বিএসএফ
লালমনিরহাটে ১২ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা বিএসএফের, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী বামনদল সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) বাধায় তারা ব্যর্থ হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বুড়িমারী বামনদল সীমান্তের ৮৩৮/১ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে এ পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, দুই শিশু, দুই নারী ও আট পুরুষকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে বিজিবি অবস্থান নিলে তাদের এ চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ১২ জন বর্তমানে সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ গজ ভারতের ভেতরে অবস্থান করছে। তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
পতাকা বৈঠক শেষে ১৫ ঘণ্টা পর দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত দিল বিএসএফ
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক ব্রাহ্মণপাড়া থানার দুই পুলিশ সদস্যকে প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া-নারায়ণপুর সীমান্তের ২০৫৭ নম্বর প্রধান পিলার-সংলগ্ন এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর করা হয়।
হস্তান্তর করা দুই পুলিশ সদস্য হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান।
হস্তান্তরের সময় সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) শশীদল বিওপির কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, দেবিদ্বার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শাহিন, ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন এবং শশীদল বিওপির কমান্ডার সুবেদার মোহাম্মদ তাকবীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি এলাকার ২০৫৯ নম্বর সীমান্ত পিলার-সংলগ্ন স্থানে মাদক উদ্ধার অভিযানে যায় পুলিশের একটি দল। এ সময় এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন।
পরে স্থানীয় ভারতীয় বাসিন্দারা তাকে আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেন। সহকর্মীকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে এএসআই ইমরান হোসেনকেও আটক করা হয়। এরপর থেকে দুই পুলিশ সদস্য বিএসএফের হেফাজতে ছিলেন।
তাদের ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলে। অবশেষে আজ শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় আটকের পর শুক্রবার দুপুর দেড়টায় হস্তান্তর পর্যন্ত প্রায় ১৫ ঘণ্টা বিএসএফের হেফাজতে ছিলেন ওই দুই পুলিশ সদস্য।
২ দিন আগে
কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
কুষ্টিয়া সীমান্ত দিয়ে চারজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) ঠোটারপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিএসএফের ১৪৬ ব্যাটালিয়নের উদয় কিষাণ ক্যাম্পের সদস্যরা ভারতীয় দুই পুরুষ ও দুই নারীকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালান। সীমান্তের ১৫৩/৯-এস পিলার থেকে আনুমানিক ৫০ গজ ভারতের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় বিজিবির সতর্ক অবস্থান, তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও কার্যকর তৎপরতায় বিএসএফের ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে সকাল ৮টার দিকে বিএসএফ চারজনকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।
৭ দিন আগে
পঞ্চগড়ে ৭ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা বিএসএফের, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ
পঞ্চগড় জেলার মালকাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে সাতজনকে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত তাদের ভারতে ফিরে যেতে হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের মালকাডাঙ্গা সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে ফেরত যান তারা। পুশ-ইনের চেষ্টার শিকার সাতজনের মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন।
নীলফামারী (বিজিবি-৫৬) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে মালকাডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় সাতজনকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখা যায়। এ সময় সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যরা তাদের বাধা দেন। পরে তারা সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান নেন।
দিনভর সীমান্ত এলাকায় অবস্থানের পর রাতে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে ওই সাতজন একই সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ পারাপার, পুশ-ইনসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
১১ দিন আগে
জয়পুরহাটে বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ
জয়পুরহাট সীমান্ত দিয়ে তিন যুবককে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও গ্রামবাসীদের প্রতিরোধের মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে জয়পুরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের কড়িয়া ক্যাম্প ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন সকালে সীমান্তের ২৭৬ নম্বর মূল সীমান্ত পিলারের কাছে বিএসএফ সদস্যরা ওই তিন যুবককে এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিষয়টি বুঝতে পেরে সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা দ্রুত টহল জোরদার করেন এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
