বিএসএফ
সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলি, বিজিবির পাল্টা ফায়ার
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলির জবাবে পাল্টা গুলিবর্ষণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত ও স্থিতিশীল রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার (১৮ মে) বিকেলে বিজিবির সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ সোনারহাট সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ গুলি ছোড়ে। এর পরপরই বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। বিজিবির দৃঢ় ও পেশাদার পদক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো উসকানিমূলক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বাহিনীটি।
এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম এবং সীমান্ত এলাকায় অননুমোদিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক ও সচেতন করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
১১ দিন আগে
লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে ঝরল আরও এক বাংলাদেশির প্রাণ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফের গুলিতে মো. খাদেমুল (২৫) নামে আরও এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোরে উপজেলার বনচৌকি বিওপির আমঝোল সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খাদেমুল ওই গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৫/৬ এস নম্বর পিলার এলাকা হয়ে কয়েকজন বাংলাদেশি চোরাকারবারির সঙ্গে ভারতের ১৫০ গজ ভেতরে অনুপ্রবেশ করেন খাদেমুল হক। এ সময় বিএসএফের ৭৮ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে খাদেমুলের মুখ, বুক ও মাথায় আঘাত লাগে।
সহযোগীদের সহায়তায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে আসেন খাদেমুল। পরে স্থানীয় ও তার সহযোগীরা তাকে উদ্ধার করে রংপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
লালমনিরহাট বিজিবির ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গুলির কথা প্রাথমিকভাবে বিএসএফ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে। বৈঠকে বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
১৬ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— গোপীনাথপুর ইউনিয়নেন ধজনগরের বাতেনবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মোরছালিন। তিনি গোপীনাথপুর শাহআলম ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অপরজন মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেন (৪০)।
মরদেহ দুটি আগরতলার বিজিবি হাসপাতালে রয়েছে বলে নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
একই ঘটনায় বাংলাদেশি একাধিক তরুণ আহত হন। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চিকিৎসার জন্য তাদের কুমিল্লায় নেওয়া হয়েছে।
নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন চোরাকারবারী রাতে মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে নিয়ে যায়। একই সময়ে নবীর হোসেনসহ কয়েকজন ওই সীমান্ত এলাকায় যান। এ সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি করলে ঘটনাস্থলে মোরছালিন নিহত হন। পরে তার মরদেহ ভারতে নিয়ে যায় বিএসএফ। আহত নবীর হোসেনকেও ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সবুর জানান, সীমান্তে গুলিতে দুজন মারা যাওয়ার খবর পেয়েছেন। এর মধ্যে নবীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।
নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন জানান, তার বাবা সন্ধ্যা থেকেই বাড়িতে ছিলেন না। তিনি সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পর বিএসএফ গুলি করে তাকে নিয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
ধজনগর গ্রামের রিপন পাঠান বলেন, ‘আমি যতটকু জানি, রাতে ২০-২৫ জনের একটি দল কাটাতারের সামনে যায়। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে বিএসএফ গুলি করলে মোরছালিন গুলিবিদ্ধ হয়। বাকিরা আহত হয়ে পালিয়ে যায়। মোরছালিন এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন বলে তার বড় ভাই আমাকে জানিয়েছেন।'
এ বিষয়ে চণ্ডিদ্বার বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. মুইনুদ্দিন জানান, আমরা একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম জানান, বিএসএফের গুলিতে একজন মারা যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
২১ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে আটক ৯ বাংলাদেশিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর বিএসএফের
সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ৯ জন বাংলাদেশিকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে আটকদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রবিবার দুপুরে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষে বিকেলে তাদের গোয়াইনঘাট থানায় সোপর্দ করে বিজিবি।
আটকরা হলেন— বাগেরহাট জেলার কালিকা বাড়ি গ্রামের হাসান গাজি ও তার স্ত্রী আয়শা খাতুন, ছোট বাদুরা গ্রামের শুকুর আলী, হাসিনা আক্তার, কিশোরগঞ্জ জেলার ভেইয়ার কোন গ্রামের রোজিনা আক্তার, মুন্সিগঞ্জ জেলার ভাগ্যকুল গ্রামের পারুল রাজবংশী, সিলেটের জৈন্তাপুর থানার ডিবির হাওর গ্রামের নাহিদ আহমেদ নাঈম, হেলাল আহমেদ ও শিশু আবীর গাজি (১৫ মাস)।
বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টার দিকে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে তাদের আটক করে বিএসএফের ৪ ব্যাটালিয়নের মুক্তারপুর ক্যাম্পের টহলদল। পরদিন ৫ এপ্রিল দুপুরে তামাবিল সীমান্তের ১২৭৫ নম্বর পিলার এলাকায় বিএসএফের মুক্তারপুর ক্যাম্প ও বিজিবির তামাবিল ক্যাম্পের সদস্যদের উপস্থিতিতে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে ৪ জন নারী, ৪ জন পুরুষ ও এক শিশুকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বিকেলে তাদের গোয়াইনঘাট থানায় সোপর্দ করে বিজিবি।
এ ঘটনায় তামাবিল বিওপি ক্যাম্পের হাবিলদার হুমায়ুন কবীর বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় পাসপোর্ট আইনে একটি মামলা করেছেন।
গোয়াইনঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবীর হোসেন বলেন, ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে বিএসএফ নারী ও শিশুসহ আটক ৯ জনকে বিএসএফ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে রবিবার বিকেলে বিজিবি তাদের থানায় সোপর্দ করে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে আজ (সোমবার) সকালে সিলেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
৫৩ দিন আগে
লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক আহত
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মিজানুর রহমান মিজান (২৪) নামে এক বাংলাদেশি কৃষক গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের রহমতপুর সীমান্তের গাডিয়ার ভিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মিজান ওই গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে তিনি সীমান্তের পাশে ধানখেতে ঘাস কাটতে যান। এ সময় ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার সরকারপাড়া ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট (গুলি) ছোড়েন। একটি গুলি মিজানের শরীরে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ শুনে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রংপুর মেডিকেলে কলেজ (রমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মিজান নামে একজন কৃষক আহত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তবে এখনও এ ঘটনায় বিজিবির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৫৩ দিন আগে
বিএসএফের হাতে আটকের ১১ মাস পর লাশ হয়ে দেশে ফিরলেন ঠাকুরগাঁওয়ের আজিজুর
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার দিনমজুর আজিজুর রহমানের জীবনের করুণ পরিণতি নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো জেলার মানুষকে। সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফের হাতে আটক হওয়ার প্রায় ১১ মাস পর অবশেষে লাশ হয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। সকালেই মরদেহ হস্তান্তরের কথা থাকলেও স্বজনরা বিকেল ৪টার দিকে মরদেহটি গ্রহণ করেন।
আজিজুরের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার শাহানাবাদ গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারি ও শোকের মাতমে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এ সময় তার স্ত্রী তাসকারা বারবার চিৎকার করে বলেন, ‘বিএসএফের নির্যাতনেই আমার স্বামী মারা গেছে। ঘাস কাটতে যাওয়া কোনো অন্যায় হতে পারে না।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সারোয়ার মোহাম্মদ শাহরিয়ার খানের সই করা ২ এপ্রিলের এক আদেশে জানানো হয়, গত ২২ মার্চ ভারতে মৃত্যুবরণকারী আজিজুর রহমানের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনতে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে মরদেহটি প্রত্যাবর্তন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ মে দুপুরে রাণীশংকৈল উপজেলার শাহানাবাদ গ্রামের দিনমজুর আজিজুর রহমানসহ চারজন সীমান্ত এলাকায় ঘাস কাটতে যান। তারা সীমান্ত পিলার ৩৭৩/১-এসের কাছে পৌঁছালে ভারতের ১৮৪ আমবাড়ী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন। এ সময় তিনজন পালিয়ে এলেও আজিজুর রহমান ধরা পড়েন।
আজিজুরের স্ত্রী তাসকারা বেগম অভিযোগ করেন, আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে গিয়ে বিএসএফ সদস্যরা পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েছে। নির্যাতনের কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ ১১ মাস ভারতে বন্দি অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২২ মার্চ ভারতের ইসলামপুরের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ভারতে অবস্থানরত আত্মীয়দের মাধ্যমেই আমরা এই মর্মান্তিক সংবাদ জানতে পারি।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজীর আহমেদ জানান, দেশে আনার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা আরও কঠোর অবস্থানে যাব। একইসঙ্গে নিজেদের নিরাপদ রাখতে সীমান্তের মানুষদের কাঁটাতারের বেড়া ও নো ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় না যাওয়ার জন্য আমরা নিষেধ করেছেন তিনি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়ার পর রাতেই তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। মরদেহ নষ্ট হতে শুরু করায় তা আর রাখা সম্ভব হয়নি বলেই দ্রুত দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সীমান্তের মানুষের মনে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সীমান্তে যে কোনো ঘটনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও লাশ হয়ে ফিরে আসার ঘটনা মানতে নারাজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তের বাসিন্দারা।
