বিএসএফ
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তিনজনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান। গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত ৩টার দিকে জীবননগর উপজেলার মাধবখালী সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি জানায়, মাধবখালী সীমান্তের ৭০/২-এস সীমান্ত পিলার-সংলগ্ন গেট দিয়ে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মেটেরি ক্যাম্পের সদস্যরা ১ জন পুরুষ ও ২ জন নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেন। বাংলাদেশে প্রবেশের আগেই মাধবখালী বিওপির টহল দলের নজরে পড়েন তারা।
পরে বিজিবি সদস্যরা শূন্যলাইন থেকে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। এ সময় ওই তিনজন সীমান্তের শূন্যলাইন থেকে প্রায় ৪০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান নেন। সে সময় বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তারা ভারতের কাঁটাতারের কাছে ফিরে যান। পরে সকাল ৮টার দিকে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মেটেরি ক্যাম্পের সদস্যরা ৬৮/৫-এস সীমান্ত গেট খুলে তাদের ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান।
মহেশপুর-৫৮ বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি ইতোমধ্যে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নকে জানানো হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা, পুশইন ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
৯ দিন আগে
কুলাউড়া সীমান্তের ওপারে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভারতীয় সীমানার অভ্যন্তরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে তারা মিয়া নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।
রবিবার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (৪৬ বিজিবির শ্রীমঙ্গল) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার মুড়ইছড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, আজ ভোরে কুলাউড়া উপজেলার আলীনগর সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশি ৪/৫ জন চোরাকারবারী ভারতীয় চোরাকারবারীদের সহায়তায় চোরাচালান আনার জন্য পৃথিমপাশা ইউনিয়নের বিপরীতে সীমান্ত পিলার ১৮৪৫/৬৩এস থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে মাগুরুলী নামক স্থানে অবৈধভাবে প্রবেশ করে। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের বাধা দিলে বাংলাদেশি চোরাকারবারীরা বিএসএফ সদস্যদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করে। সে সময় বিএসএফ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে চোরাকারবারীদের ওপর গুলি চালালে বাংলাদেশি তারা মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বাকিরা পালিয়ে যায়।
নিহত চোরাকারবারী ইতোপূর্বে চোরাচালান পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানায় বিজিবি।
৯ দিন আগে
কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ৮জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির বাধায় ওই ব্যক্তিরা নদীপথে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধীন প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুণ্ডি এলাকার জয়পুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৫২/১-এস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি জানায়, ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর মেঘনা ক্যাম্পের সদস্যরা নদীপথে সাঁতার কেটে আটজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে দুজন পুরুষ, চারজন নারী এবং দুজন ট্রান্সজেন্ডার ছিলেন।
বিজিবি আরও জানায়, বিজিবির টহল দল ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করে দ্রুত সীমান্তে অবস্থান নেয় এবং ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে তারা নদীপথেই পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। এতে বিএসএফের পুশ ইনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
কুষ্টিয়া বিজিবির ৪৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
২৫ দিন আগে
পুশইনে ব্যর্থ হয়ে ‘আলো নিভিয়ে’ ৩ নারীকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা ৩ ভারতীয় নারীকে ফেরত নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এই ঘটনার পর সীমান্তে টহল আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার করেছে বাংলাদেশ অংশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিপরীতে ভারতীয় অংশে বিএসএফের অতিরিক্ত সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার গোলাপাড়া গ্রামের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া-সংলগ্ন বাতি নিভিয়ে ৩ নারীকে শূন্যরেখা থেকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ।
বিজিবি ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক (এডি-অবস) কারিমুল ইসলাম হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় ৩ নারীকে বিএসএফ ফেরত নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ষোলঘড়িয়া গ্রামের সীমান্ত এলাকায় প্রধান পিলার ৮৩৪-এর ১ নম্বর উপপিলারের বিপরীতে গোলাপাড়া গ্রামের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া-সংলগ্ন বাতি নিভিয়ে দেয় বিএসএফ। এ সময় পুশইনের জন্য আনা ৩ নারীকে শূন্যরেখা থেকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বাহিনীটি।
বিজিবি জানায়, বিএসএফ ৩ নারীকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ওই তিনজনকে পুনরায় ভারতের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠানো হয়। এতে ভারতের ১০০ গজ অভ্যন্তরের শূন্যরেখায় প্রায় ২২ ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হন তারা।
