না। বাতাসের মধ্যেই হাওরের কান্দায় (কিছু শুকনা জায়গা) গেরা উঠা (চারা গজানো) ধান চটের ওপরে ছড়িয়ে বাতাস লাগানোর চেষ্টা করছিলেন ষাটোর্ধ্ব জমিলা খাতুন ও আসমা বেগম।
ওখানেই কাঁচা, পচে যাওয়া ধানের মুঠি টেনে সরাচ্ছিলেন গুয়াছুড়ার কমর আলী (৭০)। কথা বলার চেষ্টা করতেই (কমর আলীর সঙ্গে) বললেন, ‘বারো আনা (৭৫ ভাগ) জমি ডুবি গেছে। পুরুত্তাইন (ছেলে-মেয়ে) লইয়া কিলা বাঁচতাম। চাইর মণ দরে জমিন আনছি। ৭০ হাজার টেকা (টাকা) খরচ কইরা ২০ কেয়ার জমিন করছি। মালিকরে ধান না দিলে তালাতালি কইরা আরেকজনে কইবো আমারে দেইন জমি, হে তো (কমর আলী) ধান দিতো পারে না, সময়মতো কাটতো পারছে না, আপনার (মালিকের) ক্ষতি অইলো (হলো), মালিক বুইজ্জা না বুইজ্জাঔ (বুঝে না বুঝে) জমিন অন্যজনরে দিতো পারে, এই বিপদ থাকি কেমনে বাঁচতাম ভাই।’
জলাবদ্ধতায় গুয়াছুড়ার এই দুই বর্গাচাষিকেই কেবল বিপন্ন করেনি। বরং জেলাজুড়ে বর্গাচাষিরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
দেখার হাওরপাড়ের আস্তমা গ্রামের বড় বর্গাচাষি কে এম ফখরুল ইসলাম বললেন, দেখার হাওরে শতকরা ৭০ ভাগ কৃষক কিরাজ (বর্গাচাষ) করেন। একসময় বাগি করা হতো (আধাআধিতে), রংজমায়ও (আগে চুক্তি করে টাকা দিয়ে করা) করা হতো। এখন ফসল করতে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সকলেই কিরাজ করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বললেন, বাঁধ ভেঙেছে দুইটি। এগুলো হচ্ছে— মধ্যনগরের এরন বিল এবং একই উপজেলার জিনারিয়া বাঁধ। এই বাঁধগুলো বড় হাওরের না হলেও এসব বাঁধ ভেঙে তিনটি ছোট হাওরে পানি ঢুকেছে। জলাবদ্ধতায় পানিতে ডুবেছে ৯ হাজার ৪৯ হেক্টর জমি, সব মিলিয়ে পানিতে ডুবে বুধবার বিকেল পর্যন্ত সরকারি হিসেবে ৫০ হাজার টন ধানের ক্ষতি হয়েছে, টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
তবে কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, এই ক্ষতি আরও অনেক বেশি। পানি নামতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগবে। উজানে বৃষ্টি হচ্ছে, সুনামগঞ্জেও আছে বৃষ্টি। সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে গত বুধবার বিকেলে ৪ দশমিক ৮৬ সেন্টিমিটার অর্থাৎ হাওরের বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
জেলার শাল্লা উপজেলার সবকয়টি হাওর জলাবদ্ধতায় ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা চাপটার হাওরের বাঁধ কেটে ধনু নদী দিয়ে মেঘনায় পানি নামানোর চেষ্টায় করেছিলেন। ওই হাওরপাড়ের কাদিরপুরের স্কুলশিক্ষক রমণ দাস বুধবার সন্ধ্যায় জানান, বাঁধ কেটে কোন লাভ হয়নি। পানি নামছে একেবারে ধীরগতিতে। চাপটার হাওরের পানি আর ধনু নদীর পানি প্রায় সমান সমান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, বাঁধ কেটে জলাবদ্ধতার পানি ভাটিতে বা নদীতে ছাড়ার কোনো উপায় নেই। উজানে বৃষ্টি হওয়ায় নদীর পানিও বেড়েছে। এই অবস্থায় সুনামগঞ্জের নদীগুলোর পানি ধনু নদী হয়ে মেঘনায় নামতে সপ্তাহখানেক লাগবে। এরপর হাওরের জলাবদ্ধতার পানি নামতে থাকবে।
এদিকে, ম্যাথোলজি, প্রাই ম্যাথোলজি অ্যান্ড আর্থ সিস্টেম রিসার্চ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অবসরপ্রাপ্ত আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন, সুনামগঞ্জে ৩০ এপ্রিল ১০০ থেকে ১২০ মিলিমিটার, ১ ও ২ মে ১২০ থেকে ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। উজানে অর্থাৎ মেঘালয় চেরপুঞ্জিতেও একই ধরনের বৃষ্টিপাত থাকার পূর্বাভাস আছে।
সুনামগঞ্জে প্রতিবছর ফসল রক্ষার নামে শতকোটি টাকার বাঁধ হয়। নদী খনন না করে এসব বাঁধ দেওয়া নিয়ে স্থানীয় পরিবেশবিদ ও কৃষদের মধ্যে ক্ষোভ আছে। অপরিকল্পিত বাঁধে হাওরে জলাবদ্ধতা বাড়ছে বলেও দাবি করছেন স্থানীয়রা। এবারও হাওরে ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০৩ কিলোমিটার বাঁধ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার।
৫ দিন আগে
জ্বালানি সংকট, দুর্যোগে হাওরের বোরো আবাদ বিপর্যস্ত
জ্বালানি তেলের সংকট, অতিবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বোরো আবাদ। এর মধ্যে বাজারে কাঁচা ধানের দাম নেমে এসেছে প্রতি মণ ৭০০ টাকায়, যা সরকারের নির্ধারিত দামের অর্ধেকেরও কম।
