শেবাচিম
শেবাচিমে ভুল চিকিৎসায় দুই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নার্সদের দায়িত্ব অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসায় দুই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (১৫ মার্চ) সকালে হাসপাতালের চতুর্থ তলার নাক-কান-গলা বিভাগের মহিলা ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে চাকুরি বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন হাসপাতাল প্রশাসন।
নিহতরা হলেন— বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার সারসী গ্রামের মৃত বাবুল হাওলাদারের স্ত্রী হেলেনা বেগম (৪৮) এবং পটুয়াখালীর কলাপাড়া ইউনিয়নের মহিপুর থানাধীন ডাবলুগঞ্জ ইউনিয়নের মন্নান তালুকদারের স্ত্রী শেফালি বেগম (৬০) ।
হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখা ও নাক-কান গলা ওয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভর্তি হন হেলেনা বেগম এবং ৮ মার্চ ভর্তি হন শেফালি বেগম। এর মধ্যে হেলনা বেগম থাইরয়েডে আক্রান্ত ছিলেন এবং শেফালি বেগম মুখের ভেতর টিউমার অপসারণ করার জন্য ভর্তি হন।
নিহতদের স্বজনরা জানান, আজ (রবিবার) সকালে তাদের উভয়ের শরীরে অস্ত্রোপচারের জন্য কিছু ইনজেকশন দেন নার্সরা। এরপরই তাদের শরীরে কিছু সমস্যা দেখা দেয় এবং কিছু সময় বাদে দুজনেরই মৃত্যু হয়।
হেলেনার ছেলে ইব্রাহিম বলেন, নার্স ইনজেকশন দেওয়ার পরই আমার সুস্থ মা অসুস্থ হয়ে যান এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বিষয়টি আমরা হাসপাতাল প্রশাসনকে জানিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো মামলায় যাচ্ছি না। একে তো আমরা মা হারিয়েছি, তার ওপর মামলা দিয়ে আর হয়রান হতে চাই না।’
অপরদিকে, শেফালি বেগমের মেয়ে খাদিজা বেগম বলেন, আমার মা সুস্থ ছিলেন, কিন্তু সকালে নার্স এসে কয়েকটা ইনজেকশন দেওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি নার্সদের জানানো হলেও তারা কোনো ভ্রূক্ষেপ করেননি, সুস্থ করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেননি। চোখের সামনে সুস্থ মা অসুস্থ হয়ে মুহূর্তেই মারা গেলেন, আর মায়ের মৃত্যুর পরে নার্সদের টনক নড়ে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এদিকে উভয়ের স্বজনরা বলছেন, হাসপাতাল পরিচালক ঘটনার পর ওয়ার্ডে যান। প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখে তিনি বিষয়টি যে নার্সদের অবহেলা তা নিশ্চিতও হয়েছেন। আমরা তার কাছেই বিচারের দায়িত্ব তুলে দিয়েছি। বিচার না হলে ভবিষ্যতে এ রকম ঘটনা অন্য রোগীর সঙ্গে ঘটবে এবং অন্য কোনো সন্তান তার মাকে অকালে হারাবে।
এ বিষয়ে ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্স হেলেন অধিকারী নিজেকে অসুস্থ দাবি করে বলেন, তিনি ইনজেকশনের কোনো ভায়েল ভাঙেননি, ভেঙেছেন মলিনা হালদার। তাই তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না, শুধু ইনজেকশন পুশ করেছেন দুজন রোগীর শরীরে। তবে মৃত ওই দুই রোগীর সঙ্গে যা ঘটেছে তা দুঃখজনক এবং তাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে বলে জানান তিনি।
মলিনা হালদার বলেন, নিয়ম মেনে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার আগে যেসব ইনজেকশন দেওয়ার কথা, তাই দিয়েছি। পরে রোগী দুজনের অবস্থা খারাপ হলে কর্তব্যরত চিকিৎসককে মোবাইলে বিষয়টি জানান বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ওই সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক যে ধরনের ইনজেকশন দিতে বলেছেন, তাই দিয়েছি। কোনো রোগী মৃত্যুবরণ করুক সেটা আমরা চাই না। গত ২৬ বছরে কোনো ভুল করিনি, এবার এমন হলো কীভাবে তা বুঝতে পারছি না।
এ বিষয়ে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সিং তত্ত্বাবধায়ক খাদিজা বেগম বলেন, সকালে হাসপাতালে এসেই বিষয়টি শুনতে পেয়েছি। কীভাবে কী হয়েছে তা এখনও সঠিকভাবে জানতে পারিনি।
কোনো রোগীর মৃত্যু কাম্য নয় জানিয়ে তিনি বলেন, একই ওয়ার্ডে দুজন রোগীর মৃত্যু অবশ্যই দায়িত্বে অবহেলা। এ ঘটনায় হাসপাতাল পরিচালক যে ব্যবস্থা নেবেন তাতে আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে এবং সার্বিক সহযোগিতাও করব।
এই বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, আজ ওই দুই রোগীরই শরীরের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। এক্ষেত্রে কিছু ওষুধ রয়েছে, যেগুলো অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগে দিতে হয় এবং কিছু ওষুধ অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর দিতে হয়। অ্যানেসথেটিক ড্রাগ দেওয়ার পরে রোগীর এমন কিছু পরিবর্তন ঘটে যা মেশিনের মাধ্যমে কাজ করাতে হয়, কিন্তু ওই ওষুধ সেবিকারা অপারেশন থিয়েটারে না নিয়ে আগে ওয়ার্ডে বসে দিয়েছেন। ফলে কিছু সময় পরে রোগীরা মৃত্যুবরণ করেন। এটি অবশ্যই পেশাদারত্বে জায়গা থেকে দায়িত্ব অবহেলা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তিনি বলেন, দায়িত্ব অবহেলা, খামখেয়ালিপনা তো অবশ্যই আছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়েছি। সেই সঙ্গে রোগীর স্বজনরা ইচ্ছে করলে মামলাও দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে স্বজনদের সহযোগিতা করা হবে। আর ঘটনাটি ভুল হোক বা যাই হোক, শক্তভাবে দেখা না হলে ভবিষ্যতে আবার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