ঘটনার পর গতকাল দুপুর ১টায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৩-এর ৮ নম্বর উপপিলার এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে টহল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে খড়খড়িয়া বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ড্যান্টসহ ৬ জন এবং ধবলসূতি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার জুবায়ের হোসেনসহ ৬ জন অংশ নেন।
৩৭ দিন আগে
নওগাঁ সীমান্তে পুশইনে ব্যর্থ হয়ে ৯ জনকে ভারতে 'ফিরিয়ে নিয়েছে' বিএসএফ
নওগাঁর সাপাহার উপজেলা আদাতলা সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৯ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করতে ব্যর্থ হয়ে গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে নওগাঁ-১৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল (বুধবার) ভোর ৪টার দিকে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্ত এলাকার সীমান্ত পিলার ২৪৪/এমপি দিয়ে ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৯ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করে। এদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনটি শিশু ছিল। সংবাদ পাওয়ার পর আদাতলা সীমান্তে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। তারপর ওই ৯ ব্যক্তি ভারত ও বাংলাদেশের দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়।
বিজিবির পক্ষ থেকে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে জানানো হয়, বিকেলের দিকে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শূন্যরেখায় অবস্থান করা ৯ জনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
পরে বিকেলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৯ জনকে প্রশ্নের চেষ্টার প্রতিবাদে এবং পুশইন ঠেকাতে সন্ধ্যার দিকে বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা হবে। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের কোনো আগ্রহ দেখানো হয়নি বলে জানানো হয়েছে। ফলে কোম্পানি কমান্ডার বা ব্যাটেলিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে কোনো পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।
ভারতীয় অংশে বিএসএফ এবং বাংলাদেশের অংশে বিজিবি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শূন্যরেখায় ওই ৯ জন তপ্ত রোদের মধ্যে দিনভর মানবেতর জীবনযাপন করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে কোনো পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত না হওয়ায় শূন্যরেখায় অবস্থান করা ৯ জন চরম দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়ে।
নওগাঁ সাপাহার উপজেলা আদাতলা সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর বিএসএফ তাদের তিনটি সার্চলাইট বন্ধ করে দেয়। ফলে সীমান্ত এলাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করে।
তারা জানান, গতকাল রাত ১০টার পরে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিএসএফ তাদের সীমান্তে সার্চলাইটগুলো পুনরায় জ্বালিয়ে দেওয়ার পর সেখানে ওই ৯ জনকে আর শূন্যরেখায় দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়ের মধ্যে রাতের আঁধারে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, ভারতীয় অংশে শূন্যরেখায় অবস্থান করা ৯জন আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে সেখানে আর দেখা যাচ্ছে না। এতে ধারণা করা হচ্ছে, বিজিবির কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ গতকাল দিবাগত রাতে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, পুশইন এবং যেকোনো অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করতে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।
গত ৫ জুন সাপাহার উপজেলার কলমুডাঙ্গা সীমান্ত, ৮ জুন পোরশা উপজেলার নিতপুর সীমান্ত এবং সর্বশেষ ২৪ জুন সাপাহার উপজেলা আদাতলা সীমান্ত দিয়ে অর্ধশতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। কিন্তু বিজিবির কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের তিনটি পুশইন মিশন ব্যর্থ হয়।
৫৪ দিন আগে
নওগাঁ সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় শূন্যরেখায় অবস্থান
নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা (পুশ ইন) করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে এসব ব্যক্তি বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে নওগাঁ-১৬ বিজিবি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ (বুধবার) ভোর ৪টার দিকে নওগাঁর সাপাহার আদাতলা সীমান্ত চৌকি (বিওপি) এলাকার সীমান্ত পিলার ২৪৪/এমপি দিয়ে ভারতীয় ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৯ জন নারী-পুরুষ-শিশুকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা করেন। এদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ৩টি শিশু রয়েছে। সংবাদ পাওয়ার পর সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্ত চৌকির (বিওপি) বিজিবির টহলদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। বর্তমানে ওই ৯ ব্যক্তি ভারত ও বাংলাদেশের দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, খবর পাওয়ার পর ওই এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। ওই ৯ জনসহ বাংলাদেশে কাউকে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে পাঠানোর (পুশ ব্যাক) কার্যক্রম চলছে।
৫৫ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি তারা।
শনিবার (২০ জুন) সকালে এ তথ্য জানান বিজিবির মহানন্দা ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি জানান, গতকাল (শুক্রবার) গভীর রাতে বিএসএফ অবৈধভাবে ২০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবির চৌকা বিওপির সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দিলে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অনুপ্রবেশকারী ২০ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং চারজন শিশু ছিল। তারা শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে অবস্থান করতে থাকে।
