আরব আমিরাত
দক্ষ চালক ও মালী হিসেবে বাংলাদেশের প্রশিক্ষিত জনবল চায় আরব আমিরাত
সংযুক্ত আরব আমিরাতে দক্ষ চালক বা চালক ও মালীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী খাসিফ আল-হামুদী। তিনি বলেছেন, এ খাতে বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত জনবল নিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশেষভাবে আগ্রহী।
শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত এ আগ্রহের কথা জানান।
অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, মানবপাচার প্রতিরোধ, বাংলাদেশ থেকে চালক ও মালীসহ দক্ষ জনবল রপ্তানি, এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, বাংলাদেশে আমিরাতের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী সুনামের সঙ্গে কর্মরত রয়েছেন এবং তারা দুই দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে তার দেশে দক্ষ চালক ও মালীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশ থেকে এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষিত জনবল নিতে বিশেষভাবে আগ্রহী।
তিনি আরও জানান, বিশেষ করে চালক নিয়োগের ক্ষেত্রে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় নীতিমালা অনুযায়ী ছয় মাসের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল প্রেরণের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহায়তা দেবে। তিনি প্রস্তাব দেন, দুই দেশ যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে ছয় মাস মেয়াদি আন্তর্জাতিক মানের চালক প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করতে পারে। এই প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারীদের আরব আমিরাতে দক্ষ চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।
মন্ত্রী গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-ভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি অভিন্ন চালক প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলেও রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত আল-হামুদী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করতে চায়। তিনি জানান, আমিরাতের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি বাংলাদেশে সাইবার সিকিউরিটিসহ তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন উদীয়মান খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগে আগ্রহী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
বৈঠকে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমনে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, মানবপাচার ইস্যু মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধসহ সব ধরনের ফৌজদারি অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে একটি ব্যাপকভিত্তিক ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ সই করা যেতে পারে। এতে দুই দেশের আইনি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সুসংহত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। এ সময় রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১২ দিন আগে
ইরান যুদ্ধের জের: আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের শঙ্কায় আরব আমিরাত
সহিংসতা ও অস্থিরতায় ভরা মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘ সময়জুড়ে আরব আমিরাত নিজেদের ‘আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ের একটি নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে প্রচার করে আসছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শুরু হওয়া যুদ্ধের জেরে ইরানের চক্ষূশূল হওয়ায় ধীরে ধীরে মুখ থুবড়ে পড়ছে দেশটির অর্থনীতি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র আরব আমিরাত যুদ্ধ চলাকালে অন্যান্য যেকোনো দেশের তুলনায় সব থেকে বেশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এই হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ আমিরাতের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, পর্যটন ও সম্মেলন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পারস্য উপসাগরের ওপারে অবস্থিত ইরানের ঠিক বিপরীত দেশ আরব আমিরাত নিজেদের শক্তিশালী ও অবিচল দেখানোর চেষ্টা করলেও দেশটির অর্থনৈতিক মন্দা ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে। সম্প্রতি তারা হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে তারা ওপেক তেল কার্টেল থেকে সরে এসেছে। অবশ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই তারা এই পরিকল্পনা করেছিল।
প্রথম থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রত্যক্ষভাবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। তবে আস্তে আস্তে এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে আরব আমিরাত। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যখন যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইরান ড্রোন হামলা করে।
