দুর্বৃত্ত
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ফের আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে চাঁদপুর আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভবনের তৃতীয় তলায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
আগুনের খবর শুনে অনেক মানুষ ভিড় করে। একপাশে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও অন্যপাশে মানুষ থাকায় ওই সড়কে প্রায় ৩০/৪০ মিনিট যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১০টার দিকে হঠাৎ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ওপরে কালো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছিল। পরে তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায় আগুন জ্বলছে। আগুনের প্রচণ্ড তাপে কাছে যাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ৫ আগস্টের ঠিক আগে ও পরে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়েছিল। এতে অফিসের সব কিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে এখন কে বা কারা এ অগ্নিসংযোগ করেছে তা জানা যায়নি।
চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহাম্মদ ।
চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসেরর সহকারি উপপরিচালক সৈয়দ মোরশেদ আলম জানান, আগুনের খবর শুনে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। আগুন নিয়ন্ত্রনণ আনা হয়েছে। তবে কীভাবে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনও বলা যাচ্ছে না।
৪ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লায় কেন্দ্রে ঢুকে ধানের শীষে ‘সিল মারার চেষ্টা’, আটক ৩
কুমিল্লা-১০ আসনের লালমাই উপজেলার চৌদ্দদোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দুর্বৃত্তদের ব্যালট ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে তারা ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে সিল মারার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানান, দুপুরে একদল দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক কেন্দ্রে প্রবেশ করে ৩টি ভোটকক্ষে ঢুকে পড়ে। একপর্যায়ে তারা ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারার চেষ্টা করে। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় কোনো সিল মারা ব্যালট বাক্সে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে সিল মারা ৩৮টি ব্যালট উদ্ধার করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী সেগুলো বাতিল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং পৃথকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আমরা বাইরে থেকে দায়িত্ব পালনের জন্য এসেছি। যারা কেন্দ্রে প্রবেশ করেছিল, তাদের কাউকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত কেন্দ্রে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার কারণে দুপুর দেড়টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল। পরে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
এ বিষয়ে লালমাইয়ের ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, উদ্ধার হওয়া সিল মারা ব্যালটগুলো ‘নষ্ট ব্যালট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২ দিন আগে
নরসিংদীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে ইউপি সদস্যের স্বামী নিহত
নরসিংদীর রায়পুরার রফিক ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তি দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চরমধুয়া ইউনিয়নের গাজীপুরা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আহসান শিকদার।
নিহত রফিকুল ইসলাম চরমধুয়া ইউনিয়নের গাজীপুরা গ্রামের মঙ্গল মিয়ার ছেলে ছিলেন। তিনি পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। তার স্ত্রী লাভলী বেগম চরমধুয়া ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য।
আহসান শিকদার ও পুলিশ জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে রফিকুল বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গুলির শিকার হন। এ সময় কে বা কারা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক ঘটনার জেরে ঘটেনি, প্রতিবেশীর সঙ্গে তার আগের পারিবারিক কলহের জের ছিল। তবে তদন্ত সাপেক্ষে কীভাবে, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।
৫ দিন আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবক নিহত
খুলনার রূপসায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে সাগর শেখ (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে রূপসা সেতুর পূর্বপাশে জাপুসা এলাকার চৌরাস্তার পূর্ব পাশে এ ঘটনা ঘটে।
সাগর শেখ গ্রীন বাংলা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ফয়েক শেখের ছেলে। তিনি পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাগর বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথে কয়েকজন তার গতিরোধ করে তাকে গুলি করতে থাকে। একটি গুলি তার মাথায় ও অপরটি হাঁটুতে লাগে। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক সাগরকে মৃত ঘোষণা করেন।