এ ঘটনার পরপরই কড়িয়া ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেন পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা। ২৭৬ নম্বর সীমান্ত সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে সড়কপথে বিজিবি ও গ্রামবাসী সতর্ক অবস্থান নিলে বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা ভেস্তে যায়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে বিএসএফ সদস্যরা ওই তিন যুবককে নিজেদের সীমানার ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যান।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেলা ১১টায় বিএসএফ-১২৩ ব্যাটালিয়নের দুর্গাপুর ক্যাম্প ও বিজিবি কড়িয়া ক্যাম্পের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে এক ঘণ্টার এ বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেলেনি।
বিজিবির কড়িয়া বিওপির কমান্ডার মহাতাব উদ্দিন জানান, বিএসএফ অন্যায়ভাবে তিন যুবককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে তারা ফেরত যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এ ঘটনায় দিন শেষে আবারও পতাকা বৈঠকের কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিওপি কমান্ডার।
এদিকে সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা টহল জোরদার করে অত্যন্ত সতর্কবস্থায় রয়েছেন।
১২ দিন আগে
ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ, বিজিবির মামলা
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নলজুড়ি সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মো. বাবলা লিটন (২৮) নামের এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ঘটনাটি জানাজানি হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) তামাবিল ক্যাম্পের কমান্ডার মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা এ ঘটনায় বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করেন।
বাবলা লিটনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলার এজাহারে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে বিএসএফ গুলি করলে তা লিটনের হাতে লাগে।
বাবলা লিটন নলজুড়ি এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার সময় তার সঙ্গে আরও সাত থেকে আটজন ছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিজিবির মামলায় তাদের বিরুদ্ধে সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা ও বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে সীমান্তের ১২৭৮/৪ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে বাবলা লিটনসহ সাত থেকে আটজন ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন। তখন তারা বিএসএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়লে বিএসএফ সদস্যরা চারটি গুলি ছোড়েন। এতে বাবলা লিটন গুলিবিদ্ধ হন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও বাবলা লিটনসহ অন্যরা বিএসএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করেন। পরে খবর পেয়ে সিলেট বিজিবির তামাবিল ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের লক্ষ্য করেও ইট-পাথর ছোড়া হয়। এতে বিজিবির কয়েকজন সদস্য সামান্য আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা পাঁচটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন এবং অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হলে সতর্কতামূলকভাবে চার থেকে পাঁচটি গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
২৪ দিন আগে
সীমান্তের ওপারে বিএসএফের গুলি: আসাদুলের মরদেহ দেশে, গুলিবিদ্ধ দুজন ভারতের কারাগারে
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তের ওপারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হকের মরদেহ দেশে ফিরেছে। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে বেঁচে যাওয়া আরও দুই বাংলাদেশি মোস্তাকিম ও শ্রী উদাকে ভারতে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আসাদুল হক (৩৮) পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে। আহত মোস্তাকিম একই উপজেলার উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে এবং শ্রী উদা নারায়ণের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোররাতে কয়েকজন বাংলাদেশি যুবক চান্দেরহাট বিওপির আওতাধীন সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভারতের উত্তর দিনাজপুরের ৬৩ নম্বর চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
এতে আসাদুল, মোস্তাকিম ও শ্রী উদা গুলিবিদ্ধ হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদুলকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
পরে ভারতীয় পুলিশ আসাদুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। অন্যদিকে চিকিৎসা দেওয়ার পর মোস্তাকিম ও শ্রী উদাকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ।
তাদের বিরুদ্ধে ভারতের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর ২১ ধারাসহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কয়েকটি ধারায় মামলা করা হয়। পরে তাদের রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
আসাদুলের মরদেহ দেশে ফেরাতে বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চান্দেরহাট সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে দিনাজপুর ৪২ বিজিবি এবং ভারতের পক্ষে বিএসএফের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে আসাদুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার রাত ১০টার দিকে বিএসএফ আসাদুলের মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
আসাদুলের স্বজনেরা বলেন, আসাদুল আর কোনোদিন তাদের মাঝে ফিরবেন না—এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। তারা ভেবেছিলেন, আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে হয়তো তিনি বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার মরদেহ ফিরেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
