ফুটবল
যমুনায় হারিয়ে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো মাতল ঢালারচরের ফুটবল মাঠ
শেষ বাঁশিটি শুধু একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের সমাপ্তি ঘোষণা করেনি; বিদায় জানিয়েছে এমন একটি মাঠকে, যা আর কয়েক সপ্তাহ পরই যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) পাবনার আমিনপুরের ঢালারচরের বালুচরে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্বপ্নগ্রাম ব্রাজিল’ ও ‘স্বপ্নগ্রাম আর্জেন্টিনা’র মধ্যকার শেষ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। ‘চর বয়েজ’ নামে পরিচিত স্থানীয় তরুণ ফুটবলাররা এতে অংশ নেন। নদীভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা একটি জনপদের মানুষকে সম্মান জানাতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করে বিকে ফাউন্ডেশন।
বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা এখন সারা বিশ্বে। ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার লড়াই দেখতে টিভি পর্দায় চোখ রাখে কোটি কোটি মানুষ। কিন্তু ঢালারচরের মানুষগুলো ফুটবল উন্মাদনাকে বরণ করে নিয়েছে অন্য একভাবে। তাদের ছোট ছোট নৌকা আর টিনের ঘরের চালায় উড়ছে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার পতাকা। জেলেরা যখন নদীতে জাল ফেলছে, তখন তাদের নৌকার মাস্তুলে দোল খাচ্ছে সেই পতাকা। ঘরের স্ত্রীরা রান্নাঘরের কাজ করতে করতেও যেন এক পলক দেখে নিচ্ছে সেই পতাকার দিকে—বিশ্বকাপের স্বপ্ন তাদেরও। কিন্তু এই স্বপ্ন তারা দেখছে এক অনিশ্চিত জীবনের মাঝে। নদী যাদের সবকিছু কেড়ে নিতে পারে, তারা অন্তত আজকের এই খেলাটি দেখবে। বিশ্বকাপের সেই উন্মাদনা হয়তো তাদের ঘরে পৌঁছায় না, কিন্তু আজ তারা সেই উন্মাদনাকে নিজেদের করে নিয়েছে।
ঢালারচরের মৎস্যজীবী ও কৃষক পরিবারগুলোর কাছে যমুনা নদী শত্রু নয়; এটি একটি শক্তি, যার বিরুদ্ধে তারা লড়াই করা ছেড়ে দিয়েছে। বছর বছর ধরে এই শক্তিশালী নদী তাদের বসতবাড়ি গ্রাস করে নিচ্ছে, তাদের ফসল ও জমি কেড়ে নিচ্ছে। তারা দেখেছে প্রতিবেশীরা কীভাবে নিজেদের সবকিছু গুছিয়ে ভেতরের দিকে সরে গেছে। একমাত্র পরিচিত ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গেছে তারা। এখন আর কোনো রাগ নেই, শুধু ক্লান্তিকর এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।
৩ দিন আগে
বিশ্বকাপের রঙে রঙিন কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ি
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা কেবল টেলিভিশনের পর্দা কিংবা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা যেন ছড়িয়ে পড়েছে ঝিনাইদহের এক শান্ত সবুজ পল্লীতেও। আর সেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ‘মুসলিম জাগরণের কবি’ খ্যাত গোলাম মোস্তফার স্মৃতিবিজড়িত আদি বাড়ি।
শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের ঐতিহাসিক এই বাড়িটি এখন ল্যাটিন আমেরিকার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রঙিন। কবিবাড়ির এই অভূতপূর্ব রূপান্তর পুরো গ্রামকে পরিণত করেছে এক টুকরো ‘ফুটবল ভিলেজে’।
সরেজমিনে মনোহরপুর গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে এক ভিন্নজগৎ। চারদিকে শুধু ফুটবল আর ফুটবল। রাস্তার দুপাশে উড়ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা, তবে মূল আকর্ষণ কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ি। কবির বাড়ির মূল ফটক, কাচারিঘর, সবুজ আঙিনা, বসতঘর থেকে শুরু করে আশপাশের গাছপালা সবই এখন মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ফুটবল আবেগে। একদিকে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা, অন্যদিকে ব্রাজিলের সবুজ-হলুদ রঙের নান্দনিক দেয়ালচিত্র ও পতাকা শোভা পাচ্ছে। দেয়াল আর বাঁশের খুঁটিতে শোভা পাচ্ছে লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পেদের বিশাল সব প্রতিকৃতি। কোথাও আবার আঁকা হয়েছে কাঙ্ক্ষিত সোনালী ট্রফি।
ফুটবল আর ইতিহাসের এই অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কবিবাড়িতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসছেন। মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন অনেকেই।
বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। কেউ প্রিয় দলের জার্সি পরে, কেউবা পতাকা কাঁধে জড়িয়ে উৎসবে মেতে উঠছে। স্থানীয়রা বলছেন, দলের সমর্থনে ভিন্নতা থাকলেও এই আয়োজন পুরো গ্রামের মানুষকে এক সুতোয় বেঁধেছে। এটি এখন শুধু ফুটবল উন্মাদনা নয়, বরং সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা।
ফরহাদ হোসেন নামে এক যুবক মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে বিশ্বাস করতে পারিনি। এখানে এসে মনে হচ্ছে কোনো বিদেশি ফ্যান জোনে দাঁড়িয়ে আছি। গ্রামীণ আবহে এমন নান্দনিক আয়োজন সত্যিই চোখ জুড়িয়ে দেয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা সিজার জিকরুল বলেন, ‘বিশ্বকাপ এলেই গ্রামে আনন্দ হয়, কিন্তু এবার কবিবাড়িকে কেন্দ্র করে যে সাজসজ্জা হয়েছে, তা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষের আগমনে আমাদের গ্রামজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ।’
এই বর্ণিল উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন স্থানীয় একঝাঁক উদ্যমী তরুণ। কয়েক সপ্তাহের অক্লান্ত পরিশ্রমে তারা কবিবাড়ি ও আশপাশের এলাকাকে এভাবে সাজিয়ে তুলেছেন।
তরুণ সংগঠক শাওন শ্রাবন ও শিহাব হোসেন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপের বৈশ্বিক আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে মাঠের খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করা। নিজেদের পকেটের টাকায়, নিজেদের পরিশ্রমে এই আয়োজন করেছি। দর্শনার্থীদের হাসিমুখ আর ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই যত জমছে, মনোহরপুরের কবিবাড়িতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা ততই বাড়ছে। ফুটবল আর ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন যেন প্রমাণ করছে—খেলাধুলা শুধু মাঠের লড়াই নয়, তা মানুষের হৃদয়কে এক করার এক শক্তিশালী মাধ্যম।
১৮ দিন আগে
ব্রাজিলের ৩-০ গোলের দাপুটে জয়, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল হাইতি
ফিলাডেলফিয়ায় হাইতি জাতীয় ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের একটি দাপুটে জয় নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। এই হারের ফলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল হাইতি, অন্যদিকে ব্রাজিলের গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হলো।
ব্রাজিলের হয়ে চমৎকার পারফর্ম করে দুটি গোল করেছেন মাথেউস কুনহা, আর ভিনিসিয়াস জুনিয়র করেছেন একটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া হাইতির চলতি আসর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিশ্চিত হলো।
এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথমার্ধে খেলতে নেমেই কুনহা দ্রুতই দলে তার অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা প্রমাণ করেন। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের হতাশাজনক ১-১ ড্রয়ের ম্যাচে তিনি বদলি হিসেবে নেমেছিলেন। আজকের ম্যাচে ভিনিসিয়াসের একটি শট হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিড ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে গোল করে ডেডলক ভাঙেন এই ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধের শেষের দিকে ভিনিসিয়াসের একটি নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে বাম পায়ের জোরালো শটে বল টপ কর্নারে পাঠিয়ে ব্রাজিলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কুনহা। তার এই জোড়া গোল লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে উপস্থিত ৬৮ হাজারেরও বেশি দর্শকের মাঝে থাকা বিপুলসংখ্যক ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়।