স্থানীয় আড়তগুলোতে বোরো ধান ৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা। মাঠপর্যায়ে কৃষকরা আরও কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক স্থানে এখনও পানি নামেনি, কোথাও কোথাও পানি বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, ফলে যান্ত্রিকভাবে ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে।
জেলার প্রধান বোরো উৎপাদন এলাকা বানিয়াচং উপজেলায় ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম।
বানিয়াচং সদরের ধান-চাল ব্যবসায়ী বিসমিল্লাহ স্টোরের স্বত্বাধিকারী সুমন আহমদ জানান, তারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে ধান কিনছেন। তবে কৃষকদের কাছ থেকে তা আরও কম দামে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সরকারি হিসেবে, জেলায় ৯টি উপজেলায় মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০৪ হেক্টর কম। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ৪৬ হাজার ৯৫৪ হেক্টর এবং বানিয়াচং উপজেলায় সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।
বানিয়াচং উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অলক কুমার চন্দ জানান, উপজেলায় ১০৬টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লিটার জ্বালানির প্রয়োজন হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১ হাজার লিটার। এতে হারভেস্টারগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি জমিতে পানি থাকায় অনেক ক্ষেত্রে যন্ত্র নামানো যাচ্ছে না।
কৃষকরা জানান, ফুয়েল কার্ড থাকা সত্ত্বেও পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে তারা বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে জ্বালানি কিনছেন।
কুমড়ী গ্রামের কৃষক শহীদ চৌধুরী বলেন, ‘তেল সংকট ও জমিতে পানির কারণে ধান কাটতে চরম সমস্যায় পড়েছি। পাম্প থেকে এক ফোঁটা তেলও পাইনি।’
এদিকে, বন্যার আশঙ্কায় হাওরাঞ্চলে দ্রুত ধান কাটার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে হাওরের প্রায় ৮০ শতাংশ ধান হারভেস্টারের মাধ্যমে কাটা হলেও চলতি মৌসুমে জ্বালানি সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা কৃষি পুনর্বাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার ৬টি উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমির বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বানিয়াচংয়ে ২৪৮ হেক্টর, আজমিরীগঞ্জে ১৫৪ হেক্টর, হবিগঞ্জ সদরে ৯০ হেক্টর, লাখাইয়ে ২৫ হেক্টর, নবীগঞ্জে ২০ হেক্টর এবং চুনারুঘাটে ১৯ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাওরাঞ্চলের বোরো উৎপাদন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
৮ দিন আগে
১৮ লাখ টন ধান ও চাল কিনবে সরকার, মূল্য নির্ধারণ
চলতি বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১৮ লাখ টন ধান ও চাল কিনবে সরকার। এরমধ্যে ১২ লাখ টন সেদ্ধ চাল, ৫ লাখ টন ধান ও এক লাখ টন আতপ চাল কেনা হবে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ মেয়াদে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রকিউরমেন্টের জন্য ধান ও চাল সংগ্রহ এবং গম সংগ্রহের বিষয়ে আমাদের চাহিদার বিপরীতে কী এবং আমাদের লক্ষ্যমাত্রা কী এবং আমরা কী পরিমাণ মজুদ রাখব, কী পরিমাণ নিরাপত্তা মজুদ এবং কী পরিমাণ আমদানি করব—এগুলো এবং তার মূল্য নির্ধারণ, এ সমস্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে বোরো ধান ক্রয়ের জন্য আমরা কেজি প্রতি ৩৬ টাকা দাম নির্ধারণ করেছি, যেটা পূর্বের দাম অর্থাৎ আগে যেভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল তেমনই। সেদ্ধ চালের ক্ষেত্রে ৪৯ টাকা কেজি প্রতি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটাও আগের মতো। আতপ চালের ক্ষেত্রেও তাই, ৪৮ টাকা প্রতি কেজি। এছাড়া গমের কেজি প্রতি আমরা ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেছি ৩৬ টাকা।
বোরো ধান, চাল ও গম কেনার লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চলতি বছরে বোরো সংগ্রহ মৌসুমে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ টন, সেদ্ধ চাল ১২ লাখ টন, আতপ চাল ১ লাখ টন ও গম ৫০ হাজার টন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামী ৩ মে থেকে ধান ও ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