রূপসা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গৌতম জানান, গোলাগুলির শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান রাত ১১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান।
থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৌরভ দাশ বলেন, রাতে জাপুসা এলাকায় ডিউটিতে ছিলাম। থানা থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি ওই এলাকায় জমি কিনে নতুন বাড়ি করেছেন। তবে কারা এবং কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক মীর বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুনিদের গ্রেপ্তারে আশপাশের এলাকায় অভিযান শুরু হয়েছে।
৬১ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নয়ন আলী (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বাবুপুর মোড়ে ঘটে এ ঘটনা। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নয়ন উপজেলার নয়ালাভাঙা ইউনিয়নের মোড়লটোলার আব্দুল করিমের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার বাবুপুর মোড়ে নয়নকে চাপাতি দিয়ে হাত-পায়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে সেখানে উপস্থিত লোকজন তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। রামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, নয়নকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হতে পারে।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন জানান, ঘাতকদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
৬৭ দিন আগে
মানিকগঞ্জে জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন
মানিকগঞ্জে জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
জেলা শহরের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানরা সেতুর দক্ষিণ পাশে পশ্চিম সেওতা এলাকায় অবস্থিত ওই স্মৃতিস্তম্ভে রবিবার (৩০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে।
মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৩টার দিকে একটি কালো রঙের প্রাইভেট কারে করে তিন ব্যক্তি স্মৃতিস্তম্ভের কাছে নামে। স্মৃতিস্তম্ভের আশপাশে থাকা গাড়ির চাকার টায়ার জড়ো করে তারা। এরপর টায়ারে পেট্রোল ঢেলে সেখানে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নেভায়।
আজ (সোমবার) সকাল ৮টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভটি ধাতুর তৈরি হওয়ায় আগুনে এর নিচের কিছু অংশ পুড়ে কালো রং ধারণ করেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, মানিকগঞ্জের সমন্বয়ক ওমর ফারুকের অভিযোগ, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়া পরিকল্পিত নাশকতা। নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ করে আসছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ। এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে মানিকগঞ্জের পাঁচজন শহিদ হন। তাদের স্মৃতিকে ধরে রাখতে মানরা সেতুর দক্ষিণ পাশে পশ্চিম সেওতা এলাকায় জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়।
৭৫ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুকুর পাহারাদাকে চোখ উপড়ে হত্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুকুর পাহারাদারকে দুই চোখ উপড়ে দিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তোজাম্মেল হক (৬৫) শাহবাজপুর ইউনিয়নের পারদিলালপুর এলাকার মৃত জোনাব আলীর সন্তান।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, অন্যান্য দিনের মতো শনিবার রাতেও তোজাম্মেল হক ওই এলাকায় একটি পুকুর পাহারায় ছিলেন। রাতের কোন এক সময়ে কে বা কারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তোজাম্মেলের দুই চোখ উপড়ে ফেলেছে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার শরীরে অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। হত্যার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
রবিবার সকালে স্থানীয়রা লাশটি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন। পুলিশ সকালে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠায় বলে জানান ওসি।
৭৬ দিন আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তের ছুরিতে প্রাণ গেল যুবকের
খুলনায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে সবুজ হাওলাদার নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন ময়লাপোতা হরিজন কলোনীতে ঘটনা ঘটে।
নিহত সবুজ (৩০) সাচিবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা হেমায়েতের ছেলে। তিনি ওয়াসার শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিল।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সোমবার সবুজ হরিজন কলোনিতে তার বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। রাতে সেখান থেকে বের হওয়ার পর চার থেকে পাঁচজন যুবক তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীদের মধ্যে একজন ধারালো ছুরি দিয়ে সবুজের পেটের নিচে আঘাত করলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।’