এর আগে, রাফিনহার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় এবং প্রথমার্ধেই তিনি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এই ধাক্কা সত্ত্বেও পুরো ম্যাচে আধিপত্য বজায় রাখে দক্ষিণ আমেরিকান দলটি।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ভিনিসিয়াস ব্রাজিলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন, যা ম্যাচের ভাগ্য কার্যত নির্ধারণ করে দেয়। সর্বশেষ ২০০২ সালে বিশ্বকাপ নেওয়া দলটি এবারের বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার।
স্টেডিয়ামের ভেতরের পরিবেশ ছিল বেশ প্রাণবন্ত। হাইতির সমর্থকরা যখন তাদের ঐতিহ্যবাহী গান গাইছিলেন, তখন ব্রাজিলিয়ান ভক্তরা তাদের দেশের সমৃদ্ধ ফুটবল ইতিহাস উদযাপন করার পাশাপাশি কিংবদন্তি ফুটবল আইকন পেলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছিলেন।
আগামী বুধবার ফ্লোরিডার মায়ামি গার্ডেন্সে স্কটল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিল তাদের গ্রুপ ‘সি’-এর মিশন শেষ করবে।
এদিকে, পায়ের পেশির (কাফ) চোটের কারণে তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও মাঠে নামতে পারেননি।
১৯ দিন আগে
‘নীল হাঙ্গর’দের রক্ষণে কাটা পড়ল স্পেন
কাবো ভের্দে বা কেপ ভার্দ যে নামেই ডাকুন, ফুটবলের দুনিয়ায় দেশটির একটি ডাকনাম রয়েছে ‘তুবারোঁইস আসুইস’, বাংলায় যার অর্থ ‘নীল হাঙর’। তবে আক্রমণে নয়, রক্ষণাত্মক ফুটবল দিয়ে তারা শক্তিশালী স্পেনকে যে কামড় দিল, ফুটবলপ্রেমীরা তা মনে রাখবে বহু দিন।
পুরো ম্যাচের ৭৪ শতাংশ বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে মোট ২৭টি আক্রমণ শানাল বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় সেরা দল স্পেন। কিন্তু আকাঙ্ক্ষিত একটি গোলের দেখা পেল না কোনোভাবেই। ফলে অপ্রত্যাশিত গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ‘শিরোপার অন্যতম দাবিদার’ তকমা নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা লা রোহাদের।
প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে স্পেনের মতো দলের বিপক্ষে এই ফলাফল তাই কেপ ভার্দের জন্য জয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আর এই ঐতিহাসিক ফলাফলের কেন্দ্রে ছিলেন একজন মানুষ—৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক হোসিমার দিয়াস ভোসিনিয়া।
৫ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার দেশটির ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে নিয়ে এসেছেন পেদ্রো লেইতিয়াও ব্রিতো ‘বুবিস্তা’। ৭০ বছর বয়সী বুবিস্তা কেন ২০২৫ সালে আফ্রিকার বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, তার প্রমাণ তিনি দিলেন সবচেয়ে বড় মঞ্চেই। স্পেনের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে এমন শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণাত্মক কৌশল সাজিয়ে তিনি কার্যত দাবার ছকে আটকে ফেলেন দে লা ফুয়েন্তেকে।
২৪ দিন আগে
দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের গোলে ডাচদের রুখে দিল জাপান
বিশ্বকাপের মঞ্চে নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের মতো প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করে পরের ধাপে পৌঁছানো যে কতটা কঠিন তা বিবেচনায় নিয়ে শুরু থেকেই প্রস্তুত ছিল জাপান। নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাদের পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট—ধৈর্য, শৃঙ্খলা আর সুযোগের অপেক্ষা। পুরো ম্যাচজুড়ে সেই পরিকল্পনাই নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করল এশিয়ার অন্যতম প্রতিনিধিরা। দুইবার পিছিয়ে পড়েও তাই ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ মুহূর্তে সমতায় ফিরে ডাচদের হতাশ করা ড্রয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে জাপান।
বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে এফ গ্রুপের প্রথম ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।
ম্যাচের সবগুলো গোলই এসেছে দ্বিতীয়ার্ধে। ৫১তম মিনিটে ভার্জিল ফন ডাইকের হেডারে নেদারল্যান্ডস এগিয়ে যাওয়ার ৬ মিনিট পর জাপানকে সমতায় ফেরান কেইতো নাকামুরা। তবে ৬৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করে ম্যাচে ফের এগিয়ে গিয়েছিল শক্তিমত্তা ও মাঠের পারফরম্যান্সে এগিয়ে থাকা ডাচরা। এর ৮৯ মিনিটে গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়ে জাপানের সমর্থকদের আনন্দে ভাসান দাইচি কামাদা।
ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিতে থাকে নেদারল্যান্ডস, অন্যদিকে মাথা ঠান্ডা রেখে ডাচ আক্রমণ রুখে দেওয়ায় মনোযোগী হয় জাপান। তবে তৃতীয় মিনিটে ডনিয়েল মালেনের শট থেকে ভালো একটি সুযোগ এসেছিল ডাচদের, অবশ্য গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকির নৈপুণ্যে শুরুতেই পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায় জাপান।
শুরুর দিকে নিজেদের অর্ধেই ব্যস্ত থাকতে হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে জাপান। ১৫তম মিনিটে দাইজেন মায়েদার নিচু ক্রস থেকে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছিল তারা, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ডাচ রক্ষণ তা নস্যাৎ করে দেয়।
২৪ দিন আগে
বিটিভিতে বিশ্বকাপ সম্প্রচারে ৭২.৭১ কোটি টাকায় মিডিয়া স্বত্ব কিনছে সরকার
বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফার কাছ থেকে ‘অল মিডিয়া রাইটস’ কিনছে সরকার। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশও করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
রবিবার (৭ জুন) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৫তম বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ফিফার কাছ থেকে ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬-এর অল মিডিয়া রাইটস সংগ্রহের জন্য বিটিভির প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। এ জন্য মোট চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭২ কোটি ৭০ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯২ টাকা।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং টুর্নামেন্টটির বাণিজ্যিক ও সম্প্রচারস্বত্বের মালিক ফিফাকে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় সরবরাহকারী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।
এর আগে, প্রস্তাবটি নিয়ম অনুযায়ী অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন পেয়েছিল। কমিটির মতে, বিশ্বকাপের সম্প্রচার ও মিডিয়া স্বত্বের একচ্ছত্র মালিক হওয়ায় ফিফার কাছ থেকেই সরাসরি এই স্বত্ব সংগ্রহ করা সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অল মিডিয়া সম্প্রচারস্বত্ব অর্জনের ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬-এর ম্যাচ ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে পারবে। এর মাধ্যমে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা আরও সহজে বিশ্বকাপ উপভোগের সুযোগ পাবেন।
এ বছরের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। এবারই প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল বিশ্বকাপে অংশ নেবে।
৩২ দিন আগে
হাতুড়ি নিয়ে ফুটবল মাঠে শিক্ষার্থী, ম্যাচ স্থগিত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ফুটবল খেলা শুরুর আগে কিছু ছাত্র বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে প্রকাশ্যে হাতুড়ি দেখানোয় খেলা স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার দুই বিদ্যালয়ের মধ্যে ফুটবল সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে খেলা স্থগিত করার কথা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হাই সিদ্দিকী।
দৌলতপুরে গ্রীষ্মকালীন ৫২তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলছে। প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বাগোয়ান কেসিভিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ফুটবল খেলার সেমিফাইনাল ম্যাচ ছিল। সকাল ১০টায় উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের রিফাইতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