গম সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে গমের ক্ষেত্রে আমরা প্রকিউরমেন্টটা কখনও সফলভাবে এখানে করতে পারি না। কারণ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টনের মতো হলেও কৃষকরা সাধারণত সরকারের কাছে গম বিক্রি করতে আগ্রহী হন না। দেশের মোট গমের চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ টন, যার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গমের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনটা বাদ দিলে এই প্রায় ৭০-৭২ লাখ টনই আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে সরকার ৮ লাখ টনের মতো আমদানি করে, সেটা সরকার থেকে সরকার (জি-টু-জি) এবং কোনো কোনো সময় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের ১৭-১৮ লাখ টন চাল মজুদ আছে। এর বাইরেও আমরা এ বছর আরও বেশি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করব বলে আশা করছি। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা বোধ হয় ২৪-২৫ লাখ টন। সে হিসেবে আমাদের এখন মজুদ আছে ১৭-১৮ লাখ টন। এখন আমরা ৫ লাখ টন এই বোরো মৌসুমে প্রকিউর করব এবং সেটা চাহিদা অনুসারে, সময় অনুসারে, পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুসারে আমরা সেটা বৃদ্ধি করতে পারব। সেই সক্ষমতা আমাদের আছে।
১৪ দিন আগে
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে, শত একর বোরো ধান হুমকিতে
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে আকস্মিকভাবে বাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতে পানি ঢুকছে। এতে শত শত একর জমির আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, হাওরের গুজাউনি বাঁধের একটি অংশ ভেঙে দ্রুতগতিতে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। ফলে ইতোমধ্যে বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে চলে যেতে শুরু করেছে। অসহায় কৃষকরা বাঁধের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করে দেশবাসীর কাছে সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধসংলগ্ন একটি বিলের ইজারাদার মাছ আহরণ শেষে বাঁধটি যথাযথভাবে মেরামত না করে দুর্বল অবস্থায় রেখে দেন। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধটি ভেঙে যায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং এলাকাবাসী বাঁশ, বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালান।
ওই এলাকার কৃষক সোলেমান মিয়া বলেন, এই হাওরে আমাদের কয়েক হাজার একর জমি রয়েছে। দ্রুত বাঁধ মেরামত করা না গেলে পুরো ফসল পানির নিচে চলে যাবে।
তিনি আরও জানান, উথারিয়া বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে ক্ষতি অনেকটা কমানো সম্ভব হতো।
আরেক কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, বিলের মালিক সঠিকভাবে বাঁধ সংস্কার না করায় পানির চাপে এটি ভেঙে গেছে। এখন পাউবো ও এলাকাবাসী মিলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছে।
পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ১০০টি জিও ব্যাগ ও বাঁশ ব্যবহার করে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার কাজ করা হচ্ছে। এখন পানি প্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে, আশা করি ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হবে না।
এদিকে, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, দেখার হাওরের এই বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন নয়। তবুও ফসল রক্ষায় বাঁধটি মেরামতের জন্য আমাদের একটি টিম এলাকায় কাজ করছেন।
২৩ দিন আগে
গাকৃবিতে উচ্চ ফলনশীল চিকন ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন
নতুন আউশ ধানের জাত ‘জিএইউ ধান-৪’ উদ্ভাবন করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) গবেষকরা। স্বল্প সময়ে বেশি ফলন দেওয়ার পাশাপাশি চিকন চালের বাজার চাহিদা পূরণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে এই ধান।