তবে এই প্রতিকূল অবস্থা ও সংকটের মধ্যেও দেশটির অর্থনীতি টিকে আছে। চলমান এই সংকট এখনও কর্মসংস্থান হ্রাস বা বৈদেশিক বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। একটি বিশাল পরিমাণে নগদ উদ্বৃত্তের সঞ্চয় দেশটিকে এই সম্ভাব্য মন্দা থেকে অনেকটা বাঁচিয়ে রেখেছে।
তবে এই সংকট যত দীর্ঘ হবে, ততই আমিরাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। ধীরে ধীরে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে দেশটি তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলবে।
বর্তমানে আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমানভাবে জলদস্যুতা এবং এমনকি সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তুলছেন এবং সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
রবিবার (১৭ মে) রাতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই আমিরাত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি কোনো প্রকার হুমকি সহ্য করবে না। যেকোনো হুমকি, অভিযোগ বা শত্রুতার জবাব দিতে এটি তার পূর্ণ, সার্বভৌম, বৈধ, কূটনৈতিক ও সামরিক অধিকারের প্রয়োগ করবে আমিরাত।
আমিরাতের শাসক পরিবারও আরও আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করার পরিকল্পনা করছে।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বারাকাহ হামলায় আমিরাত কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই হামলায় আবুধাবির সুদূর পশ্চিমের মরুভূমিতে অবস্থিত পারমাণবিক কেন্দ্রটিতে তেজস্ক্রিয়তা নির্গমন হয়নি এবং এর কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
আমিরাত মূলত সাতটি স্বৈরতান্ত্রিকভাবে শাসিত শেখ শাসনের একটি ফেডারেশন, যার মধ্যে রয়েছে দুবাই ও আবুধাবি। দেশটির শীর্ষ শাসক সংস্থা হলো ফেডারেল সুপ্রিম কাউন্সিল, যা সাতটি আমিরাতের বংশানুক্রমিক শাসকদের নিয়ে গঠিত। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আবুধাবির শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও তার পরিবারের আধিপত্য বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শাসক পরিবারটি গত কয়েক দশক ধরে আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন যুদ্ধে অংশগ্রহণ। আমিরাত ২০১৩ সালে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে ক্ষমতায় আনতে সহায়তা করেছিল। সঙ্গে সঙ্গে সুদান ও লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে বিভিন্ন পক্ষে অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে। তবে তারা এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
প্রকাশ্যে খুব কম কথা বলা শেখ মোহাম্মদ মার্চ মাসে একটি হাসপাতালে ইরানি হামলায় আহতদের দেখতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেছিলেন।
তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘আমিরাত আকর্ষণীয়, আমিরাত সুন্দর, আমিরাত একটি আদর্শ। কিন্তু আমি তাদের বলব, আমিরাতের চেহারা দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। আমিরাতের চামড়া কিন্তু অত্যন্ত মোটা এবং মাংস তিতা। আমাদের ঘায়েল করা অত সহজ নয়।’
অর্থনৈতিক সতর্কতার লক্ষণ
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া আমিরাতের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রির ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করেছে, যদিও কয়েকটি ট্যাংকার ওই নৌপথ দিয়ে বের হতে সক্ষম হয়েছে। প্রণালির বাইরে ওমান উপসাগরে অবস্থিত তেল টার্মিনালসহ ফুজাইরাহ শহরে একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা যাচ্ছে। আমিরাত সেই সক্ষমতা দ্বিগুণ করতে দ্বিতীয় পাইপলাইন দ্রুত নির্মাণ করার চেষ্টা করছে।
তবে ইরান যুদ্ধের জেরে আমিরাতের পর্যটন ও সম্মেলন বাজার কঠিন আঘাতের মুখে পড়েছে। এটি দেশটির মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের ১২ শতাংশেরও বেশি বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।
কাতারভিত্তিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান নর্থবোর্ন অ্যাডভাইজরির তথ্য অনুযায়ী, যারা যুদ্ধের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আমিরাতে ৭০টিরও বেশি নির্ধারিত অনুষ্ঠান স্থগিত, বাতিল বা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমিরাত সরকার অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি, তবে আয়োজকরা সম্ভবত ‘বীমা প্রত্যাহার ও দায়বদ্ধতার ঝুঁকির’ কারণে পরিকল্পনাগুলো পরিবর্তন করেছেন।
দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের বিষয়ে গত ৪ মে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানসংস্থা এমিরেটস ঘোষণা করে যে তাদের প্রায় সম্পূর্ণ ফ্লাইট সূচি পুনরায় চালু হয়েছে। কিন্তু সেই একই দিন ইরান একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এ ঘটনার পর মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয় যা আমিরাতে অবস্থানরত দেশে ফিরতে আগ্রহী ব্যবসায়ী সমাজে হাহাকার সৃষ্টি করে।
বিমানবন্দরটি এখন তার জেট জ্বালানি ট্যাংকের চারপাশে একটি প্রতিরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সেখানকার কর্মকর্তারা আলোচনা করতে রাজি হননি।