২০ দিন আগে
শেবাচিমে চিকিৎসকের অবহেলায় বীর প্রতীকের মৃত্যুর অভিযোগ
বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট সার্জেন্ট রত্তন আলী শরিফ বীর প্রতীকের (৮২) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে হাসপাতালের পঞ্চম তলার ৫০০৩ নম্বর কক্ষে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগ থেকে কয়েকবার কর্তব্যরত চিকিৎসককে ডাকতে গেলেও চিকিৎসকরা কেবিনে গিয়ে চিকিৎসা দিতে রাজি হননি বলে অভিযোগ বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের।
শনিবার বিকেলে ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। রত্তন আলী বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন।
তার মেয়ে তানজিলা আক্তার ইমু বলেন, গত কয়েক দিন ধরে আমার বাবার ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শনিবার বিকেলে বাবাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করি। ভর্তির পর কেবিনে এসে একজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে যান। পরের দিন, অর্থাৎ গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একজন চিকিৎসক দেখে যান। এরপর গতকাল দুপুরে আমার বাবার অক্সিজেন লেভেল কমে যায়। ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ায় তিনি অচেতন হয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে আমি কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ডাকতে গেলে চিকিৎসক কেবিনে না এসে বাবাকে ওয়ার্ডে, নয়তো প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যেতে বলেন।
তিনি বলেন, তারপর বাবার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তখনও চিকিৎসককে ডাকতে গেলে সেবারও তিনি আসতে অনীহা প্রকাশ করেন। আমার বোন এক জ্যেষ্ঠ সচিবকে ফোনে ধরিয়ে দিলে তারপর কেবিনে আসেন চিকিৎসক। ততক্ষণে আমার বাবা মারা গেছেন।
রত্তন আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা দেশের জন্য যুদ্ধ করেও বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন। সরকারের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এদিকে, এ ঘটনার পরপরই শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মাহাবুবুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষে হাসপাতালের পরিচালক বরাবর প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, এ রোগীকে আমার তত্ত্বাবধানে কেবিনে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসা অবহেলার বিষয়টি আমি নিশ্চিত নই। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত করে বলা যাবে।
৯৬ দিন আগে
টানা পঞ্চম দিনের মতো ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে
স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া ও বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) চিকিৎসা সেবা আধুনিকায়নসহ ৩ দফা দাবীতে টানা পঞ্চম দিনের মতো ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
সোমবার (১১ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে এই অবরোধ শুরু হয়। এতে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
টানা ১৬ দিন ধরে চলা এই আন্দোলন কর্মসূচির আওতায় আজ পঞ্চম দিনের মতো ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করা হল। এর আগের চার দিনও বেলা সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, ৬ জেলায় যান চলাচল বন্ধ
সরেজমিনে দেখা যায়, ছাত্র জনতার ব্যানারে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন শ্লোগান দিচ্ছেলেন আন্দোলনকারীরা। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ থাকলেও তাদের কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। সড়ক বন্ধ থাকায় অবরোধস্থলের দু’দিকে যাত্রীবাহী বাসসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বরিশালের কিছু অংশসহ পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সবরকম যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বরিশাল বিমান বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম সিকদার জানান, সমস্যা সমাধানে আলোচনা চলছে। আশাকরি দ্রুত অবরোধ উঠে যাবে। এদিকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি ছাড়া আন্দোলন প্রত্যাহার হবেনা বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
২৩৬ দিন আগে
বরিশালে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া মহিউদ্দিন রনিসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