গবেষকদের মতে, এ জাতটি কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. ময়নুল হক ও অধ্যাপক ড. মো. মসিউল ইসলামের নেতৃত্বে প্রায় এক দশকের গবেষণায় স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও চিকন আউশ ধানের এই নতুন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।
নতুন এ উদ্ভাবনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত ধানের জাতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪টি এবং মোট ফসলের জাতের সংখ্যা হয়েছে ৯৫টি। সংশ্লিষ্টরা এটিকে দেশের কৃষি গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।
পুষ্টিগুণের দিক থেকেও ধানটি সমৃদ্ধ। এতে প্রায় ২৪.৫৮ শতাংশ অ্যামাইলেজ এবং ৮.৩৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে, যা হজম ও শরীরের গঠন প্রক্রিয়ায় সহায়ক।
অধ্যাপক ড. মো. মসিউল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি আউশ ধান উদ্ভাবন করা, যা স্বল্প সময়ে বেশি ফলন দেবে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে। আমরা আশা করছি এটি কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই উদ্ভাবন আমাদের গবেষকদের মেধা ও পরিশ্রমের ফল। এটি দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, দেশে সাধারণত আউশ ধানের ফলন আমন ও বোরোর তুলনায় কম হলেও ‘জিএইউ ধান-৪’ এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এটি দ্রুত পরিপক্ব হওয়ায় কৃষকরা অল্প সময়ে জমি খালি করে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল আবাদ করতে পারবেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপ্রবণ এলাকায় এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বীজ বপনের ৩ মাস থেকে ৩ মাস ১০ দিনের মধ্যেই এ ধান কাটা যায়। অনুকূল পরিবেশে প্রতি হেক্টরে ৫ থেকে ৫.৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। এছাড়া রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকায় প্রচলিত জাতের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি ফলন দিতে পারে।
গবেষকরা জানান, প্রচলিত আউশ জাত ‘পারিজাত’ এবং উচ্চ ফলনশীল চিকন জাত ‘বিইউ ধান-২’-এর সংকরায়নের মাধ্যমে এই নতুন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। দীর্ঘ গবেষণা ও মাঠ পরীক্ষার পর সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় ‘জিএইউ ধান-৪’ জাতটি অনুমোদন পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু সহনশীলতা এবং কম পানি প্রয়োজন হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ জাতের চাষ সম্প্রসারণ হলে কৃষি খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
৩২ দিন আগে
সুনামগঞ্জের হাওরে জলাবদ্ধতা, নষ্ট হওয়ার পথে হাজার হেক্টর জমির ধান
মার্চের শেষ সপ্তাহে উজান-ভাটিতে ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের বোরো ফসল। এতে পানি নিষ্কাশন নিয়ে হাওরের কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে এসেছেন। উজানের হাওরের কৃষকরা বাঁধ কেটে দিতে চাইলে ভাটির কৃষকরা বাধা দিচ্ছেন। কারণ তখন ভাটির কৃষকের জমি তলিয়ে যাচ্ছে। সরকারি হিসাবে এ সময় জলাবদ্ধতায় ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি তলিয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মওসুমে জেলার ৫৩টি ছোট-বড় হাওরে ৭১০টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন করে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে দুর্বাঘাস লাগানোর কাজ।
গেল বছর মার্চ মাসে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলেও চলতি বছর মার্চ মাসে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সুনামগঞ্জে। চেরাপুঞ্জিতেও এর চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে উজান-ভাটির বৃষ্টিপাতের পানি নদ-নদী ছাপিয়ে নানা দিক দিয়ে হাওরে ঢুকছে।
গত ৩১ মার্চ জরুরি সভা করে পানি নিষ্কাশনকল্পে সরেজমিন ঘুরে ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বাঁধ আংশিক কেটে দেওয়া হয়েছে। বাঁধ কেটে দেওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। এক পক্ষ কেটে দিতে চাইলে ভাটির পক্ষ তাদের জমি জলাবদ্ধতার কারণে কাটতে দিচ্ছেন না। তবে প্রশাসনকে না জানিয়ে বাঁধ কাটার সুযোগ নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক হাওরে এই ফসল লাগানো হয়েছে। চলতি মওসুমে সব ধান গোলায় তুলতে পারলে প্রায় ১৪ লাখ টন চাল উৎপাদিত হবে। এর বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার ৫০ কোটি টাকা।
