প্রতি বছরের মতো এবারও রংপুর বিভাগে শীতের তাণ্ডব শুরু হয়েছে। কনকনে শীতে পুরো বিভাগের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতজনিত রোগে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। সেইসঙ্গে বাড়ছে রোগাক্রান্ত রোগী মৃত্যুর সংখ্যা।
পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে উত্তরের জেলাগুলোতে ঘরের বাইরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে বাসিন্দাদের। দিন ও রাতের তাপমাত্রার তারতম্য কমে এসেছে; হিমেল হাওয়া কাঁপন ধরাচ্ছে শরীরে। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষ। শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন উত্তরের ছিন্নমূলসহ তিস্তা, ধরলা ও যমুনার চর ও বাঁধে আশ্রিতরা।
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) সুত্র জানায়, শীতের তীব্রতা বাড়ায় রমেক হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে এই বিভাগের ৮ জেলা থেকে আসা শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
বিশেষ করে হাসপাতালগুলোর মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ডে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী বেড়েছে। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ২০ দিনে রমেক হাসপাতালে ১ হাজার ৯১৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। শীতজনিত রোগে এই ২০ দিনে মারা গেছেন ২৮ জন। এর মধ্যে মেডিসিন ও শিশু বিভাগে মারা গেছেন ১৭ জন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আশিকুর রহমান বলেন, তীব্র শীত এই অঞ্চলে। তাই শীতজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাইঁ নেই। এ কারণেই প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৬ টায় রংপুর বিভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া একই সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি, নীলফামারীর ডিমলায় ১০ ডিগ্রি , রংপুরে ১০ দশমিক ২, কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও দিনাজপুরে ১১ দশমিক ৫, গাইবান্ধায় ১১ দশমিক ৮ এবং লালমনিরহাটে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৫ দিন রংপুর বিভাগ ও নদীর অববাহিকা এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।