জানা গেছে, খেলা শুরু হওয়ার আগে কিছু ছাত্র হাতুড়ি নিয়ে মাঠে ঢুকে পড়ে। তারা প্রকাশ্যে হাতুড়ি দেখানোয় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনও খেলা বন্ধের ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিউল ইসলাম বলেন, ‘খেলার আগে আমাদের এক ছাত্রের কাছে হাতুড়ি পাওয়া গেছে— এটা আমরা স্বীকার করছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে, বাগোয়ান কেসিভিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার কামাল হোসেন বলেন, ‘হাতুড়ি আনার অভিযোগ পাওয়ার পর ইউএনও স্যার খেলা স্থগিত ঘোষণা করেন। আলোচনার মাধ্যমে পরে নতুন তারিখ নির্ধারণ করে খেলা অনুষ্ঠিত হবে।’
এ বিষয়ে ইউএনও আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, ‘খেলা শুরু হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীরা হাতুড়ি প্রদর্শন করছিল। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই আমরা খেলা স্থগিত করেছি।’
২৮৯ দিন আগে
নিকো, লুইসকে না পেয়ে র্যাশফোর্ডকে দলে টানছে বার্সেলোনা
নিকো উইলিয়ামসকে নিয়ে কম নাটক হয়নি। কিন্তু শেষমেষ তাকে না পেয়ে লুইস দিয়াসকে দলে টানতে মরিয়া হয়েছিলেন বার্সেলোনার স্পোর্টিং ডিরেক্টর দেকো। তার মধ্যেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে মার্কাস র্যাশফোর্ডকে দলে ভেড়ানোর খবর চাউর হয়েছে।
ইংলিশ ফুটবলের দলবদল-সংক্রান্ত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সাংবাদিক ডেভিড অর্নস্টাইন জানিয়েছেন, এক মৌসুমের জন্য র্যাশফোর্ডকে ধারে পেতে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে প্রস্তাব দিয়েছিল বার্সেলোনা। রুবেন আমোরিমের দলে ব্রাত্য এই উইঙ্গারের জন্য প্রস্তাবটি প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করেছে ইউনাইটেড। আলোচনা একেবারে শেষ পর্যায়ে, এখন কয়েকটি বিষয় সমাধানে শেষ মুহূর্তের আলোচনা চলছে।
বার্সেলোনায় এলে র্যাশফোর্ডের বেতনের পুরোটাই বহন করবে বার্সেলোনা। সেইসঙ্গে আগামী মৌসুমে যদি তাকে স্থায়ীভাবে কিনে রেখে দিতে চায়, তবে ৩৫ মিলিয়ন ইউরোর মতো গুনতে হতে পারে ক্লাবটিকে। অন্তত বার্সেলোনার সংবাদ কভার করা ইতালিয়ান সাংবাদিক মাত্তেও মোরেত্তো তেমনই বলেছেন।
এদিকে, ট্রান্সফার গুরু ফাব্রিৎসিও রোমানোও ‘হেয়ার উই গো’ বলে র্যাশফোর্ড-বার্সা দলবদলের বিষয়টি নিশ্চিত করে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বার্সেলোনাসহ ৫ ইউরোপীয় ক্লাবকে বড় অঙ্কের জরিমানা
রোমানো জানিয়েছেন, আজ রবিবার অথবা আগামীকালই ইংল্যান্ড থেকে কাতালুনিয়ায় পৌঁছাবেন ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার। এরপর শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আগামী সপ্তাহ, অর্থাৎ সোমবার থেকে যেকোনো দিন তার দলবদলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বার্সেলোনা।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে কাতালান ক্লাবটির প্রাক-মৌসুম সফরেও সঙ্গী হবেন র্যাশফোর্ড।
এদিকে, আর্থিক জটিলতার কারণে এখনও ১:১ নিয়মে ফিরতে পারেনি বার্সেলোনা। কয়েকদিন আগে এস্পানিওল থেকে দলে ভেড়ানো তরুণ গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়ারই এখনও লা লিগায় নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারেনি ক্লাবটি। ফলে র্যাশফোর্ডের নিবন্ধনেও সময় লাগবে। তবে বার্সেলোনায় খেলতে সমস্ত অনিশ্চয়তা দূরে ঠেলে প্রস্তাব আসার সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে যান তিনি।
এর আগে গত মৌসুমের জানুয়ারির দলবদলের সময়ও বার্সেলোনায় আসার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন র্যাশফোর্ড। সে সময় নিজের প্রতিনিধিকে দিয়ে ক্লাবটির কাছে প্রস্তাবও পাঠিয়েছিলেন তিনি। তবে তখন শেষ পর্যন্ত তাকে দলে টানেনি কাতালানরা।
এরপর মৌসুমের বাকি সময়ের জন্য ধারে উনাই এমেরির অ্যাস্টন ভিলায় যান তিনি। সেখানে ঘরোয়া ও ইউরোপা লিগে নিজের প্রতিভার সাক্ষর রাখেন র্যাশফোর্ড। সেইসঙ্গে ১৭ ম্যাচে ১০ গোলে অবদান রাখেন (৪ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট)।
তবে এপ্রিল মাসে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় আগেভাগেই তার মৌসুম শেষ হয়ে যায়। শেষ চার ম্যাচে ভিলানদের হয়ে খেলতে পারেননি তিনি। এমনকি ইংল্যান্ড জাতীয় দলের জন্য অ্যান্ডোরা ও সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য থমাস টুখেলের ঘোষিত স্কোয়াডেও জায়গা হয়নি তার।