রবিবার (১০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর পাঁচজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান, রাফি, সিফাত ও সুহানের নাম জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় চলমান স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের ১৪তম দিনে বিকালে দুই গ্রুপের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব ও ধূমপান নিয়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে মহিউদ্দিন রনিও রয়েছেন। সংঘর্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নারী নেত্রীরাও জড়িত ছিলেন।
এ ঘটনার পর দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেনা সদস্যরা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এ নিয়ে ক্ষোভ রয়ে যায়।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, জনভোগান্তি
শিক্ষার্থীরা জানান, আন্দোলনের ক্ষতি ঠেকাতে রাতেই বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সমঝোতা বৈঠকেই হাতাহাতি থেকে ফের সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। এতে মহিউদ্দিন রনিসহ উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
মহিউদ্দিন রনির অভিযোগ, স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলন ভেঙে দিতে তাদের ওপর একটি পক্ষ হামলা করেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলার সাবেক আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন বলেন, ‘নথুল্লাবাদের মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএম কলেজে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। মূলত সিনিয়র-জুনিয়র বিষয় থেকেই উত্তেজনার সূত্রপাত। গুরুতর আহত পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।’
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক কেউ নেই।
আরও পড়ুন: ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, ৬ জেলায় যান চলাচল বন্ধ
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাটি বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে ঘটেছে। পুলিশ সেখানে প্রবেশের অনুমতি না থাকায় ভেতরে ঢোকেনি। তবে হাসপাতাল ও ক্যাম্পাস এলাকায় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানা যাবে বলেও তিনি জানান।
২৩৬ দিন আগে
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, ৬ জেলায় যান চলাচল বন্ধ
স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া ও বরিশাল শেরে বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের (শেবাচিম) চিকিৎসাসেবা আধুনিকায়নসহ তিন দফা দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চলছে।
বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে রবিবার (১০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই অবরোধ শুরু হয়। অবরোধরে ফলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
অবরোধ শুরুর সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্দোলনকারীদের বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরে গেলে শুরু হয় সড়ক অবরোধ।
ছাত্র-জনতার ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। টানা ১৫ দিন ধরে চলা এই আন্দোলন কর্মসূচির আওতায় আজ চতুর্থ দিনের মতো ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করা হলো।
আরও পড়ুন: ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, ৬ জেলার যান চলাচল বন্ধ
এর আগে, আরও তিন দিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন শ্লোগান দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনা সদস্য থাকলেও তারা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছেন। সড়ক বন্ধ থাকায় অবরোধস্থলের দুদিকে যাত্রীবাহী বাসসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে। এতে করে হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বরিশালের কিছু অংশসহ পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় সবরকম যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, জনভোগান্তি
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সমস্যা নিরসনে আলোচনা চলছে। আশা করি, দ্রুত অবরোধ উঠে যাবে।
এদিকে, আন্দোলনকারীদের দাবি, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি ছাড়া আন্দোলন প্রত্যাহার হবে না।
২৩৭ দিন আগে
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, ৬ জেলার যান চলাচল বন্ধ
স্বাস্থ্য খাতের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়া ও বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) চিকিৎসা সেবা আধুনিকায়নসহ ৩ দফা দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা।
বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে শনিবার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় এই অবরোধ শুরু হয়। এর ফলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