৫৫ দিন আগে
কুড়িগ্রামের সীমান্তে আটকের ৭ ঘণ্টা পর দুই ভারতীয়কে প্রত্যর্পণ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক দুই ভারতীয় যুবককে ৭ ঘণ্টা পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষাফেরুষা সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৩৬-এর পাশে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ১৫ মিনিটব্যাপী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আটক দুই যুবককে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটক দুই যুবক হলেন— ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার নট্টবাড়ী এলাকার আখিরুল খন্দকার (২২) এবং একই জেলার সাহেবগঞ্জ থানার কিশামত করলা এলাকার ফারুক মিয়া (২২)।
এর আগে, গতকাল বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বালারহাট সীমান্তে আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৩৫-এর সাব পিলার ৩এস থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় তাদের আটক করে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন বালারহাট ক্যাম্পের টহলদল। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নায়েক সুবেদার লিটন মিয়া। আটক হওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমামের নির্দেশে কোম্পানি পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন শিমুলবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আব্দুর রহীম এবং বালারহাট ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার লিটন মিয়া। অপরদিকে ভারতীয় ৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের করলা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার (ইন্সপেক্টর) সুনীল কুমার বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন।
এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, আটক দুই ভারতীয় নাগরিককে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল কার্যক্রম জোরদার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
৯০ দিন আগে
ঝিনাইদহ সীমান্তে ১০ বছরে ঝরেছে ২৯ বাংলাদেশির প্রাণ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে আগ্রাসী হয়ে উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ। বাংলা ভাষাভাষীদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি নির্বিচারে সীমান্তের মানুষদের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যা করছে তারা।
গত ১০ বছরে বিএসএফের দ্বারা হত্যার এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। ভারতীয় এই বাহিনী গুলি করে ও অপহরণের পর পিটিয়ে অন্তত ২৯ বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে বিএসএফের হাতে কয়েকশ মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবি সুত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার সঙ্গে ভারতের ৭২ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া ছাড়াই উন্মুক্ত রয়েছে প্রায় ১০ কিলোমিটার। বাংলাদেশ অংশে মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর, মান্দারবাড়ীয়া, শ্যামকুড়, নেপা, কাজীরবেড় ও স্বরূপপুর ইউনিয়ন রয়েছে ভারত সীমান্তঘেঁষা।
বিজিবি থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, মহেশপুরের কাজীরবেড় সীমান্তের বিপরীতে হাবাসপুর ও সুন্দরপুর, বাঘাডাঙ্গা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের বর্ণবাড়ীয়া, শীলবাড়ীয়া, গৌড়া, মাইলবাড়ীয়া সীমান্তের বিপরীতে পাখিউড়া, স্বরুপপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের নোনাগঞ্জ ও বেণীপুর, খোসালপুরের বিপরীতে রামনগর ও কুমারী এবং শ্যামকুঁড় সীমান্তের বিপরীতে ভারতের ছুটিপুর, ফতেপুর ও ভজনঘাট সীমান্তের বিএসএফ ক্যাম্প রয়েছে।
ভারতের সীমান্তে দেশটির ১৪টি বিএসএফ ক্যাম্প গত ১০ বছরে ২৯ জন বাংলাদেশিকে গুলি করে ও পিটিয়ে হত্যা করে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। নিহতদের মধ্যে ২৫ জনের নাম ঠিকানা পাওয়া গেছে।
সর্বশেষ গত ২৯ নভেম্বর ভারতের টুঙ্গি বিএসএফ সদস্যরা শহিদুল নামে এক বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে। ওই ঘটনার এক সপ্তাহ পর গত ৬ ডিসেম্বর শহিদুলের লাশ ফেরৎ দেয় বিএসএফ। এর আগে, গত ৩ নভেম্বর মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তে বাউলি গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে আব্দুর রহিমকে ভারতের নদীয়া জেলার ধানতলী থানার হাবাসপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যদের গুলি চালিয়ে হত্যা করেন।