ইউনাইটেডের সর্বোচ্চ আয়ের খেলোয়াড়দের একজন র্যাশফোর্ড। তার সাপ্তাহিক বেতন ৩ লাখ ৮০ হাজার ইউরোরও বেশি। এই বেতনের তিন-চতুর্থাংশ পরিশোধ করে ভিলা। এর পাশাপাশি পারফরম্যান্সভিত্তিক বোনাসও দিয়েছে ক্লাবটি।
এ বছরের শুরুতে বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক বলেছিলেন, তিনি লামিন ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার পাশাপাশি উইংয়ে আরও খেলোয়াড় চান। বিকল্প না থাকায় মৌসুমের শেষভাগে এসে খানিকটা ভুগতেও হয়েছে দলটিকে।
আরও পড়ুন: নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে লা লিগার শিরোপা পুনরুদ্ধার বার্সেলোনার
এরপর মৌসুম শেষ হলে আথলেতিক বিলবাউয়ের তরুণ প্রতিভা নিকো উইলিয়ামসের প্রসঙ্গটি আরও একবার সামনে আসে। কিন্তু শুরুতে বার্সেলোনা সাফ জানিয়ে দেয়, নিকোর জন্য অপেক্ষা করে গত বছরই ছেড়ে গেছে বার্সেলোনার ট্রেন।
তবে নিজেই এবার প্রতিনিধিকে দিয়ে বার্সায় খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেন নিকো। সেইসঙ্গে ব্লাউগ্রানা জার্সি পরতে প্রয়োজনে গতবার বার্সেলোনার প্রস্তাবিত বেতনের চেয়েও কম নিতে রাজি বলে জানান তিনি। এমনকি বায়ার্ন মিউনিখ তাকে অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি বেতনের প্রস্তাব দিলেও বার্সেলোনায় খেলার আগ্রহ থেকে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
বাঁ উইংয়ে তার শক্তি ও তীব্র আগ্রহ বিবেচনায় আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে নড়েচড়ে বসে বার্সা কর্তৃপক্ষ। নিকোর রিলিজ ক্লসের ৬০ মিলিয়ন ইউরো জোগাড়ও শুরু করে তারা। শেষ পর্যন্ত যখন বিলবাউয়ের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে, তখনই সবাইকে অবাক করে দিয়ে ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে নেন তিনি।
পরে অবশ্য জানা যায়, বিলবাউকে ট্রান্সফারের অর্থ পরিশোধ করলেও নিজের নিবন্ধনের বিষয়টি নিয়ে লিখিত নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন নিকো। কিন্তু বার্সেলোনা তা দিতে অস্বীকৃতি জানালেও তিনি মৌসুমের শুরু থেকেই দলের সঙ্গে খেলবেন বলে মৌখিক নিশ্চয়তা দিয়েছিল। তবে তাতে আশ্বস্ত হতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে, নিজের বড় ভাই ইনিয়াকি উইলিয়ামস এবং ক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে বারবার নতুন চুক্তিতে সই করতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
নিকোর সঙ্গে হওয়া তিক্ত অভিজ্ঞতার পর নিজের প্রথম পছন্দ লিভারপুলের কলম্বিয়ান তারকা লুইস দিয়াসের দিকে দৃষ্টি দেন দেকো। তার জন্য উঠেপড়ে লাগে বায়ার্নও। কিন্তু দুই ক্লাবের প্রাথমিক প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করে লিভারপুল। এরপর কয়েক দফায় বায়ার্ন অর্থের পরিমাণ বাড়ালেও তাতে এখনও রাজি হয়নি ইংলিশ লিগ চ্যাম্পিয়নরা। এই অবস্থা এবং নিজেদের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দিয়াসের দিক থেকে মুখ ফেরায় বার্সেলোনা।
আরও পড়ুন: এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক ম্লান করে মৌসুমের শেষ এল ক্লাসিকোও জিতল বার্সেলোনা
শেষ পর্যন্ত গত সপ্তাহে নাকি ৬০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত দিতে রাজি হয়েছিল কাতালান ক্লাবটি। তবে স্বাভাবিকভাবেই ৯০ মিলিয়ন ইউরো চাওয়া লিভারপুলের কাছে সেটি পাত্তা পায়নি। তাই দীর্ঘদিন ধরে নিজের স্বপ্নের ক্লাবে খেলতে চাওয়া ইংলিশ প্রতিভাকেই দলে ভেড়াচ্ছে বার্সেলোনা।
এই চুক্তি কার্যকর করায় বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিকের ভূমিকা ছিল বলে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। জার্মান এই কোচের অধীনে একেকটি দানবে পরিণত হয়েছে দলটির তরুণ ফুটবলাররা। আনসু ফাতি ছাড়া বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন।