ছাত্র জনতার ব্যানারে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। টানা ১৪ দিন ধরে চলা এই আন্দোলন কর্মসূচির আওতায় আজ তৃতীয় দিনের মতো ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করা হলো। এর আগে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।
আরও পড়ুন: শেবাচিমের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি
সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন শ্লোগান দিচ্ছে আন্দোলনকারীরা। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ রয়েছে।
সড়ক বন্ধ থাকায় অবরোধস্থলের দু’দিকে যাত্রীবাহী বাসসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে। দুর্ভোগ পোহাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। রাজধানী ঢাকার সাথে বরিশালের কিছু অংশসহ পিরোজপুর বরগুনা ভোলা ঝালকাঠি পটুয়াখালী এবং পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সবরকম যানবাহন চলাচল রয়েছে বন্ধ।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সমস্যা নিরসনে আলোচনা চলছে। আশা করি দ্রুত অবরোধ উঠে যাবে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি ছাড়া আন্দোলন প্রত্যাহার হবে বলে দাবি জানিয়ে আন্দোলনকারীরা।
২৩৮ দিন আগে
শেবাচিমের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি
বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল (শেবাচিম) কলেজসহ স্বাস্থ্যখাতের নানা অনিয়ম, হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকালে ছাত্র-জনতার উদ্যোগে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্র নেতা মহিউদ্দিন রনি, সুলাইমা জান্নাত সিফা, হুসাইন আল সুহান প্রমুখ।
পরে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা মহিউদ্দিন রনি তিন দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: হাইমচরের হাসপাতালে দুদকের হানা, মিলেছে একাধিক অনিয়মের সত্যতা
সেগুলো হলো: ১. শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের সব সরকারি হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহসহ সর্বসাধারণের জন্য সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
২. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ দেশের সব হাসপাতালে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ডাক্তার রাজনীতি নিষিদ্ধ, ডিজিটাল অটোমেশন এবং স্বচ্ছ জবাবদিহিতামূলক টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে।
৩. স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনকে জনগণের ভোগান্তির কথা শুনে তদন্ত সাপেক্ষে পুনরায় সুপারিশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
২৪৯ দিন আগে
শাটডাউনের তৃতীয় দিনে অচল শেবাচিম ক্যাম্পাস
বরিশালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে (শেবাচিম) তৃতীয় দিনের মতো চলছে শিক্ষার্থীদের ডাকা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি। এতে ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে বান্দ রোডে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে।
এর আগে, শিক্ষক সংকট দূরের দাবিতে গত সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির ঘোষণা দেন শেবাচিম কলেজের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের চলমান এই কর্মসূচিতে বন্ধ রয়েছে কলেজের প্রশাসনিক ও ছাত্র শাখার কার্যক্রম। এছাড়াও কলেজের প্রধান দুটি গেট তালাবদ্ধ রয়েছে এবং গেট দুটিতে ‘শাটডাউন’ লেখা ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত
কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে এলেও নিয়মিত কোনো কার্যক্রমই পরিচালনা করতে পারেননি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নিতেও দেখা যায়নি। এতে ব্যাহত হচ্ছে কলেজটির স্বাভাবিক কার্যক্রম।
এদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, কলেজে চলমান শিক্ষক সংকট নিরসনে তাদের দাবি মেনে না নেওয়া অবধি আন্দোলন চলমান থাকবে।
তবে কলেজ প্রশাসন বলছে, তারা বিষয়টি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ না নিলে মেডিকেল কলেজের শূন্যপদে শিক্ষক পদায়ন সম্ভব নয়।
শেবাচিম কলেজের প্রশাসনিক শাখা জানায়, কলেজে শিক্ষকদের ৩৩৪টি পদের মধ্যে ১৪৬টি পদে শিক্ষক রয়েছেন। বাকি ১৮৮টি পদ শূন্য রয়েছে।
বর্তমানে কলেজে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম থাকায় প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে ব্যহত হচ্ছে। কয়েকটি বিভাগে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত ক্লাস ও প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ প্রভাব চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের এই দাবি যৌক্তিক এবং তাদের দাবিগুলো নিয়ে মন্ত্রণালয়ে কথা বলা হয়েছে। দ্রুতই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে নিশ্চিত করেন কলেজের অধ্যক্ষ ফয়জুল বাশার।