আরও পড়ুন: মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপপরিদর্শক বলেন, ‘এ বিষয় নিয়ে স্থানীয়রা আর কোনো কথা বলছে না। অপরাধীদের আটকের জন্য অভিযান চলছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ফুটেজগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
তবে ঘটনাটি মাদককেন্দ্রিক বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
২৫৬ দিন আগে
সাম্য হত্যা নিয়ে ধোঁয়াশা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হলেও পুরস্কৃত পুলিশ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিলেও এই মামলার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ পর্যন্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হলেও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি—মূল হত্যাকারী এখনও পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এ ছাড়া ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করছে পুলিশের দুই পক্ষ।
গত মঙ্গলবার (১৩ মে) দিবাগত রাতে ঢাবি ক্যাম্পাস-সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইআর) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাম্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও যে ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে সাম্য নিহত হন, তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে দাবি করেছেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাম্যর সহপাঠীসহ অন্যান্য ঢাবি শিক্ষার্থীরা।
রহস্য উদঘাটন করেই পুরস্কৃত পুলিশ
এদিকে, দ্রুততম সময়ে সাম্য হত্যার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারের স্বীকৃতিস্বরূপ বৃহস্পতিবার (১৫ মে) শাহবাগ থানা পুলিশের সংশ্লিষ্ট টিমকে নগদ এক লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।এ নিয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির গণমাধ্যম বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান বলেন, ‘শাহবাগ থানার তদন্ত টিমের দ্রুত তৎপরতার কারণে ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এর স্বীকৃতিস্বরুপ ও সামনে আরও ভালো কাজের উৎসাহ প্রদানের জন্যই এ পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে।’
পুরস্কার দেওয়ার পরের দিনই (শুক্রবার) সাম্য হত্যায় জড়িত মূল হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শাহবাগ থানা অবরোধ করে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি—সাম্য হত্যার যিনি মূলহোতা, অর্থাৎ যিনি ছুরিকাঘাত করেছেন, সাদা শার্ট বা পাঞ্জাবি পরা সেই ব্যক্তি ও তার সব সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
তবে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে হত্যাকারীকে ধরতে পারেনি পুলিশ অভিযোগ তুলে রবিবার (১৮ মে) আবারও শাহবাগ থানা ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা।
ঘটনার বর্ণনা ও হত্যাকাণ্ড
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ মে) দিবাগত রাতে সাম্যর সঙ্গেই ছিলেন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু আশরাফুল আলম রাফি ও আব্দুল্লাহ আল বায়েজিদ। ওই সময় খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে মোটারসাইকেলে চড়ে রমনা কালী মন্দির গেট দিয়ে উদ্যানে প্রবেশ করেন তারা। পরে খাওয়া শেষে একটি শিশুর হাতে থাকা ‘টিজার গান’ কাড়তে গিয়ে অন্য একটি পক্ষের মোটরসাইকেল ধাক্কা লাগে তাদের। আর এ নিয়েই শুরু হয় কথা কাটাকাটি, যা একপর্যায়ে প্রাণঘাতী মারামারিতে রূপ নেয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বায়েজিদ বলেন, ‘সেদিন আমাদের ইনস্টিটিউটের একটি প্রোগ্রাম ছিল। প্রোগ্রাম শেষ করে রাতে খাওয়া-দাওয়া করতে উদ্যানের গেটের দোকানগুলোতে যাই। ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে খাওয়া শেষে সেখান থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলাম। তার মধ্যেই এই বিপত্তি।’
তিনি বলেন, ‘মুক্ত মঞ্চের পাশে (হত্যাকাণ্ডের স্থানের পাশে) দুটি অল্পবয়সী শিশু ছিল। মন্দিরের গেট দিয়ে বের হওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়ি নিয়ে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের একজন আমাদের লক্ষ্য করে টিজার গান সদৃশ কিছু একটা মারে। শিশুদের হাতে এগুলো থাকা নিরাপদ না ভেবে সাম্য গাড়ি ঘোরায়। এ সময় আমরা বাচ্চাটিকে ধরতে গেলে সে পালনোর চেষ্টা করে।’
‘এ সময় সেখানে কয়েকজন বসে ছিলেন। তাদের দিকে আমাদের খেয়াল ছিল না। হঠাৎ তাদের একটি বাইকের সঙ্গে আমাদের (বাইকের) ধাক্কা লাগে। এরপরই ওই ব্যক্তিরা আমাদের ওপর তেড়ে আসে।’
আরও পড়ুন: ঢাবির সাম্য হত্যাকাণ্ড: ৬ দিনের রিমান্ডে তিনজন
ওই ঘটনায় আহত এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘শুরুতে কথা কাটাকাটি হয়, পরে তারা প্রভাব দেখাতে চাইলে আমরাও উত্তেজিত হয়ে যাই। একপর্যায়ে পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হওয়া লাল টি-শার্ট পরা ব্যক্তি আমাকে মাটিতে ফেলে মারধর শুরু করে।’