তবে জলাবদ্ধতা ও আগামী সপ্তাহে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। মিনি পাগনার হাওর, হালির হাওর, কাইল্যানি হাওর, ছায়ার হাওর, পুটিয়ার হাওর, ডাকুয়ার হাওর, জোয়ালভাঙ্গা হাওর, কানলার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাওরগুলোর পানি নিষ্কাশনের খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং হাওরের তুলনায় নদীতে বৃষ্টির পানি বেশি থাকায় পানি নিষ্কাশিত হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম বলেন, আমাদের ডাকুয়ার হাওরের উপরের অংশের কৃষকরা জোর করে বাঁধ কেটে দিতে চাইছেন। এতে নিচের অংশের কৃষকরা প্রতিবাদ করছেন। কারণ নিচে জলাবদ্ধ হাওরে নতুন করে আরও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে তাদের ধান। উপরের কৃষকদের পানি নিষ্কাশনের পথ নেই। তবে উপরের অংশের কৃষকরা পানি নিষ্কাশনের খালটি নোওয়াগাঁও এলাকায় বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের এই সমস্যা হয়েছে বলে জানান তিনি।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, গতবারের চেয়ে এবার আগাম বৃষ্টি বেশি হচ্ছে। এর ফলে পানি বেড়েছে। কিন্তু এই পানি ধারণের আধার নদ-নদী ও খাল-বিল বরাট হয়ে গেছে। যার ফলে তুলনামূলক নিচু এলাকা হওয়ায় প্রতিটি হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এখন জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে কৃষকরা মারামারি করছেন। একমাত্র নদ-নদী-বিল খনন করে দিলেই এই সমস্যা কমে যাবে বলে তিনি মতামত দেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, এবার চেরাপুঞ্জি ও সুনামগঞ্জেও বৃষ্টিপাত গতবারের চেয়ে বেশি হয়েছে। প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে। এই পানি এখন হাওরে চাপ তৈরি করেছে। অথচ গত বছর মার্চ মাসে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে এ নিয়ে জরুরি সভায় কমিটি করে প্রশাসনকে নিয়ে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি হাওরের পানি নিষ্কাশনও হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, এ পর্যন্ত জেলার ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য আমরা প্রশাসনকে বলেছি। তবে নিষ্কাশন করতে গিয়েও হাওরের উঁচু ও নিচু এলাকার কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থানে পৌঁছেছেন। কারণ এক পক্ষের পানি নিষ্কাশিত হলে অপরপক্ষের ফসল জলাবদ্ধ হয়। এছাড়াও আগামী ৬-৭ এপ্রিল ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
৩৩ দিন আগে
বোরো মৌসুমে সাড়ে ১৭ লাখ টন ধান-চাল কিনবে সরকার
আসন্ন বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সাড়ে ১৭ লাখ টন ধান ও চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার(৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ( এফপিএমসি) কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাড়ে তিন লাখ টন ধান ও ১৪ লাখ টন চাল কেনা হবে। প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা এবং প্রতি কেজি চালের সংগ্রহ মূল্য ৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভাপতি ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, উপদেষ্টা, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাপতিত্বে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ধান চালের পাশাপাশি ৩৬ টাকা দরে গম কেনারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন
আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান চলবে। বোরো ধান ও চালের উৎপাদন খরচ বাড়ায় গত বছরের থেকে এবার সংগ্রহ মূল্য বাড়ানো হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় যে উৎপাদন খরচ দিয়েছে, তার সঙ্গে লাভ যুক্ত করে ধান ও চালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩৯২ দিন আগে
ডক্টর আবেদ চৌধুরীর পঞ্চব্রীহি ধান: উদ্ভাবন, চাষ পদ্ধতি ও সম্ভাবনা