৪০৮ দিন আগে
শেবাচিম হাসপাতালের ৩ কর্মীর অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ
বরিশাল শের ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে রোস্টার বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগে ওয়ার্ড মাস্টারসহ তিনজনের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন হাসপাতালের অন্যান্য কর্মচারী।
অভিযুক্তরা হলেন-ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম আজাদ, অফিস সহায়ক রুহুল আমিন লিখন, তরিকুল ইসলাম সোহাগ।
সোমবার (২১ অক্টোবর) সকালে হাসপাতালের প্রবেশদ্বারের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
পরে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান বরাবর লিখিত আবেদন দিয়ে অভিযুক্তদের অপসারণ দাবি করেন।
আরও পড়ুন: হেযবুত তওহীদের ওপর হামলা ও হুমকির প্রতিবাদে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে মানববন্ধন
এ সময় হাসপাতালটির পরিচালকের দায়িত্বে থাকা উপপরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। তারা তদন্ত সাপেক্ষে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তৃতা দেন, রাব্বি আল মামুন, মাহমুদুল হাসান, নূরনবী প্রমুখ।
হাসপাতালের বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা বলেন, ‘ওয়ার্ড মাস্টার রোস্টার বাণিজ্যের মাধ্যমে হাসপাতালের কর্মচারীদের কাছ থেকে মাসিক চাঁদা নিয়ে থাকে। তাছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় অভিযুক্তরা বাধা দিয়েছে। তাই তাদের অপসারণ জরুরি। তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন।’
আরও পড়ুন: শ্রীমঙ্গলে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতির র্যালি ও মানববন্ধন
৫৩০ দিন আগে
বরিশাল শেবাচিম উপাধ্যক্ষসহ ১২ চিকিৎসককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণে উপাধ্যক্ষসহ ১২ চিকিৎসককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ করেছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের (শেবাচিম) শিক্ষার্থীরা।
এসময় শেবাচিম উপাধ্যক্ষসহ ৮ জন চিকিৎসকের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি হাসপাতালের ৬ ইন্টার্ন চিকিৎসকের ইন্টার্নশিপ ২ বছরের জন্য স্থগিতের দাবি তোলেন শিক্ষার্থীরা।
এসব চিকিৎসকদের ক্যাম্পাস ও হাসপাতালে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন: শেবাচিম হাসপাতালে রোগীরা চিকিৎসা বঞ্চিত
শনিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের (শেবাচিম) এ ঘটনা ঘটে। এসময় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষের সামনে অবস্থান নিয়ে দাবি পেশ করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম ৮ চিকিৎসককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। এছাড়া ৬ ইন্টার্ন চিকিৎসকের ইন্টার্নশিপ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে যান।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা জানান, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট সুদীপ কুমার হালদার, আবসিক সার্জন মাসরেফুল ইসলাম সৈকত, মেডিকেল অফিসার শিরিন সাবিহা তন্নী, ইন্টারন্যাল মেডিকেল এ.এস.এম. সায়েম, হাসপাতালের সাবেক পরিচালক বাকির হোসেন, সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সরোয়ার, উপাধ্যক্ষ জিএম নাজিমুল হক, সহকারী অধ্যাপক সৌরভ সুতারের পদত্যাগ দাবি করছি। পাশাপাশি তাদের ক্যাম্পাস ও হাসপাতালে অবাঞ্চিত ঘোষণা করছি। এছাড়া ইন্টার্ন চিকিৎসক মহসীন বিভা, আরিফুজ্জামান ইমন, সাদমান বাকির সাবাব, প্রীতম দেবনাথ, অর্ঘ্য বিশ্বাস ও আসিফুল ইসলামকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছি আমরা।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তারা ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরাসরি তালিকা প্রণয়ন করে সরকারি সংস্থার কাছে প্রদান করেছে। এছাড়া আন্দোলন বানচালের উদ্দেশে শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের অপরাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে চিকিৎসকরা নৈতিকভাবে তাদের পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছে বলে মনে করছি।
বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত চিকিৎসকদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দায়িত্বরত ৪ জনকে অবিলম্বে বদলির ব্যবস্থা করা হবে।
শেবাচিম হাসপাতালের উপপরিচালক মনিরুজ্জামান বলেন, ৬ শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের ইন্টার্নশিপ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: কমিটি গঠন নিয়ে ইন্টার্নদের ধর্মঘট, শেবাচিমে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত
শেবাচিম হাসপাতালে একসঙ্গে ৪ সন্তানের জন্ম
৫৮০ দিন আগে