বিজিবি সূত্র জানায়, এ ঘটনায় আজ (শনিবার) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আলোচনার পর বিএসএফ ওই ২০ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়।
তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পুশইন ও অবৈধ প্রবেশ প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
৫৯ দিন আগে
চার দিন শূন্যরেখায় অবস্থানের পর ১২ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে পুশইনের শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে চার দিন পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলার-সংলগ্ন এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের পর তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির উপঅধিনায়ক নুরুল হুদার নেতৃত্বে ৬ থেকে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। অপরদিকে, বিএসএফের রানীনগর কোম্পানি কমান্ডার এসি সুনীল কুমার যাদবের নেতৃত্বে সমসংখ্যক সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি জানায়, গত শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের শনাক্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বিজিবি। বিষয়টি নিয়ে সেদিন বিকেলে পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত হলেও বিএসএফের অসহযোগিতার কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি।
পরদিন শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস পিলার-সংলগ্ন এলাকায় দুই বাহিনীর মধ্যে আরেকটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ওই বৈঠকেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হয়।
বৈঠকে বিএসএফ দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে। তারা শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে বিজিবি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ বিষয়টি তদন্ত করে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সময় চায়।
পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে উজির আলী (৫০), তার স্ত্রী জয়নুর বেগম (৩৫), ছেলে শিহাদ (১৭), ইনজামুল (৮) ও আড়াই বছরের শিশু সামাদসহ কয়েকজনের পরিচয় জানা গেছে। এছাড়া সেখানে রফিকুল গাজীর পরিবারের তিন সদস্য এবং আফরোজা খাতুনের পরিবারের চার সদস্য ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান, মশার উপদ্রব, প্রায় দুই সপ্তাহ গোসলের সুযোগ না পাওয়া এবং তীব্র গরমে পাটখেতে মানবেতর জীবনযাপনের কারণে ১২ জনই অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, ‘বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ১২ জনকে বিএসএফ নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা নেওয়া হবে।’
৬৪ দিন আগে
লালমনিরহাট সীমান্তবাসীর হুঁশিয়ারিতে পিছু হটল বিএসএফ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল গ্রামবাসী ও বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (১২ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৬/৮এস পিলার-সংলগ্ন এলাকায় পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ।
বিজিবি লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের মিডিয়া সেল জানায়, উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৬/৮এস পিলার-সংলগ্ন এলাকায় রাত ৯টার দিকে ১০-১২ জনকে বহন করা একটি গাড়ি সীমান্তে দাঁড়ায়। ওই গাড়িতে থাকা লোকদের সীমান্তের কাটাতারের বেড়ার গেট পার করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেন বিএসএফ ৭৮ ব্যাটালিয়নের পাগলীমারী ক্যাম্পের সদস্যরা।
বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিক হুঁশিয়ারি দিয়ে পুশইন রোধে মাইকিং করে গ্রামবাসী ও বিজিবি। কিছুক্ষণ এসব লোকদের শুন্যরেখায় বসিয়ে রাখলে গ্রামবাসী ও বিজিবির কঠোর প্রতিরোধের মুখে পুনরায় তাদের ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় বিএসএফ। এ ঘটনায় সীমান্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুশইন রোধে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বিজিবি।
বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, যেকোনো ধরনের পুশইন রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে সকল ধরনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে বিজিবিকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে গ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
৬৭ দিন আগে
৪৮ ঘণ্টা পর ঠাকুরগাঁও সীমান্ত থেকে ১১ জনকে সরিয়ে নিল বিএসএফ
প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুসহ ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ। দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটানোর পর গতকাল (রবিবার) গভীর রাতে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সোমবার (৮ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দিবাগত রাত ৩টার পর বিএসএফ শূন্যরেখায় অবস্থানরত ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী এবং ৪ জন শিশুসহ মোট ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। এর ফলে বর্তমানে তারা আর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছেন না।
এর আগে, বিএসএফ গত শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে ওই ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সতর্ক নজরদারির কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেয় এবং সেখানেই টানা প্রায় ৪৮ ঘণ্টা কাটায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শূন্যরেখায় অবস্থানকালে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। প্রচণ্ড গরম, খোলা আকাশ, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের মধ্যে দিন-রাত কাটাতে হয় তাদের। বিশেষ করে তাদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং কয়েকজন শিশু থাকায় মানবিক সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে। শিশুদের কান্না, তীব্র রোদ ও রাতের অনিশ্চয়তা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
৭১ দিন আগে