বৃষ্টির মৌসুমে বন্যা সমস্যার অন্যতম প্রধান শিকার হয় দেশের শস্যখেতগুলো। বিশেষ করে ধানখেতের বিনষ্ট মোটা দাগে দেশকে খাদ্য ঘাটতি ও কৃষিভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়। প্রতি বছর প্রধান খাদ্যশস্যের ওপর এই চাপ প্রশমনে এক যুগান্তকারী উপায় হতে পারে পঞ্চব্রীহি ধান। অভিনব এই ধানের উৎপাদন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন অস্ট্রেলিয়া নিবাসী বাংলাদেশি জিনতত্ত্ববিদ ডক্টর আবেদ চৌধুরী। ব্যাপক গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত ধানের এই জাতটি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বেড়ে উঠতে সক্ষম। জাতটির এক রোপণেই ৫ বার ফলন পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমজুড়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
চলুন, পঞ্চব্রীহি ধানের উদ্ভাবন, চাষ পদ্ধতি ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
পঞ্চব্রীহি ধান: এক রোপণে ৫ ফলন
‘পঞ্চ’ মানে ৫, আর ‘ব্রীহি’ অর্থ ধান। একবার রোপণে একই শস্য থেকে বছরের ভিন্ন মৌসুমে মোট ৫ বার ফলনের কারণে ধানের নাম হয়েছে পঞ্চব্রীহি। ধান উৎপাদনের এই নতুন পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করেছেন অস্ট্রেলিয়া নিবাসী বাংলাদেশি জিনতত্ত্ববিদ ডক্টর আবেদ চৌধুরী। ২০২৩ সালের ১২ অক্টোবর লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের এক সেমিনারের মাধ্যমে তিনি এই উদ্ভাবনের বিষয়টি প্রকাশ করেন। তার এই পদ্ধতিতে প্রথমবার ফসল তোলার পরে ধান গাছ সম্পূর্ণ না কেটে আরও চারবার ফলন পাওয়া যায়।
পঞ্চব্রীহি ধানের সুবিধা
ধান গাছের সাধারণত একবার ফলন পর্যন্ত আয়ু থাকে। কিন্তু এই ধান প্রথমবার ফসল তোলার পর ৪ বার পর্যন্ত বাড়তে পারে। যে কোনো ঋতুতে বৃদ্ধি পাওয়া এই শস্য প্রায় সারা বছর ধান দিতে পারায় এটি বর্ষজীবীর কাতারেও পড়ে।
আরও পড়ুন: প্রধান খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখতে পেরেছে বাংলাদেশ: কৃষিমন্ত্রী
সাধারণ ধানের ক্ষেত্রে বোরো কাঁটার পরে আউশ রোপণ করা হয়। তারপর আউশের মৌসুমে ফসল তুলে ধরা হয় আমন। এভাবে প্রতিবার চাষের সময় জমি থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন, ও নাইট্রাস অক্সাইডের মতো দূষিত গ্যাস নিঃসরণ হয়। কিন্তু পঞ্চব্রীহির ক্ষেত্রে এক চাষেই ৫ বার ফলন পাওয়ার কারণে পরিবেশ দূষণের মাত্রা ৮০ ভাগ হ্রাস পায়।
চাষাবাদ অন্যান্য ধানগুলোর মতো সহজ হওয়ায় সামগ্রিক খরচও অনেকটা কম হয়।
উদ্ভাবনের নেপথ্যের গবেষণা
পূর্বে ডক্টর আবেদ চৌধুরী তার পিএইচডি গবেষণাকালে ‘রেকডি’ নামক একটি নতুন জিন আবিষ্কার করেন। এই উদ্ভাবন ৮০’র দশকে ইউরোপ ও আমেরিকাজুড়ে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছিল। তার উদ্ভাবিত ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধক রঙিন ভুট্টা বিশ্বজুড়ে বহুল সমাদৃত। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থার অধীনে একদল বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে গঠিত গবেষকদলের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন।
ধান গবেষণার জন্য ডক্টর আবেদ চৌধুরী বেঁছে নিয়েছিলেন নিজের জন্মস্থান সিলেটের মৌলভীবাজার জেলা। সেখানকার কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কানিহাটি গ্রামে প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি ধান নিয়ে গবেষণা করেন। শুরুটা হয়েছিল ২০১০ সালে ২৫ বর্গমিটার জমিতে ২০টি ধানের জাত নিয়ে। এগুলোর মধ্যে স্থানীয় জাতের পাশাপাশি ছিল ফিলিপাইন ও চীন সহ বিভিন্ন দেশের কয়েকটি ধান।
তার গবেষণার সহযোগী ছিল গ্রামের স্বল্পশিক্ষিত ও নিরক্ষর কৃষকগণ, যারা মাঠপর্যায়ের গবেষণায় পুরোটা সময় পরিশ্রম করেছে।
আরও পড়ুন: পরিবর্তনশীল জলবায়ুর জন্য কাসাভা উপযুক্ত, হেক্টরপ্রতি ফলন ৩৫-৫০ টন: বাকৃবি অধ্যাপক
কোনো রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার ছাড়াই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ধানের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে হাইব্রিড ঘটানো হয়। অতঃপর যে জাতগুলোর ধান পেঁকে যাওয়ার পর কাটা হলে আবার ধানের শীষ বের হয়, সেগুলোকে আলাদা করা হয়। এভাবে বেশ সুক্ষ্ম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত হয় মোট ১২টি জাত।