‘১-২ মিনিটের মধ্যেই ঘটনার আকস্মিকতা সামলে দেখি, সাম্য উঠে দাঁড়িয়েছে। তারপর চোখ যায় তার পায়ের দিকে। দেখি, তার ডান পা রক্তাক্ত। তার পরপরই ধুপ করে পড়ে যায় সে।’কথা বলতে গিয়ে এ সময় কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে বায়েজিদের।
নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বলেন, ‘এরপর আমরা ওকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নেওয়ার জন্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সাহায্য চাই, কিন্তু কেউ সে সময় এগিয়ে আসেনি। পরে একটি ছোট বাচ্চার সাহায্য নিয়ে ওকে (ঢাকা মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
মূলত তাদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পর কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সাদা শার্ট বা পাঞ্জাবি পরা এক যুবক বড় ছুরি জাতীয় কোনো অস্ত্র দিয়ে সাম্যর পায়ে আঘাত করেন। এর পরপরই তিনটি মোটরসাইকেলে করে তাদের ১০-১২ জনের একটি দল দ্রুত পালিয়ে যান বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘অস্ত্রের আঘাতে সাম্যর ডান পায়ের উরুতে গভীর ক্ষত হয়। কাটা জায়গা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। হাসপাতালে নিতে নিতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েই মারা যায় সে।’
পরে এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, ‘উরুর পেছনে শরীরের একটি অন্যতম প্রধান রক্তনালী থাকে, যাকে বলা হয় ফিমোরাল আর্টারি। এটিকে বলতে পারেন দেহের প্রধান রক্তনালীর একটি শাখা রক্তনালী, কিন্তু এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
ওই রক্তনালী কেটে যাওয়ার পর হাসপাতালে আনতে দেরি হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে নিজের ধারণার কথা জানান ওই চিকিৎসক।
আসামিদের গ্রেপ্তার নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হলে নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরের দিন (বুধবার) সকালে রাজধানীর পৃথক তিনটি স্থান থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
হত্যার ঘটনায় নিহতের ভাই শরিফুল আলম শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটক তামিম হাওলাদার (৩০), সম্রাট মল্লিক (২৮) ও পলাশ সরদারকে (২৮) আদালতে তোলে পুলিশ। এরপর তাদের প্রত্যেককে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
তবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিদের তিনজনই। তারা আদালতকে বলেন, হয়রানি করার জন্য আমাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তারদের অপরাধের বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী বায়েজিদের দাবি, তারা ঘটনাস্থলেই ছিলেন। তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার তিনজন আমাদের আক্রমণ করে মারধর করেছেন। তবে মূল হত্যাকারীকে ধরা হয়নি, তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইইআর-এর আরেক শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম রাফি হত্যাকারীর বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘যে তিনজনকে ধরা হয়েছে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, কিন্ত তারা মূল হত্যাকারী নন। সাদা জামা কিংবা পাঞ্জাবি পরা এক ব্যক্তি সাম্যকে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। ওই ব্যাক্তির গায়ের রঙ ফর্সা; তাকে দেখতে মোটেও উদ্বাস্তুর মতো নয়।’
একই ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ফারহান শাহরিয়ার চৌধুরী বলেন, ‘হত্যার দিন রাতে আমাদের ইনিস্টিটিউটের একটি প্রোগ্রাম ছিল। রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত আমরা সাম্য ভাইয়ের সঙ্গেই ছিলাম।’
আরও পড়ুন: সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে শাহবাগ থানা ঘেরাও, আসামিদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম
তার দাবি, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছুরিকাঘাত এবং সোয়া ১২টার দিকে সাম্যকে মৃত ঘোষণা করা হলেও হত্যাকাণ্ডের ৬ ঘণ্টা পরও ঘটনাস্থল অরক্ষিত ছিল। ঢাবি শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে ঘটনাস্থলটি রক্ষা করে প্রমাণাদি বাঁচানোর চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধান আসামিকে ধরতে পারল না, অথচ শাহবাগ থানার তদন্ত টিমকে পুরস্কৃত করা হলো। পুলিশের এই ধরনের প্রহসনের তীব্র নিন্দা জানাই আমরা।’
পুলিশ কী বলছে
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের ধরতে আমরা শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে তল্লাশি অভিযান শুরু করি। পরে শমরিতা হাসপাতাল থেকে একজন ও বিআরবি হাসপাতাল থেকে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করি।’
তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার ওই দুজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফোন নম্বর ট্র্যাক করে তৃতীয়জনকে ফার্মগেটের রাজাবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি অফিসে নেওয়া হয়।’
পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও দোয়েল চত্বরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব!