দখলের হার প্রায় ২০ শতাংশে নেমে আসায় দুবাইয়ের আইকনিক বুর্জ আল আরবসহ একাধিক হোটেলের সংস্কার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষক সংস্থা মুডিজ অ্যানালিটিক্স অনুমান করছে, এই হার জুন প্রান্তিকে ১০ শতাংশে নামবে, যা যুদ্ধের আগে ছিল ৮০ শতাংশ।
মুডিজ সতর্ক করেছে যে, দখলের হার সম্ভবত ২০২৬ সালের বাকি সময় আরও নিম্নমুখী থাকবে, কারণ যুদ্ধ থামলেও পর্যটকরা ভ্রমণে দ্বিধাগ্রস্ত থাকবেন।
সোমবার (১৮ মে) প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউটের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুবাইয়ের উন্মুক্ততা এটিকে ভ্রমণ, লজিস্টিক্স ও আস্থার ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে, তবে আবুধাবির ব্যালেন্স শিট ও জ্বালানি সম্পদ ফেডারেশনকে আঘাত সামলে নেওয়ার সক্ষমতাও দেয়।
কয়েন-চালিত যুদ্ধবিমানের শিল্পকর্ম
দুবাই বিশেষভাবে দেখানোর চেষ্টা করছে যে দেশটি এখনও সক্রিয়। গত সপ্তাহের শেষে দুবাই তার বার্ষিক আর্ট দুবাই শোয়ের একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ আয়োজন করেছে। সেখানে একটি শিল্পকর্ম ছিল। শিল্পকর্মটি একটি কয়েন-চালিত কালো যুদ্ধবিমান। এটি একটি কালো নাইকি টেনিস জুতা দিয়ে ঢাকা ছিল।
স্পেনের শিল্পী সুলিমান লোপেস একটি ধাতু-সমৃদ্ধ গ্রহাণুর মালিকানা দাবির ধারণাকে কেন্দ্র করে একটি শিল্পকর্ম নিয়ে এসেছিলেন, যেটি নাসার একটি মিশনের লক্ষ্যকে ইঙ্গিত দেয়। দেশ ও কোম্পানিগুলো কীভাবে তেল ও অন্যান্য পণ্য আহরণ করে, শিল্পকর্মটি তার প্রতিফলন ঘটায়।
তবে চলমান এই যুদ্ধাবস্থা লোপেসকে তার শিল্পকর্ম নিয়ে দুবাইয়ে যোগ দেওয়ার বিষয়টি কঠিন করে তুলেছিল। এই শিল্পী বলেন, ‘তবে আমি বললাম, আমাকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, কারণ আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে এই অঞ্চলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য এটিই উপযুক্ত জায়গা।’
বৈরুতের শিল্পী আলফ্রেড তারাজি উল্লেখ করেন, তার দাদা-দাদি দুটি বিশ্বযুদ্ধ পার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বযুদ্ধেও জীবন থেমে থাকে না। আমরা সহিংসতার বিরুদ্ধে সংস্কৃতি দিয়েই লড়াই করব।’
১৫ দিন আগে
বাংলাদেশিদের জন্য আরব আমিরাতের ভিসা প্রাক্রিয়া জোরদার
বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনার ফলস্বরূপ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) আবারও বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কার্যক্রমে গতি বাড়িয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, এরইমধ্যে আমিরাতের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল চলতি মাসেই বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এই সফরের লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
রবিবার (৪ মে) ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএই’র রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলি আল হমুদি। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত জানান, ‘ইউএই দূতাবাস এখন প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০টি ভিজিট ভিসা ইস্যু করছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের জন্য দলগত ভিসা প্রক্রিয়াও দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হচ্ছে, যা বাণিজ্য ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।’
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘ইউএই’র মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় দক্ষ কর্মীদের জন্য অনলাইন ভিসা সিস্টেমও আবার চালু করেছে।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশেষ দূতের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে উভয় দেশের মধ্যে অর্ধডজনের বেশি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ভিসা সহজীকরণ থেকে শুরু করে বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সোমবার দুপুরের মধ্যে ভিসা আবেদন না করলে হজে যাওয়া অনিশ্চিত
এরই মধ্যে বিপণন ব্যবস্থাপক ও হোটেল কর্মীদের মতো পেশাজীবীদের জন্য ভিসা প্রদান শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য ৫০০টি ভিসা এরইমধ্যে ইস্যু হয়েছে এবং আরও এক হাজার ভিসা অনুমোদিত হয়েছে, যা খুব শিগগিরই দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে ভিসা নীতিতে আরও শিথিলতা আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।
তিনি আরও জানান, মানবিক বা বিশেষ প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলে সেসব ক্ষেত্রেও নমনীয়তা দেখানো হবে।
লুৎফে সিদ্দিকী এসব অগ্রগতিকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ও আমিরাত এরইমধ্যে একটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।
৩৯৬ দিন আগে
১১ হাজার টন ইলিশ রপ্তানি হবে সৌদি আরব ও আমিরাতে
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য দেশ দুটিতে ১১ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি করবে সরকার।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এ তথ্য জানান।