মোস্তাকিমের পরিবারের সদস্যরা বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে ভারতীয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে জানতে পেরে তারা আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। মোস্তাকিম বেঁচে আছেন, এটিই এখন তাদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
শ্রী উদার পরিবারের সদস্যরাও তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। তারা বলেন, গুলিতে আহত হওয়ার পর শ্রী উদা বেঁচে আছেন, কিন্তু এখন ভারতের কারাগারে। পরিবারের সঙ্গে আবার কথা বলতে পারাটাই তাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।
বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাজাহান আলী বলেন, বিএসএফের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি ওই এলাকায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর জানার পর বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হয়। পরে বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে। রোববার রাতে আসাদুলের মরদেহ দেশে ফেরত আনা হয়েছে। অন্য দুইজনকে ভারতের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে রবিবার রাত ১০টার দিকে বিএসএফ আসাদুলের মরদেহ ফেরত দিয়েছে।
৩৪ দিন আগে
পদ্মায় নৌকাডুবি, ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধারের পর নিয়ে গেছে বিএসএফ
১২ বাংলাদেশিকে নিয়ে একটি নৌকা পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা ১০ জনকে উদ্ধার করে ভারতীয় ভূখণ্ডে নিয়ে গেছে।
অন্য দুজনের মধ্যে একজন সাঁতরে বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারলে আরেকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নৌকাটি বিকেল ৫টার দিকে বাখেরআলী ঘাট থেকে জোহুরপুরটেকের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। যাত্রা শুরুর প্রায় ২০ মিনিট পর প্রবল বাতাস ও নদীর তীব্র স্রোতের কারণে নৌকাটি উল্টে যায়। পরে খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা নদী থেকে ১০ জনকে উদ্ধার করে ভারতীয় ভূখণ্ডে নিয়ে যান।
অন্যদিকে ওয়াসিম (২৫) নামের এক যাত্রী সাঁতরে বাংলাদেশে তীরে উঠতে পারলেও মোস্তাফা নামের আরেক ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তবে উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে যায়। নৌকাডুবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ।
এদিকে ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধারের বিষয়টি বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) জানিয়েছে।
৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া নিখোঁজ মোস্তফার সন্ধানে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
৩৬ দিন আগে
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত বিজিবির
সাতক্ষীরা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ১০ থেকে ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিন্দী নদী সীমান্তে চণ্ড বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার সুযোগে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি জানায়, নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ খুরমী বিওপি থেকে দক্ষিণ দিকে আনুমানিক সাড়ে ৩ কিলোমিটার দূরে কালিন্দী নদীর মধ্যস্থ চর এলাকায় ছোট বাঁশঝাড়িয়া মিনি ফরেস্ট নামক স্থানে ভারতের ৭৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর সাহেবখালী বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা একটি কান্ট্রি বোট ও একটি স্পিডবোটযোগে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে।
বিষয়টি খুরমী বিওপির টহলদলের নজরে এলে প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে স্পিডবোটযোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন।
বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হয়। পরে সকাল ১১টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা ১০-১২ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ বলেন, ‘দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ১৭ বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, প্রচলিত আইন এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থী যেকোনো পুশ-ইনের অপচেষ্টা ১৭ বিজিবি কর্তৃক কঠোরভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুশইন প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম বহুগুণে জোরদার করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৭ বিজিবি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’
৩৭ দিন আগে
চাঁপাই সীমান্তে ৬ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রামদাসপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ৬ জন পুরুষকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে সেই চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে বিজিবির নওগাঁ ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ রামদাসপুর সীমান্তের ২১৬ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের শমসের নগর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৬ জন পুরুষকে পুশ ইনের চেষ্টা করেন। এ সময় বিজিবির রামদাসপুর বিওপির টহল দল বিষয়টি টের পেয়ে তা মোকাবিলা করে। বর্তমানে ওই ৬ জন সীমান্তের শূন্য রেখায় ভারতীয় অংশে অবস্থানরত অবস্থায় রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, পুশ ইনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্তে কড়া নজরদারি ও নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে।
৫২ দিন আগে