এদিকে, পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে বিশ্লেষণ করছে বলে জানালেও রমনা কালী মন্দির ও বাংলা একাডেমি গেটের সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন বায়েজিদ।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ নাকি তাদের কাছে আছে। অথচ শাহবাগ থানার পুলিশ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খান আমাকে পার্সোনালি (ব্যক্তিগতভাবে) ডেকে বলেছেন, পুলিশ মন্দিরের গেট ও বাংলা একাডেমি গেটের সিসিটিভি ফুটেজ পায়নি।’
আক্ষেপ করে এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘রমনা কালী মন্দির একটি ধর্মীয় সেনসিটিভ (স্পর্শকাতর) জায়গা। মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ না পাওয়া ও বাংলা একাডেমির ফুটেজ নষ্ট হওয়ায় ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রশাসনের গাফিলতি আছে।’
বায়েজিদের দাবির সত্যতা যাচাই করতে আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইউএনবিকে বলেন, ‘সিসিটিভির ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না, নাকি কী পাওয়া যায়নি, সেটা এখন বলা যাবে না। আর এটি তদন্তকারী কর্মকর্তা জানেন। আমি তো এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নই। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করছেন।’
তিনি বলেন, ‘তাদের (বায়েজিদ) সঙ্গে কথা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ অবশ্যই আছে। তাদের সঙ্গে কথা বলার পর দু-তিন দিন চলে গেছে। আমরা বসেছিলাম না, কাজ করেছি। ঘটনার ক্লু বের করার চেষ্টা করছি।’
পরে এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট হওয়ার যে দাবি, সে বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। আমরা অন্তত ১১টি আলামত জব্দ করেছি। এগুলো নিয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করছেন।’
বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে হত্যার বিচার
সাম্য হত্যার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে শনিবার (১৭ মে) ঢাবি প্রশাসন ও ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলীর মধ্যে বৈঠক হয়।
বৈঠক শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।
ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে উপাচার্যও সংহতি প্রকাশ করেছেন। ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, অপরাধীদের আগামীকাল (রবিবার) থেকে রিমান্ড শুরু হবে। দ্রুত তদন্ত কাজ শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
এ ছাড়া আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এ হত্যার বিচার কাজ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হবে।’
উদ্যানের বর্তমান হালচাল
সাম্য হত্যাকাণ্ডের পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মতো ঐতিহাসিক একটি স্থানের নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে উদ্যানের নিরাপত্তা জোরদারে বেশ কয়েকটি উদ্যোগও নিয়েছে সরকার।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৫ মে) থেকে উদ্যানে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ দোকানপাটসহ কয়েক শ’ অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে সিটি করপোরেশন।
এ ছাড়া রাজু ভাস্কর্যের পেছনের গেটটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ধীরে ধীরে একটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক স্থানে রূপান্তর করতে নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদ আলম জানিয়েছেন, সাম্য হত্যাকাণ্ডের পর থেকে শনিবার পর্যন্ত উদ্যানে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
তবে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাম্য হত্যার এক সপ্তাহও এখনও পেরোয়নি, অথচ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রাণচাঞ্চল্য কমেনি একটুও। আঁধার নামলেও উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে অনেককে আড্ডা, ঘুরে বেড়ানোসহ একান্তে সময় কাটাতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে জাবি ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি
এসবের মাঝেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল চোখে পড়ে। টহলদল দেখলেই লোকজনকে সরে যেতে দেখা যায়, কিন্তু তারা চলে গেলে আবারও উদ্যানে ঢুকছিল মানুষ।
উপদেষ্টার ঘোষণার পর টিএসসি-সংলগ্ন গেটে দেওয়াল তুলে দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি গেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তবে নিরাপত্তাবাহিনীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন গেট গলে উদ্যানে ঢুকতে দেখা যায় অনেককে। অনেককে আবার ছবির হাটের গেট এবং টিএসসি-সংলগ্ন গেটের দেওয়াল টপকেও উদ্যানে ঢুকতে দেখা যায়।