বিজিবির তথ্য অনুসারে, গত ১০ বছরে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে যারা নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে বাঘাডাঙ্গা গ্রামের আলম মিয়া, ওয়াসিম আলী, আব্দুল মান্নান ও আত্তাব আলী; তিন সহোদর ফজলুর রহমান, আবু সালেহ ও লিপু হোসেন; সলেমানপুর গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন ও মিজানুর রহমান; খোসালপুর গ্রামের দুই ভাই সোহেল ও রাশিদুল; মাটিলা গ্রামের আশা মিয়া, হারুন মিয়া ও জসিম উদ্দীন; শ্যামকুড় গ্রামের নাসির উদ্দীন, লেবুতলা গ্রামের লান্টু মিয়া, আমিরুল ইসলাম, আন্টু মিয়া, জলুলী গ্রামের খয়জেল হোসেন, গোপালপুর গ্রামের ওবাইদুর রহমান, যাদবপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম, বাঁকোশপোতা গ্রামের হাসান আলী, বাগাডাঙ্গা জিনজিরাপাড়ার আব্দুল খালেক মিয়া, কাজীরবেড় গ্রামের আশাদুল ইসলাম ও মাইলবাড়িয়া গ্রামের শফিউদ্দিন।
বিজিবির একটি সূত্র দাবি করেছে, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ৫৮ বিজিবি ক্যাম্প স্থাপনের পরে সীমান্ত হত্যা কিছুটা কমেছে। আগে দুরত্বের কারণে সীমান্তে নজরদারি ব্যবস্থা ছিল অনেকটা ঢিলেঢালা। এখন নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তে সর্তক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
সীমান্তের একটি সুত্র জানায়, বাংলাদেশিরা অবৈধ পথে ভারতে প্রবেশ করে মাদক, গরু, অস্ত্র ও সোনা পাচার করতে গিয়ে বিএসএফের গুলির মুখে পড়ে। অনেক সময় আবার বাংলাদেশিদের হাতে বিএসএফ সদস্যদের জখম হওয়ার খবরও পাওয়া যায়।
এসব বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল আলম জানিয়েছেন, ভারতীয় বাহিনীর অনমনীয়তার কারণেই সীমান্ত হত্যা বাড়ছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হলেই কেবল সীমান্ত হত্যা রোধ করা সম্ভব।
কাজীরবেড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়ানবী জানান, সীমান্তের ভারতীয় অংশে প্রতি কিলোমিটারে একটি করে বিএসএফ ক্যাম্প রয়েছে। অথচ সেখানে বাংলাদেশের আছে প্রতি ৪ কিলোমিটারে একটি। অনেকসময় বাংলাদেশিরা ভুল করে সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করলেই বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রফিকুল আলম গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, সীমান্ত হত্যা ও সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি বরাবরই শক্ত অবস্থানে আছে। তারা নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও সীমান্ত এলাকার মাননুষকে সচেতন করে সীমান্ত হত্যা বহুলাংশে কমাতে সক্ষম হয়েছে। এতে করে আগের চেয়ে এখন সীমান্তের পরিস্থিতি অনেক ভালো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
১৪০ দিন আগে
চাঁপাই সীমান্তে বিএসএফের নির্যাতনে এক বাংলাদেশির ‘মৃত্যু’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের নির্যাতনে রবিউল ইসলাম (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সদর উপজেলার জহুরপুর টেক সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি রবিউলের মৃত্যুর বিষয়ে জানালেও কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
নিহত রবিউল ইসলাম সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সাতরশিয়া গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে।
রবিউলের পরিবারের দাবি, শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন রবিউল। পরে তারা জানতে পারেন, অবৈধভাবে ভারতে গেলে বিএসএফের হাতে তিনি ধরা পড়েন এবং তাদের নির্যাতনে মারা যান।
৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, রবিবার বিকেলে রবিউলের বাবা ঘটনাটি বিজিবিকে জানান। এরপর সন্ধ্যায় এ ব্যাপারে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিএসএফ জানায়, রবিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রবিউলসহ ৪-৫ জন ভারতে অনুপ্রবেশ করে। প্রায় দুই কিলোমিটার ভারতের ভেতরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলে অন্যরা পালিয়ে গেলেও রবিউল ইসলামকে ধরে ক্যাম্পে নিয়ে যান বিএসএফ সদস্যরা। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
কাজী মুস্তাফিজুর রহমান আরও জানান, ভারতে রবিউলের মরদেহ ময়নাতদন্ত হবে, এরপর তা ফেরত দেবে বলে জানিয়েছে বিএসএফ। তবে কীভাবে রবিউলের মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে জানা যাবে বলে জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।
১৪৫ দিন আগে
পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফের গুলিতে সবুজ মিয়া (২৯) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের শমসেরনগর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সবুজ মিয়া ওই ইউনিয়নের পচাভান্ডার গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে তিস্তা ব্যাটালিয়ন-৬১ বিজিবির অধীনস্ত শমশেরনগর সীমান্তের মেইন পিলার ৮৬৪/৫-এর বিপরীতে ভারতের ভেতরে কেনাকাটা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
শমসেরনগর বিওপি ক্যাম্প কমান্ডার কামাল উদ্দিন একজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানান, বিএসএফকে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি পাঠানো করা হয়েছে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্তে এমন একটি ঘটনার খবর পেয়েছি। তবে বিজিবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। শুনেছি এ ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
১৭৭ দিন আগে