এরপর টানা ৩ বছর চলে চাষাবাদ। এখানে দেখা যায় জাতগুলোর প্রত্যেকটিই দ্বিতীয়বার ফলন দিচ্ছে। একই গাছে তৃতীয়বার ফলনের চেষ্টা করা হলে সেটিও সফলতা পায়। পরিশেষে ৪টি জাত বাদে বাকি সবগুলো চতুর্থবার ফলন দেওয়া পর্যন্ত টিকে থাকে।
অতঃপর গবেষণালব্ধ এই ৪টি জাতের ওপর আলাদাভাবে মনোন্নিবেশ করে আরও সুক্ষ্মভাবে গবেষণা শুরু হয়। ২০২১ সালে জানুয়ারিতে ২ বিঘা পরিমাণ জমিতে রোপণ করা হয় বোরো ধানের এই ৪টি জাত। উপযুক্ত ইউরিয়া সার প্রয়োগের পাশাপাশি নেওয়া হয় সঠিক সেচ ও পরিচর্যা। এর ফলে ১১০ দিনের মধ্যে ফসল চলে আসে ৮৫ সেন্টিমিটার থেকে ১ মিটার উচ্চতার গাছে। পরে পরিকল্পনামাফিক মাটি থেকে ঠিক ৩৫ সেন্টিমিটার উচ্চতায় ধান কেটে সংগ্রহ করা হয়।
সে বছর মে মাসের প্রথম দিকে প্রথম পর্যায়ে কাটা ধানে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয় ৪ টন। তারপর থেকে ৪৫ দিন পর পর প্রতি মৌসুমে হেক্টরপ্রতি ফলন আসে ২ থেকে ৩ টন। সব মিলিয়ে জাতগুলো থেকে হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৬ টন ফসল পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: মিয়াজাকি বা সূর্যডিম আম কেন এত দামি
পঞ্চব্রীহি ধান চাষের পদ্ধতি
বছরের যে কোনো সময়ে রোপণ করা যায় এ ধান। চারাগুলো রোপণ করতে হয় পরস্পরের থেকে ৪ থেকে ৫ সেন্টিমিটার দূরত্বে। এতে করে প্রত্যেকটি গাছ মাটি থেকে সমান শক্তি নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে।
বছরের প্রথমে বোরোর মৌসুমে এ ধান পাঁকতে ১১০ দিন সময় নেয়। অন্যান্য ধানের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রথমবার ধান কাটার পরে জমিকে আবার প্রথম থেকে প্রস্তুত করতে হয়। কয়েক সপ্তাহ এমনকি গোটা মাস খালি রাখার পর জমিতে আউশ বা আমন লাগানো যায়। কিন্তু এখানে ঐ বোরোর গাছ থেকেই ৪৫ দিন অন্তর অন্তর ২ বার আউশ এবং সবশেষে ২ বার আমন ধান পাওয়া যায়। প্রথমবারের তুলনায় পরের ফলনগুলোতে উৎপাদন কিছুটা কম হলেও ৫ বারের ফলন মিলিয়ে মোট উৎপাদন প্রায় ৫ গুণ বেশি হয়।
ধানের বীজ সংগ্রহের সময় পৃথক কোনো প্রক্রিয়া নেই। অন্যান্য ধানের মতো কৃষকরা নিজেরাই বীজ সংগ্রহ করতে পারেন। অন্য ধানের মতো একই ভাবে চারা তোলার আগে বীজতলায় রোপণ করতে হয়।
নির্দিষ্ট পরিমাপে ধান কেটে নেওয়ার পর মোড়া অংশগুলোতে থাকা লতাপাতা ও ঘাস ছেটে সার দিতে হয়। পোকামাকড় ধরলে অন্য ধানের মতোই সামান্য কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। খুব শক্ত ধান পঞ্চব্রীহির বেড়ে ওঠার জন্য পরিচর্যার এটুকুই যথেষ্ট। কেননা ঝড়-বৃষ্টি ও বন্যা এই গাছ নষ্ট করতে পারে না।
আরও পড়ুন: জিনোম সেন্টারকে কাজে লাগিয়ে পাটের উৎপাদন বাড়াতে হবে: কৃষিমন্ত্রী
নতুন উদ্ভাবিত এই ধানের সম্ভাবনা
হেক্টর প্রতি ২০ টন উৎপাদন করা সম্ভব এই নতুন ধান। কিন্তু তার জন্য দেশের প্রতিটি কৃষকের জন্য এই ধান সহজলভ্য হতে হবে।
ডক্টর আবেদ চৌধুরীর মতে, এ নতুন ধান চাষ পদ্ধতি সারা দেশের কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে গেলে আগামী ৫০ বছর দেশবাসীর খাদ্যের যোগান নিয়ে আর চিন্তার অবকাশ থাকবে না। এই চাষ একদিকে যেমন সময় বাঁচায়, অন্যদিকে অর্থের দিক থেকেও সাশ্রয়ী।
পঞ্চব্রীহি নিয়ে এখনও গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। এই জাত থেকে শুধু ৫ বার নয়, ভবিষ্যতে ১৫ বা ২০ বারও ধান পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ডক্টর আবেদ।
ধানের চাষাবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের অনুমোদনক্রমে বীজগুলো বিনামূল্যে দেশের ৮৭ হাজার গ্রামে সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ড. আবেদ। এর ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকগণ নতুন এই চাষাবাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ হবেন।
শেষাংশ
প্রতি বছর বন্যা প্রবণ দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্যসংকটের একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে পঞ্চব্রীহি ধান। একবার রোপণ করে ৫ বার ফলনে কমে যাবে কৃষকদের সময়, শ্রম ও খরচ। মাঠ পর্যায়ে ঘন ঘন চাষাবাদের পাশাপাশি উত্তরোত্তর গবেষণা নতুন ধান উৎপাদন পদ্ধতিটিকে আরও বিকশিত করে তুলতে পারে। এর নিরিখে কৃষি ক্ষেত্রে অপার সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করতে পারে ডক্টর আবেদের সৃষ্টি করা মাইলফলক।