প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণে ২০১২ সাল থেকে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ আছে। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৫.৩০ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার দেশের মানুষের জন্যে ইলিশ সরবরাহ বাড়ানো এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যে সচেষ্ট।
আরও পড়ুন: সামুদ্রিক জলসীমায় ৫৮ দিন ইলিশ ও অন্যান্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ
‘পাশাপাশি, বাংলাদেশের মানুষ যারা বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন এবং দেশে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন, এমনকি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার পাশে সোচ্চার ছিলেন, তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত আকারে ইলিশ মাছ রপ্তানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, সারা বছর পাঠানো না গেলেও অধিক ইলিশ প্রাপ্তির সময় আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসিদের জন্য ইলিশ পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী সর্বাধিক প্রবাসী কর্মজীবী আছেন সৌদি আরবে প্রায় ৪৪ লাখ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ২২ লাখ।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাথমিক অবস্থায় দুটি দেশে মোট ১১ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে। এ বছর আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর অন্যান্য দেশে পাঠানোর বিষয়ে বিবেচনা করা যেতে পারে।
৪৭২ দিন আগে
ক্ষমা পেয়ে আরব আমিরাত থেকে ফিরলেন আরও ২৬ বাংলাদেশি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করে গ্রেপ্তার হওয়া আরও ২৬ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।
ইন্ডিগো এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইটে শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে এই ২৬ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে এই ২৬ বাংলাদেশিকে পরিবহন খরচসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা করেছে।
আরও পড়ুন: ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ১৩ বাংলাদেশি
তিনি বলেন, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও ব্র্যাক এই প্রবাসীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনরেকত্রীকরণে কাজ করবে।
এজন্য তাদের চাহিদা নিরূপণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী মনো-সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে বলে জানান শরিফুল হাসান।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করায় গত জুলাই মাসে ৫৭ জন বাংলাদেশি গ্রেপ্তার ও শাস্তি পান।
আরও পড়ুন: লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৫০ অনিয়মিত বাংলাদেশি
পরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনুরোধে ৫৭ বাংলাদেশির ক্ষমার আদেশ দেন প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কারাদণ্ড প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ৩১ জন তিন দফায় দেশে ফিরে আসেন। বাকি ২৬ জন শুক্রবার ফিরলেন।
আরও পড়ুন: লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৪৪ অনিয়মিত বাংলাদেশি
৬২৯ দিন আগে
রেলের উন্নয়নে আরব আমিরাতের সহযোগিতা চান রেলপথমন্ত্রী
রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহযোগিতা কামনা করেছেন রেলপথমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম।
বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রেল ভবনে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে একথা বলেন রেলমন্ত্রী।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের যে সুসম্পর্ক তৈরি করেছিলেন তা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিভিন্ন লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে রেলের উন্নয়নে কাজ করার অনুরোধ জানান মন্ত্রী।
আরও পড়ুন: মার্চেই কালুরঘাট সেতুতে যান চলাচল শুরু হবে: রেলমন্ত্রী
তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন সেক্টরের দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এবং অপারেশন সেক্টরে সহযোগিতাসহ, বাংলাদেশের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে রেলের উন্নয়নের সহযোগিতা করতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আরও পড়ুন: পুরোনোদের অভিজ্ঞতা নিয়ে রেলকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে: রেলমন্ত্রী
৮৫৪ দিন আগে
আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে ফোন করে তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। সোমবার (১৪ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সেক্রেটারি এবিএম সরওয়ার-ই-আলম সরকারের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওইদিন দিনগত রাত সাড়ে ৮টা থেকে দুই নেতা কুশল বিনিময় করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যুতে একে অপরের সঙ্গে কথা বলেন।