ফলে ফ্লিকের তত্ত্বাবধায়নে আসন্ন বিশ্বকাপের আগে নিজের হারানো ফর্ম ফিরে পাবেন, সঙ্গে স্বপ্নের ক্লাবে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে থেকে যাবেন বহু বছর—র্যাশফোর্ডের পাশাপাশি এই প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছেন বার্সেলোনার কোটি সমর্থক।
৩৫৪ দিন আগে
ইন্টারকে বিধ্বস্ত করে অবশেষে ইউরোপ সেরার মুকুট পরল পিএসজি
কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে একের পর এক মহাতারকা দলে ভিড়িয়ে কত চেষ্টাই না করে এসেছে প্যারিস সেন্ত জার্মেই (পিএসজি)। কিন্তু কেউই ক্লাবটির স্বপ্নপূরণের সারথী হতে পারেননি। তবে অবশেষে হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালার মতো এক জাদুকরী কোচের অধীনে অধরা ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার সুযোগ হলো পিএসজির।
শনিবার রাত জেগে যারা খেলা দেখেছেন, তার নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন, কী বলা হচ্ছে। হ্যাঁ, অবশেষে ক্লাব প্রতিষ্ঠার প্রায় ৫৫ বছর পর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে প্যারিসের দলটি।
আনহেল দি মারিয়া, এদিনসন কাভানি, নেইমার, এমবাপ্পে, মেসি—কেউই দলটিকে যা এনে দিতে পারেননি, তারুণ্যনির্ভর এক দল গড়ে অসাধারণ কৌশল আর দলীয় পারফরম্যান্সে সেই বাজিমাত করলেন কোচ লুইস এনরিকে। আর এমনভাবেই জিতেছেন, যা ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।
শনিবার (৩১ মে) রাতে মিউনিখের আলিয়ান্স আরেনা স্টেডিয়ামে সিমিওনে ইনজাগির ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে এনরিকের পিএসজি।
এত বড় ব্যবধানের জয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে কেউ কখনও পায়নি। এর আগে চার গোলের ব্যবধানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল জেতার রেকর্ড আছে চারটি। ১৯৬০ সালে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদ ৭-৩ গোলে, ১৯৭৪ সালে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে বায়ার্ন মিউনিখ ৪-০ গোলে, ১৯৮৯ সালে এফসিএসবির বিপক্ষে এসি মিলান ৪-০ গোলে এবং ১৯৯৪ সালে বার্সেলোনার বিপক্ষে আবারও এসি মিলান ৪-০ গোলে জিতেছিল। তবে সেসব টপকে রেকর্ডটি এবার নিজেদের করে নিয়েছে পিএসজি।
বেশ কিছুটা নিষ্প্রভ ইন্টার মিলানকে এদিন ম্যাচের শুরুর ২০ মিনিটেই দুই গোল দিয়ে এগিয়ে যায় পিএসজি। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ৬৩, ৭৩ ও ৮৬তম মিনিটে বাকি তিনটি গোল হলে উৎসবে মাতে প্যারিস আর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা দলটির সমর্থকরা।
স্বপ্নের ফাইনাল জয়ের রাতে গোল না পেলেও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন চলতি মৌসুমে পিএসজির জার্সিতে আলো ছড়ানো উসমান দেম্বেলে। আর দুই গোল ও একটি অ্যাসিস্টসহ মোট তিনটি গোলে অবদান রেখে ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়েছেন প্যারিসের দলটির ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার দেজিরে দুয়ে। এ ছাড়াও আশরাফ হাকিমি, কিভিচা কেভারাস্টখেলিয়া ও শেষ দিকে নামা আরেক তরুণ সেনি মায়ুলু করেছেন একটি করে গোল।
৪০৪ দিন আগে
পুকুরে ফুটবল তুলতে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুকুরে পড়ে যাওয়া ফুটবল তুলতে গিয়ে দুই শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। নিহতরা হলেন বেহাকৈর নয়াপাড়া এলাকার হাবিবুর (৮) ও একই এলাকার জুনায়েদ (৬)।
বুধবার (২৮ মে) বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার কাঁচপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বেহাকৈর নয়াপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, খেলাধুলার সময় তাদের ফুটবল পার্শ্ববর্তী একটি পুকুরে পড়ে যায়। ফুটবল তুলতে গিয়ে তারা পুকুরে নেমে যায় এবং ডুবে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে কাঁচপুর মর্ডান হাসপাতাল নিয়ে যান।
অবস্থার অবনতি দেখে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর মদনপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
শিমরাইল ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, তাদের কাছে এ ধরনের কোনো খবর দেওয়া হয়নি।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
৪০৭ দিন আগে