বিষয়টি নিয়ে উপস্থিত এক আনসার সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘উদ্যানের নিরাপত্তা রক্ষায় রাতের শিফটে আমরা মাত্র ৬ জন। এই ছয়জনের পক্ষে এতো বড় উদ্যানে টহল দিয়ে এসব বিষয়ের সমাধান করা কষ্টসাধ্য।’
২৭১ দিন আগে
দুর্বৃত্তের হাতে ঢাবি শিক্ষার্থী খুন: ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের প্রতিবাদ মিছিলে বহিরাগত!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা সাম্য হত্যার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। তবে, ছাত্রদলের বিক্ষোভ কর্মসূচি ও সমাবেশে বহিরাগতদের অংশগ্রহণ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৪ মে) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি চত্বর, মধুর ক্যান্টিন, কলাভবন হয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে, সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মী ছাড়াও নিউমার্কেট থানা, তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল কলেজসহ মহানগরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির দুইজন সদস্যকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী এক সাংবাদিক জানান, ‘ভিসি চত্বরে অবস্থানকালে তিনি বন্ধুর সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। হঠাৎ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রফিকউল্লাহ এসে তাকে মারধরের হুমকি দেন। তাৎক্ষণিক আরেক সাংবাদিক প্রতিবাদস্বরূপ রফিকউল্লাহর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠিক সম্পাদক আবু সাইদ তার পথরোধ করেন। এরপর সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও ওই প্রতিবেদককে ধাক্কাধাক্কি ও গালিগালাজ করেন সাইদ।
এদিকে, বহিরাগত দুর্বৃত্তদের হাতে ঢাবি ছাত্র নিহতের প্রতিবাদ মিছিলে বহিরাগতের অংশগ্রহণ-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এ নিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রিপন মিয়া ফেসবুকে লিখেছেন, ‘যে বহিরাগতদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী প্রাণ হারালেন, সেই বহিরাগতকেই আবার এই প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হলো কেন? আপনারা বুঝতে পারেননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্নিহিত স্পন্দন—এই ক্যাম্পাসের হৃদয়ের স্ফুলিঙ্গকে ধরতে আপনাদের ব্যর্থতা পরিষ্কার।’
আরও পড়ুন: দাবি আদায় না-হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা জবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের
আরেক শিক্ষার্থী হুসাইন আহম্মেদ লিখেছেন, ‘যে বহিরাগতদের কারণে সাম্য ভাই খুন হলো, সেই বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে এনে ছাত্রদল সাম্য হত্যার প্রতিবাদ করছে—বাহ!’
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৩ মে) দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে সাম্য হত্যাকাণ্ডের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক মিছিল করে ছাত্রদল। এ সময় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভকারীরা উপাচার্যকে হেনস্তা করছেন–এমন অভিযোগ উঠেছে।
একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ছাত্রদলের মিছিলটি পৌঁছালে বাসার ভেতর থেকে উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান বেরিয়ে আসেন। তখন একদল বিক্ষোভকারী তার দিকে তেড়ে আসেন। উত্তপ্ত মুহূর্তে ভিসিকে বলতে শোনা যায়, ‘মার, আমাকে মার।’
ওই বিক্ষোভে বেশ কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ এসেছে।
এ নিয়ে ঢাবি শিক্ষার্থী এবি জুবায়ের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলের এক পোস্টে লিখেন, ‘গতকাল রাত ১টা ৪৫ মিনিটে সাম্য ভাইয়ের হত্যার প্রতিবাদে আমরা শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করি। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যে পৌঁছালে ছাত্রদলের কয়েকজন এসে আমাদের ভিসির বাসভবনের সামনে যাওয়ার আহ্বান জানায় এবং দাবি করে আমাদের তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে ভিসি ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করতে হবে। আমি অস্বীকৃতি জানালে তারা হট্টগোল শুরু করে এবং ‘ফুটেজখোর’ বলে গালাগালি করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়।’
তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গালি শুনতে হয়েছে বলেও অভিযোগ তার।
এসব অভিযোগে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও উত্তর পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য। সাম্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন।
২৭৫ দিন আগে