শেখ হাসিনা ফোনকলের সময় উপস্থিত থাকার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান। তিনি তার ভাই শেখ সাইদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। উভয় নেতা স্মরণ করেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান ১৯৭৪ সালের মার্চ মাসে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশি জনগণ, সরকার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সুফিউল আনামের পরিবারের সদস্যদের এবং তার নিজের পক্ষে ইয়েমেনে অপহরণকারীদের কাছ থেকে আনামের মুক্তি লাভের লক্ষ্যে তাদের অসাধারণ প্রচেষ্টা এবং সফল আলোচনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি দেশটির গোয়েন্দা ইউনিটের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের সফল উদ্যোগের ফলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সুফিউল আনাম সম্প্রতি ইয়েমেনে অপহরণকারীদের কাছ থেকে মুক্তি লাভ করেন।
তিনি দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানান।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন মডেলের প্রশংসা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল-কায়েদার বন্দিদশা থেকে আমানের সফল মুক্তির আলোচনা তার দূরদর্শী নেতৃত্বে একটি শান্তি-নির্মাণকারী এবং দায়িত্বশীল জাতি হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সক্ষমতা প্রদর্শন করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য এই ধরনের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে। শেখ হাসিনা বলেন, এই ধরনের সহযোগিতা বিদ্যমান শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং দুই শান্তিপ্রিয় দেশের মধ্যে অঙ্গীকারবদ্ধ করবে।তিনি আশাপ্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আগামী বছরের মার্চে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করবে।সেই লক্ষ্যে, তিনি এই মাইলফলক অনুষ্ঠানটি উদযাপনের জন্য যৌথভাবে স্মারক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য তার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।তিনি এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।প্রধানমন্ত্রী কপ২৮ আয়োজনের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনগণকেও অভিনন্দন জানান। তিনি কপ২৮ এর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনা সংযুক্ত আরব আমিরাতে তার দেশে সবুজায়নকরণে প্রেসিডেন্টের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যাগুলোর একটি সফল সমাধান খুঁজে বের করতে নেতৃত্ব দেবে। এছাড়া শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশি কর্মীদের কাজ করার সুযোগ প্রদানের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট তাদের অর্থনীতি ও সমাজের উন্নয়নে এই শ্রমিকদের অবদানের প্রশংসা করেন।শেখ হাসিনা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান এবং তার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনগণের জন্য অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী যুক্তরাজ্য: প্রধানমন্ত্রীকে সারাহ কুক
সফররত দুই মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
১০২৪ দিন আগে
দেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী আরব আমিরাত
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির শিল্প ও উন্নত প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী ড. সুলতান আহমেদ আল জাবের এ আগ্রহের কথা জানান।
বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই)প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রী এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, ‘তারা প্রচলিত জ্বালানির পাশাপাশি জ্বালানি খাতে বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে খুবই আগ্রহী।’
জ্বালানি কোম্পানি মাসদারের চেয়ারম্যান এবং আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকও ডক্টর আহমেদ। তিনি বলেন যে, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশে দুটি দল পাঠাবেন। এর মধ্যে এক দল নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে আলোচনা করবে এবং আরেকটি ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করবে।
বৈঠকে প্রধানত জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানান প্রেস সচিব।
আরও পড়ুন: স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনতে হবে: শিক্ষাবিদদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী
সুলতান আহমেদ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশেষ দূত এবং ২৮তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস (কপ-২৮)-এর প্রেসিডেন্ট জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং এই বিষয়ে তার আরও সমর্থন আশা করেন।
তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্য নিরাপত্তা ইস্যুতেও প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেন। ড. সুলতান আহমদ বলেন, ‘আমরা পরিবর্তনের ক্রীড়নক হতে চাই।’ তিনি বলেন আরও, তারা কপ-২৮ এর আগেই সমস্যা সমাধানের জন্য জলবায়ু তহবিল সংগ্রহের উপর চাপ প্রয়োগ করছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সবুজ হয়ে উঠছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের কপ-২৮ থেকে একটি ইতিবাচক প্রভাব পেতে চান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কপ-২৮ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এতে প্যারিস চুক্তির বৈশ্বিক হিসাব-নিকাশ জড়িত থাকবে।
আরও পড়ুন:কলাগাছের তন্তু থেকে তৈরি কলাবতী শাড়ি গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি সংযুক্ত আরব আমিরাত এ বিষয়ে অগ্রগতির ও ঘাটতির বাস্তব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। যা বিশ্বব্যাপী ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মধ্যে অনেক বিষয়ে মিল রয়েছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অ্যাম্বাসেডর অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন,পরিবেশ সচিব ফারহিনা আহমেদ এবং বাংলাদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হামুদি উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: দেশের অফশোর উইন্ড এনার্জিতে বিনিয়োগের প্রস্তাব ডেনমার্কের
১০৫০ দিন আগে
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী সংযুক্ত আরব আমিরাত
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন হিসেবে আবুধাবি ও ঢাকা/চট্টগ্রামের মধ্যে আবুধাবিভিত্তিক উইজ এয়ার ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে।
রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হামুদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে দেখা করে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ইউএই’র সম্পর্ক দিন দিন দৃঢ় হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৪ সমঝোতা স্মারক সই
তিনি রাষ্ট্রদূতের কথা শুনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মোমেন বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে সহযোগিতা জোরদার করার ওপর জোর দেন।
ইউএই’র রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বৃদ্ধিতে তার দেশের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান ও শিপিং সংযোগ, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, ভাসমান সৌরশক্তি, ফার্মাসিউটিক্যালস, আইটি, বনায়ন ও ম্যানগ্রোভ বনের জন্য জোট ইত্যাদি বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
রাষ্ট্রদূত ২০২৩ সালে দুবাইতে অনুষ্ঠিতব্য কপ-২৮-এ বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে তার নতুন দায়িত্বের জন্য অভিনন্দন জানান এবং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত।
মোমেন বলেন, রাষ্ট্রদূত থাকাকালে পারস্পরিক সুবিধার জন্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে।
তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির রোল মডেল হিসেবে রূপান্তরের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এক্সপো ২০২০ দুবাইয়ের দর্শনীয় আয়োজনের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষভাবে নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান।
আরও পড়ুন: সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা সমাচার: গোল্ডেন ভিসা ও গ্রিন ভিসা
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে সম্মত বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত
১২৭০ দিন আগে
নারী এশিয়া কাপ: বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত, ছিটকে গেল বাংলাদেশ
সিলেটে টানা বৃষ্টিতে মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় নারী এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের কাছে একটাই পথ ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারানো। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে ম্যাচ মাঠেই গড়ায়নি। ফলে নিগার সুলতানা ও তার দল টুর্নামেন্টের প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিল।
বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ১০ মিনিটে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ম্যাচ অফিসিয়ালরা। এর মধ্য দিয়েই শেষ হয়ে গেল ঘরের মাঠে বাংলাদেশের শিরোপা ধরে রাখার অভিযান।
আরও পড়ুন: নারী এশিয়া কাপ: ভারতকে ১৩ রানে হারাল পাকিস্তান
এর আগে সোমবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শোচনীয়ভাবে হারে বাংলাদেশ। সাত ওভারে ৪১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে পারেনি স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় চতুর্থ দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছে থাইল্যান্ড।
এর আগে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সেমিফাইনালে খেলা নিশ্চিত করেছে।
আরও পড়ুন: নারী এশিয়া কাপ: সিলেটে পৌঁছেছে ৬ দল, আজ আসছে ভারত
নারী এশিয়া কাপ: পাকিস্তানকে হারিয়ে দিল থাইল্যান্ডের মেয়েরা
১৩৩২ দিন আগে