আরও পড়ুন: বছরে চার ফসলের সম্ভাবনা জাগাচ্ছে ব্রি৯৮ আউশ ধান: কৃষিমন্ত্রী
৬৬২ দিন আগে
ময়মনসিংহে ধান উড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ধান উড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাজেদা খাতুন নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার দুপুরে উপজেলার চর পুবাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: মণিরামপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইউপি সদস্যের মৃত্যু
নিহত সাজেদা সদর ইউনিয়নের চর পূবাইল গ্রামের হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানায়, বাড়িতে বৈদ্যুতিক পাখার সাহায্যে ধান উড়ানোর কাজ করছিলেন সাজেদা খাতুন। সে সময় হঠাৎ বিদ্যুতের ছেড়া তারে পা লেগে বিদ্যুতায়িত হন সাজেদা খাতুন। পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাক উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজেদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারকে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু
বরিশালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ছেলে-মেয়েসহ মায়ের মৃত্যু
৭৩২ দিন আগে
ধান-গমের বিকল্প খাবার হতে পারে কাসাভা
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের এই সময়ে মানব জাতিসহ গৃহপালিত প্রাণির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে বৈরি আবহাওয়ায় ধান ও গমের উৎপাদন কমছে। অপরদিকে জনসংখ্যা বাড়ছে দিন দিন। এমন অবস্থায় ধান, গম, চালের উপর নির্ভরতা কমাতে পারে কাসাভা। বাংলাদেশে কাসাভা সাধারণত শিমুল আলু নামে পরিচিত।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে খাবারের খোঁজে লোকালয়ে ২ বানর
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফসল উদ্ভিদ ও বিজ্ঞান বিভাগের সম্মেলনকক্ষে শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় কৃষি অনুষদের ফসল উদ্ভিদ ও বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির কাসাভার বিভিন্ন গুনাগুণ, ব্যবহার ও কাসাভা চাষের সম্ভাবনা ও প্রতিকূলতা সম্পর্কে তার গবেষণালব্ধ তথ্য উপস্থাপন করেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তায় এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।
সম্মেলনে গবেষক ছোলায়মান আলী ফকির জানান, কাসাভা পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম শর্করা জাতীয় খাদ্য এবং প্রায় ৮০ কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য।
তিনি আরও জানান, এটি শর্করা, আমিষ, চর্বি, আঁশ, খনিজ দ্রব্য, বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন-সি, লৌহ ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। এটি উচ্চ তাপমাত্রা ও কম উর্বর মাটিতেও জন্মাতে সক্ষম। সিদ্ধ করে, পুড়িয়ে এমনকি গোল আলুর মতো অন্যান্য তরকারির সঙ্গেও রান্না করে কাসাভা আলু খাওয়া যায়।
তিনি জানান, কাসাভা আটার সঙ্গে মিশিয়ে রুটি, পরোটা, কেক, পিঠা তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। আমেরিকার দেশ হাইতি, মেক্সিকান রিপাবলিক, পেরাগুয়ে, পেরু, আফ্রিকা তানজানিয়া, কেনিয়া, জাম্ববিয়া, ঘানা, নাইজেরিয়া ও এশিয়ার ভিয়েতনাম, ভারতের কেরালা ও তামিলনাড়ু রাজ্যে, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে এই আলু স্যুপ, চিপস, ট্যাপিওকা (সাগুসদৃশ খাবার), পুডিং ইত্যাদি হিসেবে খাওয়া হয়।
এছাড়া কাসাভার পাতায় ডিমের মতো পুষ্টিগুণ রয়েছে।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় পানিবন্দি ২ হাজার পরিবার, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট
ছোলায়মান আলী ফকির জানান, দেশের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে এই পাতা সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। তাছাড়া এ পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণের পর উদ্ভাবিত পিলেট ও আটা গরু, ছাগল, মহিষ, মাছ ও পোল্ট্রিকে খাবার হিসেবে দেওয়া যায়। তবে কাসাভা গাছের সর্বত্র বিষাক্ত সায়ানোজেনিক গ্লুকোসাইড থাকে। তাই বিষাক্ত কিছু জাতের কাসাভার ডগা ও পাতা খেয়ে গরু-ছাগল মারা যেতে পারে। তবে সিদ্ধ বা প্রক্রিয়াজাত করলে এই বিষক্রিয়া আর থাকে না।
৮৮৭ দিন আগে